Home চৌদ্দের চিঠি চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৫৫

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৫৫

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৫৫
আরোবা চৌধুরী আরু

সায়ফান হতাশ ভঙ্গিতে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামল। মুখে দেখে মনে হচ্ছে , যেন গোটা দুনিয়ার সব ঝামেলা একাই কাঁধে নিয়ে এসেছে। নিচে নেমেই ড্রইংরুমে বসে থাকা মেহরাব আর মেহেরিনের দিকে তাকিয়ে একরকম দীর্ঘশ্বাস ফেলেই বলে উঠল,
“এখানে হাতি সাইজের কোনো জামা-কাপড় পাওয়া যাবে নাকি? মানে বড় দাড়মা কারো সাইজের টি-শার্ট বা ট্রাউজার টাইপ কিছু?”

হঠাৎ এমন প্রশ্নে মেহরাব, মেহেরিন আর পাশের চেয়ারে বসে থাকা রাজিব, তিনজনই একসাথে ওর দিকে তাকাল। চোখেমুখে একই প্রশ্ন — ——— এ কী বলছে! “হাতি সাইজ” আবার কী জিনিস?
ওদের এই হা করে তাকিয়ে থাকা মুখগুলো দেখে সায়ফান নিজেই বুঝে গেল, কথাটা ঠিকঠাক পৌঁছায়নি। সে তখন একটু গলা পরিষ্কার করে আবার বলল,
“মানে… ভাইয়ার জন্য একটা টি-শার্ট আর ট্রাউজারের ব্যবস্থা করা যাবে কি না, সেটাই বলছিলাম। ভাইয়ার টি-শার্টের সাইজ তো… মানে অনেক বড় বড়। তাই আরকি মজা করে হাতির মতো বললাম।”
এইবার কথার মানে বুঝে মেহেরিন হেসে ফেলল। রাজিব হালকা করে ঠোঁটের কোণে হাসি আটকালেও মেহরাব পুরোপুরি কনফিউজড চেহারা নিয়ে তাকিয়ে আছে।
মেহেরিন হাসি সামলে বলল,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

“জি ভাইয়া, পাওয়া যাবে। আব্বুর কিছু ড্রেস আপ এখানে আছে। ওগুলো দিলে কি হবে? ভাইয়া ইউজ করবে তো?”
সায়ফান সাথে সাথে হাত নেড়ে বলল,
“আরে সমস্যা নাই। নিয়ে আসো, হলেই হবে।”
মেহেরিন উঠে দাঁড়াল। দুই পা এগিয়ে যেতেই হঠাৎ থেমে গেল। ধীরে ধীরে পিছনে ঘুরে সায়ফানের দিকে তাকিয়ে একটু চিন্তিত স্বরে জিজ্ঞেস করল,
“ভাইয়া… নাফু ঠিক আছে তো?”

এই প্রশ্নটার জন্য সায়ফান যেন আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। ওর মুখে তখন একেবারে শয়তানি হাসি। দাঁত কেলিয়ে সে রাজিবের পাশে এসে বসে পড়ল। সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে এমন ভঙ্গিতে বসল,
“তোমাদের নাফু? —— সে টান দিয়ে বলল —— — এখন বরের আদর খাচ্ছে। আদর খেয়ে এমনি ঠিক হয়ে যাবে এত টেনশন নিও না। সিঙ্গেল তো এখন বুঝছো না মিঙ্গেল হলে বুঝবো অবশ্য, আমিও সিঙ্গেল বুঝেছ এখনো বউ পায়নি। বউ পারলে আরো ভালোভাবে তোমাকে বলতাম কোন পজিশনে আছে তোমাদের নাফু এখন। ”
মেহরাব আর মেহেরিন দুজনেই কৌতূহলী হয়ে তাকাল। রাজিবও কান খাড়া করে শুনছে।
সায়ফান আবার বলতে শুরু করল,

