তাকদীর পর্ব ৬
নিরুর কল্পনারাজ্য
আয়রা যাওয়ার পর আমিরা মলিন আদলে সোফায় বসে নতমস্তকে নখ খুটছিলো। ঝুলিয়ে রাখা পা’দুটো ক্রমাগত দুলিয়ে যাচ্ছে সে। ফলস্বরূপ সোফায় নিচের দিকের বক্স আকারে থাকা ফাঁপা স্থানটিতে গিয়ে তা আওয়াজ তুলছে ভীষণ শব্দে। নিরিবিলি হসপিটালের ক্যাভিনে তা অসীম আওয়াজের সৃষ্টি করছে।।যার দরুণ জুনায়েদের মস্তিষ্ক অশান্ত হয়ে ওঠে। কুঁচকানো ভ্রু এবং ভাঁজকৃত কপাল ভেসে ওঠে আঁখিবদ্ধ অবস্থাতেই। দীর্ঘক্ষণ একই শব্দের পুনরাবৃত্তি হওয়ার ফলসরূপ হঠাৎ করেই সে চোখ মেলে বসে। চোখদুটো তখনও রক্তিম। গায়ে তার কম্ফোর্টার জড়ানো। ভারি হয়ে আছে তার মাথা। এপাশ ওপাশ ফেরানোর শক্তিও বুঝি হারিয়েছে। বহু কষ্টে সে ডান পাশে মাথাটা কাত করে। ধীমি তবু দৃঢ় স্বরে উচ্চারণ করে,
— হোয়াট দ্যা হেল ইজ দিজ!
আমিরা চমকিতে নেত্র তুলে তাকায় জুনায়েদের পানে। জুনায়েদও তার পানে চায়লো। আমিরার চোখদুটো দেখে সে অবাক হলো। চোখদুটো লালচে হয়ে আসছে। অক্ষিকোটরে পানির সমাহার যেনো এক্ষুণিই তা বারিধারায় গড়িয়ে পড়বে কপোল বেয়ে। জুনায়েদ আমিরার এমতাবস্থায় নিজের অসুখের কথা ভুলে গেলো। তার বক্ষপিঞ্জরে হঠাৎ-ই অন্যরকম এক উচাটনের সৃষ্টি হলো। মেয়েটা ঠোঁট কামড়ে নিজের কান্না আটকানোর চেষ্টা করছে। নেকাব খোলা থাকার দরুণ তা জুনায়েদের নজর এড়ালো না। আমিরা জুনায়েদের বিড়বিড়ানোতে খানিকটা ভয় পেয়েছে। সে আপাতত তার পানে চেয়ে। এই বুঝি ধমক দিবে তাকে। তবে তাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত করে জুনায়েদ অতিধীরে তার পানে ক্যানুলাযুক্ত হাতখানা বাড়িয়ে দেয়। কাছে ডাকে আমিরাকে। আমিরা পলক ঝাপটে একপলক চেয়ে থাকে তার পানে। অতঃপর ধীরপায়ে ছোট ছোট পা ফেলে জুনায়েদের কাছে পৌঁছায়। জুনায়েদের চেহারায় কেমন মলিন মলিন ভাব। আমিরা তার ছোট তনুখানা টেনে নিয়ে গিয়ে নতমস্তকে শুধায়,
— তিছু, লাগবে আঙ্তেল?
জুনায়েদ স্থির এবং গভীর সমুদ্রের ন্যায় শান্ত চোখে চেয়ে রয় আমিরার পানে। নীল নেত্র তার পলক ঝাপটানোর ফুরসত পায়না। আমিরার বড় বড় চোখ দুটো হতে ততক্ষণে জলপ্রবাহের স্রোত গড়গড়িয়ে কপোল বেয়ে গড়িয়ে পড়তে আরম্ভ করে। জুনায়েদ ভ্রুকুটি করে। এটা কেমন কথা? সে-তো ধমক ও দিলোনা। কাঁদছে কেনো মেয়েটা? সে গম্ভীর স্বরে শুধায়,
— তোমাকে বকেছি?
