কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ১০
মুনমুন বুড়ি
মিহি অভ্রের কথা শুনে স্তব্ধ হয়ে গেল।
বাকশক্তি হারিয়েছে—এমন মনে হচ্ছে ওর চেষ্টা করেও কথা বের হচ্ছে না মুখ দিয়ে।
অভ্র মিহির অবস্থা দেখে বলে—
— এত বড় হা করে আছিস কেন? মুখ বন্ধ কর, মুখে মশা ঢুকে যাবে।
মিহি অভ্রর কথা শুনে নিজেকে সামলে শান্ত কণ্ঠে বলে—
— আপনি মিথ্যে বলছেন।
অভ্র মিহির কথা শুনে বাঁকা হাসে।
মিহির দিকে এক পা এগিয়ে বলে ওঠে—
— যদি বিশ্বাস না হয় তাহলে তোর ঘরে গিয়ে আলমারির সেকেন্ড ড্রয়ারটা চেক করবি। ওখানে আমাদের বিয়ের কাবিননামা আছে।
— আপনি আমার রুমে এসব কখন রাখলেন?
— রেখেছি কোনো এক সময়।
— তাহলে আমি দেখতে পাইনি কেন?
— তুই তো ঢিলা, কীভাবে দেখবি।
মিহি অভ্রর কথা শুনে রেগে বলে—
— মানি না আমি এই বিয়ে। আপনি ধোঁকা দিয়েছেন আমাদের । এইভাবে বিয়ে হয় না।
— তুই মান না মান, আমার কোনো কিছু যায় আসে না। বিয়ে যখন হয়েছে, তোকে আমার সাথেই থাকতে হবে। আমার সাথেই সংসার করতে হবে—সেটা তোর ইচ্ছেই হোক অথবা অনিচ্ছায়।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
— আমি আপনাকে কখনো স্বামী হিসেবে মানবো না। সংসার করা তো দূরের কথা, আপনি একটা জানোয়ার।
— সংসার করবি না? আবার কী! আমাদের সংসার তো অলরেডি শুরু হয়ে গেছে। মনে নেই?
অভ্র কথাগুলো বলে চোখ টিপে মিহিকে ইঙ্গিতমূলক হাসি দেয়। তা বুঝতে পেরে মিহি রেগে গিয়ে বলে—
— আপনি একটা জানোয়ার। আপনার একবারও বিবেকে বাধলো না একটা মেয়ের জীবন এভাবে শেষ করতে। যদি আপনার কোনো বোন থাকতো, তাহলে ওর সাথেও এমনটা হলে আপনি বুঝ…
মিহি বাকি কথা আর শেষ করতে পারে না। তার আগেই অভ্র মিহির চোয়াল চেপে ধরে,
দাঁতে দাঁত চেপে বলে—
— আর একবার যদি তোর মুখে এইরকম কোনো কথা শুনি, তাহলে সেই দিনই তোর শেষ দিন হবে। আমি ভুলে যাব সব সম্পর্কের কথা। মার্ক মাই ওয়ার্ড।
কথাগুলো বলে অভ্র এক প্রকার মিহিকে ধাক্কা মেরে সেখান থেকে চলে যায়।
অন্যদিকে মিহি বিরবির করে বলে ওঠে—
— এই বিয়েই আপনার কাল হবে, মি. অভ্র আহমেদ। আপনি তিলে তিলে শেষ হবেন। যেভাবে আমার জীবনটা আপনি নরক বানিয়েছেন, সেভাবে আপনার জীবনও আমি নরক বানিয়ে দেব। আপনি যেভাবে আমার থেকে সব কেড়ে নিয়েছেন, আমিও আপনার সব কেড়ে নেব।
নাসরিন বেগম, আলতাফ শেখ, তিহি, সিয়াম—সবাই নিচে চেঁচামেচি শুনে নেমে আসে।
ড্রয়িংরুমে এসে দেখে কৌশিক চিৎকার করে মিহিকে ডাকছে—
— মনি, মনি, নিচে আসো। তোমার সাথে আমার কথা আছে, মনি।
নাসরিন বেগম কৌশিকের কাছে এসে বলে—
— কৌশিক, কী হয়েছে?
