চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৩৭
আরোবা চৌধুরী আরু
নাফিসা প্রথমে কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না। অবাক হয়ে থ হয়ে ছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই স্বামীর উচ্ছ্বাস সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। প্রতিটি স্পর্শে, প্রতিটি আলিঙ্গনে, প্রতিটি উন্মাদনায় নাফিসার বুক ভরে উঠছে অদ্ভুত এক মিষ্টি অনুভূতিতে। দীর্ঘ সময় পর সায়মান অবশেষে তার পিচ্চি বউয়ের ঠোঁট ছেড়ে দিল। দুজনের শ্বাস তখনও এলোমেলো। নাফিসা লজ্জায় মুখ গুঁজে ফেলল সায়মানের বুকে, আর সায়মান গভীর তৃপ্তির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল নিজের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের দিকে।
বুকে মাথা গুঁজে রেখে লাভ নেই মাথাটা তোলো, চুরি করার শাস্তি পেতে হবে। ধরা পড়ে গেছ। সায়মান নাফিসার মাথাটা নিজের বুক থেকে তুলে ধীরে বলল।
নাফিসা লজ্জায় চোখ মুঞ্চে রেখে আছে। সায়মান নাফিসার গালে আলতো হাত বুলিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“চোখ খুলো, পিচ্চি পুতুল… এন্ড কিস মি।”
নাফিসা আরও গভীরভাবে চোখ-মুখ চেপে ধরল, লজ্জায় । সায়মান আরও কাছে টেনে নিয়ে হঠাত্ নাপিসার নরম ঠোঁটে জোরে কামড় দিলো,, একটুখানি আবেদন, একটুখানি অধিকারী উচ্ছ্বাসে ভরা।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
প্রথমে নাফিসা reflexively দুই হাত দিয়ে ঠেলতে চাইলো, কিন্তু সায়মানের স্পর্শে সে আর নাড়াতে সাহস পেল না। অল্প কষ্টে একটি নরম আরেকটু গভীর অনুভব হলো,, বিরক্তির বদলে যেন মধুর শিহরণ। মৃদু ব্যথা ভাঙতে না ভাঙতেই তার শরীরটা সায়মানের কাছে থাকতে চাইল। হাতটা আগের মতোই সায়মানের বুকে আটকে রইল।
সায়মান নাফিসাকে আলতো করে ছেড়ে দিয়ে আবার বুকে টেনে নিল। তার মাথার চুলগুলোয় ভালোবাসার হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। কিছুক্ষণ শুধু নীরবতা ভর করল দু’জনের মাঝে। সায়মান নাফিসাকে বুক থেকে আলগা করে নিলো, তারপর কপালে এক চুম্বন দিয়ে ঠোঁটের কোণে মৃদু স্পর্শ রাখল।
নাফিসা পিটপিট করে চোখ খুলে অবাক দৃষ্টিতে তাকাল সায়মানের দিকে। কিছু মনে পড়তেই তার গলা কেঁপে উঠল,
“দরজা তো লক করা ছিল… আপনি আসলেন কিভাবে?”
সায়মান বিছানার হেলান দিয়ে আধশোয়া হলো, তারপর নাফিসাকে নিজের দিকে টেনে নিয়ে একেবারে জড়িয়ে নিল। তার ঠোঁটে এক চিলতে হাসি দেখা দিল।
“আমার বউয়ের ঘরে আসতে হলে রুমের লক খোলা কোনো বিষয় না। সবসময় এক্সট্রা চাবি থাকে আমার কাছে।”
নাফিসার বুক ধড়ফড় করে উঠল। সে ফিসফিস করে বলল,
“কেউ যদি আপনাকে আমার ঘরে আসতে দেখে… খারাপ ভাববে তো।”
সায়মান নাফিসার চোখে চোখ রেখে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে উত্তর দিল,
“আমি আমার বউয়ের ঘরে এসেছি। এতে কারো কাছে কৈফিয়ত দেওয়ার দরকার মনে করি না।”
নাফিসা ঢোক গিলে নিল। এই মানুষটা কতটা নির্দ্বিধায় সব কথা বলে দেয়! অথচ বাড়ির সকলে তো জানেই না তাদের বিয়ের কথা। নাফিসার মনে আতঙ্ক ঢুকে গেল,, যদি সায়মান একদিন সবার সামনে হুট করেই বলে ফেলে? তাহলে তো সবার সামনে তাকে অস্বস্তির মুখে পড়তে হবে। সে আড়চোখে তাকাল স্বামীর দিকে।
“কিন্তু… কেউ তো জানে না আমাদের বিয়ের কথা।” নাফিসার কণ্ঠে ভয় মিশ্রিত কাঁপা ভাব।
সায়মান গম্ভীর সুরে বলল,
“এসব নিয়ে এত ভাবনা তোমাকে ভাবতে হবে না। এখন রেস্ট নাও, তারপর ফ্রেশ হয়ে পড়তে বসো। আমি বাইরে যাচ্ছি, দরজা লক করার দরকার নেই, শুধু ভিড়িয়ে রেখো। আমি ফিরে এসে লক করে দেব।”
নাফিসা চমকে উঠে গলায় আটকে আসা স্বরে বলল,
“মানে… আপনি আবার আসবেন? রাতে আমার রুমে থাকবেন?”
