খান সাহেব পর্ব ৩২
সুমাইয়া জাহান
ঘুম থেকে উঠেই সকলে রেডি হয়ে গেছে। কালরাতেই সকলে ঠিক করেছে বাড়ির গাড়ি নিয়ে যাবে না। ট্রেনে করে সকলে সুমুদের বাড়িতে যাবে। ছোটদের আনন্দের কারণ ভেবে, বড়রা আর কেউ অমত পোষণ করেননি। বাড়ি থেকে শুধু শামীম সাহেব, হাসি বেগম, তিশা আর রাইফের জন্য একটা গাড়ি যাবে।। শামীম সাহেবরা বেরিয়ে পড়েছেন। নতুন জামাই প্রথমবার তাদের বাড়িতে যাচ্ছেন বলে, তারা আগে আগে গিয়ে সবকিছু গুছিয়ে নিবেন। তাই তারা আগে আগে বেরিয়ে পড়েছেন। রাইফ আর তিশা সুমুদের সাথে যেতে চাইলেও বমি হয় বলে ওদের দুজনকে সুমুদের সাথে যেতে দিতে রাজি হননি আনোয়ার সাহেব।
খুশি বেগম সকলের জন্য আলাদা করে খাবার প্যাক করে দিয়েছেন। সুমু ছাড়া সকলেই ড্রয়িংরুমে উপস্থিত। আনোয়ার সাহেব আর শেরাজ কথা বলছে আলাদাভাবে। শেরাজ আনোয়ার সাহেবকে জানাল, ওমান ফিরে যাবার আগেরদিন সকলে একসাথে এসে দেখা করে যাবে। আনোয়ার সাহেব খুশি হলেন শেরাজের কথায়। সকলকে সাবধানে যেতে বলে তিনি বেরিয়ে পড়লেন স্কুলের উদ্দেশ্যে। রাহিন এসে শেরাজকে সাইডে নিয়ে গেল কিছু কথা বলার জন্য। আইয়ুবরা সোফায় বসে দুষ্টুমি করছে আর নাজমিনকে জ্বালাচ্ছে। ইফতিয়া রাইশার পাশ থেকে সরে উপরে উঠে এলো।
সুমু লাগেজের মধ্যে সবকিছু ঠিকঠাক ভাবে নিয়েছে কিনা চেক করছে। এমন সময় ইফতিয়া এলো রুমে। সুমু একবার ইফতিয়া দিকে তাকিয়ে আবার কাজে মন দিল। ইফতিয়া চোরা চোখে সুমুকে পরখ করল। তার চোখ গিয়ে আটকালো সুমুর গলার গোল হয়ে থাকা রক্তরাঙা তরতাজা লাভ বাইটের দিকে। ইফতিয়াকে এমনভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে সুমু সামনে দিকে মুখ করে ঘুরে দাঁড়াল।
“তোর মধ্যে এমন কি আছে বল তো, যে শেরাজ খানের মতো ছেলে তোর প্রেমে উন্মাদ? কি এমন দেখেছে সে তোর মধ্যে? আমাকেও একটু বল, সুমু। আমিও একটু দেখাতে চাই তাকে।”
সুমু দাঁতে দাঁত চেপে পেছন ঘুরে তাকিয়ে কিছু বলতে নিলেই,
“আমার বউয়ের মধ্যে সবকিছু একটা করে এক্সট্রা বেশি রয়েছে। যেগুলো আমি দুষ্টু দুষ্টু ছোঁয়া দিয়ে তৈরী করেছি, আর সেগুলো শুধু আমিই দেখতে পাই। তুমিও যদি সবকিছু একটা করে এক্সট্রা তৈরী করতে চাও, তাহলে আমাকে বলতে পারো। ওমানে আমার বাসায় কাজ করে ডার্ক চকলেটের মতো দেখতে মফিজ নামের একজন ধোপা আছে। তাকে তোমার জন্য স্পেশাল ফ্লাইটের টিকিট কেটে বিডিতে আনতে পারি। আমি আবারও সমাজসেবক মানুষ। বিশেষ করে, তোমার মতো নির্লজ্জ মেয়েদের জন্য একটু বেশি সমাজসেবক আমি।”
ইয়তিয়া মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। শেরাজ সুমুর পাশে এসে দাঁড়িয়ে বলল,
“বউ তুমি চাইলে আমি একটা নিউ বিজনেস শুরু করতে পারি।”
“কিসের বিজনেস, খান সাহেব?”
