Home ভালোবাসার সীমানা পেরিয়ে ভালোবাসার সীমানা পেরিয়ে পর্ব ৯১ (২)

ভালোবাসার সীমানা পেরিয়ে পর্ব ৯১ (২)

ভালোবাসার সীমানা পেরিয়ে পর্ব ৯১ (২)
প্রিয়স্মিতা তেহজীব রাই

কাছে-পিঠের কোনো মসজিদ থেকে ভেসে আসা সুমধুর আযানের ধ্বনিতে ঘুম ছুটে গেল প্রিয়তার।
জ্বর ছেড়ে ঘেমে-নেয়ে স্নান করে ফেলেছে মেয়েটা। ঘাড়, গলা, বুক ভিজে ছ্যাটছ্যাট করছে। দু-একটা চুল মুখের সাথে লেপ্টে আছে।
শরীরটা একদম ঝরঝরে ফ্রেশ লাগছে প্রিয়তার। কী আশ্চর্য! রাতের সেই দাপুটে জ্বরের কিছুই এখন আর অবশিষ্ট নেই, কোনো রকম ঔষধপত্র ছাড়াই বিদেয় হয়েছে।
আসলেই কী ঔষধ লাগেনি? নাকি প্রিয়তার জন্য কার্যকরী পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম ঔষধটাই লেগেছে?
বিষয়টা ভাবতেই ঠোঁটের কোণে হাসি খেলে যায় প্রিয়তার।
“আহ্হ্হ্!”

দাঁতের সাথে ঠোঁট লাগতেই ক্ষতবিক্ষত ঠোঁটে তীক্ষ্ণ পীড়া অনুভব করে, সাথে সাথেই হাসি মিলিয়ে যায়।
ঘুম ভাঙার পরেও বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে শুয়ে থাকল প্রিয়তার। এভাবে জড়িয়ে থাকতে আরাম লাগছে। বুকের উপর ভীষণ ভার চেপে থাকায় দম ফেলতে সামান্য কষ্ট হচ্ছে, তবে এই মিষ্টি যতনাটুকু সয়ে গেছে প্রিয়তার। অভ্যাসে পরিণত করেছে এখন— এই নির্দিষ্ট পরিমাণ চাপটুকু না পেলে ঘুম আসে না।
প্রিয়তা চোখ বুজে হাসে। মানুষটাকে বুকের গহীনে আরেকটু জায়গা করে দিয়ে দু-হাতে পৃষ্ঠদেশ আঁকড়ে ধরে, ধীরে ধীরে চুলের গভীরে বিলি কেটে দেয়।
প্রিয়তমার আদরে সামান্য নড়েচড়ে উঠে প্রণয় আরেকটু দৃঢ় হস্তে বাঁকানো কোমরখানা আঁকড়ে ধরে জম্পেশ ঘুমের প্রস্তুতি নেয়।
ঘুমের ভঙ্গিমা একেবারে বাচ্চাদের মতো। মাথাটা পড়ে আছে প্রিয়তার গলার নিচে।
কতটা নিষ্পাপ লাগছে দেখতে! যেন কোনো অবুঝ শিশু। এই মায়াময় মুখটা দেখলে মনেই হয় না, এই মানুষটা আদৌতেও কোনো অন্যায় করতে পারে।
সকাল সকাল মন-প্রাণ জুড়িয়ে গেল প্রিয়তার। গত রাতের সব কথা যদিও পরিষ্কার মনে নেই, তবে আবছা আবছা অনেক কিছুই মনে পড়ে।

নিজের কৃতকর্মের কথা মনে পড়তেই লজ্জায় মিইয়ে যায় প্রিয়তা। চোখ পিটপিট করে তাকায় নিজের দিকে।
তবে সেই কাঙ্ক্ষিত মুখটা দেখতে পারে না। কালো কুচকুচে চুলে পুরুষালি কপাল ঢাকা পড়ে আছে।
ধৈর্য হাতে তাড়াহুড়ো করে কপালে পড়া চুলগুলো পেছন দিকে ঠেলে সরিয়ে দিল প্রিয়তা। ঠোঁট নামিয়ে গাঢ় কয়েকটা চুমু আঁকল চকচকে ললাটে।
ঘুমের মধ্যেই যেন হাসল পুরুষটা। তার কালচে লাল অধরযুগল প্রসারিত হলো। অথচ প্রিয়তা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে, লোকটা গভীর তন্দ্রায় আচ্ছন্ন।
এই লোকটার সাথে ত্যাড়ামি করতে মোটেও ভালো লাগে না প্রিয়তার। তবুও মাঝে মাঝে কী যে হয়, ভেবেই বুক চিড়ে দীর্ঘশ্বাস আসে।
এক কমফর্টারের নিচে, এক বালিশে শুয়ে আছে দুজন। প্রিয়তা উঠে যেতে চাইল, কিন্তু পুরুষালি শক্তিকে ঠেলে সরিয়ে দিতে পারল না।