“আমি তো উপরে গিয়েই দেখে আসলাম। ভাই ছটুর পেটে হাত বুলিয়ে বলছে, “এখানে আমার টুনটুনি আছে। আমি কোনোদিন আমার এই টুনটুনি সোনা যে হবে তাকে ছেড়ে আর তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাব না।”
এই কথা বলার সময় সায়ফান নিজেই একবার হেসে ফেলল। তারপর হাসি সংযত করে আবার বলা শুরু করল,
“তোমাকে আজ থেকে আমি টুনটুনির মা বলে ডাকবো। আমার পিচ্চি বউ তুমি এখন আমার টুনটুনির মা হচ্ছে চলেছো। তাই আমি তোমাকে টুনটুনির মা বলে ডাকবো তোমাকে। নামটা পছন্দ হয়েছে জাননন।”
মেহেরিন মুখ ঢেকে হাসছে। মেহরাব মাথা নেড়ে হাসি চাপার চেষ্টা করছে। রাজিব শব্দ করে হেসে দিল ।
সায়ফান তখন উঠে যাওয়ার ভঙ্গি করে আবার বলল,

” তারপর খালি চুমু আর চুমু দিতে থাকলো। আমি তো দেখি সহ্য করতে না পেরে নিচে চলে আসলাম। ”
এই কথা বলেই সে হঠাৎ রাজিবের দিকে ঝুঁকে পড়ল। মেয়েদের মত ভঙ্গিতে রাজিবকে চিপকে ধরার চেষ্টা করল।
“এই রাজিব ভাই…….! আসো তোমাকে একটা ডেমো দেখায় ——
রাজিব সায়ফানের মনোভাব বুঝতে পেরে আঁতকে উঠে পাশ কাটিয়ে পালানোর চেষ্টা করল।
‘”দূর হ! লাগবি না — ——
কিন্তু সায়ফান ছাড়ার পাত্র না। সে জোর করেই রাজিবকে ধরে ফেলল। রাজিব যতই বাঁচতে চাইুক, শেষ পর্যন্ত পারল না। মুহূর্তের মধ্যেই সায়ফান রাজিবের এক গালে জোরে একটা চুমু বসিয়ে দিল।

——— এইটা উপরি! — —— হেসে বলল সায়ফান।
রাজিব তখন কান্না করার মতো মুখ বানিয়ে নিজের গালে হাত বুলাতে লাগল। বিরক্তিতে বললো,
” ধুর বাল! কী যে করিস ভাই তুই! এত চেপে থাকিস কেন? আমার বউ যে জায়গায় চুমু দেয়, সেই জায়গায় তুই দিচ্ছিস কেন? ছে ছে! তোর কোনো সমস্যা আছে নাকি? শুধু আমার দিকেই যখন-তখন গা লাগাতে আসিস, আবার চুমু দিস! —বলতে বলতেই সে বারবার গাল মুছতে লাগল।”
ওদের কাণ্ড দেখে মেহরাব আর মেহেরিন হেসে কুটিকুটি। হাসতে হাসতে প্রায় দম বন্ধ হওয়ার জোগাড়।
সায়ফান তখন রাজিবের দিকে চোখ ছোট ছোট করে তাকাল। ঠোঁটের কোণে এক চিলতে দুষ্টু হাসি,

“খবরদার! আমার ছোট মিয়াকে সন্দেহ করে একটা কথাও বলবে না রাজিব ভাই। শালা, বিয়েটা একবার করি ——— তারপর প্রমাণ দেখাবো। আর তোমাকে চিপকে ধরে চুমু দিলাম কেন জানো? দেখতে চেয়েছিলাম ঠিকঠাক আছো কিনা। ভাবিকে ছাড়া এভাবে ঘুরে ঘুরে বেড়াও তুমি —— — নাহলে কী জানি, তোমার ওইটা জং ধরে গেল কি না! সিস্টেম ঠিক আছে কিনা, সেটাই তো চেক করলাম।”
এই কথা শুনে রাজিব পুরোপুরি রেগে গেল। দাঁত চেপে চারপাশে তাকাতে লাগল, মারার মতো কিছু খুঁজছে,
” আজকে ফাজলামোর হিসাব বের করেই ছাড়বো। ওয়েট কর!”

