Home জোড়া পাতার দিনলিপি জোড়া পাতার দিনলিপি পর্ব ১২

জোড়া পাতার দিনলিপি পর্ব ১২

জোড়া পাতার দিনলিপি পর্ব ১২
তোনিমা খান

জগতের অন্যতম এক ভয়ঙ্কর ভয় হলো ‘হারিয়ে ফেলার ভয়’। সৃষ্টিকর্তার হেদায়েত হারিয়ে ফেলার ভয়, প্রিয় মানুষ হারিয়ে ফেলার ভয়, গর্ভে লালন করা সন্তান হারিয়ে ফেলার ভয়। এই বিদঘুটে ভয়গুলো যার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছুটে বেড়ায় সেই মানুষটি কত যন্ত্রণা নিয়ে দিন কাটায় তা কেউ আন্দাজ করতে পারবে না।
আকাশ আজ বিন্দুর মুখের ন্যায় থমকে আছে। ভ্যাঁপসা গরমে জনজীবন অস্থির। তবে বিন্দুর হাত পা অস্বাভাবিক শীতল হয়ে আছে। নিজের বরফ শীতল হাতটি দিয়ে বিন্দু আরো একবার উষ্ণ মুখটি চেপে ধরে নিজেকে শান্ত করার ব্যর্থ চেষ্টা করল। কিন্তু ভেতরে গেঁথে যাওয়া হারিয়ে ফেলার ভয়কে সে কী করে মেটাবে?
হসপিটালের রিসিপশনে বসে থাকা মেয়েটির চোখ ছলছলে। গতকাল থেকে অযথাই যেখানে হাতটি বারবার ছুটে যাচ্ছে এবারেও বিন্দুর হাতটি সেখানে গিয়েই ঠেকলো।
সেদিকে ঝাঁপসা চোখে চেয়ে ফিসফিসিয়ে অনুনয় করে বলল,

“যদি এসে থাকো তবে মায়ের হয়ে থেকে যেও। প্রতিবারের মতো ছেড়ে চলে যেও না।”
বুকের ভেতরটা আজ ভীষণ অস্থির বিন্দুর। একটুও খুশি হতে পারছে না। কারণ দেড় বছর আগেও একবার এমনি কিছু সিম্পটম দেখা গিয়েছিল কিন্তু তার সেই সুখ এক সপ্তাহ ও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এরপর একবছর আগে আরো একবার হয়েছিল কিন্তু তখনো তা এক সপ্তাহের বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এবারেও যদি এমন হয়?
দরদর ঘেমে ওঠে বিন্দু। ঠোঁট ভেঙে কান্না আসে। কেন তার সাথেই এমন হয় বারংবার? আর পাঁচটা মেয়ের মতো তার ও তো ইচ্ছে করে নিজের উদরে কাউকে লালন করতে। নিজের একটা ছোট্ট অংশকে ছুঁয়ে দেখতে।
রিসিপশনিস্ট ব্যস্ত কদমে তার জায়গায় আসতেই বিন্দু চোখমুখ মুছে ত্রস্ত পায়ে এগিয়ে গেল। উন্মুখ হয়ে জিজ্ঞেস করল,
“ডঃ সুলেখা আছেন?”
কিন্তু তার সব উদগ্রীবতাকে বিলীন করে দিয়ে রিসিপশনিস্ট অত্যন্ত বিনম্র কণ্ঠে বলল,
“দুঃখিত ম্যাম, আজ তিনি ছুটিতে আছেন।”
বিন্দুর মুখে অন্ধকার নেমে আসে।

“কিন্তু উনি তো রোজ শনিবার নয়টায় চেম্বারে বসত।”
“হ্যাঁ, কিন্তু আজকে হঠাৎ করেই ছুটি নিয়েছেন। আপনি আগামীকাল আসুন। আগামীকাল সে আসবে।”
বিন্দু বিদীর্ণ বেদনাভরা মুখে মাথা নেড়ে বেরিয়ে আসল হসপিটাল থেকে। হসপিটালের গেট পেরুতেই কিছুটা হকচকিয়ে গেল কবিরকে দেখে। কবির তটস্থ ভঙ্গিতে এগিয়ে আসে। চিন্তিত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,
“ম্যাডাম, এত সকাল সকাল হসপিটালে কেন এসেছেন? শরীর খারাপ করছে না-কি?”
বিন্দু কপাল কুঁচকে গম্ভীর গলায় বলল,
“এখন কী আমার ব্যক্তিগত বিষয় ও আপনাকে কৈফিয়ত দিতে হবে? সরুন এখান থেকে।”
কঠোর গলায় বলেই বিন্দু গটগট করে চলে গেল। কোচিং এই আসল। একটা নীরব ক্লাসে বসে নিজের চাকরির বই পড়তে শুরু করল। রুহান নিজের কলেজে যাওয়ার আগে একবার কোচিং এ আসে। হাঁটতে হাঁটতেই এত সকালে বিন্দুকে খালি কক্ষে বসে থাকতে দেখে এগিয়ে গেল।
“আপনি এত সকালে এখানে কেন? আপনার ক্লাস তো বারোটায়।”
বিন্দু মৃদু চমকে উঠে তার পানে তাকায়। ধাতস্থ কণ্ঠে বলল,

