Home ছায়াস্পর্শ ছায়াস্পর্শ পর্ব ৪২

ছায়াস্পর্শ পর্ব ৪২

ছায়াস্পর্শ পর্ব ৪২
জান্নাত চৌধুরী

পরেরদিন সকালে পুলিশ এলো মীর বাড়িতে।
ফজরের নামাজ পড়ে , সকলে ওঠার আগেই রন্ধনশালায় এসেছে ইফরাহ। আজ আরাধ্যের পছন্দ স‌ই খাবার তৈরির পরিকল্পনা করেছে। এদিকে চুলোয় গোশত কষাতে দিয়ে ময়দা মাখা ধরেছে। কষা মুরগির গোশত সাথে ঘি তে ভাজা পরোটা লোকটার ভীষণ পছন্দ। রন্ধনে আজ প্রথম ইফরাহ। কোথায় কি রয়েছে সব খুঁজতে প্রথমে ঝামেলাই হয়েছে তার। তবে , এর মাঝে এবার মানহা এসেছিলো নিচে‌। সকাল সকাল খালি পেটে এক গ্লাস গরম পানি পান করা নাকি মেয়েটার অভ্যাস। ইফরাহ বড্ড মায়া হয় মেয়েটার জন্য, আজকাল ভীষণ বিধ্বস্ত লাগে মেয়েটাকে। চোখে নিচে কালসে দাগ মুখে ছোট ছোট ব্রণ। সবগুলো যেন মানহার বিষাদের সঙ্গীনি‌। না জানি কত রাত নির্ঘুম কাটে তার। চেহারায় লাবণ্য হারিয়েছে মানহা;

নারীর মনে ফুর্তি থাকলে তবে তার বহিঃপ্রকাশ যেমন চেহারায় হয়। বিষাদের বহিঃপ্রকাশটাও চেহারাতেই হয়।
সব এলোমেলো ভাবনা একপাশে ফেলে গোশত কষিয়ে ঝোল দিলো ইফরাহ। কতগুলো পাকা টমেটো এক বাটিতে নিলো। শেষ পাতে টমেটোর চাটনি করবে সে। লোকটা খেতে চেয়েছিলো ..
একে একে সব কাজ গুছিয়ে নিয়েছে ইফরাহ। ঘড়িতে সময় কত কে জানে। এর মাঝে অরুনিমা এসে হাজির হলো রন্ধনশালায়। চেহারায় কিছুটা রাগের আভা। ইফরাহর দিকে মৃদু রাগ নিয়ে তাকাতেই হেসে দিলো সে। ঝোল প্রায় শুকিয়ে এসেছে অরুনিমা সেদিক খেয়াল করে নেড়ে চেড়ে নামিয়ে দিলো।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

ইফরাহ টমেটো কাটছিলো। এর মাঝেই গলা ছেড়ে হাক দিলেন অরুনিমা , “ও রেণুর মা; রেণুর মা!”
নিজ তলায় রেণুর মায়ের থাকার একখান ছোটখাটো ব্যবস্থা করেছে অরুনিমা। রেণুর বিবাহের পরে ওই ভাঙ্গা চোরা দোচালা ঘরে কেমন জানি দম আটকে আসতো তার। অরুনিমা হয়তো সব বুঝেই স্থান দিয়েছে।
রেণুর মা এসে দাড়ালো চুলার মুখে। অরুনিমা আদেশ করলেন , “পরোটা গুলো বানিয়ে ভেজে দাও রেণুর মা! ব‌উরানী একা‌ই চুলোর আঁচে অনেক কাজ করছে।”

রেণুর মা ব্যস্ত হাতে পরোটা বানিয়ে তেলে দিতে লাগলেন। অরুনিমা সেই পরোটা তেলে ভেজে তুলে নিচ্ছে। ইফরাহ মনে মেঘ জমলো যেসব কাজ নিজ হাতে করার শখ ছিলো তা হয়ে উঠছে না। একখান ছুড়ি হাতে নিয়ে পাকা টমেটো গুলো কাটতে যাবে তার আগেই ধমকে ওঠে অরুনিমা , “বড্ড সাহস সঞ্চয় হয়েছে তোমার ব‌উরানী , আমার নিষেধাজ্ঞা শর্তেও রন্ধনের কাজে হাত দিয়েছো তুমি।”
ইফরাহ শুষ্ক ঢোক গিলে গলা ভেজালো। অরুনিমা উল্টো ঘুরে গিয়ে মেয়েটার ভয়ার্ত মুখের দিকে খানিক সময় তাকিয়ে থাকলো। ছোটো খাটো মুখটায় ভয় ভয় একখান ছাপ , অরুনিমা ফিক করে হেসে দিলো। ইফরাহ অবাক চোখে তাকালো ; অরুনিমা হাসি থামিয়ে বলল ,

