কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৫৩
লামিয়া রহমান মেঘলা
ডিনার শেষ করেই ঘুমিয়ে পড়েছে সেরিন। শীতল আবহাওয়ার মাঝে নিজের শরীরটা উষ্ণ কম্বলের ভাঁজে জড়িয়ে নিয়েছিল সে। বিকেল থেকে টানা বৃষ্টিতে ভিজে শরীরে বেশ ঠান্ডা লেগেছে। বাইরে এখনো নিরবচ্ছিন্ন বৃষ্টি ঝরছে। কাচঘেরা বিশাল ভিলার জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো একটানা ছন্দ তুলে আছড়ে পড়ছে। দূরে উত্তাল সমুদ্রের গর্জন আর আকাশভরা কালো মেঘ যেন রাতটাকে আরও গভীর, আরও নিস্তব্ধ করে তুলেছে। এমন এক আবহাওয়ায় ঘুমের চেয়ে আরামদায়ক কিছু যেন আর হতে পারে না।
সেরিন গভীর ঘুমে তলিয়ে যাওয়ার পর কায়ান ড্রয়িংরুমের প্রশস্ত কাউচে বসে ল্যাপটপে নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আগামীকাল তার একটি দিনের ছুটি। তারপর থেকেই এই ভিলা থেকেই নিয়মিত অফিসের কাজ সামলাতে হবে তাকে।
ল্যাপটপের নীলাভ আলো তার তীক্ষ্ণ মুখাবয়বকে আরও গাঢ় করে তুলেছে। কপালের ওপর নেমে আসা কোঁকড়া চুলগুলো অন্যমনস্ক ভঙ্গিতে আঙুলের স্পর্শে সরিয়ে আবার কাজে মনোযোগ দেয় সে। তার প্রতিটি নড়াচড়ায় এক ধরনের স্থিরতা, আত্মবিশ্বাস আর অদৃশ্য কর্তৃত্বের ছাপ স্পষ্ট। যেন বিশৃঙ্খলার মাঝেও নিজের পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা একমাত্র তারই আছে।
ঠিক সেই মুহূর্তেই হঠাৎ ফোনের স্ক্রিনে ভেসে ওঠে হিমেলের নাম।
কায়ান প্রথমে একবার শান্ত চোখে ঘুমন্ত সেরিনের দিকে তাকায়। মেয়েটার ঘুমে যেন কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকে নিশ্চিত হয়েই ফোন রিসিভ করে।
“হ্যালো।”
“কোথায় তুই?”
“কক্সবাজারের ভিলায়।”
“ও। এএসপিকে মারলি সেদিন। নিজের বাড়িতেই কবর দিলি।”
“হ্যাঁ, দিলাম।”
“ওটার তদন্ত চলছে। কী করব?”
“টাকা দিবি, আর কী করবি?”
“এরপর?”
“অ্যাকাউন্ট নাম্বার দে। টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছি। সব বন্ধ হয়ে যাবে।”
“ওর বোন একজন ম্যাজিস্ট্রেট। এত সহজে মেনে নেবে না। উপরন্তু লাশটাও পাওয়া যায়নি।”
কায়ানের কণ্ঠে বিন্দুমাত্র অস্থিরতা নেই।
“লাশের ব্যবস্থা আমি করে দেব। আর বোন ম্যাজিস্ট্রেট হলে তাকে বহিষ্কার করছি। ওয়েট।”
“আরে দাঁড়া, বেটা। তুই কি সব সময় কেটে ফেলা, মেরে ফেলার মুডে থাকিস?”
কায়ানের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে শীতল হাসি ফুটে ওঠে।
“কাইন্ড অফ। আমার রাস্তায় বাঁধা আমার পছন্দ না।”
“ধুর বাল। আমি তোকে নিয়ে কবে ফাঁসব, দেখিস।”
“উহু, ফাঁসবি না।”
“ওভার কনফিডেন্স?”
