Home তাকদিরে তুমি তাকদিরে তুমি পর্ব ৬

তাকদিরে তুমি পর্ব ৬

তাকদিরে তুমি পর্ব ৬
মোনালিসা মেহরোজ

সকাল সকাল ঘুম ভেঙে যাওয়ায় বিরক্ত হয়ে উঠে বসলো আসিফ। সময় তখন পাঁচটা পাঁচ। ঘড়িতে সময়টা দেখেই বিরক্তিতে চোখমুখ খিঁচে নিলো সে। জীবনে এমন অদ্ভুত সময়ে তার ঘুম ভাঙেনি। অথচ আজ কী হলো কে জানে? হয়তো জায়গা পরিবর্তন হওয়ার কারণেই এমনটা হয়েছে!
বেশ খানিকটা সময় ধরে এপাশ-ওপাশ করে আবারও ঘুমানোর চেষ্টা করলো পুরুষটি। তবে ঘুম আর চোখে ধরা দিলো না বিধায় উঠে দাঁড়ালো সে। চোখ ঘষতে ঘষতে ঘরের সাথে লাগোয়া ছোট্ট বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো। সকালের হিমেল হাওয়া এসে ছুঁয়ে দিলো তাকে। অদ্ভুত এক প্রশান্তিতে চোখ বুজে নিলো আসিফ। এই প্রথমবার সে এতটা ভোরে ঘুম থেকে জাগলো। আর এই প্রথমই হয়তো সকালের নির্মল বাতাসকে এতটা অনুভব করলো।

কিছুক্ষণ পর চোখ খুলে বাগানের দিকে তাকালো সে। শিশিরভেজা ঘাস, গাছের পাতায় জমে থাকা পানির বিন্দু আর পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে চারপাশটা যেন অন্যরকম লাগছিলো। এরমধ্যেই গলা শুকিয়ে এলো তার। তৃষ্ণা অনুভব করতেই ঘর থেকে বেরিয়ে এলো আসিফ। উদ্দেশ্য রান্নাঘর থেকে পানি নিয়ে আসা। কিন্তু করিডোর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আচমকাই থমকে দাঁড়ালো সে।
একটি ঘরের দরজা আধখোলা। আর তার ভেতর থেকে ভেসে আসছে সুরেলা এক তিলাওয়াতের ধ্বনি। আসিফের পদযুগল যেন মেঝেতেই আটকে গেলো।অজানা কারণে বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠলো তার। সে শুকনো ঢোক গিলে ধীর পদক্ষেপে এগিয়ে গেলো ঘরটার পানে। দরজার কাছে এসে উঁকি দিতেই দেখতে পেলো মেঝেতে পাটি বিছিয়ে মুখোমুখি বসে আছে ফাতিহা আর নাবা। দু’জনের সামনেই খোলা কুরআন শরীফ।

ফাতিহা ধীরে ধীরে তিলাওয়াত করছে, আর নাবা মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ করছে তার পিছু পিছু। ঘরটায় কোনো বাড়তি শব্দ নেই। নেই কোনো কোলাহল। শুধুই কুরআনের পবিত্র ধ্বনি ভেসে বেড়াচ্ছে। নাবার মুখখানা আড়াল করে রেখেছে ফাতিহার খোলা মুখ। পুরুষটি সেদিকে তাকিয়ে রইলো এক দৃষ্টিতে।
সে অদ্ভুতভাবে স্থির হয়ে গেলো। তার মনে পড়লো, এই সময়টাতে সাধারণত সে ঘুমিয়েই থাকে। কখনো কোনোদিন ফজরের পরের পৃথিবীটাকে এভাবে দেখা হয়নি তার। ছোটবেলায় নানা যখন জোড়াজুড়ি করে কুরআন তেলওয়াত শিখাতো তখন একটু উঠতো। নইলে বুদ্ধি হওয়ার পর কখন উঠেছে তা তার মনেই পরে না।
আসিফ অদ্ভুত শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো ঘরটার পানে। নাবার চিকন স্বর আর ফাতিহার সুরেলা আওয়াজ অদ্ভুতভাবে তার বুকটা কাঁপিয়ে তুললো। কুরআনের পবিত্র ধ্বনি যেনো এক লহমায় শীতলতায় ভরিয়ে দিলো তার হৃদয়। বুকটা ঠান্ডা হয়ে এলো।
আসিফের চোখ এক মুহূর্তের জন্য স্থির হলো কুরআনের পাতায়, অতঃপর দু”টি মানবীর পানে। নাবার আড়ালে থাকা ফাতিহার মিষ্টি কন্ঠস্বরটা তাকে যেনো ডাকছে। আসিফ তাকিয়ে রইলো নির্নিমেষ। প্রশান্তির সাথে সাথে অবাক হলো অন্য একটা বিষয় দেখে। আর তা হলো ছোট্ট নাবা। বয়স বড়জোর এগারো কিংবা বারো।
এতটুকু একটা মেয়ে এত সুন্দর করে কুরআন পড়ছে? আসিফের চোখে বিস্ময় ফুটে উঠলো।
নিজের অজান্তেই ভাবলো—