বরং প্রভাব পড়ল উল্টো। প্রণয় যেন ঘুমের মধ্যেই আরো শক্ত করে চেপে ধরেছে।
ঠেলাঠেলি করে হাঁপিয়ে উঠল প্রিয়তা। দু-সেকেন্ড দম নিয়ে আবার চেষ্টা করল। এতো সকাল সকাল মানুষটাকে সে জাগাতে চায় না, তাই ধীরে সন্তর্পণে।
ঘুমে থাকার দরুণ হাত দুটো যথেষ্ট শিথিল, তাই ছাড়িয়ে নিতে সমর্থ হলো প্রিয়তা। খুব সাবধানে হাত দুখানা ছাড়িয়ে নিল নিজের কোমরের ভাঁজ থেকে। অতঃপর ধীরে ধীরে নিচ থেকে সরে গেল, মাথার নিচের বালিশটা টেনে গালের নিচে দিল।
কোমর পর্যন্ত কমফর্টার জড়ানো, উন্মুক্ত পিঠে উপুড় হয়ে শুয়ে আছে প্রণয়। চলে যেতে চাইলোও, এই দৃশ্য ইগনোর করতে পারল না প্রিয়তা।

তার বেহায়া চোখ দুটো বেলাজ্জার মতো তাকিয়ে গিলে খেল কিছুক্ষণ। গালে হাত দিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখল।
অনুশীলনকৃত পিঠের প্রত্যেকটি খাঁজ সুদৃঢ় ও সুস্পষ্ট। পেশীগুলো টানটান। কাঁধের দু-পাশের হাড়ের গঠনটা খুব সুন্দর, ঠিক যেন প্রজাপতির ডানার মতো। কেউ যেন নিজ হাতে বাটারফ্লাই আর্ট করে দিয়েছে।
দেখতে দেখতে প্রিয়তা একটা জিনিস খুব করে লক্ষ্য করল— সব আছে, কিন্তু পুরো পিঠের কোথাও একটাও তিল নেই। পুরো পিঠ নিট অ্যান্ড ক্লিন।
নিজের এমন নির্লজ্জ মার্কা কর্মকাণ্ড দেখে নিজেই বেকুব বনে গেল প্রিয়তা। হতাশ হলো ভীষণ। প্রেমে পড়ে শেষমেশ এতটা বেশরম হয়ে গেল! ছিইইইই!
অদৃশ্য হাতে নিজেই নিজেকে ঝাঁটা মেরে উঠে দাঁড়ালো প্রিয়তা।
নিঃশব্দে বিছানা থেকে উঠে গেল। পরনে তার গত রাতের প্রণয়ের কালো শার্টটা। এটা গতরাতে কোথায় জানি ছুড়ে ফেলেছিল প্রিয়তা, মনে নেই। তবে প্রণয় খুঁজে এনে পরিয়ে দিয়েছে।
আড়মোড়া ভেঙে ফ্লোরে পা রাখতেই কণ্ঠ ছিঁড়ে মৃদু আর্তনাদ বেরিয়ে এলো প্রিয়তার। ধুপ করে পড়ে গেল মেঝেতে।
শিরদাঁড়া বেয়ে একটা তীব্র ব্যথার স্রোত নেমে আসতেই তড়িৎবেগে দু-হাতে মুখ চেপে ধরল প্রিয়তা। চোখ-মুখ খিঁচিয়ে ব্যথায় গুঙিয়ে উঠল।
চোখের কোণে পানি চলে এলো প্রিয়তার। শরীরটা যেন ব্যথায় পেকে গলে পড়ছে। এতক্ষণ একটুকুও বুঝতে পারেনি।

শরীরের এই প্রচণ্ড মাত্রার ব্যথায় আবার পেইনকিলার খেতে হবে।
হুট করেই মেজাজ খারাপ হলো প্রিয়তার। ঘাড় ঘুরিয়ে রাগান্বিত চোখে তাকাল প্রণয়ের দিকে, দাঁত খিঁচিয়ে বলল,
“বেশামাল কন্ট্রোললেস ব্যাটাছেলে!”
লম্বা লম্বা নিঃশ্বাস ফেলে নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করল প্রিয়তা। আস্তে আস্তে করে উঠে চলে গেল ওয়াশরুমে।
গুসল সেরে ফজরের নামাজ আদায় করে নিচে চলে গেল প্রিয়তা। ততক্ষণে ইনায়া আর ঊষা নিচে এসে নাস্তা বানানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে।
ঊষা আটা মাখছে আর ইনায়া স্নেহাকে কোলে নিয়ে পায়চারি করছে। এটা-ওটা করার চেষ্টা করছে, কিন্তু দুধের বাচ্চাটা কিছুতেই শান্তি দিচ্ছে না। মেয়েটা হয়েছে মায়ের নেওটা। বাপ-ভাই এখনো উল্টে পড়ে ঘুমাচ্ছে, কিন্তু ছাওটা ইনায়ার সাথেই উঠে পড়েছে।
রাতে জ্বালায় বাপে, আর দিনে জ্বালায় তার ছাও-বাচ্চা। এটাই ইনায়ার জীবন।
প্রিয়তাও নিচে এসে নাস্তা বানানোতে যোগ দিল।
“ইনু!”