রাজিবকে এদিক-ওদিক কিছু খুঁজতে দেখে সুযোগ বুঝে সায়ফান তৎক্ষণাৎ মেহেরিনের হাত থেকে টি-শার্ট আর ট্রাউজারটা তুলে নিল। তারপর ছুট লাগাল। দৌড়াতে দৌড়াতে পিছনে তাকিয়ে এক হাত নেড়ে বলল,
“আমি যাই! আর রাজিব ভাই, এটা কিন্তু তোমার ভবিষ্যতের জন্যই। তোমার সাথে মাঝে মাঝে এমনভাবে চিপকানো দেখা হওয়া দরকার। তোমরা পুলিশরা কাজ করতে করতে যে পরিমাণে লাপাত্তা হয়ে যাও, তাতে সিস্টেম কখন ঢিলা হয়ে যায় টেরই পাও না। তাই ভাবলাম একটু চেক করে দেখি!”
এই কথাটা বলেই সে দ্রুত সিঁড়ির দিকে ঘুরে দৌড়ে উপরে উঠে গেল।
রাজিব দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বিরক্ত চোখে সায়ফানের দিকে তাকিয়ে রইল। আর মেহেরিন আর মেহরাব শব্দ করে হাসতে হাসতে সোফার ওপর প্রায় গড়িয়ে পড়ে শুয়ে পড়ল —— — হাসি থামার কোনো নামই নেই।

সায়মান দরজা বন্ধ করে খাবারটা টেবিলের ওপরে রেখে, দাঁড়িয়ে থাকলো কয়েক সেকেন্ড । ভেজা চুল থেকে টুপটাপ করে পানি পড়ছে। গায়ে শুধু তোয়ালে, শরীরটা এখনো গরম পানি ফোটা বিন্দু লেগে আছে।
সে ধীরে ধীরে বিছানার দিকে এগিয়ে গেল।
নাফিসা ঘুমিয়ে আছে। শরীরটা কম্বলে আধা মুড়ানো, মুখটা পাশ ফিরে বালিশে হেলানো। চোখের নিচে ক্লান্তির ছাপ, কিন্তু মুখে অদ্ভুত এক শান্তি —— — যেন সব কষ্ট কিছুক্ষণের জন্য ভুলে আছে। চুলগুলো কপালের পাশে এলোমেলো ছড়িয়ে, ঠোঁট দুটো সামান্য ফাঁক।
সায়মান বিছানার পাশে বসে পড়ল। কোনো শব্দ করল না। শুধু একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল ওর দিকে।
ঠিক তখনই মাথা নড়তেই সায়মানের ভেজা চুল থেকে দুই – ——এক ফোঁটা পানি পড়ে গেল নাফিসার চোখের কোণে।

নাফিসা হালকা করে পিটপিট করল। চোখ খুলল ধীরে ধীরে।
প্রথমে বুঝতে পারল না কোথায় আছে। তারপর চোখের সামনে ভেজা চুল, খালি গা, পরিচিত সেই ছায়াময় মুখটা দেখে এক মুহূর্ত থমকে গেল।
সদ্য গোসল করা শ্যামল গায়ের রং, কাঁধে জমে থাকা পানির ফোঁটা, চোখে অদ্ভুত এক নরম দৃঢ়তা—সব মিলিয়ে নাফিসা এক সেকেন্ডের জন্য তাকিয়ে রইল। লজ্জা আর ভালো লাগা একসাথে এসে গলার ভেতর আটকে গেল।
“এইভাবে তাকিয়ে থাকবে ? ” ——সায়মান নিচু স্বরে বলল।
নাফিসা চোখ সরিয়ে নিল। আবার কম্বলের ভেতরে গুটিয়ে যেতে চাইলো।
“আপনার চুল ভিজে… পানি চোখে পড়ল এজন্য” ———আস্তে বলল।
সায়মান হালকা হাসল। হাত বাড়িয়ে নিজের চুল একপাশে সরিয়ে নিল।

