এমপি শেহরান মির্জা পর্ব ২৭
সেঁজুতি আক্তার
তখনই কেবিনের দরজা খুলে নীলাদ্রি ভেতরে ঢুকে পড়ল।
এক্সিডেন্ট করেছিস? কী করে এক্সিডেন্ট করেছিস সেটা বল।
সঙ্গে সঙ্গে মাইরা অবাক চোখে পিছনে ফিরে তাকাল। নীলাদ্রি এগিয়ে এসে বেডের পাশের সোফায় আরাম করে বসে পড়ল।
— মাইরা অবাক হয়ে বলল, স্যার আপনি?
— নীলাদ্রি মুচকি হেসে বলল, অবাক হওয়ার কিছু নেই। আর আমাকে স্যার বলারও দরকার নেই। তুমি আমার ছোট বোনের মতো। আমাকে ভাইয়া বলেই ডাকবে। মাইরার যেন আজ অবাক হওয়ারই দিন। একের পর এক অবাক হয়েই যাচ্ছে।
— সায়রা সোফার হাতল ধরে দাঁড়িয়ে আছে। ওর জায়গায় আজ আম্মু থাকলে নিশ্চয়ই এতক্ষণে কেঁদে কেটে একাকার করে ফেলতো। ভেবেই দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
— মাইরা একবার শেহরানের দিকে তাকালো। তারপর আবার নীলাদ্রির দিকে তাকিয়ে বলল, ভাইয়া, আপনারা কি দুজন বন্ধু? তাহলে আমাদের বিয়ের সময় তো আপনাকে দেখিনি?
— নীলাদ্রি মুচকি হেসে বলল, হুম। সেই ছোটবেলার বন্ধু। তোমাদের বিয়ের সময় আমি দেশের বাইরে ছিলাম। তাই যেতে পারিনি। কিন্তু যখন শুনলাম শেহরান পদত্যাগ করেছে, তখন আর থাকতে পারলাম না। তবে আমার যেতে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। আমি দেশে যাওয়ার আগেই শেহরান দেশ ছেড়ে দিয়েছিল।
— মাইরা চুপচাপ নীলাদ্রির দিকে তাকিয়ে আছে।
— নীলাদ্রি আবার বলল, দেশে যাওয়ার পর ওর সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারলাম, ও সিঙ্গাপুরে আছে। আর জানো, তোমার বর আমাকে দিয়ে কী করিয়েছে?
— মাইরা জিজ্ঞাসু চোখে নীলাদ্রির দিকে তাকালো। কী?
— তোমার বর শুধু তোমার দেখাশোনা করার জন্য আমাকে ট্রান্সফার করিয়ে তোমার কলেজে লেকচারার হিসেবে পাঠিয়েছে।
— মাইরা অবাক হয়ে সঙ্গে সঙ্গে শেহরানের দিকে তাকালো।
শেহরান এবার রাগী চোখে নীলাদ্রির দিকে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে পারলে এখনই উঠে গিয়ে ওকে একটা কেলানি দিতো।
— নীলাদ্রি দাঁত বের করে হেসে বলল, আরও আছে। তোমার বর বিদেশে এসে থাকতে না পেরে ইমার্জেন্সি ফ্লাইটে দেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেদিন ড্রাঙ্ক অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে এয়ারপোর্টের দিকে যাচ্ছিল। পথের মধ্যে এক্সিডেন্ট করে এই যে এখানে এসে পড়ে আছে।
— মাইরা স্তব্ধ হয়ে গেল। শেহরানের দিকে তাকিয়ে রইল।
এসব কী শুনছে ও? ওর জন্য দেশে ফিরতে গিয়েই শেহরানের এই অবস্থা হয়েছে? মাইরার চোখ দুটো ছলছল করে উঠল। মাইরা এবার সায়রার দিকে তাকিয়ে বলল, আপু, তুমি এসব জানতে?