“বাসায় ভালো লাগছিল না তাই ভাবলাম এখানে এসে পড়ি।”
“ওহ্ আচ্ছা।”
রুহান তার থেকে দুইটা বেঞ্চে বসল। পুনরায় জিজ্ঞেস করল,
“তো আপনি কবে ফিরে যাচ্ছেন?”
“কোথায়?”
বিন্দু আনমনে শুধালো। রুহান কৃত্রিম হেসে বলল,
“আপনার স্বামীর সাথে বনিবনা নিশ্চয়ই হয়ে গিয়েছে? তার কাছে ফিরে যাচ্ছেন কবে?”
“ওহ্, হয়তো এক সপ্তাহ পর।”
বিন্দু উদাসীন কণ্ঠে জবাব দিল।
রুহান আরেকটু কৌতুহল দেখালো।
“বনিবনা হয়েছে?”
বিন্দু ভাবুক হলো। বনিবনা হওয়াটাই কী মুখ্য? সম্পর্ক কী জোরজবরদস্তি করে জুড়ে রাখতে হয়, না-কি একে অপরের ভালোবাসা আর বিশ্বাস একটা সম্পর্ক শক্ত করে জুড়ে রাখে? তাদের সম্পর্কের বিশ্বাসের ভিত্তি ই তো নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে। আগের মতো কখনো কী হবে?

“হয়নি নাকি আপনার স্বামী জোরজবরদস্তি করছে? আপনার স্বামীকে অনেক ডমিনেটিং মনে হয়েছে।”
পুনরায় রুহানের এহেন মন্তব্যে বিন্দু ফিরে তাকালো। সহসাই জবাব দিতে পারল না। কারণ তিন বছর যাবৎ দেখা তালহারের মাঝে আর এই একমাসের দেখা তালহারের মাঝে বিস্তর ফারাক। কিছু লহমা পূর্বেও কেউ তালহারকে তার সামনে ডমিনেটিং বললে সে বিরোধ করত। কিন্তু আজ করতে ইচ্ছে হলো না।
ক্ষীণ স্বরে বলল,
“জোরজবরদস্তি করার মতো সম্পর্ক আমাদের নয়।”
রুহানের মুখটা উদাসীন হয়ে আসল। ছোট্ট করে বলল,
“ওহ্, তবে তো ভালো।”
পরপরই বলল,
“আমি তবে আসছি। কলেজে যেতে হবে।”

বিন্দু সায় জানালো। রুহান অলস কদমে বেরিয়ে যায় কামরা থেকে। মনে প্রশ্ন জাগে, এই ভাঙা মন কেন বারংবার নিষিদ্ধ জিনিসে গিয়ে নিজের প্রাণ খুঁজে পায়? দুঃখ কী কভু পিছু ছাড়বে?
বিন্দু নিজের ভেতরকার উত্তেজনা সামলে পড়ায় মনোযোগ দেয়ার চেষ্টা করলেও একটুও মনোযোগ দিতে পারছিল না। সে এখনো নিজে থেকে টেস্ট করেনি। আবার যদি স্বপ্নটা ভেঙে চুরমার হয়ে যায় সেই ভয়ে। কিন্তু নিজেকে দমাতেও পারছে না ওই চিরচেনা দুইটা লাল দাগ দেখার আনন্দ অনুভব করার জন্য।
সে কোচিং এর আয়াকে দিয়ে দু’টো কীট আনালো। কবিরের সামনে পড়তে চায় না এভাবে।
আয়া মৃদু হেসে তার কাছে ফিরে এলো। মেয়েটি খুব ভালো। এসেছে থেকে তার সাথে অনেক গল্প করে, ভালোমন্দ শোনে।
সে মুচকি হেসে বলল,
“সুখবর আছে না-কি?”
বিন্দু মলিন হেসে বলল,