“দোষ এখন আমার ঘাড়ে চাপাচ্ছ বউ? নিজের ব্যক্তিগত পুরুষের দিকেই তাকাতে এত দ্বিধা কেন? পেটের মধ্যে ছোট্ট আমি আছে, আমার অস্তিত্ব নিয়েই ঘুরছো—তবু এত লজ্জা কিসের? বউয়ের লজ্জা কাটাতে না কাটাতেই আমি নাকি বাপ হয়ে গেলাম। মানুষ শুনলে তো আমার জাতই যাবে, বউ” —— —বলেই পাশের টেবিল থেকে খাবারের ট্রেটা টেনে নিল।
সুপের গরম ভাপ উঠছে এখনো।
“খেতে হবে” – — – সায়মানের গলায় কোনো সুযোগ রাখার ভাব নেই।
নাফিসা সায়মানের দিকে তাকিয়ে তরপর মুখ ঘুরিয়ে নিল।
“ইচ্ছা নেই…”
সায়মান একই ভঙ্গিতে বলল,

“ইচ্ছা না থাকলেও খেতে হবে।”
নাফিসা নাক মুখ সিটকিয়ে একটু দূরে সরে গেল,
“না।”
সায়মান আর কথা বাড়াল না। চামচে সুপ তুলে নাফিসার হাত ধরে আগিয়ে আনলো নিজের দিকে ঠোঁটের কাছে ধরে বলল চামচ ধরলো,
“এক চামচ। শুধু এক চামচ।”
নাফিসা মুখ শক্ত করে রাখল।
“না বললাম তো। বমি হবে। ”
সায়মান তখন আর একটু এগিয়ে এল। এক হাতে নাফিসার পিঠে ভর, অন্য হাতে চামচ।
“জেদ করবে না।”
নাফিসা শেষ পর্যন্ত ঠোঁট খুলল। বিরক্তি মেশানো চোখে তাকিয়ে এক চামচ খেল।
“দেখছো? কিছু হয়নি “–— — সায়মান আবার বলল।

এরপর একে একে চামচে চামচে খাওয়াতে লাগল। নাফিসা প্রথমে গড়িমসি করলেও ধীরে ধীরে আর বাধা দিল না। মাঝে মাঝে চোখ বন্ধ করে ঢোক গিলছে, মাঝে মাঝে বিরক্ত চোখে তাকাচ্ছে।
সবশেষে চামচ নামানোর সময় সায়মান খেয়াল করল —— —নাফিসার ঠোঁটের এক পাশে সুপ লেগে আছে।
সে কিছু না বলেই এগিয়ে গেল। নাফিসা অন্যমনস্ক হয়ে নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে আছে। সায়মান সেই সময় জিভের ডগা দিয়ে খুব আলতো করে লেগে থাকা জায়গাটা মুছে নিল।
নাফিসা চমকে তাকাল।
” এই… ” —— —কথা শেষ করতে পারল না।
সায়মান ঠোঁটের কোণে হাসি রেখে বলল,

“আমি থাকতে তোমার ঠোঁটে নোংরা থাকতে দিই কি করে বউ” বলেই সায়মান নাফিসার দিকে আরো এগিয়ে গেল…
টক টক টক!
দরজায় নক।
দুজনেই একসাথে চমকে উঠল। সায়মান বিরক্ত হয়ে, সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়াল। এক সেকেন্ডের মধ্যেই টেবিলের পাশ থেকে ট্রেটা তুলে নিল। দরজা খুলল—ঠিক এক হাতের ফাঁকে।
বাইরে দাঁড়িয়ে সায়ফান।
“এই যে ভাইয়া”
আর কিছু বলার আগেই—
ঝপাং!
দরজা আবার বন্ধ।
সেকেন্ডের মধ্যেই।
সায়ফান কয়েক সেকেন্ড ফাঁকা চোখে দরজার দিকে তাকিয়ে রইল। নিজের হাতের টি শার্ট আর টাউজার এর বদলে ট্রে থাকতে দেখে তারপর বুঝে উঠে চেঁচিয়ে বলল,

