চৌদ্দের চিঠি শেষ পর্ব
আরোবা চৌধুরী আরু
ছয় মাস পর…*
দেখতে দেখতে ছয়টা মাস কেটে গেছে। সায়মান আর নাফিসার কোল আলো করে এসেছে এক রাজকন্যা আর এক রাজপুত্র মেয়ের নাম সারাহ রাশিদ, ছেলের নাম সাহ্রায়ান তাহের রাশিদ।
এই দুইটারে নিয়েই এখন রাশিদ বাড়ি সরগরম। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এক কোল থেকে আরেক কোল সারাদিন এভাবেই চলে। ছয় মাসে বাচ্চা দুইটা মাশাআল্লাহ গোলুমোলু হয়ে গেছে। গাল দুইটা টসটসে আপেল, হাসলে গালে টোল পড়ে।
মাহবুব রাশিদ যারে আগে বাসায় দেখাই যেত না,। কাজ-মিটিং -রাজনীতি নিয়েই থাকত এখন সকাল দশটা বাজায়ে দেন বাসা থেকে বের হতে। কারণ? নাতি-নাতনি। সময় পেলেই কোলে নিয়ে বসে থাকেন। মুঈন রাশিদও কম যান না। দুই ভাইয়ের এখন একটাই কম্পিটিশন কে কতক্ষণ কোলে রাখতে পারে। আর এ নিয়েই আজ সকাল সকাল ঝামেলা বাঁধল।
সকাল ৮:৪৫, রাশিদ ভিল্লা
সায়মান ইউনিফর্ম পরে রেডি। আজ একটা জরুরি রেইড আছে, তাড়াতাড়ি বের হতে হবে। কিন্তু যাওয়ার আগে দুই কলিজার টুকরাকে একটু কোলে নেবে না? তা কি হয়? ড্রয়িং রুমে এসে দেখে সারাহ মাহবুব রাশিদের কোলে, সাহ্রায়ান মুঈন রাশিদের কোলে। দুই ভাই সোফায় বসে আরামসে দোল খাওয়াচ্ছে।
সায়মান এসে মাহবুব রশিদ আর মুঈন রাশিদের উদ্দেশ্যে বলল,
“ আব্বু … আমার একটু তাড়া আছে। ওদের একটু দাও, আমি পাঁচ মিনিট আদর করে বের হয়ে যাব।”
মাহবুব রাশিদ চোখ কুঁচকে, “পাঁচ মিনিট? তুমি ধরলে তো আর ছাড়বে না। অফিসের দেরি হয়ে যাবে। আমরা তো একটু পরেই বের হবো, আমরাই রাখি।”
মুঈন রাশিদ সাথে সাথে তাল মিলাল, “হ্যাঁ হ্যাঁ, তুই যা। রাতে এসে কোলে নিস। এখন আমাদের সময়।”
সায়মান চোখ ছোট ছোট করে মুইন রাশির আর মাহবুব রাশিদের দিকে তাকাল। “জাস্ট পাঁচ মিনিট আমি চলে যাবো এখনি। আী they are my child যখন ইচ্ছা তখন আমি নিতে পারি।”গম্ভীর স্বরে বলল সায়মান। !
“বাপ হইছো বলে কি মাথা কিনে নিয়েছো ? আমরা দাদা- আমাদের হক বেশি।” মাহবুব রাশিদ সারাহকে বুকের সাথে আরও আঁকড়িয়ে ধরে বলল চোখ মুখ কুঁচিয়ে। ব্যস, লেগে গেল কথা কাটাকাটি। গম্ভীর পুরুষগুলো এখন বাচ্চা কোলে নেওয়া নিয়ে ঝগড়া করছে বাচ্চাদের মতো রান্নাঘর থেকে নাফিসা, আফিয়া বেগম, ইমা বেগম সব দেখছে আর মুখ টিপে হাসছে। শেষে বিলকিসারা বেগম ধমক দিয়ে উঠলেন।
“হইছে! থামো তোমরা! বুড়া বয়সে ভীমরতি ধরছে? একটা অফিসে যাবে, তারে বাচ্চা দিবা না? লজ্জা করে না?”
