Home এমপি শেহরান মির্জা এমপি শেহরান মির্জা পর্ব ১০

এমপি শেহরান মির্জা পর্ব ১০

এমপি শেহরান মির্জা পর্ব ১০
সেঁজুতি আক্তার

সকাল সাতটা।
জানালার পর্দা ভেদ করে সূর্যের নরম আলো রুমের মধ্যে প্রবেশ করছে। হালকা বাতাসে পর্দাটা একটু একটু দুলছে। মাইরা এলোমেলো হয়ে বিছানায় শুয়ে আছে। এক পা কম্বলের বাইরে। চুলগুলো মুখের উপর ছড়িয়ে আছে। হঠাৎ ঘড়ির এলার্মটা কর্কশ শব্দে বেজে উঠল। মাইরা বিরক্তিতে কপাল কুঁচকালো। চোখ না খুলেই হাত বাড়িয়ে এলার্ম ঘড়িটা খুঁজে বন্ধ করলো। তারপর পাশ ফিরে আবার গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল।
শেহরান রুমে ঢুকল। সকাল পাঁচটায় জগিংয়ে গিয়েছিল। কপালে এখনো বিন্দু বিন্দু ঘাম। গায়ের টি-শার্টটা হালকা ভেজা।
রুমে ঢুকেই ওর দৃষ্টি গিয়ে আটকে গেল বিছানার দিকে।
মাইরা এলোমেলো ভাবে শুয়ে আছে। সাদা গেঞ্জির এক পাশ সরে গেছে। গলার কাছটা আর কাঁধের কিছু অংশ দেখা যাচ্ছে।

শেহরান শুকনো একটা ঢোক গিলল। সাথে সাথে চোখ সরিয়ে নিল। মনে মনে বলল, এই মেয়েটার এলোমেলো ভাবে ঘুমানোর স্বভাবটা আর গেল না। দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তারপর আলমারির দিকে এগিয়ে গেল। আলমারির পাল্লা খুলতেই আবার বিরক্তি লাগল। এই একটা সমস্যা। রুমে এই মেয়েটা থাকলে ড্রেস চেঞ্জ করা যায় না। আলমারি থেকে একটা চেক শার্ট আর একটা কালো প্যান্ট বের করে ওয়াশরুমের দিকে চলে গেল।
দশ মিনিট পর শেহরান রেডি হয়ে বের হলো। চুলগুলো এখনো হালকা ভেজা। শার্টের হাতা কনুই পর্যন্ত গোটানো। বের হয়ে দেখল মাইরা এখনো ঘুমাচ্ছে। একই ভাবে। নড়েওনি।
শেহরান ভ্রু কুঁচকালো। বিছানার কাছে এগিয়ে এলো।

প্রথমে ভাবল মাথায় হাত দিয়ে ডাকবে। কিন্তু পরের সেকেন্ডেই অস্বস্তি লাগল। কিভাবে ডাকবে? কি বলবে? এই ভাবতে ভাবতেই পাঁচ মিনিট কেটে গেল।
শেষে বুক ভরে একটা লম্বা শ্বাস নিল। তারপর একটু ঝুঁকল।
ডান হাতটা বাড়িয়ে মাইরার চুলের ভাঁজে আস্তে করে ছুঁয়ে দিল।
গলার স্বরটা যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে বলল, “এই যে ম্যাডাম। উঠুন। আপনার ঘুম এখনো হয়নি? কলেজে কি যাবেন না?”
মাইরা পিটপিট করে চোখ খুলল। সামনে শেহরানকে দেখে এক সেকেন্ডের জন্য চমকে উঠল। তারপর কিছুক্ষণ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। ঘুম ঘুম চোখ। এলোমেলো চুল। মুখে এখনো ঘুমের ছাপ।

শেহরান মাইরার ওই দৃষ্টি দেখে সাথে সাথে হাত সরিয়ে নিল।
গলা খাঁকারি দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল। হা, করার মতো হা করে তাকিয়ে না থেকে তাড়াতাড়ি ওঠো। না হলে আপনার শাশুড়ির আবার মাথা গরম হয়ে যাবে।
কথাটা বলেই নিজেই একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেল।
মাইরার তখন কলেজের কথা মনে পড়ল। তাড়াহুড়ো করে ঘড়ির দিকে তাকাল। সাড়ে আটটা বাজে। হায় আল্লাহ।” বলেই ধড়ফড় করে উঠে বসল।
শেহরানের দিকে তাকিয়ে কোমরে হাত দিয়ে বলল, “আপনি আমাকে এখন ডাকছেন কেন? আগে ডাকতে পারেননি?”
-শেহরান বিরক্তি নিয়ে বলল, “কাল রাতেই তো ঘড়িতে অ্যালার্ম দিলে। তাহলে তোমার ঘুম এখনো ভাঙেনি কেন?”

