আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৬৫
অরাত্রিকা রহমান
সকালের সূর্য পূর্ব আকাশে ঝলমল করছে। রায়ান আর মিরার ঘরটাও সেই আলোতে ঝলমল করছে। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো ঘরের পরিবেশ ও বাইরের পরিবেশের সাথে ভারসাম্য রক্ষা করছে- উভয়ই উত্যক্ত উষ্ণ!
মিরা বিছানার হেড বোর্ডে হেলান দিয়ে বসে আছে- তার উন্মুক্ত গায়ে শুধু ব্লেঙ্কেট টা জড়ানো, চোখ রাগে ফেটে পড়ছে। মিরা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বিছানার অন্য পাশে তাকাতেই দেখলো রায়ান উপুড় হয়ে শুয়ে আছে। রায়ান যে ইচ্ছে করে ওভাবে শুয়েছে এমন নয়- রায়ান বরাবরের মতোই মিরার উপরে শুয়ে ছিল, কিন্তু মিরা জোড় করে রায়ান কে নিজের উপর থেকে সরিয়েছে তার ঘুমের মাঝে। মিরার রায়ান কে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে আরো রাগ হলো। মিরা দাঁতে দাঁত পিষে বিড়বিড় করে বলল-
“সারা রাত আমাকে জ্বালিয়ে এখন কি সুন্দর নিশ্চিতে ঘুমাচ্ছে। অসভ্য লোক কোথাকার। দেখাচ্ছি মজা।”
রায়ানের উন্মুক্ত পেশিবহুল প্রশস্ত পিঠে মিরা ইচ্ছে করে জোড়ে নখ বসালো। রায়ান মিরার হঠাৎ আক্রমণে ঘুম থেকে উঠে গেল। আধো আধো চোখ খুলে ঘুম জড়ানো গলায় বলল-
“আউউউ্, কি করছো পাখি? লাগছে।”
মিরা আরো জোড়ে খামচি দিয়ে বলল-
“লাগুক, আরো বেশি লাগুক। আমার কি লাগে না? আমি তো সহ্য করি। আপনিও সহ্য করুন।”
রায়ান শোয়া থেকে উঠে মিরার হাত ধরে ফেলে বলল-
“সহ্য করো মানে? আমি তোমাকে খামচি দেই?”
মিরা রায়ানের থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে রায়ানের হাত নিয়ে জোড়ে কামড়ে দিয়ে বলল-
“আপনি আমাকে এর থেকে আরো বেশি ব্যাথা দেন।”
রায়ান ব্যাথায় নিজের হাত সাথে সাথে মিরার থেকে নিয়ে নিল-
“Why are you being so wild baby? Chill out..”
মিরা বিরক্ত হয়ে রায়ানের বুকে ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দিয়ে বলল-
“আপনি আমার চোখের সামনে থেকে যান। আমি আর কখনো আপনাকে ঘুম পাড়াবো না। একা ঘুমাবেন এখন থেকে।”
রায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে মিরাকে নিজের কাছে টেনে নিল। মিরা ছলছল চোখে তাকালো রায়ানের দিকে। রায়ান অনুতপ্ত হয়ে মিরাকে বুঝিয়ে বলল-
“এমন বলে না বউ। আমি তোমাকে ছাড়া ঘুমাতে পারি না।”
মিরা রায়ানের বুকে আঘাত করে বলল-
“আমার সাথে থেকেও কই ঘুমান আপনি? উল্টো আমাকে ভুগতে হয়।”
রায়ান মিরার হাত আঁকড়ে ধরে হাতের উল্টো পিঠে চুমু খেয়ে বলল-
“Baby let me explain myself ok?”
-“What explanation!?”
রায়ান বিছানার হেড বোর্ডে হেলান দিয়ে মিরাকে নিজের বুকে জড়িয়ে নিয়ে তার চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল-
“Last night I was sleeping peacefully, you know.. but at mid night..I suddenly remembered how much I love you.. তো পরে আর আমার দ্বারা কন্ট্রোল হয় নি। সরি।”
মিরা চোখ বাঁকিয়ে রায়ানের দিকে মুখ উঁচু করে তাকালে রায়ান দাঁত বের করে বানোয়াট হেঁসে মিরার গালে ফট করে চুমু খেয়ে বলল-
“এইভাবে তাকায় না হৃদপাখি, ভয় লাগে তো।”
মিরা রায়ানের কাছ থেকে দূরে সরে গিয়ে বসলো। রায়ান পিছন থেকে মিরা জড়িয়ে ধরলো ব্লেঙ্কেট সহ, আর মিরার খোলা চুলের মাঝে মুখ গুজে দিয়ে আদুরে ডাক নামে ডাকতে লাগলো-
“আমার কাপ কেক…আমার বাটার স্কোচ…আমার চিনি…আমার চমচম.. আমার রসমালাই…আমার সুগার প্লাম.. বরের উপর রাগ করতে হয় না।”
মিরা চুপ চাপ বসে রইল মুখ গোমড়া করে। রায়ান মিরার চুল সরিয়ে তার উন্মুক্ত ফর্সা পিঠে নিজের গালের খোঁচা খোঁচা দাড়ি ঘষতে লাগলো। মিরা বিরক্ত হয়ে বলল-
“উফফফ্।”
রায়ান ও একই সুরে বলল-“উফফফ্ ২! মাই বাটার মাসালা। Don’t be mad..”
মিরা রেগে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“১০০বার করবো রাগ। কি করবেন আপনি?”
রায়ান শয়তানি হাসি দিয়ে বলল- “দেখাচ্ছি কি করবো।”
কথাটা বলেই রায়ান মিরার স্পর্শ কাতর অংশ গুলো তে সুরসুরি দিতে শুরু করলো। এই কয় দিনে সে ভালো করেই বুঝে গেছে মিরার শরীরে ঠিক কোথায় কোথায় সুরসুরি আছে। রায়ানের এমন কান্ডে মিরা খিল খিলিয়ে হেঁসে উঠলো।
-“আআহ, রায়ান। প্লিজ করবেন না। সুরসুরি লাগছে। ছাড়ুন।”
রায়ান আরো বেশি সুরসুরি দিতে শুরু করলো। মিরা নিজের শরীর ঢাকতে গায়ের ব্লেঙ্কেট আর রায়ানের স্পর্শ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। অবশেষে রায়ান কে হুমকি দিয়ে বলল-
“থামুন নয়তো আমিও আপনার আঙ্গুল কামড়ে দেবো।”
রায়ান থেমে গিয়ে নিজের আঙুল মিরার সামনে তুলে বলল-
“কামড়াও তো দেখি।”
মিরা হা করে যেই কামড়াতে যাবে রায়ান নিজের আঙ্গুল নিজের ঠোঁটের উপর রেখে বলল-
“এবার কামড়াও।”
মিরা রায়ানের কান্ডে ফিক করে হেঁসে উঠে তার কাঁধে আঘাত করে বলল-
“ছিঃ.. কি খারাপ আপনি।”
রায়ান মিরাকে লজ্জা পেতে দেখে হেসে উঠলো। মিরা শরীরে ব্লেঙ্কেট জড়িয়ে বিছানা থেকে নামতে নিলে রায়ান ব্লেঙ্কেটের কোণা আঁকড়ে ধরে বলল-
“বেইবি একটু দেখি তোমাকে..এটা ফেলে দাও না।”
মিরা চোখ বড় বড় করে নিয়ে রায়ানের হাতে ঠাস করে চর মেরে বলল-
“যাহ্ দুষ্টু, আধ দামড়া লোক একটা। সরুন। বুড়ো ভাম কোথাকার।”
বয়সের খোটা দেওয়ায় রায়ান মিরার হাত ধরে টেনে নিজের কাছে এনে গভীর কণ্ঠে গেয়ে উঠলো-
“you’re gonna call me pappy..
I’ll make your body happy…
Everytime that you call me..
You know that I’ll take care of you..”
মিরা রায়ান কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে ওয়াশ রুমে দিকে দৌড় দিতেই রায়ান লাফ দিয়ে মিরার সামনে এসে দাঁড়িয়ে পথ আঁটকে দিয়ে আবদার করলো-
“Baby.. let’s take shower together…!”
মিরা চোখ ছোট ছোট করে নিয়ে মাথা না সূচক নাড়িয়ে বলল-
“Absolutely no hubby..we are not..”
