Home এমপি রুশভিয়ান মির্জা এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ৩৩

এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ৩৩

এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ৩৩
ফাতেমা তুজ জোহরা

ইনান অল্প একটু টক মুখে তুলে দিলো। স্বাদটা মুখে লাগতেই তার ভ্রুসামান্য কুচকে গেল। আমের টকের মধ্যে কেমন একটা অস্বাভাবিক তিক্ততা মিশে আছে মনে হলো। ইনান একবার বাটির দিকে তাকালো।
তারা তৎক্ষনাৎ এগিয়ে এসে বলল, ” কি হইলো? টক ভালো হয় নাই!
তারার কথা কর্নকুহরে যেতেই ইনান অনবরত মাথা নাড়াতে নাড়াতে বলল, ” না ” ভালোই হয়েছে ” ইনান নিজেকে স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করে সে আবার ও সামান্য টক মুখে নিলো। তারা বেগমের চোখ তখন ইনানের মুখের উপর স্থির। ইনান প্রতিবার টক মুখে তুলতে দেখে তার বুকের ভেতরে প্রশান্তি আর উ*ত্তে*জনা*র সৃষ্টি হচ্ছিল । আইয়ুব আর আমির বিষয়টা খেয়াল করলো না। তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলো। আর টেবিলের অন্যপাশে ইনান টক খেতে ব্যস্ত। কয়েক মিনিট পর ইনানের শরী*রে অস্বস্তি শুরু হলো। প্রথমে তার পেটের ভেতর হালকা মো*চড় দিয়ে উঠলো। সে একহাত দিয়ে পে*টটাকে আলতো করে চে*পে ধরলো। মুখের রং মুহুর্তের মধ্যে ফ্যা*কাশে হয়ে গেল। কপালে ছোট ছোট ঘামের বিন্দু জমা হলো তার। ইনান ঠোঁট চে*পে ধরে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করলো। কিন্তু হঠাৎ বু*কের ভেতর তী*ব্র ঢেউ উঠলো তার। গলাটা জ্বা*লা করতে লাগলো, সাথে শ্বাস নিঃশ্বাস দ্রুত গতিতে চলতে লাগলো তার। ইনান তড়িঘড়ি করে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়ালো ।
আমির জিজ্ঞেস করলো, ” কি হইছে ইনান?

ইনান কোন উত্তর দিতে পারলো না। এক হাত দিয়ে মুখ চে*পে ধরে সে কয়েক পা এগিয়ে যেতেই তার পেটের ভেতর তী*ব্র বমির চাপ উঠে এলো। সে টেবিলের উপরে ঝুঁকে বমি করতে লাগলো। হঠাৎ টেবিলে হইচই পড়ে গেল।
তারা মুখটাকে অ*সহায় করে এগিয়ে এসে ইনানের পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে বলল,” আস্তে করো, আস্তে
আইয়ুব চেয়ার সরিয়ে তাড়াতাড়ি করে উঠে দাড়ালো । আমির একগ্লাস পানি ঢেলে এনে এগিয়ে নিয়ে এলো। কিন্তু ইনান পানির দিকে তাকালো না। তার শরীর কাঁপছিলো, চোখ দিয়ে পানি ঝরছিলো, মুখের রং আরো ফ্যাকাশে হয়ে গেল। ইনান আবারো নিচু হয়ে হরহর করে টেবিলের উপরে বমি করতে লাগলো। চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগলো তার। ইনান আবার পে*টে*র উপর হাত রাখলো। অদ্ভুত এক ব্যা*থা ধীরে ধীরে তার শরীরের ভেতর ছড়িয়ে পড়ছিলো । মা*থা ঘুরছিলো, চোখের সামনে সবকিছু ঝাপসা হয়ে আসছিলো । ইনানে পেটে হাত দিয়ে অস্পষ্ট স্বরে বলল, ” আমার পেট….. পেটটা খুব ……….
খুব ব্যা*থা করছে?
ইনানের কথা শুনে আমির ভেতরটা চু*র*মার হয়ে গেল। ওই পেটের ভেতর তার ভাইয়ের ছোট ছোট অং*শ আছে। তাদের কিছু হয়ে গেল না তো। তার মনের ভেতর অজানা আ*ত*ঙ্ক ছড়িয়ে পড়লো। রুশভিয়ান সকালে সংসদ যাওয়ার আগে তাকে পই পই করে বলে গিয়েছে ইনানের খেয়াল রাখতে, আর তারাকে যেন ইনানের আশেপাশে না দেখা যায়। কিন্তু সে ঠিক মতো খেয়াল রাখতে পারেনি। তারা যখন খাবার দিলো তখন কেন ইনানের খাবার গুলো চেক করলো না সে। আমির নিজের চুল গুলোকে শক্ত করে টেনে ধরলো । তার বো*কা*মির জন্য মেয়েটা এতটা ক*ষ্ট পাচ্ছে।