সায়মান মুচকি হেসে উত্তর দিল,
“বউ, এতদিন ধরে নিজেকে আটকেছি। এখন আর তোমাকে দূরে রাখতে পারব না। তোমার এতে কোনো সমস্যা?”
নাফিসার মুখ লাল হয়ে উঠল। মাথা নিচু করে ফেলল লজ্জায়।
সায়মান ওর সেই লজ্জা রাঙা মুখের দিকে তাকিয়ে বিছানা থেকে নামল। বেরিয়ে যাওয়ার আগে বলল,
“এখন এত লজ্জা পাওয়ার দরকার নেই। আমি তো তেমন কিছু করিনি। রাতের জন্য রেখে দাও… বাকি লজ্জাটা ভাঙানোর দায়িত্ব আমার।”
এ কথা বলেই দরজা খুলে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
নাফিসা হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। নিজের মনে বিড়বিড় করল,
“ছিঃ ছিঃ… একদম নির্লজ্জ কথাবার্তা।”
নিজেও বিছানা থেকে নেমে ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিল। তারপর অজু করল, কারণ আসরের আজান দেওয়া হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। নামাজ পড়ে, জায়নামাজ ভাঁজ করে আলমারিতে রেখে টেবিলের কাছে গিয়ে বসলো বই হাতে। কিন্তু ঠিক তখনই ফোন বেজে উঠল।
নাফিসা ফোন হাতে তুলে দেখল, মিষ্টি ভিডিও কল করেছে।এই চার বছরে মিষ্টির সাথে তার সম্পর্কটা অনেক ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। চিকিৎসার সময় রশনা তাকে প্রায়ই নিয়ে যেত তাদের বাসায়, তখন থেকেই মিষ্টি আর নাফিসার মধ্যে এক বন্ধুত্ব তৈরি হয়। বলা চলে, রশনা আর মিষ্টির কারণেই নাফিসা ধীরে ধীরে ট্রমা থেকে বের হতে পেরেছে।
সেই বাড়িতে গেলে প্রায়ই আরিবকে পাওয়া যেত। নাফিসা বুঝতে না বুঝতেই ওর সাথে একধরনের স্বাভাবিক বন্ধুত্ব তৈরি হয়ে গেছে। আরিব বড় ভাইয়ের মতো খেয়াল রাখত, সাহায্য করত। নাফিসার ভালোও লাগত তার সেই যত্নশীলতা। তবে মাঝে মাঝে আরিবের কিছু ব্যবহার, কিছু অচেনা দৃষ্টি নাফিসাকে অস্থির করে তুলত, যেন সে বোঝার বাইরে কিছু আছে ।
মিষ্টির সাথে অনেকক্ষণ কথা বলে নাফিসা ফোন রেখে আবার বইয়ে মন দিল। নিজের মনে দৃঢ় সংকল্প করল,
যেভাবেই হোক মামনির স্বপ্ন পূরণ করতে হবে। তাকে ডাক্তার হতেই হবে।
ঢাকা শহরের ব্যস্ততার ভিড়ে, শব্দে আর ভিড়াক্রান্ত ট্রাফিকের মাঝেই এক কোণে ছোট্ট এক রেস্টুরেন্ট। এখানে অন্য জায়গার মতো ভিড় নেই, কোলাহল নেই। নিঃশব্দ একটা আলাদা পরিবেশ। রেস্টুরেন্টের এক কোণের টেবিলে বসে আছে রিশা। সামনে রাখা কফির কাপটা অনেকক্ষণ ধরে untouched পড়ে আছে, গরম কফিটা এখন বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে গেছে। রিশার হাত কাঁপছে হালকা হালকা, নার্ভাসনেসে বারবার কসলাচ্ছে হাত, আবার বারবার দরজার দিকে তাকাচ্ছে। কারো জন্য এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা, বুক ধড়ফড় করা উদ্বেগ।