—এত ছোট একটা বাচ্চাও কুরআন পড়তে জানে? তাও এতোটা মিষ্টি কন্ঠে?
মুহূর্তের মধ্যেই আরেকটা চিন্তা মাথায় এলো আসিফের।
—আর আমি? আমি তো ভুলেই বসেছি।
চিন্তাটা আসতেই কেমন যেন অস্বস্তি হলো তার।
সে তো কুরআন ঠিকমতো পড়তেই জানে না। ছোটবেলায় জোড় করে শেখানো হয়েছিলো ঠিকই, কিন্তু কখন যে সব ভুলে গেছে, তা সে নিজেও জানে না।
আসিফ চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো। ভেতরে বসা দু’জনের কেউই তার উপস্থিতি টের পায়নি। ফাতিহার কণ্ঠে তিলাওয়াত চলছেই। কেমন অদ্ভুত ব্যাপার! গতকালও এই মেয়েটাকে দেখে তার বিরক্তি হচ্ছিলো। মনে হচ্ছিলো মেয়েটা তার জীবনের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি। অথচ এই মুহূর্তে তাকে দেখে অন্যরকম লাগছে। শান্ত, ভীষণ শান্ত। যেন পৃথিবীর কোনো ঝড়ই তাকে স্পর্শ করতে পারে না।
আসিফ দ্রুত দৃষ্টি সরিয়ে নিলো। কেন জানি নিজের ভেতরটা অস্বস্তিতে ভরে উঠছে।
মনে হচ্ছে, সে এমন এক জগতের সামনে দাঁড়িয়ে আছে—যে জগতের সাথে তার কোনো পরিচয়ই নেই।
আসিফ দ্রুত জায়গা পরিবর্তন করলো। পানি না খেয়ে পুনরায় ফিরে গেলো ঘরে। আর ঘরে প্রবেশ করতেই দেখতে পেলো ছায়া সেখানে উপস্থিত। আসিফের কপাল কুঁচকে গেলো ছায়াকে এখানে দেখে। সে ভেতরে পা রেখে জিজ্ঞেস করলো—-

—তুমি? এখানে এতো সকালে? কাল ফিরে যাওনি?
একসাথে এতোগুলো প্রশ্ন করে থামলো আসিফ। ছায়া বিরক্তিকর শ্বাস ফেলে দাঁতে দাঁত চেপে বললো—-
—নাহ্, যেতে দেয়নি তোমার শশুরবাড়ির লোকজন। এতো রাতে না-কি একজন মেয়েকে বাহিরে বের হতে নেই। তাই যাওয়া হয়নি।
—কোথায় ছিলে?
—নাবা নামক বিচ্ছুটার সাথে।
আসিফের অস্বস্তি হলো কথাটা শুনে। ছোট্ট মেয়েটার নামের পাশে বিচ্ছু শব্দটা ঠিক হজম করতে পারলো না। না-তো কোন প্রতিবাদ করলো। তবে আসিফের চোখের সেই অস্বস্তিটুকু ছায়ার নজর এড়ালো না। তার হাতের মুঠোই শক্ত হয়ে এলো। আসিফের সামনে দাঁড়িয়ে ফের বললো—-
—বলেছিলাম৷ বলেছিলাম ড্রিংক করো। না করলে ধরা পরে যাবো। সত্যি সত্যি যদি ড্রিংকটা করতে তাহলে কাল এভাবে বেইজ্জতি হতে হতো না। কি বললে তুমি? এরা গাইয়া না? ধরতে পারবে না নেশা করোনি তা। বুঝতেই পারবে না তোমার নাটক। ধরলো তো? হাতেনাতে বেইজ্জতি করে ছাড়লো।
আসিফ কথা বললো না। মাথা নিচু করে রইলো। ছায়া বাঁকা হেঁসে বললো—-