“ ভয় পেয়েছিস?’
ইফরাহ মাথা ঝাঁকালো , অরুনিমার হাসি এবার আরো গাঢ় হলো। চুলার আঁচ কমিয়ে এসে ইফরাহ পাশে দাঁড়ালো। একটু আদুরে হাতে স্পর্শ করলো ইফরাহর গাল। ফর্সা গাল হয়ে উঠেছে। , অরুনিমা শাড়ির আঁচলে মুখের মৃদু ঘাম টুকু মুছে দিলো। এরপর নরম স্বরে বলল , “বহুবার বলেছি ব‌উরানী , তুমি মেয়ে এই মীর বাড়ির রানী। আমার ফাইয়াজ ব্যতিত অন্য কোনো কাজে তোমার মনোনিবেশ করার বিন্দু মাত্র প্রয়োজন নেই। তবুও তুমি যেন শুনছোই না!”

ইফরাহ কথা বলতে পারেনা,গলায় দলা পাকিয়ে আছে সব। অরুনিমা আরো কিছু বলবে এমন সময় অন্দরের চেঁচামেচি কানে আসে। হাতে কাজ সব ফেলে রেখে অরুনিমা অন্দরে আসে। ইফরাহ ব্যতিক্রম নয় , শাড়ির আঁচল মাথায় টেনে এগিয়ে এলো অন্দরে। পুলিশ এসেছে , আঁতকে ওঠে ইফরাহ। গলা শুকিয়ে আসছে তার। চেয়ারম্যান বাড়িতে পুলিশ আসা নতুন ব্যপার নয় তবে , আজকাল পুলিশ দেখলেই মনে এক অচেনা ভয় জেঁকে বসে তার। হয়তো কিছু একটা হারানোর ভয় , একটা বিশ্বস্ত আশ্রয় হারানোর ভয়। অরুনিমা কাব্যের দিকে তাকিয়ে থকলো কিছু সময় এরপর কিছুটা গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করল ,

-“কাহিনী কী অফিসার সকাল সকাল এসেছেন?”
কাব্য একদৃষ্টে তাকিয়ে দেখছিলো মহিলাকে। অরুনিমা নিঃসন্দেহে রূপবান , এতে কারো সন্দেহের অবকাশ নেই। অরুনিমা ভ্রু কুঁচকালো, কাব্য দৃষ্টি নামিয়ে বলল , “ চেয়ারম্যান সাহেব কোথায় ডাকুন উনাকে।”
ইফরাহর কি জানি হলো এক মূহুর্ত দেরি না করে ছুটে গেলো সিঁড়ি দিকে। মাথার কাপড় আগলা হয়ে লম্বা বেনুনি টা দুলতে দুলতে সিঁড়ি বেয়ে উঠছে। কাব্য ঠোঁট কামড়ে দেখলো মেয়েটা ছুটে যাওয়া। হৃদয় স্পন্দন দ্রুত কদমে চলতে শুরু করলো তার। যতদূর অব্দি ইফরাহ চোখের আড়াল না হয় ততদূর অব্দি তাকিয়ে থাকলো সে।
সবে মাত্র ঘুম হতে উঠেছে আরাধ্য। তখনো কাটেনি ঘুমের রেশ। মাথাটা ঝিম ঝিম করছিলো বটে সে সবে পাত্তা না দিয়ে বিছানা ছেড়ে গোসল খানার দিকে পা বাড়িয়েছে এমন সময় , পিছন হতে দুটো নরম হাত জড়িয়ে নেয় তাকে। আরাধ্যের নাকে এক মিষ্টি গন্ধ আসে ; সে এই গন্ধটা চিনে। ইফরাহর শরীর হতে বেশ কয়েকবার পেয়েছে। যার দরুণ চিনতে আর কষ্ট হলো না নরম দেহের মালিক কে?