এক ঝটকায় সারাহকে মাহবুব রাশিদের কোল থেকে, আর সাহ্রায়ানকে মুঈন রাশিদের কোল থেকে নিয়ে সায়মানের দুই হাতে ধরায়ে দিলেন।
“নে, ধর। পাঁচ মিনিট না, দশ মিনিট আদর কর। তারপর সোজা অফিস। আর তোমরা দুই ভাই? যাও, রেডি হও। অফিসে লেট করলে কোম্পানি লাটে উঠবে।”
মাহবুব আর মুঈন মুখ কালো করে উঠে গেলেন। যাওয়ার আগে দুজনেই বাচ্চাদের গালে চুমু দিয়ে গেল। সায়মান সাথে সাথে দুইটারে বুকে চেপে ধরল। একটার কপালে চুমু, আরেকটার গালে।
এদিকে উনাদের দেখে নাফিসা, জারিন, আফিয়া বেগম, ইমা বেগম হাসতে হাসতে গড়াগড়ি। ইমা বেগম বলে উঠলো, “আল্লাহ, এই গম্ভীর মানুষগুলার বাচ্চামো দেখলে কে বলবে এরা শহর কাঁপায়ে বেড়ায়!”
ঠিক তখনই সায়ফান এন্ট্রি নিল ড্রয়িং রুমে। সোজা গিয়ে সাহ্রায়ানের সামনে দাঁড়াল। সায়মানের কোল থেকে এক টানে নিয়ে নিল ওরে। সাহ্রায়ানের নাকের সাথে নাক ঘষে,
“ওরে আমার জামাই বাবা! শোন, বড় হয়ে আমার মেয়ের জামাই হবি তুই, কেমন? ডিল? আব্বা ডাক এখন থেকে!”
কথা শেষ করতে পারল না। সাহ্রায়ান বাবু আরামসে সায়ফানের বুক ভরায়ে হিসু করে দিল। গরম, তাজা। সায়ফানের দামি শার্ট ভিজে একাকার। পুরা ড্রয়িং রুমে কয়েক সেকেন্ড পিনপতন নীরবতা। তারপর… জারিন, নাফিসা, আফিয়া বেগম, ইমা বেগম, জারিন, সবাই হাসতে হাসতে শেষ। সায়ফান দুই হাতে বাচ্চারে ধরে দাঁড়ায়ে আছে, মুখটা দেখার মতো।
“অ্যাঁ? এইটা কী হইলো? জামাই হয়ে শ্বশুরের গায়ে… ছিঃ সাহ্রায়ান! তুমিও বেইমানি করলা তোমার ভবিষ্যত শ্বশুরের সাথে?”
জারিন হাসতে হাসতে বলে উঠল , “ঠিক হইছে! বেশি পাকনামি করলে এমনই হয়। ইমা বেগম হাসতে হাসতে বলে উঠলাম “সায়ফান তোরে , অভিনন্দন। তোর জামাই তোকে আশীর্বাদ করে দিছে।”
সায়ফান কাঁদো কাঁদো মুখে, “আল্লাহ! এই বাড়িতে আমার কোনো সম্মান নাই। বাপে দেয় জুতার বাড়ি ছেলে দিল হিসু করে। সায়মান এবার এগিয়ে এসে ছেলেকে কোলে নিল। সায়ফানের কাঁধে হাত রাখল। গম্ভীর স্বরে সায়ফানের কানের কাছে বলল, “ভাই, জামাই-শ্বশুরের সম্পর্কটাই এমন। প্রথম দিনেই বুঝায়ে দিলো তুই শ্বশুর, তোর কাজই ভেজা।”
রাত দুইটা বাজে, সায়মান চুপচাপ ঘরে ঢুকলো। বিছানার দিকে তাকিয়ে দেখলো, নাফিসা গভীর ঘুমে আছে, আর তার এক পাশে ছোট্ট সারাহ হালকা হাসি দিয়ে ঘুমাচ্ছে। অন্য পাশে সাহ্রায়ান ঘুমিয়ে আছে, ছোট্ট ঠোঁটটা হালকা ফুলে, সেটা দেখে সায়মান তাড়াতাড়ি করে এগিয়ে গেল সেদিকে, নরমভাবে সাহ্রায়ানকে কোলে তুলল। কোলে নেওয়ার সময় লক্ষ্য করলো, পটি ভিজে গেছে। সায়মান শান্ত হাতে ডায়াপার বদল করল, তারপর কোলে নিয়ে হাটাহাটি করে শান্ত করার চেষ্টা করল। কিছুক্ষণ পরে, সারাহ উঠে কান্না করতে লাগল।