হঠাৎ সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। রেস্টুরেন্টের দরজা ঠেলে ঢুকল আকাশ। সারা শরীর ঘামে ভিজে নেয়ে একাকার। পরনে একটা সাধারণ অফ-হোয়াইট রঙের টি-শার্ট। তীব্র রোদে ছুটে আসায় ক্লান্ত মুখটা আরো ক্লান্ত লাগছে, গায়ের রঙও যেন অস্বাভাবিকভাবে ম্লান দেখাচ্ছে। খাড়া নাকে ছোট ছোট ঘামের বিন্দু, চুল এলোমেলো। সময় বের করা ওর জন্য কঠিন ছিল, তবুও আজ এসেছে। টিউশন শেষ করে কোনরকমে তাড়াহুড়ো করে এখানে এসেছে।
রিশার চোখ থমকে গেল। ওর ব্ল্যাক ডায়মন্ড হ্যাঁ, আকাশই তো ওর জীবনের অমূল্য রত্ন। এতদিনে আরো ভালোভাবে বুঝে গেছে, এই মানুষটাকে ছাড়া এক মুহূর্তও থাকতে পারবে না। সাহস জোগাতে জোগাতে বহুদিন কেটেছে। আজ অবশেষে অনেক কষ্টে আকাশকে রাজি করিয়েছে দেখা করার জন্য। আজই ও সব বলে দেবে নিজের বুকের ভেতর জমে থাকা ভালোবাসার কথা।
আকাশের চোখও গিয়ে পড়ল রিশার উপর। অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। এ মেয়ে তো সাধারণত জিন্স আর কুর্তাতেই অভ্যস্ত। আজকে কিনা হালকা রঙের একটি থ্রি-পিস পরেছে। অদ্ভুত লাগছে তাকে। দেখতে অনেক সুন্দর লাগছে, অপরূপ লাগছে। কিন্তু আকাশের মনে একটা কাঁটা, এই মেয়েটার সৌন্দর্য যতই তাকে ঘায়েল করুক, তার জন্য কোন লাভ নেই। কারণ বাস্তবে ওরা দু’জন কখনো এক হবে না।
আকাশ এগিয়ে এসে রিশার সামনের চেয়ারটা টেনে বসল। অথচ রিশা তখনও দাঁড়িয়ে আছে, যেন কী বলবে বুঝে উঠতে পারছে না।
আকাশ একটু বিরক্ত সুরে বলল,
“বসো। কী বলবে তাড়াতাড়ি বলো। আমার আরেকটা টিউশনি আছে।”
কথাগুলো শুনে রিশা ধীরে ধীরে বসে পড়ল। ভেতরে তীব্র নার্ভাসনেস কাজ করছে। মনে হচ্ছে সব শব্দ গুলিয়ে গেছে। যেভাবে রিহার্সেল করেছিল, আকাশকে দেখার পর সব ভুলে গেছে। কণ্ঠ শুকিয়ে যাচ্ছে। কোনরকমে বলল,
“আমি… আমি আপনার জন্য কফি অর্ডার করি?”
আকাশ হালকা বিরক্ত গলায় উত্তর দিল,
“না, আমি করছি তোমার করার দরকার নেই। কী বলার জন্য আমাকে ডেকেছো সেটা বলো।”
কথার শেষেই রিশা গভীর শ্বাস নিল। সাহস সঞ্চয় করল। তারপর এক নাগাড়ে বলে ফেলল বুকের ভেতরের সব কথাগুলো,
“আমি আপনাকে ভালোবাসি। আপনার সাথে সারা জীবন থাকতে চাই। প্লিজ, না বলবেন না। আমি পারব না আপনাকে ছাড়া অন্য কাউকে নিয়ে ভাবতে । অনেকবার মনকে বুঝিয়েছি, কিন্তু মন মানেনি। আমার মন আপনাকেই চায়। আমি আপনাকে ছাড়া আর কাউকে ভাবতে পারি না।”
বলে একটা বড় শ্বাস ছাড়ল রিশা। বুক যেন হালকা হয়ে গেল।
আকাশের চোখে তেমন কোনো ভাব দেখা গেল না। আগেই সব জেনে এসেছে, এমনকি উত্তরটাও গুছিয়ে রেখেছে। ঠাণ্ডা গলায় বলল,
“ভালোবাসা স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু যাকে ভালোবাসো তার সাথেই সারাজীবন থাকা লাগবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। তোমার আর আমার কোনোদিন এক হওয়া সম্ভব নয়। তাই এসব মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলো।”
