Home ছায়াস্পর্শ ছায়াস্পর্শ পর্ব ৪৯

ছায়াস্পর্শ পর্ব ৪৯

ছায়াস্পর্শ পর্ব ৪৯
জান্নাত চৌধুরী

নিশীথের আঁধারেই অন্ধকার আচ্ছন্ন এক কুঠিরে বন্ধি করা হয়েছে ইফরাহকে। পুরো ঘর জুড়ে ভিজে মাটির এক স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধ। ইফরাহর বারবার গা গুলিয়ে আসছে, থেকে থেকে কেমন জানি পঁচা এক ঘ্রাণ নাকে এসে বারি খাচ্ছিল সেথায়। থেকে থেক বহুবার নিঃশ্বাস আটকে দিয়েছে সে। অনুমান করা যায় এটা কাঁচা মাটির ঘর , মৃদু টিম টিম হলুদ নিয়ে কেউ একজন ঘরে প্রবেশ করলো। একটু একটু করে ইফরাহ কাছে এসে হাঁটতে ভাজ করে বসলো। ইফরাহ রক্ত চোখে তাকালো সেদিকে ,

-নারীর দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছেন ছোট খন্দকার? এতো খানি অধপতন আপনার!
উড়ান হাসলো , মাটিতেই বাবু হয়ে বসে একটা সিগারেট ধরিয়ে ঠোঁটে চাপালো , “ আপনি অসহায় প্রিয়তমা?”
-সুযোগ লুটছেন যখন তখন নিশ্চয়ই অসহায়!
-এমনটা তো হবার কথা ছিলো না ! আপনার প্রতিশোধ নেবার কথা ছিলো , অথচ আপনি আমার আব্বাকেই মেরে দিলেন?
তা দিয়েছেন‌ ভালো কথা নয়তো ওই জানোয়ারকে আমি‌ই মেরে দিতাম। আপনার ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে।
ইফরাহ তাচ্ছিল্য হাসল , “ আপনি না ভালোবাসতেন আমাকে ?”

-এখনো বাসি!
-সুযোগ লুটে
উড়ান সিগারেটে লম্বা টান দিয়ে পাজা পাজা ধোঁয়া গিললো, “ তাই ভাবছো ?
-সন্দেহ আছে ?
-ভাবতেই পারো। কত জনে আমায় কত কিহ‌ ভাবলো তুমি ভাবলে ক্ষতি কী? তবুও তো আমাকে নিয়ে ভাবছো !
-আমায় ছেড়ে দিন দোহাই লাগে !
উড়ান হাসল , “ করুণা আমি করতে পারিনা। তবুও করবো যদি কিনা এই সন্তান আমাকে দেও।”
ইফরাহ চমকে উঠলো , মানে ?
মানে হলো , এই সন্তান আমার চাই প্রিয়তমা।

উড়ান সিগারেটে হাতে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে লাগলো ইফরাহ দিকের। ইফরাহ ভয়ে সিটিয়ে যেতে লাগলো , পা ঘষে ঘষে পিছিয়ে যেতে যেতে বলল , কি করছে ? কাছে আসবেন না ! ও আমার সন্তান!
উড়ান আবারো হাসল , তুমি খন্দকার বংশের মেয়ে হয়ে , মীর বংশের সন্তান গর্ভে রাখতে পারো না প্রিয়তমা। তুমি তাকে গর্ভে নিয়ে ভুল করেছো।
ইফরাহ গর্জে উঠলো , “কিসের বংশ! কোনো বংশ নেই আমার।
দয়া করেন ছোট খন্দকার এই পাপ করবেন না। আমার সন্তান , ওর বাপ, ওর বাপ এখনো জানে না ওর অস্তিত্ব। কাছে আসবেন না দয়া করেন।

উড়ান আরো কিছুটা ঝুঁকে গেলো। সিগারেটের অবশিষ্ট অংশ চেপে ধরলো ইফরাহর পেটে। পেটে নরম চমরা মে মূহুর্তেই জ্বলে গেলে তার। উড়ান এক হাতে চুলের গোছা চেপে ধরলো ইফরাহর , “ কে বললো আপনাকে আমি মেরে ফেলবো এই সন্তান কে ? মারবো না প্রিয়তমা , আমি তাকে মারবো না। তবে এই সন্তান যে আমার চাই।
দরজায় কিছুটা শব্দ হলো।‌ কেউ একজন আসছে, উড়ান সরে গেলো ইফরাহ কাছে থেকে। উঠে গিয়ে দরজা খুললো , বাড়ির কাজের লোক এসেছে। উড়ান জিজ্ঞেস করলো “কাহিনী কী ?”
মহিলা বলল , “ বন্দির খাবার এনেছি । আর আপনাকে ডাকে বড় খন্দকার।
উড়ান দরজায় তালা মারলো , “আমি আসার আগে এই দরজায় হাত লাগাবে না।”
দুজনেই চলে গেলো ,

