Home কাজলরেখা কাজলরেখা পর্ব ৪৯

কাজলরেখা পর্ব ৪৯

কাজলরেখা পর্ব ৪৯
তানজিনা ইসলাম

আঁধার ড্রাইভিং করছে। গাড়ির ভেতরে নীরবতা। কিন্তু বাইরে কোলাহলের শব্দ। চাদনী এখনো শক থেকে বেরোতে পারেনি।জ্যামে পরতেই আঁধার গাড়ি থামিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে বললো
-“রেহান যে তোর বন্ধু,কখনো তো বললি না আমাকে।”
-“আমি কী জানতাম ও শাবিহা আপুর ছোট ভাই!”
-“বলেনি কখনো ও, শাবিহা যে ওর বড় বোন?”
-“না, ও শুধু ওর বড় ভাইয়ের কথা বলতো। তুমি জানো ওর বড় ভাই কে?”
চাদনী উদগ্রীব স্বরে বললো।আঁধার বাইরে তাকিয়ে জ্যাম কতোদূর লম্বা তা দেখে নিলো। অন্যমনস্ক হয়ে বললো

-“কে?”
চাদনী বলতে গিয়েও ঢোক গিলে ফেললো। নাহ থাক। আঁধার সামনাসামনিই না-হয় দেখবে। চাদনী পণ করে নিলো ও পার্টিতে যাবে না। শাবিহা আর রেহান ভাই বোন, তাঁদের বড় ভাই আবার রাত। যার নামও আঁধার নিতে পারে না। এখানে তো চাদনীর দোষ নেই। কিন্তু আঁধার ওকেই দোষারোপ করবে।
চাদনী কথা ঘুরিয়ে বললো
-“তুমি কিছু বললে না আমাকে?”
-“কী বলবো?”
-“রেহান আমার বন্ধু, আমার আরোও একজন বন্ধু আছে সেটা দেখেও কিছু বললেনা তুমি।ব্যাপারটা ভাবাচ্ছে আমাকে।”
জ্যাম ছুটে গেলো। আঁধার গাড়ি স্টার্ট দিয়ে বললো

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

-“রেহান কে তোর চেয়ে বেশি চিনি আমি। ও খুব ভালো একটা ছেলে। ওর বন্ধুরাও ভালো হবে স্বাভাবিক।
আমি সবসময় তোকে খারাপ মানুষের সাথে মিশতে বাঁধা দিই। তুই শুধু শুধুই আমাকে ভুল বুঝিস!”
-“হু।”
চাদনী মাথা নিচু করে মনে মনে আওড়ালো
-“রেহানও ভালো ছেলে, আর ওর বন্ধুরাও।কিন্তু তুমি তোমার জবান বদলে ফেলবে, যখন তুমি ওর বড় ভাইকে দেখবে। ওর বড় ভাই কোনো দোষ ছাড়াই তোমার কাছে খারাপ হয়ে যাবে, আর সেটার জিদ তুমি আমার উপর তুলবে।”
দু’জনের মধ্যে আর কোনো কথায় হলো না। তবে চাদনীর চিন্তা টা থেকেই গেলো৷

চাদনী চিন্তিত হয়ে কক্ষে বসে আছে।সন্ধ্যা থেকে ও গো ধরে বসেছে ও যাবে না। এতোদিন এটা নিয়ে কিছু বলেনি, হুট করেই সিদ্ধান্ত বদলে ফেললো। আসলে হুট করে বদলেছে এমন না, ওর আগে থেকেই মনে মনে ছিলো, ও পার্টিতে যাবে না। গেলে নিশ্চয়ই কোনো না কোনো ফ্যাসাদে পরবে ও। কিন্তু সেটাতো ও আঁধারকে বলতে পারছে না, বলেওনি ও।কিন্তু আঁধার মানছে না, ও চাদনীকে নিয়েই যাবে।
আঁধার ওঁকে ডাকতে ডাকতে কক্ষে এলো। চাদনী চমকে গেলো ওঁকে দেখে। আঁধার পার্টিতে যাবে বলে বহু দিন পর আবার ফেইস প্যাক দিয়েছে মুখে। ওর মুখে এখনও ধূসর মিশ্রণ লেপ্টানো। হাতে শসার স্লাইস, একটু একটু পর পর কামড় দিচ্ছে। চাদনী থুতু ছেটালো বুকে।এই ছেলে হুট হাট এভাবে এসে ওঁকে ভয় পাইয়ে দেয়।আধার তাগাদা দিয়ে বললো