আরাধ্য কিছু সময় নিশ্চুপে দাঁড়িয়ে থাকলো। ইফরাহর দেহ অস্বাভাবিক কাঁপছে। বারবার খামচে ধরছে বুকের মাংস; পরিস্থিতি বড্ড গোলমেলে তবুও স্বাভাবিকতার কথা চিন্তে করে বুক হতে ইফরাহর হাত দুটো নিয়ে পরপর চুমু খেলো। এরপর কিছুটা রসিক হয়ে বলল, “ তুমি ভীষণ কোলঘেঁষা হয়েছো ইরা। যখন তখন এসে অদুরে হয়ে চিপকে যাচ্ছো। ”
ইফরাহ ডুকরে উঠলো। আরাধ্য বোধগম্য হচ্ছে না কিছু তবে, সে হঠকারিতা করার ছেলে নয়। শান্ত কন্ঠেই শুধালো , “ কিছু কি হয়েছে? বলবে আমায়। ”
ইফরাহ আরো চিপকে গেলো কিছুটা, যেন সে ভয় পাচ্ছে। আরাধ্য একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ঘুরে দাঁড়ালো দুই হাত ইফরাহর গালে রেখে একটু খানিক দেখলো এরপর বলল, “ আমি তোমায় বুঝদার মেয়ে বলেই জানি‌। তবে কিসের এতো ব্যাকুলতা ইরা?”

ইফরাহ দম নিয়ে বলল , “ নি.. নিচে পুলিশ এসেছে। কেনো এসেছে ? আ .. আপনি উল্টা পাল্টা কিছু করনে নি তাইনা?
আরাধ্য উচ্চ স্বরে চমৎকার করে হাসল , “পুলিশ এসেছে?”
ইফরাহ সরল চোখে তাকিয়ে বুঝতে চেষ্টা করছে। আরাধ্য হাসি থামিয়ে বলল, “পুলিশ এসছে বলে তুমি ভয়ে সিঁটিয়ে যাচ্ছো। এ বাড়িতে পুলিশ আসা নতুন কবে হলো বলতো?”
-”আপনি হাসছেন ?”
আরাধ্য ভাব ধরলো , “ কি বলছো হাসলাম বুঝি?”
-রসিকতা মোটেও ভালো লাগছে না আমার।

নিচ হতে চেঁচামেচি কানে বাজছে , দু’জনের কথা স্থগিত হলো। আরাধ্য বিছানার পাশ হতে এক গেঞ্জি হাতে তুলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো‌। ইফরাহ অশান্ত মনে আবারো বিপদের এক আশঙ্কা পেলো। আরাধ্যের পিছু নিয়ে। নিচে এলো … ততক্ষনে রেজাকে আঁটকে রেখেছে দুজন পুলিশ। চেয়ারম্যান কাব্যের সাথে কিছু একটা বলছিলেন ; অরুনিমা রাইসাকে জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।
মীর বাড়ির কাজের লোক থেকে শুরু করে প্রতিটি সদস্য আপতত আন্দরে উপস্থিত। ইফরাহ শেষ সিঁড়িতে এসে থেমে গেলো। আরাধ্য গিয়ে সোফায় গা এলিয়ে বসলো। এরপর আশেপাশে তাকিয়ে সব দেখে নিয়ে ডাকল ,

“ অফিসার , ও অফিসার।”
কাব্য ঘুরে তাকালো। আরাধ্য আড়চোখে কেমন করে জানি দেখলো তাকে , “ খবর ভালো‌ তো নাকি?”
কাব্য ঠোঁট কামড়ে হাসল , “ বহুত ভালো ছোট নবাব , আপনার বলুন?”
-”আমার খারাপ থাকার কারণ নেই তবে হ্যাঁ আমি থাকলে বাকিদের ভালো থাকার কারণ নেই।
-বাহ! চমৎকার কথা। তবে , আমার কেন জানি হয় এ ভালো থাকা দীর্ঘস্থায়ী নয়‌।
আরাধ্য সজা হয়ে বসল ,“ বলছেন!’”
-বলছি‌।

আরাধ্য রসিক স্বরে বলল ,“ বেশ তো তাহলে ধরে রাখুন সময়। তবে এবার যে ইতি ঘটার পালা!”
কাব্য মাথা ঝাঁকালো, “উহু ইতি হবার নয়। তবে , এর বাহিরেও খানিক গল্প থাকে সাহেব। ”
উপস্থিত সকলেই নিশ্চুপ। ইফরাহ তীক্ষ্ণ চোখে পরখ করে উপস্থিত সকলকে। হঠাৎ কাব্য এক জন কনস্টেবল কে ইশারা দিতেই রেজার কোমড়ে দড়ি বাঁধতে শুরু করে। মূহূর্তে তীব্র এক চিৎকারে কেঁদে ওঠে রাইসা। অরুনিমা কে ছেড়ে ছুটে এসে আঁকড়ে ধরে কাব্যের পা-