চেয়ারম্যান রাত্রিতে লোক লাগিয়েছে ইফরাহর খোঁজে তবে কোনো খোঁজ এখন অবদ্ধি এসে পৌছায়নি। রাত পেরোলেই আরাধ্যের কেস কোটে উঠবে। উকিলের সহিত কথা বলেছে মীর আহনাফ, তার ভাবনা মতে মীর বংশের ছেলেরা ছেলে রা জেলে থাকে না। উকিল খানিক আগেই বাড়ি ছেড়ে গেলো।
চেয়ারম্যান ঘরে এলো , অরুনিমা সেই যে জায়নামাজে বসে এখনো ওঠে নিয়ে চেয়ারম্যান দেখলো অরুণিমা তখনো কাঁদছে বারবার আল্লাহ কাছে ফরিয়াত করছে ছেলে মেয়েদের জন্য।
গায়ের ফুতুয়া খুলে গোসলখানা দিকে র‌ওনা হলেন তিনি। খানি বাদেই হাতমুখ ধুয়ে ঘরে এলো। অরুনিমা ঘাড় কাত একটু খানি দেখে উঠে দাড়ালো।

চেয়ারম্যানের রাতে ঔষধ থাকে , না খেলে শরীর অবস্থা কাহেল হয়ে পড়বে। অরুনিমা গিয়ে খাবার আনলো , চেয়ারম্যান তখন বেলকনিতে দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুকছিলো। অরুনিমা ডাকল , “ খাবেন চলুন ! “
চেয়ারম্যান একটু খানি তাকিয়ে দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিলো। আকাশ মেঘলা , অরুণিমা আবার ডাকল , “ ঔষধ নিতে হবে আপনার। অল্প খানিক খেয়ে ঔষধ নিন। “
সিগারেট ফেলে ঘরে এসে শুয়ে পড়লো চেয়ারম্যান। অরুনিমা বেজায় বিরক্ত হলো , “ কি চাইছেন কী আপনি আমার মরণ , আমি মরলে শান্তি লাগবে তাইনা। থাক খেতে হবে না!
চেয়ারম্যান চোখ বুজে সব শুনলো। খানিক বাদেই অরুনিমা বকবক করতে করতে এসে পাশে শুয়ে পড়লো। চেয়ারম্যান বলল , “ রাত পেরিয়ে উঠলেই ফারহানের কেস কোর্টে উঠবে অরু। অথচ আমি ওই মেয়েল কোনো খবর এখনো বের করতে পারিনি। পাগলে কানে খবর গেলে কী হবে ভেবেছো ?
অরুনিমা বলল , “ আপনি নিজের ছেলের কথাই ভাবছেন অথচ মেয়েটা কী অবস্থায় আছে তা ভাবছেন না। “
-চিন্তিত হবার কোনো কারণ নজরে আসছে না আমার। আমি আমার মানিক কে নিয়েই চিন্তিত কেবল।
অরুনিমা কথা বরালো না নাকি বাড়াতে চাইলো না ঠিক বুঝা গেলো না। সে কেবলি পাশ ঘুরে পড়ে থাকে , দু চোখে ঘুম নেই তার।

রাত্রি দ্বিপ্রহরে ,
ঘুমে অচল পুরো খন্দকার বাড়ি । বাড়ির কাজের লোক লেখ শুরু করে সকলেই গভীর ঘুমে। হঠাৎ তাইয়্যেবার ঘুম আগলা হয়ে এলো , গা থেকে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে আযানের হাত। আযান উঠে বসল , বেশ সাবধানে খাট থেকে নেমে গেলো।
তাইয়্যেবার চোখে ঘুম নেই‌। সে ঘুমাতে পারেনি , বহু কষ্টে দু চোখ বুজে ছিলো সে। ইফরাহ কে আনা হয়েছে খন্দকার বাড়িতে খবর কানে এসেছে তাইয়্যেবার , সে জানতো রাতে এমন কিছু হবে। বারবার চেষ্টা করেছে আযান কে আঁচলে বাধতে তবে পারি নি। উড়ানে উন্মাদনা লোক চক্ষুর সম্মুখে। তবে ইফরাহ প্রতি আযানে আসক্তি সম্পূর্ণ গোপনীয়। তাইয়্যেবা পারেনি ওই লোকের হৃদয়ে জায়গা নিতে।
কেনো পারে নি আজো অজানা তার।