আইয়ুব এগিয়ে গিয়ে ইনানের হাত ধরে বলল,” কি হইলো মা, এমন করতাছো ক্যান ” কিন্তু ইনান কোন উত্তর দিলো না। সে শুধু ঝাপসা চোখে তাকালো আইয়ুবের দিকে।
ঠিক তখনই বাড়ির বাইরে গাড়ির ব্রেক ক*ষার তীব্র শব্দ শোনা গেল। আর কয়েক সেকেন্ড পর মির্জা মহলের মুল গেট পেরিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করলো রুশভিয়ান। তার মুখে উৎ*কন্ঠা, ভ*য়,সবকিছু মিলেমিশে রয়েছে । রুশভিয়ানের চোখে পড়লো ইনানের দিকে। ইনান তখনো টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁ*পছিলো। তার মুখ পুরোপুরি বি*র্বণ, ঠোঁট নী*লচে হয়ে গেছে, চোখ দুটো আ*ধবোজা। তারা আর আইয়ুব তাকে ধরে রেখেছিলো। রুশভিয়ান একমুহূর্ত দেরী না করে। সে ছুটে গিয়ে তাদের কাছ থেকে ইনান কে ছাড়িয়ে নিজের বুকে মধ্যে খানে ভরে নিয়ে আ*র্ত*না*দ করে বলল,” ইনান ” রুশভিয়ানের গলায় এমন এক আ*ত*ঙ্ক ছিলো যে ঘরের প্রত্যেকে থ*ম*কে গেল।

ইনান রুশভিয়ানের বুকের ভেতর মাথা রাখতেই কেঁ*পে উঠলো। তার চোখ দুটো ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে আসছিলো। সে রুশভিয়ানের বুকের জামাটা শক্ত করে আকড়ে ধরার চেষ্টা করলো। কিন্তু আঙুল গুলো যেন অ*চল হয়ে গেছে তার। ইনান আ*ধবোজা চোখে রুশভিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল,” আমার খুব ক*ষ্ট হচ্ছে খা*রা*প লোক, আমার পেট… কথাটুকু বলতে ও পারলো না সে অ*জ্ঞা*ন হয়ে ঢলে পড়লো রুশভিয়ানে বুকের উপর।
রুশভিয়ান তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল,” কি হইছে তোর? এই ইনান চোখ খোল, কোথায় ক*ষ্ট হইতাছে বল আমায়!
রুশভিয়ান তাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো । তার কন্ঠে কোন রা*গ নেই, নেই কোন ক*ঠো*রতা । শুধু ভ**য় আর অ*স*হায়*ত্ব ।
রুশভিয়ানের ভেতরটা হা*হা*কার করে উঠলো। সে জানে ইনানের শরীরে তার দুটি অনা*গত প্রান বেড়ে উঠছে । এই সত্যটা মনে পড়তেই তার বুকের ভেতর ঝড় বয়ে গেল। সে আ*র্ত*না*দ করে বলল, ” আমার ছানাগুলো ” ইনান তুই আমার ছা*না গু*লো*রে কিছু হইতে দিস না। চো*খ খোল, বউ চো*খ খোল… রুশভিয়ানের আ*র্ত*না*দে পুরো মির্জা মহল কেঁ*পে উঠলো।
তারা বেগম একটু দূরে দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখছিলেন। ইনান অ*জ্ঞা*ন হয়ে পড়েছে দেখে তার বুকে আনন্দের ঢেউ বয়ে যাচ্ছে ।
এরইমধ্যে বাইরে অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনের শব্দ শোনা গেল।
আমির এগিয়ে এসে বলল,” ভাই আমি অ্যাম্বুলেন্সের খবর দিয়াছি?
রুশভিয়ান এক মুহূর্ত দেরি করলো না, সে ইনান কে দুই হাতে তুলে নিলো। ইনানের মাথা তার বুকে। হাত দুটো নিস্তেজ হয়ে রুশভিয়ানের বাহুর উপরে পরে আছে। রুশভিয়ান দ্রুত দরজার দিকে এগাতে লাগলো।পিছনে পিছনে আমির।
রুশভিয়ান অ্যাম্বুলেন্সে উঠে গেল, আর আমির সামনে গিয়ে বসলো। অ্যাম্বুলেন্স চলতে শুরু করলো, মির্জা মহল ত্যাগ করে গাড়িটা আস্তে আস্তে কংক্রিটের রাস্তায় উঠে গেল।