-“দয়া করুন অফিসার; বাঁধবেন না তাকে !
ধরবেন না , দোহাই লাগে ধরবেন না। ছেড়ে দিন ;
আমার সংসার হয়নি, আমি সংসার করবো ওই মানুষটার সাথে। অনুরোধ করছি ধরবেন না।”
কাব্য নিষ্পলক চাহনিতে শুধু দেখে রাইসার আর্তনাদ। মেয়েটার বয়স কম; কাব্যের মনের কোনে খানিকটা মায়া জন্ম নিলেও। আইনের কাছে হাত দুটো বাঁধা তার। রাইসার কান্নারত মুখের পানে তাকিয়ে কড়া আদেশে করল রেজা , “ উঠে দাঁড়াও রাই। বেগানা পুরুষের পায়ে তোমার অবস্থান নয়। রুদ্রনীল রেজার অর্ধাঙ্গিনী তুমি এতো কোমলতা মানানস‌ই না। ”

দাঁতে দাঁত চেপে ধরলো রাইসা। বসা ছেড়ে উঠে এসে চেপে ধরলো রেজার ছাই রঙ্গের শার্টে কর্লার। রেজা জড়বস্তুর ন্যায় দাঁড়িয়ে থাকলো ঠিক যেন অনুভূতির শূন্য। রাইসা ভেজা গলায় বলল ,
“আপনি বড্ড স্বার্থপর পুরুষ রুদ্রনীল। আপনি তাদের কেনো বলছেন না আপনি নির্দোষ; ওদের বলুন ‌না আপনি কোথাও‌ যাচ্ছেন না। শুনছেন রুদ্রনীল.. কথা বলুন। ওদের বাঁধতে নিষেধাজ্ঞা দিন;
এবারেও নিশ্চুপ রেজা। রাইসার বড্ড অভিমান হলো । কান্না থামিয়ে কিছুসময় তাকিয়ে দেখলো রেজার চোখজোড়ায়। ও দৃষ্টি যেন একদম শান্ত , রাইসা সরে দাড়ালো। হাতের তালুতে চোখের গড়িয়ে পানি টুকু মুছে নিলো। রেজা বোধ হয় এবার খুশি হলো। রাইসার মুখে পানে তাকিয়ে বলল , “ মানুষ শক্তের ভক্ত ,নরমের যম রাই । এতো উদারতায় জীবন চলে না। কেঁদো না , আমি ফিরবো।

-আর যদি না আসেন তবে?
-“তবে, সকলকে বলে দিও; আমার কবরের পাশে তোমার জন্য জায়গা রেখেই যেন আমায় দাফন দেয়।”
এবার আর কাঁদলো না রাইসা। গলা শক্ত করে বলল , “আমি পথ চেয়ে থাকবো আপনার আশায়। আমায় নিরাশায় মারবেন না।
-চলুন অফিসার।
কাব্য মাথা ঝাঁকিয়ে সায় জানালো। কনস্টেবল দুজন দুইদিক দিয়ে রেজাকে টানতে টানতে নিয়ে পার হলো মীর বাড়ির সদর দরজা। রাইসা তার চা‌ওয়ার পানে তাকিয়ে ধপ করে মেঝেতে বসে পড়লো‌। এই তো বিয়ে হলো তার। লোকটার সাথে প্রকৃতি জুড়ে দিলো তাকে তবে এটা কি ছিলো প্রকৃতি এতো নিষ্ঠুর হলো কী করে। হু হু করে কাঁদতে লাগলো যার দরুণ বুকের আঁচল মেঝেতে লুটিয়ে পড়েছে। এতক্ষণে উঠে দাড়ালো আরাধ্য। পা বাড়ালো ঘরে উদ্দেশ্যে তবে রাইসার কাছে এসে থেমে গিয়ে বলল , “ দুর্বলতা প্রকাশ মানেই উপহাস। ঘরে যাও মেয়ে, মীর বাড়ির মেয়ে ব‌উরা এভাবে কাঁদে না। ”

