চারুবৃত্ত পর্ব ৩
জুলি জোনাকি
“শোনো চারু ,আমায় কিছু বানিয়ে দাও তো ক্ষুধা পেয়েছে ।”
রাত তখন বারোটা । লঙ্কা বাটা দিয়ে ভাত খেয়ে ঠোঁট জ্বলছে । বৃত্ত আসাতে পেট ভরে খেতেও পারলো না চারু । বৃত্ত গিয়ে টেবিলে বসে এমন আবদার করলো , চারু বলল,
“আপনি তো একটু আগেই খেলেন ।”
“আবার খাব । কিছু বানিয়ে দিবে না ?”
“হ্যাঁ কেন দিব না , তবে ফ্রিজের চাবি আমার কাছে নেই কাকিমার কাছে ।”
“নিয়ে আসো । ”
চারু ওড়নায় হাত পেচিয়ে বলল,
“এতো রাতে চাবি দিবে না ।”
“আমি নিয়ে আসছি ।”
বৃত্ত উঠে মায়ের রুমে গেল । চারুর বিরক্তে কপাল কুঁচকে এলো । এ আবার কেমন মানুষ ?একটু আগেই তো খেয়ে উপরে গেল , আবার ক্ষুধা লাগে কি করে ?জোরে শ্বাস ছাড়ল চারু ,তার যে পড়তে বসতে হবে কতো রাত হয়ে গেল ।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
“এই নাও ।”
চারুর দিকে চাবিটা ছুড়ে মারতেই চারু ধরে ফেললো । বৃত্ত ঠোঁট উল্টে বলল,
“বাহ ! দারুন তো! ”
চারু ফ্রিজ খুলে ডিম বের করে হালকা কিছু বানিয়ে দিল । টেবিলে রেখে চলে আসতেই বৃত্ত ডাকলো ,
“শোন চারু ।”
দাড়ালো চারু ,পেছন ফিরে বলল,
“আবার কি লাগবে ?”
“কিছু লাগবে না বসো এখানে ।”
চারু কপাল উচিয়ে বলল,
“আ আমি কেন বসবো ?”
“এতো খাবার আমি খেতে পারবো না , এই টুকু তুমি খেয়ে শেষ করো ।”
একটা প্লেটে নিজের থেকে কিছু খাবার সে প্লেটে রাখলো । চারু বলল,
“এতো কোথায় ? একটু তো ,আর আমি মাত্রই খেয়ে উঠলাম ।”
বৃত্ত গুনগুন করে বলল,
“লঙ্কা বাটা দিয়ে আবার পেট ভরে খাওয়া যায় নাকি ? এ খাবার গুলো যে তোমার জন্য তা বলি কি করে ?”
বৃত্ত কেশে বলে উঠল,
“দেখ এতো খাবার খেতে না পারলে নষ্ট হবে আর মা যদি নষ্ট হতে দেখে তাহলে তোমাকেই বোকবে , তার থেকে ভালো দুজন মিলে খাবার টা শেষ করি ?”
“কিন্তু আমি তো….”
“এতো প্রশ্ন ভালো না , খেতে বলেছি খাবে ।এসো বসবে ।”
চারু একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিল বৃত্ত ফের ডাকলো ,
“আসবে নাকি মাকে ডাকবো ?”
চারু ঠোঁট কামড়ে গেল । এদিক ওদিক তাকাচ্ছিল দেখে বৃত্ত আচমকা হাত ধরে টেনে চেয়ারে বসালো । খাবার প্লেট টা এগিয়ে দিয়ে বলল,
“নাও শেষ করো ।”
বৃত্ত খাওয়া শুরু করলো । চারু একটু মুখে নিয়ে খেতে খেতে বৃত্তর দিক তাকাল , আজ সাদা একটা টি-শার্ট পড়েছে হাতে ঘড়ি , সিম্পল তবে সুন্দর । বৃত্ত তা আড় চোখে একবার তাকাল, চারুকে এমন ভাবে তাকাতে দেখে বৃত্ত হেসে বলল,
“ভালো দেখাচ্ছে আমায় ?”
চারু বিষম খেয়ে তাকাল । চোখ সরিয়ে বলল,
“ন না তো ।”
বৃত্ত ভ্রু কুঁচকে বলল,
“তুমি বলতে চাইছো যে আমায় ভালো দেখা যাচ্ছে না? ”
“না না এমন কিছু না ।”
বৃত্ত চারুর দিক একটু ঝুঁকে বলল,
“তাহলে কেমন কিছু ?”
