Home এমপি রুশভিয়ান মির্জা এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ২৯

এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ২৯

এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ২৯
ফাতেমা তুজ জোহরা

রুশভিয়ান মাথায় হাত দিয়ে মেঝেতে বসে আছে, কি বলা উচিত সে সত্যিই বুঝতে পারছে না।তারপাশে দাঁড়িয়ে আছে সায়েরা বেগম। রুশভিয়ানের চোখের সামনে সবকিছু কেমন ধোঁয়াশা হয়ে আছে, চোখের সামনে সবকিছু উল্টা পাল্টা দেখছে সে। শুধু কানের কাছে কিছুক্ষণ আগের কথাগুলো ভাবছে রত্নকুঞ্জের ভিলায় বসে।
রুশভিয়ান ইনানের দিকে এগিয়ে যেতে নিলেই দেখলো ইনান লুটিয়ে পড়ে আছে চেয়ারে। সে দেরি না করে ইনানকে চেয়ার খুলে বুকে আগলে ধরে ইনানের নাম ধরে ডাকলো কিন্তু ইনানের কোন পাত্তা নেই, ইনান রুশভিয়ানের কোলে নি*থ*র হয়ে পড়ে আছে। রুশভিয়ান দেরি করলো না ইনান কে নিয়ে ছুটে এসেছে রত্নকুঞ্জে। তার সাথে এসেছে সায়েরা বেগম আর আমির।

রত্নকুঞ্জে ইনানকে আনার দু-ঘন্টা পরে ইনানের জ্ঞান ফিরে পেয়ে নিজেকে অজানা জায়গায় আবিষ্কার করে। ভ*য় পেয়ে উঠতে নিলেই নিজেকে আবিষ্কার করলো কেউ তাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে আছে, সে হাঁসফাঁস করতে করতে পাশে তাকাতেই হকচকিয়ে গেল সাথে ভ*য় ও পেল রুশভিয়ান কে দেখে। আর ভ*য় পাবে না কেন,রুশভিয়ানের আগের চেহারা থেকে এখনকার চেহারা বেশ ভ*য়ং*ক*র তার উপরে অচেনা একটা মুখ দেখে ইনান চি*ৎ*কা*র করে বলল,” এ্যঁইইইইই বাঁ*চাও আমাকে? কেউ আছো বাঁ*চাও আমাকে জঙ্গলি ধরে এনেছে ” বলেই নিজেকে ছা*ড়া*নো*র চেষ্টা করতে থাকলো রুশভিয়ানের থেকে। কিন্তু রুশভিয়ান আরো জাপটে ধরে ফিসফিস করে বলল,” এত চি*ল্লান লাগবো না তোরে? আয় বুকে শান্তিতে ঘু…. কথাটুকু বলতে গিয়ে ও আ*র্ত*না*দ করলো রুশভিয়ান। তড়াক করে চোখ খুলে দেখলো ইনান তার ডান হাতে কা*ম*ড় বসিয়ে দিয়েছে সেখান থেকে র*ক্ত প্রবাহিত হচ্ছে । ইনান বলল,” ছা*ড়ু*ন আমাকে বেয়াদপ লোক, আমি মামার কাছে যাবো? অনু আপুর কাছে যাবো ” বলেই ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদতে লাগলো ইনান।

রুশভিয়ান না চাইতে ও ইনান কে ছে*ড়ে দিলো তার কান্না দেখে। তখনই ইনান বিছানা থেকে উঠে দরজার দিকে এগিয়ে গিয়ে দরজায় বারি মা*র*তে মা*র*তে বলল,” কেউ আছেন আমাকে বাঁ*চা*ন প্লিজ, কেউ আছেন বাঁ*চা*ন এই রা*ক্ষ*সের হাত থেকে ” দরজাটা কোনরকমে লাগা ছিলো তাই ইনানের বারি মা*রা*তেই খুলে গেল, ইনান এক সেকেন্ড ও সময় নিলো না ঘর থেকে বের হতে। ছুটে চলে গেল বাইরে।
রুশভিয়ান ভ্রুকুচকে দেখছিলো ইনানের কর্মকান্ড গুলো। তাকে যে রা*ক্ষ*স বলেছে এটাও শুনেছে, কিন্তু অন্যদিনের মতো আজকে রা*গ হলো না তার, বরং মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটলো। কিন্তু ইনান কে এভাবে ঘর থেকে বের হতে দেখে তার টনক নড়লো, সেও লুঙ্গিটাকে শক্ত করে বেঁধে ছুটলো তার বউয়ের পিছু। কিন্তু সে আর জানে না তো তার ইনান সব ভুলে বসে আছে।