— সায়রা মুচকি হেসে উপর-নিচ মাথা নেড়ে বলল, জানতাম না। জেনেছি তিনদিন আগে। মাইরা আবার কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর আস্তে করে বলল, আব্বু আম্মু কি জানে?
— সায়রা মুচকি হেসে বলল, হুম। আমি বলেছি। না হলে কি তোমাকে আসতে দিত?
— মাইরা আর কিছু বলল না। ছলছল চোখে আবার শেহরানের দিকে তাকালো। শেহরানও চুপচাপ মাইরার দিকেই তাকিয়ে আছে। মাইরার বুকের ভেতরে যেন কেউ পাথর চাপা দিয়েছে। এতদিন যে মানুষটার ওপর এত অভিমান করে ছিল, সেই মানুষটাই ওর কাছে ফিরে যেতে গিয়ে আজ এভাবে শুয়ে আছে।
— মাইরা কিছু বলার আগেই কেবিনের দরজা খুলে একজন নার্স ভেতরে ঢুকে পড়ল। সঙ্গে ডাক্তারও আছে। ডাক্তার শেহরানের দিকে তাকিয়ে বললেন, এখন কেমন লাগছে?
— শেহরান বলল, আগের থেকে ভালো। ডাক্তার শেহরানের ব্যান্ডেজগুলো ভালোভাবে দেখে নিলেন। তারপর কিছু রিপোর্ট দেখলেন। এখন আর হাসপাতালে থাকার দরকার নেই। আজকে বাসায় নিয়ে যেতে পারেন। তবে কয়েকদিন পুরোপুরি বিশ্রামে থাকতে হবে। পায়ে বেশি চাপ দেওয়া যাবে না। সময়মতো ওষুধ খেতে হবে।
— নীলাদ্রি বলল, ঠিক আছে ডাক্তার। ডাক্তার আর নার্স কিছুক্ষণ পর কেবিন থেকে বেরিয়ে গেলেন।
— সায়রা এবার শেহরানের কাছে এগিয়ে গেল। ভাইয়া এখন কেমন আছো? শেহরান মুচকি হেসে বলল, ভালো আছি। সায়রা একটু রাগী কন্ঠে বলল, ভালো আছো? তোমার এই অবস্থা দেখে কেউ ভালো আছে বলবে?
— শেহরান হালকা হেসে বলল, আরে এত চিন্তা করিস না। আমি ঠিক আছি। সায়রা মুখ বাঁকিয়ে বলল, তোমার জন্যই তো সবাইকে এত চিন্তা করতে হলো।
— শেহরান আর কিছু বলল না। শুধু বোনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল। কিছুক্ষণ পর হাসপাতালের সব ফরমালিটি শেষ হয়ে গেল। শেহরানের জিনিসপত্রও গুছিয়ে নেওয়া হলো। শেহরান বেড থেকে উঠতে গেলেই মাইরা দ্রুত এগিয়ে আসলো। মাইরা উত্তেজিত কন্ঠে বলল, আস্তে। একা উঠবেন না।
— শেহরান মুচকি হেসে বলল, আমি এতটাও অসুস্থ না। মাইরা রাগী চোখে তাকিয়ে বলল, আপনার অবস্থা আমি দেখছি। বেশি কথা বলবেন না।
— নীলাদ্রি পাশে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসল। বাহ! হাসপাতালে আসার পর থেকেই তোকে বেশ ভালো শাসন খেতে হচ্ছে। শেহরান রাগী চোখে তাকিয়ে বলল, তুই চুপ কর।
— নীলাদ্রি দাঁত কেলিয়ে হাসল। সবাই মিলে কিছুক্ষণ পর হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসলো। বাইরে একটা গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। নীলাদ্রি শেহরানকে সাবধানে গাড়িতে উঠিয়ে দিল। মাইরা ওর পাশে বসলো। সায়রা আর নীলাদ্রি সামনে বসে পড়ল। গাড়ি ধীরে ধীরে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে পড়ল বাড়ির উদ্দেশ্যে।
— মাইরা চুপচাপ শেহরানের পাশে বসে আছে। কিছুক্ষণ পর আস্তে করে বলল, ব্যথা করছে?
