ছায়াস্পর্শ পর্ব ৪৮ (২)
জান্নাত চৌধুরী
ইফরাহ থানা থেকে বেড়োতেই মানহার দেখা পেলো। বাহিরে একটা বাচ্চা থেকে ফুল কিনছে। ফুটফুটে সুন্দর বাচ্চা , বয়স অল্প তবে কাঁধে সংসারের ভার। তখন বিকাল বেলা ১২ টা
শহর থেকে গ্রামে ফিরতে প্রায় ২ ঘন্টার মতো পথ। মানহা দুটো ফুল আর একটা গাজরা নিয়ে এলো। বেলির গাজরা টা ইফরাহ দিকে এগিয়ে দিতেই ইফরাহ ভ্রু কুঁচকে তাকালো। মানহা বলল, “এটা তোমার পছন্দ মনে হয়। একদিন দেখলাম ছোট নবাব এনেছিলো।”
ইফরাহ মনে পড়লো আরাধ্যের বেলি ফুল পছন্দ। এনেছিলো লোকটা ,
তবে ইফরাহ নিলো না গাজরা টা। মানহার ডান হাতে থাকা লাল টকটকে পাপড়ি মেলেনো গোলাপ নিলো সে। মানহা আবাক হলো;
ইফরাহ বলল , “ আমি রানী গোলাপের প্রেমিকা।”
মানহা মুসকি হাসল , “ বড়ই অদ্ভুত তোমার পছন্দ?”
দুজনে হেঁটে হেঁটে বাসস্ট্যান্ডের দিকে আসলো। কি জানি কী হয়েছে সব বাস সারি সারি দাড়ানো অথচ যাত্রী নেই। লোকজন ছুটোছুটি করছে। মানহা অস্থির হলো , কাহিনী বুঝতে না পেরে খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখলো। দূর থেকে একজন ছুটে আসছে আর বলছে , পালাও, পালাও ইফরাহ ঠাঁয় দাঁড়িয়ে ছিলো। হঠাৎ এক টোটো চালক তার গাড়ি নিয়ে এসে থামল , “ আপা উঠে আসেন সামনে ঝামেলা লাগছে। এক বাড়িত আগুন দিছে নেতার লোক। আইজ গাড়ি চলতো না। ”
ইফরাহ শুধুই তাকিয়ে দেখছে প্রাণের লোভে মানুষ গুলো এদিক ওদিক ছুটছে। মানহা হাত টেনে টোটো তে তুললো ইফরাহ কে চালক দ্রুত গাড়ি স্টার্ট দিয়ে ছুটলো। প্রায় পঁচিশ মিনিটের মাথায় শহর ত্যাগ করে গ্রামের চিকন পিচডালা রাস্তায় দিকে এলো গাড়িটা। চারদিকে সব রয়েছে তবুও ইফরাহ শূন্যতা অনুভব হলো, এ কেমন শূন্যতা? বারবার চোখ ভরে উঠতে শুরু করলো মেয়েটা। মানহা বাহির পানে তাকিয়ে আকাশ দেখছে। তার চোখের ভাষা বুঝতে চাওয়া ভুল। সে দুঃখ বিলাসী নাকি ষড়যন্ত্রকারী তার ও কোনো সঠিক তথ্য জানা নেই।
বিধাতা চাইলেই সব হতো তার ,প্রেম হতো ,একটা ঘর হতো, সংসার হতো, তবে তিনি চাইলেন না। সব হয়েও আর কিছুই হলো না!
মানহা অভিযোগ করে না। সে অভিযোগে আর সাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। জীবনের প্রতি অভিযোগ রাখা যায়না;
বিকেল নাগাদ মীর পাড়া ইউনিয়নের দিকে গাড়ির এসে থামলো। এখনো পথ অনেকটা বাকি। হঠাৎ করেই টোটো চালক বলে উঠল, “ আমি আর যাইতে পারমু না আফা! বউডা অসুস্থ কল করছে , আমার এখনি যাওন লাগবো।”
ইফরাহ বিনা বাক্যে গাড়ি থেকে নামল। মানহা খানিক আপত্তি করলো বটে , “ এইডা কী বলেন আপনি এখন এইখান থেকে যাবো কেমনে? ”
ইফরাহ তর্ক করলো না। ভারা মিটিয়ে এক ধ্যানে হেটে যেতে লাগলো! ইফরাহ চলে যাচ্ছে খেয়াল হতেই মানহা দ্রুত গাড়ি থেকে নামল , “ বউরানী একা যেও না। আমি আসছি!”
