তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৬৭
তাবাস্সুম খাতুন
অরা কান্না করে দিলো, চিৎকার করে বললো..
“আমাকে বেঁধে রেখে শাস্তি দিচ্ছিস কেন?আমাকে খোল!আমার বাবা যদি জানতে পারে, তাহলে তুই বাঁচবি না।”
নিশান একটা বাঁকা হাসি দিয়ে হাতের চাবুক টা জোরে মারলো অরার মুখের উপরে। অরার মাথা একপাশে হেলে পড়লো। উচ্চসরে কান্না করে দিলো। নিশান আর কোন বাক্য ব্যায় করলো না। আবারো চাবুক ছুড়লো অরার মাথার বাম পাশে। অরা চিৎকার দিলো। মাথা ঘুরছে কেমন যেন হচ্ছে তার মাথার ভিতরে। কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলছে। মুখ দিয়ে কোন কথা বাহির হয়ে আসছে না।অরা হাল্কা করে মাথা তুলতেই, নিশান চাবুক ছুড়লো অরার বাম পাশের গালে।
অরার মুখ কাত হয়ে গেলো। মুখ দিয়ে রক্ত ছিটকে পড়লো। নিশান ঘাড় কাত করে ফুটিয়ে নিলো। শব্দ হলো!অরার দিন দুনিয়া ঘুরছে ঠোঁট ও কেটে রক্তের ঝর্ণা বাহির হচ্ছে। গলাটা শুকিয়ে গেছে পানির জন্য। ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। নিভু নিভু চোখে সবকিছু আবঝা দেখছে। মস্তিকের স্মরণে তার বাবার সাথে কাটানো মুহূর্ত মনে পড়ছে। তার খুব ইচ্ছা হচ্ছে, ‘তার বাবা আসুক তাকে নিয়ে যাক। তার যে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে!” তবে এই কথা সে মনে মনেই বলছে মুখ দিয়ে উচ্চারণ করার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। এর মধ্যে অনুভব করলো তার বাম পাশের বুক হৃদপিন্ড বরাবর কেউ জোরে ছুরির আঘাত করলো। মুখ দিয়ে আবারো রক্ত বেড়িয়ে উপচে পড়লো মেঝেতে!শ্বাস টাও বুঝি আর নেওয়া হচ্ছে না তার। এর মধ্যে শোনা গেলো নিশানের বাণী খুবই ধারালো বিকৃষ্ট বাণী,
“তোর হৃদপিন্ড টেনে এনে আমার ইশুর পায়ের কাছে ফেলাবো। কারন তোর যোগ্যতা আমার ইশুর পা পর্যন্ত। এর বাহিরে না।”
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
অরার চোখের কোন দিয়ে পানি বাহির হলো। বুকের বাম পাশের অসহ্য ব্যাথা নিয়েই ধীরে ধীরে চোখটা বন্ধ হয়ে গেলো। বুকের বাম পাশে থাকা চিনচিন ব্যাথাটা সে আর অনুভব করতে পারলোনা। নিস্তেজ হয়ে গেছে তার দেহ। তবুও কি নিশান তাকে রেহাই দেবে? উহুম সে রেহাই দেই নি। তিন চারবার বুকের বাম পাশে ছুরি দিয়ে কোপ বসিয়ে হৃদপিন্ড হাতে পেতেই এক টানে সেইটা বাহির করে আনলো। নিশানের হাতে রক্ত টুপটাপ করে মেঝেতে পড়ছে। মুখে গলায় জামাই সব রক্তের ফোঁটা। ভয়ঙ্কর লাগছে তাকে। সে হৃদপিন্ড হাতে নিয়েই একটু নিচু হলো ঘাড় উঁচু করে অরার মুখের দিকে তাকিয়েই পাশে থাকা দা নিয়ে এক কোপ দিলো অরার পায়ে। রক্ত ফিনকি দিয়ে নিশানের মুখে আচড়িয়ে পড়লো। নিশান চোখ বন্ধ করে বাঁকা হাসলো।
