চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ৫০
আয়াত বিনতে নূর
কিছুক্ষণের মধ্যেই ফারিসের গাড়িটা চৌধুরী ভিলার সামনে এসে দাড়ালো। নিশিতা এখন ধরে বারান্দার মধ্যে ফারিসের আসার অপেক্ষা করছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে আওয়াজে যেটার দিকে তাকায় সাথে সাথে ফারিশকে গাড়ি থেকে নিয়ে নামটে দেখে। নিশিতার চোখ দুটো চিকচিক করে উঠলো খুশিতে। আর কিছু না ভেবে এক দৌড়ে নিচে গেলো। ফারিস গাড়ি থেকে বের হয়ে বাড়ির ভিতরে যেতেই দেখলো নিশিতা দরজা
খুলে একগাল হাসি নিয়ে দাড়িয়ে আছে। ফারিস ধীরে ধীরে নিশিতার কাছে এগিয়ে গেলো। ফারিসের একটা ব্যাগ দেখে নিশিতা ধীরে ধীরে ফারিসের দিকে তাকিয়ে বলল,
“ব্যাগে কি আছে ফারিস ভাই? আমাকেও দেখান না প্লিজ। ”
নিশিতা কথা শুনে ফারিস বলল,
“আগে উপরে চল আমার সাথে তারপর দেখাবো। ”
নিশিতা বাচ্চাদের মতো জেদ করে বলল,
“নাহ্ আমি এখনি দেখবো। আমাকে দেখান।”
ফারিস জানো নিশিতার কথা কানেই তুলল না।
হন হন করে হাত ধরে উপর নিয়ে চলে গেলো।
উপর নিয়ে গিয়ে নিশিতাকে তার রুমে নিয়ে গেলো। নিশিতা বিরক্ত হয়ে বলল,
“কি করছেন ছাড়ুন। আমার ক্ষুদা
লেগেছে আপনার জন্য ওয়েট করছিলাম। ”
ফারিস স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল,
“পরে খাবি আগে দাড়া তো। ”
তারপর নিশিতাকে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে ফারিস ব্যাগ থেকে গাজরাটা বের করল। তার চোখে হালকা এক চটচটে হাসি, আর নিখুঁত যত্নে নিশিতার চুলের খুপাটি ঠিক করল। আয়নার শীটল রোদে নিশিতার মুখটা যেন আরও কোমল ও সুন্দর হয়ে উঠল। ফারিস পিছ থেকে তার কোমর জড়িয়ে ধরল। নিশিতার শরীরে হঠাৎ এক অচেনা কম্পন ছড়িয়ে পড়ল। কানে ফিসফিস করে নেশাতুর কণ্ঠে বলল,
“আমার জন্য একটু বউ বউ সাজতে পারবি? ব্ল্যাক রোজ।”
ফারিসের কন্ঠে কিছু ছিলো যেন। নিশিতা এক মুহূর্তের জন্য চোখটা বন্ধ করে আসতে আসতে আবার খুলে আয়নার দিকে চোখ রাখে
সাথে কাচের মধ্যে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখা গেল, আর সঙ্গে সঙ্গে ফারিসের প্রতিচ্ছবিটা ভেসে উঠলমোটা চুলের নরম ছায়া, চোখের গভীরতা, আর হালকা হাসি যা নিঃশব্দে হৃদয়কে ছুঁয়ে যাচ্ছে।
ফারিসের কল্পনায় এক বালতি পানি ফেলে মন খারাপ করে বলে,
“আমি খাবার খাবো খুব খিদে পেয়েছে “।
কিন্তু কে যানে নিশিতা-তো মনে মনে ফারিস ভাইকে সারপ্রাইজ দিতে চায় তাই এমনটা করল।
এইদিকে ফারিস নিশিতার দিকে তাকিয়ে তারপর বলে,
” আমি তোর জন্য খাবার বানিয়ে আনছি তুই ঘরে থাক কেমন। ”