চারুর এবার শ্বাস আটকে যাবে যাবে ভাব । ধপ করে চেয়ার সরিয়ে উঠে দাঁড়ালো চারু । বৃত্ত মাথা তুলে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“উঠছো কেন ?”
চারু আমতা আমতা করে বলল,
“আ আমার খাওয়া শেষ । আমি এখন যাই ।”
বলে আর এক মুহূর্ত দেরি না করে ঘরে চলে গেল । বৃত্ত চেঁচিয়ে বলল,
“আরে বলে তো যাও কেমন দেখাচ্ছে? ”
বলে হাসতে হাসতে প্লেট টা নিয়ে রান্না ঘরে রাখতে গেল ।
“হাসছো কেন ভাইয়া? ”
“এবাড়িতে হাসা যাবে না ?”
” কারণ ছাড়া হাসা যাবে না ।”
“চুপচাপ খেয়ে কলেজে যা ।”
বৃত্ত আর বিন্তি এক সাথে খাবার খাচ্ছিল, চারুর দিক তাকাতেই বৃত্ত এমন মিটমিটে হাসছিল । তখন বিন্তি খেতে খেতে বলল ।
চারু রান্না ঘরে রান্না করছিল । চারু বেশ অসস্থিতি বোধ করছিল । বৃত্ত তার দিক তাকিয়ে এমন হাসছিল জন্য । বৃত্তের মা বলল,
“তোর মা কই রে চারু ।”
“মা ঘরে শুয়ে আছে , শরীর টা ভালো নয় হয়তো ।”
“তো ডাক্তার দেখা ।”
“ঠিক আছে কাকিমা ।”
“হুমম, হাত চালা ।”
“হুমম ।”
“হেই হ্যান্ডসাম, কেমন আছো ?”
বৃত্ত ফোন দেখতে দেখতে খাচ্ছিল । তখন তার মামাতো বোন বাড়িতে ঢুকতে ঢুকতে বৃত্তকে উদ্দেশ্য করে বলল । বৃত্ত ফোন থেকে চোখ সরিয়ে তাকাল , সামনে থাকা মেয়ে কে দেখে বিষম খেল । বিন্তি পানি এগিয়ে দিয়ে আস্তে আস্তে ভাইয়ের কানে বলল,
“তোমার জানেমান চলে এসেছে ।”
“থামতো , এ এখানে কেন ? জ্বালিয়ে খাবে আমায় ।”
“তোমার হবু বউ ও ,এমন কেন বলছো ?”
“এই কে বললো রে তোকে যে ও আমার হবু বউ? ”
“বাড়ির সবাই তো তাই বলে ।”
“মরে যাব তবুও ওরে বিয়ে করবো না ।”
“দেখা যাবে ।”
বিন্দু উপর থেকে নামতে নামতে বলল,
” রুহি তুই এতো সকালে ?”
বৃত্ত মামাতো বোন রুহি । সবসময়ই বৃত্ত পেছন পেছন ঘোরার সভাব । বয়স তেমন না আঠারো, চারুর বয়সি,বিন্দু আর বিন্তির থেকে একটু বড় তবে সবাই তুই করেই কথা বলে। যেই শুনেছে বৃত্ত এসেছে সকাল সকাল চলে এসেছে । বৃত্তের একদম এমন গায়ে পরা মেয়ে পছন্দ নয় ।
রুহি গিয়ে সোজা বৃত্ত কাছে বসে জড়িয়ে ধরার জন্য হাত বাড়িয়ে দিতেই বৃত্ত উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
“মা আমি কলেজে গেলাম , দেরি হয়ে যাচ্ছে ।”
“আমি এলাম আর তূমি চলে যাচ্ছ ?”
বৃত্ত আড় চোখে চারুর দিক তাকিয়ে বলল,
” কাজ আছে পরে এসে কথা বলবো ।”
বিন্দু আর বিন্তি তারাও একটু কথা বলে বৃত্তের সাথে বেড়িয়ে গেল । চারু রান্না শেষ করে তৈরি হতে যাবে তখন রুহির মা বাবা ছোট বোন সবাই চলে এলো । বৃত্তের মা গিয়ে সবাইকে জাড়িয়ে ধরলো । রুহি গাল ফুলিয়ে বসে আছে দেখে বলল,
“কিরে তোর মুখ অমন করে আছিস কেন ?”