“আমার কপালে সুখ সয় না তো, আন্টি। দোয়া করবেন যেন আপনার কথা সত্যি হয়।”
আয়া ব্যথিত হলো। মাথায় হাত রেখে স্নেহভরা কণ্ঠে বলল,
“এত ভেঙে পড়ে না, মেয়ে। ধৈর্য রাখো। আল্লাহ ঠিক সময়ে তোমার কোল ভরে দেবে।”
বিন্দু মলিন হেসে দ্রুত ওয়াশরুমে চলে গেল। বেশ বড়সড় একটা লেডিস ওয়াশরুমের ভেতরে দুইটা বাথরুম। বাইরে একটা বেসিন দুইটা টুল রাখা। কিয়ৎকাল বিন্দুর উত্তেজনা আর সময় যেন থমকে গেল সেথায়। পরপর দুইবার টেস্ট করার পরে বিন্দু ওয়াশরুমে রাখা একটি টুলে চুপটি করে মাথা নুইয়ে বসে আছে। হাঁটুতে ঠেকিয়ে রাখা দুই হাতের কনুই। কিন্তু হাতের আঙুলগুলো থরথরিয়ে কাঁপছে।
বিন্দু পুনরায় মাথা তুলে তাকায় নিজের হাতের দিকে। এবং পুনরায় দু’হাতের আজলায় থাকা দু’টো কীটে জ্বলজ্বল করতে থাকা দু’টো লাল দাগ দেখে সে আচমকাই হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। সদ্য ওয়াশরুমে ঢোকা এক ইন্টারমিডিয়েট স্টুডেন্ট পরিচিত ম্যামকে ওভাবে কাঁদতে দেখে ভড়কে গেল। কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করার মতো সাহস হয় না।
কিন্তু বিন্দু? তার সেদিকে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই। সে কাঁপতে থাকা হাতে কীট দু’টো শক্ত করে আঁকড়ে ধরে অঝোরে কাঁদছে। যতক্ষণ না তার ভেতরকার ক্লেশ ফুরায়। কাঁদতে কাঁদতে একটাসময় বিন্দু কীট দুটোকে বুকে চেপে ধরল। অনুনয়ভরা কণ্ঠে বলল,

“এবার অন্তত মাকে ছেঁড়ে যেওনা, বেবি। মা তোমার ছোট্ট দেহটি বুকে নেয়ার জন্য হাহাকার করছি।”
তালহার আর তার টিম মেম্বাররা গতকাল থেকে নির্ঘুম কাজ করে যাচ্ছে। তালহার তখন পুরোদস্তুর প্রস্তুত মাহির চৌধুরী আর তার দলের সামনাসামনি করার জন্য। এবার শুধু ফয়সালা আর প্রমাণ পেশ করার পালা।
ব্যাক্তিগত ফোনটি রিং হতেই তালহারের অজস্র ব্যস্ততারা মুখ লুকায়। নির্ঘুম রাত্রি যাপনের ক্লান্তি ভরা চাহনিতে ফোনের দিকে তাকালে হতাশা অনুভব হয়। ওটা কাঙ্খিত নাম্বার ছিল না। সে কর্মরত একুশ জন কর্মকর্তাদের আদেশের সুরে বলল,
“আপনারা কাজ করুন আমি পাঁচ মিনিটের মধ্যে আসছি।”
বলেই সে ব্যস্ত কদমে বেরিয়ে গেল বিশালাকৃতির কম্পিউটার রুম থেকে। রিসিভার কানে ঠেকিয়ে ব্যস্ত কণ্ঠে বলল,

“কবির বলো। এনি আপডেট?”
কবির চায়ের কাপে চুমুক বসাতে বসাতে বলল,
“স্যার, ম্যাডাম অনেক ভোরে হাসপাতালে গিয়েছিল। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম কেন গিয়েছে। কিন্তু সে রাগ দেখিয়েছে। আমিও ব্যক্তিগত বিষয়ে আর হস্তক্ষেপ করিনি। আপনি একটু ব্যাপারটা দেখুন।”
তালহারের চোখেমুখে উদ্বিগ্নতা ছুঁয়ে গেল। সে তৎক্ষণাৎ ফোন লাগায় বিন্দুর ফোনে।
নত শির কাঁদতে থাকা মেয়েটির কান্না বৃদ্ধি পেল ফোনের স্ক্রিনে ভেসে ওঠা নাম্বারটি দেখে। সে কান্না চেপে ফোনটি কানে ঠেকায়। ভেসে আসে উদ্বিগ্ন কণ্ঠ।
“হেই, বিন্দু? শরীর খারাপ করছে? সকালে হাসপাতালে গিয়েছিলে কেন?”
বিন্দুর চেঁচিয়ে বলতে ইচ্ছে করল, সে মা হচ্ছে। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা কখনোই তার কণ্ঠে এই জোর দেয়নি। কারণ তার মনে ভয়, প্রতিবারের মতো এবারেও যদি তার আর্লি মিসক্যারিজ হয়? তাই অনিশ্চিত এই সুসংবাদ দিয়ে সে আরো একবার হতাশ করতে চায় না কাউকে। যতক্ষণ না ডক্টর নিশ্চয়তা দিচ্ছে ততক্ষণ সে কাউকে জানাবে না।
কীট দুটোকে দেখতে দেখতেই সে ক্ষীণ স্বরে বলল,