তারপর নিশিতার কপালে প্রেমের পরশ একে দিয়ে। ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেইস হয়ে। রুমে এসে নিশিতাকে বলে,
“কাবার্ড থেকে টি-শার্ট আর ট্রাউজারটা বের করে দে তো। ”
নিশিতা লক্ষ্মী মেয়ের মত কাবার্ডের সামনে গেল গিয়ে কাবার্ড খুলে ফারিসের জন্য টি-শার্ট আর ট্রাউজার এনে ফারিসের হাতে ধরিয়ে দিল। ফারিস তো মনে মনে বড্ড খুশি হল। সে খুশি মনে ওয়াশরুমে চলে গেল।
ফারিস যাওয়ার পরপর নিশিতা গাজরটা থেকে খুলে ড্রেসিং টেবিলের উপরে রাখল। তারপর মনে মনে বলল,
” বউ সাজতে হবে খুব সুন্দর করে শুধু ফারিস ভাইয়ার বউ”।বলে মুচকি মুচকি হাসতে থাকে।
অন্যদিকে নিশিতার এই ভাবনার মাঝেই ফারিস ওয়াশরুমের দরজা খুলে সে কিচেনের উদ্দেশ্যে চলে যায়। ফারিসের যাওয়া দেখে নিশিতা ভীষণ খুশি হয়। তারপর কাবার্ড থেকে লাল রঙের পাতলা সিল্কের একটা শাড়ি বের করে যার প্রিন্টা ছিল দারুণ।তারপর ম্যাচিং ব্লাউজ আর পেটিকোট বের করে তারপর নিজে নিজে পড়তে শুরু করে। শাড়ি পড়া হয়ে গেলে কপালের মাঝ বরাবর একটা লাল টিপ ডার্ক লাল লিপস্টিক,চোখে কাজল, তারপর খোপা করে সুন্দর করে গাজরাটা খোপায় বেধে ফেলে।তারপর সুন্দর করে বড় করে ঘোমটা দিয়ে বেডের মাঝখানে গিয়ে বসে এতেই নিশিতা একদম রেডি শুধুমাত্র ফারিসের জন্য।
নিচে ফারিস দুজনের জন্য খাবার গরম করে প্লেটে সাজিয়ে উপরে উঠে এল। সিঁড়ি ভেঙে নিজেদের রুমের সামনে এসে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই কপাল কুঁচকে গেল তার। ঘরের ভেতর অন্ধকার। ফারিস অবাক হয়ে চারদিকে তাকিয়ে বলল,
“কি হলো? লাইট অফ কেন? আর নিশিতা কোথায়? নিশিতা তুই কি এখানে আছিস?”
তার কণ্ঠে হালকা অস্থিরতা।
দু তিনবার ডাকলেও কোনো সাড়া পেল না সে। ঘরের নিস্তব্ধতা যেন আরো ভারী হয়ে উঠল।
ফারিস বিরক্ত আর কৌতূহলের মাঝামাঝি অবস্থায় খাবারের প্লেটটা টেবিলের ওপর কোনোমতে রেখে হাত বাড়িয়ে দেয়ালে সুইচ খুঁজতে লাগল।
অবশেষে আঙুল সুইচে পড়তেই সে ধীরে চাপ দিল।
মুহূর্তেই সারা ঘর আলোয় ভরে গেল। ফারিস চারদিকে তাকিয়ে নিশিতাকে খুঁজতে লাগল। বিছানার পাশে, বারান্দার দিকে, ওয়ারড্রোবের সামনে কোথাও নেই।
ঠিক তখনই হঠাৎ তার চোখ আটকে গেল।
বিছানার মাঝখানে বসে থাকা এক নারী অবয়বের দিকে।লাল রঙের সিল্কের শাড়িতে আবৃত। তার মাথায় বড় করে ঘোমটা দেওয়া ফারিস ধীরে ধীরে নিশিতার দিকে এগিয়ে গেলো৷ তারপর নিশিতার উপস্থিতি যেন ফারিসকে আবারও নিয়ন্ত্রণ হারাতে বাধ্য করল। নিজেকে সামলাতে না পেরে বলে,
ঘুমটা সরা তোফটাফট দশটা চুমু খেয়ে
ফেলি?”