রিশা তৎক্ষণাৎ উত্তর দিল, চোখে পানি ভরে উঠছে ধীরে ধীরে,
“পারব না। একদমই পারব না।”
আকাশ গম্ভীর স্বরে বলতে লাগল,
“তুমি একবার তোমার পরিবারের দিকটা ভেবে দেখো, আরেকবার আমার পরিবারকে। আমার বাবা সারা জীবন তোমাদের কোম্পানিতে সাধারণ কর্মচারী হিসেবে চাকরি করেছে। আমি বেকার। যদিও সরকারি চাকরির জন্য চেষ্টা করছি, আল্লাহ চাইলে হয়তো একদিন পাবো। কিন্তু বলো তো, কখনো কি শুনেছো, কোনো কোম্পানির মালিকের মেয়ে একজন সাধারণ চাকরিজীবীকে বিয়ে করেছে? এটা শুধু সিনেমাতে হয়। বাস্তব আলাদা। তাই অযথা সময় নষ্ট কোরো না। মন থেকে এসব ভাবনা বাদ দাও।”
রিশার চোখ টলমল করছে। এবার কাঁপা গলায় বলল,
“আমি শুধু বলেছি আমি আপনাকে ভালোবাসি। তার উত্তরে এত কিছু শুনতে চাইনি। সরকারি চাকরি নিয়ে যদি বলেন, বড় ভাইও তো সরকারি চাকরি করে। তবে সমস্যা কোথায়? আমি আমার পরিবারকে রাজি করাবো। আপনি শুধু বলুন… আপনি কি আমাকে ভালোবাসেন? আমার ভালোবাসা গ্রহণ করেছেন কিনা?”
আকাশ গভীর শ্বাস ফেলে বলল,,
“বলেছি তো, আমি বামন। বামন হয়ে চাঁদে হাত বাড়ানো যায় না। তুমি হচ্ছে চাঁদ। তোমার দিকে হাত বাড়ানোর যোগ্যতা আমার নেই। ভুলে যাও। আর তোমার ভাইয়ের কথা বলছো, সে শখ করে চাকরি করছে। তার পরিবারের টাকার অভাব নেই, অঢেল আছে। কিন্তু আমার কাছে অঢেল টাকা নেই। তাই এ নিয়ে আর ভাবো না।”
রিশা এবার জেদি কণ্ঠে বলে উঠল,
“যদি বলি আমি বাদ দেব না?”
আকাশ নির্লিপ্তভাবে তাকাল
“সেটা তোমার ব্যাপার। কিন্তু আমার কাছ থেকে কিছু আশা কোরো না। আল্লাহ হাফেজ। আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে।”
বলেই উঠে দাঁড়াল আকাশ। টেবিলের বিল মিটিয়ে দিল। রিশার কফির দামও দিয়ে গেল। নিজের কফির অর্ডার ক্যানসেল করল। বেরিয়ে যাওয়ার আগে কেবল একবার তাকিয়ে বলল,
“তোমার জন্য কফির বিল দিয়ে দিলাম। খেয়ে নিও।”
রিশার বুক যেন ভেঙে গেল। কণ্ঠ কাঁপতে কাঁপতে বলে উঠল,,
“আমি শুধু একটা উত্তর চাই। আপনি আমায় ভালোবাসেন কিনা সেটা বলুন। বাকিটা আমি সামলে নেব। আমি সব ঠিক করে নেব। শুধু একবার স্বীকার করুন।”
আকাশ এবার কোনো কথা বলল না। শুধু কঠিন মুখে পেছন ঘুরে চলে গেল।
রিশা ভাঙা গলায় চিৎকার করে উঠল,
“কেন? শুধু টাকা আর পরিবার নিয়ে? ভালোবাসা কি এত তুচ্ছ?”
ধপ করে চেয়ারটায় বসে পড়ল রিশা। বুকের ভেতর চেপে থাকা কষ্টটা হঠাৎ বেরিয়ে এলো কান্নায়। রেস্টুরেন্টের ভেতর ছোট ছোট শব্দে ভরে গেল ওর কান্নার সুর। আশেপাশের মানুষ তাকিয়ে আছে অবাক দৃষ্টিতে। পাশের টেবিল থেকে একজন মহিলা আর এক ওয়েটার ছুটে এলো,,
“আপনি ঠিক আছেন, ম্যাম?”
