তোমাকে চাই গল্পের লিংক || Alisha Rahman Fiza

3026

গল্পের পরের পর্ব পোস্ট করার সাথে সাথে পরতে চাইলে notification অন করে রাখুন ok বাটনে ক্লিক করে

 তোমাকে চাই পর্ব ১+২
লেখনীতে Alisha Rahman Fiza

হঠাৎ করে দরজা বন্ধের ধুম করে আওয়াজ আসতেই অধরার হাত থেকে বেলীফুলের মালাটা মাটিতে পরে গেলো।অধরা তড়িঘড়ি করে পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখলো সাদা রঙ্গের পাঞ্জাবি পরে দরজার সাথে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে রক্তিম।রক্তিমের মাথা বেয়ে ঘাম ঝড়ছে ক্লান্তি আর বিরক্তি তার মুখশ্রীতে লেগে আছে।
অধরা একধ্যানে রক্তিমের দিকে তাকিয়ে আছে অধরার এহেন দৃষ্টি দেখে রক্তিম অনেকটাই বিরক্তি নিয়ে বললো,
~আমাকে কোনোদিন দেখোসনি তুই?
রক্তিমের প্রশ্নে অধরার ধ্যান ভাঙ্গে সে নিজেকে সামলে বললো,

~আপনি এখানে কেন রক্তিম ভাইয়া?
অধরার কথায় রক্তিম কোনো জবাব না দিয়ে ঢুলুঢুলু পায়ে এগিয়ে এসে বিছানায় গা এলিয়ে বললো,
~আমার রুমের কার্বাডে সবুজ রঙ্গের পাঞ্জাবি রাখা আছে সেটা নিয়ে আসো আমি তোমার ওয়াশরুমে শাওয়ার নিবো।পৃথুলা ডাইনি আমার রুমে বসে আছে সারাদিন পালিয়ে বেড়ালাম সেই আমার কাঁধেই চড়ে বসে আছে।
পৃথুলা রক্তিম আর অধরার ফুপাতো বোন মেয়েটা অনেকটাই উড়নচণ্ডী স্বভাবের।রক্তিম তাকে দুচোখে সহ্য করতে পারেনা বাসায় আসলেই তার সাথে ঢলাঢলি যা রক্তিমের পছন্দ না।অধরা বললো,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

~আপনি শাওন ভাইয়ার রুমে চলে যান।
রক্তিম চোখ দুটো খুলে অধরার পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে বললো,
~শাড়ি পরেছিস কার জন্য?
রক্তিমের কথা শুনে অধরা বললো,
~আজকে প্রিয়া আপুর গায়ে হলুদ সবাই পরবে তাই আমিও পরেছি।
রক্তিম শোয়া থেকে উঠে মাটিতে পরে থাকা বেলীফুলটা হাতে নিয়ে অধরার খোঁপায় পরিয়ে দিয়ে বললো,
~যত দ্রুত সম্ভব আমার পাঞ্জাবি হাজির করবি বুঝতে পেরেছিস।
রক্তিম কথা শেষ করে বারান্দা থেকে টাওয়াল নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো অধরা কিছুই বললো না সে ধীর পায়ে বের হয়ে চলে আসলো।

অধরার পুরো নাম অধরা জাহান। বাবার নাম তৈয়ব হোসেন মায়ের নাম তাহিদা ইসলাম।অধরা একান্নবর্তী পরিবারের মেয়ে তার বাবা আর ২ চাচা একই সাথে একই বাড়িতে থাকে। সবাই একসাথে থাকলেও কারো মধ্যে মনের মিল নেই।বিশেষ করে অধরার পরিবারের সাথেই সবাই একটু কড়াভাবে ব্যবহার করে থাকে কারণ অধরার বাবা অনেকটাই অস্বচ্ছল ছোট একটা কাপড়ের দোকান তার। অধরার মা তাহিদাকে সবার অমতে বিয়ে করার জন্য তার আজ এ দশা।
রক্তিম হচ্ছে অধরার বড় চাচা আইয়ুব হোসেনের ছেলে।অধরা রক্তিম থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে কারণ রক্তিমের মা জোহোরা খাতুন তাকে সাফ সাফ বলে দিয়েছে রক্তিম থেকে দূরে থাকতে।অধরা মা-বাবার একমাত্র মেয়ে পাশাপাশি রক্তিমের এক বোন আছে যার নাম প্রিয়া আজ তার গায়ে হলুদ।অধরার ছোট চাচা তৌহিদ হোসেন আর তার স্ত্রী নাম ইলিনা চৌধুরী বড়লোকের মেয়ে তাই কারো কথা সে শুনতে বাধ্য নয় তাদের এক ছেলে এক মেয়ে।ছেলের নাম শাওন অধরার বড় আর মেয়ের নাম ইরা অধরার ছোট।
চাচাতো ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় রক্তিম,এরপর শাওন,প্রিয়া,অধরা, ইরা।
অধরা সোজা রান্নাঘরে চলে আসলো অধরার মা তাহিদা শাড়ির আঁচল কোমড়ে গুজে কাজ করছে।মায়ের দিকে তাকিয়ে অধরা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো,