কায়ান মৃদু বাঁকা হাসল।
“কত বছরের পরিশ্রমের পর আমি নিজের পজিশন হাসিল করেছি। তুই তো জানিসই। আমাকে সরানো কি এতই সহজ? আর তুই তো জানিস, এ দেশে সরকার টাকার কাছেই বিক্রি হয়। আবার বলতে পারিস, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে তারাই আমাদের সাহায্য নেয়।”
কথাগুলো বলার সময় তার কণ্ঠে কোনো অহংকার ছিল না। ছিল কেবল অটল বিশ্বাস। সেই বিশ্বাস, যা বছরের পর বছর নিজের হাতে গড়ে তোলা ক্ষমতা, প্রভাব আর অদৃশ্য সাম্রাজ্যের ওপর দাঁড়িয়ে জন্ম নিয়েছে। কায়ান এমন একজন মানুষ, যে ভয়কে ভয় দেখাতে জানে। বাধা তার কাছে কখনোই সমস্যা নয়, বরং সামান্য প্রতিবন্ধকতা মাত্র।
ওপাশে হিমেল দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সে খুব ভালো করেই জানে, কায়ানের কিছুই হবে না। তবুও কোথাও না কোথাও তার ইচ্ছে করে, মানুষটা যদি নিজের এই সাইকোপনা একটু হলেও কমাত। কিন্তু কায়ানকে বদলানো সম্ভব নয়। সে নিজের নিয়মেই চলে, নিজের সিদ্ধান্তেই বাঁচে।
বিরক্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত হিমেল নিজেই কল কেটে দিল।
কায়ানও ধীর ভঙ্গিতে ফোনটা নামিয়ে রাখল। ল্যাপটপ বন্ধ করে নিঃশব্দে উঠে দাঁড়াল। তারপর ধীর পায়ে বেডরুমে গিয়ে ঘুমন্ত সেরিনের পাশে শুয়ে পড়ল। খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই মেয়েটাকে নিজের বাহুর ভেতর টেনে নিল। বাইরে তখনও অবিরাম বৃষ্টি ঝরছে। আর সেই বৃষ্টির শব্দের মাঝেই রাত ধীরে ধীরে আরও গভীর হয়ে উঠল।
সিকদার নিবাস।
সকালের আলো পুরো বাড়িজুড়ে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশাল প্রাসাদসদৃশ বাড়িটা প্রতিদিনের মতোই কর্মচাঞ্চল্যে জেগে উঠলেও আজ যেন কোথাও এক অদৃশ্য শূন্যতার ছায়া লেগে আছে।
সকাল সকাল আহি নিজের কাজে বেরিয়ে গেছে। জেবরানও আজ কোনো শব্দ না করেই অফিসের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়েছে। একসময় মানুষের কোলাহলে মুখর থাকা বিশাল বাড়িটা এখন বানু মির্জার কাছে কেমন যেন ফাঁকা ফাঁকা লাগে।
বাগানের একপাশে চেয়ার পেতে বসেছিলেন বানু মির্জা। কর্মচারীরা গাছ থেকে একে একে ফল পেড়ে নামাচ্ছিল, আর তিনি সেগুলো তদারকি করছিলেন শান্ত দৃষ্টিতে।
এমন সময় সেখানে এসে উপস্থিত হলো শিমুল। বাচ্চাদের স্কুলে পৌঁছে দিয়েই সে সরাসরি এখানে এসেছে। শাশুড়িকে বাইরে বসে থাকতে দেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল।
“আম্মা বেগম।”
বানু মির্জা মুখ তুলে একবার শিমুলের দিকে তাকালেন। কিন্তু কোনো উত্তর দিলেন না।
শিমুল নীরবে এসে তার পাশেই বসে পড়ল। চারপাশে এক মুহূর্তের জন্য নেমে এলো নিস্তব্ধতা। বানু মির্জা তখনও নিশ্চুপ। কিছুক্ষণ পর নিজের হাতে থাকা কয়েকটি কাঠলিচু শিমুলের দিকে এগিয়ে দিলেন।
শিমুলের মুখে সঙ্গে সঙ্গে আনন্দের আভা ফুটে উঠল।
“আম্মা বেগম, আমায় ক্ষমা করেছেন তো?”
বানু মির্জা শান্ত গলায় বললেন,
“আমার কাছে ক্ষমা কেন চাইছো, বউমা? আমার সঙ্গে তো তুমি কিছু করোনি।”
শিমুলের কণ্ঠ মুহূর্তেই ভারী হয়ে এলো।
“আম্মা বেগম, আপনার ছেলে আমাকে ক্ষমা করছে না। আমি কী করব?”