“কিছু না।”
তালহার মেয়েটির কণ্ঠের সকল রূপ চেনে। তার ললাটের ভাঁজ দৃঢ় হলো। বিচলিত কণ্ঠে বলল,
“কিন্তু তোমার আওয়াজ তো অন্য কিছু বলছে? কী হয়েছে আমায় খোলাখুলি বলো বিন্দু।”
“বললাম তো কিছু হয়নি।”
“বিছানায় না পড়া অব্দি তোমার মুখ থেকে কিছু বের হবে না, তাই তো? রাগ দেখিয়ে শরীরকে কষ্ট দেয়া বন্ধ করো। আমি একটু ব্যস্ত আছি। এখুনি বের হতে পারছি না। কোচিং শেষে অপেক্ষা করবে আমি নিতে আসব।”
তালহার উদ্বিগ্ন চিত্তে বলল। এই একটা মানুষকে নিজের কাছে রাখার জন্য সে নিজের পরিবারের সাথেও লড়ে যায়। বিয়ের পর থেকে এই মেয়েটিকে সে কখনো নিজের থেকে এভাবে দূরে রাখেনি। আর না দূরে রেখে সে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে। নিজের সাথে লড়তে লড়তে সে নিজেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।
বিন্দু সপ্রতিভ কণ্ঠে বলল,
“কেন? কোথায় নেবেন?”

“বাসায়। ওখানে আর থাকতে হবে না। এতটুকু সময় নিজের খেয়াল রাখো। আর বেশি শরীর খারাপ লাগলে কবিরকে বলবে। আমি যত দ্রুত সম্ভব আসার চেষ্টা করব।”
ব্যস্ততার সাথে বলেই তালহার ফোন রেখে দিল। কাজের গতি আরো বাড়িয়ে দিল। যত দ্রুত কাজ শেষ করবে তত দ্রুত ঘরে ফিরতে পারবে সেই আশায়।
সে পুনরায় কম্পিউটার রুমে ঢুকতেই খিলজি মাহমুদ ঢুকলেন। প্রসন্নতার সাথে বললেন,
“ট্রাভেল এজেন্সি থেকে রিপোর্টগুলো চলে এসেছে।”
তালহার সেগুলো নিয়ে তাদের উদ্ধারকৃত তথ্যের সাথে মেলালো। রিপোর্ট গুলো মিলে যেতেই মুহুর্তেই তার মুখে হাসি ফুটে উঠল।
ডঃ জিন্নাহ ঠিক সেই দেশগুলো ভিজিট করেছে যেই দেশগুলোতে অবৈধভাবে জ্বালানি পাচার করা হয়‌।
তালহারের মুখের হাসি বাড়তে লাগল আর ললাটের ভাঁজ কমতে লাগল। ক্যারিয়ারে আজ পর্যন্ত কোনো কেস না হারার সেই অহমিকা ফুটে উঠল তার কঠিন মুখে।
কিন্তু ক্যারিয়ারে জিতে যাওয়া মানুষটি কী ব্যক্তিগত জীবনেও জিততে পারবে? নাকি নিজের সবচেয়ে লুকায়িত জীবনে তালহার মুজাহিদ বাজেভাবে হেরে যাবে।

তালহার আর তার টিম যখন উন্মত্ত ডঃ জিন্নাহকে কেসের মূল সাসপেক্ট বানানোর জন্য প্রমাণ একত্র করতে, তখন মেহমেদ আবিষ্কার করল তালহার মুজাহিদের এক অন্য পৃথিবীকে।
মেহমেদ ত্রস্ত পায়ে কম্পিউটার রুমে ঢুকলো। বিচলিত কণ্ঠে বলল,
“স্যার, এটা একটু দেখুন।”
তালহার কম্পিউটার ছেড়ে উঠে আসে। মেহমেদ তার ফাইলের ভেতর থেকে একে একে তিনটা ছবি ডেস্কের উপর রাখল। উৎকণ্ঠা নিয়ে বলল,
“স্যার, আপনি যে আপনার পেছনে এই লোকটাকে সেদিন দেখছিলেন সেই লোকটা মূলত দেড় মাস আগে থেকে আপনাকে অনুসরণ করছে। কিন্তু সে এরপর আপনাকে অনুসরণ করা ছেড়ে দেয়।”
“অনুসরণ করা ছেড়ে দিল কেন?”
তালহারের ভ্রু কুঁচকে আওড়ালো। মেহমেদ দ্বিগুণ উৎকণ্ঠা নিয়ে বলল,
“এখানেই প্রশ্নটা। আর এর উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমরা এই জায়গাটা পাই।”
মেহমেদ একটি ঠিকানা এগিয়ে দিল তালহারকে। ঠিকানাটা দেখতেই সহসা তালহারের মুখের বর্ণ বিবর্ণ হয়ে যেতে লাগল। ওটা তার বাড়ির ঠিকানা। কিন্তু দেড় মাস আগে যদি কেউ তার বাড়ির ঠিকানা পেয়ে যায়, তবে এতক্ষণে সে তার স্ত্রীর খোঁজ ও পেয়ে গেছে।