— শেহরান মাইরার দিকে তাকিয়ে বলল, একটু।
— মাইরা আর কিছু বলল না। শুধু চুপচাপ পাশে বসে রইল।
সায়রা পেছনে ফিরে মাইরার দিকে তাকিয়ে বলল, ভাবি, তুমি কিন্তু একদম চুপ হয়ে গেছো। মাইরা মৃদু হেসে বলল, কী বলবো আপু?
— এতদিন পর ভাইয়াকে সামনে পেয়েছো, কিছু তো বলো। মাইরা মুখটা অন্যদিকে ফিরিয়ে বলল, অনেক কথা আছে। সময় হলে বলবো। সায়রা মুচকি হেসে আবার সামনে ফিরে গেল। কিছুক্ষণ পর গাড়িটা সিঙ্গাপুরের একটা সুন্দর শান্ত এলাকায় ঢুকে পড়ল। মাইরা জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল, আমরা কোথায় যাচ্ছি?
— সায়রা বলল, ভাইয়ার বাসায়। মাইরা অবাক হয়ে বলল, বাসা? হুম ভাবি। সিঙ্গাপুরে ভাইয়ার একটা ভিলা আছে। ওখানেই যাবো। কিছুক্ষণ পর গাড়িটা একটা বড় সুন্দর ভিলার সামনে এসে থামল। মাইরা জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। শেহরান মুচকি হেসে বলল, কী দেখছো?
— মাইরা কিছু বলল না, মুখ ঘুরিয়ে নিলো।
— শেহরান বুঝলো তার বউয়ের অভিমান এখনো ভাঙেনি, তাই আর কিছু বলল না।
— গাড়ি থেকে নেমে সবাই ভিলার ভেতরে ঢুকে পড়ল। মাইরা ভেতরে ঢুকেই কিছুক্ষণ চারপাশে তাকিয়ে রইল। বাড়িটা অনেক বড় আর সুন্দর। সবকিছু খুব পরিপাটি করে সাজানো। সায়রা নিজের লাগেজটা নিয়ে বলল, ভাবি, আমি রুমে যাচ্ছি। তুমি ভাইয়ার সাথে যাও। সায়রা রুমের দিকে চলে গেল। নীলাদ্রিও নিজের লাগেজটা নিয়ে গেস্ট রুমের দিকে চলে গেল।
— নীলাদ্রি যাওয়ার আগে বলল, শেহরান তুই সাবধানে থাকিস। বেশি হাঁটাহাঁটি করবি না।
— শেহরান বিরক্ত হয়ে বলল, হুম। এখন তুই যা।
— নীলাদ্রি মুচকি হেসে বলল, আচ্ছা। মাইরাকে দিয়ে ভালোভাবে বকা খাস।
— শেহরান রাগী চোখে তাকাতেই নীলাদ্রি হেসে গেস্ট রুমের দিকে চলে গেল।
— শেহরান ধীরে ধীরে নিজের রুমের দিকে হাঁটতে লাগল। মাইরাও ওর পেছন পেছন হাঁটছে। রুমে ঢুকতেই মাইরা আবারও অবাক হয়ে গেল। রুমটা বেশ বড়। একটা বড় বেড, পাশে টেবিল, একটা সোফা আর জানালার পাশে ছোট একটা টেবিল রাখা। সবকিছু খুব সুন্দর করে গোছানো। রুমের একপাশের বড় জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে চারপাশের সবুজ দেখা যাচ্ছে। মাইরা জানালার কাছে গিয়ে কিছুক্ষণ বাইরে তাকিয়ে রইল। ভিলাটা এমন একটা নিরিবিলি এলাকায় যেখানে চারপাশে শুধু সবুজ আর সবুজ। বড় বড় গাছপালা, ছোট ছোট ফুলের গাছ। শহরের ব্যস্ততা এখান থেকে অনেক দূরে।
— মাইরা আস্তে করে বলল, জায়গাটা অনেক সুন্দর।
— শেহরান ধীরে ধীরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাইরার কাছে এগিয়ে আসলো। তারপর মাইরার পেছনে গিয়ে দাঁড়াল। মাইরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই শেহরান ওকে আলতো করে জড়িয়ে ধরল। মাইরা খানিকটা কেঁপে উঠল। শেহরানকে নিজের এত কাছে পেয়ে অজানা এক শিহরণ বয়ে গেল।
— মাইরা হাঁসফাস করে বলল, ছাড়ুন।
— শেহরান ছাড়ল না। বরং মুচকি হেসে বলল, এতদিন পর তোমাকে পেয়েছি। এখনই ছেড়ে দেব?