প্রিয়তার ডাকে পেছন ফিরে চাইল ইনায়া। প্রিয়তাকে রান্নাঘরে দেখে চড়াও হলো, চোখ রাঙিয়ে বলল,
“এই এই! তুই এখানে কেন এসেছিস? তোকে এখানে আসার পারমিশন কে দিয়েছে?”
“লে হালুয়া!”
“প্রিয়!”
ইনায়ার চটে যাওয়া মেজাজ দেখে ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়ল প্রিয়তা। একটু তেল দিয়ে নরম গলায় বলল,
“মেরি মা কিয়া হুয়া? এমন এক্সপ্রেশন দিচ্ছিস কেন? দে, আমার মেয়েকে আমার কোলে দে।”
বলেই স্নেহাকে চুঁউউ মেরে কেড়ে নিল প্রিয়তা। নিজের কোলে নিয়ে ফুলকো ফুলকো গালে কষে কষে খান দশেক চুমু দিল।
আদরে গলায় গদগদ হয়ে বলল,

“আমার মা-টা, আমার বাচ্চা-টা, আমার বাবু-টা। ওলে ওলে ওলে! একদম আমার মতো হয়েছে রে!”
ফুপি-র কথা ছোট্ট স্নেহা কতটা বুঝল বোঝা গেল না, তবে চোখ পিটপিট করে খুশিতে খিলখিল করে হেসে উঠল। মাথা এলিয়ে দিল বুকে।
ইনায়া এবার রেগে আগুন হয়ে গেল। কোমরে হাত রেখে শাসনের সুরে বলল—
“এই! তুই এই অবস্থায় রান্নাঘরে কেন? আর এত সকাল সকাল পাকামো মেরে উঠেছিস বা কেন? এসব করার জন্য আমরা আছি। তোর রেস্ট প্রয়োজন। যা তুই।”
প্রিয়তার মুখ ভোঁতা হলো। নাকের পাটা ফুলিয়ে জবাব দিল,
“আমি কি রোগী?”

“রোগী হতে যাবি কেন? রোগী আমি, আর তুই তো মহারানী! এই তোর আক্কেল কোথায়? তোর না বাবু হবে? এই সময়টা কেমন সেনসিটিভ জানিস না? রান্নাঘরের মাছ-মাংস, এটা-ওটার গন্ধে তোর ইরিটেশন হবে। বমি আসবে। তুই স্নেহাকে নিয়ে ড্রয়িংরুমে যা। এদিকটা আমি আর ঊষা দেখে নেব।”
ঊষাও পাশ থেকে মাথা দুলিয়ে বলল,
“হ্যাঁ প্রিয় আপু, আমরা আছি তো।”
প্রিয়তা ওদের কথায় দু-পয়সারও পাত্তা দিল না। স্নেহাকে কোলে নিয়ে ফ্রিজ খুলে দুধ, ফ্রুটস সব বের করল।
“প্রিয়!”
চেঁচিয়ে বলল ইনায়া।
“ধুর, বেসুরো গলায় ঘ্যানঘ্যান করিস না তো। তোকে যে আমার ভাইটা কীভাবে সহ্য করে! আমি হলে তো বাসর শেষ করে মাঝরাতেই তালাক দিয়ে দিতাম।
নে, আমার মাকে কোলে নে।”
বলে স্নেহাকে আবার ইনায়ার কোলে দিয়ে দিল প্রিয়তা। স্নেহার গালে বড় করে একটা হামি খেয়ে বলল,
“আমার মিষ্টি বাচ্চা।”

প্রীতমের মতো বাঁদরামি করতে দেখে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল ইনায়া। আর কিছুই বলল না। বলে ও লাভ নেই, সে বেশ জানে— ঘাড়ত্যাড়া ভাইয়ের ঘাড়ত্যাড়া বোন। একবার যা বলবে তাই। যতই হোক, এক শোরুমের মাল।
প্রিয়তা গ্যাস অন করে পাতিলে দুটো ডিম সেদ্ধ বসাল। চার-পাঁচটা ব্রেডে পিনাট বাটার লাগিয়ে সুন্দর করে প্লেটে গুছিয়ে রাখল। কয়েক পদের ফল কেটে প্লেটে রাখল। অ্যাভোকাডো ম্যাশ করে দু-তিনটা অ্যাভোকাডো স্যান্ডউইচ বানাল। দুধ ফুটিয়ে এক গ্লাস কুসুম গরম দুধ গ্লাসে ঢেলে নিল। ডিম দুটো সেদ্ধ হয়ে এলে খোসা ছাড়িয়ে মাঝবরাবর কেটে দু-ভাগ করে প্লেটে তুলে রাখল।
সবগুলো প্লেট সুন্দর করে ট্রেতে সাজিয়ে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে ইনায়ার পানে তাকিয়ে ভেটকি মেরে বলল—

