কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ১৮
মুনমুন বুড়ি
মিহি অভ্রের বাড়ি এসেছে আরো ৩ ঘণ্টা আগে। এখন এসে নাসরিন আহমেদ এর দেখা পেয়েছে মিহি। কিন্তু অভ্র এখনো বাড়ি ফিরেনি। মিহি কয়েকবার কৌশলে নাসরিন আহমেদ এর কাছে অভ্রের খোঁজখবর জানতে চেয়েছিলো। কিন্তু তিনি জানেনা বলেছেন। শেষমেষ মিহির অতিরিক্ত প্রশ্নের জন্যে অভ্রকে ফোনও করেছিলেন তিনি কিন্তু অভ্র ফোন তুলে নি। নাসরিন আহমেদ মিহির সাথে স্বাভাবিক আচরণই করছেন যেরকমটা আগে করতেন, তার অভিব্যক্তি বোঝা যাচ্ছে না। তিনি কি বিয়েটা মেনে নিয়েছেন? না কি আগে থেকেই বিয়েটা সম্পর্কে সব জানতেন? বুঝতে পারছে না মিহি। এরা মা ছেলে এত রহস্যময়ী যে মিহি সারাজীবনে ও এদের বুঝতে পারবে কি না সন্দেহ? মিহি একজায়গায় শান্ত হয়ে বসতে পারছে না, বারবার ঘরের এ পাশ থেকে ও পাশ পায়ছারি করছে, কিছুক্ষণ পরপর ঘড়ি দেখছে। এখন রাত ১ টা। অভ্র এখনও বাড়ি ফিরে নি। এর আগে অভ্রের জন্য মিহির মন এত অশান্ত কখনো হয়নি, কিন্তু আজ কেন এমন লাগছে, মিহি জানে না। অভ্র মিহিকে রক্ষা করছে সেই কৃতঘ্যতায় নাকি অন্য কিছু?
মিহির ভাবনার মাঝেই বাড়ির কলিংবেল বেজে ওঠে। মিহি এক মুহূর্তও দেরি না করে ছুটে যায় দরজা খুলতে। দরজা খুলতেই দেখে অভ্র কাকভেজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মিহি অভ্রকে দেখে উত্তেজিত হয়ে বলে—
একি আপনি এইভাবে ভিজলেন কি করে? বাইরে কি বৃষ্টি পড়ছে?
অভ্র মিহির দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে আছে। ওর হিসেব মতে মিহি আজকে ওর যে রূপ দেখেছে, তাতে আগামী চার মাস মিহি অভ্রের মুখ না দেখার কথা। কিন্তু মিহি এত অস্বাভাবিক আচরণ কেন করছে, সেটাই আপাতত মাথায় ঢুকছে না ওর। অভ্রকে মিহির দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে মিহি বলে—
আপনি এইভাবে বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন কেন? ঠান্ডা লেগে যাবে তো, আপনি তাড়াতাড়ি ঘরে আসুন।
মিহির কথা শুনে ও অভ্র মিহির দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে, মিহি অভ্রের হাত ধরে টেনে ঘরের ভেতর নিয়ে আসে। তখনই নাসরিন আহমেদ সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসে। নাসরিন আহমেদকে এদিকে আসতে দেখে মিহি অভ্রের হাত ছেড়ে দরজা বন্ধ করতে চলে যায়। নাসরিন আহমেদ অভ্রের কাছে এসে বলে—
আব্বু, তুই তো পুরো ভিজে গিয়েছিস, যা তাড়াতাড়ি ঘরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নে, নাহলে ঠান্ডা লেগে যাবে।
আম্মু, তুমি ডিনার করেছো?
না, তুই তাড়াতাড়ি আয়, একসাথে খাবো। মিহিও তোর জন্য অপেক্ষা করছিলো।
নাসরিন আহমেদ আর কথাটা শোনা পুনরায় অভ্র ব্রু কিছু কুঁচকে মনে মনে আওড়ায়—
হঠাৎ এত পতিভক্তি কিভাবে উদয় হলো মেয়েটার।
অভ্র ফ্রেশ হয়ে ডাইনিং টেবিল এ আসে। দেখে পুরো টেবিলে নানা পদের খাবারের আইটেম। মিহি কিচেন থেকে এক এক করে খাবার টেবিলে এনে রাখছে। অভ্রের ভাবনার মাঝেই নাসরিন আহমেদ টেবিলে এসে বসেন। নাসরিন আহমেদ আসার সাথে সাথেই মিহি অভ্র আর নাসরিন আহমেদকে এক এক করে খাবার সার্ভ করতে থাকেন। মিহিকে খাবার সার্ভ করতে দেখে নাসরিন আহমেদ বলে—
মিহি, তুমি ও বসে যাও, খাবার আমরা নিয়ে খেতে পারবো।
না, আন্টি, আমি পরে খেয়ে নেব, আপনাদের কিছু লাগলে বলুন।
মিহির কথা শুনে অভ্র বিরক্ত হয়ে বলে—
এত নাটক না করে খেতে বস। আমরা ছোট বাচ্ছা না, নিজে নিয়ে খেতে পারবো না।
অভ্রের কথা শুনে নাসরিন আহমেদ দমক আর শুরা বলা উঠান—
অভ্র, কিবাবে কথা বলছো নিজের wife এর সাথে? আগে কেউ কথা বলো?