-মাইরা অপরাধীর মতো মাথা নিচু করল। অ্যালার্ম তো বেজেছিল। কিন্তু আমি তো আবার ঘুমিয়ে গেছি। এখন কি হবে?
শেহরান আর দাঁড়াল না।
“কি হবে কিছুই হবে না। তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নাও। আমি নিচে আছি।” বলেই রুম থেকে বের হয়ে নিচে নেমে গেল।
মাইরা তাড়াহুড়ো করে বিছানা থেকে নেমে পড়ল। বিছানা থেকে ওড়নাটা তুলে দৌড়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ল। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রেডি হতে হবে।

ড্রয়িং রুমের সোফায় রায়হান মির্জা বসে চা খাচ্ছেন আর খবরের কাগজ পড়ছেন। রোজ তিনি নিজের রুমেই চা খান। কিন্তু আজ তার ব্যতিক্রম। শেহরান ফোন স্ক্রল করতে সিঁড়ি দিয়ে নামছে। রায়হান মির্জা খবরের কাগজটা চোখ থেকে একটু নামিয়ে শেহরান কে দেখে নিলেন। তারপরে আবার খবরের কাগজে মন দিলেন। শেহরান সোফার দিকে এগিয়ে গিয়ে বাবার পাশে একটি সোফায় বসলো।
শেহরানকে আসতে দেখেই সাহানা বেগম এক কাপ কফি বানিয়ে শেফালির হাতে ধরিয়ে দিলেন। শেফালী কফি এনে শেহরানের সামনে রাখা টি টেবিলের ওপরে রেখে চলে গেল। শেহরান কফির কাপটা হাতে তুলে নিল। কাপে চুমুক দিলো।

“মাইরাকে নিয়ে কলেজে কখন যাবে?”
শেহরান ফোনের দিকে দৃষ্টি রেখে বলল, “আজ না গেলে হয় না?”
“কেন? আজ গেলে কি হবে?”
“কিছুই হবে না।”
“তাহলে?”
“তাহলে কিছুই না।”
শেহরানের আচরণে রায়হান মির্জা বিরক্তি নিয়ে মুখ বাঁকালেন। মনে মনে বললেন, আসলেই একটা অসভ্য ছেলে। না হলে বাবার সাথে এমন করে হেঁয়ালি করে কোন ছেলে? ভেবেই দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
শেহরান আবার কফির কাপে চুমুক দিলো।

মাইরা তাড়াহুড়ো করার জন্য ড্রেস নিতেই ভুলে গেছিল। তাই একটা টাওয়াল জড়িয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসলো। তারপরে আস্তে করে রুমের দরজাটা লাগিয়ে দিল। আলমারির দরজা খুলে একটা নেভি ব্লু কালারের ওয়ান পিস বের করে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিলো। ভ্যানিটির সামনে দাঁড়িয়ে।
এয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকাতে শুকাতে হঠাৎ গত রাতের ঘটনাটা মনে পড়ে গেল।
শেহরান সেই সন্ধ্যাবেলা বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ার করণে, চেঞ্জ করে আবার পার্টি অফিসে চলে গেছিল। নয়টার দিকে বাসায় ফিরে খাওয়া দাওয়া করে। আসলো। এখন বাজে দশটা। মাইরা বিছানায় গুটিসুটি মেরে বসে আছে।
শেহরান রুমের দরজার সামনে দাঁড়াতেই মাইরাকে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে একটু অবাকই হল। কারণ এই মেয়ে তো কখনো এত চুপচাপ বসে থাকার মেয়ে না।
-শেহরান রুমের মধ্যে প্রবেশ করল। গায়ের কোট খুলে সোফায় ছুড়ে মারল। তারপরে ভ্যানিটির সামনে দাঁড়িয়ে হাতের ঘড়ি খুলতে খুলতে। আয়নার মধ্যে মাইরার দিকে তাকিয়ে বলল, “ব্যাপার কি? আজ এত চুপচাপ কেন?”