“ফুপুমনি তোমার ছেলে আমায় পাত্তাই দিল না , চলে গেল ।”
“আরে এমন না , দেরি হয়ে যাচ্ছে জন্য চলে গেল ,এসে কথা বলবে । ”
” আমি কথাই বলবো না ।”
“ছাড়াতো আপা ওর কথা বৃত্তকে পেলে সব ভুলে যাবে ।”
“তা ঠিক । আয় বসবি।”
চারু এগিয়ে এসে ব্যাগ গুলো নিয়ে ভেতরে রাখলো । বার বার ঘড়ির দিক তাকাল , কলেজ তো শুরু হয়ে যাবে কিছুখনের মধ্যেই । বৃত্তের মা তা খেয়াল করলো । উঠে গিয়ে বলল,
“আজ কলেজ যেতে হবে না , যা নাস্তা দে ওদের ।”
“কাকিমা আজ যাওয়া টা খুব দরকার ।”
“ঠিক আছে যা ,বাকি কাজ তোর মাকে দিয়ে করাবো ।”
থেমে গেল চারু । তার যে আর কিছুই বলার থাকে না । মা যে তার অসুস্থ । চুপচাপ গিয়ে নাস্তা বানিয়ে তাদের সামনে দিল ।
চারু খাবার নিয়ে ঘরে যেতেই পেছন থেকে বৃত্তের মা ডাকলো ,
“শোন চারু ?”
“বলো কাকিমা ?”
“তোর মাকে খাইয়ে গেস্ট রুম গুলো একটু পরিষ্কার করে দে ওরা কয়দিন এখানেই থাকবে ।”
“ঠিক আছে কাকিমা ।”
“স্যার ক্লাস শুরু করুন ।”
বৃত্ত ঘড়ি দেখছে তো একবার বাইরে তাকাচ্ছে, চারু যে এখনো এলো না, ওর জন্য অপেক্ষা করছিল । তখন সেই বেহায়া মেয়ে টা এমন বলল । বৃত্ত হকচকিয়ে গেল বলল,
“হ্যা ।তো শুরু করা যাক ।”
ক্লাস নিতে নিতে বেশ কয়েক বার বাইরে তাকালো কিন্তু চারু এলো না ।
কলেজ শেষ করে বাড়ি ফিরে আগে চারুকে খুজলো । রান্না ঘরে চারুকে না পেয়ে তার ঘরের দিক পা বাড়াতে যাবে পেছন থেকে কেউ এসে হাত ধরে বলল,
“বৃত্ত ভাই , তুমি আমায় ইগনোর করছো কেন? ”
বৃত্ত বিরক্ত নিয়ে তাকাল । মুখে হাসি টেনে বলল,
“আমি মেয়েদের ইগনোরই করি । তুই তো মেয়ে তাই তোকেও করি ।”
বলে বৃত্ত চলে গেল । ফের নাক মুখ ফুলিয়ে রুহি বলল,
” দেখ তুমি আমায় ইগনোর করতে পারো না । বৃত্ত ভাই ।”
বৃত্ত তা না শুনে চারুকে খুজতে গেল ।
ওদিকে চারু বাড়িতে নেই বাজারে গেছে , বাড়িতে লোকজোন এসেছে জন্য ভালো সবজি কিনতে গেছে ।
বিকাল সাড়ে চারটা । অনেক বলে বৃত্তের মাকে রাজি করিয়েছে , দুইটা টিউশন পড়িয়ে আসবে । বৃত্তের মা বলল ‘তারাতারি আসতে পারলে যা ‘। চারু রাজি হয়ে যায় । টিউশন পড়াতে না গেলে টাকা কেটে রেখে দিব । বসার ঘর পেরিয়ে বাইরে পা রাখতে পেছন থেকে পুরুষ কণ্ঠে কেউ চারুকে ডাকলো ,
“শোনো চারু ।”
চারুবৃত্ত পর্ব ২
মাথা ঘুরিয়ে তাকাল, এতো বৃত্ত ।দৌরে চারুর কাছে এসে দাঁড়ালো । চারু স্বাভাবিক ভাবে দাঁড়িয়ে ছিল । বৃত্ত মাত্রই গোসল করে বাথরুম থেকে বের হয়ে বাইরে উঁকি মারতেই চারুকে দেখে ,মাথা ভালো করে না মুছেই দোড়ে এলো। চুল থেকে টপটপ করে পানি পরছিল । চারুর থা বেশ নজর কারলো । চোখ সরিয়ে নিল । চারুর দিক তাকিয়ে থেকে বৃত্ত বলল………