—শেষমেষ ধরা পরতেই হলো। আর আসিফ মির্জাকে দিয়ে নিজের বাবার কাছে মাফও চাওয়ালো ও গাইয়াটা। কি? ভালো লেগেছে?
কথাটা কর্ণপাত হতেই আচমকা চোয়াল শক্ত হয়ে এলো আসিফের। চোখজোড়া লাল হয়ে এলো রাগে। এতোক্ষণের সকল কোমলতা এক লহমায় তীব্র রাগে রূপ নিলো। সাথে ঘৃণা দেখা দিলো ফাতিহার জন্য।
আসিফ শক্ত মুখে বিছানায় ধপ করে বসে পরলো। ছায়া বাঁকা হেঁসে আসিফের পাশে বসে হাতের উপর হাত রাখলো। অভয় দিয়ে বললো—

—জানি ওই মেয়েটা তোমায় অপমান করার খেলায় নেমেছে। তবে তুমি কি ভুলে যাচ্ছো আসিফ তুমি কে? তুমি সেই ছেলেটা যাকে পুরো ফ্রেন্ড সার্কেলের কেউ হারাতে পারতো না। তুমি সেই যাকে পুরো শহর এক নামে চিনে। তুমি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আযান মির্জার একমাত্র ছেলে,আর সেই তোমাকে কি-না একজন সাধারণ গাইয়া মেয়ে টেক্কা দিবে? হাউ ফানি!
ছায়া আস্তে আস্তে নিজের মাথা এলিয়ে দিলো আসিফের কাঁধে। আসিফ দাঁতে দাঁত চেপে নিজের রাগ সংবরণ করার বৃথা চেষ্টা চালালো। ছায়ার প্রতিটি কথা তার অহংকার বাড়ালো কয়েকগুণ। সাথে ফাতিহাকে পথ থেকে সড়ানোর ভাবনা মাথা চাড়া দিয়ে উঠলো।
—ছাড়বো না। ওই মেয়েকে আমি জাস্ট শেষ করে দেবো। আসিফ মির্জাকে চেনেনা ও, এবার চিনবে।
আসিফের কথায় ফিচেল হাসলো ছায়া। আসিফ চোখজোড়া বন্ধ করে নিলো।

—বিসমিল্লাহ বলে শুরু করতে হয়, ভাইজান।
কথাটা কর্ণপাত হতেই থমকে যায় আসিফের হাত। খাবার খেতে টেবিলে বসেছিলো শশুর ইয়াসিন ও জামাই আসিফ। নারীরা পরে একসাথে খাবে বলে পুরুষদের খাওয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষা করছিলো। এরমধ্যেই আসিফ হাত ধুয়ে সরাসরি খাবার মুখে তুলতে গেছিলো, তৎক্ষনাৎ চট করে কথাখানা বলে ফেলে ছোট্ট নাবা। আর কথাখানা শুনেই আপনমনেই শক্ত হয়ে আসে আসিফের চোয়াল। সাথে এটুকু একটা মেয়ের এহেন শোখানোটা মোটেও পছন্দ হলো না তার৷ তবুও কথা বাড়ালো না সে। দাঁতে দাঁত চেপে প্রথমবারের ন্যায় আওড়ালো—-
—বিসমিল্লাহ্।
—আলহামদুলিল্লাহ।
আসিফ বিসমিল্লাহ বলার সাথে সাথেই বলে ওঠে নাবা। আসিফ আশ্চর্য হয় মেয়েটার কাজে। ফাতিহার বাবা তখন ছোট্ট মেয়েটার কাজে ভিষন আনন্দিত হন। মনে মনে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন তাকে এরকম দুটি জান্নাত উপহার দেওয়ার জন্য। অতঃপর আসিফকে উদ্দেশ্য করে বলেন—-

—কিছু মনে করো না, আব্বা। শুধু মনে রেখো, শেখা ও শেখানোর কোন বয়স হয়না।
আসিফ কথা বাড়ায় না।ফাতিহা তখন রান্নাঘরের এক কোণায় দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখছিলো। সে জানে নাবার শেখানোটায় আসিফ লজ্জা অনুভব করবে, অথবা রেগে যাবে মনে মনে। তবে ফাতিহা কিছু বললো না। কেননা ফাতিহার বাবা ঠিকই বলেছে, শেখা ও শেখানোর কোন নিদিষ্ট বয়স হয় না। বরং যে যা পারে না, তাকে তা সকল লজ্জা আড়াল করে শেখা উচিত। হোক ছোট্ট কারো থেকে অথবা বড় কারো থেকে।
জুলেখা রান্নাঘর থেকে বেড়িয়ে এলেন গোস্তের বাটি হাতে নিয়ে। প্রথমে স্বামীর পাতে দিয়ে এগিয়ে গেলেন জানাইয়ের পানে। তৎক্ষনাৎ সেখানে এসে হাজির হলো ছায়া। পরণে কালকের সেই ছোট্ট পোশাকটা। আসিফের পাশে দাঁড়িয়ে সকলের উদ্দেশ্য বললো—
—হ্যালো গাইস। গুড মর্নিং?
কেউ উত্তর করলো না এর৷ ছায়া সেখানে হাজির হতেই ফাতিহার বাবা ইয়াসিন নজর ঘুড়িয়ে নিলেন। অতঃপর শীতল গলায় বললেন—