“ওহ্ নো!”
তালহার অস্ফুট স্বরে আর্তনাদ করে উঠল। মেহমেদ কৌতুহলী গলায় বলল,
“স্যার, এটা কোন ঠিকানা? বাই এনি চান্স কী এটা আপনার বাড়ির ঠিকানা?”
“হ্যাঁ।”
তালহার এলোমেলো দৃষ্টি ফেলতে ফেলতে বলল। তার বুকের ভেতরটা মুহুর্তেই শুন্য হতে লাগল। মেহমেদের মাঝে খুব একটা উদ্বেগ দেখাগেল না। সে আবার বলতে শুরু করল,
“আমি এমন কিছুই আশা করেছিলাম স্যার। কিন্তু আরো একটা অদ্ভুত ব্যপার হলো এই লোকটাকে বিগত এক মাস যাবৎ অন্য এক জায়গায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।”
তালহার চকিতে তার মুখপানে দৃষ্টি রাখে। অস্ফুট স্বরে শুধায়,
“কোথায়?”
“এই জায়গাটায় স্যার। মূলত এখানে একটা মেয়ের উপর দূর থেকে নজর রাখতে দেখা যায় তাকে। এই মেয়েটা।”
মেহমেদ আরো একটা ঠিকানা আর একটা ছবি বের করে তার হাতে দিল। তালহারের মনে হলো তার জীবনটা আরো একবার কেউ তিনশো ষাট ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ঘুরিয়ে দিচ্ছে। কারণ ওটা বিন্দুর ছবি আর এড্রেসটা বিন্দুর বাসার।
তার আঙুলের ডগাগুলো কিঞ্চিৎ কেঁপে উঠল।
মেহমেদ ভীষণ কৌতুহলী গলায় বলল,

“স্যার, এই মেয়েটা একটা কোচিং এ জব করে। আমি বুঝতে পারছি না কেন ওরা আপনার উপর যতটা না নজর রাখছে, তার চেয়ে বেশি এই মেয়েটিকে নজরে রাখছে।”
“কারণ ওই মেয়েটা আমার স্ত্রী। আর ওরা ভাবছে আমায় হারানোর জন্য ওই মেয়েটাই যথেষ্ট।”
মেহমেদের কথা শেষ হতে না হতেই তালহার স্তব্ধ কণ্ঠে বলে উঠল। মেহমেদ সহ কক্ষের একুশ জন অফিসার চমকে উঠল আকস্মিক এহেন কথায়। মেহমেদ অবিশ্বাস্য নয়নে তাকালো। অস্ফুট স্বরে আওড়ালো,
“আপনার স্ত্রী?”
“হ্যাঁ, ওরা আমার স্ত্রীর কাছে পৌঁছে গিয়েছে।”
তালহার ব্যস্ত দৃষ্টি ফেলে নিজের ফোন খুঁজল। ডেস্কে পেতেই দ্রুত কবিরকে ফোন লাগালো। কিন্তু ফোন রিসিভ হচ্ছে না।
দুপুর দেড়টা। বিন্দু ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারের শেষ ক্লাসটা করাচ্ছিল। তাকে বেশ ফুরফুরে মেজাজে লাগছিল। কিন্তু মিনিট দুইয়ের ব্যবধানেই তার প্রসন্নতা অতীত হয়ে ধরা দিল।
ক্লাসের সকলকে লিখতে দিয়ে বিন্দু তখন একটা বেঞ্চে গিয়ে বসল। নিজের শরীরকে এখন আর বিন্দুমাত্র অযত্ন করবে না। তন্মধ্যেই তার বাটন ফোনটি ভাইব্রেট করে উঠল। কৌতুহলী বিন্দু সদ্য আসা মেসেজটা খুলল ভীষণ শঙ্কার সাথে। আবার সেই অজ্ঞাতনামা কারোর থেকে মেসেজ নয়তো? এবার কী বলতে চায়? স্বামীর প্রতি বিশ্বাস ধরে রাখতে পারবে তো?
তার শঙ্কা ঠিক হলো। মেসেজটা আগের দিনের সেই অজ্ঞাতনামা কারোর থেকেই ছিল। কিন্তু মেসেজটা পড়তেই তার পায়ের তলার মাটি সরে যেতে লাগল। বিন্দু চোখ রগড়ালো। আবার সতর্কতার সাথে মেসেজটি পড়তে লাগল।