রায়ান মিরাকে দেশের উন্নতির দোহাই দিয়ে বলল-
“বেইবি দেশে পানির অনেক সংকট। বিশেষ করে ঢাকায় তো পানির সমস্যা অনেক বেশি। আমাদের পানি সেভ করা উচিত। একসাথে শাওয়ার নিলে অনেক পানি সেভ হবে। জাস্ট ভাবো দেশের কত উন্নতি করা সম্ভব এক সাথে শাওয়ার নিয়ে।”
মিরা রায়ানের কথার কোনো পাত্তা না দিয়ে রায়ানের পাশ কাটিয়ে ওয়াশ রুমে চলে যেতে যেতে বলল-
“এতো দেশ প্রেম থাকলে আপনি শাওয়ার নেওয়াই ছেঁড়ে দিন।”
এরপর ওয়াশ রুমে ঢুকে ঠাস করে ওয়াশ রুমের দরজা রায়ানের মুখের উপর বন্ধ করে দিল।
মিরা শাওয়ার শেষ করে বের হলে রায়ান শাওয়ার নিতে গেল। রায়ানের সকালের বউ আদরের কোটা পুরো হয় নি বলে সে মনে মনে দুষ্ট বুদ্ধি এটে মিরাকে ওয়াশ রুম থেকে বলল-
“হৃদপাখি…আছো? আমি টাওয়াল টা আনতে ভুলে গেছি একটু দাও না হাত বাড়িয়ে?”
মিরা ভ্রু কুঁচকে ওয়াশ রুমের দরজার দিকে তাকিয়ে দেখে বিড়বিড় করলো-
“খুব শেয়ানা মনে করেন নিজেকে তাই না? দেখাচ্ছি শেয়ানা গিড়ি কাকে বলে।”
মিরা ঘর থেকে তাড়াতাড়ি বের হয়ে তার পাশে নজর ঘুরাতেই দেখলো রিমি আর রুদ্র নিজেরা কথা বলতে বলতে সিঁড়ির দিকেই যাচ্ছে। মিরা হাত নাড়িয়ে রুদ্র কে ডেকে বলল-
“রুদ্র ভাইয়া…একটু শুনো না।”
রুদ্র মিরার কাছে গেলে মিরা একটু তাড়া দেখিয়ে রুদ্র কে বলল-
“মামণি আমাকে নিচে ডাকছে। তোমার ভাইয়া আবার নিজের টাওয়াল চাইছে তুমি একটু ওনাকে টাওয়াল টা এগিয়ে দাও কেমন? আমি আর রিমি নিচে যাচ্ছি।”
রুদ্র হ্যাঁ না কিছু বলার আগেই মিরা রিমির হাত ধরে টেনে সিঁড়ির দিকে চলে গেল। রুদ্র হা হয়ে সেদিকে দেখে বাধ্য হয়ে মিরা আর রায়ানের ঘরে ঢুকলো রায়ানের টাওয়াল টা রায়ানের হাতে দিতে। রায়ান পুনরায় চেঁচিয়ে উঠলো নিজের হাত ওয়াশ রুমের দরজা একটু ফাঁকা করে বের করে-
“হৃদপাখি, তাড়াতাড়ি দাও না।”
রুদ্র বিছানায় উপর থেকে টাওয়াল টা নিয়ে রায়ানের হাতে দিতে গেলে রায়ান মিরাকে ভেবে রুদ্রর হাত খপ করে ধরে নিলে রুদ্র পেনিক করে গিয়ে চেঁচিয়ে উঠলো-
“আরে আমি মিরা না তো, আমি রুদ্র। মিরা…ভাবি..তোর বর আমার ইজ্জত লুটতে চাইছে? রিমি বাঁচাও?”
মিরা রিমিকে নিয়ে গুটি গুটি পায়ে আবার ঘরের দরজার থেকে উঁকি দিয়ে এই দৃশ্য দেখে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। রায়ান রুদ্রর আওয়াজ শুনে তাড়াতাড়ি রুদ্রর হাত ছেড়ে দিল। রুদ্র ছাড়া পেয়েই এক দৌড়ে নিচে চলে গেছে সাথে রিমি আর মিরাও।
সকালের কাহিনী শেষ হলেও রায়ান আর খেতে নিচে নামে নি। মিরা বাধ্য হয়ে রায়ানের খাবার ঘরে নিয়ে এসে রায়ানের সামনে রাখলো। রায়ান নিজের ল্যাপটপে নজর দিয়ে রেখেছিল সম্পূর্ণ। মিরাকে খাবার টি টেবিলের উপর রাখতে দেখে মিরার দিকে এক নজর তাকিয়ে মনে মনে বিড়বিড় করলো-
“My food is surviving food to me.. wow..”
অস্পষ্ট হলেও মিরা রায়ানের কথা শুনতে পেল। রায়ান কে খোঁচা দিতে বলল-
“There is a difference..”
রায়ানও তর্কে হাড়বে না বলে খাবারের প্লেট থেকে একটা স্যান্ডউইচ উঠিয়ে খেতে খেতে বলল-
“হ্যাঁ ডিফারেন্স তো আছেই। একটা প্লেটে সার্ভ হয় অন্যটা বিছানায়।”
মিরা বিরক্ত হয়ে রায়ানের দিকে তাকিয়ে মুখে ভেংচি কাটলো।
কলেজের পর মাহির আর সোরায়া আজ প্রথমবার একটু অন্য কোথাও ঘুরতে এসেছে। সোরায়া মাহির কে একবার বলেছিল তার নদী খুব ভালো লাগে তাই মাহির সোরায়াকে একটা লেকেই ঘুরতে নিয়ে এসেছে। লাঞ্চ শেষ করে দুইজন আবার ফিরে যাবে।
লেকের সামনে একটা বেঞ্চে সোরায়া মাহিরের কাঁধে মাথা রেখে বসে আছে। বেশ অনেকটা সময় কেটে যাওয়ার পর মাহির নীরবতা ভেঙে সোরায়াকে জিজ্ঞেস করলো-
“জান বাচ্চা…তোমার খিদে পায় নি? খাবে না?”
সোরায়া চোখ সামনে রেখেই বলল-
“উঁহু, এভাবেই থাকি না? এভাবেই ভালো লাগছে।”
মাহির আদর করে সোরায়ার কপালে চুমু খেতেই সোরায়া সাথে সাথে মাহিরের হাত ছেড়ে দিয়ে দূরে সরে গেল। মাহির চমকে গিয়ে বলল-
“কি হলো?”
সোরায়া মাথা নিচু করে বলল-
“আপু বলেছে উল্টো পাল্টা কিছু না করতে।”
মাহির সোরায়ার ইনোসেন্ট চেহারা দেখে মুচকি হেঁসে
সোরায়ার মাথায় হাত রেখে কয়েকবার ট্যাপ করে বলল-
“হুম, ঠিক বলেছে আপু। লক্ষ্মী বাচ্চা আমার।”
সোরায়া একটু সিরিয়াস হয়ে মাহির কে জিজ্ঞেস করলো-
“স্যার, আপনি কাল আপুকে বললেন আপনি আম্মু আব্বুর সাথে কথা বলবেন।”
-“হুম, তোমাকে আমার বউ করতে হলে তো বলতেই হবে।”
সোরায়ার মুখে চিন্তার ছাপ দেখা দিলো। সোরায়া মাহির কে জিজ্ঞেস করলো-
“আপনি না হয় বললেন। আমি কিভাবে চাচা চাচি কে বলবো? ওরা যদি না মানে? যদি আমার পছন্দ নিয়ে তাদের দ্বিমত থাকে তখন কি হবে?”
মাহির একটু গভীর ভাবে ভাবার ভাব নিয়ে বলল-
“হুম, ভাবার বিষয়। তোমার পছন্দ সত্যিই অনেক অদ্ভুত।”
সোরায়া মাহিরের চোখে চোখ রেখে ভ্রু কুঁচকে বলল-
“আপনি নিজের ব্যাপারে এমন কিভাবে বলতে পারেন?”
মাহির সোরায়া কে জড়িয়ে ধরে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল-
“আমি অনেক পরিশ্রম করবো যেন কেউ কখন তোমার পছন্দ নিয়ে দ্বিমত পোষণ না করতে পারে।
আমি এমন কিছু কখনো করবো না যা করলে তোমাকে লোকে প্রশ্ন করবে – তুমি এই ছেলেকে কেন পছন্দ করেছ। আমি আরো ভালো হওয়ার চেষ্টা করবো। ঠিক যেমন হলে তোমাকে পাওয়ার যোগ্যতা হবে আমার ঠিক তেমন। তুমি ছাড়া দুনিয়ার আর কিছুর পরোয়া নেই আমার। আমি ঠিক চাচা চাচির পছন্দের হয়ে যাবো।”
সোরায়া মনোযোগ দিয়ে মাহিরের কথা গুলো শুনলো। সে এমন গুছানো কথা শুধু তার উপন্যাসের নায়কদের কাছেই শুনেছেন। মেয়েটার চোখ হঠাৎ করেই ছলছল করে উঠলো। সোরায়া মাহিরের চোখে চোখ রেখে বলল-
“I love you mahir sir…”
মাহির এক গাল হেসে সোরায়ার গাল টেনে বলল-
“কথা টা স্যার বাদ দিয়ে বললে ভালো হতো।”
-“I love you so much mahir..”