ইনান ধ*ড়*ফ*ড় করে হাজির হলো রত্নকুঞ্জের মূলফটকে, মুহূর্তেই তার পায়ের গতি থেমে গিয়ে চারদিকে বিস্ময়তা নিয়ে তাকালো। মুহুর্তেই তার চোখের সামনে সবকিছু ঝাপসা হতে লাগলো। সে ড্রয়িং দাঁড়িয়ে দেখতে পেল তাকে কেউ টে*নেহিঁ*চ*ড়ে প্রবেশ করাচ্ছে এই বাড়িতে, তার পরনে কালো পোশাক। কিন্তু কে টা*নছে ওটা বুঝতে পারলো না, শুধু একটা পুরুষের হাত দৃশ্যমান হলো সাথে সবকিছু ঝাপসা লাগলো। ইনান দুই হাত দিয়ে শক্ত করে মাথাটা চেপে ধরে মাটিতে বসতে নিলেই কেউ তাকে এসে আকড়ে ধরলো। ইনানের চোখ দিয়ে ইতিমধ্যে চোখ দিয়ে পানি বের হতে শুরু করেছে, সে কান্নাভেজা চোখে মাথা উঁচিয়ে দেখলো পরিচিত মুখ। হাসপাতালে যাকে নানি হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল । ইনান একপলকে সায়েরার বুকের ভেতর ঢুকে গিয়ে জাপটে ধরে কান্না করে উঠলো। সে তো পালানোর জন্য বাইরে এসেছিলো, পরিচিত মুখ দেখে সবকিছু বলতো কিন্তু তার হঠাৎ খুব কান্না পেল। মুহুর্তেই ভুলে গেল কিছুক্ষণের ঘটনা গুলো । ইনানের কান্নায় দেখে রুশভিয়ান ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে সিঁড়ির উপরে দাঁড়িয়ে গেল। সে তো কিছুই করেনি, তাহলে কেন এত কান্না বুঝতে পারলো না রুশভিয়ান ।
এরইমধ্যে রত্নকুঞ্জে প্রবেশ করলো আমির, আলী আর হাবিব। ইনান কে ড্রয়িং রুমে দেখে আলী আর হাবিব চলে । আর আমির প্রবেশ করলো।ইনান কে কান্না করতে দেখে আমির কপালে ভাঁজ পরলো, সে ভাবলো তার ভাই হয়তো আবার মে*রে*ছে ইনান কে। আমির ভেতরে ভেতরে ক্ষো*ভে ফেটে পরলো সে এখন একা নাকি তার সাথে আরো দুটো প্রান আছে তাহলে কেন এখন মা*র*বে।

আজকে আমিরের চোখে যেন ভ*য়ে*র লেশমাত্র নেই। সে এগিয়ে গেল রুশভিয়ানের সামনে, তারপর ঝাঁ*ঝালো স্বরে বলল,” আপনের এতটুকু জ্ঞান নাই? আপনে ক্যান ওরে মা*র*ছেন?আপ.. কথাটুকু শেষ হওয়ার আগেই রুশভিয়ান আমিরের শার্টের কলার ধরলো শক্ত করে তারপর শান্ত গলায় বলল,” এবার বল আমার কি নাই, আর কি আছে? আমিরের সাহসটুকু এক নিমেষেই কর্পূরের মতো উড়ে গিয়ে আমতা-আমতা করে বলল,” ভাই আমারে ছাইরা দেন, আসলে আমি তো আপনার ভালোর জন্য কইতাছি? তাহলে আপনার ভবিষ্যতে সুরক্ষিত থাকবো?
রুশভিয়ান আমিরের কথা বুঝতে পারলো না। কিন্তু তাকে বড় বড় কথা বলেছে সে তো ছেড়ে দেওয়ার পাত্র না। তাই সে আমির কে দুইহাতে তুলে আ*ছ*রে ফেলল সোফার উপর। আমির আ*র্ত*না*দ করে উঠলো। সাথে সাথে ইনান কান্না ভুলে আর্তনাদ করে বলল,” নানি ওই রা*ক্ষ*স*টা আমার মামাকে মে*রে ফেলল, তুমি বাঁ*চাও মামাকে ” বলেই আমিরের দিকে তাকালো। আমির সবকিছু ভুলে ভাইয়ের দিকে তাকালো,ভাইয়ের প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য। আর সত্যি রুশভিয়ান হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে ইনানের দিকে, কি বলল এক্ষুনি মামা আর নানি। রুশভিয়ান বুঝতে পারলো না তার নানি কে আর মামা কে।