এই বলে নিশিতার দিকে তাকাতেই সে বুঝতে পারল বেচারী এতক্ষণ ধরে ফারিস ভাইয়ের কান্ড গুলো বসে বসে ঘোমটার আড়ালে উঁকি দিয়ে দেখছিল। লজ্জায় যেন কান দুটো দিয়ে গরম ধোঁয়া বের হচ্ছে। গাল দুটো টকটকে লাল, চোখ নামানো, ঠোঁট দুটো কাঁপছে অদ্ভুত এক অস্বস্তিতে।
নিশিতা ফিসফিস করে বলল,
“আপনি না একদম বেহায়া হয়ে যাচ্ছেন
দিন দিন।”
ফারিস হেসে ফেলল। তার চোখে তখন দুষ্টু ঝিলিক।
“এই বেহায়াটার কারণটা কে জানিস? তুই । এভাবে লজ্জা পেলে আমার আর নিজেকে সামলানো দায় হয়ে যাবে ।”
এইবলে নিশিতাকে কোলে নিয়ে নিল। বেচারি নিশিতা লজ্জায় তো বলতেই পারছে না। অতিরিক্ত লজ্জা পেলে যা হয় নিশিতার সাথেও তাই হলো বেচারি কাপা কাপা কন্ঠে নিশিতা বলে,
” আমি আপনার কাছে সর্বদা সুরক্ষিত ফারিস ভাই।আপনি কি তা জানেন??
ফারিস নিশিতার কথায় সামান্য মুখ বাকায় তারপর নিশিতাকে আরও গভীর ভাবে নিজের সাথে জরিয়ে নেশাতুর কন্ঠে বলে উঠে,
“তুই ফুল আর আমি কাঁটা! তবে মনে রেখিস , ফুল কিন্তু ততক্ষণই সুরক্ষিত যতক্ষণ সেই কাঁটা তার সঙ্গে থাকে।”
তারপর নিশিতাকে বিছানায় নিয়ে গিয়ে নিশিতার গলায় মুখ ডুবিয়ে দিলো। পুরো গ্রীবা দেশ ভরিয়ে দিলো ছোট ছোট চুমুতে। নিশিতার পুরো শরীর জুড়ে জেগে উঠলো এক অদ্ভুত শিহরিত অনুভূতি।
ফারিস নিজেকে আর দমিয়ে রাখতে পারলো না।
স্বজোরে কামড় বসালো নিশিতার গলায়। নিশিতা চিৎকার করল কিন্তু ফারিস? ফারিসের কোনো ধ্যান নেই সে নিজের কাজে ব্যস্ত। নিশিতার গলা থেকে মুখ উঠিয়ে নিশিতার দিকে তাকিয়ে বলল,
“এখন চিৎকার দিয়ে লাভ নেই আদর করার সময় কোনো ছাড় পাবি না। আর বিরক্ত তো একদমই করবি নাহলে বেড থেকে ছুড়ে ফেলবো তোকে। ”
নিশিতা ভয়ে চুপসে গেলো। ফারিস আর সময় নষ্ট না করে নিশিতাকে বিছামায় শুইয়ে দিলো। সময় নষ্ট না করে গায়ের সাথে গেলে থাকা শাড়িটা টান মেরে সরিয়ে দিলো। নিশিতার উন্মুক্ত ফর্সা পেটে মুখ ডোবালে। একে দিলো একের পর এক ভালোবাসার পরশ একে দিতে থাকলো । ফারিস আরও মরিয়া হয়ে উঠলো নিশিতা কে পাওয়ার জন্য । পুরুষসালী হরমোন গুলো নাড়া দিতে প্রতিটা শিরা-উপশিরায়। এভাবেই চলতে থাকলো তাদের ভালোবাসার আদান-প্রদান। একপর্যায়ে নিশিতা চিৎকার দিয়ে উঠে,
“ফারিস ভাই লাগছে আমার প্লিজ ছাড়ুন।”
কিন্তু ফারিসের জানো কথা কানেই গেলো না। নিশিতার দিকে তাকিয়ে বলল,
“আমার ভালোবাসার অতল সাগরে এইভাবেই সারাজীবণ ডুবে থাকতে হবে। ”
চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ৪৯ (২)
নিশিতা ব্যাথায় চোখ-মুখ কুঁচকে রইলো। সে ভালোই বুঝতে পারছে এতো তাড়াতাড়ি তার আজ আর নিস্তার নেই । এই অসহ্য সুখ তাকে আজ জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দিবে। আবারও পার হবে আরেকটা নির্ঘুম রাত। এতো কিছুর মাঝে সব কিছু সহ্য করে নিতে হবে তার এই প্রেমিক পুরুষটার পাগলামি। উম্মাদনা, পাগালামি, ভালোবাসায় পার হবে আরও একটি রাত।