“হিহি, এগুলো আমার জামাইয়ের জন্য বেবি। তোমাদেরটা তোমরাই বুঝে নাও। টাটা বেবি!”
বলেই সুরসুর করে উপরে চলে গেল প্রিয়তা।
ইনায়া মুখ ঝামটা মারল। বিড়বিড় করে বলল, “ভাই-বোন দুটোই সেলফিশ।”
প্রিয়তা রুমে এসে দেখতে পেল, প্রণয় এখনো ঠিক আগের ন্যায় একইভাবে ঘুমিয়ে আছে। মনে হয় এক চুলও নড়েনি। এক পলক ঘড়ির দিকে তাকাল প্রিয়তা— সকাল ৭টা ১৫।
বেলা অব্দি এমন নবাবি ঘুম দেখে সকাল সকাল মেজাজটা চড়ে গেল প্রিয়তার। স্বামীর পানে কিয়ৎক্ষণ চেয়ে দাঁত কিড়মিড় করে বলল, “জমিদারের জমিদারি ঘুম ফুরায় না। জমিদারের খিদেও পায় না।”
কিন্তু প্রণয়ের কোনো হেলদুল নেই।
হাতের ট্রেটা সাইড টেবিলের উপর ধপাস করে রাখল প্রিয়তা। কোমরে ওড়না প্যাঁচানো শক্ত করে বিছানার ধারে ঝুঁকে পড়ে গম্ভীর গলায় ডাকল—

“সাহেব, আপনার এই রাজকীয় নিদ্রা কী শেষ হবে? নাকি পানি ঢেলে আপনার এই সাতকাহনের ঘুম ভাঙাতে হবে? শুনছেন, উঠুন!”
“উমমমম।”
প্রণয়ের এই নিস্পৃহ ‘উমমম’ শুনে মেজাজটা সপ্তমে চড়ল প্রিয়তার! পিঠে দুমদাম কয়েকটা কিল বসিয়ে দিতে খেঁকিয়ে বলল—
“উঠুউউন!”
সকাল সকাল এমন ডাকাডাকিতে চরম বিরক্ত হলো প্রণয়। ঘুমের মধ্যেই ভ্রু কুঁচকাল। ঘুমজড়ানো আদো আদো কণ্ঠে অজস্র মায়া মিশিয়ে বলল—
“উম্মম, জ্বালাস না তো ময়না পাখি। আরেকটু ঘুমাতে দে। গত দুই দিন তোর ওভাবে একটুও ঘুমাতে পারিনি।”
এমন মধুর কথাতেও মায়া হলো না প্রিয়তার। অন্য সময় হলে হয়তো গলে পড়ত। আরো তেতে উঠে বলল—
“শেষ বারের মতো বলছি, আপনি উঠবেন নাকি আমি পানি ঢালব?”
“পানি কেন ঢালবি? আমার আহ্লাদী বউ থেকে তুই দিন দিন কুচুটে বউ হয়ে যাচ্ছিস জান। ইটস টু আনফেয়ার!”
“আপনি উঠবেন?”

এমন হুমকি ধামকি শুনে আর মটকা মেরে পড়ে থাকতে পারল না প্রণয়। কোনো বিশ্বাস নেই, সত্যি সত্যি পানি ঢেলে দিতে পারে।
ফিরে সোজা হয়ে শুল প্রণয়। ঘুমু ঘুমু চোখ দুটো মেলতেই দেখল, চোখের সামনে দণ্ডায়মান ছোট্ট খাট্ট আদুরে এক নারীমূর্তি। রাগলে যেন তাকে আরও সুন্দর লাগে, আরো মায়াবী দেখায়।
রোজ প্রভাতে এমন সুমধুর দৃশ্য দেখে ঘুম থেকে জেগে ওঠা এখন প্রণয়ের অভ্যাস হয়ে গেছে। তাই এখন প্রতিটি দিন শুরু হয় এই মুখটা দেখে। কোনো এক সকালে এই মুখটা না দেখলে পাগল হয়ে যায় প্রণয়।
ঠোঁট ঠেলে হাসল প্রণয়। অভ্যাসবশত আদো ঘুমের মধ্যেই রমণীর কোমর টেনে ধরে হ্যাঁচকা টানে নিজের উপর ফেলল। রমণীর ভেজা চুলের গভীরে মুখ ডুবিয়ে আবেশিত কণ্ঠে একটা ছড়া আওড়াল—
“বউ বউ ডাক পাড়ি,
বউ গেছে কার বাড়ি?
আয় রে বউ বুকে আয়,
তোর জামাইরে মশায় খায়!”
উফফ, নাটক!