মাইরার হাতের মধ্যে একটি ছবি। শেহরানের দিকে বাড়িয়ে দিলো। শেহরান মাইরার দিকে ফিরে তাকালো। ভ্রু কুঁচকে দু কদম বিছানার দিকে এগিয়ে গেল। মাইরার এগিয়ে দেওয়া ছবিটার দিকে তাকাতেই শেহরানের মুখটা গম্ভীর হয়ে গেল। সাথে সাথে ছবিটা নিজের হাতে তুলে নিল। মাইরার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলল, “এটা তুমি কোথায় পেয়েছো?”
-মাইরা মিনমিনে কন্ঠে বলল, “আপনার আলমারিতে।” বলেই শেহরানের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চাইল।
শেহরান ছবিটার দিকে কিছুক্ষণ শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো। তারপরে আলমারিতে রেখে এসে মাইরার দিকে না তাকিয়েই বলল, “আমার কোন জিনিসে অনুমতি ছাড়া কখনো হাত দেবে না।” বলেই হনহন করে ওয়াশরুমে চলে গেল।
মাইরা নির্বাক চোখে তাকিয়ে রইল শেহরানের চলে যাওয়ার দিকে। এই মানুষটাকে ও তিন বছর ধরে ভালোবেসে গেছে।

বিয়ের কথা শুনে এক কথায় রাজি হয়ে গেছে। ভেবেছিল অন্তত মানুষটাকে নিজের করে পাবে। বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠল। ঠিক তখনই ওয়াশরুমের দরজা খোলার শব্দ হলো।
মাইরা তাড়াতাড়ি ঠোঁটের কোণে একটা হাসি টেনে নিল।
-শেহরান বেরিয়ে এসে মাইরার দিকে শান্ত চোখে তাকিয়ে বলল, “এখন থেকে তুমি সায়রার রুমে ঘুমাবে।”
মাইরা চোখ ছোট ছোট করে শেহরানের দিকে তাকালো। “কি বললেন আপনি? আমি সায়রা আপুর রুমে ঘুমাবো কেন?”
“কারণ তোমার শোয়া একটুও ভালো না। খুবই বাজে। তাই এখন থেকে তুমি আর আমার রুমে আসবে না। তোমার প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে তুমি চলে যাবে।”

“অসম্ভব।” বলেই মাইরা বিছানায় পা মিলিয়ে শুয়ে পড়ল। একটা বালিশ জড়িয়ে ধরে বলল, “অসম্ভব। আমি কখনো যাব না এই রুম থেকে।” বলে কম্বল জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়ার ভান ধরল।
শেহরান কিছুক্ষণ শান্ত দৃষ্টিতে মাইরার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপরে বিরক্তি নিয়ে লাইট অফ করে শুয়ে পড়লো।
রাতের কথা মনে পড়তেই মাইরার ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি খেলে গেল। আবার সাথে সাথে ছবিটার কথা মনে হতেই মুখটা মলিন হয়ে গেল। ওই ছবিটা কার? আর ওই মেয়েটাই বা কে? ওই মেয়েটা জন্য উনি এমন করে। ভাবতেই মাইরার বুকের মধ্যে চিনচিনে ব্যথা অনুভব করল। হঠাৎ টাইমের কথা মনে পড়তেই ঘড়ির দিকে তাকাল। নয়টা বেজে গেছে। তাই তাড়াহুড়ো করে রুম থেকে বেরিয়ে পড়ল।

ডাইনিং টেবিলে সবাই বসে খাবার খাচ্ছে। মাইরা এসে শেহরানের পাশের চেয়ারে বসলো। সাহানা বেগম মাইরার প্লেটে খাবার বেড়ে দিলেন। সাহানা বেগম খেতে খেতে শেহরানের দিকে তাকিয়ে বললেন, “যাচ্ছ তো মাইরাকে ভর্তি করতে?”
-শেহরান খেতে খেতে বলল, “হুম।”
-সায়রা নিরবে খাবার খাচ্ছে। পাশেই লিনা খাবার খেতে খেতে বলল, “শেহরান ভাইয়া, আমি কি তোমাদের সাথে কলেজে যেতে পারি?”
-মাইরা চোখ ছোট ছোট করে লীনার দিকে চাইল। মনে মনে ভাবল, এই মেয়েটার নিশ্চয়ই কোন মতলব আছে। তাই তো এত খাতির। দাঁড়াও ময়না, ভর্তি হয়ে আসি তারপরে তোমাকে মজা দেখাচ্ছি। বলেই দুষ্টু হাসলো।
শেহরান খাওয়া থামিয়ে লিনার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, “তোর কোন কাজ আছে?”