নাফিসা গভীর ঘুমে আছে সারাদিন বাচ্চা দুইটার খেয়াল রাখার পর ক্লান্ত। যদিও আফিয়া বেগম ও আরও অনেকেই আছে বাড়িতে সাহায্য করতে থাকলেও, বাচ্চারা দিনশেষে মায়ের কাছেই থাকে বেশি।
সায়মান সাহ্রায়ানকে শুয়ে দিয়ে, সারাহকে কোলে নিয়ে আসল। হালকা চেক করল, সব ঠিক আছে। সারাহকে মুখে বারবার হাত দিতে দেখে বুঝতে পারলো ওর খিদে লেগেছে। সায়মান হালকা ঝুঁকে নাফিসার জামার সামনে চেইন খুলে দিয়ে সারাহকে বুকের কাছে এগিয়ে দিয়ে ফিডিং করাইতে হেল্প করলো। সারাহ চুপ চুপ করে খেতে লাগলো, সায়মান সেদিকে তাকিয়ে থাকলো এক দৃষ্টিতে। অন্যপাশে চোখ ঘুরিয়ে দেখলো সাহ্রায়ান হাত-পা নেড়ে মুখ দিয়ে শব্দ করে খেলছে।
সায়মান শুধু বসে তাকিয়ে আছে তার এই ছোট্ট পৃথিবীর দিকে।হঠাৎ নাফিসার ঘুম ভেঙে গেল। চোখ খুলে দেখলো, সায়মান চুপচাপ তার দিকে তাকিয়ে আছে, আর সারাহ চুপচাপ খাচ্ছে। লজ্জায় নাফিসা শরীর আগলে আড়াল করতে ওড়না টেনে ধরল।
সেটা দেখে সায়মান চোখ ভ্রু জোড়ায় কুঁচকিয়ে তাকালো।
“ওড়না সরাও,” সে শান্ত কণ্ঠে বললো।
নাফিসা লজ্জায় হালকা হকচকিয়ে উঠে জিজ্ঞেস করল,
“কেন?”
সায়মান ধীরভাবে উত্তর দিল,
“আমি দেখবো।”আর আমার মেয়েকে তুমি খাওয়াবা। এখন, আমার সামনে।”
নাফিসা থমকে গেল। সায়মানের এই গম্ভীর আদেশের পেছনে লুকানো ভালোবাসাটা সে চিনে। কাঁপা হাতে ওড়নাটা সরিয়ে জামার সামনের চেইনটা খুলল। লজ্জায় চোখ নামিয়ে সারাহকে বুকের কাছে নিল। সারাহ সাথে সাথে চুপ হয়ে গেল। ছোট্ট মুখটা ডুবিয়ে দিয়ে খেতে লাগল।রুমজুড়ে নিস্তব্ধতা। শুধু ঘড়ির টিকটিক আর সারাহর নরম নিঃশ্বাসের শব্দ। সায়মান একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে মেয়ের দিকে না, তার মায়ের দিকে। যে মেয়েটা সারাদিন দুটো বাচ্চার জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেয়, সেই ক্লান্ত মুখটাই এখন তার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য।
সায়মান ধীরে ঝুঁকল। এক হাত রাখল নাফিসার গালে। বুড়ো আঙুল দিয়ে আলতো করে গাল ছুঁল ফিসফিস করে, “এই রূপটা লুকানোর জন্য না, পিচ্চি পুতুল। এটা আমার। শুধু আমার দেখার অধিকার।”
কথা শেষ করেই নাফিসার কাঁপা ঠোঁটে নিজের ঠোঁট মিশিয়ে দিল সায়মান। গভীরভাবে ছুয়ে দিল শুধু একরাশ কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা আর অধিকার মেশানো ছোঁয়া। নাফিসা প্রথমে কেঁপে উঠল, তারপর চোখ বন্ধ করে ফেলল। এক হাতে সারাহকে ধরে, আরেক হাত সায়মানের শার্ট খামচে ধরল। চুমুটা ভাঙল যখন সারাহ নড়ে উঠল। সায়মান কপাল ঠেকাল নাফিসার কপালে। দুজনের নিঃশ্বাস মিশে যাচ্ছে। সারাহ নাফিসার বুকে, নাফিসা সায়মানের বুকে, আর সায়মান? সায়মান তার পুরো পৃথিবীটাকে দুই হাতে আগলে রেখেছে।