আযান বেড়িয়ে গেছে ঘর ছেড়ে। তাইয়্যেবা ধীরে ধীরে উঠে বসল। খানিকক্ষণ এদিক ওদিক তাকিয়ে দ্রুত বিছানা ছেড়ে নামলো। সাদা রঙের এক ওড়ানা কোনো মতে মাথায় দিয়ে সেও ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেলো।
সে নিশ্চিত আযান গন্তব্য ওই মেয়ে। দু ঘর পরেই উড়ানের ঘর টা তাইয়্যেবার একবার সে ঘরে উঁকি দিয়ে দেখলো উড়ান তখন গভীর ঘুমে। এর পর পিছু নিলো আযানের।
সাদা পাঞ্জাবির উপর এক কালো শাল জড়িয়ে খন্দকার বাড়ির পুরনো কোঠার ঘরের দিকে যাচ্ছে আযান , তাইয়্যেবা ধীর কদমে পিছু নিচ্ছে তার। তাইয়্যেবা দুচোখ ভরে আসছে। সে জানতে চায় ওই ঘরে নিশ্চয়ই ইফরাহ আছে। এক মেয়ের প্রতি কেনো দুই ভাইয়ের এতো আসক্তি।
সেও খন্দকার বাড়ির মেয়ে। তবে কেনো সে স্বামীর ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত ? কেনো সে সন্তানে‌ মা হবার থেকে বঞ্চিত।

তাইয়্যেবার মনে পড়লো মাস চারেক আগের কথা। বিবাহের এতো বছরেরও যখন সন্তানের মা না হবার হতাশা তাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিলো। এর মাঝেই হঠাৎ কনসিভ করলো মেয়েটা। কত কত স্বপ্ন সাজালো নিজের জন্য , নিজের নবাগত সন্তানের জন্য। তবে কে জানতো তার স্বামীকে জানানোটাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় কাল হবে , তার সন্তানের জন্য কাল হবে।‌কোনো বাবা কী সত্যি তার সন্তান কে খুন করতে পারে?
পারে বোধ হয়। নয়তো আজ তার নবাগত সন্তান ও পৃথিবীর আলো দেখতো। তাকে দেখতে দেওয়া হয়নি, তার সন্তান তাকে মা বলে নি।

কখন জানি চোখ ভরে পানি গুলো গালে এসেছে খেয়াল নেই তাইয়্যেবার। কোঠার ঘরের কাছে আসতেই কানে বাজলো ইফরাহ কন্ঠ মেয়েটা চিৎকার করছে । তাইয়্যেবার বুকের মাঝে কেমন একটা মোচর দিলো।
গোপনে খবর পৌঁছেছে তার কাছে , ইফরাহ অন্তঃসত্ত্বা। এসময় শারীরিক অত্যাচার ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে অন্তত। তাইয়্যেবা দরজার হাত দিতেই আলগা হয়ে গেলো ঘরের দরজা। আযান তখনো বদ্ধ উন্মাদের ন্যায় এগিয়ে যাচ্ছে ইফরাহর দিকে। তাইয়্যেবা দেখলো লোকটার চোখে মুখে লালসার ছাপ। আজ বড্ড ঘৃণা হলো নিজের উপর। সে কি তবে স্ত্রী হিসাবে ব্যর্থ। তার স্বামী তার কাছে অখুশি ছিলো সে। তাইয়্যেবা শরীর অবস হয়ে আসছিলো , হাত পা ঝিম ঝিম করছে। কাঁপা কাঁপা গলায় সে ডাকল , “ খ..খন্দকার সাহেব। “
চৌকিতে ঘুরে তাকলো আযান। ইফরাহ কাতর দৃষ্টিতে দেখলো তাইয়্যেবাকে। মেয়েটার চোখে পানি। তাইয়্যেবা দেখলো আযানের হাতে এক সিরিজ। ওটা কী ?
তবে কী তার মতো আরেকটা মাও সন্তান হারা হবে। তাইয়্যেবা নিজেকে শক্ত করে বলল , “ আর কত খানি পাপ করলে তবেই তৃপ্ত হবে আপনার হৃদয়? “
আযান তীব্র বিরক্তি নিয়ে বলল , “ এখানে কেন এসেছে তুমি ?”