রুশভিয়ানের মুখের প্রতিক্রিয়া দেখে সায়েরা বেগমের প্রচুর হাসি আসলো তবুও চেপে গেল। রুশভিয়ান কে একটু টাইট দেওয়ার জন্য তাই ইনানের দিকে তাকিয়ে বলল,” যাও ইনান তোমার মামাকে বাঁ*চাও, না হলে রা*ক্ষ*স টা মে*রে ফেলবে তাকে? ইনান ভ*য় পেয়ে গেল সে চোখের পানি গুলো মুছে এগিয়ে গেল আমিরের দিকে, তারপর আমিরের হাত ধরতে গিয়ে বলল,” মামা তাড়াতাড়ি চলেন এই বাড়ি থেকে, ওই জঙ্গলিটা নাহলে মে*রে ফেল.. ইনানের মুখের কথা থেমে গেল আমিরের কীর্তিকলাপ দেখে। আমিরের কপাল কেটে র*ক্ত ঝড়ছে সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই, কিন্তু ইনানের থেকে নিজেকে বাঁ*চা*তে কেঁচোর মতো করে ইনানের থেকে দূরে সরে গেল ।ইনান কপালে ভাঁজ পড়লো সে আবার এগিয়ে গিয়ে হাত আকড়ে ধরতে নিলেই আমির সেই একইভাবে সরতে লাগলো পিছনে৷
আর রুশভিয়ান কে দেখে মনে হচ্ছে না সে এই দুনিয়ায় আছে, সে ইনানের দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
আমিরের অবস্থা দেখে সায়েরা বেগম দুইহাত দিয়ে মুখটাকে চেপে ধরলো হাসি থামানোর জন্য। আর এদিকে ইনান এখনো মামা মামা বলে মুখের ফেনা তুলে দিচ্ছে , কিন্তু আমির কে নাগালে পাচ্ছে না, সে পুরো ড্রয়িংরুম কেঁচোর মতো করে হাঁটছে।

রুশভিয়ান আর স*হ্য করতে পারলো না, মাথার ভেতরে রা*গ*টা চেপে বসলো, সে ধমক দিয়ে বলল, ” চুপ করো সবাই ” বলেই ইনানের দিকে তাকালো। আমির ততক্ষণে মেঝে থেকে দাঁড়িয়ে গিয়েছে, আর তার পিছনে ঘাপটি মে*রে লুকিয়ে আছে ইনান। লুকিয়ে থাকলে ভুল হবে সে আমির কে বলছে, ” মামা আপনার অনেক বডি, ওই জঙ্গলিটাকে তুলে আছার দেন.. কথাটা বলে সামনে তাকাতেই দেখলো জঙ্গলিটা দাঁড়িয়ে আছে। সে ভ*য়ে আমিরের শার্ট খামচে ধরলো। আমির এদিকে মনে মনে আল্লাহ কে ডাকছে সামনে রুশভিয়ান কে দেখে।
আর রুশভিয়ান লা*ল টকটকে চোখ নিয়ে তাকিয়ে আছে ইনানের দিকে ।রুশভিয়ান গর্জন করে বলল,” এই বা*ন্দি*র বাচ্চা বাইর হয়, নাহলে বলেই লুঙ্গির ভাঁজ থেকে ছোট সোনালী কালারের ব*ন্দু*ক বের করে চেপে ধরলো আমিরের কপালের মাঝ বরাবর। কপালে ব*ন্দু*ক দেখে আমির ভ*য়ে কেঁপে উঠে বলল,” ভাই আপনে আমারে ছাইরা দেন? আমি তো কিছু করি নাই হেই তো আমার পিছনে লুকাইয়া আছে ” বলেই ভাইয়ের দিকে অসহায় দৃষ্টি নিয়ে তাকালো আমির। পিছন থেকে ইনান ছোট পাখির মতো থ*রথ*র কাঁপছে আমিরের শার্ট আকড়ে ধরে । রুশভিয়ান আরেকটু এগিয়ে গিয়ে ইনানের হাত শক্ত করে ধরে, আমিরকে মা*র*লো এক ধা*ক্কা সাথে সাথে গিয়ে পড়লো মেঝেতে। ইনান মামা বলার আগেই রুশভিয়ান শক্ত করে ইনানের মুখ চেপে ধরে বলল,” ও তোর মায়ের ভাই লাগে?