-সাথে সাথে লীনা ডানে বামে মাথা নাড়ালো।
-“তাহলে কি করতে যাবি?”
লিনা একটু হাসার চেষ্টা করে বলল, “ওই এমনি আর কি।”
-শেহরান গম্ভীর কণ্ঠে বলল, “দরকার নেই।”
আম্মুর দিকে তাকিয়ে বলল, “আম্মু, আমার খাওয়া হয়ে গেছে। আমি উঠলাম।” বলে মাইরার দিকে তাকিয়ে বলল, “তাড়াতাড়ি এসো। বাইরে আছি।” বলেই বেসিন থেকে হাত ধুয়ে পার্কিং লটের দিকে বেরিয়ে পড়ল।
-লীনা মুখটা মলিন করে শেহরানের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল।
-মাইরা দুষ্টু হেসে শ্বশুর শাশুড়ির দিকে তাকিয়ে বলল, “বাবা, আম্মু, আমি গেলাম তাহলে।”
-রায়হান মির্জা মাইরার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন, “সাবধানে যেও।”

-“আচ্ছা বাবা।”
-“সাবধানে যেও ভাবি।”
-সায়রার কথা শুনে মুচকি হেসে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল।
মাইরা বাইরে বেরাতেই দেখল শেহরান গাড়িতে বসে আছে।
কালো গাড়ি। কাচ অর্ধেক নামানো। শেহরান স্টিয়ারিং ধরে বসে আছে। চোখ সামনের দিকে।
মাইরা গিয়ে পাশের সাইডে উঠে পড়ল। সিটবেল্ট লাগাতে লাগাতে চারপাশে তাকাল। “আজ আর ড্রাইভার নেই?”
শেহরান মাইরার দিকে একবারও তাকাল না। গাড়ি স্টার্ট দিল।
“নেই।”
মাইরা ভ্রু কুঁচকে শেহরানের দিকে তাকাল। “ড্রাইভার কোথায়?”
শেহরান সোজা সামনে তাকিয়ে বলল, “ছুটি দিয়েছি।”
“কেন?”
“এমনি।”

মাইরা মুখ গোমরা করে বসে রইল। দুই মিনিট পর আবার বলল, “আপনি গাড়ি চালাতে পারেন?”
শেহরান এবার একবার আড়চোখে তাকাল। “তোমার কি মনে হয়?”
“মনে হয় না।” মাইরা সোজা বলে দিল। “আপনি তো রেগে থাকলে সব ভেঙেচুরে ফেলেন। এখন যদি রেগে গিয়ে এক্সিডেন্ট করেন?”
শেহরান হঠাৎ ব্রেক চাপল। গাড়ি ঝাঁকি দিয়ে থামল। মাইরা ভয় পেয়ে সিট খামচে ধরল। “কি হলো?”
শেহরান গম্ভীর গলায় বলল, “আমি রেগে গাড়ি চালাই না।”
মাইরা ঢোক গিলল। “ওহ। সরি।”
আবার গাড়ি চলতে শুরু করল। দুইজনই চুপ। একটু পর মাইরা আস্তে করে বলল, “আমার কিন্তু ভয় লাগছে।”