মাহিরের বড্ড ইচ্ছে হলো সোরায়া কে আরো একটু স্পর্শ করার কিন্তু তার অধিকার নেই। তাই বিরত থাকলো সেই কাজ করা থেকে কিন্তু সোরায়ার কথা জবাব ঠিক দিল-
“I love you more then myself my princess…”
মাহির দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল-
“কতই না চেষ্টা করি তোমাকে ওই নজরে না দেখতে। আমার দ্বারা হয়ই না। প্রতিদিনের স্বপ্নেও জ্বালিয়ে মারো আমাকে। কবে বড় হবে তুমি?”
সোরায়া মাহিরের দিকে মুখ করে অবাক চোখে জিজ্ঞাসা করলো-
“আমি আপনার স্বপ্নে এসে আপনার সাথে কি করি যে আপনি জ্বলে যান?”
মাহির নিজের কথার ফাঁদে পড়ে গেছে বুঝেই শুকনো ঢোক গিলে বলল-
“তুমি কি আমাকে আরো খারাপ ফিল করাতে চাইতো নাকি?”
সোরায়া চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে বলল-
“আরে, আমি আপনাকে খারাপ কেন ফিল করাতে চাইবো? আমি যদি আপনার সাথে স্বপ্নে এমন কিছু করে থাকি যার জন্য আপনি আপসেট হন তাহলে আমাকে বলে দিন যেন সেটা আমার ফিচারে কাজে আসে।”
মাহির তৎক্ষণাৎ মাথা না সূচক নাড়িয়ে বলল-
“না না, তোমার ওসব জানতে হবে না। আর ফিউচারে কাজে আসবে বলতে কি বুঝালে তুমি?”
সোরায়া মাহিরের প্রতিক্রিয়ায় আশ্চর্য হয়ে বলল-
“কিছু না। খিদে পেয়েছে।”
মাহির আর কথা না বাড়িয়ে সোরায়াকে নিয়ে খেতে চলে গেল। খাওয়া শেষে সোরায়াকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে নিজের ফিরবে।
বেলা শেষ হয়েছে। দিন গড়িয়ে এখন রাত। সবাই যার যার মতো কাজে ব্যস্ত। মিরা নিজের রুমে বসে পড়াশোনা করছে সামনেই পরীক্ষা তার। সোরায়া ও নিজের ঘরে বই পড়ছে কিন্তু হয়তো সেটা কলেজের বইয়ের পিছনে লুকিয়ে রাখা কোনো উপন্যাসের বই। রামিলা চৌধুরী নিচে নিজের কাজে ব্যস্ত। আর রিমি সোফায় পা তুলে বসে বসে রিলস দেখছে।
হঠাৎ করেই রিমির সামনে একটা রিল এলো যেখানে স্ত্রী আর স্বামী কে সারপ্রাইজ দিতে শাড়ি পড়ে ফুল আর পার্টি ব্লোয়ার নিয়ে অপেক্ষা করে আর পরে সারপ্রাইজ দেয়। রিমির মাথায় হঠাৎ করেই বুদ্ধি এলো সে রুদ্রর জন্যও এমনটা করবে।
রাত প্রায় ১০.৩০ এর মতো।
রিমি রুদ্রর কিনে দেওয়া লাল শাড়ি পড়েছে। এর কারণ দুটো- প্রথম, রুদ্র তাকে তাদের বিয়ের দিন লাল শাড়িতে ঠিক লাল টুকটুকে বউ রুপে দেখতে চেয়েছিল, যা দুর্ভাগ্যক্রমে হয়ে উঠে নি। আর দ্বিতীয়, আজ সে রুদ্রকে তার স্বামী হওয়ার সম্পূর্ণ অধিকার দিতে চায়, যার জন্য ছেলেটা এতো গুলো দিন ধরে মরিয়া হয়ে আছে।
রুদ্র বাড়িতে এসেই সোজা উপরে নিজের ঘরে গেল ফ্রেশ হতে। অফিসে কাজের চাপ দিন দিন বাড়ছে বই কমছে না। সামনে আবার কবে না কবে দেশের বাইরে চলে যেতে হবে তারও ঠিকঠিকানা নেই। সবকিছু কেমন ঘেঁটে আছে। রিমি সিঁড়ির উপর থেকে রুদ্র কে উপরে উঠতে দেখে দ্রুত দৌড়ে ঘরে গিয়ে দরজাটা চাপিয়ে দিয়ে নিজের হাতে ছাদ থেকে ছিঁড়ে আনা একটা গোলাপ আর পার্টি ব্লোয়ার টা নিলো। দুই হাতে দুটো জিনিস থাকলে ব্লোয়ার টা ফাটান সম্ভব নয় বলে রিমি গোলাপ টা নিজের মুখে কামড়ে ধরলো আর দুই হাতে ব্লোয়ার টা ধরে দরজার পাশে একটা চেয়ারের উপর উঠে দরলো- রুদ্র ঢোকার সাথে সাথে ব্লোয়ার টা ফাটাবে এমনটা ভেবে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রুদ্র দরজা খুলে হুট করে ঘরে ঢুকলো। তার মাথায় ঠিক উপরেই কেউ অবস্থান করছে অনুভব করেই তার চোখ সেদিকে গেলে রুদ্র রিমিকে লাল শাড়িতে, মুখে গোলাপ নিয়ে, হাতে থাকা ব্লোয়ার টা ব্লাস্ট করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে দেখতে পেল। তার কয়েক সেকেন্ড লাগলো বিষয়টা বুঝতে কি চলছে এইখানে। রিমি রুদ্র কে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে যখন বুঝতে পারলো সে ব্যর্থ হয়েছে সাথে সাথে হতাশায় হাত থেকে ব্লাস্টার টা ফেলে দিয়ে মুখ থেকে গোলাপটাও বের করে ফেলে দিয়ে বিরক্ত গলায় বলল-
“ধুর বাল, খেলব না আমি।”
বলেই চেয়ার থেকে নেমে গেল।
রুদ্র হতবাক। সে যদি রিমির পরিকল্পনা জানতো, হয়তো তা সফল করার ক্ষেত্রে কিছু একটা করতে পারতো কিন্তু এখন সে কি করবে?! রুদ্র উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে রিমিকে হতাশ হতে না দিয়ে স্বেচ্ছায় আরো উৎসাহ দিয়ে বলল-
“আরে আরে, কি হলো? ব্যাপার না সোনা। Let’s take two..আমি আবার ঘরে ঢুকছি। উঠো, উঠো।”
রুদ্র ব্লোয়ার টা তুলে রিমির হাতে দিয়ে, গোলাপ টাও তুলে রিমি মুখে ঠিক আগের মতো রাখলো। তারপর সুন্দর মতো কোলে তুলে চেয়ারে উঠিয়ে দিয়ে নিজে দরজার বাইরে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দিতে দিতে বলল-
“আমি আবার ঢুকছি। 1 2 3 count করবো। ওকে?”
রিমি সত্যি খুশি মনে উৎসাহিত হয়ে মাথা উপর নিচ ঝাঁকিয়ে সম্মতি দিলে রুদ্র তাকে সাধুবাদ জানায়-
“All the best..”
রুদ্র পুনরায় ঘরে প্রবেশ করলো, ঠিক যতটা সম্ভব ততটা কিচ্ছু না জানার অভিনয় করলো কিন্তু রিমি এবারও পারলো না। রুদ্র তাকে ফের উৎসাহ দিলো-
“It’s ok… it’s fine.. let’s go for take 3..you did good..”
রিমির খারাপ লাগলেও রুদ্রর উৎসাহ যে তেমন একটা গায়ে লাগলো না বিষয় টা। রুদ্র এবার রিমিকে সুন্দর করে বুঝিয়ে দিলো ঠিক কিভাবে ঘুরালে ব্লোয়ার টা ব্লাস্ট করবে। রিমি মাথা নাড়িয়ে নাড়িয়ে বোঝার ভাব করলো। রুদ্র আবার বাইরে গেল, আবার ঢুকলো। তবে রিমির দ্বারা ওইটা হচ্ছেই না। রুদ্র যথাসম্ভব ধৈর্য ধরে রিমির পরিকল্পনায় সব জেনেও সঙ্গে দিলো যেন কিছুই জানে না। ৫ম বার একই অবস্থা হওয়াতে রিমির মন, আগ্রহ, উৎসাহ, ধৈর্য সম্পূর্ণ ভেঙে গেল। রুদ্রর রিমিকে ফের বোঝাতে চাইলো-
“Never mind..আবার..!”