ইনান বোকা মেয়ের ন্যায় মাথা দোলালো।ইনানের মাথা দোলানো দেখে রুশভিয়ানের রা*গ আকাশচুম্বী হলো সে ইনান কে হাতবাড়িয়ে থা*প্প*ড় মা*র*তে নিয়ে গিয়ে ও থেমে গেল সায়েরার কথা শুনে। তার মনে হলো সে ভুল কিছু শুনলো। তৎক্ষনাৎ ইনানের হাত ছেড়ে দুরত্ব রেখে দাঁড়িয়ে গিয়ে সায়েরার দিকে তাকালো।
সায়েরা আবার বলল,” ও সত্যি বলছে রুশভিয়ান, ও তোর ইশিতা আপার মেয়ে ইনান তালুকদার ” কথাটা শুনে রুশভিয়ান মস্তিষ্কে আ*ঘা*ত হানলো। অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে তাকালো সায়েরার দিকে সায়েরা আবার একই কথা বললো । রুশভিয়ান এবার এবার তাকালো ইনানের দিকে, ইনান ভ*য়ে কয়েক পা পিছিয়ে গিয়ে এবার সায়েরার দিকে এগিয়ে গিয়ে, সায়েরার পিছনে লুকিয়ে গেল।
রুশভিয়ান মাথার ভেতর ভোঁ ভোঁ করছে, চোখের সামনে সবকিছু আর সাদা কালো হয়ে আছে । রুশভিয়ান অবিশ্বাস কন্ঠে বলল,” সত্যি কইছো?

সায়েরা বলল,” হুম, পিছনে আমির আছে ওরে জিজ্ঞেস কর?
রুশভিয়ান এগিয়ে গিয়ে আমিরের নিকটে দাঁড়িয়ে কা*ত*র গলায় বলল,” এ ভাই তুই বল ওই মহিলা যা কইতাছে সব মিছা, ইশিতা আপার মাইয়া এখানে কি কইরা আসবে তুই বল, ও তো আমার বউ ইনান। তোর পা ধইরা কইতাছি বল ওটা ইশিতা আপার মাইয়া না ” বলেই আমিরের পা ধরতে নিলেই আমির তাড়াতাড়ি রুশভিয়ান কে আকড়ে ধরে বলল,” সব হাছা কথা ভাই, এইডা আমাগো আপার মাইয়া, না হইলে তুই দেখ ও ডান পায়ে আপার মতো ছয় আঙুল আছে ” বলেই আঙুল তাক করলো।
রুশভিয়ান ঘাড় ঘুরিয়ে চট করে ইনানের পায়ের দিকে তাকালো কিন্তু সবকিছু কেমন ঝাপসা লাগলো তাই তে*ড়েফুঁ*ড়ে গিয়ে ইনানের পায়ের কাছে বসে গেল। ইনান ভ*য়ে সরতে চাইলো কিন্তু পারলো না, কারন রুশভিয়ান তার পা কে শক্ত করে আকড়ে ধরে আছে।
আমিরের খুব ক*ষ্ট লাগলো ভাইয়ের এমন অবস্থা দেখে, তার চোখের কোনে পানি জমতে লাগলো। কিন্তু সায়েরা বেগমের ঠোঁটে বাঁকা হাসি নিয়ে রুশভিয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে।