প্রিয়তা মুখ ফুলিয়ে বুকে জুড়ে ধাক্কা দিল। কিন্তু একটুকুও ছাড়ল না প্রণয়। প্রিয়তাকে ঘুরিয়ে শুইয়ে দিল নিজের জায়গায়। গলায় মুখ ডুবিয়ে ভেজা চুলের ঘ্রাণে মাতাল হয়ে বলল—
“আদর আদর বউটা আমার খালি আদর আদর পায়, কিন্তু এই দস্যি মেয়ে এত ছটফট করো কেন? স্বামীর মন বোঝো না?”
প্রিয়তা মুখ বাঁকিয়ে বলল—
“এই স্বামীর মন বোঝার চক্করেই আজ বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৮ কোটি ছাড়িয়েছে।”
“ইসসস, কী নির্লজ্জ বউ আমার! কিন্তু আমি ও তো এই মহৎ কাজে অবদান রাখতে চাই! আচ্ছা বউ, তুমি ডিম দিতে পারো না?”
“কীহ্?”
“হ্যাঁ, বুঝো না! একটা একটা করে ডাউনলোড দিতে অনেক সময়ের অপচয় হবে। এর থেকে ভালো না তুমি এক সাথে ২৯-২৫টা ডিম জমিয়ে এক সাথে বাচ্চা ফুটাবে?”
“আমাকে আপনি পোল্ট্রি মুরগি পেয়েছেন?”
“চটে যাচ্ছো কেন? আমি তো ভালো বুদ্ধিই দিলাম! এর জন্য যত মেহনত করতে হয় আমি করব। দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পরিশ্রম করব।”
“এই মিয়া, সরুন তো আপনি।”
“উহু।”

প্রণয়ের একটু বেশি নেশা চড়ে যেতেই তার দুর্বলতার সুযোগ নিল প্রিয়তা। পুরুষকে তার দুর্বল মুহূর্তে ধোঁকা দিল; ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে লাফিয়ে নেমে গেল বিছানা থেকে।
“বউউউ!”
চেঁচিয়ে ডাকল প্রণয়। অসহায় চোখে তাকাল।
“একদম চুপ!”
পুনরায় এগিয়ে এসে হাত ধরে টেনে শোয়া থেকে তুলে দিল প্রিয়তা।
“আরেকটু ঘুমাই জান, এমন করিস না… বুকে আয়।”
প্রিয়তা আর কথার বাড়াতে দিল না। বাহু টেনে ধরে বিছানা থেকে নামিয়ে দিল। হাতে ধরে জোর করে নিয়ে গেল ওয়াশরুমে।
ওয়াশরুমের বিশাল মিররটায় সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রণয়। বুকে হাত ভাঁজ করে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ২০ বর্ষীয়া রমণীর দিকে। রমণীকে প্রচণ্ড রকম ‘বউ বউ’ লাগছে তার দৃষ্টিতে।
‘বউ’— এই কথাটা যতবার ভাবনায় আসে, ততবারই এক অদ্ভুত আবেগ এসে ধাক্কা দেয় মনের দেয়ালে। ততবার মন বলে—
“হ্যাঁ, বউ তো আমার বউ। আমার কিশোর বয়সের সেই ছোট্ট পুতুল বউ, যাকে বউ করার জন্য জীবনের আহুতি দিয়েছে প্রণয়।”

ওয়াশরুমের আয়নায় প্রণয় প্রিয়তাকে দেখছে না, দেখছে তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বিশ বছরের এক চরম বিস্ময়কে। তার অদম্য নেশাদ্রব্যকে!
মনে মনে হাসল প্রণয়। এই মেয়েটার জন্য সে কতবার মরেছে আর কতবার পুনর্জন্ম নিয়েছে, হিসেবে নেই।
প্রিয়তা কোমরে ওড়না পেঁচিয়ে ব্রাশে পেস্ট লাগিয়ে প্রণয়ের মুখের সামনে ধরল। গিন্নিদের মতো হুকুম ছুঁড়ে দিল—
“হা করুন।”
মেয়েটার কর্ম দেখে ভ্রু কুঁচকাল প্রণয়। কী করতে চাচ্ছে বুঝতে পারল না, তবে বউয়ের সাথে অযথা তর্ক করে বিপদ বাড়াল না। বউয়ের কথা মতো “হা” করল।
কিন্তু এবার প্রিয়তা পড়েছে আরেক বিপাকে। সে ভালো মতো নাগাল পাচ্ছে না। আঙুলের উপর ভর দিয়েও তার হাত পৌঁছাচ্ছে না প্রণয়ের মুখ পর্যন্ত। দাঁত ঘষবে কীভাবে, সে তো খাম্বার মতো লোকটাকে নাগালই পাচ্ছে না!
প্রিয়তার মুখ দেখে মনে মনে এক চোট হেসে নিল প্রণয়, তবে মুখে এক বিন্দুও প্রকাশ করল না। সে পূর্বের ন্যায় নিষ্পাপ মুখে দাঁড়িয়ে রইল।
“আহ, দেখতেই তো পাচ্ছেন নাগাল পাচ্ছি না। মাথাটা একটু নিচু করুন। কী খেয়ে এমন খাম্বার মতো লম্বা হয়েছেন?”