“সুগার ড্যাডি সাপ্লাইয়ের বিজনেস। যেখানে ইফতিয়ার মতো নির্লজ্জ মেয়েদের জন্য আক্কাছ, কুদ্দুস, মফিজ, পল্টু নামের পেটমোটা, ভূড়িওয়ালা, কথায় কথায় পানের পিক ফেলানো, মুখ খুললে মুখ দিয়ে থুথু ছিঁটে বেরিয়ে আসা, ডার্ক চকলেট টাইপ অল কালেকশন সুগার ড্যাডি পাওয়া যাবে। সুগার ড্যাডিদের কাছে কচি মেয়েদের অনেক বেশি ডিমান্ড।”
ইফতিয়া রাগে গজগজ করতে করতে চলে গেল। শেরাজ সুমুর দিকে তাকিয়ে ওয়ান মিনিট বলে রুম থেকে বেরিয়ে এলো। সে ইফতিয়া সামনে গিয়ে পথ আটকে দাঁড়িয়ে বাঁকা হাসল।
“কি হলো ইফতিয়া, ফ্লাইটের টিকিট কাটব?”
“কিসের ফ্লাইটের টিকিট?”
“এই মাত্রই তো বললাম। মফিজকে ডাকি? আমার পার্সোনাল ধোপার বউ হওয়া ও ভাগ্যের ব্যাপার। আমার পার্সোনাল ধোপার বউ হওয়ার মধ্যেও একটা অন্যরকম সেলিব্রিটি, সেলিব্রিটি টাইপ ব্যাপার আছে।”
ইফতিয়া কিছু বলতে নিলে শেরাজ ডান হাত উঁচু করে তাকে থামিয়ে দিল।
“কথা বলো না, প্লিজ। আমি সাথে মাস্ক আনিনি।”
ইফতিয়া ভ্রু কুঁচকালো।
“মানে?”
“মানে? তোমার মতো নোংরা মেয়ে, মুখ খুললেও তোমার কথা থেকে বাজে গন্ধ বের হয়। যেখানে তোমার গন্ধ মার্কা কথা শুনলেই আমার গর্ভবতী মহিলাদের মতো গা গুলিয়ে বমি আসে, সেখানে তুমি ভাবলে কীভাবে, তোমার মতো মেয়ের দেহের প্রতি আমার রুচি আসবে? তুমি চব্বিল ঘন্টা ফুল নেকেড হয়ে ঘুরলেও, আমার বাড়ির পোষা কুকুরটাও তোমার দিকে তাকাবে না। আর সেখানে তুমি আমাকে…. হাউ ফানি!”
কথাগুলো বলে শেরাজ ” বল খুঁজি তোকে আজ কিসে” এই গানের সুর দুই ঠোঁট দিয়ে তুলতে তুলতে চলে গেল। শেরাজ রুমে এসে সুমুকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে গলার ক্ষতস্থানে আলতো করে ঠোঁট ছোঁয়াল। সুমু শেরাজকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিল। শেরাজ জোর করে সুমুর ঘাড়ের ওপর ডান হাত দিয়ে তাকে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে রাখল। নিজের ডানহাত বা’হাত দিয়ে টাইট করে ধরে রাখল সে। সুমুও শেরাজের কোমরে জড়িয়ে ধরে হালকা মেজাজী কন্ঠে বলল,
“এখন আবার কি শুরু করেছেন, খান সাহেব?”