“তালহার মুজাহিদ কী বাবা হতে পারছে না, নাকি বাবা হতে চাইছে না? সে কী শুধুই তার ক্যারিয়ার নিয়ে খেলছে না-কি তার স্ত্রীর মাতৃত্ব নিয়েও খেলছে? আপনার স্বামীর সত্যতা যাচাই করুন।”
বিন্দুর মাথা ঝিম ধরে আসল। সেদিনকার মেসেজটাও সত্য ছিল। তারমানে কী আজকেরটাও? বিন্দুর শ্বাস-প্রশ্বাস বাড়তে লাগলো।
“এটা হতে পারে না…এটা হতে পারে না। তালহার কঠোর কিন্তু নিষ্ঠুর না।”
বিন্দু অস্থিরচিত্তে আওড়ালো। উঠে গিয়ে দ্রুত টেবিলে রাখা পানির বোতলটা হাতে নিয়ে ঢকঢক করে পানি খেলো। সে পানি রেখে ফিরতেই আচমকা ক্লাসের দরজা দিয়ে চারজন কালো পোশাক পরিহিত লোক গটগট করে ঢুকে গেল।
বিন্দু কপাল কুঁচকে বলল,
“এটা কোন ধরণের বিশৃঙ্খলা?”
লোকগুলো তার দিকে এক পলক দৃষ্টি ফেলে পকেট থেকে গান বের করল। একটা গান বিন্দুর দিকে আর একটা গান স্টুডেন্টদের দিকে তাক করতেই মুহুর্তেই কক্ষটি পিনপতন নীরবতায় ছমছমে হয়ে গেল। বিন্দু ভয়ার্ত কণ্ঠে চেঁচিয়ে উঠল,
“এগুলো কী করছেন? ওদের দিকে গান ধরেছেন কেন? আপনারা কারা? কেউ আছোওওও!”
বিন্দু সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে চিৎকার করল। করিডরে ইতিমধ্যেই হৈচৈ পড়ে গিয়েছে। কিন্তু তাতে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ না করে লোকগুলো বিন্দুর দিকে বন্দুক তাক করে বলল,

“চিৎকার করবেন না। আমরা আপনার কিছু করব না আর না স্টুডেন্টসদের।”
“তবে কী চান?”
বিন্দু শাড়ির আঁচল খামচে ধরে বলল।
লোকটি শান্ত স্বরে বলল,
“আপনাকে?”
বিন্দুর দেহ হীম হয়ে আসল। অনতিবিলম্বে তার চোখের সামনে প্রেগন্যান্সি কীটের লাল দাগদুটো ভেসে উঠল। সে ছলছলে নেত্রে বলল,
“কেন? আপনারা কে?”
লোকগুলো আর একটাও জবাব দিল না শুধু বিন্দুর মুখের উপর একটা স্প্রে করল। সাথে সাথেই মেয়েটির চোখের সামনে সবটা ধূসর হয়ে আসল। ঢলে পড়া বিন্দুকে লোকটি কোলে তুলে নিল। বাকি তিনজন সবার দিকে বন্দুক তাক করে ব্যাক-আপ দিতে লাগল।
কবির তখন বিন্দুর কোচিং এর সামনে থাকা ভাতের হোটেলে ভাত খাচ্ছিল। ম্যাডামের ক্লাস শেষ হতে হতে তার খাওয়া শেষ হয়ে যাবে। ফোনটা হোটেলের সকেটে চার্জে দেয়া। তন্মধ্যেই হোটেলের ছেলেটা হাঁক ছেড়ে বলল,

“ভাই, আপনার ফোন বাজতেছে অনেকক্ষণ যাবৎ।”
কবির তড়িৎ গতিতে বলল,
“এই ভাই একটু দাও না।”
লোকটি ফোন দিয়ে গেল। তালহারের ফোন। সে তড়িৎ গতিতে রিসিভ করেই বলল,
“স্যার, ম্যাডাম একদম ঠিক আছে। দশ মিনিট আগে একটা ক্লাসে ঢুকেছে।”
তালহার হড়বড়িয়ে বলল,
“ঠিক নেই কবির। বিন্দুকে এখুনি ওখান থেকে সরাও। হাতে একটুও সময় নেই। ওকে দ্রুত সরাও।”
কবির চকিতে হাত ধুতে ধুতে বলল,
“কেন স্যার কী হয়েছে? আমি এখুনি সরাচ্ছি ম্যাডামকে।”
কিন্তু বেকার কবির যতক্ষণে বের হলো ততক্ষণে সবটা শেষ! তালহারের বিশ্বাস ততক্ষণে ভেঙে ফেলেছে কবির। বিন্দুকে সদ্য একটা গাড়িতে ওঠাতে দেখে কবির চেঁচিয়ে উঠল,
“এই!”