—তুমি আমার মেয়ের বয়সি, আম্মা। তাই একটা কথা বলি৷ বোরখা পরে চলাফেরা নাই’বা করতে পারো। তবে বাহিরে বের হওয়ার আগে শালীন পোশাক পড়া তোমার দায়িত্ব। নারীরা সকল মর্যাদার উর্ধে, তাই নিজেকে এতোটা স্বস্তা বানিয়েও না, আম্মা।
ছায়া চোখমুখ খিঁচে নিলো। বিরক্তিকর গলায় বললো—
—প্লিজ আঙ্কেল, আপনি দয়া করে অ্যাডভাইস দিবেন না। আপনার মতে আপনার মেয়ে তো অতি উত্তম। সেজন্যই তো সবসময় গাইয়া ভূত সেজে থাকে৷ ডিজগাস্টিং।
ভদ্রলোকের চোয়ালদ্বয় শক্ত হয়ে এলো৷ তবে তিনি জানেন নিজের সীমা ও নিজের ব্যাক্তিত্ব সম্পর্কে। তাই তিনি অতিরিক্ত কথা বললেন না। শুধু উচ্চারণ করলেন কয়েকটা শব্দ—
—পরকালে আমাকে নয়, তোমাকে হিসেব দিতে হবে আম্মা। ইহকালে যেভাবে চলবে—পরকালে তার পাই টু পাই হিসেব জোগাতে হবে৷ তাই বললাম।
কথাটা শেষ করে হাত ধুয়ে উঠে দাঁড়ালেন তিনি। এতক্ষণ যাবৎ পুরো ঘটনা নিরবে দেখে যাচ্ছিলো আসিফ। ফাতিহাও চুপ করে ছিলো। জুলেখা স্বামীর পিছনে গেলেন গামছা দিতে।
অন্যদিকে ছায়া মুখ বাঁকিয়ে চেয়ারে বসে পরলো৷ ফাতিহা ধীর পায়ে এগিয়ে এলো তা দেখে। অতঃপর খাবার তুলে দিতে লাগলো নিজেই। টেবিলে সাজানো খাবারগুলো দেখে চোখমুখ অতি তাচ্ছিল্যসমেত কুঁচকে নিলো ছায়া। ফাতিহা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তা দেখলো৷
খাওয়া শেষের দিকে, ফাতিহা এগিয়ে এসে দাঁড়ালো ছায়া পাশে। কি লাগবে না লাগবে তা খেয়াল করতে লাগলো। কাল’ই চলে যেতে চেয়েছিলো সে, তবে তারা যেতে দেয়নি। বরং অতিথি ভেবে সেবা করে আসছে তার।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে হাতে তরকারি তুলে নিলো ফাতিহা। অতঃপর তা প্লেটে দিতে নিলেই আচমকা হাত ফসকে তরকারিটুকু ছায়ায় গায়ের উপর পরে গেলো৷

—ইউউউ ইডিয়ট, চোখে দেখতে পারো না? কানা না-কি?
হুংকার ছেড়ে দিলো ছায়া। নাবা কিছু বলতে গিয়েও বললো না। আসিফ চমকে তাকালো ফাতিহার দিকে। তবে ফাতিহার মাঝে খুব একটা পরিবর্তন দেখা গেলো না। সে অতি শান্ত গলায় বললো—-
—মাফ করবেন, বুঝতে পারিনি।
দাঁতে দাঁত চাপলো ছায়া। নোংরা কাপড়টা টেনে বললো—-
—দেখতে পাওনি না? দেখতে পাওনি! ইউ নো এই ড্রেসটার প্রাইজ কত? কত টাকা দিয়ে কিনেছি আমি এটা? আর তুমি এটা নোংরা করে ফেললে? এখন আমি কি পরে ফিরবো?
—প্যানিক করো না ছায়া। ও ইচ্ছে করেই হয়তো এমনটা করেছে যাতে তোমাকে বিপদে ফেলতে পারে।
আসিফ দাঁতে দাঁত চেপে বললো। তবে ফাতিহা তাতে গুরুত্ব দিলো না। বরং তরকারিটা নামিয়ে তোয়ালে এগিয়ে দিলো। তবে তা মাটিতে আছড়ে ফেললো ছায়া। গলার স্বর উঁচু করে বললো—-
—তোয়ালে দিয়ে কি হবে? দেখেছো কতখানি নোংরা হয়ে গেছে? এটার দাগ কি করে তুলবে তুমি? তোয়ালে দিয়ে?