রিশা মাথা তুলে তাকাল। চোখের পানি সামলে হালকা মাথা নেড়ে জানালো, সে ঠিক আছে। তারপর দ্রুত হাত দিয়ে চোখ মুছে ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে গেল।
গাড়িতে উঠেই ড্রাইভারের দিকে তাকিয়ে বলল,
“কাকা, আমাকে বাসায় নিয়ে চলুন। যত দ্রুত পারেন।”
ড্রাইভারের চোখে অবাক দৃষ্টি। কিন্তু কিছু না বলে ইঞ্জিন চালু করল। গাড়ি ছুটে চলল ব্যস্ত ঢাকা শহরের ভিড়ের মধ্যে, আর পেছনের সিটে বসে থাকা রিশা নীরবে বুক ভেঙে কান্না চাপতে লাগল।
দূরত্ব পায়ে সিঁড়ি দিয়ে ছুটছে জারিন, দেখেই বোঝা যাচ্ছে খুব তাড়াহুড়োতে আছে । সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে গিয়ে হঠাৎ কারো সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যেতে নিল ঠিক তখনই কেউ ওর কোমর শক্ত করে আঁকড়ে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নিল।
জারিন চোখ বন্ধ করে আছে, জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিচ্ছে,, যায় যায় অবস্থা। ও তো ভেবেছিল পড়ে গেছে, কিন্তু শক্ত হাতের বাঁধন পেয়ে বেঁচে গেল। ধীরে চোখ খুলে ধরে থাকার মালিকের দিকে তাকাতেই বুঝল, তাকে ধরে ফেলা মানুষটা আর কেউ নয়,
“সায়ফান।”
সায়ফান জারিনের দিকে চোখ ছোট করে ওর তাকিয়ে বলল,
“কি চশমা আফা, এত তাড়াহুড়ো করে কোথায় যাচ্ছেন? তাড়াহুড়ার চক্করে তো পা পিছলে পগার পার হয়ে যেতেন আরেকটু হলে!”
নিজের মুখটা জারিনের দিকে ঝুঁকিয়ে বলল সায়ফান।
সায়ফান এতটা কাছে আসায় জারিন কেমন যেন ঝাঁকুনি খেল, শরীরটা কেঁপে উঠল। এক অচেনা অনুভূতি ভর করল পুরো শরীরে। নিজের মনকে শক্ত করে দুই হাত দিয়ে সায়ফানকে সরাতে লাগল,
“ছি, সরেন! আপনার মুখ দিয়ে গন্ধ বের হচ্ছে।”
সায়ফান চোখ মুখ কুঁচকে জারিনের দিকে তাকিয়ে বলল,
“এই চশমা! এই কি বাজে বকছো? দিবো কিন্তু একটা চটকানা! আমি এখনই ক্লোজআপ দিয়ে ব্রাশ করে এসছি । এই দেখো, আমার কানে এখনো ‘কাছে আসো, কাছে আসো’ গানটা ফিসফিস করছে!”
বলেই আবার জারিনের কোমর ধরে নিজের সাথে টেনে নিল। নিজের মুখটা জারিনের মুখের কাছে এনে জোরে জোরে শ্বাস ছাড়ছে।
জারিন একদম ফ্রিজ হয়ে গেল, যেন শরীরটাই নড়াতে পারছে না। অজানা এক অনুভূতি পুরো গা জুড়ে শিরশির করে উঠল। সায়ফানকে নিজের থেকে সরানোর শক্তিটুকুও পাচ্ছে না ও।
সায়ফান হা করে নিঃশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে একদম জারিনের অতি কাছে চলে এলো, নিজেও বুঝে উঠতে পারল না কখন । হঠাৎ ওর চোখ গিয়ে পড়ল জারিনের কাঁপতে থাকা গোলাপি অধরে। ঠোঁটের কম্পন দেখে সে একটা ঢোক গিলল। অজান্তেই সেই দিকে এগিয়ে গেল নিজের অধর জোড়া নিয়ে।
জারিন চোখ বড় বড় করে সায়ফানের দিকে তাকাল। ও বুঝতে পারছে কি হতে চলেছে, কিন্তু থামানোর মতো কোনো শক্তি যেন পাচ্ছে না নিজের গায়ে। বরং কেমন এক অদ্ভুত টান টের পাচ্ছে সায়ফানের দিকে।