আমিরার নাকের ডকা যেনো কোনো লাল টমেটো। সাথে দু’গাল রক্তিম আভার ছায়া যেনো মেয়েলি বাচ্চা মুখশ্রীখানা আরও দ্বিগুণ সৌন্দর্যে ভরিয়ে দিচ্ছে। প্রতি ফোঁটা পানি কোনো মুক্তার চেয়ে কম লাগলোনা জুনায়েদের সন্নিকটে। জুনায়েদ ভ্রুকুটি করে চেয়েই থাকে। আমিরার পক্ষ হতে উত্তরের কোনোরূপ আভাস না পাওয়ায় সে ফের শুধায় তবে এবারে কন্ঠে খানিকটা নমনীয়তা বজায় রাখে সে,
— কী হয়েছে, বাচ্চা?
আমিরা যেনো এবারে ঠোঁট উল্টে কেঁদেই ফেলে। জুনায়েদ এমন অকস্মাৎ কিছু মোটেই আশা করেনি। সে তব্দা খেয়ে বসে। এটা কী হলো? জুনায়েদ খানিকটা বিরক্ত ও হয়। এজন্য এসব মেয়েলি ঝামেলা তার অপছন্দ। ভালো করতে গিয়ে খারাপ হয়ে বসে। শেষ কয়েকবছর আগেও এমন ঘটেছিলো! সেসব সে মনে করতে চায়না। আপাতত সে আমিরার পানে নিজের সকল মনোযোগ নিবিষ্ট করে। আমিরা ক্রন্দরনরত অবস্থাতে নাক টেনে আদো আদো বুলিতে বলে,
— আ..আব্বু!
জুনায়েদ প্রথমেই বুঝে উঠতে পারলোনা সে কী বলছে। সে দিদ্বান্বিত স্বরে জিজ্ঞাসু দৃষ্টে পুনরায় প্রশ্ন করে,
— কী বললে?
আমিরা এবারে সম্পূর্ণভাবে কেঁদে ফেলে। বাচ্চা মন নিজের আব্বুজানের জন্য ছটফট করছে। বিশেষ করে এসময়। সে চোখ মুছতে মুছতে বলে,
— আঙ্তেল, আমাতে আব্বুর তাচে নিয়ে যাবে?
জুনায়েদ এবার বুঝতে পারলো সম্পূর্ণটুকু। সে স্তব্ধ হয়ে রয়লো। তার বুকটা কেমন করে যেনো মোচড় দিয়ে উঠলো। বক্ষস্থলে কোথাও কিছু একটা হৃদপিণ্ড আঁকড়ে ধরলো। সে ক্যানুলাযুক্ত সেই হাতটি দ্বারা আমিরাকে কাছে ডাকতে ডাকতে ধীর স্বরে বললো,
— আঙ্কেলের কাছে এসো!
আমিরা এমুহূর্তে ফারিশকে এতোটা মনে করছে যে তার মনে হলো জুনায়েদ বুঝি তাকে ফারিশের কাছে নিয়ে যাবে। সে আলতো করে জুনায়েদের কাছে ওঠার চেষ্টা করলো। অথচ ছোট হওয়ার দরুণ সে তা পারলো না। জুনায়েদ আনমনে হাসলো। আমিরা বেডের সাথে লটকে বহুবার চেষ্টা করার পরও উঠতে পারলোনা। জুনায়েদ তা দেখে মুখ টিপে হাসলো। ভেতরে ভেতরে সে হেসে অস্থির হয়ে পড়েছে ইতোমধ্যেই। আমিরা বেডে উঠতে না পেরে আবারও ফোঁপাতে আরম্ভ করে। জুনায়েদ কী করবে বুঝে উঠতে পারলোনা। তখুনি কেভিনে একজন নার্স এলো। জুনায়েদের স্যালাইন পরিবর্তন করতে এসেছে সে। যা প্রায় শেষের দিকে। জুনায়েদ নার্সটিকে ইশারায় কাছে ডাকলো। রহিম নাকম সেই ছেলেটি জুনায়েদের ইশারা বুঝতে পেরে তার নিকট স্থানান্ত হলো। জুনায়েদ ধীমি স্বরে তাকে বলার চেষ্টা করে,
— ওকে একটু আমার কাছে তুলে দাও!
রহিম ইতস্তত বোধ করে। স্পষ্টতভাবেই বোঝা যাচ্ছে রোগীর হাতে স্যালাইন চলছে। এমতাবস্থায় যদি হাতের অবস্থানের একটুও গড়বর হয় রক্তের প্রবাহ শুরু হয়ে তা উটো দিকে মোর নিবে। শুনেছে, এই পুরুষ আম জনতাদের মাঝে পড়ে না। ভালোই অবস্থান তার এই ঢাকা শহরে। অর্থাৎ চাকরি যাওয়ার তুমুল সম্ভাবনা। সে যথাসম্ভব ভদ্রভাবেই বলে,
— স্যার আপনার হাতে তো ক্যানুলা..!