পরের দিন,
বাচ্চা সামলানো, সংসার, রাতজাগা সবকিছুর পরেও নাফিসা হার মানে নাই। স্বপ্নটা ছাড়ে নাই। সরকারি মেডিকেলে প্রিপারেশন নেওয়ার সময় পায় নাই সারাহ-সাহ্রায়ানের জন্য, তাই প্রাইভেট মেডিকেলেই ভর্তি হয়েছে। ক্লাসের সময়টুকু বাচ্চা দুইটা থাকে আফিয়া বেগম, ইমা বেগম আর বিলকিসারা বেগমের কাছে। পুরা বাড়ির মহিলারা মিলে ওদের আগলে রাখে। নাফিসা নিশ্চিন্তে ক্লাস করে, কিন্তু মনটা পড়ে থাকে বাসায়। আজ অ্যানাটমি ক্লাস শেষে নাফিসা, মেহেরিন আর মেহরাব তিনজন করিডোর দিয়ে হাঁটছে। তিনজনই বেসরকারি মেডিকেলে একসাথে ভর্তি হয়েছে। সারাদিন লেকচার, ল্যাব, আবার বাসায় ফিরে বাচ্চা নাফিসার জীবন এখন দৌড়ের উপর। মেহেরিন হঠাৎ বলে উঠলো,
“দোস্ত, কালকের হিস্টোলজি স্লাইডটা বুঝছিস? আমি তো পুরা গুলায়ে ফেলছি।”
নাফিসা মেহেরিনের দিকে তাকিয়ে বলল, ” আমি টুকটাক নট গুছিয়ে রেখেছি বাসায় গিয়ে দেব তোকে।” কথা বলতে বলতে হঠাৎ পিছন থেকে ডাক এলো।
“নাফিসা আলম , একটু দাঁড়ান।”
তিনজনই ঘুরে তাকাল। ডিপার্টমেন্টের ইয়াং লেকচারার আরিয়ান স্যার দাঁড়িয়ে। চোখে চশমা, হাতে ফাইল। বয়স ত্রিশের কোঠায়, স্টুডেন্টদের কাছে বেশ জনপ্রিয় পড়ানও ভালো, ব্যবহারও অমায়িক। নাফিসা ভদ্রভাবে এগিয়ে গেল।
“জি স্যার, বলুন।”
আরিয়ান স্যার নাফিসার দিকে তাকিয়ে, “নাফিসা, তোমার কোনো তাড়া আছে?”
নাফিসা থমকে গেল। মেহেরিন আর মেহরাবের দিকে তাকাল। কী বলবে বুঝতে পারছে না। স্যারের চোখে কেমন অচেনা একটা দৃষ্টি।
মেহেরিন ফিসফিস করে,
“কী ব্যাপার? স্যার এমন করে ডাকছে কেন?”
আরিয়ান স্যার গলাটা নামিয়ে, “তোমার সাথে কিছু কথা ছিল। একটু এদিকে আসবে?”
নাফিসা বেশ অবাক হলো। কী কথা? অ্যাসাইনমেন্ট?সেটা তো আগে জমা দিয়েছে। কিন্তু স্যারের চাহনিটা অন্যরকম। তবু না করতে পারল না। ধীরে ধীরে স্যারের সাথে করিডোরের এক সাইডে গিয়ে দাঁড়াল। মেহেরিন-মেহরাব দূর থেকে উঁকি মারছে। আরিয়ান স্যার কিছুক্ষণ চুপ থেকে, তারপর সরাসরি তাকাল।
“দেখো নাফিসা, ঘুরিয়ে বলতে আমি পছন্দ করি না। আমি তোমাকে পছন্দ করি। অনেকদিন ধরে লক্ষ্য করছি তোমাকে। তোমার ডেডিকেশন, তোমার সিমপ্লিসিটি… উইল ইউ বি মাইন?”
নাফিসার মুখ হা হয়ে গেল। কান দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে মনে হলো।
নাফিসা মনে মনে, “স্যার কি পাগল হয়ে গেলেন? উনি কি জানেন না আমি বিবাহিত? আমার দুইটা বাচ্চা আছে?”