“এইডা কি হলো! আমার মুখের উপর দরজা বন্ধ কইরা দিলা!”
দরজায় হাত রেখে নাটকীয় গলায় বলতে বলতে পিছিয়ে যেতে লাগল—
“ঢং আছে, ঢং! মানুষ ভালো করতে আসলে এই অবস্থা!”
“কেউ পাত্তা দিল না।”
সায়ফান নাক কুঁচকে ফোন বের করল।
“যা, ফোনেই রোমান্স করি। আমার ওতো কারো রোমান্স দেখার ইচ্ছে নাই। ”
” চশমা আপাকে ফোন দিই । আমার ও গার্লফ্রেন্ড আছে রোমান্স করার জন্য”, তারপর মাথার চুল গিয়ে, বলল,
” বালের একটা গার্লফ্রেন্ড পেলে রেখেছি রোমান্স করতে গেলে খ্যাক খ্যাক করে ওঠে? আবার একটা চুমুও খেতে দেয় না!
যাক আজকে একটু ট্রাই করে দেখি আবার………”
তারপর জারিনকে ফোন দিলো ।

“হ্যালো বেবি………”
“এত দেরি করছো কেন? তোমাকে বলেছিলাম না নাফিসা কেমন আছে এটা আমাকে জানাতে” —— ফোনের ওপার থেকে জারিন ধমকে বলে উঠলো।
সায়ফান চোখ মুখ কুঁচকে বলল,
“ব্যস্ত ছিলাম”
“ব্যস্ত মানে?”
সায়ফান গদগদু স্বরে বলতে লাগল,
“কি বলি! ভাবলেই শরীর শিহরিত হয়…..”
“তুমি আবার শুরু করছো!তোমাকে যা জিজ্ঞেস করি তা বলো না এদিকে আবার মার্কা কথাবার্তা বলা শুরু করো ” ——বিরক্তি নিয়ে জারিন বললো।
সায়ফান জারিনের কথা কানে না দিয়ে আবার একই ভঙ্গিতে বলে উঠলো,

“শুনো না! বিয়ের পর বাসর ঘরে…………..”
জারিন ধমকে উঠলো,
“চুপ!”
সায়ফান অসহায় মুখ করে আবার বলল,
“একটু অমৃতও খেতে দেও না এখন……….,”
জারিন এবার তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো ।
“এইসব বন্ধ করো!”
সায়ফান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৫৪

—কি আমার ই বালের গার্লফ্রেন্ড! আমার জীবনটাই তেজপাতা হয়ে গেল। একবার বউ করে পাই—সব সুদে আসলে আদায় করবো বাসর রাতে। তখন বলবা প্লিজ ছাড়ো আর পারছি না….. আমিও শুনবো না…. একটু ছাড় দিবো না তখন বুঝবে ঠেলা বলেই ভেঞ্চি কেটে ফোন কেটে দিলো ।
এবার সায়ফান ফোনের দিকে তাকিয়ে বলল,
“যাইহোক বাসর রাতের কথা… আহা… ভাবতেই ভালো লাগতেছিল।”
নিচে নেমে মেহেরিনকে বলল গেস্ট রুমের ব্যবস্থা করতে। সবাই ধীরে ধীরে যার যার ঘরে চলে গেল। রাতটা নীরব হয়ে এলো।

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৫৬

2 COMMENTS

  1. পরের পাঠ গুলো যত তাড়াতাড়ি দিবেন, পড়তেও তত ভালো লাগবে, এতটা বেশি অপেক্ষা করতে ভালো লাগেনা। প্লিজ আপু পরের সব পাঠ গুলো তাড়াতাড়ি দেন

Comments are closed.