“প্রোটিন শেক খেয়ে।”
প্রণয়ের সোজাসাপ্টা জবাব।
জবাব শুনে প্রিয়তার মনে হলো, কান দিয়ে যেন ধোঁয়া বের হচ্ছে। না চাইতেও মুখশ্রীতে টুপটুপ করে লজ্জারা এসে ভিড় জমাচ্ছে। মনে মনে বিড়বিড় করল প্রিয়তা—
“ছি ছি, কী নির্লজ্জ ব্যাটা মানুষ!”
ওর চেহারার এক্সপ্রেশন দেখে চোখ সরু করে তাকাল প্রণয়। ভ্রু নাচিয়ে শুধাল—
“লজ্জায় এমন লাউশাকের মতো নুইয়ে যাচ্ছিস কেন? বাই এনি চান্স…”
কথাটা ভাবতেই চোখ দুটো রসগোল্লার মতো বড় বড় করে ফেলল প্রণয়। চোখের ইশারায় দেখিয়ে বলল—
“তুই কি এগুলোর কথা ভাবছিস?”
প্রিয়তার মন চাইল জমিন ফাঁক করে ভেতরে ঢুকে যেতে। মাথা নিচু করে চাপা স্বরে ধমকে বলল—
“চুপ করুন, অসভ্য লোক!”
“আস্তাগফিরুল্লাহ! কী পাক পবিত্র চিন্তাভাবনা। সব সময় আমাকে খাওয়ানোর ধান্দায় তাকিস। আমি অন্য প্রোটিন শেকের কথা বলছি।”
“তবে?”
চট করে চোখ তুলে তাকাল প্রিয়তা।
“তবে কী?”

ঠোঁট কামড়ে হাসল প্রণয়। প্রিয়তার কোমরে পেঁচিয়ে নিজের ওয়াশরুমের দেওয়ালের সাথে চেপে ধরল। শারীরিক সকল দূরত্ব ঘুচিয়ে একেবারে ঘনিষ্ঠ হয়ে দাঁড়াল।
আলতো স্পর্শে ঘাড়ের পাশ থেকে চুল সরিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল সেই নরম ত্বকে, যেখানে শিহরণ জাগে।
ঘাড়ের নরম ত্বকে নাক ঘষতে ঘষতে খুব ধীর লয়ে বলল—
“তুই যেটার কথা ভাবছিস, ওটা বেস্ট অফ দ্য ইউনিভার্স। ওটার সাথে অন্য কোনো প্রোটিনের কম্পেয়ার চলে না।”
“বাই দ্য ওয়ে, আই অ্যাম ক্রেভিং ফর ইয়োর প্রোটিন।”
“ক্যান ইউ ফিড মি, সুইটহার্ট?”
প্রিয়তা অনুভব করল, তার নিজের পায়ে কোনো শক্তি নেই।

“শ-শুনুন…”
“প্লিজ জান।”
“নো।”
এক নিরীহ পুরুষের কণ্ঠে ফেটে পড়ল অসহায়ত্ব—
“হোয়াই?”
“এখন আপনি খাবেন।”
“হুমম, খেতেই তো চাচ্ছি।”
“এখন না।”
“তাহলে কখন?”
“ব্রেকফাস্ট করার পর।”
“সত্যি বলছিস?”
“হুমম।”
প্রণয়ের কণ্ঠের মাদকতা ধীরে ধীরে গিলে খাচ্ছে প্রিয়তার আত্মবিশ্বাস। চোখের দিকে তাকানোর সাহস তো সে মোটেই পাচ্ছে না। বেশামাল হচ্ছে দেহমন। নিঃশ্বাসের এই অস্থিরতা কি টের পায় না লোকটা? নাকি ও সব বুঝে ও অবুঝ হওয়ার ভান ধরে!
“এই জান!”
“চুপপপ, একদম! তুলুন আমাকে।”
“কোথায়?”
“কোলে।”
প্রণয় বিনা বাক্যে দুই হাতে কোমর জড়িয়ে উঁচুতে তুলল। প্রণয়ের বুকের সাথে লেগেছে প্রিয়তার বুক।
“নেন, এবার হা করুন।”
প্রণয়ও তাই করল। নিজের হাতে মুখের কোণায় কোণায় সযত্নে ব্রাশ করে দিয়ে একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল প্রিয়তা।
বাচ্চাদের মতো ঠোঁটের চার পাশে টুথপেস্টের ফোম লেগে আছে। কত আদুরে একটা মুখ!
মুখটা দুই হাতের মধ্যে নিয়ে খিলখিল করে হেসে উঠল প্রিয়তা। মনের ইচ্ছা মোটেও দমিয়ে রাখল না। ইচ্ছামতো গাল দুটো টেনে ধরে সারা মুখশ্রীতে চুমুর বর্ষণ নামিয়ে দিল।