শেরাজ দুষ্টু হেসে বলল,
“বউটাকে পুরো পাঁচঘন্টা, চল্লিশ মিনিট, দশ সেকেন্ড ধরে আদর করিনা, তাই এখন একটু আদর করছি। আর তাছাড়া এতোটা পথ জার্নি করার জন্য আমদের দুজনেরই এনার্জি দরকার। তাই এর্নাজি বাড়ানোর মেডিসিন খেতে এসেছি। ইভেন, তোমাকে খাওয়াতেও এসেছি।”
সুমু তাকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিল। শেরাজ আবারও তাকে টেনে কাছে আনলো। এইভাবে কিছুক্ষণ চলতে থাকল কোনো কারণ ছাড়াই দু’জনে খুনশুটি।
সকলে স্টেশনে এসে দাঁড়িয়ে আছে। ট্রেন আসবে ১০:১৫ তে। এখন ঘড়িতে পাক্কা ১০:০১ বাজে। সকলের হাতে আইসক্রিম। শেরাজ সকলকে আইসক্রিম কিনে দিয়েছে। সে প্রথমে শুধু মেয়েদের জন্য এনেছিল। আইয়ুবরা হ্যাংলার মতো জোর করে চেয়ে নিয়েছে।
আইয়ুব আইসক্রিম খেতে খেতে এগিয়ে গেল নাজমিনের কাছে। নাজমিন চুপচাপ বসে আইসক্রিম খাচ্ছে আর সামিয়ার সাথে গল্প করছে। আইয়ুব মাঝে পাঁচ ইঞ্চি দুরত্ব রেখে নাজমিনের পাশে বসল। নাজমিনের আইসক্রিমের দিকে নজর নেই, সে সামিয়ার দিকে তাকিয়ে আইসক্রিম মুখে তুলে খাচ্ছে আর গল্প করছে। সামিয়া আইয়ুবকে দেখে কিছু বলতে নিলে, আইয়ুব ইশারায় সামিয়াকে চুপ থাকতে বলল। আইসক্রিমের বাটি নাজমিন আর সামিয়ার মাঝখানে রাখা। আইয়ুব একটু বাঁকা হয়ে নাজমিনের আইসক্রিমের বাটিটা সরিয়ে নিয়ে চলে গেল। নাজমিন কথা বলতে বলতে আবারও আইসক্রিমের বাটি থেকে আইসক্রিম তুলে মুখে নিল। তবে মুখের মধ্যে আইসক্রিমের স্বাদ অনুভব করতে না পেরে নিচের দিকে তাকিয়ে দেখল আইসক্রিমের বাটি নেই। নাজমিন আশেপাশে তাকাল। সকলে যার যার মতো আছে। আইয়ুব ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে ফোনে কথা বলছে। নাজমিন জানে এই কাজটা কার। সে উঠে কিছু বলতে নিবে এমন সময় ট্রেন চলে এলো। ট্রেন আসতেই ব্যস্ত নগরীর ব্যস্ত মানুষ তাড়াহুড়ো শুরু করল। কারো তাড়া ট্রেনে ওঠার, তো কারো তাড়া নামার। তবে নিয়ম অনুযায়ী আগে নামতে দেওয়া হলো। তারপর সকলে একে একে উঠতে শুরু করল। শেরাজ আগে ট্রেনে উঠে সুমুর দিকে হাত বাড়িয়ে দিল। সুমু শেরাজের হাতের ওপর হাত রেখে উঠে পড়ল ট্রেনে। আইয়ুবরা সকলে তাদের নির্ধারিত বগীতে চলে গেছে। বাকি রয়ে গেছে ইফতিয়া। ইফতিয়া এখনো ট্রেনে ওঠেনি। সে ইচ্ছা করেই নিচে রয়ে গেছে। শেরাজ সুমুকে বসিয়ে রেখে পানি নেওয়ার জন্য ট্রেন থেকে নামল। ইফতিয়াকে দেখেও না দেখার ভান করে চলে গেল সে। পানি নিয়ে ট্রেনে উঠতেই ইফতিয়া ডাক দিল তাকে।
“শুনুন!”
ভ্রু কুঁচকে তাকালো শেরাজ।
“কি বললে? শুনুন? আরে এই মেয়ে! সৃষ্টিকর্তা কি দুনিয়ার সব মেয়েকে লজ্জা শরম দিতে গিয়ে তোমাকে দিতে ভুলে গিয়েছিল? নাকি তোমাকে লজ্জা শরম দেবার সময় তার কাছে লজ্জা শরম শেষ হয়ে গিয়েছিল, তাই আর তোমাকে দিতে পারেনি?”
“আপনি এইভাবে বলছেন কেনো? আমি ট্রেনে উঠতে পারছিনা, তাই আপনাকে ডাক দিলাম।”
ইফতিয়ার ন্যাকামি দেখে শেরাজ বিরক্ত হয়ে বিড়বিড়িয়ে বলল,
“আবার ন্যাকামি করছে এই মেয়েটা।”
সে এক ভ্রু উঁচু করে বলল,
“এই মেয়ে শোনো! আই হেভ আ কিউট, বিউটিফুল, প্রিটিয়েস্ট ওয়াইফ। সো, আমাকে এইসব শুনুন, টুনুন বলে ডাকবে না। আজ থেকে সুমু তোমার বোন হলেও আমি তোমার শুধু জিজু না। আমাকে তুমি জিজুআঙ্কেল বলে ডাকবে।”
“হোয়াট?”