উঠে দাঁড়ালো হাতের দা দিয়ে আবারো কোপ বসালো বাম হাতে। অরা হেলে পড়লো ডান পাশে। নিশান দা ফেলে দিলো। টেবিলের উপরে থাকা একটা শপিং ব্যাগ এর মধ্যে হৃদপিন্ড টা নিয়ে নিলো। পকেট থেকে টিসু বাহির করে মুখটা মুছে নিলো। হাতের রক্ত পরিষ্কার করলো। তবুও হাতে রক্ত লেগে আছে অধিকাংশ জায়গা জুড়ে মুখেও ফোঁটা ফোঁটা রক্তের ছাপ।সে শপিং ব্যাগ হাতে নিয়ে বেড়িয়ে গেলো সেই জায়গা ছেড়ে। আদিল নিশানকে এই রূপে দেখে কোন রিঅ্যাকশন দিলো না। কারন তার বস যখন খুন করে তখন এইরকম রক্ত থাকে। তাই হাল্কা অগোছালো আর রক্তের দাগ তার ভয়ের কিছুই হলো না। আদিল দৌড়ে এসে নিশানের কাছে দাঁড়াতেই নিশান যেতে যেতে বললো,
“ওই মেয়ে ঐভাবেই পচুক। কেউ ওকে বাহির করবি না। আমি বাড়ি যাচ্ছি। আমার দরকার পড়লে আসবো, নয়তো না। বেশি দরকার ছাড়া ফোন ও দিবি না।”
বলে চলে যেতে লাগলো আদিল মাথা নাড়লো। ফ্লোরে খেয়াল করতেই দেখলো। নিশান যেই পথ দিয়ে গেছে সেই সব জায়গা জুড়ে রক্তের ফোঁটা। নিশানের হাতের দিকে তাকাতেই দেখতে পেলো একটা ব্যাগ সেই জায়গা থেকেই রক্ত ঝরছে। আদিল নিশানের চলে যাওয়া দেখলো। এরপর একটা বডিগার্ড দেখে রক্ত গুলো পরিষ্কার করে দিতে বললো।আদিল সেই রুমে ঢুকলো যেইখানে অরা কে নৃসংশ ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আদিল অরা কে দেখে হাসলো। না সে ভয় পাই নি। কারন তাঁদের বস এর থেকেও জঘন্য খুন করে এইটাতো সামান্য।এত বাজে ভাবে খুন করে নিশান যার জন্য আদিল এর রুহু পর্যন্ত একবার কেঁপে উঠেছিল। সেইখানেই অজ্ঞান হয়ে গেছিলো হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। সুস্থ হতে প্রায় দুই মাস গেছিলো।সেইদিনের পরে সে আসতো রুমে তবে ঐরকম খুন আর দেখিনি। মূলত নিশান ঐরকম রুহু কাঁপানো খুন করলে নিজেই সবকিছু করে বেড়িয়ে যেতো যাতে আদিল এর আবার হার্ট অ্যাটাক না হয়। আদিল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে লাইট অফ করে রুমে তালা দিয়ে চলে গেলো।
রাত আটটা বেজে চার মিনিট। নিশান ড্রাইভ করছে বাড়ির উদ্দেশ্য যাচ্ছে। এমন সময় তার ফোনে কারোর কল আসলো!নিশান ফোন হাতে নিয়ে দেখলো সেভ করা একটা নাম “Niccolo” নিশান ভ্রু কুঁচকে ফোন রিসিভ করতেই ওইপাশ থেকে নিকোলো বললো,
“দোস্ত তুই ইতালি এসেছিস। একটা বারের জন্য ও আমাকে ইনফর্ম করিস নি কেন? আমি তোর এই বন্ধু!”
নিশান স্বাভাবিক ভাবে বললো,
“আরে না একটু ব্যাস্ত ছিলাম। এইজন্য জানাতে পারি নি। যাই হোক তোর কি অবস্থা বল?”
“খুব খুব ভালো। শুনলাম তুই নাকি বিয়ে করেছিস? বউ নিয়ে তো ইতালি এসেছিস।”
“আমি ইনফর্ম করিনি। তবুও এত খবর তুই জানলি কিভাবে?”
“ইতালির প্রভাবশালী দের মধ্যে আমি নিকোলো আছি। এইসব তো আমার বা হাতের খেল। আচ্ছা যে জন্য ফোন দিয়েছি শোন।”
“হুম বল।”
“আর একটু পরেই। মানে দশটা থেকে পার্টি শুরু হবে আমার বাড়িতে। এইটা সাধারণ একটা পার্টি। নিজেরলোকেরা আসবে। তুই ও চলে আয় দ্রুত নিজের বউকে নিয়ে রাখলাম। আসিস কিন্তু। না আসলে তোর সাথে আমার সম্পর্ক শেষ।”
“আরে ইয়ার, তুই আরো আগে বলিস নি কেন?”