রুদ্র কথা পরিপূর্ণ করার আগেই রিমি রুদ্রর কাঁধে ভর দিয়ে চেয়ার থেকে নেমে এলো। রুদ্র রিমির মলিন মুখ দেখে আর কিছু বলার সাহস করলো না। রিমি হাতের জিনিসটা বিছানায় ছুড়ে ফেলে, মুখ থেকে গোলাপ টা নামিয়ে নিয়ে রুদ্র হাতে দিয়ে কাঁদো কাঁদো গলায় বলল-
“I am sorry..”
রিমি সরি বলেই দৌড় বারান্দায় চলে গেল, সাথে সাথে থাই গ্লাসটাও লাগিয়ে দিলো।
রুদ্র নিজের হাতে গোলাপ টা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কয়েক নজর বিছানায় পড়ে থাকা ব্লোয়ার টা আর নিজের হাতের ফুলটা দেখে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। তার পর মাথাটা একটু ঝাঁকিয়ে নিয়ে বিছানা থেকে ওই ব্লোয়ার টা তুলে হাতের গোলাপ ফুল টা মুখে নিয়ে বারান্দার থাই গ্লাস টা খুলে ঠিক রিমির পিছনে গিয়ে দাঁড়ালো।
রিমির মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে, চোখ দিয়ে নীরবে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। রুদ্র হঠাৎ পিছন থেকে রিমির উপর ব্লোয়ারটা ফাটিয়ে দিলো। হঠাৎ আওয়াজে রিমি পিছনে ফিরতেই দেখলো উপর থেকে জড়ি ঝড়ছে তার উপর ঠিক তার সামনেই রুদ্র তার মুখে গোলাপ ফুল টা ধরে আছে। রুদ্র মুখ থেকে ফুল সরিয়ে নিয়ে বেশ আগ্রহ নিয়ে বলল-
“Surprise….!”
রিমি সাথে সাথে আবার পিছন দিকে ঘুরে কাঁদতে কাঁদতে বলল-
“আপনি এতো ভালো কেন? কেন সব সময় আমাকে এতো খুশি করেন? কই আমি তো আপনাকে খুশি করতে পারি না। আজকে একটা দিন ভাবলাম আপনাকে খুশি করতে কিছু একটা করি তাও আমার দ্বারা হলো না। কেন পারি না আমি কিছু?”
রুদ্র রিমির সফলতায় ঠিক যতটা না খুশি হতো তার থেকেও অনেক বেশি খুশি হয়েছে শুধু এতো টুকু দেখে যে রিমি তাকে খুশি করতে কিছু করার উদ্যোগ নিয়েছে।
রুদ্র রিমিকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে, রিমির কাঁধে মুখ রেখে সন্তুষ্টি নিয়ে বলল-
“আলহামদুলিল্লাহ।”
রিমি রুদ্রর কথায় আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“কিসের শুকরিয়া আদায় করছেন?”
রুদ্র রিমিকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল-
“স্বয়ং আমার খুশি নিজে, আমাকে খুশি করতে কিছু একটা করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে কথা। শুকরিয়া আদায় তো করতে হবে।”
রিমি রুদ্র কে সরিয়ে দিয়ে রুদ্রর দিকে ফিরে তাকিয়ে অশ্রু সিক্ত চোখে বলল-
“সব সময় এসব কথা বলে আমাকে স্বান্তনা দিতে হবে না আপনার।”
রুদ্র রিমির মুখটা নিজের হাতের মাঝে নিয়ে চোখের অবশিষ্ট অশ্রু কণা মুছে দিতে দিতে বলল-
“ইস…! সব পানি বের হয়ে গেল চোখ থেকে এখন আমি কোথায় ডুবে মরবো?”
রিমি কাঁদার মধ্যেই রুদ্রর কথায় হেঁসে উঠলো। রুদ্রও সাথে হেঁসে খুব সিরিয়াসলি বলল-
“এটা তোমার ভুল ধারণা যে আমি তোমাকে সান্ত্বনা দেই। আসলে তো আমি নিজেকে স্বান্তনা দেই। নিজের সব চেয়ে বড় খুশি কয়জন পায়? আমি পেয়েছি সেটা তো আমার সাত কপাল।”
রুদ্র ঝটপট রিমিকে উৎসাহ দিয়ে বলল-
“তোমার সারপ্রাইজ সফল হয় নি ভালোই হয়েছে। দেখ তোমার প্লেনটা চুরি করে আমি চালিয়ে দিলাম। এখন তাড়াতাড়ি ফুলটা নাও।”
রুদ্র গোলাপটা নিজের মুখে নিয়ে রিমির চোখে চোখ রেখে রুদ্র বারান্দার রেলিং এ হাত রেখে রিমির উপর ঝুঁকে এলো আর চোখের ইশারায় রিমি কে ফুলটা নিতে বলল। রিমি হাত বাড়িয়ে ফুলটা নিতে চাইলে রুদ্র
রিমির হাত ধরে ফেলে আর মাথা নাসূচক নাড়িয়ে হাত দিয়ে ধরতে না করে। চোখের ইশারায় স্পষ্ট করে বলল মুখ থেকে ফুল মুখ দিয়েই নিতে হবে। রিমি একটু ইতস্তত বোধ করলেও ফুলটা নিতে হবে বলে মুখ এগিয়ে নিয়ে গেল গোলাপ টা নিতে। রুদ্র মনে মনে দুষ্ট বুদ্ধি এটে রেখেছিল আর ঠিক তারই প্রেক্ষিতে- রিমি মুখ আগাতেই রুদ্র তার মুখ থেকে ফুল টা ফেলে দিয়ে রিমির ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁইয়ে চুমু খেলো। রিমি আকস্মিকভাবে রুদ্রকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল।
রুদ্র এক পা পিছিয়ে গেল তাতে। রিমি নিজের ঠোঁট হাত দিয়ে ঢেকে ফেলল, চোখ জোড়া তো কপালে উঠে আছে মনে হচ্ছে। রিমি ঘাবড়ে গেছে বলে রুদ্র পিছিয়ে গেল।
-“সরি, আমি শুধু মজা…বাদ দাও। আর করবো না। ভয় পেয় না। আমি সরে যাচ্ছি।”
রিমি ভাবলো রুদ্র হয়তো তার ধাক্কা দেওয়া তে রাগ করেছে, তাছাড়া সে তো আজ এমন কিছু চায় না। রুদ্র দূরে যেতে চাইলে রিমি দ্রুত রুদ্রর হাত আঁকড়ে ধরে রুদ্র কে থামিয়ে দিলো।
-“দূরে যেতে হবে না। এখানেই থাকুন না..!”
রুদ্র রিমির হাতের দিকে তাকালো। আর ঠিক পর মুহূর্তে রিমিকে মাথা থেকে পা অব্দি দেখলো। এতো কিছুর ভীরে রুদ্রর চোখে তার সেই লাল টুকটুকে বউটা নজরেই আসেনি। রুদ্র প্রথমবার রিমিকে লাল শাড়িতে দেখে পুনরায় প্রেমে পড়লো সেই একই ললনার। রুদ্র রিমির ডাকে সাড়া দিয়ে তার কাছে সে জিজ্ঞেস করলো-
“এখানে থেকে আমার লাভ কোথায়? আমি কি করবো
থেকে, শুনি?”
রিমি অত্যন্ত সরল জবাব দিল-
“যা আপনার ইচ্ছে তাই করতে পারেন।”
রুদ্র নরম স্পর্শে রিমির হাতের আঙুলের ভাঁজে নিজের আঙুল দিয়ে বাঁকা হেঁসে রিমির কানের কাছে ঝুঁকে গিয়ে হাস্কি কন্ঠে বলল-
“I wanna kiss you..so badly….can I?”
রিমি আশ্চর্যতা ও ভয় উভয় মিশ্রিত প্রতিক্রিয়ায় রুদ্রর দিকে তাকালো। রিমি মনে খুব সাহস নিয়ে মাথা ঝাঁকিয়ে বলল-
“Yess, you can..!”
রুদ্র একটু অবাক হলো। কিন্তু তার তো সোনায় সোহাগা। রুদ্র খুব সিরিয়াসলি রিমির কাছাকাছি এসে বলল-
“Ok, let’s try then..”