জুনায়েদের মেজাজ বিগড়ে যায়। সে অপকটে অনিয়ন্ত্রিত মস্তিষ্কে বলে ফেলে,
— চাকরি খোয়াতে চাস?
রহিম এবার দ্রুত এসে আমিরাকে তুলে দেয় বেড এ। জুনায়েদের আদল আবারও নরম হয়ে যায়। সে বাম হাতের সাহায্যে আমিরাকে বুকের মাঝে আগলে নেয়। আমিরাও শান্ত মেয়ের ন্যায় তার বুকে লেপ্টে রয়। জুনায়েদের বুকে মুখ গুঁজে নীরবে অশ্রু বিসর্জন দিতে থাকে। জুনায়েদ বিষয়টা বুঝতে পারে। সে বাম হাতের সাহায্যে আমিরার মাথায় হাঁত বুলিয়ে দেয়। ক্যানুলাযুক্ত হাতটা আমিরার পিঠে রাখে। বিড়বিড় করে বলে,
— এইতো আম্মু, কাঁদেনা। কাঁদেনা মণি, আঙ্কেল আছি তো!
আমিরাও জুনায়েদকে জড়িয়ে ধরে তার ছোট ছোট দু’হাত দ্বারা। রহিম দ্রুত জুনায়েদের স্যালাইন পরিবর্তন করে প্রস্থান গ্রহণ করে সেই স্থান হতে। মনে মনে গালি দিতেও ভুলে না সে। বড়লোক হয়েছে বলে এভাবে তুই-তোকারি করবে নাকি? অসহ্য!
আয়রা যখন আসলো ততক্ষণে আমিরা শান্ত হয়ে গিয়েছে। জুনায়েদ চোখ বুজে আমিরার মাথায় হাত বুলোচ্ছিলো তখন। আয়রা যেনো স্তব্ধ হয়ে যায়। সে ককনো এমন দৃশ্য কল্পনাতেও আনেনি। বিশেষত যেখানে আমিরা জুনায়েদের নিজের সন্তান-ইনা সেখানে আমিরাকে কী করেই-বা নিজের কাছে রাখতে পারে জুনায়েদ? সে তো বখাটে। আয়রা ধীরপায়ে ছুটে আসে তার পানে। জুনায়েদের কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। নিম্ন স্বরে বলে,
— আমিরাকে আমার কাছে দিন। আর ডক্টর বলেছে আপনার স্যালাইন চলাকালীন পানি খাওয়া-ও সম্ভব নয়।
মেয়েলি কোকিলাস্বরে জুনায়েদ চোখ মেলে। নীল নেত্র উঁচিয়ে তাকিয়ে থাকে। আয়রা সোজাসুজি তাকায় না জুনায়েদের পানে। আলতো করে আমিরাকে নিজের কাছে নিয়ে নেয়। অটুকু সময়েই আমিরা কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়েছে। জুনায়েদ তার সাথে কথা বললো না। বলাবাহুল্য–তার বলার সাহস অথবা ইচ্ছে, কোনোটাই হলোনা। আয়রা তাকে ধীরস্বরে জানালো,
— আপনার কিছু বন্ধুবান্ধব আসবে আপনাকে দেখতে। আম্মিজান আমাকে এমুহূর্তে ফোন করে জানিয়েছেন। আপনি সহিসালামত আছেন কিনা তা দেখতেই আসবে। আমি আর আমিরা ততক্ষণ বাহিরে থাকছি। আব্বু-আম্মু আসবেন। আপনার বন্ধুরা চলে গেলে তখন ফিরে আসবো।
জুনায়েদ বিরক্তবোধ করলো আমিরাকে হুটহাট নিয়ে নেওয়ার কারণে। সে কিছু বলতেও পারলোনা। তবে শেষের কথায় সে আনমনে খুশিই হলো। যাক, অন্তত কিছুতো ভালো হলো!