“কাজে ছিলাম এখন চলে আয়। অনেক সময় আছে।”
“ওকে ডান রাখ।”
বলে নিশান কল কেটে দিলো। আবারো ড্রাইভ করতে মনোযোগী হলো।দশ মিনিটের মধ্যেসে বাড়ি পৌঁছালো। বাড়িতে থাকা সব বডিগার্ড গুলো এখন পাহারা দিচ্ছে। জ্ঞান অনেক আগেই ফিরেছে। নিশান বাড়ির ভিতরে ঢুকলো। শপিং ব্যাগ নিয়ে সোজা নিজের রুমে গেলো। লাইট অন করলো। দেখতে পেলো সিমির নিষ্পাপ মুখখানা, ওর এখনো জ্ঞান ফেরে নি। নিশান রুমের ফ্রিজের কাছে গিয়ে ফ্রিজ খুলে হাতের শপিং ব্যাগ সেখানে রেখে দিলো।এরপর সোজা ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো। গায়ে থাকা শার্ট প্যান্ট খুলে একটা টাওয়াল জড়িয়ে নিলো কোমরে। ঝর্ণার নিচে দাঁড়িয়ে। ঝর্ণা অন করে দিলো। ঝর্ণার পানিতে হাতে থাকা রক্ত আর মুখের রক্ত ডলা দিয়ে ধুয়ে নিলো। ডেসিং এর উপরে থাকা থাক থেকে শ্যাম্পুর বোতল থেকে শ্যাম্পু নিয়ে মাথায় দিলো। সারা দেহে ডলা দিলো। যেন নিজেকেপবিত্র করছে।
ঝর্ণার পানি ধুয়ে দিলো শ্যাম্পুর ফেনা।নিশান ঘাড়ে হাত দিয়ে মুখ উঁচু করলো। ঝর্ণার পানি সম্পূর্ণ তার মুখে উপচে পড়লো। তার বডিতে থাকা ড্রাগন ট্যাটু গুলোতে পানির ফোঁটা লেগে চিকচিক করছে যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে। খুবই আকর্ষণীয় দেখাচ্ছে তাকে। সে নিজের গোসল সম্পূর্ণ করে আলাদা আর একটা টাওয়াল কোমরে জড়িয়ে বেড়িয়ে আসলো ওয়াশরুম থেকে। ওই অবস্থাতেই সে বেডে গেলো বেডে বসে নিচু হলো সিমির মুখের কাছে নিজের মুখ আনলো। চুল থেকে পানি টুপটাপ করে গড়িয়ে সিমির মুখে পড়লো। নিশান ঠোঁট কামড়ে ধরে সিমির মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো। সিমির শুস্ক ঠোঁট জোড়া নিশানকে বড্ড টানছে। নিশান আর একটু নিচু হলো। নিজের ভেজা ঠোঁট জোড়া দিয়ে দখল করে নিলো সিমির শুষ্ক ঠোঁট জোড়া।গভীর চুম্বনে লিপ্ত হলো তারা। হঠাৎ সিমি কেঁপে উঠলো। নিশান ছেড়ে দিলো সিমিকে। নিজের মাথা একটু নাড়াতেই চুলের টুপটাপ পানি সম্পূর্ণ সিমির মুখে পড়লো। সিমির মুখ কুঁচকে গেলো। সিমির এমন রিএকশন দেখে নিশান ম্লান হাসলো। সে উঠে দাঁড়ালো। সিমিকে পাঁজা কোলে তুলে নিলো। সিমি ভাবছে এইটা স্বপ্ন আর স্বপ্নে নিশান তাকে কোলে নিয়েছে। নিশান সোজা সিমিকে নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকলো। বাথটাবে পানি ভর্তি করা ছিলো। নিশান বার্থটাবের কাছে গিয়ে একটু ঝুঁকে সিমিকে ফেলে দিলো তার মধ্যে। সিমি চিৎকার দিয়ে উঠলো লাফ দিলো। বলতে লাগলো,
“আমি ডুবে যাচ্ছি। আহ কেউ আছো? বাঁচাও আমাকে। আমি ডুবে গেলাম।”
নিশান নিচু হয়ে বসলো বার্থটাবে হাত রেখে স্লো ভয়েসে সিমিকে উদ্দেশ্য করে বললো,
“তুই কি জানিস জানবাচ্চা এইটা সামান্য একটা পানি ভর্তি বার্থটাব। এইখানে ডুবে যাওয়ার কোন প্রশ্ন আসে না। আর তোর যদি মনে হয় আসলেই ডুবে যাবি। তাহলে আমি নেমে পরি?প্রমিস, তোকে হাল্কা ব্যাথা অনুভব করিয়ে! ডুবে যাওয়া থেকে বাঁচিয়ে দেবো। নামবো কি জান?”