— মাইরা চোখ নামিয়ে বলল, আপনার ওপর আমার অনেক অভিমান জমে আছে।
— জানি।
— তাহলে ছাড়ুন।
— না।
— মাইরা এবার একটু রাগ করে বলল, আপনি সবসময় নিজের ইচ্ছেমতো করেন। আমাকে কখনো গুরুত্ব দেন না। আমার কথাকে গুরুত্ব দেন না।
— শেহরান হালকা হেসে বলল, এই ব্যাপারটা আমি একটু নিজের ইচ্ছেমতোই করতে চাই।
— মাইরা আর কিছু বলল না। চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল।
— সন্ধ্যা হয়ে গেছে কিছুক্ষণ আগে। ভিলায় আসার পর সায়রা একটু ঘুমিয়ে ছিল। ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে ড্রয়িংরুমে চলে আসলো।
— নীলাদ্রি এরই মধ্যে মেডকে দিয়ে রান্নাবান্না করিয়ে নিয়েছে। যেহেতু শেহরানের বাইরের খাবার খাওয়া নিষেধ, তাই বাসাতেই রান্না করা হয়েছে।
— মাইরাও ভিলায় এসে ফ্রেশ হয়ে কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে বাইরে একটু ঘুরে এসেছে। শেহরান এতক্ষণ ঘুমিয়েই ছিল। এখন সবাই ড্রয়িংরুমে বসে আছে। নীলাদ্রি সোফায় বসে বসে ভিডিও গেম খেলছে। পাশে সায়রা ফোন দেখছে। আর মাঝে মাঝে আড় চোখে নীলাদ্রির দিকে তাকাচ্ছে। আর শেহরানের পাশেই বসে আছে মাইরা।
— হঠাৎ শেহরানের ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনে বড় বড় করে লেখা বাবা। শেহরান কলটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে রায়হান মির্জার উত্তেজিত কণ্ঠ ভেসে এলো।
— এখন কেমন আছিস বাবা?
— শেহরান গম্ভীর কণ্ঠে বলল, ভালো আছি।
— রায়হান মির্জা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। যাক, ভালো আছিস। মাইরা কেমন আছে?
— ভালো।
— বাবা, তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।
— কী কথা বল?
— শেহরান একবার পাশে বসে থাকা মাইরার দিকে তাকাল। মাইরা এতক্ষণ চুপচাপ বসে ছিল। ওর মুখে অস্বস্তি ফুটে উঠল।
আমি যেই কয়দিন এখানে আছি, মাইরাও আমার সাথে থাকবে।
কথাটা শুনে মাইরা সঙ্গে শেহরানের দিকে তাকাল। সায়রাও অবাক হয়ে নীলাদ্রির দিকে তাকাল। নীলাদ্রি ভ্রু কুঁচকে শেহরানের দিকে তাকিয়ে রইল।
— ওপাশ থেকে রায়হান মির্জা গলা ঝেড়ে বললেন। সেটা কীভাবে হয় বাবা? মাইরাকে পাঠিয়েছি তোমার সাথে দেখা করতে। আর তুমিও তো দেশেই ফিরবে। তাহলে মাইরাকে ছেড়ে দাও। তুমি না হয় তোমার কাজ সেরে পরে এসো।
— আমি ওকে এখন দেশে পাঠাবো না। আর আমার এখন কাজের অনেক চাপ। আমি এখন দেশে যাব না।
— কিন্তু কেন?