রিমির গলা শুকিয়ে গেছে ভয়ে। রুদ্র তার কাছে আসতেই চোখ মুখ ঠোঁট সব একদম খিচিয়ে বন্ধ করে নিলো। রুদ্র রিমির দিকে তাকালো – মেয়েটা কিস করতে বলে ঠোঁট, চোখ চেপে বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছে মুখে এক গুচ্ছ ভয় নিয়ে। রুদ্র নিজের ঠোঁট কামড়ে হেঁসে কিছুক্ষণ রিমির দিকেই তাকিয়ে থাকলো। রিমি রুদ্রর উপস্থিতি টের পাচ্ছে না বলে কিছুক্ষণ পর চোখ খুলে তাকাতেই রুদ্র রিমির থেকে একটু দূরে সরে গিয়ে রিমিকে তুচ্ছ জ্ঞান করে বলল-
“নাহ্, তোমাকে দিয়ে হবে না। পারবে না তুমি।”
রিমির খুব অপমান বোধ হলো। ভ্রু কুঁচকে রুদ্রর দিকে তাকিয়ে থেকে বলল-
“হবে না কেন? আজব, আমি কি এর আগে কখনো করেছি নাকি? শিখিয়ে দিলেই পেরে যাবো। আমাকে বলুন কি করতে হবে।”
রুদ্র রিমির সাথে সত্যি সত্যি মজা করবে বলে খুব পেশাদার ওষ্ঠ ক্রিড়াবীদের ভাব নিয়ে রিমি সামনা সামনি দাঁড়িয়ে বলল-
“আচ্ছা ঠিক আছে, শেখাচ্ছি। Be serious ok?”
রিমি ও খুব সিরিয়াস ভাব নিয়ে মাথা ঝাকালো মনে দৃঢ় সংকল্প- সে চুমু খাওয়া শিখবেই আজ। রুদ্র নিজের হাসি কন্ট্রোল করে রিমিকে নির্দেশনা দেওয়া শুরু করলো।
-“যেহেতু আমি লম্বা তাই তোমার মুখ টা উঁচু রাখতে হবে যেন আমার সুবিধা হয়।”
রিমি ফটাফট মুখটা উঁচু করলো, চোখ দুটো বন্ধ। রুদ্র নিজের হাতটা কামড়ে হাসি নিয়ন্ত্রণ করে বলল-
“চোখ বন্ধ করলে হবে না তো। খোলা রাখতে হবে। যদি আমাকে কাছে আসতে না দেখ- ফিল পাবে কিভাবে?”
রিমি ফট করে চোখ দুটো খুলে ফেলল। রুদ্রর হাসার আর সুযোগ রইল না। রিমি উৎকণ্ঠা নিয়ে বলল-
“পরে? পরে কি করতে হবে।”
-“বাস এইটুকুই। আর কিছু করতে হয় না। পরে শুধু চুমু।”
রিমি সত্যিই খুব মনোযোগ দিয়ে শিখেছে বলে তার বহিঃপ্রকাশ ও দেখাতে চাইলো।
-“আচ্ছা, আসুন। চুমু খাই দু’জন।”
রুদ্র অবাক হয়ে তাকালো রিমির দিকে- মেয়েটা কি আদতেও বুঝে বলছে কিসের জন্য রুদ্র কে আহ্বান করছে সে! রুদ্র রিমির দিকে এগুতেই রিমি আবারও তাড়াহুড়ো করে মুখ উঁচু করে দাঁড়ালো, চোখ দুটো একদম সৃষ্ট খোলা। রুদ্রর যদিও হাসি পাচ্ছিল কিন্তু সে কন্ট্রোল করে নিলো হাঁসি। রুদ্র মাথা নিচু করে রিমির দিকে যেই ধীরে ধীরে এগোতে থাকলো রিমির চোখ তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে এমনি বন্ধ হয়ে গেল, সে খুব চেষ্টা করলো খুলে রাখার কিন্তু হলো না। প্রকৃতির নিয়মে মেয়ে দেহ পুরুষ দেহের বিপরীতে কাজ করছে। রিমির মুখ ধীরে ধীরে নিচু হয়ে এলে। রুদ্র এক গাল হেঁসে রিমির থুতনিতে হাত রেখে তার মুখটা উপরে করে বলল-
“মুখ উঁচু রাখতে হয় বলেছি না।”
রিমি রুদ্রর কথায় ভয়ে নিজের হাতের মুঠোয় শাড়ির আঁচল খামচে ধরলো, ঠোঁট শুকিয়ে এলো হঠাৎ। রুদ্র সেদিকেই তাকিয়ে মনের মজা করার পর্দা গুলো ধীরে ধীরে পড়ে যাচ্ছে। রিমি জিভের সাহায্য নিজের শুকনো ঠোঁট ভেজাতেই শেষ সংযম টুকু রুদ্রর ভাঙলো-“oh fuck…. Those lips…”
রুদ্র অতর্কিত হামলা করলো সেই রুক্ষ ঠোঁট জোড়ায় রিমি আকস্মিকভাবে নিজের মুখ বন্ধ করে ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরলো। হাত দুটো সাথে সাথে বারান্দার রেলিং আঁকড়ে ধরলো। রুদ্র রিমিকে অধৈর্য গলায় বলল-
“Open your got damn lips…”
রিমি বুঝে উঠার আগেই রুদ্র রিমির চোয়াল আঁকড়ে ধরে তাকে ঠোঁট ফাকা করতে বাধ্য করে পুনরায় মত্ত হলো তার কাঙ্ক্ষিত ওষ্ঠ যুগলের মাঝে। রিমির হাত রেলিং থেকে সোজা রুদ্রর শার্টের কলারে গেলো। এই সামান্য আশ্রয় টুকুই এখন তার শক্তি।
সময় যত পার হচ্ছে রিমির শরীর তত নেতিয়ে যাচ্ছে। ১৫-২০ মিনিট পর রুদ্র রিমির থেকে হঠাৎ নিজের ঠোঁট সরিয়ে নিয়ে শক্ত করে নিজের দুই বাহুতে রিমিকে জড়িয়ে ধরে অশান্ত নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে করতে বলল-
“আমি আমার হক চাই রিমি। I need you…Be mine..”
রিমি হাঁপিয়ে উঠেছে এইটুকু তেই। জীবনের এই পর্যায়ে ঠিক কিভাবে সামাল দিতে হয় নিজেকে এই বিষয়ে দুইজনেই কাঁচা। রিমি রুদ্রর এই করুন আবদার যেমন ফেলতে পারবে না ঠিক তেমন নিজেকে তৈরি করাও তার কাছে জটিল লাগছে। পরিস্থিতি আর নিয়ন্ত্রণে নেই বুঝেও রিমি তবুও বৃথা চেষ্টা করলো রুদ্র কে বোঝানোর-
“রুদ্র…আমি..আপনি..প্লিজ..আজ ন..!”
রিমির গলায় কথা জড়িয়ে যাচ্ছে। রুদ্র রিমির কথা কেটে আরো তীব্র আবেগে রিমির গলার ভাঁজে মুখে ডুবিয়ে দিয়ে বলল-
“I am fucking starving. Let me have you.”
রিমি চুপ করে গেল। শ্বাস প্রশ্বাসের গতি দুজনেরই আকাশ ছোঁয়া। রুদ্র হঠাৎ করেই রিমিকে কোলে তুলে নিল। রিমি রুদ্রর গলা জড়িয়ে ধরলো সাথে সাথে। লজ্জায় চোখের পাতা তুলতে পারছে না মেয়েটা, শরীর থরথর কাঁপছে। রুদ্র বারান্দা থেকে ঘরের ভিতরের গেল, ধীরে রিমিকে বিছানায় শুয়ে দিয়ে মেয়েটার কপালে আর বন্ধ দুই চোখের পাতায় চুমু এঁকে দিলো। রুদ্র নিজেকে অনাবৃত করে নিয়ে রিমির কাছাকাছি আসতেই দরজার অপর পাশ থেকে মিরার আওয়াজ এলো।
-“রুদ্র ভাইয়া.. রিমি.. মামণি খেতে ডাকছে। নিচে চলো।”
রিমি মিরার আওয়াজে চোখ খুলেই সামনে রুদ্র কে খালি গায়ে দেখে সাথে সাথে দরজার দিকে নজর ঘুরালো। মনে অন্য এক অদ্ভুত ভয় ধরা দিতেই রিমি শোয়া থেকে উঠে রুদ্রর উন্মুক্ত বুকে হাত রেখে ঠেলে দিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল-
“রুদ্র প্লিজ, আজ না। মিরা দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে। মামণি ডাকছে। একটু বুঝুন।”
রুদ্রর এমনি বাজে অবস্থা হয়ে আছে আর তার উপর আর মিরার এমন বিরক্ত করা তার আরো বিরক্তিকর লাগছে। রুদ্র রিমিকে ধাক্কা দিয়ে আবার বিছানায় ফেলে দিয়ে বলল-
“তুমি চুপচাপ শুয়ে থাকো। আমি দেখছি। খবরদার বিছানা থেকে নামবে না।”
রিমির বারবার শুকনো ঢোক গিলছে। রুদ্র নিজের শার্ট টা শরীরে জড়িয়ে বিড়বিড় করতে করতে দরজার কাছে গেল-
“একটা বার বউটাকে কাছে পেয়েছি আমার এই ফুটো কপালে তাও সহ্য হচ্ছে না। বাল…!”