নিশানের কথা কানে যেতেই সিমির হুস ফিরলো। সে চোখ মেলে তাকালো তার বাম পাশে তাকে দেখলো নিশান তার দিকে তাকিয়ে আছে। তার গায়ে কোন শার্ট নেই ড্রাগন এর ট্যাটু গুলো তে পানি লেগে আছে একদম জীবন্ত। সিমি নিশানের বডির দিকে তাকিয়ে ঢোক গিলতেই নিশান সিমির দিকে একটু ঝুঁকে এসে ঠোঁট কামড়ে বললো,
“এইভাবে লোভনিয় দৃষ্টিতে তাকালে কিন্তু আমার এই বডির ভার তোকে সয্য করতে হবে জানবাচ্চা।”
সিমি দ্রুত চোখ সরিয়ে নিলো। চোখ বন্ধ করে নিজেকেই বকতে লাগলো। সিমির এমন অবস্থা দেখে নিশান উঠে দাঁড়ালো। এরপর বললো,
“দ্রুত সাওয়ার নিয়ে নে। আমরা এক জায়গায় যাবো।”
সিমি প্রশ্ন করলো,
“কোথায় যাবো?”
নিশান ওয়াশরুম থেকে বাহির হতে হতে বললো,
“তুই জানিস আমি প্রশ্ন পছন্দ করি না। দ্রুত সাওয়ার নে। সময় মাত্র দশ মিনিট।”
বলে নিশান ওয়াশরুমের দরজা লাগিয়ে বেড়িয়ে গেলো। সিমি কিছু না বলে সাওয়ার নিতে লাগলো। এইদিকে নিশান আলমারি খুলে নিজের জন্য পোশাক বাহির করলো। কালো সুট প্যান্ট। পরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুলগুলো সেট আপ করে নিলো। গায়ে পারফিউম দিলো। এরপর সে আবারো আলমরির কাছে গেলো এইবার সিমির আলমারি খুললো। সে শাড়ির কালকশন এ হাত দিয়ে সেই জায়গা থেকে খুঁজে একটা কালো শাড়ি বাহির করলো। শাড়িটার উপরে সাদা আর কালো মিশিয়ে চুমকি তোলা। সিল্কি কাপড়। এরপর কালো রঙ্গের পেটিকোট আর একটা হাতা লম্বা কালো রঙের সিল্কির ব্লাউজ বাহির করে রাখলো। এইদিকে সিমি সাওয়ার নেওয়া শেষ হতেই ওয়াশরুম থেকে মাথা বাহির করে বললো,
“আমার পোশাক কই?”
নিশান শাড়ির দিকে তাকিয়ে বললো,
“পোশাক লাগবে না। ঐভাবেই বেড়িয়ে আয়।”
সিমি তওবা করতে করতে বললো,
“মাথা কি খারাপ হয়ে গেছে?”
নিশান ধমকের সুরে বললো,
“ইডিয়েট তোকে কি আমি ঐভাবে আসতে বলেছি? বললাম টাওয়াল জড়িয়ে আয় শুধু।”
সিমি আর প্রশ্ন করতে গিয়েও করলো না। টাওয়াল টা জড়িয়ে নিয়ে বেড়িয়ে আসলো।মাথা নিচু করে বেডের কাছে গেলো। নিশান সিমির উদেশ্য বললো,
“এই পেটিকোট আর ব্লাউজ পরে নে দ্রুত।”
সিমি নিশানের দিকে তাকালো। তবে কিছু বললোনা চুপচাপ পরে নিলো। নিশান এইবার বললো,
“শাড়ি পরে নে।”
সিমি শাড়ি হাতে নিয়ে নিশানের মুখ পানে তাকিয়ে রইলো। নিশান নিজের ফোন নিয়ে সিমির দিকে তাকাতেই বললো,
“কিহলো? শাড়ি পড়ছিস না কেন?”
সিমি আমতা আমতা করে বললো,
“ইয়ে মানে। আমি তো শাড়ি পড়তে পারি না।”
নিশান ভ্রু কুঁচকে বললো,
“ভার্সিটির অনুষ্ঠানে শাড়ি পড়েছিলিস? সেইদিন রাতেও শাড়ি পড়েছিলিস? এখনো এক বছর ও গেলো না। এর মধ্যে ভুলে গেছিস?”