কথাগুলো বলতে বলতেই তার গলা ধরে এলো।
বানু মির্জা ধীরে একটি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
“তুমি তো তোমার বোনকে অতটা ভালোবাসো না। হয়তো সেরিন তোমার সৎ বোন বলেই। কিন্তু আমার সন্তানদের আমি সেভাবে মানুষ করিনি। ওরা একজন আরেকজনকে ছাড়া অচল। কায়ান এ বাড়ির মাথা। আর তুমি সেখানেই আঘাত করেছো। জেবরান কায়ানকে ঠিক কতটা ভালোবাসে, তার আন্দাজ তুমি করতে পারবে না, শিমুল। তাই আসল জায়গায় ক্ষমা চাও। আমাকে বা অন্য কাউকে এসে ‘ক্ষমা করে দিন’ বললে কিছুই হবে না।”
বানু মির্জার প্রতিটি কথার ভার শিমুল ঠিকই অনুভব করতে পারল। বুকের ভেতরটা যেন আরও ভারী হয়ে উঠল তার।
নিঃশব্দে একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে ধীর পায়ে ঘরের ভেতরে চলে গেল।
শিমুল চলে যাওয়ার পর বানু মির্জা আবার নিজের কাজে মন দিলেন। বাগানে যারা এতক্ষণ ফল তুলেছে, তাদের প্রত্যেককে প্রাপ্য পারিশ্রমিক বুঝিয়ে দিলেন। এরপর ঘরের জন্য রাখা ফলগুলো আলাদা করে সার্ভেন্টদের ঘরে নিয়ে যেতে বললেন। আর বাকি ফলগুলো ব্যাপারির হাতে তুলে দিলেন।
সকালের নাশতার জন্য কায়ান সেরিনকে নিয়ে এসেছে সমুদ্রতীরের এক অপূর্ব সুন্দর রেস্টুরেন্টে। কাঁচের বিশাল জানালা পেরিয়ে নীল সমুদ্রের ঢেউগুলো যেন চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। সকালের কোমল রোদ সমুদ্রের বুক ছুঁয়ে এসে চারপাশে ছড়িয়ে দিয়েছে এক নির্মল, স্নিগ্ধ আলো।
আজ সেরিনের পরনে ধবধবে সাদা পোশাক। সাদার পবিত্রতা যেন তার সৌন্দর্যকে আরও নির্মল করে তুলেছে। অন্যদিকে কায়ান বরাবরের মতোই নিজের ব্যতিক্রমী রুচির পরিচয় দিয়ে সম্পূর্ণ কালো পোশাকে সজ্জিত। শুভ্রতার পাশে গভীর কালোর এমন অনবদ্য মেলবন্ধন যেন একে অপরকে আরও বেশি উজ্জ্বল করে তুলেছে। দূর থেকে তাকালেই মনে হয়, তারা যেন সত্যিই একে অপরের জন্যই সৃষ্টি। সেরিনের খোলা, কোমর ছোঁয়া চুলগুলো হালকা সমুদ্রের বাতাসে বারবার এলোমেলো হয়ে মুখের ওপর এসে পড়ছে। সকালের সোনালি রোদ তার গালে, কপালে আর চুলের ফাঁকে এসে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে তাকে মনে হচ্ছে কোনো শিল্পীর নিখুঁত তুলিতে আঁকা জীবন্ত এক শিল্পকর্ম। তার হাসির কোমলতা আর চোখের দীপ্তি মিলেমিশে চারপাশের সৌন্দর্যকেও যেন হার মানাচ্ছে।
কায়ান নিজের হাতে খাবার তুলে দেয় সেরিনের প্লেটে। সেরিন চামচে করে একটুখানি খাবার মুখে তুলে নিয়ে চোখ বন্ধ করে তৃপ্তির হাসি হেসে বলে, “উম, খুব মজা।”
কায়ানের ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠে এক প্রশান্ত, মিষ্টি হাসি। সেই হাসিতে লুকিয়ে থাকে অফুরন্ত ভালোবাসা আর পরম তৃপ্তি। কিছুক্ষণ পর সেরিনও নিজের হাতে কায়ানকে খাইয়ে দেয়। ছোট ছোট খুনসুটি, একে অপরকে খাওয়ানো আর মাঝেমধ্যে চোখাচোখি হয়ে মুচকি হেসে ওঠা, সব মিলিয়ে মুহূর্তগুলো হয়ে ওঠে অসাধারণ সুন্দর। আশেপাশে বসে থাকা মানুষজনও অজান্তেই তাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। যেন নিখুঁত এক যুগলকে সামনে থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছে সবাই। তাদের একসঙ্গে এতটাই মানিয়েছে যে, চোখ সরিয়ে নেওয়াটাই কঠিন হয়ে উঠেছে।