“চুপ! একা একা উঠতে পারলে ওঠো, নয়তো পড়ে থাকো। আমি আমার বউকে ছাড়া অন্যকোনো নারীর দিকে তাকাইনা পযর্ন্ত। সেখানে টাচ করা তো অনেক দূরের প্রশ্ন।”
শেরাজ চলে যেতে নিলে ইফতিয়া আবারও ডাক দিল। শেরাজ কোনো উপায় না পেয়ে আশেপাশে তাকাল। ইফতিয়া হাসি মুখে হাত বাড়িয়ে দিল। শেরাজ ইফতিয়ার হাত উপেক্ষা করে দূরে থাকা একটা লোককে ডাক দিল। লোকটা তার মাথার ওপর থেকে ব্যাগ নামিয়ে দৌড়ে এলো। লোকটা আসতেই শেরাজ বলল,
“ভাই! আপনি টাকার বিনিময়ে যেকোনো ব্যাগ বা লাগেজ ট্রেনে তুলে দেন তো?”
“আজ্ঞে সাহেব।”
“আমি আপনাকে পাঁচশো টাকা দিব। তারপর পরিবর্তে একটা নোংরা, চরিত্রহীনা আটার বস্তা আপনাকে এই ট্রেনে তুলে দিতে হবে।”
“সাহেব! আটার বস্তা নোংরা হয়েছে মাইন্না নিলাম। কিন্তু আটার বস্তা চরিত্রহীনা কেমন হয়, সাহেব?”
“আরে আপনি এটা জানেন না? তাহলে শুনুন! আটার মধ্যে যখন আমরা পানি দেই আটা’টা মাখব বলে, তখন আটা কি করে বলুন তো?”
“কি করে, সাহেব?”
“চরিত্রহীনা মেয়েদের বা ছেলেদের মতো হাতের সাথে আঠার মতো লেগে যায়। যেগুলো ছেলে গম থেকে আটা হয়েছে তারা মেয়েদের হাতে লেগে যায় আর যেগুলো মেয়ে গম থেকে আটা হয়েছে তারা ছেলেদের হাতে লেগে যায়।”
“কিন্তু সাহেব, গম ছেলে মেয়ে হয়?”
“সেটা আপনার না জানলেও চলবে। এই যে দেখতে পারছেন আপনার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটা। ওকে একটু হাত ধরে ট্রেনে তুলে দিনতো। পারলে কোলে করেও তুলতে পারেন। এই আপুমনিকে কোলে তুললে এই আপুমনি খুশি হয়ে আপনাকে একটা চুমুও খেতে পারে। এই আপুমনিটার আপনার মতো পুরুষ খুব পছন্দ। কাজে লেগে পড়েন, দেরি করবে না। দেরি করলে আবার এই আপুমনি রেগে গিয়ে আপনার মতো অন্যকোনো লোক খুঁজে নিতে পারে। এই সুযোগ সীমিত সময়ের জন্য। কাজে লেগে পড়ুন।”
ইফতিয়া রাগি লুক নিয়ে তাকিয়ে রইল। শেরাজ তার খুব প্রিয় সুর “বল খুঁজি তোকে আজ কিসে” গানে সুর দুই ঠোঁট গোল করে বাজাতে বাজাতে চলে গেল।
কুলি লোকটা ইফতিয়া দিকে তাকিয়ে বলল,
“আফামনি আসেন। সাহেবের কোনো টাকা দেওয়ান লাগব না। আমি আপনারে ফ্রিতেই ট্রেনে তুইলা দিতাছি। আসলে কি জানেন আফা? আপনার মতো সুন্দরী মাইয়া আমার মেলা ভাল্লাগে। আসেন আফা।”
ইফতিয়া কুলিটির দিকে চোখ গরম করে তাকাল।
“হোয়াট রাবিশ।”
ইফতিয়া আর দাঁড়িয়ে রইল না। ট্রেনে উঠে নিজের নির্ধারিত বগীতে চলে গেল সে।