আয়রা-আমিরা চলে যাওয়ার পর-পরই সেখানে সৈয়দ রুহানি সাথে এহমাদ শাহরিয়ার আসেন। আয়রা আমিরাকে কোলে নিয়ে বাহিরে সারিবদ্ধভাবে রাখা চেয়ারগুলোর মধ্য থেকে এলটিতে গিয়ে বসলো। গিয়ে বসলো। সৈয়দ রুহানি ছেলের মাথার কাছে গিয়ে হাত বুলিয়ে দিলেন। বললেন,
— কী হয়েছিলো তোমার জুনায়েদ? এভাবে হঠাৎ জ্বর? তোমার তো কখনো এমন জ্বর হয়নি।
এহমাদ শাহরিয়ার গম্ভীর স্বরে বললেন,
— এ জ্বরে তোমার প্রাণ যেতে পারতো। যদি সঠিক সময়ে তোমাকে হসপিটালে না আনতাম কী হতো বুঝতে পারছো?
জুনায়েদ বিরক্ত বোধ করলো। ঝাঁঝালো স্বরে বললো,
— উফফ, ড্যাড! যাও তো তোমরা। জ্বালিও না। এমনিতেও লাইফে কম ঝামেলা নেই।
এহমাদ শাহরিয়ার রেগে গেলেন। রাগত্ব স্বরে বললেন,
— ঝামেলা? কিসের ঝামেলা? মাসে তুমি আমার কত টাকা খরচা করো ধারণা আছে তোমার? তবু তোমার কিসের ঝামেলা?
জুনায়েদের মাথায় যেনো আগুন জ্বলে উঠলো। সে কটমট দৃষ্টি নিক্ষেপ করে চিবিয়ে চিবিয়ে জবাব দিলো,
— এক বাচ্চার মায়ের সাথে যে বিয়ে দিয়েছো? ওটার থেকে বড় ঝামেলা দুনিয়াতে আর দু’টো আছে?
এহমাদ শাহরিয়ার কিছু বলতেই যাবেন তার আগেই সৈয়দ রুহানি বাধা দেন। বলেন,
— আহ! কিছু বলো না তো এখন। ছেলেটা মাত্রই সুস্থ হচ্ছে।
তখনই শোনা গেলো কিছু কন্ঠ।
— আন্টিইইই!
— হাই আন্টি!
একযোগে তিনজন পুরুষ সাথে একজন মেয়ে তাদের মাঝে চলে এলো। রুহানি সৈয়দ তাদের দেখেই বিড়বিড় করলেন,
— হে আল্লাহ! রেহায় দিন আমাকে একটু।
এহমাদ শাহরিয়ার মেয়েটাকে দেখামাত্রই দৃষ্টিনত করে বেরিয়ে গেলেন। পোশাকে যা অবস্থা। হাতকাটা গোল জামা তাও আনার পায়ের ওপর ওঠানো। বন্ধুদের দেখে জুনায়েদের মুখে হাসি ফুঁটে উঠলো। রাফি, হৃদ, রুদ্র এবং অরিন। অরিন এসেই জুনায়েদের কাছে গেলো। কেমন নেকামো স্বরে বললো,
— বেইবি, কী হয়েছে তোর?
জুনায়েদ কেনো যেনো একবারের জন্যেও তার পানে তাকালোনা। সে জানেনা তার কারণ। তবে তার তাকানোর মতো রুচি হলোনা। সে শুধু গম্ভীর স্বরে বললো,
— গেট আউট!
রাফি, হৃদ আর রুদ্র সকলেই অবাক হলো। জুনায়েদ অরিনকে বের হয়ে যেতে বলছে? রুদ্র এগিয়ে আসে। বলে,
— হেই ডুড, অসুস্থ হয়ে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিস নাকি?
অরিন ঠোঁট উল্টে জবাব দেয় জুনায়েদের,
— বেইব, তুই আমাকে এভাবে বলতে পারলি?
জুনায়েদ ফের রাশভারী রুক্ষ স্বরে আদেশ করলো,
— হেলা( hella) গেট আউট অফ হেয়্যার!