রুদ্র ঠাস করে দরজাটা খুলেই মিরাকে সামনে দেখতে পেল। মিরা রুদ্রর দিকে তাকিয়ে নিজের ভ্রু কুঁচকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলো- মাথার চুল গুলো খড়ের গাদার মতো এলোমেলো, শার্টের বোতাম উপর নিচে লাগানো, শ্বাস ফুলে আছে, চোখে লাল আভা। মিরা প্রশ্ন সূচক দৃষ্টিতে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“ভাইয়া তুমি ফ্রেশ হয়ে এলে না আরো অগোছালো হয়ে এলে? এমন লাগছে কেন?”
রুদ্র গম্ভীর গলায় জবাব দিলো-
“ফ্রেশ হইনি এখনো। কিছু বলার থাকলে তাড়াতাড়ি বল, আর যা এখান থেকে।”
মিরা সন্দেহ ভাজন নজরে দেখে বলল-
“এভাবে বলার কি আছে। আমি রাতে খাওয়ার জন্য ডাকতে এসেছিলাম তোমাকে আর রিমিকে।”
-“কি রান্না হয়েছে আজকে?”
-“রুটি, আর মুরগির মাংস”
রুদ্র পিছন ফিরে দরজা লাগিয়ে দিতে দিতে বলল-
“আমার ডাল ভাত খেতে ইচ্ছে করছে। এসব খাব না আমি। যা গিয়ে আম্মু কে বলে আমি খাব না আজ।”
মিরা অবাক হয়ে তাড়াতাড়ি দরজায় হাত রেখে বলল-
“আরে, তুমি না খেলে না খাবে, রিমি তো খাবে তাই না। ওকে পাঠাও।”
রুদ্র মিরার হাত দরজা থেকে সরিয়ে দিয়ে বলল-
“রিমি ব্যস্ত আছে এখন। ওর খিদে নেই, ও যাবে না। তুই যা।”
মিরা জেদ ধরেই দরজা আগলে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“কি এমন করছে ও যে এতো ব্যস্ততা ওর?”
রুদ্র নিজের ধৈর্য আর ধরে রাখতে পারলো না। নিজের ভেতরে এমনিতেই এতো অনুভুতির জোয়ার বইছে। রুদ্র মিরাকে মিনতির সুরে বলল-
“আমার ভাইয়ার বউ হওয়ার পর তোর মুখে এমন প্রশ্ন মানা যায় না। বিবাহিত দম্পতি কেন ব্যস্ত থাকে তা তুই আরো ভালো জানিস। যা নারে বইন। কেন আমার সময় নষ্ট করছিস? পায়ে ধরি একা ছেড়ে দে আজকের রাতটা।”
মিরা আহাম্মকের মতো তাকিয়ে রইল। তার পা নিজে নিজেই দরজার সামনে থেকে সরে গেলো। মিরা শান্ত গলায় শুধু বলল-
“Go easy on her… Good night..”
এই বলে পিছন ফিরে দৌড়ে নিচে চলে গেল। রুদ্র দীর্ঘশ্বাস ফেলে দরজা লাগিয়ে ঘরের ভিতরে যেতেই দেখলো ঘর সম্পূর্ণ অন্ধকার আর রিমি চুপচাপ বিছানার এক দিকে কাচুমাচু হয়ে শুয়ে আছে- শাড়ি আঁচল দিয়ে মুখ ঢেকে। রুদ্র জানে রিমি ঘুমিয়ে নেই শুধু ঘুমানোর ভাব করছে তবুও সে কিছু বলল না। সে ওয়াশ রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে এসে বিছানার অন্য পাশে চুপ করে শুয়ে পড়লো। রিমি অবাক হলো রুদ্র কে কিচ্ছু করতে না দেখে। রুদ্রকে অন্য দিকে ঘুরে শুয়ে থাকতে দেখে রিমি হঠাৎ শোয়া থেকে উঠে বসে রুদ্রর দিকে তাকালো। রুদ্র চোখ বন্ধ রেখেও অনুভব করতে পারলো রিমি তারা দিকেই তাকিয়ে আছে। অন্ধকারেও তার মুখে মৃদু হাসির রেখা দেখা গেল। রিমি কথা বলার অযুহাত দেখিয়ে রুদ্র কে জিজ্ঞেস করলো-
“আপনার খিদে পায় নি? খেতে গেলেন না যে।”
রুদ্র চোখ বন্ধ রেখেই বলল-
“আজ আমার পছন্দের কিছু রান্না হয় নি। আমার অন্য কিছু খাওয়ার ইচ্ছে ছিল। তাই আমি খেতে যাই নি।”
-“কি খাওয়ার ইচ্ছে ছিল? বলুন আমি বানিয়ে আনছি।”
রুদ্র রিমির দিকে ঘুরে তাকিয়ে রিমি হাত ধরে টেনে বিছানায় ফেলে দিয়ে এক ঝটকায় রিমির উপরে এসে তার চোখে চোখ রেখে বলল-
“আমার ইচ্ছে কি তুমি ভালো করে জানো। নাহলে নিজেকে লাল শাড়িতে মুড়ে আমার জন্য তৈরি করতে না।”
রিমির গলা জড়িয়ে এলো-“আ…আমি..!”
রুদ্র সাথে সাথে রিমিকে হুমকি দিয়ে বলল-
“চুপচাপ শুয়ে ছিলাম সহ্য হচ্ছিল না তাই না? এখন ক্ষুধার্ত আত্মাকে জাগিয়ে তোলার ভুল করে একদম বাঁচার চেষ্টা করবে না।”
রুদ্র রিমির শাড়ির আঁচল আঁকড়ে ধরে তাদের মধ্যে কার শেষ পোশাক বাঁধা টুকু সরিয়ে দিলো। সেই সাথে রিমির গলার ভাঁজে মুখে ডুবিয়ে ছোট ছোট চুমু তে নিজের অধিকার বিস্তার করলো। রিমির শরীর রুদ্রর প্রতিটি স্পর্শের প্রতিক্রিয়া করছে। শিরা উপশিরায় বিদ্যুৎ দৌড়ে বেড়াচ্ছে দুইজনের। রুদ্র কিছুক্ষণ স্থির হয়ে রইল—যেন এই মুহূর্তটাকে তাড়াহুড়ো করে নষ্ট করতে চায় না। রিমির কাঁপতে থাকা আঙুলগুলো ধীরে এসে তার হাত আঁকড়ে ধরল। বাইরে রাত আরও গভীর হলো, ভেতরে তাদের নীরবতা আরও ঘন। রুদ্র খুব আস্তে রিমির কপাল ছুঁয়ে দিল, তারপর গাল বেয়ে নামল তার উষ্ণ স্পর্শ। রুদ্র রিমির গলার ভাঁজে থেকে মুখ উঠিয়ে রিমির দিকে তাকালো। মেয়েটার ঠোঁট, চোখের পাতা ভয়ে কাঁপছে। রুদ্র রিমির ঠোঁটে গভীর চুমু দিয়ে রিমিকে জিজ্ঞেস করলো-
“ভয় পাচ্ছ?”
রিমি মিটিমিটি চোখ খুলে তাকালো রুদ্রর দিকে। রুদ্র রিমির কপালে আদরের পরশ এঁকে দিয়ে রিমিকে সাহস দিয়ে বলল-
“কিচ্ছু হবে না। আমি আছি তো। If it hurts just kiss me, scratch me, bite me.. Do anything that makes you feel better..ok?”
রিমি রুদ্রর কথায় যতটা সাহস পেল ঠিক ততটাই ভয়। তবুও এই পর্যায়ে তার কিছুই করার নেই। রিমি মাথা উপর নিচ করে সম্মতি দিলে রুদ্র রিমির অনুমতি চেয়ে প্রশ্ন করলো-
“Should I put it in?”