-“কীরে রেডি হলি না এখনো!”
-“এতো রূপচর্চা করছো যে।”
-“তোর কী?যাবি না তুই?”
-“ইচ্ছে করছে না।”
-“উফ! তুই আবার জেদ ধরেছিস। আমার অর্ধেক জীবন চলে গেলো তোর জেদ ভাঙাতে ভাঙাতে। বাড়িতে একা থাকবি? ভয় লাগবে না?”

-“নাহ। তুমি তাড়াতাড়ি চলে এসো।”
-“তুই না গেলে আমি আজ রাতে আসবোই না।”
চাদনী হাঁটু দু’টো থুঁতনি পর্যন্ত ভাজ করে বললো
-“আচ্ছা। কী করবে? তোমার বেস্টফ্রেন্ডের সাথে গল্প করবে?”
-“বিয়ে করে ফেললে কেমন হয়? তোকে আর বাড়িতে একা থাকতে হবে না। দু’জনে মিলেমিশে থাকবি।”
চাদনী কিছুক্ষণ নিষ্প্রভ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো ওর দিকে। পরক্ষণে স্বাভাবিক স্বরে বললো
-“খুব ভালো হয়।আমার তরফ থেকে কোনো আপত্তি নেই। তুমি একটা কেন, চায়লে চারটা বিয়েও করতে পারো। বাট তোমার অমন স্ট্যান্ডার্ড বান্ধবীর সাথে আমি মিলেমিশে থাকতে পারবো না।”

-“শিউর? সত্যিই আরেকটা বিয়ে করতে বলছিস?”
-“হুম।”
-“ঠিক আছে।যা রেডি হ। ওর আম্মু-আব্বুর সাথে ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা করতে হবে। তুইও হেল্প করবি আমাকে।”
বলতে বলতে আঁধার খেয়াল করলো, চাদনী অস্বাভাবিক ভাবে নাক ফোলাচ্ছে।কিন্তু চোয়াল শক্ত করে রেখেছে। আঁধার হাসলো। বললো
-“তোকে আমি একা বাড়িতে রেখে যেতে পারবো না। আর তুই না গেলে আমিও যাবো না। আমার সব ফ্রেন্ড রা আসবে আজকে। ওদের সাথে অনেকদিন দেখা হয়নি। আমি খুব এক্সাইটেড ছিলাম, ওদের সাথে দেখা হবে সেজন্য। তুই চাস তোর জন্য আমার, খুশিটুকু শেষ হয়ে যাক?”

-“চাই না।”
-“তাহলে?”
-“তবুও, আমি কখনো অমন পার্টিতে গেছি। তুমিই ভাবো, তোমারই বা কেমন লাগবে আমাকে ওঁদের সাথে পরিচয় করাতে?”
-“ভালো লাগবে।”
-“লজ্জা লাগবে না, অতো সুন্দর সুন্দর মানুষের ভীড়ে আমার মতো একটা অসুন্দর মানুষকে নিজের পরিচয় দিতে। আমি ওঁদের সামনে খুব অকওয়ার্ড ফিল করবো। ওরা খুব স্মার্ট হবে।”
-“লজ্জা লাগবে না চাঁদ! একটুও না।তুই সারাক্ষণ আমার সাথে থাকবি। এমনিতেও তুই আমার পাশ ছেড়ে নড়তে পারবি না। ওখানে অনেক ছেলে।