— আমি চাই মাইরা আমার সাথে থাকুক। মাইরা এবার আরও অস্বস্তিতে পড়ে গেল। আস্তে করে বলল, আপনি এসব কী বলছেন?
— শেহরান ওর দিকে তাকিয়ে কিছু বলল না। ওপাশ থেকে রায়হান মির্জা বললেন, বাবা, তুই তো এখনো পুরোপুরি সুস্থ হোসনি। এই অবস্থায় মাইরাকে এখানে রেখে কী করবি?
— আমি অসুস্থ বলে কি মাইরা আমার সাথে থাকতে পারবে না?
— তা বলছি না। কিন্তু ওরও তো পড়াশোনা আছে।
— পড়াশোনা করবে। ওর পড়াশোনায় কোনো সমস্যা হবে না।
— রায়হান মির্জা কিছু বলতে যাচ্ছিলেন। তার আগেই শাহানা বেগম ফোনটা হাত থেকে নিয়ে নিলেন।
— হ্যালো বাবা।
— হুম আম্মু।
— আমরা কি তোর বউকে ঠিকমতো যত্ন করতে পারিনি? ভালো করে রাখতে পারিনি? যে এখন বিদেশে নিয়ে এসে ওকে নিজের কাছে রাখতে চাইছিস?
— মাইরা কথাগুলো শুনে আরও অস্বস্তিতে পড়ে গেল। মাথা নিচু করে বসে রইল।
— সায়রা চুপচাপ মাইরার দিকে তাকিয়ে আছে। নীলাদ্রিও এবার ফোনের কথাগুলো মন দিয়ে শুনছে।
— শেহরান কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে গম্ভীর কন্ঠে বলল, কেমন যত্ন করেছো, সবই আমি দেখেছি আম্মু। আর সবই আমি বুঝি।
— শাহানা বেগম কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপরে বললেন, বাবা, তুই এখনো আমাদের ওপর রাগ করে আছিস?
— রাগের কথা না আম্মু। যা হয়েছে, হয়েছে। এখন আমি শুধু মাইরাকে আমার সাথে রাখতে চাই।
— মাইরা এবার আস্তে করে বলল, আপনি চাইলে আমি..
— শেহরান চোখ তুলে মাইরার দিকে তাকাতেই মাইরা আর কথাটা শেষ করল না।
— শেহরান আবার বলল, যাই হোক, মাইরা আমার সাথেই থাকবে। এখন থেকে ওকে নিয়ে আপনারা চিন্তা করবেন না।
— কিন্তু বাবা,,,,,,
— আম্মু, আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি। মাইরা আমার সাথেই থাকবে। আর সায়রা ঘুরেফিরে দেশে ফিরে যাবে। তোমরা চিন্তা করো না।
এমপি শেহরান মির্জা পর্ব ২৬
— শাহানা বেগম কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, আচ্ছা বাবা। কিন্তু নিজের শরীরের দিকে খেয়াল রাখিস।
— জি আম্মু।
— আর মাইরাকেও ভালো করে রাখিস।
— শেহরান এবার মাইরার দিকে তাকিয়ে বলল, রাখব আম্মু।
— মাইরা মাথা নিচু করে বসে রইল। সায়রা কিছু বলল না। শুধু একবার নীলাদ্রির দিকে তাকাল। নীলাদ্রি মুচকি হেসে মাথা নাড়ল। এতক্ষণে সেও বুঝে গেছে, শেহরান এবার মাইরাকে এত সহজে ছাড়বে না।