সায়ফান দিক-দুনিয়া ভুলে গেল। নিজের এতদিনের অমৃত খাওয়ার লোভ ওকে গ্রাস করলো , নিজের অজান্তেই ভুলবশত সত্যি হয়ে গেল। এক হাতে আস্তে আস্তে জারিনের চশমাটা খুলে নিয়ে ওর গলায় জামার সাথে ঝুলিয়ে দিল, তারপর ঘের লাগা চোখে জারিনের অধরে নিজের অধর মিলিয়ে দিল।
জারিন চোখ কুঁচকে বন্ধ করে ফেলল। নিজের শরীর একেবারে ছেড়ে দিলো এ কেমন অনুভূতিতে জড়িয়ে গেল সে! নিজেকে সংযত রাখতে পারছে না কেন? এ অঘটন ঘটতে দিচ্ছে কিভাবে? তার শরীর এখনো কেন সাড়া দিচ্ছে বুঝে উঠতে পারছে না।
জারিন শরীরটা একেবারে ছেড়ে দেওয়ার সাথে সাথে সায়ফান নিজের দুই হাত দিয়ে আগলে নিল ওকে, যেন নিজের মধ্যে লুকিয়ে রাখবে। নিজের এতদিনের অমৃত খাওয়ার ইচ্ছেপূরণে মগ্ন হয়ে গেল ও ।
অনেকক্ষণ পর জারিন বুঝল, আর নিশ্বাস নিতে পারছে না। কিন্তু সায়ফানও ছাড়ছে না। শরীরের সবটুকু শক্তি একত্র করে জারিন সায়ফানকে জোরে ধাক্কা দিল। আচমকা ধাক্কায় সায়ফান সিঁড়িতে পা পিছলে পড়ে যেতে নিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে রেলিং ধরে নিজেকে সামলে নিল। জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগল।
চোখ ঘুরিয়ে তাকাতেই দেখল, জারিনও রেলিং ধরে হাপাচ্ছে, হাঁপাতে হাঁপাতে কাঁপছে।
সায়ফান তাকাতেই জারিন তাড়াতাড়ি নিজের চশমাটা পরে নিল, আগুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওর দিকে।
সায়ফান চোখ বন্ধ করে ফিসফিস করে বলল,
“ও সিট মাইরি! শেষে কিনা চশমা আফার সাথে… কাছ থেকে… আমার অমৃত খাওয়া…”
তারপর আবার জারিনের দিকে তাকাল। দেখল, ওর চোখ দিয়ে পানি ঝরছে, যা চশমার ভেতর দিয়েও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। হঠাৎ নিজের মধ্যে অপরাধবোধ কাজ করল সায়ফানের,, যা ঘটেছে একদম ঠিক হয়নি। যদিও নিজের ইচ্ছায় করেনি, কিন্তু ফাজলামো করতে গিয়ে এমনটা হয়ে গেল।
একটা ঢোক গিলে জারিনের দিকে তাকিয়ে বলল,
“এই চশমা, আসলে…”
আর কিছু বলার আগেই জারিন একদম দৌড়ে রিশার ঘরের দিকে চলে গেল।
সায়ফান ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মাথার চুলে হাত বুলিয়ে,
“ওর সাথে কি ব্লেন্ডার টা হয়ে গেল! আমি তো চেয়েছিলাম কারো সাথে বিয়ের পর যা ইচ্ছা করব… আল্লাহর কাছে চেয়েছি এক, আল্লাহ দিয়ে দিল আরেক! তবুও, আর কেউ না… এই চশমাওয়ালা অ্যাটমবোম! হাই আল্লাহ! এবার সরি বলব কেমনে?”
সায়ফান এগুলো ভাবতেই দু-একটা পা এগোলেই নিচের দিকে সোজা চোখ পড়ল রিদওয়ানের ওপর,, ও সিঁড়ির ধাপে বসে আছে, গোল গোল চোখে তাকিয়ে আছে।
“হায়রে, এই কচি আবার দেখে ফেললে না তো!” সায়ফান ফিসফিস করে মনে মনে বলল। “এইসব চুনোপুটির কোনো বিশ্বাস নেই আমারে কেচ খাওয়াই দিবে কখন?”
ভেবেচিন্তে রিদওয়ানের দিকে এগিয়ে গেল সায়ফান।
“কিরে, তুই এখানে বসিস কেন, ভাই? হাগা চেপেছে নাকি? এভাবে বসে পড়েছিস, পাচ্ছিস না, নাকি আর তাই এবাবে চেপে ধরে থাকতে, তাই বসে আছিস? নাকি এইখানে হাগা কইরা ফেলেছিস বলা যায় না এটাও পারছিস ?”
রিদওয়ান নাকমুখ শীটকে কপাল কুঁচকে উত্তর দিল,
“ছিঃ—ছিঃ, ভাই, এসব কি বলো!