-“তোমার অমন স্মার্ট ফ্রেন্ডগুলো যদি আমাকে ইঙ্গিত করে তোমাকে খোঁচা মারে তখন? আমিতো ওঁদের মতো কন্ফিডেন্টও থাকতে পারবো না। তখন তোমার আরো বেশি খারাপ লাগবে না?”
-“যে খোঁচা মারবে তার নাক ফাটিয়ে দেবো। কার এতো সাহস আমার চাঁদ কে নিয়ে কিছু বলবে!”
চাদনী আঁধারের দেওয়া সাদা গাউনটা পরলো। ওর মন বদলে গেলে মুহুর্তেই। যা হবে দেখা যাবে। সবকিছু তে এতো ভয় পেলে চলে না।চাদনী ভীতু বলেই তো সবাই ভয় দেখায় ওঁকে। মনের দ্বিধাদ্বন্দ একপাশে সরিয়ে অনেকদিন পর সাদা কাপড় পরলো ও। চুলগুলো ছেড়ে দিয়ে, চোখে মাসকারা দিলো। গাউনের সাথে কাজল টা যাচ্ছিলো না।

ঠোঁটে ডার্ক করে লিপস্টিক দিলো।ও নিজেকে সর্বোচ্চ সুন্দর করে সাজানোর চেষ্টা করলো।
চাদনীর কাছে লেডিস পারফিউম নেই। ও পারফিউম ইউস করে না। মেয়েদের না-কি পারফিউম দেওয়া উচিত না। ওর তবুও আজ পারফিউম দিতে ইচ্ছে করলো৷ চাদনী আঁধারের কক্ষে গেলো পারফিউম চায়তে। আঁধার তখন শার্টের বোতাম লাগাচ্ছিলো। ওর শার্টটাও সাদা। সাদার উপর কালো কোট পরবে। ও গিয়েই বললো
-“আঁধার ভাই, পারফিউম আছে তোমার কাছে?”

আঁধার তাকালো ওর দিকে। কপালে ভাজ ফেলে, সুক্ষ্ম দৃষ্টিতে উপর-নীচ পরখ করলো ওকে। চাদনী তাকালো ওর তাকানো অনুসারে।সব তো ঠিকই আছে। আঁধার এভাবে এভাবে দেখছো কেন। ও কিছু বলার আগেই আঁধার এগিয়ে এসে দুবাহু শক্ত তরে ধরলো ওর। চাদনী আতঙ্কে তাকালো। আধার কিছু না বলে,থুঁতনি ধরে ওর মুখটা উপরে তুললো। হাতের বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে ঘষে ঘষে লিপস্টিক তুললো। মেট লিপস্টিক হওয়ায় কিছুটা বেগ পেতে হলো ওঁকে। সহজে উঠলো না। তবুও আঁধার সব লিপস্টিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিলো। চাদনী ঠোঁটের উপর হাত দিলো। ওর ঠোঁট দু’টো কাঁপছে ব্যাথায়। জ্বলন হচ্ছে খুব। কারও হাত এতোটা শক্ত হয় মনে হচ্ছে শরীরের সব শক্তি প্রয়োগ করেছে। আঁধার গম্ভীর স্বরে বললো

-“খুব বিশ্রী লাগছিলো দেখতে। এখন ঠিক লাগছে।”
-“কাজল পরা না-হয় নিষেধ ছিলো, লিপস্টিক কি দোষ করলো?”
কম্পিত ঠোঁট নিয়ে আওড়ালো চাদনী! আঁধার শ্লেষাত্মক হেঁসে বললো
-“বিশ্রী লাগছিলো বললাম না। এতো গাঢ় জিনিস দিতে হয় না।লিপস্টিক ছাড়ায় বেশি ভালো লাগছে।”
-“আমার দিকে কেও তাকাবে না।”
-“এখন তাকাবে না। তখন তাকাতো। কাকে আকর্ষণ করতে চেয়েছিলি?”
-“আমার কাকে আকর্ষণ করার দরকার আছে?”
-“নাই কাওকে? তাহলে বাইরে গেলে কেনো এভাবে সাজতে হবে?”
-“তোমার মতো যাতে কেও গাইয়া না ডাকে।”
-“গাইয়া থাকাটাই বেটার ছিলো রে। তুই এখন বুঝতে পারছিস না। আমি পারছি। তোর স্মার্টনেস নেওয়া যাচ্ছে না।”
-“তাই?”