“হয়েছে ম্যাডাম?”
“হুম হুম, নামান।”
নামিয়ে দিল প্রণয়।
প্রিয়তা তোয়ালে এনে গলায় ঝুলিয়ে দিয়ে বলল—
“গোসল করে নিন জলদি।”
“বউ ব্রাশ করিয়ে দিল, গোসলটাও যদি করিয়ে দিত! ভালো হতো নাহ্ বলো? সব কিছু বউয়ের উপর দিয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে যেতাম।”
“হুহ! নিজের কাজ নিজে করুন। আত্মবিশ্বাসী, স্বনির্ভর হোন, আমার মতো বুঝলেন?”
বলে মুখ ঝামটা মেরে চলে গেল প্রিয়তা।
“শোন রে জান!”
দাঁড়াল না প্রিয়তা। তৃপ্ত হাসল প্রণয়। বুকের বাঁ পাশে হাত রেখে বলল—
“পাকা বুড়ি আমার।”
গোসল সেরে কেবল কালো একটা ট্রাউজার পরে খালি গায়ে বিছানার ওপর বসে আছে প্রণয়। শ্বেতশুভ্র শরীরের বুকে, পিঠে, ঘাড়ে, কাঁধে আনাচে-কানাচে শুধু ক্ষত আর ক্ষত। নতুন-পুরোনো শুধু নখের আঁচড়।
দাগগুলো দেখে প্রিয়তার মন খারাপ হলো। অনুতপ্ত হলো কিছুটা। সে মনে ঠিক করল, আজই এই বেয়াদব নখগুলো কেটে একদম ছোট করে ফেলবে।
প্রিয়তা তোয়ালে দিয়ে নিজের হাতে চুলের পানি মুছিয়ে দিচ্ছে। তার অবস্থান প্রণয়ের দুই পায়ের মাঝে, ফ্লোরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চুল মুছিয়ে দিচ্ছে।
প্রণয়ও চুপ করে বসে নেই; সেও সমান তালে প্রিয়তাকে উত্তপ্ত করছে, জ্বালিয়ে মারছে রীতিমতো।
প্রিয়তা অতিষ্ঠ হয়ে বলল—

“উফফ, এতো জ্বালান কেনো? একটু সোজা হয়ে বসুন।”
“আদর দে।”
বলে গাল এগিয়ে দিল প্রণয়।
প্রিয়তাও টুপ করে একটা চুমু খেল বাঁ গালে।
এবার ডান গাল এগিয়ে দিলো প্রণয়।
“এই বেচারা কী দোষ করল? ওকে ও দে।”
ডান গালেও চুমু দিল প্রিয়তা।
পর পর আবদার অনুযায়ী নাকে, ঠোঁটে, কপালেও দিতে হয়েছে। কে যেনো বলেছিল, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নিকৃষ্ট পুরুষকেও ভালোবাসার অস্ত্রে অনায়াসেই খুন করা যায়, আর এটার জ্বলন্ত এক উদাহরণ—আবরার সিকদার প্রণয়।
চুল মুছিয়ে তোয়ালে বারান্দায় মেলে দিয়ে এল প্রিয়তা। ম্যাট কফি কালার টি-শার্টটা পরিয়ে দিল গায়।
খাবারের ট্রে হাতে নিয়ে বিছানায় পা ভাঁজ করে বসল। মাখন লাগানো ব্রেডের টুকরোটা মুখে তুলে দিয়ে বলল—
“২ দিন না খেয়ে, না ঘুমিয়ে শরীরের কী হাল করেছেন! আপনার কী মায়া হয় না আমার প্রতি? আমাকে আর কতো ভালোবাসবেন? নিজেকেও একটু ভালোবাসুন? আপাতত এটুকু খান, আমি… আপনার জন্য এক্ষুনি ভাত বসাব।”
“আমার তুই হলেই চলবে।”
বলে প্রিয়তার হাত থেকে ব্রেডের টুকরোটা নিয়ে প্রিয়তার মুখের সামনে ধরল প্রণয়। আদেশের সুরে বলল—
“হা কর।”
চোখ টলমল করে উঠল প্রিয়তার। চোখের পলকে পানি গড়িয়ে পড়ল গালে। ঠোঁট কামড়ে কান্না দমিয়ে বলল—