রুপনগর হাসপাতাল,, রুশভিয়ান হাসপাতালে করিডোরে অ*স্থির ভাবে পায়চারী করছে। ইনান কে কেবিনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ডাক্তার তেমন কিছু বলেনি ।রুশভিয়ানের চোখ দুটো নিবদ্ধ কেবিনের দিকে । মনের ভেতর তার ইনান আর বা*চ্চাগুলোকে হারানোর ভ*য় তাকে ঘিরে ধরেছে। এমন সময় সেখানে উপস্থিত হলো সায়েরা, চুল গুলো এলোমোলো হয়ে আছে, চোখ দুটো ফুলে আছে । এসেই রুশভিয়ানের গাল বরাবর থা*প্প*%ড় বসিয়ে দিলো, পরপর আরো দুটো থা%প্প*%ড় বসিয়ে দেয় । থা*প্প%ড় গুলো এতো জোড়ালো ছিলো যে পুরো হাসপাতালে প্রতিধ্বনিত হলো। আমির দ্বিতীয় দফায় অবাক হয়ে গেল। হাসপাতালের নার্স, ডাক্তার, সেখানে হাঁটারত লোক গুলো ঘুরে তাকালো তাদের দিকে । রুশভিয়ান কিছু বলল না মাথা নিচু করে রাখলো,তার চোখ থেকে গড়িয়ে পড়লো পানি।

সায়েরা হি*তা*হিত জ্ঞা*ন হারিয়ে রুশভিয়ানের ক*লার ধ*রে চি*ৎ*কা*র করে বলল,” তোকে আমি বললাম ইনানকে আগলে রাখতে, তারার কু*নজর থেকে বা*চ্চা দুটোকে বাঁ*চাতে বললাম আর তুই তাদের ওর হাতে রেখে সংসদে গিয়েছিস কু*ত্তা%*র বা*চ্চা “বলেই আরো দুটো থা*প্প*%ড় রুশভিয়ানের গা*লে বসিয়ে দিলো । রুশভিয়ান পাথরের মতো শরীরটা আস্তে আস্তে ভে*ঙে পড়লো সায়েরার পায়ের কাছে শক্ত করে পাদুটো কে আ*ক*ড়ে ধরে কান্না ভেঙে পড়ে বলল,” আম্মু মা ক্যান আমার লগে এমন করলো, সে কি আমারে কোনদিন চিন্তে পারবো না ! ক্যান আমার বাচ্চাগুলোরে আর ইনানের ক্ষ*তি করলো” বলেই ডুকরে উঠলো রুশভিয়ান ।
রুশভিয়ান কথা শুনে সায়েরার চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়লো। তার সমস্ত রা*গ যেন চোখের পলকে গলে গেল। সে নিচু হয়ে রুশভিয়ানকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরতেই রুশভিয়ানের কান্না আগের থেকে আরো বেড়ে গেল। সবাই চারপাশে রুশভিয়ানের কান্না দেখে হত*বাক। যে পুরো রুপনগরে গু*ন্ডা ম*স্তা*নি করে দাপিয়ে বেড়ায়, তার চোখে নাকি পানি ।
রুশভিয়ান কাঁদতে কাঁদতে বলল,” আমাকে ক্যান ছোট বেলায় বাঁ*চা*ইয়া ছিলে আম্মু? আমি যে এত ক*ষ্ট সহ্য করতে পারতেছি না? চোখের সামনে নিজের মাকে মা বলে ডাকতে পারেনি, অন্য একজনকে মা বলতে হইছে। বড় হইয়া ওই মায়ের চোখের বা*লি হইয়া উঠলাম। আর আজকে সেই মা আমার বাচ্চাগুলোকে মা*ই%*রা ফেলতে চাইছে।