কবির পকেট থেকে গান বের করে সাথে সাথেই শ্যূট করল বিন্দুকে আঁকড়ে ধরা লোকটিকে। ঠিক বাহু বরাবর গুলিটা লাগতেই লোকটি খানিক হেলে পড়ল। কিন্তু তবুও বিন্দুকে ছাড়ল না লোকটি। বরং বিন্দুকে আড়াল করে আরো তিনটা লোক দাঁড়িয়ে গেল। তিন জনেই কবিরের দিকে গুলি ছুঁড়ল।
কবিরের দুই বাহু বরাবর দু’টো গুলি লাগল। তার চোখের সামনে থেকেই বিন্দুকে নিয়ে গেল হলো। গোলাগুলি হওয়ার ভয়ে আতঙ্কিত জনগন কেউ রাস্তায় ছটফট করতে থাকা কবিরকে সাহায্য করতে আসল না। আর না বিন্দুকে সাহায্য করল। কবির ছটফট করতে করতে তালহারকে ফোন লাগালো।
ফোনটি রিসিভ করতেই তালহার সর্বশান্ত হয়ে গেল। কোনোরূপ জবাব দিল না। ফোনটা কেটে নির্বিকার আবার নিজের চেয়ারে গিয়ে বসল। মেহমেদ উদ্বিগ্ন চিত্তে এগিয়ে গেল।
“স্যার কিছু কী হয়েছে? আপনার স্ত্রী কী ঠিক আছে?”
তালহার পিসির দিকে স্থির দৃষ্টি রেখে বলল,
“তারা আমার স্ত্রীকে নিয়ে গিয়েছে।”
“এখন আমরা কী করব?”
“এই ঠিকানায় আপাতত দু’জন লোক পাঠান। বলুন কবিরকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাতে।”
“কিন্তু আপনার স্ত্রী?”
“চুপ করে ওখানে বসুন আর কাজ করুন।”
তালহারের বরফ শীতল কণ্ঠে কক্ষের সকলে হতভম্ব। খিলজি মাহমুদ হন্তদন্ত হয়ে কামরায় ঢুকলেন। অবিশ্বাস্য কণ্ঠে শুধালেন,

“তালহার আমি এসব কী শুনছি? তুমি বিবাহিত ? তোমার স্ত্রীর কাছে মাহির চৌধুরী পৌঁছে গিয়েছে?”
মেহমেদ ফিরে তাকায় বাবার দিকে। উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলল,
“স্যারের স্ত্রীকে ওরা নিয়ে গিয়েছে, বাবা।”
খিলজি মাহমুদ স্তব্ধ! পরমুহূর্তেই ধাতস্থ কণ্ঠে বলল,
“আমরা তাকে উদ্ধার করার ব্যবস্থা করছি। চিন্তা করো না।”
তালহার মুখ খুললো। গনগনে কণ্ঠে বলল,
“কোনো প্রয়োজন নেই স্যার। যে যার কাজে ফিরুন।”
“এসব কী বলছ, তালহার?”
“আমি ঠিক বলছি, স্যার। আপনি চিন্তিত হবেন না। আমার ঘরে কেউ একটা আঁচড় ও কাটতে পারবে না।”
তালহার শেষ কথাটা বড্ডো ক্ষীণ স্বরে বলল।
খিলজি মাহমুদ তর্ক করলেন না। উপস্থিত সকলে নির্বাক স্যারকে পর্যবেক্ষণ করতে করতে কাজে মনোযোগ দিল।