-“হ্যাঁ। নিতে পারছি না আমি।অন্য কেও তোর দিকে তাকালে, আমার তোকে মেরে ফেলতে ইচ্ছে করে।”
-“আমার কী দোষ?আমি তো তাকাতে বলি না।”
-“কোনো দোষ নেই। আবার আছেও। এই যে তুই আঁধার শিকদারের বউ এটাই তোর দোষ। তোর দিকে কেও তাকালেও আমার গায়ে আগুন ধরে যায়, বুঝেছিস! আর সে আগুনে তোকে জ্বলতে হয়। তো, ভালো না একটু গা বাঁচিয়ে চলা। আমার কী তোকে কষ্ট দিতে ইচ্ছে করে?”
চাদনী মুখ ঘুরিয়ে বেরিয়ে গেলো।ও তো গা বাঁচিয়ে চলতেই চেয়েছিলো। আঁধার নিজেই তো ওঁকে নিয়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানের জন্য সকাল থেকে তোড়জোড় চলছে এহসান বাড়িতে। এখন সন্ধ্যা নেমেছে মাত্র। চারিপাশ কালো হয়ে আসছে ধীরে ধীরে। খুব কাছের আত্মীয় রা আসতে শুরু করেছে। শাবিহার অনেক বন্ধুরা চলে এসেছে ইতোমধ্যে। রেহানও অনেক এক্সাইটেড আজকের পার্টি নিয়ে।শপিং তো আগেই করে রেখেছিলো,এখন ও দুপুর থেকেই চুজ করতে বসেছে কোন স্যুটটা পরলে বেশি ভালো লাগবে আজকে। হয়তো শুধু তার মনেই কোনো আনন্দের লেশ মাত্র নেই, যার জন্য এ পার্টিটা অর্গানাইজ করা হয়েছে। রাত কখনোই কোনো কিছু নিয়ে এক্সাইটেড থাকে না।ও এ বাড়িতে আসলেও, বেশিরভাগ বাইরে থাকে। ঘরে আসলেও রুম থেকে বের হয় না। এই যে এতো আত্মীয় এলো, তবুও ওর বাইরে বেরোতে ইচ্ছে করছে না, না ইচ্ছে করছে কারো সাথে কথা বলতে।

বেলকনির কাঁচের দরজা টা বন্ধ। বাইরে কুয়াশা বাড়ছে। ওর গায়ে একটা টিশার্ট আর চাদর। ইদানীং খুব শীত পরছে। বেশিরভাগ সময় ও গায়ে চাদর পেচিয়ে রাখে।
অবসর সময়ে ওর বই পড়ার অভ্যাস আছে। সেটা ফিকশনাল হোক বা নন-ফিকশনাল। তবে এখন অবসর কি-না ও বুঝতে পারছে না। ঘরে অনেক কাজ৷ আত্মীয় স্বজন রা আসছে। ওর উচিত সবার সাথে দেখা করা। ও অনেকগুলো দিন ওর বাপের কূলের আত্মীয়দের দেখে না।
রাত বই পড়ায় মনোযোগী ছিলো৷ ও টের পেলো কেও একজন ওর কক্ষে ঢুকলো। রাতের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা খুব প্রখর। ও পিছনে না ফিরেই বুঝে গেলো কেও একজন ওর কক্ষে ঢুকেছে। কিন্তু ওর কক্ষে ঢোকার অনুমতি কাারো নেই। একমাত্র সার্ভেন্ট রা ওর অনুমতি নিয়ে কক্ষে ঢোকে। আর রেহান যখন তখন ঢুকে পরে। কিন্তু যে এসেছে সে রেহান না।

-“আবরার।”
সাদিক এহসানের কন্ঠ কানে আসতেই রাতের মনোযোগ ছিন্ন হলো। কিন্তু ও পিছনে ফিরলো না। ওর বাপ ওর কক্ষে আসে না। জানে ও রেগে যায়, কথা বলে না। আজ কি মনে করে এলো কে জানো!হাতে ধরা বইটা শক্ত করে ধরলো রাত।
সাদিক এহসান আইঢাই করে বললো
-“বাইরে সবাই এসেছে, খুঁজছে তোমাকে।”
-“আমি দেখা করতে আগ্রহী নই।”
-“ওরা কী ভাববে বলো।”
-“অন্যজন কী ভাবছে সেটা জেনে তো আমার কাজ নেই। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আমি কী ভাবছি। আমি ভাবছি, আপনাকে কিভাবে বেরিয়ে যেতে বললে আপনি খুব কষ্ট পাবেন। আর এ মুখো হবেন না।!
রাতের বেরিয়ে যেতে বলতে হলো না। সাদিক এহসান ওর রুক্ষ গলা শুনেই বড্ড কষ্ট পেলেন৷ তবুও বললেন