-এইটা আমার প্রশ্নের উত্তর নয় খন্দকার সাহেব।
-মরার শখ পুষচ্ছো আজকাল?
তাইয়্যেবা তাচ্ছিল্য হাসলো , “ মরেই তো বেঁচে আছি। আর কীভাবে মারবেন আমাকে ?”
-চলে যাও তাইয়্যেবা আমার কাজে বাঁধা হতে এসো না চরম মূল্য চোকাতে হবে তোমাকে।
-আর কত ?
আযান যেন চমকিত হলো। তাইয়্যেবার কন্ঠে কৈফিয়ত , যে কৈফিয়ত চাইছে তার কাছে। চোখ বুজে গাঢ় এক শ্বাস ফেলে নিজেকে শান্ত করলো আযান। আবারো ইনজেকশন হাতে ইফরাহ দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো। ইফরাহ বলল , “ মরণে ভয় করুন খন্দকার সাহেব। আপনার পাপের ভার আর বাড়াবেন না।”
আযান সহ্য করতে পারলো। দ্রুত পা চালিয়ে গিয়ে চেপে ধরলো ইফরাহর চুলের গোছা। দাত দাঁত চেপে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল , “ পাপ ততদিন করিনি যতদিন তুই , তুই হয়েই ছিলি। যতদিন আমার নজরে ছিলি। “
ইফরাহথ চোখে অবাকের রেশ। সম্পূর্ণ কথা তার মস্তিষ্কে প্রসেসিং হতে পারেনি। ইফরাহ প্রশ্ন করল , “ আপনার কথার যথার্থ কারণ কী ?”

-ভালোবাসা !
পেছন হতে তাইয়্যেবার কন্ঠে খানিক আবাক হলো ইফরাহ। বিরবির করে আওড়ালো , “ ভালোবাসা।”
আযান কড়া কন্ঠে বলল , “ তোমায় ফিরতে বলেছি তাইয়্যেবা।”
-আমি ফিরলে কী করবেন আপনি ওর সাথে ?
আযান ইফরাহ কে ছাড়লো। ঘুরে এসে দাঁড়ালো তাইয়্যেবা কাছে , “আমি তোমার যা করিনা তাই করবো।”
-কতটা নিচে নেমেছে ভাবছেন ?
আযান কেমন করে জানি হাসল , “ ভাবলাম।”
-উড়ান ভাই জানলে ওকে ছুঁয়ে দেওয়ার অপরাধে কলিজা ছিড়ে নিবে আপনা…
তাইয়্যেবার কথা শেষ হলো না তার আগেই গলায় শক্ত পক্ত এক হাতে থাবা বসলো। চোখে রক্ত ওঠে আসার উপক্রম হলো। আযান উন্মাদের মতো বলল , “ উড়ান কে ? আমার দয়ায় তার অস্তিত্ব। এত কথা এতো বালপাকনামি করতে মানা করেছিলাম আমি। “

ইফরাহর দেহ ক্লান্ত লাগছে , সে চোখ বুজে র‌ইলো। কাঁপা কাঁপা হাতে খোপার কাঁটা খুলে ঠিক আযানে ঘাড়ে বসিয়ে দিলো তাইয়্যেবা। মূহুর্তেই ছিটকে দূরে সরে গেলো আযান। ছাড়া পেয়ে খানিকা কাঁশতে থাকলো মেয়েটা। আযান গলা কাটা মুরগীর মতো ছটফট করতে লাগলো। খানিক বাদেই লোকটা মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। রুপার চুলের কাটা রক্ত স্রোতে কেমন লাল হয়ে হয়ে গিয়ে। তাইয়্যেবা হাটু ভাঁজ করে আযানের সম্মুখে বসল, “ আমায় ভালো বাসলে কী হতো আযান ভাই ? আমাদের একটা সংসার হতো। আমার সন্তান আজ পৃথিবীতে থাকতো। আমি মা হতাম ! তবে আপনি ,
যাকগে , একজন সন্তান কে একটা মা কত আশা করে গর্ভে নেন তা জানে না আপনিই। আপনি মানুষ নন‌ , আপনি কাফের । মাফ করবেন আপনাকে আঘাত করার জন্য। অন্তত আমার সাথে যা হয়েছে। তা ওর সাথে হতে দিলে আমার পাপ লাগবে সাহেব। যদিও আমি পাপী তবুও একজনে মায়ের অভিশাপ নিয়ে আপনার বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই। আমিই দিনের পর দিন মরেছি আপনার অভাবে।
তাইয়্যেবা কেঁদে উঠলো। খানিকক্ষণ কেঁদে নিয়ে ধীরে ধীরে ঝুঁকে গিয়ে ঠোঁট দখলে নিলো আযানের। রক্ত গড়িয়ে সাদা পাঞ্জাবি লাল হয়েছে আযান খুব কষ্টে তাইয়্যেবার চুল শক্ত করে ধরল। তাইয়্যেবা একটু খানি হাসল। ঘাড়ের বিধানো রুপালি কাঠিটা হেঁচকা টানে খুলে নিলো।