মানহা গাড়ি থেকে নেমে ছুটে এসে ইফরাহ পাশে দাড়লো ! প্রায় এক থেকে দেড় কিলো হাঁটলে তবেই মীর বাড়ি পৌঁছানো যাবে।
দুজনে নীরবে হাঁটছে , হঠাৎ মানহার মনে হলো চৌরাস্তা মোড়ে ডানের পথে হাঁটলে মীর বাড়ি দ্রুত পৌঁছানো যাবে। যেই ভাবা সেই কাজ , মানহা ডাকল , “ বউরানী!”
ইফরাহ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকলো , “ বাম দিকে পথে গেলে ঘুরা হবে অনেক। এতে সন্ধ্যা নেমে যাবে। তার চেয়ে ভালো হয় চলুন ডান দিকের পথে যাই।”
ইফরাহ তাই করলো ডান দিকের পথে হেঁটে যেতে লাগলো তারা। তবে হাঁটতে হাঁটতে পথ পরিষ্কার হবার তুলনায় জটলা বাধতে লাগলো। কয়েকবার ঘুরে ঘুরে একই স্থান এসে ঠেকতে লাগলো তারা। আসরের আযান পড়েছে অনেক্ষণ শরীর হাপিয়ে উঠেছে ইফরাহর খানিক জিরিয়ে নিতে পারলে বোধহয় ভালো লাগতো। তবে হলো না বিপদের সময় দৃঢ় হয় , সন্ধ্যার আগ মূহুর্তে সেই পথে এসে এলো কয়েকজন যুবক। মুখ কালো কাপড়ে আবৃত , ইফরাহ ঠায় দাঁড়িয়ে দেখলো লোক গুলো তাদের দিকেই এগিয়ে আসছে। অথচ তার শরীর চলছে না, ইতোমধ্যে চরকির মতো ঘুরে দেহ বড্ড ক্লান্ত লাগছে তার। লোকগুলো আরো এগিয়ে আসছে। ইফরাহ মানহা কে ডাকল , বুবু আমাকে ধরো!
হাত বাড়িয়ে দিলো তবে আশ্চর্য মানহা সেই হাত ধরলো না। ইফরাহ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতেই দেখলো মানহা নেই সেখানে। ইফরাহ চেঁচিয়ে ডাকলো , বুবু !
মানহা আশেপাশে নেই। ইফরাহ বুকে মাঝে হৃদযন্ত্রটা যেন একটু দ্রুতই ওঠানামা করতে থাকলো। লোক গুলো নিকটে আসার খানিক আগেই ছুটতে লাগলো ইফরাহ। তবে বিধাতা সহায় হলেন না তার, একটু খানিক গিয়ে অনুভব করলো কে জানি পেছন হতে তাকে জড়িয়ে নিয়েছে। পর পুরুষ ছুঁয়েছে ব্যপারটা মাথায় আসছেই গা গুলিয়ে গলায় এসে ঠেকলো ইফরাহর। ছটফট করে ছুটতে চাইলো সে ,
-”প্রিয়তমা!”
চেনা কন্ঠস্বরে থমকে গেলো ইফরাহ। এখন সে আর ছটফট করছে না। এই কণ্ঠস্বর তার বড্ড চেনা। কাঁপা কাঁপা গলায় আওড়ালো ,
“ছোট খন্দকার।”
পুরুষটি খানিক হাসল বোধহয় তবে মুখ ঢাকার কারণে দেখা গেলো না সঠিক ইফরাহ কে ঘুরিয়ে মুখোমুখি দাড় করালো পুরুষটি। ইফরাহ লোকটির ব্রাউন মনির চোখ দুটোতে তাকিয়ে থেকে বলল , “ আমার পথ আটকিয়েছেন আপনি?”