অভ্রর কথা শুনে মিহি মাথা নিচু করে আছে। মিহিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নাসরিন আহমেদ বলে—
মিহি, তুমি দাঁড়িয়ে আছো কেন? বসো।
নাসরিন আহমেদ এর কথা শুনে মিহি অভ্রের মুখোমুখি একটি চেয়ারে বসে পড়ে। মিহি বসতেই অভ্র মিহির দিকে তীক্ষ্ণ চোখে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে।
অভ্র খাওয়া দাওয়া শেষ করে রুমে আসে। রুমে এসেই ল্যাপটপ খুলে কিছু কাজ করতে থাকে। তখনই ওয়াশরুমের দরজা খুলে মিহি বেরিয়ে আসে। মিহি বের হয়ে অভ্রকে দেখতেই অভ্রের সামনে এসে দাঁড়ায়। অভ্র মিহিকে নিজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে জিজ্ঞাসা করে—
কি চায়?
একটা কথা বলতে চায়।
বলে ফেল।
থ্যাংকস।
মিহির কথা শুনতেই অভ্র মিহির দিকে চোখ তুলে থাকে, গম্ভীর কন্ঠে জিজ্ঞাসা করে—
ফর হোয়াট?
মিহি শাড়ীর আছল আঙুলে পেছাতে পেছাতে বলে—
তখন আমাকে সেভ করেছিলেন, তার জন্য।
অভ্র মিহির কথা শুনে ল্যাপটপের স্যাটার বন্ধ করে বলে—
কি ব্যাপার, বল তো, আজ তোর মিশন অন্যরকম লাগছে। কথাবার্তা ও সুবিধার লাগছে না। আজকে এমন অদ্ভুত আচরণ কেনো করছিস? প্রেমে ট্রেমে পড়িস নি তো আমার?
মুহূর্তেই চেহারার রং পাল্টে যায় মিহির। অভ্রের দিকে তাকিয়ে বলে—
আকাশকুসুম ভাবা বন্ধ করুন। আজকে আপনি আমাকে বাঁচিয়েছেন, তাই কৃতঘ্যতা প্রকাশ করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি, এর বেশি কিছু না। আর আপনি যেটা ভাবছেন সেটা কখনো হবে না, সেটা হওয়ায় আগে যেন আমার মৃত্যু হয়।
কথাগুলো বলেই মিহি ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যায়। মিহির গমন পথের দিকে তাকিয়ে অভ্র একটা ব্যাথাতুর হাসি হাসে।
কি করিলে বলো পাইবো তোমারে পর্ব ১৭
নতুন দিনের সূচনা, অভ্র রেডি হচ্ছে অফিসে যাওয়ার জন্য। মিহি বিছানাটা গুছিয়ে রাখছে। অভ্র নিচে গেছে, তখনই অভ্রের ফোনটা বেজে ওঠে। মিহি একবার দেখে পাত্তা দিল না। পরপরি আবার ফোনটা বেজে উঠলো। এইবার মিহি ফোনের কাছাকাছি এসে ফোনটা হাতে তুলে দেখতে পেল ফোনের স্ক্রিনে “নিক” নাম দিয়ে সেভ করা। নামটা দেখতেই মিহির মনে পড়লো, এরকম নামেরই একজন লোক কালকে মিহিকে বাড়ি ড্রপ করে দিয়েছিল। মিহি একবার ভাবল কল ধরবে কিনা। ওথ ভাবনার মাঝেই কল কেটে গেল। ফোনটা রেখে দিতে গিয়ে, তখনি ফোনটা আবার বেজে উঠল। মিহি ফোনটা রিসিভ করে কানে তুললো। এর কিছু মুহূর্ত পরই হঠাৎ—
নানানানানা