কৌশিক নাসরিন বেগমকে দেখে বলে—
— আন্টি, মনি কোথায়? ওকে ডাকুন। আমি ওকে দেখতে চাই। ও ঠিক আছে তো?
সিয়াম কৌশিকের অবস্থা দেখে বিরক্ত হয়ে বলে—
— তুমি এতদিন কোথায় ছিলে, কৌশিক? যখন আমার বোনটা মরতে বসেছিল। এখন কী জন্য এসেছ? আমার বোনটা বেঁচে আছে নাকি মরছে দেখতে?
আলতাফ শেখ সিয়ামের কথায় ওকে ধমক দিয়ে বলে ওঠে—
— সিয়াম, চুপ করবে তুমি?
— আমি কেন চুপ থাকবো, আব্বু? আমি কি ভুল বলেছি?
কৌশিক সিয়ামের কথার উত্তর না দিয়ে অনুনয়ের সুরে বলে ওঠে—
— ভাইয়া, আপনার যা বলার আমাকে বলুন। দরকার হলে আমাকে দুটো থাপ্পড় মারুন। তারপরও একটু মনিকে আসতে বলুন। আমি একবার ওকে দেখে চলে যাব। প্লিজ।
— কিভাবে বেঁচে গেলাম দেখতে এসেছেন?
ওদের কথোপকথনের মাঝেই কেউ কথাটি বলে ওঠে। কথাটির উৎস ধরে সবাই সামনে তাকিয়ে দেখে মিহি দাঁড়িয়ে আছে।
মিহিকে দেখেই কৌশিক মিহির দিকে এগিয়ে যায়। মিহির আগাগোড়া পর্যবেক্ষণ করে অস্থির কণ্ঠে বলে ওঠে—
— মনি, তোমার হাতে কী হয়েছে?
কৌশিক কথাটা বলে মিহির হাত ধরতে চাইলে মিহি হাতটা সরিয়ে ফেলে।
— কী হয়েছে মনি? হাত সরিয়ে ফেললে কেন? আমাকে দেখতে দাও।
কৌশিক পুনরায় মিহির হাত ধরতে চাইলে মিহি এক কদম পিছিয়ে যেতে যেতে বলে—
— ছোঁবেন না আমাকে।
কৌশিক ভ্রু কুঁচকে বলে—
— কেন?
— আপনার কোনো অধিকার নেই আমাকে ছোঁয়ার।
কৌশিক মিহির কথায় অবাক হয়ে যায়।
— তুমি এগুলো কী বলছ, মনি?
কৌশিক পিছনে ফিরে বাড়ির সবার দিকে একবার তাকিয়ে নিচু কণ্ঠে বলে—
— তুমি ভুলে গেছ, মনি। আমাদের যে বিয়ে হয়েছিল।
মিহি চুপ করে থাকে। বারবার কাল ভিডিওতে বলা কৌশিকের কথাগুলো মনে পড়ছে। এই লোকটা এতদিন ধরে ওকে শুধু ব্যবহার করে এসেছে, কোনোদিন ভালোবাসেনি—এই ভাবনাটা মাথায় আসতেই কৌশিকের উপর একরাশ ঘৃণা জন্মালো মিহির।
তিক্ত কণ্ঠে বললো—
কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ৯
— কোনো বিয়ে হয়নি আমাদের। কখনো হয়নি। আপনি আমার কেউ না।
— যদি আমি তোমার কেউ না হই, তাহলে সেদিনের বিয়েটা কী ছিল, মনি?
ঠিক সেই মুহূর্তেই কেউ
একজন বলে ওঠে—
— নাটক ছিল।