রিমি নিজের চোখ দুটো বন্ধ করে নিলো। মনে মনে নিজেকে তৈরি করলো। প্রনয়ের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে রিমির চোখের কোণ হতে অশ্রু কণা গড়িয়ে পড়লো।
লজ্জায় রিমির শ্বাস আটকে আসছিল, তবু সে সরে গেল না। বরং চোখ বন্ধ রেখেই নিজেকে সঁপে দিল সেই বিশ্বাসের আবরণে। তাদের মাঝখানে যে দূরত্ব ছিল, তা ধীরে ধীরে গলে গেল—যেন বসন্তের রোদে জমে থাকা কুয়াশা মিলিয়ে যায়। কোনো উগ্রতা নয়, কোনো অস্থিরতা নয়—শুধু গভীর মমতায় ভেজা এক নিবিড়তা। রুদ্রর স্পর্শ ছিল শ্রদ্ধায় ভরা, আর রিমির প্রতিক্রিয়া ছিল নিঃশব্দ স্বীকৃতি। চাঁদের আলোয় ঘরটা যেন অন্য এক জগৎ—নরম, স্বচ্ছ, আবছা। তাদের হৃদস্পন্দন এক ছন্দে বাঁধা পড়ল। দু’জনের অনুভূতি এক হয়ে গেল, যেন দুটি সুর মিলে এক মধুর সঙ্গীত। সেই মুহূর্তে তারা শুধু শরীরের কাছাকাছি এল না, আত্মার গভীরেও স্পর্শ করল একে অপরকে। লজ্জা ধীরে ধীরে রূপ নিল নিশ্চিন্ততায়, আর আকুলতা বদলে গেল প্রশান্তিতে।
রাত দীর্ঘ হলো, কিন্তু তাদের কাছে সময় যেন থমকে দাঁড়াল। ভালোবাসা কখনো শব্দে নয়—বরং স্পর্শে, নীরবতায়, আর বিশ্বাসের গভীর আলিঙ্গনে পূরণা।
রাতে খাওয়া দাওয়ার পর মিরা ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ে। রায়ান ঘরে যায় নি বরং স্টাডি রুমে ল্যাপটপে নিজের কাজ করছে। কাজের চাপ অনেক বেশি হয়ে গেছে। প্রজেক্টের কন্সট্রাকশন শেষের দিকে, এরপর শুধু ওপেনিং এর কাজ বাকি। সবকিছু মিলিয়ে তার দিক থেকে সব সামলানো রায়ানের একার জন্য একটু চাপের।
মিরার ঘুমে বেঘাত ঘটতে পারে চিন্তা করে রায়ান স্টাডি রুমে থেকে নিজের কাজ শেষ করবে ভেবেছে। এদিকে একা ঘরে মিরার ঘুম আসছিল না। যদিও রায়ান তাকে বলেছে কাজ শেষ করে রায়ান ঘরে চলে আসবে কারণ মিরাকে ছাড়া তার ঘুম হয়না। মিরা বিছানায় হেলান দিয়ে সাইড টেবিলের লাইট টা বারবার অফ অন করছে, তার নিজের মাথায় ও ঘুরছে- সে যেমন রায়ানের অভ্যাস তেমন রায়ান ও তার অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। মিরা ভাবলো একবার গিয়ে দেখবে রায়ান কি করছে। যেই ভাবা সেই কাজ। মিরা স্টাডি রুমের সামনে গিয়ে দরজায় নক করলো। রায়ান নিজের হাতের ঘড়িতে সময় দেখে ভিতর থেকে প্রশ্ন করলো-
“হৃদপাখি… তুমি!?”
মিরা অবাক হলো রায়ান তার নাম বলায়-“হুম, আসবো?”
রায়ান ল্যাপটপে মনযোগ দিয়েই বলল- “হুম।”
মিরা দরজা খুলে ঘরের ভিতরে ঢুকে জিজ্ঞেস করলো-
“আপনি কিভাবে বুঝলেন আমি এসেছি?”
রায়ান কিবোর্ডে ফার্মাল ইমেইল টাইপ করতে করতে বলল-
“যা সময় হয়েছে, এ সময় বউ ছাড়া আমাকে কেউ খুঁজবে না। I was sure it’s my Mrs only..”
মিরা ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে নিজের নখ খুঁটতে লাগলো। রায়ান নিজের কাজ করতে করতে বলল-
“I am busy baby..রাত হয়েছে গিয়ে শুয়ে পড়ো। আমি আসছি একটু পর।”
মিরা ওখানে দাঁড়িয়ে থেকেই জিজ্ঞেস করল-
“এখনো কাজ শেষ হয় নি?”
রায়ান মিরার গলায় হতাশার সুর দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলে মিরার দিকে তাকিয়ে হাত বারিয়ে বলল-
“Come here..!”
মিরা ধীর পায়ে রায়ানের দিকে এগিয়ে গেল। রায়ান এক হাতে মিরার হাত ধরে অন্য হাতে মিরার কোমর জড়িয়ে নিয়ে মিরাকে নিজের কোলে বসাতে বসাতে বলল-
“Have a sit my queen..!”
মিরা রায়ানের গলা জড়িয়ে ধরে রায়ানের গলায় ভাঁজে মুখে ডুবিয়ে দিয়ে বলল-
“কাছে ডাকলেন কেন? আপনি না ব্যস্ত?”
রায়ান মিরার চুলের হাত বুলিয়ে দিতে দিতে এক গাল হেঁসে বলল-
“আমি তো তোমাকে নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চাই বেইবি। কিন্তু তোমার হাবির ভাগ্য কাজে ব্যস্ত থাকা লিখা আছে কি করবে বলো।”
রায়ান কে কাজের চাপে দেখে বেশ মায়া হলো মিরার। মিরা রায়ানকে জড়িয়ে ধরেই তার চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল-
“ব্যাপার না, আপনি কাজ শেষ করুন। আমি অপেক্ষা করবো।”
রায়ান মিরার ঘাড়ে চুমু খেয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বলল-
“Ok.. but I am sorry to keep you waiting baby.. আমার লক্ষ্মী বউ, তুমি ঘুমোও ক্লান্ত শরীরে জাগতে হবে না।”
মিরা মুখ তুলে রায়ানের গালে টপাটপ দুটো চুমু খেয়ে আবার রায়ানের গলা জড়িয়ে ধরে তার কাঁধে মাথা রেখে বলল-
“Good night hubby.. you are the best husband in the world..”
রায়ান হেঁসে উঠল। সাথে সাথে মিরার কোমরে হাত দিয়ে চিমটি কাটলো। মিরা ব্যাথিত আওয়াজ করে রায়ানের বুকে আঘাত করলো-“আআহহহ্! অসভ্য একটা।”
রায়ান দুষ্টু হেঁসে বলল-
“এবার ঠিক আছে। শুধু শুধু প্রশংসা করে আমাকে উস্কানি দিও না হৃদপাখি। এখন কন্ট্রোল হাড়ালে তোমার ঘুম আর আমার কাজ সব হারাম হয়ে যাবে।”
মিরা চুপ করে চোখ বন্ধ করে নিলো। রায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের কাজে মন দিল। বউকে কোলে নিয়ে যেন তার বেশ সুবিধা হলো। আলাদা একটা এনার্জি কাজ করছে। রায়ান ফটাফট নিজের কাজ শেষ করতে থাকলো আর তার মাঝেই হঠাৎ হঠাৎ মিরার ঘাড়ে, গলায়, গালে ঠোঁটে ছোট্ট ছোট্ট চুমু খাচ্ছে। প্রায় ১ ঘণ্টা পর রায়ান সব কাজ মোটামুটি গুছিয়ে নিয়ে ল্যাপটপ অফ করে একটা লম্বা নিঃশ্বাস ত্যাগ করে চাতক পাখির ন্যায় মিরার ঘুমন্ত মুখের দিকে চাইলো। মনে হচ্ছে যেন খুব দুর্লভ কিছু তার চোখের সামনে আছে এখন যা এখন মন ভরে না দেখলে জীবন বৃথা। এভাবে রায়ান মিরাকে দেখেই পার করল আরো ১০ মিনিট। মিরা চোখ বন্ধ রেখেই নীরবতা ভেঙে বলল-
“আর কত দেখবেন? এতো দেখলে একঘেয়েমি এসে যাবে তো..!”
রায়ান জিজ্ঞেস করলো- “জেগে আছো?”
মিরা চোখ খুলে রায়ানের দিকে তাকিয়ে বলল-
“যেভাবে আমার ঘুমের সুযোগ নিয়ে বারবার নিজের ছোঁয়ায় আমাকে জ্বালাচ্ছিলেন কিভাবে ঘুমাবো শুনি?”
রায়ান নিজের দোষ এড়াতে অযুহাত দিয়ে বলল-
“কই না তো, শুধু এক দুইবার নিজেকে একটু চার্জ করার জন্য তোমার থেকে এনার্জি নিয়েছি।”
মিরা প্রশ্ন সূচক কন্ঠে বলল- “Really? এক দু বার?”
রায়ান হঠাৎ করে আবার মিরার ঠোঁটে চুমু খেয়ে অধিকার দেখিয়ে জোর গলায় বলল-
“না, হাজার বার! আমার বউকে আমি যত ইচ্ছে তত চুমু খাবো। যতবার মন চাইবে তত বার আদর করবো। যত খুশি তত দেখবো, কার কি? আমার বউয়ের থেকে আমার এনার্জি নিতে হলে কি আমাকে কাউন্ট করতে হবে?”