“কিসের ভয়?”
“আপনাকে।”
শেহরান ভ্রু কুঁচকাল। “আমাকে?”
“হুম। আপনি রাতে বললেন আমি সায়রা আপুর রুমে যাব। আমি যাব না।”
শেহরান এক হাতে স্টিয়ারিং ধরে অন্য হাতে সিগন্যাল দিল। “ওটা আমার ডিসিশন।”
“আর এটা আমার ডিসিশন। আমি যাব না।” মাইরা গাল ফুলিয়ে বসে রইল।
শেহরান আর কিছু বলল না। শুধু ঠোঁটের কোণে খুব হালকা করে একটা মুচকি হাসি দেখা গেল।
মাইরা সেটা খেয়াল করল না। ও জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে বলল, “আস্তে চালান। আমার কলেজে লেট হলেও সমস্যা নেই। কিন্তু এক্সিডেন্ট হলে সমস্যা আছে।”
শেহরান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। “তুমি খুব কথা বলো।”
মাইরা পাল্টা জবাব দিল। “আপনি খুব কম বলেন।”
শেহরান এবার আর উত্তর দিল না। শুধু গাড়ির স্পিডটা একটু কমিয়ে দিল।
গাড়ি কলেজের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে। জানালা দিয়ে বাতাস আসছে। মাইরা কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকল। তারপর হঠাৎ করে শেহরানের দিকে ঘুরে বসল।

“আচ্ছা শুনুন?”
শেহরান স্টিয়ারিং ধরে সামনে তাকিয়েই বলল, “কি?”
“আপনি তো এমপি, তাই না?”
“হুম।”
মাইরা চোখ বড় বড় করে বলল, “তাহলে আপনি কি শুধু নামেই এমপি? নাকি সত্যি সত্যি ভাষণ দেন?”
শেহরান ভ্রু কুঁচকে বলল “কি আবল তাবল বলছ?”
“না মানে টিভিতে দেখি এমপিরা মাইক হাতে নিয়ে চিল্লায়। আপনি ওইরকম করেন? মানুষ জড়ো করে বলেন, আমার ভাইয়েরা আমার বোনেরা ওইরকম?”
শেহরান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। “আমি পার্লামেন্টে কথা বলি। রাস্তায় দাঁড়িয়ে চিল্লাই না।”
মাইরা ঠোঁট উল্টাল। “ওহ। তাহলে তো মজা নেই।”
“মজা?” শেহরান অবাক হলো।
“হ্যাঁ। ভাবছিলাম আপনি বাসায় এসেও ভাষণ দিবেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে বলবেন, দেশবাসী, নাস্তা রেডি। দুপুরে বলবেন, দেশবাসী, ভাত খাও।”
শেহরান কপাল চাপড়াল। “তোমার মাথায় কি আছে?”
মাইরা হেসে ফেলল। “আরেকটা কথা।”

“বলো।”
“আপনি যেহেতু এমপি, আপনি চাইলেই তো সব করতে পারেন, তাই না?”
“কি করতে পারি?”
“এই যে পড়াশোনা। আপনি একটা আইন পাস করে দেন না। যে কলেজ-ভার্সিটি সব বন্ধ। তাহলে আর আমাকে পড়তে হবে না। কি ভালো হতো বলেন?”
শেহরান ব্রেক কষে মাইরার দিকে ভ্রু কুচকে তাকালো “তুমি পড়াশোনা বন্ধ করতে চাও?”
মাইরা মাথা নাড়ল। “হুম সকালে উঠে ক্লাস, এসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন। আমার ভাল্লাগে না। আপনি এমপি মানুষ। একটা সিগনেচার দিলেই তো হয়ে যায়।”
শেহরান আবার গাড়ি চালাতে লাগল। গম্ভীর গলায় বলল, “আমি এমপি হয়েছি মানুষের পড়াশোনা বন্ধ করতে না। পড়াশোনা করাতে।”

এমপি শেহরান মির্জা পর্ব ৯

মাইরা মুখটা ছোট করে ফেলল। “ধুর। এমপি হয়ে কোনো লাভই নেই তাহলে।”
শেহরান এবার আর রাগল না। শুধু বলল, “চুপচাপ বসে থাকো। আর একটা উল্টাপাল্টা কথা বললে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিব।”
মাইরা ভয় পাওয়ার ভান করে বলল, “ও বাবা। এমপি সাহেব রেগে গেছে। দেশবাসী, আমাকে বাঁচান।”
কলেজের গেট এসে গেল। শেহরান গাড়ি থামিয়ে বলল, “নামো।”
মাইরা নামতে নামতে বলল, “আচ্ছা এমপি সাহেব, কালকেও কি আপনিই নিয়ে যাবেন?

এমপি শেহরান মির্জা পর্ব ১১