“আমি তো খেয়েছি।”
“তুই খাসনি, আমি কি তোকে চিনি না?”
“সত্যি খেয়েছি।”
তর্কে জড়ালো না প্রণয়। স্পষ্ট করে বলল—
“তবুও আবার খা। আমার সামনে খা।”
প্রিয়তা আর কিছু বলতে পারল না। খাবারটুকু মুখে নিতেই গা গুলিয়ে এল।
চমকে উঠল প্রণয়। অস্থির হয়ে পানির গ্লাস ধরল মুখের সামনে। গালমুখে হাত বুলাতে বুলাতে বুকে টেনে নিলো। উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলল—
“জান, জান, আমার ময়না পাখি, তুই ঠিক আছিস?”
“তোকে খেতে হবে না। না, বরং চল—তুই এক্ষুনি ডাক্তারের কাছে যাবি।”
বলে উঠে যেতে নিলো প্রিয়তা।
প্রণয়কে উত্তেজিত হতে দেখে তড়িঘড়ি করে কোনো রকম খাবারটুকু পানি দিয়ে গিলল প্রিয়তা।
পাগল প্রেমিককে বুকে টেনে সান্ত্বনা দিয়ে বলল—

“আমি… আমি ঠিক আছি। একটু শান্ত হোন আপনি।”
“না, তুই চল এক্ষুনি ডাক্তারের কাছে।”
“বল, তোর জন্য ২৪ ঘণ্টা দেশের বেস্ট গাইনোকোলজিস্ট হায়ার করে দিই, যদি বলিস বিদেশ থেকে আনবো।”
মোমের মতো ছোট্ট কোমল দেহখানা জাপটে ধরে থরথর করে কাঁপছে নিষ্ঠুর পুরুষটা।
“লাগবে না, আপনি তো আছেন। আর্লি প্রেগনেন্সিতে এগুলো খুব কমন।”
“তাহলে বাচ্চার দরকার নেই? আমি তোর কোনো কষ্ট দেখতে পারবো নাহ্। তোকে ভালোবাসার জন্য আমি একাই যথেষ্ট।”
“উফ, আমার কোনো কষ্টই হবে নাহ্! আপনি কাছে থাকলে আমার কী যেনো হয়ে যায়, অন্য কোনো অনুভূতি কাজ করে নাহ্। সত্যি বলছি।”
“তবুও ভয় হয়, তোর যদি কোনো অসুবিধা হয়।”
“একটুও হবে না।”
বলে থামল প্রিয়তা। কিছুটা অভিমান নিয়ে বলল—
“তবে আমার অসুবিধা করছেন আপনি।”
চকিতে তাকালো প্রণয়। তড়িৎ বেগে মাথা নাড়াল প্রণয়।

“বল বল, জান পাখি, কী করতে হবে আমায়? কী করলে তোর ভালো লাগবে? আমি সব করবো।”
“আমি আপনাকে খাওয়াতে চাচ্ছি, আপনি শুধু তালবাহানা দিচ্ছেন।”
তৎক্ষণাৎ মুখ হা করল প্রণয়। যেন সে প্রিয়তমার একটা কথাও অমান্য করার দুঃসাহস রাখে নাহ্।
লোকটার পাগলামি দেখে হেসে ফেলল প্রিয়তা। যাক, কিছু তো ভালো হয়েছে।
প্রিয়তা নিজের হাতে টুকটুক করে সবটুকু খাবার খাইয়ে দিল প্রণয়কে। প্রণয় শুধু কেমন জানি পাগল করা চাহনিতে সারাক্ষণ দেখে গেল প্রিয়তাকে। আজকাল তারও কী জানি হয়ে গেছে, কোনো কারণ ছাড়াই অস্থির লাগে।
ওই চোখের গভীরতায় হারানোর যন্ত্রণা ছিল, নাকি অসহায়ত্ব—বোঝা গেল না।
খাওয়া শেষ হতেই পুনরায় প্রিয় নারীসত্তাকে নিজের অস্তিত্বে মিশিয়ে নিল প্রণয়। সে যে দিন দিন বদ্ধ উন্মাদ হয়ে যাচ্ছে, এটা সেও বেশ বুঝতে পারছে। আসক্তির চরম সীমানাই বোধহয় চরম পাগলামি।
নিজের আত্মায় মিশিয়ে বিড়বিড় করে আওড়াল প্রণয়—

ভালোবাসার সীমানা পেরিয়ে পর্ব ৯১

“কখনো খুব খারাপ লাগলে তুমি আমাকে নিজের হাতে শেষ করে দিতে পারো জান, কিন্তু তোমার ভালোবাসার ভাগ থেকে কখনো বঞ্চিত কোরো না।”
“তোমাকে হারিয়ে ফেললে আঁকড়ে ধরার মতো মৃত্যু ছাড়া আমার আর কিছু থাকবে না।”
“তোমাকে যেকোনো অবস্থায় আমার চাই… প্রেম আমার।”

ভালোবাসার সীমানা পেরিয়ে পর্ব ৯২

7 COMMENTS

  1. Apu next part ta Tara tari din please please please please 🥺 apu i wait for this please Tara tari din

  2. আপু আর যাই হোক ; প্রণয়-প্রিয়তা,প্রিয়স্মিতা-শুদ্ধ এদের হ্যাপি এন্ডিং দিও

Comments are closed.