~বড় চাচী আর ছোট চাচী কোথায়?সব কাজ তোমাকে দিয়ে চলে গেছে।
তাহিদা মেয়ের কথায় কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে বললো,
~শাড়িটায় তোকে খুব সুন্দর লাগছে।
অধরা মুচকি হেসে বললো,
~মা, বাবা কবে এ বাসা থেকে আমাদের নিয়ে দূরে চলে যাবে?
অধরার কথায় তাহিদা তার মুখ চেপে ধরে বললো,
~পরিবার ছেড়ে কোথায় যাবো?আর তোকে এসব কে বলেছে?
অধরা বললো,
~বাবা আমাকে ওয়াদা করেছে সে আমাদের অন্য বাসায় নিয়ে যাবেন।মা তুমি কেন এখানে থাকতে চাও সবাই আমাদের অপমান করে।শুধু রক্তিম ভাইয়া,প্রিয়া আপু,শাওন ভাইয়া,আর ইরা বাদে আমার ভালো লাগে না মা।
অধরা কথা শেষ করে সেখান থেকে দৌড়ে চলে যায়।তাহিদা মেয়ের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে দুফোঁটা চোখের পানি ফেলে আবার কাজে মনোযোগ দেয়।

অধরা রক্তিমের রুমের সামনে এসে দাড়িয়ে আছে ভিতরে যাওয়ার সাহস সে পাচ্ছেনা। পৃথুলা বিছানায় বসে আছে অধরা গুটিগুটি পায়ে ভিতরে প্রবেশ করলো তারপর বললো,
~পৃথু আপু,কার্বাড থেকে রক্তিম ভাইয়ের পাঞ্জাবিটা নিয়ে যাই।
পৃথুলা ফোন থেকে মাথা উঠিয়ে অধরার দিকে তাকিয়ে বললো,
~রক্তিমের পাঞ্জাবি দিয়ে তুই কী করবি?
পৃথুলা আর রক্তিম সমবয়সী অধরা বললো,
~পৃথু আপু,উনি আমার রুমে শাওয়ার নিচ্ছে আমাকে বললো কার্বাড থেকে পাঞ্জাবি এনে তাকে দিতে।
পৃথুলা অধরার কথা শুনে সামনে থাকা বালিশটা তার উপর ছুড়ে মেরে বললো,
~তুই যা এখান থেকে আমি পাঞ্জাবি নিয়ে আসছি আর খবরদার তুই তোর রুমের আশেপাশেও থাকবিনা।
অধরা কিছু না বলে রুম থেকে বের হয়ে সোজা ছাদে চলে গেলো একটুপর হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হবে তাই।
পৃথুলা পাঞ্জাবি হাতে নিয়ে বসে আছে অধরার ঘরে রক্তিম একটু পর ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আসলো। রক্তিম পৃথুলাকে খেয়াল না করেই বলে উঠলো,