—আপনি আসুন আমি আপনাকে অন্য কোন কাপড় দিচ্ছি পড়ার জন্য। টেনশনের কিচ্ছু নেই। আসুন আমার সাথে।
—হোয়াট? তোমার দেওয়া ড্রেস আমি পরবো? আর ইউ ক্রেজি?
আসিফ পরিস্থিতি দেখে ছায়াকে অভয় দিয়ে বললো—-
—শুধুমাত্র আজকের জন্য পড়ে নাও। তুমি তো ফিরেই যাবে, তখন না-হয়..!
—বাট আসিফ….।
—প্লিজ ছায়া।
আসিফের অনুরোধে রাজি হলো ছায়া। অতঃপর দাঁতে দাঁত চেপে এগিয়ে গেলো ফাতিহার সাথে।
এই ঘটনার প্রায় দশমিনিট পর তারা যখন বের হলো ঘর ছেড়ে তখন আসিফের চোয়াল রিতীমত ঝুলে গেলো। ফাতিহার বাবাসহ মা ও বোন তখন বসার ঘরেই বসে ছিলো। ছায়ার পরনে কালো রঙা বোরখা আর হিজাব দেখে রিতীমত টাশকি খেয়ে গেলো সকলে।
আসিফ হা করে দেখতে লাগলো ছায়াকে। প্রথমে চিনতে না পারলেও মুখের দিকে তাকাতেই মাথায় বাজ পরলো তার। ছায়া ধীর পায়ে বসার ঘরে এসে দাঁড়ালো। ফাতিহাও তার কাঁধে হাত রেখে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে। ছোট্ট নাবা আচমকা চিল্লায়ে বললো—

—মাশাল্লাহ, এতোক্ষনে নারী বলে মনে হচ্ছে।
ছায়া তখন কাচুমাচু হয়ে দাঁড়িয়ে। মনে মনে তীব্র রাগে কাঁপছে সে। তবে বাহিরে কিচ্ছু বলতে পারলো না। ফাতিহা রিতীমত ব্ল্যাকমেইল করে এটা পরিয়েছে তাকে। তবে সব ব্ল্যাকমেইল মানে যে জোরজবরদস্তি নয় সেটাও সে আজ বুঝলো।
পর্দা করার একশো একটা নিয়ামক সম্পর্কে বলেছে তাকে। সাথে বলেছে অনেক কথা। তার উপর ফাতিহা পর্দার উপকারিতা, নারীর নিরাপত্তা, অনাকাঙ্ক্ষিত দৃষ্টি থেকে সুরক্ষা—এসব নিয়ে এত কিছু বলেছে যে ছায়ার নিজেরই কেমন অস্বস্তি লাগতে শুরু করেছিলো।
আসিফ অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে থাকতে বললো—-

—এটা তুমি পড়েছো, ছায়া? মাথা ঠিক আছে তোমার?
ছায়া জোরপূর্বক হাসলো। অতঃপর বললো—
—হ্যাঁ আসিফ, পড়লাম। আসলে পর্দা করার সুবিধাগুলো জানলাম আরকি। একজন পুরুষের নোংরা নজর হতে বাঁচার জন্য এটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝেই সিদ্ধান্ত নিলাম আজ থেকে এটা পরবো। এছাড়াও আমি যেনো নিরাপদ থাকতে পারি তাই এটা গায়ে জড়ালাম।
অতঃপর ফাতিহার পানে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো—-

তাকদিরে তুমি পর্ব ৫

—তাই না ফাতিহা?
ফাতিহা পর্দার আড়ালে চমৎকার হাসলো। বললো—-
—জ্বী, অবশ্যই।
ফাতিহার বাবা তাকিয়ে রইলেন মেয়ের পানে। জুলেখার চোখে পানি দেখা দিলো। অন্যদিকে আসিফ তখন ফ্যাল ফ্যাল করে ফাতিহার দিকে তাকিয়ে রইলো।

তাকদিরে তুমি পর্ব ৭