কিছু বলতে যাবে, ঠিক তখনই করিডোরে পাহাড়ের শব্দ পেল তাদের দিকে এগিয়ে আসতে কেউ তাকিয়ে দেখলো, সায়মান ইউনিফর্ম পরা, চোখে রোদচশমা, চোয়াল শক্ত। অফিসের কাজ শেষে নাফিসাকে নিতে এসেছিল। ক্লাসরুমের দিকে যাওয়ার সময় দূর থেকে দেখে নাফিসা একটা ছেলের সাথে আলাদা দাঁড়িয়ে কথা বলছে। ভ্রু কুঁচকে এগিয়ে আসতেই কানে এলো শেষ কথাটা—“উইল ইউ বি মাইন?”
সায়মান দুই কদমে সামনে চলে এলো। আরিয়ান স্যারের চোখে চোখ রেখে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“ও আমার ওয়াইফ। আপনি ভুল জনকে প্রপোজ করছেন, স্যার।”
আরিয়ান স্যার হা করে তাকিয়ে রইল সায়মানের দিকে। তারপর নাফিসার দিকে। আরিয়ান স্যার তোতলাতে তোতলাতে, “মানে… নাফিসা ম্যারিড? আমি তো… আমি তো জানতামই না। দেখে তো মনেই হয় না… এত পিচ্চি মেয়ে…”
সায়মান এক পা এগিয়ে এলো। গলাটা আরো গম্ভীর, “শুধু আমার ওয়াইফ না, ও আমার দুই বাচ্চার মা। সারাহ আর সাহ্রায়ানের মা। এখন ক্লিয়ার?”
আরিয়ান স্যারের মুখ চুন হয়ে গেল। লজ্জায়, অপমানে মাথা নিচু করে ফেললেন। “আই… আই অ্যাম এক্সট্রিমলি সরি। আমি সত্যিই জানতাম না। প্লিজ এক্সকিউজ মি।” বলে আর এক সেকেন্ডও না দাঁড়িয়ে হনহন করে চলে গেলেন। সায়মান আর এক মুহূর্ত নষ্ট করল না। সবার সামনে, করিডোর ভর্তি স্টুডেন্ট-টিচারের মাঝখানে, এক ঝটকায় নাফিসাকে কোলে তুলে নিল। আচমকা শূন্যে উঠে গিয়ে সায়মানের কাঁধ আঁকড়ে ধরল নাফিসা। “কী করছেন কী! ছাড়েন! সবাই দেখছে! মেহেরিন-মেহরাব…”
দূরে মেহেরিন আর মেহরাব দুজন দুজনকে কনুই মেরে মুচকি মুচকি হাসছে। পুরা করিডোর হা করে তাকিয়ে আছে ডিএসপি সাহেবের কাণ্ড দেখে। সায়মান কারো পাত্তা দিল না। গটগট করে সামনে হাঁটতে লাগল নাফিসাকে কোলে নিয়ে। মুখ থমথমে।
সায়মান নাফিসার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে, “পিচ্চি পুতুল, কাল থেকে দুইটা বাচ্চা তোমার সাথেই ভার্সিটিতে আসবে। আমার কলিজায় আর কেউ নজর দেবে, সেটা আমি হতে দেব না।”
নাফিসা লজ্জায়-ভয়ে কুঁকড়ে গেছে। “আপনি কী বলছেন এসব? ছাড়েন প্লিজ…”
সায়মান হাঁটা থামাল না। পার্কিং লটে এসে সায়মান নাফিসাকে কোল থেকে নামিয়ে গাড়ির দরজা খুলে দিল। নাফিসা লাল টমেটো হয়ে গাড়িতে উঠল। সায়মান ড্রাইভিং সিটে বসে, নাফিসার দিকে এগিয়ে এসে বলল,
চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৬৯
“পিচ্চি পুতুল, কাল থেকে দুইটা বাচ্চা তোমার সাথেই ভার্সিটিতে আসবে। আর তারাতাড়ি বাসায় চলো আর একটা বাচ্চা নিয়ে আসার প্রেসস শুরু করব বউকে নিয়ে রিক্স নিতে পারবো না বুড়া বয়সে। বলেই অধরে নিজের অধর জোড়া মিশিয়ে দিল, বেশ অনেকক্ষণ পর ছেড়ে দিয়ে দুইজনি জোরে জোরে নিশ্বাস নিতে থাকলো, সায়মান নাফিসার নাকে ছোট করে কামড় বসিয়ে দিলো,
যদি সময় আর জন্ম আবার সুযোগ দেয়, তবে এমনই এক অপ্রস্তুত মুহূর্তে আবার আমার জীবনে এসে পড়ো আমি আবারও তোমাকেই আমার নিয়তি বানাবো।
সমাপ্ত