আমির পুরো হতবাক হয়ে গেল রুশভিয়ানের কথা শুনে । সে দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে ফেলেছে। তার মানে তারার মৃ*%ত বাচ্চা হলো রুশভিয়ান মির্জা। যে এতদিন রুশার ছেলে হইয়া থাকতো। আর সায়েরা তার আপন খালা হয়, আর রুশভিয়ান তাহলে তার আপন মায়ের পেটের ভাই না। কথাগুলো ভাবতে গিয়ে আমিরের পায়ের তলার মাটি কেঁপে উঠলো, সে অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে তাকালো সায়েরা আর রুশভিয়ানের দিকে।
এরইমধ্যে সেখানে আইয়ুব মির্জা উপস্থিত হলো, সে রুশভিয়ানের সমস্ত কথা শুনতে পেয়েছে। যে বাচ্চাটাকে সে নিজের হাতে বা*লি চা*পা দিতে চেয়েছিলো সে হলো রুশভিয়ান । পুরনো ক্রো*ধ তার মস্তিষ্কে হা*না দিলো পুনরায়। এত বড় বিশ্বাস ঘা*ত*কা*তা করলো সায়েরা। যাকে সে নিজের মেয়ের মতো ভালোবাসতো। আর রুশা সে কি একবার ও টের পায়নি তার সন্তানের পরিচয়ে একজন জা*রু%জ বাচ্চা মির্জা পদবী গায়ে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে । আইয়ুব চোখ মুখ লা*ল হয়ে উঠলো। সে তাকালো রুশভিয়ানের দিকে। তার সারা শরীর ঘৃ*ন ঘৃ*ন করে উঠলো। কি করে ওই জা*রু*%জ বাচ্চাটাকে নিজের হাতে লালন পালন করেছে, কি তাকে প্রতিদিন স্কুলে দিয়ে আসতো। আইয়ুবের সারা শরীর কাঁপতে লাগলো রা*গে। সে নিঃশব্দে সরে গেল সে জায়গা থেকে।

তারার তার ঘরে বাচ্চার ফটো ফ্রেমটাকে বুকে আগলে ধরে বসে আছে, তার চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে পানি। এমনই একদিনে তার বুকের ধন কে কে*ড়ে নিয়েছিলো ওই আইয়ুব মির্জা। আর সে অন্ধকার ঘরে কান্নায় মেতে উঠেছিলো। তারা ঠোঁটে হাসি ফুটলো আজকে তার খুশির দিন। তার সন্তানের প্র*তি*শো*ধ নিতে পেরেছে। তারা আলমারী থেকে সুন্দর লাল টকটকে বেনারসী বের করে পড়ে নিলো, সাথে নানা ধরনের গহনা, পায়ে আলতা লাগালো, চুল গুলো পিঠে ছড়িয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল ফটো ফ্রেমটাকে বুকে নিয়ে।
তারা হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছালো রুপনগরের দক্ষিনের জঙ্গলে, চারদিকে জঙ্গল বড় বড় বিশাল আকারের গাছ হওয়াই দিনের বেলায় জঙ্গলটা অন্ধকার হয়ে আছে, আর চারদিকে কেমন একটা গা ছমছমে হয়ে আছে। কিন্তু তারা সেগুলো উপেক্ষা করে পৌঁছালো বিরাট বড় গো*%র স্থানে। গো%*র স্থান দেখেই বোঝা যাচ্ছে হয়তো আর এখানে মৃ%*ত মানুষকে শায়িত করা হয় না। গো*%র স্থান টায় মোট আশি থেকে একশটা ক%ব*র আছে। কোন কোন ক%ব*র সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করা, আবার যেগুলো বাঁশের বেড়া দেওয়া ছিলো সে ক%ব*র গুলো ভেঙে কোথায় চলে গেছে। ঠিক ভাবে তাদের অস্তিত্ব টুকু বোঝা যাচ্ছে না।