পুরুষটি কথা বলল না , হালকা ঝুঁকে ইফরাহ কানের লতিতে এক কামড় দিতেই শক্ত হলো ইফরাহ চিবুক। ইফরাহ জোড়ে এক ধাক্কা দিলো পুরুষটির দেহে তবে একটু খানিও টলাতে পারলো না সে। পুরুষটি আবার হাসলো , এবারেও আড়ালে রইলো সেই হাসি। এক হেঁচকা টানে ইফরাহকে আরো কাছে নিলো পুরুষটি। একটু ধৈর্য নিয়ে ইফরাহ পেটে হাত বুলিয়ে ইফরাহ মনোযোগ টানলো সে। ইফরাহর রাখে শরীর জ্বলছে তবে সন্তানের ভয় আঁকড়ে ধরছে তাকে।
ইফরাহ তখন একটু অন্যমনস্ক হঠাৎ চোখের উপর কেউ একটা কালো পট্টি বেধে দিলো তার। মূহুর্তে অন্ধকার হলো সব। ক্ষনিকে হাত দুটো আবদ্ধ করা হলো কড়া বাঁধনে। ইফরাহ চিৎকার করতে নিয়েছিলো তবে তার আগেই নিজের ঠোঁটজোড়া অন্যের দখলে ভেবেই রাগে সারা দেহ ঝলসে যাবার উপক্রম তার। পুরুষটি গাঢ় এক চুম্বন খেয়েই খান্ত হয়নি সেই সঙ্গে ইফরাহ দুর্বল দেহের সুযোগ নিয়ে মুখে কাপড় বেঁধেছে। ইফরাহর দেহ ছটফট করছিলো। পুরুষটি তাকে কোলে তুলে নিলো।
ছুটতে ছুটতে মীর বাড়ির এসে পৌঁছেছে মানহা।সময় তখন সন্ধ্যার খানিক পরে অরুনিমা চিন্তিত ভঙ্গিতে অন্দরে বসে ছিলেন। মানহা এসে দাঁড়ালো। অরুনিমা দ্রুত কদমে এগিয়ে এলো , “ বউ রানী কই মানহা ? বউরানী ?
মানহা কয়েকবার শুষ্ক ঢোল গিলে গলা ভেজালো। অরুনিমা ব্যাকুল হয়ে উত্তরে অপেক্ষা করছে। মানহা বলল , “ বউরানী পালিয়েছে গিন্নিমা। ওই খন্দকারের লোকের সাথে যড়যন্ত্র করে ছোট নবাব কে গারদে ভরেছে। এখন থেকে সে ওই খন্দকার বাড়িতে থাক…
সম্পূর্ণ হলো না বাকি তার আগে কষে এক থাপ্পড় মারলেন অরুনিমা। এরপর এক থবলা থুতু মানহার মুখে ছুঁড়ে বললেন , “ এতো দিন তোর মতো এক কালসাপ পুষেছি বলে আজ নিজের আঙ্গুল নিজেকে কামড়াতে ইচ্ছে করছে।”
মানহা খানিক চমকালো বোধ হয় অবুঝের ভান ধরল , “ আমি কি করেছি গিন্নিমা?”
অরুনিমা আক্রমণাত্মক ভাবে চেপে ধরে মানহার চুলের গোছা। মানহা ব্যথা চোখ খিচে নেয়। অরুনিমা চিবিয়ে চিবিয়ে বলে , “ নষ্টা মেয়েছেলে , আমার বাড়ির বউয়ে নামে আর একটা নোংরা কথা যদি বের হয় তৌর মুখ ছেড়ে নিবো।
-আমার লাগছে গিন্নি মা !
অরুনিমা হাতের চাপ বাড়লো , “ আমার বংশের প্রদীপ হত্যার পরিকল্পনা করেছিস তুই। তোর বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই রে কালনাগিন!
-গিন্নিমা!
বাম হাতের এক উল্টো থাপ্পর পড়লো মানহার গালে। শক্ত হলো মানহার চোয়াল । এক ধাক্কায় অরুণিমা কে নিজের কাছ থেকে আলাদা করলো সে , চিবিয়ে চিবিয়ে বলল ,
-“ যা করেছি তাতে আমি বিন্দু পরিমাণ অনুতপ্ত নই। ছিলাম না ! হবো ও না !