সময় কাটে। এক ঘন্টা‌ কেটে গেল। কিন্তু তালহার একবারের জন্যও পিসি থেকে দৃষ্টি সরায়নি। ঠিক এক ঘন্টা পাঁচ মিনিটের মাথায় তালহারের পিসিতে ভিডিও কল আসল।
তালহারের অপেক্ষা ফুরায়। স্ক্রিনে মাহির চৌধুরীর পরিপাটি একটি মার্জিত রূপ ভেসে উঠতেই তালহার চেয়ারে গা এলিয়ে দিল।
মাহির চৌধুরী মৃদু হেসে সালাম দিলেন।
“তালহার মুজাহিদ, কেমন আছেন?”
তালহার জবাব দিল না শুধু নির্বিকার তাকিয়ে রইল মাহির চৌধুরীর মুখের দিকে।
তালহারের এই নীরবতায় মাহির চৌধুরীর মুখের মৃদু হাসিটুকু মিলিয়ে গেল। তিনি পরক্ষণেই বেশ গাম্ভীর্যের সাথে বললেন,
“সালামের জবাব দেওয়াটা কিন্তু ভদ্রতা, অফিসার। তাছাড়া এটা আপনার দায়িত্বের মধ্যেও পড়ে।”
তালহার এবারও তার চাউনি বদলাল না। অত্যন্ত শান্ত, অথচ কঠিন গলায় জবাব দিল,
“সালামের জবাব দিলে আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হবে, চৌধুরী সাহেব। কিন্তু এই মুহূর্তে আমি কোনোভাবেই চাই না যে আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। কাজের কথায় আসুন।”
মাহির চৌধুরীর মুখটি কঠিন হয়ে উঠল। তবুও স্বভাবসুলভ শান্ত মুখশ্রীতে সৌজন্য হাসি ফুটিয়ে তুলল। বলল,
“আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে আপনি ভীষণ শান্তিপ্রিয় মানুষ। তবে এত অশান্তির কী প্রয়োজন বলুন অফিসার? আমরা বরং একটা শান্তিপূর্ণ সমঝোতায় আসি।”

“দুঃখিত।” তালহারের কণ্ঠ এবার আরও এক ধাপ নিচে নেমে এল, যাতে মিশে রইল তীব্র শীতলতা।
“শান্তিপূর্ণ সমঝোতার সময়সীমা অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। এবার আর কোনো আলোচনা হবে না, চৌধুরী সাহেব; এবার শুধু ফয়সালা হবে। অন্য কিছু বলার থাকলে বলতে পারেন।”
তালহারের চোখের সেই অবিচল ও অনমনীয় চাউনি দেখে মাহির চৌধুরী বুঝতে পারলেন তাকে কেবল কথায় দমানো যাবে না। তার মুখের হাসির চওড়া হলো। সে মাথা দুলিয়ে বলল,
“আমি জানতাম আপনি রাজী হবেন না, অফিসার। তাই আমি আপনার জন্য বিকল্প উপায় ও রেখেছি।”
বলেই স্ক্রিন থেকে আলতো সরে গেলেন মাহির চৌধুরী। সাথে সাথেই ভেসে উঠল চেয়ারে বেঁধে রাখা বিন্দুর বিধ্বস্ত বদন। তালহারের দৃষ্টি স্থির হয় অচেতন স্ত্রীর পানে। চোখের নিচে কালচে দাগ, ক্লান্তিভাব, অসুস্থতা স্পষ্ট। মেয়েটি নিজের প্রতি বড্ডো বেখেয়ালি, অযত্নশীল।
মাহির চৌধুরী এবার বেশ উৎসুক কণ্ঠে বলল,
“এবার নিশ্চয়ই আমরা একটা শান্তিপূর্ণ সমঝোতায় আসতে পারি, অফিসার? আমি নিশ্চিত এখন আর আপনি অমত করবেন না।”

তালহার মৃদু হাসল। অবিকল মাহির চৌধুরীর মতো করেই আচমকাই সেও নিজের চেয়ারটা একটু পাশে সরিয়ে নিলো। মাহির চৌধুরী ভ্রু কুঁচকে নিলো। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো তালহারের দিকে। তালহার মৃদু হেসে হাত বাড়িয়ে নিজের পাশে আরেকটি চেয়ার টেনে আনলো। ভীষণ উদাসীনতার সাথে বলল,
“আবার বলুন, চৌধুরী সাহেব। কী বলছিলেন?”
মুহুর্তেই মাহির চৌধুরীর পায়ের তলার মাটি সরে গেল। সে আচমকা দাঁড়িয়ে গিয়ে চিৎকার করে উঠল,
“অফিসার, হাউ ডেয়ার ইউ টাচ মাই ডটার?”
তালহারের মৃদু হাসি মিলিয়ে গেল। চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল অস্বাভাবিক। সেও পাল্টা গর্জে উঠে বলল,
“হাউ ডেয়ার ইউ টাচ মাই ওয়াইফ?”

জোড়া পাতার দিনলিপি পর্ব ১১

তালহারের পাশের চেয়ারটিতে চুপটি করে বসে আছে মেঘ। তার আঁখিদ্বয় স্থির তালহারের শক্ত মুখপানে। ওই চোখেমুখে রাগ, ক্ষোভ, হিংস্রতা। তার স্ত্রীকে ছোঁয়ার ক্রোধ। প্রিয় মানুষটিকে অন্য একজনের জন্য তরপাতে দেখে মেঘের স্থির দৃষ্টি একটু একটু করে ঝাঁপসা হতে লাগল। কত দৃঢ় কণ্ঠে বলছে, “মাই ওয়াইফ”!

জোড়া পাতার দিনলিপি পর্ব ১৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here