রুশভিয়ান ইনানের ডান পায়ের আঙুল গুলো গুনতে লাগলো, ছয়টায় হলো, কিন্তু সে ভাবলো হয়তো মনের ভুল তাই আরেকবার গুনলো এবারো ছয়টা। এইভাবে একশবার গুনলো কিন্তু প্রতিবারই একই হলো। রুশভিয়ান মেঝেতে ল্যাটা মে*রে বসে গেল মাথায় হাত দিয়ে। তার হাত দ্বারা কতবড় পাপ হয়েছে যা বলার বাইরে।
সায়েরা আমিরের দিকে তাকিয়ে বলল,” আমির ইনানকে নিয়ে মির্জা মহলে যা, ওখানে চাচা ইনানের জন্য অপেক্ষা করছে” বলেই ইনান ইশারায় যেতে বলল।
আমির এগিয়ে এসে একবার ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে ইনান নিয়ে রত্নকুঞ্জ থেকে বের হয়ে গেল। ইনান একবার পিছন ফিরে বি*ধ্ব*স্ত রুশভিয়ানের দিকে তাকিয়ে সামনে এগিয়ে গেল।
আর রুশভিয়ান তার যাওয়ার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। আর আগের মতো গর্জে বলতে পারলো না আমির আমার বউ রত্নকুঞ্জ থেইকা বাইর হইবো না, সে আমার লগে থাকবো কিন্তু কিছুই বলতে পারলো না তার কন্ঠ রোধ হয়ে এলো।

সায়েরা বেগম মুচকি হাসলো, তারপর হাসিটাকে চেপে গম্ভীর স্বরে বলল,” আরেকটা সুসংবাদ আছে তোর জন্য?
রুশভিয়ান কোন উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন করলো না, সে নিশ্চুপ হয়ে মেঝেতে বসে রইলো। সায়েরা ক্রুর হেঁসে বলল,” তুই বাপ হচ্ছিস রুশভিয়ান, তারউপরে একটা না দুটো জমজ বাচ্চা আছে ইনানের পেটে”
রুশভিয়ান বিদ্যুতের গতিতে তাকালো সায়েরার মুখের দিকে
।তার মনে হলো সে ভুল কিছু শুনছো, রুশভিয়ান বলল,” ফালতু কথা বলবেন না, যান এইখান থেই.. তার কথা শেষ হওয়ার আগেই সায়েরা একটা ফাইল খুলে রুশভিয়ানের সামনে ফেলে বলল,” তো দেখে নে!

রুশভিয়ান যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারলো না, এখানে নাম লেখা আছে ইনান তালুকদার। তার নিচে আল্ট্রা করানো রিপোর্টে দুটো ভ্রু*ন দেখানো হয়েছে। রুশভিয়ানের চোখের কোনে পানি জমতে লাগলো, তার অংশ আসছে পৃথিবীতে আর সে কিছুই জানে না। রুশভিয়ান রিপোর্টাকে আকড়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠলো। সে এখন এই সমাজকে কি বলবে, কি বলে পরিচয় দেবে বাচ্চাদের। এই চিন্তা তাকে পা*গ*ল করে তুললো।

এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ২৮

সায়েরা বেগম রুশভিয়ানের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল,” তোর এই শাস্তিটা প্রাপ্য রুশান, তুই মেয়েটাকে অনেক ক*ষ্ট দিয়েছিস এবার তোর পালা। সারাদিন, সারারাত ছ*ট*ফ*ট কর! তারপর তোকে আমি সব সত্যি জানাবো
সায়েরা এবার নিচু হয়ে বলল,” তা তোর বাচ্চারা তোকে নানা বলবে, নাকি আব্বু বলবে রুশান ” বলেই গম্ভীর হওয়ার চেষ্টা করলো,। আর রুশভিয়ান ভ*ঙ্গু*র দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো সায়েরার দিকে……

এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ৩০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here