ওই লোকটা আমার হবা কথা ছিলো। সে আমার ছিলো ! ওই সন্তান আমার গর্ভে স্থান নেবার কথা ছিলো। তবে তার স্থান হলো কোথায় , ইরার গর্ভে।
কেনো পেলো ? আমার সব হয়েও কেনো কিছু হলো না গিন্নি মা? আমি তো চেয়েছি ওই লোকটাকে সিজদায় গিয়ে কেঁদে কেঁদে চেয়েছি বহুবার তবু কেনো পেলাম না। অথচ কেউ একজন ঘৃণায় রেখেই তাকে পেয়ে গেলো? এটা কেমন নিয়তি খোদার! এ নিয়তির আগে কেনো মৃত্যু লিখলেন না তিনি আমার।
কিছু টা দম নিলো মানহা , আবারো বলল, আমি তো শকুন পুষি নাই গিন্নি মা ,আমি তোতাপাখি পুষেছি যার কিনা সর্বক্ষণ আমাকে তার মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে রাখার কথা ছিলো। কিন্তু দিন শেষে দেখি সে শকুন হয়ে আমার হৃদয়টা ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেয়ে অন্য জনের আদুরে পাখি হলো।
কি করলো এটা ? বরবাদ করলো আমায় , অথচ ভালোবাসলো অন্যকে।
মানহার চোখের পানি গাল বেয়ে পড়ছে। একটু থেমে হেঁচকি তলা কন্ঠে আবরো বলল, “ দুনিয়ার সবার কাছে আমি অপরাধী হলেও নিজের কাছে আমি সচ্ছ। যখন আমি তাকে ভুলতে চেয়েছি , নিঃসঙ্গতায় একাকী ভুগেছি তখনি আমি অনুভব করেছি আমার মৃত্যু। অতঃপর আমি মরেছি তার প্রেমে। এই চোখের সম্মুখে যাকে দেখছেন এটা কেবলি তার জ্যান্ত দেহ তবে আত্মা মৃত।
এ পর্যায়ে কঠোর হলো অরুনিমা কণ্ঠ , “ তুমি যাকে চেয়েছো, সে শুরু থেকে অন্য কারো ছিলো। তুমি পাপ করেছো তাকে ভালোবাসে।
মানহা তাচ্ছিল্য হাসল , সত্যি কি তাই ? যদি সত্যি তাই হয় তবে অভ্রনীল , খালুর আর আর অপরাজিতা খালার ছেলে এইটা গোপনে রেখেছেন কোন উদ্দেশ্যে। এটা কী পাপ নয়!
আপনি কী নিজেও স্বার্থপর হন নি সংসার বাঁচাতে।
অরুনিমা আরো একটা থাপ্পর বোধহয় মারবে মানহার গালে। হাত উঠেছিলো তার, তবে তা থেমে গেলো এক পুরুষ কন্ঠে , “অরু !”
চেয়ারম্যান সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে অবাক চোখে কেবলি তাকিয়ে দেখছে মানহাকে। সে মূলত মানহার কথার সারমর্ম বুঝতে চেয়ে নিশ্চুপ ছিলো। অরুনিমা ছুটে গেলো সিঁড়ি দিকে , “ বিশ্বাস করুন , এই মেয়ে মিথ্যা বলছে। আপনি হত্যা আদেশ দিয়েছিলেন অপরাজিতার ছেলেকে , তারা মেরে দিয়েছে। ও বেঁচে নেই !
চেয়ারম্যান শান্ত চোখে কেবলি তাকিয়ে দেখলো অরুণিমা ব্যাকুলতা। খানিক চুপ থেকে বলল ,
“ ব্যাকুল হইয়ো না অরু , সময় বদলেছে আমি আর আগে লোকটি নেই।”
অরুনিমা কন্ঠ কাঁপছে , “ বিশ্বাস করুন ও বেঁচে নেই।”
চেয়ারম্যান আদুরে হাত রাখলো অরুনিমার গালে , “ শান্ত হও অরু , আমি জানি আমার লোক অপরাজিতার সন্তান কে খুন করতে পারে নি। “
অরুনিমা শুষ্ক ঢোক গিলল , “ তুমি মহান অরু ,সতিনের ছেলেকে এতো বছর লুকিয়ে রেখেছো। তাকে বাঁচিয়েছো। ”
অরুনিমা ছিটকে সরে গেলো , “ সে সতিন নয় আমার , আপনার রক্ষিতা। তবে তার সন্তান কেবলি এই মীর পরিবারের রক্ত।”
উচ্চস্বরে হেসে উঠলো মানহা। অরুনিমা তীব্র বিরক্তি নিয়ে এসে চেপে ধরলো তারপর হাত। টানতে টানতে নিয়ে গেলো কাল কুরির পথে !