আরাধ্য আবারো পা বাড়ালো তবে , পথে আবারো থামতে হলো তাকে।
-সে ফিরবে তো ছোট নবাব ?
আরাধ্যের ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি। কন্ঠে গাম্ভীর্য রেখে বলল , “বলেছে যখন ফিরবে তবে নিশ্চিত থাকো মেয়ে সে ফিরবে।”
আর দাঁড়ালো না। গটগট করে হেঁটে চলে গেলো সে। একে একে সকলেই স্থান ত্যাগ করলো। ইফরাহর বোধ হয় রাইসাকে কিছুটা সান্ত্বনা দেওয়া উচিত তবে , সে কিছু‌ই বললো না। বড্ড কঠোরতা দেখা দেয় আজকাল হয়তো স্বার্থপরতা কাজ করছে ভেতরে কিছু সময় তাকিয়ে থেকে সেও ঘরে এলো।

আরাধ্য ততক্ষণে মদের বোতল হাতে বসেছে। দোল খাওয়া চেয়ারটায় গা এলিয়ে কত শান্ত হয়ে মদ গিলছে সে। ইফরাহ দরজা লাগিয়ে এসে পায়ে কাছে বসল আস্তে করে মাথা টা রাখলো কোলের উপর। আরাধ্য দৃষ্টি ঘুরিয়ে তাকালো, এরপর এক হাত রাখলো মেয়েটার মাথায়। ইফরাহ চোখ বুজে নিলো। আরাধ্য আরেক ঢোক গিলে বলল , “বড্ড গুলিয়ে যাচ্ছো তুমি ইরা।”
-যদি তাই হয়ে থাকে তবে এলোমেলো আমিটাই বড্ড নদান ছোট নবাব। কেননা বহুবার কঠোর ও নিষ্ঠুর হতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছি।
আরাধ্য একটু ঝুঁকে গিয়ে নরম গলায় বলে , “কি থাকলো , কি ঘটলো এসব ভেবে আফসোস জমাইলেই জীবনের সবচেয়ে বৃহৎ ধোঁকাটা তুমি খাবে। ”
-জীবন তো সেই কবেই পরিপূর্ণ ধোঁকা দিয়েছে আমায়। এরচেয়ে বড় ধোঁকা কী আদতেও আছে ছোট নবাব?
-কথা সত্য।

ইফরাহ গাঢ় এক দীর্ঘশ্বাস টানল , “ একখান অবদার করি? ”
আরাধ্য মদের বোতলটা রাখালো এরপর মনযোগী হলো। ইফরাহ বলল , “ ছেড়ে যাবার জন্য নিশ্চয়ই হাত ধরেন নি তাই না? যদি তাই হয় তবে ,আপনি ব্যতিত আমার কিছুই নেই। আপনি ছেড়ে যাবেন না ;”
-উঠে এসে ইরা। তোমার স্থান পায়ে না আমার বক্ষ পিঞ্জরে। অহেতুক নিজেকে নত করোনা।
ইফরাহ অনেক্ষণ আরাধ্যের চোখ জোড়া দেখলো। রক্তবর্ণ ধারণ করেছি চোখগুলো , এর কারণ কী? সত্যি কী কোনো কারণ আছে? ধীরে ধীরে উঠে দাড়ালো। আরাধ্য এক ঝটকায় এনে তাকে কোলে বসিয়ে কয়েকবার গলায় নাক ঘষে। বাহিরে রৌদ্র তাপ বেলকনির দরজা দিয়ে কিছু টা ঘরে প্রবেশ করছে। দুপুরের কড়া রোদ তখন ;

ছায়াস্পর্শ পর্ব ৪১ (৩)

আরাধ্য অর্ধ মাতাল। নেশার ঘোরে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো ইফরাহকে। লোকটার বেশ ভূষণ পুরো জঙ্গলিদের মতো হয়ে উঠেছে। মাথার চুলগুলো ঘাড়ের উপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। মুখ ভর্তি চাপ দাড়িও বেশ বড়ো হয়েছে। এই আগে হলে হয়তো নাক সিঁটকাতো ইফরাহ তবে এখন মায়া মায়া চোখে দেখলো। আরাধ্য নেশার ঘোরে কিছু বকবক করছিলো। ইফরাহ ডাকল , “ শুনছেন?”
সাড়া আসে না।কোনো মতে নিজেকে সড়িয়ে নিলো ইফরাহ। আলতো হাতে আরাধ্যের মাথাটা নিয়ে রাখলো চেয়ারে। এরপর গিয়ে দাড়ালো বেলকনিতে।

ছায়াস্পর্শ পর্ব ৪৩