কাঠিতে তখনো রক্ত লেগে আছে। তাইয়্যেবা জিহ্ব দিয়ে একবার চেটে রক্তের নোনতা স্বাদে চোখ আবেশে বুজে নিলো। তার পরমুহূর্তেই এবার কাঠিটা ঠিক আযানের চোখ বরাবর ঢুকিয়ে দিলো সে। বিকট এক চিৎকার ফেটে পড়লো পুরো কোঠা ঘরে।‌ইফরাহ শান্ত চোখ দেখছে কেবলি সব।‌ যেন মনে হচ্ছে যেন এটা নিত্যদিনের খেলা।
তাইয়্যেবা উঠে দাড়ালো ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে ইফরাহর কাছে। একটু খানিক দেখে নিয়ে বলল , “ তুমি ভাগ্যবতী !”
ইফরাহ হাসল , “ বলছো ?
-বলছি!
দুজনের মাঝে খানিক নীরবতা চলল! ইফরাহ বলল, “ওটা যে মরলো!”
তাইয়্যেবা আযানের দিকে তাকালো , “ মারলম তো !”
ইফরাহ শান্ত কন্ঠে বলল , “ আফসোস হচ্ছে না ?”
-“কেনো ?
-“স্বামী ছিলো তোমার। ঘরটা ভাঙ্গলে !”

এ পর্যায়ে উচ্চ শব্দে হেসে উঠলো তাইয়্যেবা , “ভালো বললে কিন্তু। ঘর ভাঙ্গলো। ”
ইফরাহ ভ্রু যুগল কুঁচকে তাকল। তাইয়্যেবা বলল , সে আমাকে নয় তোমাকে চেয়েছিলো। আমি কেবলি ছিলাম তার সঙ্গীনি তবে প্রাণপ্রিয়া ন‌ই যেটা তুমি না চাইতেই হয়েছো।
ইফরাহ বোধহয় আবাক হ‌ওয়ার কাল চলছে। একের পর এক চমক বিধাতা তাকে দিচ্ছে … খানিক বাদেই ভোরের দিকে সময় যাবে। তাইয়্যেবা বলল , “ পালাবে ?”
ইফরাহ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল , “ বিনিময় ?”
তাইয়্যেবা তাচ্ছিল্য হাসল , “ নিজেকে বাঁচাও ।”

ছায়াস্পর্শ পর্ব ৪৮ (২)

ইফরাহ নিশ্চুপে কেবলি দেখলো তাইয়্যেবাকে। তাইয়্যেবা উঠে হা পায়ের বাঁধন খুলতে লাগলো ইফরাহর। ইফরাহ বলল , “ সঙ্গে চলো আপা , বাকি জীবনটা নাহয় আমাদের সঙ্গে কাটিও।”
ইফরাহ হাত নিজের মুষ্ঠিতে শক্ত করে চেপে ধরলো তাইয়্যেবা , আদুরে হাত ছুঁয়ে দিয়ো গালে।‌গাঢ় এক চুমু খেলো হাতে। এরপর বলল , “আমি তাকে ভালোবাসি। সে একা থাকতে পারবে না মেয়ে।‌ আমাকে সঙ্গি হতে হবে। তুমি পালাও ! ”
ইফরাহ বোধহয় আরো কিছু বলতো , তবে কারো পায়ের শব্দ কানে বাজলো তাদের।‌ তাইয়্যেবা বলল , “ সময় নেই মেয়ে। জলদি ভাগো এখান থেকে।‌ আজ বেড়োতে না পারলে বড্ড পস্তাবে। “

ছায়াস্পর্শ শেষ পর্ব