অরুনিমা সহজ নয়। আজ যেন বহু বছরের পুরনো অরুনিমা কে দেখছে মীর আহনাফ। এ যে বিধংসী নারী , মীর পরিবারের রক্তের ক্ষতি সে কোনো কালেই মানবে না। চেয়ারম্যান পিছু নিলো। বারংবার ডাকতে থাকতে পিছন থেকে , “ অরু থেমে যাও।’
অরুনিমা শুনে না সেই ডাক। মানহা ছুটার জন্য ছটফট করতে লাগলো।তবে অরুনিমা হাতে শক্ত বাঁধন হতে ছুটতে পারছে না। টান টানতে কালকুঠুরির নিকটতম জঙ্গলে এলো অরুনিমা। এক হেঁচকা টানে পর্দায় লুকায়িত কিছু খুললো সে। মানহা চোখ বড় বড় করে দেখলো কেবল। পর্দা সরে যেতেই উন্মুক্ত হলো মীর জমিদার বাড়ির পুরনো কুয়ো। জমিদারি আমলে এইটি ছিলো এই মীর পরিবারের পানি উৎস। তবে বহু বছর আগে এই কুয়ো মানুষ খেয়েছে। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা হয়েছে কাব্য কে হত্যা করতে চাওয়া চেয়ারম্যান ভারাটে লোকদের। যেটা অরুনিমা নিজে করেছে , আজো তাই হবে। এই কুয়ো আজো মানুষ গিলবে।
কুয়োর দিকে তাকিয়ে মানহা হৃদযন্ত্র খানিক থমকে গিয়ে আবারো দ্রুত বিট করতে লাগলো বোধহয়। এটা থামানো দরকার তার ,নয়তো বেরিয়ে আসবে। ক্ষনিকেই হঠাৎ কোনো প্রকার সংকেত ছাড়া মানহার হাত টেনে কুয়োতে ছুঁড়ে ফেললো অরুনিমা। চেয়ারম্যান এসে দাড়ালো কুয়োর কাছে , বিকট এক চিৎকারে জঙ্গলে রাতে বসবাস করা পাখি গুলো বোধ হয় ডানা ঝাপটালো। অরুনিমা ছুটলো কুঠুরি ঘরে , মিনিট কয়েকের মাঝেই ফিরে এলো পেট্রোলের বোতল হাতে। চেয়ারম্যান চমকিত হলো। বাঁধা দিয়ে বলল , “ এই ভয়ংকর কাজ করো না অরুনিমা ও তোমার বোনঝি হয়। “
অরুনিমা শুনলো না , পুরো বোতল ভর্তি পেট্রোল ঢাললো কুয়োতে। কুয়োর গভীরতা অনেকটা। মানহা চিৎকার করছে তবে সেই চিৎকার উপরে আসতে গিয়েও থেমে যাচ্ছে বারবার। পেট্রোল ঢালা হতেই অরুনিমা পাগলের মতো ম্যাচ খুঁজতে লাগলো ম্যাচ আনে নি সে। চেয়ারম্যানের ফতুয়ার পকেটের ম্যাচ থাকে। তিনি লুকিয়ে চুড়িয়ে বিড়িখান । অরুনিমা একটু খানি মুখে দিকে তাকিয়ে থাকলো চেয়ারম্যানের অতঃপর ফতুয়ার পকেট হাতরে ম্যাচ বের করল। কুঠিরের দরজায় একটা মর্শাল রাখা হয়েছে , অরুনিমা হাতে তুলে নিলো সেই মর্শাল। আগুন দিলো তাতে এবং চোঁখের পলকেই সেই আগুন ছুড়ে মারলো কুয়োতে।
মানহার চিৎকার এবারে কানে এসে বাজলো। মেয়েটা চিৎকার করছে , বারবার বলছে , “বাঁচাও শরীর জ্বলছে আমার।”
অরুনিমা পাষাণ , যড়যন্ত্রকারীর জন্য অরুনিমা পাষাণ। বিশ্বাসঘাতকের জন্য অরুনিমা পাষাণ। আজ তার চোখে অপরাধবোধ নেই। যে শাস্তি দিয়েছে। চেয়ারম্যান এগিয়ে এসে এক হাতে জড়ালো অরুনিমাকে। অরুনিমা তার দিকে একটু তাকিয়ে থেকে বলল ,
ছায়াস্পর্শ পর্ব ৪৮
“ আমার ফাইয়াজ ঘর করার ছেলে ছিলো না আহনাফ। সে ঘর বেঁধেছে , ইরার রূপে পড়ে হোক বা ভালোবেসেই হোক তার একটা ঘর হয়েছে। তোমার বংশের প্রদীপ ওই মেয়ের গর্ভে তাকে ঝরতে দিও না আহনাফ । ফিরিয়ে আনো আমার ইরাকে , ফিরিয়ে আনো মীর বাড়ির পরবর্তী প্রজন্ম কে।
চেয়ারম্যান দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। অচিরেই কানে বাজলো আরাধ্যের বলে যাও কথাগুলো , আমার বউকে আপনার আমানতে রেখে গেলাম আব্বাজান !