-“শাবিহা আর রেহানের বন্ধুরা আসবে। তোমার কোনো বন্ধু আসবে না? তাদের তো স্পেশালি আনতে হবে, না?”
-“আমার কোনো বন্ধু নেই।”
-“একটাও না?”
-“না। আমি সারাজীবন একা থেকেছি। কখনো বন্ধু বানানোর সুযোগ হয়নি।”
-“এতো একাকিত্বতা সহ্য করো কী করে? কষ্ট হয় না?”
-“একাকিত্বতা? নাহ, জাস্ট লেক অফ কনভারসেশন। কথা বলার মতো কাউকে খুঁজে পাই না।”
-“আবরার!”
-“বেরোবেন? না আমি বেরিয়ে যাবো?”

সাদিক এহসান মাথা নিচু করে ফেললেন। চোখে জল টলমল করছে ওনার। মানুষ ওনার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে ভয় পায়। আর সে ছেলের সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। সবার কাছে সম্মানের হয়েও, নিজের ছেলের এমন অসম্মান কী মেনে নেওয়া যায়!
রেহান দরজার পাটাতন ধরে দুজনে কথা শুনছিলো। ও ওর বড় ভাইকে নিজের শার্ট দেখাতে এসেছিলো। দু’টো শার্ট নিয়ে বড্ড কনফিউশানে পরেছে ও। কোনটা পরলে ওঁকে বেশি হ্যান্ডসাম দেখাবে?
সাদিক এহসান বেরিয়ে যাওয়ার সময় রেহান তাকালো ওনার দিকে। ওর বিধ্বস্ত দৃষ্টি। রাত মাঝেমাঝে খুব বেশিই বাজে ব্যবহার করে ওনার সাথে। সাদিক এহসান কেন যেন ওর সাথেও চোখ মেলাতে পারলেন না!
সে বেরিয়ে যাওয়ার পর রাত পিছু ফিরলো। পুরো সময়টা ও, সাদিক এহসানের দিকে পিঠ দিয়ে কথা বলেছে। একবারো তাকায়নি ওনার দিকে। রাত ওঁকে দেখে ডাকলো

-“এদিকে আয়।”
রেহানের মুখটা কালো। ও এগিয়ে গিয়ে বললো
-“হুয়াই ভাইয়া? বাবা অনেক কষ্ট পায়? কান্না করে তোমার জন্য। একটু তো ভালোভাবে কথা বলতে বারো তার সাথে।”
-“তোর বাবার সাথে কথা বলা আমার পোষায় না।কিছু বলবি?”
রেহান অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো। বললো না কিছু। রাত ওর হাতে দু’টো শার্ট দেখে বললো,
-“দু’টোই তো সাদা।”
রাত একটা হাতে নিয়ে বললো
-“এটা।”
-“তোমারও এমন একটা আছে না?”
-“হুমমম!”
-“পরবে? মিলিয়ে পরবো আমরা?”
-“অবশ্যই।”

কাজলরেখা পর্ব ৪৮

রেহান মুহুর্তেই খুশি হয়ে গেলো। ও হুটহাট খুশি হয়ে যায়, আবার মন খারাপ করে ফেলে।
-“ঠিক আছে, তাহলে আমি এটায় পরবো।”
রাত বললো
-“আচ্ছা শোন,
-“হুম।”
-“তোর বন্ধুরা চলে এসেছে?”
-“নাহ এখনো আসেনি। ওরা ওঁদের প্যারেন্টস নিয়ে আসবে।”
-“হু।”
রেহান বেরিয়ে গেলো। রাত কাচের দরজায় হাত দিয়ে দাঁড়ালো। অদূরে গেইটের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বললো
-“তোমার তাড়াতাড়ি আসা উচিত। আ’ম ওয়েটিং! অপেক্ষার প্রহর শেষ করো।”

কাজলরেখা পর্ব ৪৯ (২)