নাশতা শেষ করে কায়ান সেরিনকে নিয়ে চলে আসে সমুদ্রের পাড়ে। নীল আকাশ আর নীল সমুদ্র যেন দিগন্তে গিয়ে একাকার হয়ে গেছে। ঢেউগুলো ছুটে এসে বারবার ভিজিয়ে দিচ্ছে বালুকাবেলাকে। লবণাক্ত বাতাসে ভেসে আসছে সমুদ্রের নিজস্ব গন্ধ। সূর্যের সোনালি আলো পানির ওপর পড়ে সৃষ্টি করেছে অসংখ্য ঝিকিমিকি আলোর রেখা, যেন সমুদ্রের বুকে ছড়িয়ে আছে অগণিত হীরের টুকরো।
সেরিন খালি পায়ে ভেজা বালুর ওপর ছুটে বেড়াচ্ছে। তার হাসির শব্দ ঢেউয়ের গর্জনের সঙ্গে মিশে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। উড়তে থাকা খোলা চুল, সাদা পোশাকের দোল খাওয়া ভাঁজ আর মুখভরা উচ্ছ্বাস তাকে এতটাই মায়াবী করে তুলেছে যে, তাকে দেখে মনে হচ্ছে কোনো স্বর্গীয় পরী ভুল করে নেমে এসেছে পৃথিবীর বুকে। কায়ান স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তার দিকে। সেই দৃষ্টিতে ছিল মুগ্ধতা, ভালোবাসা আর নিজের পৃথিবীকে খুঁজে পাওয়ার এক নিঃশব্দ স্বীকৃতি।
অনেকটা দূরে গিয়ে সেরিন হাত নেড়ে দুষ্টুমি ভরা হাসি নিয়ে বলে,
“ধরুন আমাকে?”
কায়ানের চোখে খেলে যায় দুষ্টু এক ঝিলিক।
“আমি ধরতে গেলে তুমি পালাতে পারবে না।”
সেরিন ঠোঁট ফুলিয়ে বলে,
“ইস, আপনার থেকে বয়স আমার কম, হ্যাঁ।”
কায়ান বাঁকা হেসে বলে,
“যদি ধরি, তবে কী হবে?”
সেরিন ভ্রু নাচিয়ে উত্তর দেয়,
“উম, পাঁচ মিনিটের মধ্যে ধরতে পারলে যা চাইবেন তাই পাবেন।”
কায়ান নিজের নিচের ঠোঁট আলতো করে কামড়ে মৃদু স্বরে বলে,
“সিওর?”
“হ্যাঁ।”
পরের মুহূর্তেই কায়ান ঝড়ের বেগে দৌড় দেয়। সেরিনও প্রাণপণে ছুটতে শুরু করে। কিন্তু কায়ানের দীর্ঘ পদক্ষেপ আর ক্ষিপ্র গতির সঙ্গে পাল্লা দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব হয় না। মাত্র এক মিনিটের মধ্যেই কায়ান পেছন থেকে তাকে ধরে ফেলে।
হঠাৎ ধরা পড়ে যেতেই সেরিন খিলখিল করে হেসে ওঠে। সেই হাসি ছিল স্বচ্ছ ঝরনার জলের মতো নির্মল, প্রাণখোলা আর সংক্রামক। কায়ানও হেসে ওঠে। সেরিনকে ঘাড় থেকে আলতো করে কোলে নামিয়ে সে নিজের দুই হাত দিয়ে তাকে আগলে রাখে। দুজনের হাসির শব্দ একসঙ্গে মিশে সমুদ্রের গর্জনকেও যেন মুহূর্তের জন্য ম্লান করে দেয়।
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৫২
সেই মুহূর্তে সময় যেন থমকে দাঁড়ায়। পৃথিবীতে আর কিছুই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না। থাকে শুধু দুজন মানুষ, তাদের অব্যক্ত অনুভূতি আর সীমাহীন ভালোবাসা। সমুদ্রের বাতাস তাদের চারপাশে ঘুরে বেড়ায়, যেন প্রকৃতিও এই নির্মল ভালোবাসার সাক্ষী হয়ে উঠতে চায়। ঢেউগুলো বারবার তীরে এসে আছড়ে পড়ে আবার ফিরে যায়, যেন তাদের সুখের মুহূর্তগুলোকে আশীর্বাদ জানিয়ে যাচ্ছে। সকালের সোনালি আলো, নীল সমুদ্র, শীতল বাতাস আর দুজন মানুষের প্রাণখোলা হাসি মিলেমিশে সৃষ্টি করে এমন এক অপার্থিব দৃশ্য, যার নামই হয়তো ভালোবাসা।