সাইফান আবার আগের ভঙ্গিতে বলল,
“আমি ঠিক কথাই বলছি এভাবে বসে আছিস কেন তা না হলে বল।”
রিদওয়ান সাইফানের দিকে তাকিয়ে ভুরু নাচিয়ে মুচকি হেসে বলল,
“ভাই, নিজের চুরি ঢাকতে আমাকে এখন ডাকাত সাজাচ্ছো?
আমি তো দেইখা ফেলেছি, তুমি কি করলা জারিনের সাথে? ছিঃ—ছিঃ! তোমার থেকে এটা আশা করি নাই ।”
সাইফান মুহূর্তে বুঝে গেল,,,সে যা ভেবেছিল ঠিকই বের হয়ে গেল; কিন্তু সাইফান তো সাইফান। তার ওপর বাটপারি করে কিছু পাওয়া যাবে না। রিদওয়ান এর কানের কাছে গিয়েই ফিসফিস করে বলল,
“তোর কাছে কোন প্রমাণ আছে? আর সবচেয়ে বড় কথা বড় ভাইকে এভাবে দেখিস তোর লজ্জা লাগে না? তুই যে একটা মাইয়ার সাথে কথা কোস এইটা আমি ফুপুমণির কাছে বলে দিব। তুই প্রেম করস, আর বড় ভাই সিঙ্গেল এটা এমনিতেই একটা অপরাধ। আর তোর ন্যাংটা কালের একটা নেংটা ছবি আছে আমার কাছে , তোর গার্লফ্রেন্ডের ইনবক্সে দিয়ে দিব। তখন বুঝবি ঠেলা বেডা।”
রিদওয়ানের মুখটা আরও কেটে গেল। মুখটা কালো করে সাইফানের দিকে তাকাল, মজাকটাই করতে চেয়েছিল। সামনে এত বড় দৃশ্য দেখে আর কেউ সেটা নিয়ে মজা না করে চুপ করে কি থাকতে পারে। সে একটু মজাই নিতে এসেছিল, কিন্তু এখন অন্যের কেস খাওয়াতে এসে নিজেই কেস খেয়ে ফেলল । সাইফানের দিকে চোখে অসহায় ও ৩২ পাটি দাঁত বের করে হেসে,,
“ভাই ভাই, আমি তো তোমার ছোট ভাই প্লিজ প্লিজ, এমন করিও না। আমি কিছুই দেখি নাই, চোখ অন্ধ হয়ে গেছিল। সত্যি কথা প্লিজ মাইন্ডে নিও না। আমরা আমরাই তো এসো আমরা নিজেরাই মিলিয়ে নিই, হয় না?”
সাইফান শব্দ করে হেসে দিল ওর কথা শুনে,,
“এইবার বাছাধন পথে আসো। মানুষ বুঝে তার পিছনে লাগতে আসবি পরেরবার থেকে। বড় ভাইয়ের উপর বাটপারি করতে আসিস দিবো না একখান। সত্যি এখানে হেগে দিবে এবার। আচ্ছা তাহলে গেলাম মনে থাকে যেন নাহলে তোর আম ও যাবে ছালও যাবে। ভেবেচিন্তে কাজ করিও বলেই রিদওয়ানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে নিজের কাজের দিকে হাটা দিল।
রিদওয়ান নাক-মুখ কুঁচকে সায়ফানের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল। জারিনের কথা মাথায় এসে ওর ভেতর আফসোস জাগলো,,,,
“ভাইয়ের মতো একজন মিচকে এমন শয়তানের ফাঁদে পড়ে গেল। তবে জারিনও কম নয়, সাপে নেউলের জমবে, ভালই জমবে!
মাগরিবের নামাজ শেষ করে নাফিসা আবার পড়ার টেবিলে বসেছে। টেবিলের উপর ছড়ানো বইয়ের পাতা উল্টে উল্টে অনেকক্ষণ ধরে পড়ছে সে। ঘরের ভেতর নিস্তব্ধতা—শুধু ঘড়ির টিকটিক শব্দটা কানে বাজছে।
পড়ার ঘোরের মধ্যে হঠাৎ ফোনটা কেঁপে উঠল। নাফিসা চমকে তাকাল। স্ক্রিনে ভেসে উঠল, Unknown Number। কপাল কুঁচকে গেল ওর।
“এই অচেনা নাম্বার আবার কে?”———নিজের সঙ্গে নিজেরই প্রশ্ন করল মনে মনে। হাত বাড়িয়ে ফোনটা তুলে নিল, এক মুহূর্ত দ্বিধায় থেকে রিসিভ করল।
“আসসালামু আলাইকুম, কে বলছেন?”
ওপাশে কোনো শব্দ নেই। কেবল নিস্তব্ধতা।
নাফিসা ভ্রু কুঁচকে আবার বলল,
“হ্যালো? কে বলছেন? শুনতে পাচ্ছেন না নাকি?”