অরিন ভয় পেলো। রুহানি সৈয়দ অবস্থা বেগতিক দেখে অরিনকে বললেন,
— অরিন, তুমি আমার সাথে চলো আম্মু। ও এখন একটু অসুস্থ তো তাই।
রুদ্রর ভীষণ করে রাগ হলো জুনায়েদের ওপর। রাফি আর হৃদ কথা বাড়ালো না জুনায়েদের ওপর। হৃদের আনা ফুলের বুকেটটা একপাশে রেখে জুনায়েদকে প্রশ্ন করলো,
— কী হয়েছে রে তো? এভাবে সাডেন এমন অসুস্থ কীভাবে হলি? আমরা খবর পেয়েছি কিছুক্ষণ আগে।
জুনায়েদ এবার তাদের দিকে চোখ তুলে তাকায়। মন মস্তিষ্ক নিজের অজান্তেই মনে করে সেই পতিতালয়ের দৃশ্যটির কথা। সে অবাক হয়। নিজমনেই বিড়বিড় করে,
— তার চেহারার নূরের মায়া এতোটাই প্রখর ছিলো যে, ঢাকা শহর কাঁপানো বখাটে স্বয়ং এই যায়নাব জুনায়েদ শাহরিয়ার পতিতালয়ে অন্য নারীর সাথে দৃষ্টি মিলিত হওয়ায় কেঁদে ফেলেছিলাম!
হৃদ জুনায়েদের বিড়বিড় করা ঠোঁট দেখে প্রশ্ন করে,
— ডুড, কী হয়েছে? কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে?
জুনায়েদ ওর দিকে তাকায়। শান্ত স্বরে জিজ্ঞেস করে,
— আয়ান কোথায়? ও আসেনি?
— ও তো আসবে বলেছিলো, আমাদের সাথে তো আসেনি। হয়তো রাস্তায়, এক্ষুনি চলে আসবে।
আয়রা বসে বসে আমিরাকে দেখছিলো আর কিছুক্ষণ পূর্বের কথা ভাবছিলো। জুনায়েদ তো তার সাথে কথা বলেনা। অথচ আমিরাকে আপন করে নিলো? সত্যিই নাকি এটা কেবল এমনিই? আয়রার ভাবনার মাঝেই এক পুরুষালি নমনীয় স্বর ভেসে আসে।
— মিস, কেবিন নাম্বার ৪০৩ কোনদিকে?
কেবিন নাম্বার ৪০৩ অর্থাৎ জুনায়েদের কেভিন ছিলো একদম শেষে। যা তিনতলার রিসিপশন হতে সামান্য বা’দিকের কোণায়। আয়ান বা দিকে তো এসেছে তবে সে বুঝতে পারছে এটা কী শেষে নাকি সে ইতোমধ্যেই তা ফেলে এসেছে। পুরুষালি আওয়াজে আয়রা মাথা তোলেনা। নত দৃষ্টিতেই বসে থাকে। জরুরি যেহেতু সেহেতু নিজের মুখ খোলে।।তবে সে স্বর ছিলো অতি গম্ভীর এবং রুক্ষ। তার অন্যতম কারণ হলো ইসলামে মাহরাম ব্যতীত নন-মাহরাম দের সাথে কথা বলা হারাম। যদি তা অতীব গুরুত্বপূর্ণ হয় তবুও স্বাভাবিক স্বরে নয় রুক্ষ স্বরে জবাব দেওয়ার আদেশ রয়েছে। সে তীক্ষ্ণ স্বরে জবাব দিলো,
— বাম দিকের শেষ কক্ষটি!
ব্যস, আর কোনো বাক্য নয়। আয়ান অবাক হলো। এমন রুক্ষ স্বরে বলার কী হলো? এমন কী সে তাকালো না অব্দি। আয়রার কোলে আমিরাকে দেখে অবাক ও হলো। যাহ! মেয়েটা বিবাহিত। মনে মনে একটু ব্যথিত ও হলো। আমিরার পানে চেয়ে সে গম্ভীরতায় বললো,
তাকদীর পর্ব ৫
— ধন্যবাদ মিস। বাই দ্যা ওয়ে, মেয়েটা দেখতে ভারি মিষ্টি। নাম কী ওর?
আয়রার তরফ থেকে কোনো বাড়তি জবাব এলো না। আয়ান খানিকটা অপমাণিত বোধ করলো। চোখে থাকা সাদা গ্লাসখানা খানিকটা ঠেলে জুনায়েদের কেভিনের দিকে এগিয়ে যেতে আরম্ভ করলো। মনে মনে বিড়বিড় ও করলো বটে,
— এমন মেয়ে প্রথমবার দেখেছি যে কিনা আমাকে ইগনোর করেছে!