তারা গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গেল ছোট একটা ক%ব*রে*র সামনে, দেখেই বোঝা যাচ্ছে ক%ব*র*টা একটা ছোট বাচ্চার। ক*ব%রে*র উপরে একটা বা*চ্চার ছবি ঢালাই করে লাগানো আছে, যে ছবিটা তারা হাতে নিয়ে আছে ঠিক সেরকম হুবহু। তারা চোখ ঝাপসা হয়ে এলো, সে হাঁটু গেড়ে নিচে বসার আগে কেউ এসে তার গাল বরাবর থা%প্প*ড় বসালো। তারা উল্টে পড়লো নিচে ….

বেস্টন,,,
কি হলো আপা থামলেন কেন বলুন তারার কি হলো, সে কি জানতে পারলো রুশভিয়ান তার ছেলে। যার জন্য সে এত বড় পা*প কাজ করলো। আর ইনানের কি হলো, তার বাচ্চা গুলো বেঁচে আছে তো… সপ্তদশী কন্যা আর্থি কথাগুলো বলে থামলো।
তার সামনের মেয়েটা হেলদোল নেই।মেয়েটার পরনে সাদা শাড়ী, শাড়ী উপরে লং কোর্ট, চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা, চুল গুলো খোঁপা করে পিছনে রাখা আছে, বয়স পঁয়তাল্লিশ , নাম এলিনা , বয়স শুধু তার কাছে যেন সংখ্যা মাত্র, তাকে কেউ চল্লিশ বছরের বলবেন না । সে কাঁপা কাঁপা হাত দিয়ে সোফাটাকে শক্ত করে চেপে ধরে উঠে দাড়িয়ে জানলার বাইরে তাকালো। যেখানে দেখা যাচ্ছে স্নোফল পড়ছে আকাশের বুক চিঁ*ড়ে, কেউ কেউ ব্যস্ত পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে সামনে । মেয়েটা সেদিকে তাকিয়ে রইলো কিয়তক্ষন তার চোখের কোনে পানি জমলো একটু। সে আলগোছে পানিটুকু মুছে বলল,” আজকে যাও আর্থি, কালকে বাকিটুকু শুনবে।। আমি এখন ব্রিশাম নিবো।
আর্থি মুখটা বেজার হয়ে গেল, গল্প বলতে বলতে এমন এক জায়গায় রাখেন ইনি যেন বাকিটুকু জানার আগ্রহে দ*মব*ন্ধ হয়ে ম*রে যায় । আর্থি না চাইতে ও সোফা থেকে উঠে মনে মনে বলল,” ফালতু মহিলা ” বলেই সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে গেল সে।

আর এলিনা তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ফিক করে হাসতে গিয়ে হাসলো না তার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো গালে, সে কিছু পুরনো ফটো ফ্রেমের সামনে দাঁড়িয়ে বিরবির করে বলল,” আমি খা*রা*প, হ্যাঁ আমি খা*রা*প, আমার জন্য সবকিছু অচিরেই হা*রিয়ে গিয়েছে। সবকিছু ত*লিয়ে গিয়েছে অন্ধকারের অতল গহ্ব*রে । আর শোনো মেয়ে এটা কোন গল্প ছিলো না, এটা হলো তাদের চারজনের জীবনের উ*থান পত*নের কাহিনি, যার শেষ টুকুতে নিজেকে হা*রি*য়ে ফেলবে তুমি নিজেই ….. শেষের কথাটুকু আর্থির উদ্দেশ্য বলল এলিনা।

এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ৩২

আর্থি এই বেস্টন শহরে পড়ালেখা করতে আসে, কিন্তু কোন সিট খালি না মিস এলিনার বাড়িতে উঠেছে। কিন্তু আর্থি এলিনার একটি ডায়রিতে এই গল্পের একাংশ পায়, সেটুকু পরে বাকি অংশের কথা জিজ্ঞেস করলে এলিনা বলে সে নিজেই শুনিয়ে দিবে বাকিটুকু । তাই আর্থি সিট পাওয়া সত্বেও গল্প শোনার জন্য এই “রুশনীড়” ভবনে থেকে যায়…

এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ৩৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here