একটু নীরবতার পর ওপাশ থেকে আসা কণ্ঠটা শুনেই ওর বুক ধক করে উঠল
“আপনার স্বামী বলছি, ম্যাডাম।”
কণ্ঠটা চিনতে একটুও ভুল হলো না। তার স্বামী নামক হালাল পুরুষ এটা !
নাফিসার চোখ বড় বড় হয়ে গেল।
“এই লোক আমার নাম্বার পেল কোথা থেকে!”মাথার ভেতর প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে লাগল। ওদের তো কখনও ফোনে কথা হয়নি, একসাথে থাকা ছাড়া।
ওপাশ থেকে হালকা আদুরে সুরে ভেসে এলো,
“মাই পকেট সাইজ ওয়াইফ, চুপ কেন? স্বামীর কণ্ঠ শুনে কি স্বামী-স্বামী পাচ্ছে এখন?”
নাফিসা মুখ বিকৃত করে চোখ বন্ধ করল, এই লোকের কি কোন লজ্জা নেই,, সব সময় এমন কথা বলে কিভাবে, বিরক্ত গলায় বলল,
“আপনি ? কেন সবসময়….. !” কথা বলা শেষ করার আগেই ওপাশ থেকে আবার সায়মানের কণ্ঠস্বর ভেসে আসলো।
সায়মানের স্বাভাবিক রসিক ভঙ্গিতে উত্তর দিল,
“সরি হানি… ফোনে তোমাকে জড়িয়ে ধরা সম্ভব না, তাই ভাবলাম কথা দিয়েই মনের কোলাহল মেটাই। তুমি চাইলে এখনই বাড়ির দিকে রওনা দেই, আমার কোনো আপত্তি নাই।”
নাফিসা বিরক্ত হয়ে বলল,
“আপনি প্রচন্ড লেভেলের অভদ্র হচ্ছেন,, স্বামী জান। এইসব দরকারে আমাকে ফোন দিছেন। ”
সায়মান হেসে উঠল,
“ওও… দরকার ছাড়া? তুমি জানো, তুমি আমার দরকার। এই পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি দরকার তোমাকেই।”
নাফিসা লজ্জায় কান দিয়ে ধোঁয়া উড়ে যেতে লাগল,, এই লোকের কথার কি সিরি হয়েছে। তারপর আবার বিরক্তির কন্ঠে বলল,,
“আপনার অভ্যাসে পরিনিত হয়েছে আমাকে লজ্জা দেওয়া, তাই না?”
“না, এটা অভ্যাস না, এটা স্বামীর প্রেম নিবেদন আমার পিচ্চি বউ বুঝেছেন আপনি ।”
সায়মানের কণ্ঠ এবার নিচু হয়ে এল।
“ আমি যেদিন থেকে তোমাকে ‘আমার’ বলেছি, সেদিন থেকেই আমার সব ‘আমি’ তোমাতে আটকে আছে।” সায়মানের গলার স্বর হঠাৎ বদলে গেল। একটু নরম, একটু গম্ভীর ভালোবাসায় ভরা।
নাফিসা থেমে গেল। সায়মানের কথা গুলো নিজের কানে বাজতে পুরো শরীর ভালোলাগা কাজ করলো। কল কেটে দেওয়ার ইচ্ছে হচ্ছিল, কিন্তু আঙুল থেমে রইল স্ক্রিনের উপর। নাফিসা ধীরে নিঃশ্বাস ফেলল, চোখের কোণায় অজানা এক নরম অনুভূতি জমে উঠল।
চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৩৬
“আপনাকে অনেক ভালোবাসি আমার হালাল পুরুষ। ”
ওপাশ থেকে সায়মান নাফিসার বলা শব্দ শুনে স্তব্ধ হয়ে গেল। শরীরের ভেতর অনুভূতি ছড়িয়ে গেল নিমিষেই। এমন করে বলে না বউ এখনই ছুটে আসতে ইচ্ছা করছে। আচ্ছা ফোন রেখে পড় আমি তাড়াতাড়ি বাসায় আসব। আর তোমার বলা কথাটার জন্য এক্সট্রা ভাবে আদর দিয়ে দেবো হবে তো বউ।
নাফিসা শক্ত করে খামচে নিজে জামা চেপে ধরল। এই লোক শোধরার নাই কিছু বলল না।
চুপচাপ ফোনটা রাখল, কিন্তু মুখের কোণে হালকা এক চোরাব হাসি জমে উঠল।