সিমি ঐভাবেই বললো,
“ভার্সিটির অনুষ্ঠানে আম্মু পড়িয়ে দিয়েছিলো।আর সেইদিন রাতে জারা পারিয়ে দিয়েছিলো।”
সিমির কথা শুনে নিশান ধীর কন্ঠে বললো,
“তাহলে এখন আমাকে পড়িয়ে দেওয়া লাগবে?”
সিমি ও নির্লিপ্ত ভাবে জবাব দিলো,
“আমি তো পারি না তাই আপনিই দেন।”
নিশান ফোঁস করে একটা নিশ্বাস ছাড়লো। ফোনের ইউটুব এ গিয়ে শাড়ি কিভাবে পড়াতে হয় সার্চ দিলো। অনেক গুলো ভিডিও আসলো। নিশান একটা ভিডিও অন করে বেডে রাখলো সিমির শাড়িটা হাতে নিলো। এইদিকে সিমি ফোনে একটা মহিলাকে দেখে ঠোঁট ফুলিয়ে বললো,
“আপনি এদের দেখছেন? ছিঃ আপনি কত খারাপ। আমি থাকতেও আপনার চোখ পরনারীতে।”
সিমির এমন মন্তব্য শুনে নিশান ভেবাচ্যাকা খেয়ে গেলো। এই মেয়ে বলে কি? তাই সে ধমক দিয়ে বললো,
“কানের নিচে দেবো দুইটা থাপ্পড়। বেয়াদব মেয়ে আমি এইসব দেখি? ইডিয়েট শাড়ি পড়াচ্ছি কাকে? তোকে। এইজন্য তো দেখছি।”
সিমি ন্যাকা কান্নার সুর তুলে বললো,
“হ্যা আমি বেয়াদব আর ওরা সুন্দরী। আমি বলতে গেলেই থাপ্পড় দিবে।”
নিশান রীতিমতো বিরক্ত এই মেয়ের কি মাথার তার ছিঁড়ে গেলো নাকি? সে নিজেকে শান্ত রেখে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
“আমি তো শাড়ি পড়াতে পারিনা। যে পড়াবো তোকে। ওই ভিডিও না দেখলে কিভাবে পড়াবো?”
সিমি ফোন হাতে নিয়ে আবারো কিছু একটা সার্চ দিলো। এরপর একটা ভিডিও চালু করলো। যেইখানে একটা ছেলে শাড়ি পড়ছে খুব সুন্দর গুছিয়ে মেয়েদের মতো। মূলত সে শেখাচ্ছে কিভাবে শাড়ি পড়তে হয়। সিমি ভিডিও চালু করে বললো,
“এই ভিডিও দেখেও শাড়ি পড়ানো যাই।”
নিশান ভিডিওর দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। এরপর ধীরে ধীরে ভিডিও দেখে শাড়ি পড়াতে লাগলো। পুরো দশ মিনিট ধরে সুন্দর করে গুছিয়ে শাড়ি পড়িয়ে দিলো সিমিকে। এরপর তাকে নিয়ে আয়নার সামনে বসিয়ে চুলগুলো শুকিয়ে নিয়ে সুন্দর করে আচড়িয়ে নিলো। মাঝখান দিয়ে ছোট মতো সিতি কেটে দিয়ে চুলগুলো ছেড়ে দিলো। এরপর সে বললো,
“আর রেডি হওয়া লাগলে। দ্রুত রেডি হয়ে নে।”
বলে সে বেডে বসলো। নিশান যেতেই সিমি মুখে একটু পন্ডস ক্রিম আর ঠোঁটে লাল লিপিস্টিক দিলো হাল্কা করে। কানে কালো স্টোন বসানো ইয়ার রিং পড়লো। গলায় একটা নেকলেস দিলো সিম্পল মতো শুধু একটা কালো স্টোন বসানো। সাথে বাম হাতে একটা আংটি। সিমি উঠে দাঁড়িয়ে বললো,
“আমি রেডি হয়ে গেছি।”
তুই শুধু আমার উন্মাদনা পর্ব ৬৬
নিশান চোখ তুলে সিমির দিকে তাকালো। চোখ ধাঁধানো সুন্দর লাগছে সিমিকে। নিশান চোখ সামলে উঠে দাঁড়ালো। আলমারি থেকে একটা কালো চাদর বাহির করে আনলো। ডিজাইন করা। সেইটা এনে সিমির চুলের উপর দিয়ে গায়ে জড়িয়ে দিলো এরপর হাত টেনে নিয়ে যেতে যেতে বললো,
“তোকে আজকে এই তানভীর চৌধুরী নিশানের বউ লাগছে।”