অরিন্দম সিংয়ের সাথে আজ সিআইডি ডিপার্টমেন্টের এসিপি দেখা করতে এসেছে। অরিন্দম সিংকে নানান রকমের প্রশ্ন করা হচ্ছে। কিন্তু সে কোনো রকমের স্টেটমেন্ট দেওয়ার জন্য মুখ খুলেনি। এসিপি প্রশান্ত ঘোষ অরিন্দমকে ক্রমগত প্রশ্ন করেই যাচ্ছে।
এসিপির প্রশ্নে অরিন্দম হঠাৎ করেই হাইপার হয়ে উঠল। ডাক্তার এবং নার্স দৌড়ে এলো কেবিন রুমে। অরিন্দম পাগলের মতো আচরণ করছে। ডাক্তার অরিন্দমকে ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে এসিপিকে বললেন,
“আপনি দয়া করে এখন চলে যান। প্রেশেন্টের অবস্থা এখনও খুব খারাপ। আপনার প্রশ্নগুলো পেশেন্টের ওপর প্রেশার ক্রিয়েট করছে। যার ফলে প্রেশেন্ট হাইপার হয়ে পাগলের মতো আচরণ করছে। আমি আমার প্রেশেন্টের ওপর কোনো রকমের প্রেশার সহ্য করব না। আপনি প্লিজ কেবিন থেকে যান।”
“কিন্তু…”
আলবার্ট সিং প্রশান্ত ঘোষের সামনে হাত জোর করে দাঁড়িয়ে বললেন,
“আমার ছেলেটাকে আগে সুস্থ হতে দিন স্যার। ও সুস্থ হবার পর আপনার আপনাদের ইনভেস্টিগেশন করবেন।”
প্রশান্ত ঘোষ বাধ্য হয়ে চলে গেলেন। ডাক্তার দূর্জয় আলবার্ট সিংয়ের সামনে এসে বললেন,
“আমার মনে হয় আপনাদের এই কেসটা তুলে নেওয়াটাই ভালো।”
“মানে?”
“মানেটা হলো এই যে, আপনার ছেলের অবস্থা খুব একটা ভালোনা আর এসিপির করা প্রশ্নগুলো অরিন্দমকে হাইপার করে তুলছে। এতে ওর অবস্থা ক্রমগত খারাপের দিকে যাচ্ছে। ও এই অবস্থা থেকে করে পুরোপুরি বেরিয়ে আসবে, আমি জানিনা। এর মধ্যে যদি বার বার ওর ওপর এমন প্রেশার ক্রিয়েট করা হয়, তাহলে অরিন্দমের কি অবস্থা হবে সেটা গড নোজ। এখন বাকিটা আপনাদের ব্যাপার, আপনারা কি করবেন। অ্যাজ আ ডক্টর, আমি আমার প্রেশেন্টের ভালোর দিকটাই দেখব। বাকিটা আপনাদের ইচ্ছা।”
আলবার্ট সিং ডাক্তারের হাত ধরে কাতরস্বরে বললেন,
“আমি কেসটা তুলে নেব ডাক্তার। আমার ছেলের ক্ষতি হোক এমন কোনো সিচুয়েশন আমি আর এখানে ক্রিয়েট হতে দিব না। আপনি শুধু আমার ছেলেটাকে পুরোপুরি সুস্থ করে দিন।”
ডাক্তার আলবার্ট সিংয়ের হাতের ওপর হাত রেখে থাকে আশ্বাস দিলেন। আলবার্ট সিং কাঁদতে কাঁদতে ছেলের পাশে গিয়ে বসলেন। ডাক্তার দূর্জয় কেবিন থেকে বেরিয়ে যেতে গিয়ে আবারও দাঁড়িয়ে পড়ল। হঠাৎ পেছনে তাকিয়ে বাঁকা হেসে পকেট থেকে ফোনটা বের করে কোথাও একটা টেক্সট করলেন তিনি।
খান সাহেব পর্ব ৩১ (২)
“কাজ হয়ে গেছে, স্যার।”
একমিনিটের মধ্যেই টেক্সটের রিপ্লাই এলো,
“গুড জব! সময় মতো তুমি তোমার পেমেন্ট পেয়ে যাবে।”
টেক্সটটা পড়ে ডাক্তার দূর্জয় আবারও বাঁকা হেসে কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল।