মিরার গাল দুটো লজ্জায় লাল হলে গেলো। মিরা রায়ান বুকে মৃদু ধাক্কা দিয়ে বলল-
“এসব কথা কিভাবে বলেন আপনি? একটুও মূখে আটকায় না, তাই না? একটুও লজ্জা নেই। যত খুশি তত দেখবো এটা কেমন কথা হলো? একঘেয়েমি এসে যাবে পরে।”
রায়ান মিরার কথায় মিরা হাত নিয়ে নিজের বুকের বাম দিকের উপর শক্ত করে ধরে বলল-
“একঘেয়েমি…! যাকে এক নজর না দেখলে তার চিন্তা এই হৃদয়কে পিঁপড়ার মতো কুটকুট করে খেতে থাকে তাকে দেখতে দেখতে যেদিন একঘেয়েমি আসবে সেই দিন হয়তো এই হৃদয়ের স্পন্দন থেমেই যাবে।”
মিরা রায়ানের মুখে এই কথা শুনে সাথে সাথে রায়ানের বুকের উপর থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে রায়ানের মুখে রেখে রায়ানের মুখ বন্ধ করে কাঁদো কাঁদো গলায় বলল-
“এইসব কথা আর একদিন মুখ দিয়ে বের করলে আমি নিজে ইচ্ছে করে হারিয়ে যাবো। কখনো আপনার সামনে আসবো না। এই বলে দিচ্ছি।”
রায়ান শান্ত গলায় বলল-
“সোজাসুজি বললেই হয় খুন করতে চাও আমাকে।”
মিরা অপলক দৃষ্টিতে রায়ানের দিকে তাকিয়ে থাকলো। এক জীবনে কি কাউকে এতো ভালোবাসা সম্ভব? রায়ান মিরার চোখের ভাষা বুঝতে পারলো হয় তো। মিরাকে নিজের বুকে জড়িয়ে নিয়ে রায়ান আসক্ত গলায় বলল-
“তোমাকে ভালোবাসা আমার পছন্দ বা দায়িত্ব না হৃদপাখি, তোমাকে ভালোবাসা আমার আসক্তি। এই আসক্তি ঠিক ওই গানের লাইন টার মতোন, তুমি আমার এমনি একজন যাকে এক জনমেও ভালোবেসে ভরবে না এই মন।”
মিরার চোখে অশ্রু জল ছলছল করে উঠলো। সে রায়ান কে আরো শক্ত করে আলিঙ্গন করে বলল-
“আমাকে কখনো ছেঁড়ে যাবেন না কিন্তু।”
রায়ান তুচ্ছার্থে হেঁসে বলল-
“আমাকে কি তোমার পাগল মনে হয়? আমি আত্মহত্যা কেন করতে যাব।”
মিরা কান্নার মাঝেও হেঁসে উঠলো রায়ানের কথা শুনে। মিরা চোখের পানি মুছে বলল-
“আপনি পাগলই।”
রায়ান মিরাকে কোলে নিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে নিজেদের ঘরে যেতে যেতে বলল-
“I am a mad man..for your touch girl, I have lost my control…”
মিরা আচমকা ছটফট করলো কোল থেকে নামতে –
“একদম না। নামান আমাকে। প্লিজ আজকেও না।”
রায়ান হাঁটতে হাঁটতে বলল-
“আরে শান্ত হও পড়ে যাবা। না আবার কি হ্যাঁ? পাগলের পাগলামি দেখবা না?”
মিরা কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলল-
“আজকেও আমাকে ব্যাথা দিলে আমি অনেক কাঁদবো কিন্তু মিস্টার চৌধুরী।”
রায়ান মিরার গালে চুমু খেয়ে বলল-
“এখনি এমনি এমনি কেঁদো না সোনা। আমি আছি তো, কাঁদানোর জন্যই নিয়ে যাচ্ছি।”
মিরা সত্যি কেঁদে দিয়ে বলল-“বজ্জাত লোক একটা। একটুও ভালোবাসে না আমাকে।”
রায়ান ঘরের ভিতর গিয়ে পা দিয়ে দরজা ধাক্কা দিয়ে লাগিয়ে দিয়ে মিরাকে বিছানায় ছুড়ে ফেলে মিরার উপরে এসে বলল-
“ভালোবাসি দেখেই তো এতো আদর করি তুমি বোঝ না। আচ্ছা বাদ দাও, শুনো আজ জোরে জোরে আমার নাম বলে চিৎকার করে কাঁদবে,ওকে সোনা?”
মিরা বিছানার উপর থেকে বালিশ নিয়ে রায়ানকে তা দিয়ে আঘাত করে দূরে সরাতে সরাতে বলল-
“আমার হাত উঠে যাবে কিন্তু এখন..! দূরে থাকুন আমার থেকে।”
রায়ান নির্লজ্জের মতো নিজের মুখ মিরার দিকে এগিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“কোন গাল আগে করতে হবে? বলো…!”
মিরা এবার বালিশ নিজের মুখেই লাগিয়ে মুখ লুকিয়ে নিয়ে নিজেই বিছানায় ঠাস করে পড়ে গিয়ে বিছানায় হাত পা তার দিকে ছড়িয়ে দিয়ে বলল-
“আমি অজ্ঞান হয়ে গেলাম। Good night..”
রায়ান মিরার নাটক দেখে মুখ টিপে হেঁসে মিরার হাত পা একসাথে করে ঠিক মতো রাখতে রাখতে বলল-
“কি নাটক বাজ বউ পেয়েছি আমি, আহারে!”
মিরা প্রাণ ছাড়া লাসের মতো পড়ে রইল বিছানায়। রায়ান মিরাকে দেখে নিজের হাসি সামলাতে পারছে না। সে তো শুধু ভয় দেখাচ্ছিল কিন্তু মিরার প্রতিক্রিয়া তো একদম আশার বাইরে ছিল। রায়ান হেসে বিছানায় উঠে গিয়ে মিরার কপালে চুমু খেয়ে মিরার বুকের উপর মাথা রেখে শুয়ে পড়লো। মিরা রায়ানের দিকে তাকিয়ে দেখলো রায়ান মন দিয়ে কিছু ভাবছে। মিরা রায়ানের গালে হাত রেখে জিজ্ঞেস করলো-
“কি হলো? কোন চিন্তায় ডুবে গেলেন?!”
রায়ান মিরার চোখে চোখ রেখে অবাক সুরে বলল-
“ভাবছিলাম, কত কাকতালীয় ঘটনাই না ঘটেছে আমাদের সাথে। সব কিছুর পর আমরা এক হয়েছি। যদি ওইসব না হতো তুমি তোমার দুনিয়ায় থাকতে আর আমি আমার দুনিয়ায়। আমি আমার এতো আদরের বউটা কে পেতাম না।”
মিরা মুচকি হেঁসে রায়ানের গালের খোঁচা খোঁচা দাড়ি যে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে জিজ্ঞেস করলো-
“বাবা রায়ান চৌধুরী এতো গভীর চিন্তাও করে?”
রায়ান খুব গম্ভীর মুখে বলল-
“মজা নিও না তো, সত্যিই তো তখন কি হতো আমার? আমাকে ছাড়া তোমারই বা কি হতো? আমার রাতে একটুও ঘুম হতো না।”
মিরা রায়ানের গালে মৃদু জোরে আঘাত করে বলল-
“এমন কিছু হতো না, যদি সব কাকতালীয় ঘটনা সত্যি হয়ে থাকে এর মানে একটাই – আমাদের ভাগ্যে আমরা দুজনই ছিলাম, আমাদের জুটি তৈরি হয়ে এসেছে আল্লাহর তরফ থেকে।”
রায়ান মিরার কথায় সন্তুষ্ট হয়ে তার কথায় সম্মতি দিয়ে বলল-“হুম, হয়তো তাই।”
মিরা রায়ানকে নিজের বুকে আরো শক্ত করে লুকিয়ে নিয়ে বলল-
“হয়তো না, আমি বাজি ধরে বলতে পারি ওই কাকতালীয় ঘটনা গুলো না হলেও আমরা মেলে তো যেতামই।”
রায়ান মিরার কথায় ঠোঁট প্রসারিত করে হেঁসে মিরাকে জাপ্টে ধরে বলল-
“My dramatic wifey, I love you..good night..sleep well..”
মিরা মুচকি হেঁসে এক চোখ খুলে রায়ান কে ঘুমিয়ে যেতে দেখে রায়ানের মাথায় হাত বুলিয়ে মূখ তুলে রায়ানের মাথায় চুমু খেয়ে বলল-
“I love you hubby.. Good night..”
আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৬৪
এমন ভাবেই আরো দুই মাস কেটে গেলো। ২০২৫ গিয়ে ২০২৬ এর শুরু হলো, রায়ানের বাংলাদেশের প্রজেক্ট শেষ হয়েছে, মিরা রিমির ফার্স্ট ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা ও শেষ, সোরায়ারও ফার্স্ট ইয়ার শেষ এবছর বোর্ড পরীক্ষা দেবে।

MASHA ALLAH..Onek shunr uponnash …!!🤗🤗🫀
Hum onek vallo ak ta uponash
Apu taratari er porer path gulo dew