~অধরা,মাথাটা ধরেছে এক কাপ কড়া চা প্রয়োজন।
পৃথুলা দাঁত কিড়মিড় করে বললো,
~অধরা মরে গেছে আমি আছি চলবে তোমার।
অধরা মরে গেছে কথাটা শুনে রক্তিমের চোয়াল শক্ত হয়ে আসলো সে পিছন ফিরে পৃথুলাকে ভয়ংকর নজরে দেখলো।পৃথুলা ভয় পেয়ে বললো,
~মজা করছিলাম তো।
রক্তিম রাগে কটমট করতে করতে এগিয়ে পৃথুলার হাত থেকে পাঞ্জাবি নিয়ে ছুড়ে ফেলে দিলো তারপর এমন এক অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করলো যার কারণে পৃথুলা থম মেরে বসে রইলো।রক্তিম পৃথুলার গালে ঠাস করে একটা চড় মেরে দিলো পৃথুলা গালে হাত দিয়ে বসে আছে।রক্তিম আঙ্গুল উঁচিয়ে বললো,
~Further কাউকে এমন কথা বলার আগে এই থাপ্পড়টা মনে রাখবি idiot.
এতটুকু বলে রক্তিম ফ্লোর থেকে পাঞ্জাবি তুলে পরে নিলো বোতাম লাগাতে লাগাতে রুম থেকে বের হয়ে আসলো।
পৃথুলা এখনও সেভাবেই বসে আছে তার চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পরছে সে বালিশে মুখ গুজে কান্না করতে করতে বললো,
~কেন এতো ভালোবাসা অধরার প্রতি?

অধরা ছাদে শাওনের পাশে দাড়িয়ে আছে ইরা এখন পর্যন্ত হাজার পোজে ছবি তুলে ফেলেছে।শাওন তাতে বিরক্ত হয়ে বললো,
~এক ঢঙ্গী কম ছিল যে এখন আরেক ঢঙ্গী জম্ম নিলো।
অধরা ভ্রুকুচকে বললো,
~কার কথা বলছো?
শাওন বললো,
~কার আবার আমাদের ডাইনি পৃথুলা আপাজান কোথায় দেখা তো যাচ্ছে না তাকে।
ইরা রেগে বললো,
~খবরদার আমাকে পৃথুলা আপুর সাথে তুলনা করেছে তো।তোমার চুল গায়েব করে দেবো
শাওন বললো,
~ওরে বাবা ভয় পেয়েছি দূর হ আমার সামনে থেকে।
আপন বোন বলে জানে মারছিনা ফাউল কোথাকার
ইরা অধরার সামনে এসে বললো,
~দেখেছো আপু আমায় কী বললো তোমার ভাই?রক্তিম ভাই আসুক তারপর দেখাচ্ছি।
অধরা বললো,
~দুজনই চুপ থাকো সব মেহমানরা আসতে শুরু করে দিয়েছি।তোমরা এভাবে ঝগড়া করোনা
তখনই পিছন থেকে একজন বললো,
~অধরা মামুনি যে কেমন আছো?
অধরা পিছন ফিরে দেখলো পাশের বাসার আন্টি অধরা হাসি মুখ করে বললো,
~জ্বী ভালে আপনি কেমন আছেন?
আন্টিটা বললেন,
~ভালোই আছি তা তোমাকে তো বেশ সুন্দর লাগছে।
অধরা মুচকি হেসে বললো,
~ধন্যবাদ।
আন্টি কিছু বলতে নিবে তার আগেই রক্তিম এসে হাজির হলো রক্তিম এসেই অধরাকে বললো,
~অধরা,প্রিয়া এসে পরেছে তাড়াতাড়ি ওকে নিয়ে স্টেজে চলে আয়।
অধর আর এক সেকেন্ডও দেরি না করে দৌড়ে নিচে এসে প্রিয়ার রুমে চলে গেলো সেখানে গিয়ে দেখলো

প্রিয়াকে হলুদ রঙ্গের শাড়িতে একদম হলুদ পরী লাগছে কাঁচা ফুলের গহনায় তার সৌন্দর্য টাকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে।অধরা প্রিয়ার পাশে দাড়াতেই প্রিয়া বললো,
~কেমন লাগছে আমাকে?
অধরা বললো,
~বেশ সুন্দর তোমাকে যদি একবার রায়হান ভাইয়া এই লুকে দেখেনা তাহলে একদম শেষ।
প্রিয়া বললো,
~রায়হানকে পাঠিয়েছি ছবি দেখ কী রিপ্লাই আসে।
অধরা বললো,
~আপু তাদের পক্ষ থেকে কেউ আজ আসবেনা?
প্রিয়া গহনা ঠিক করতে করতে বললো,
~রায়হানের ছোট ভাই রাহাত আসবে।
অধরা বললো,
~আপু চলো তোমাকে স্টেজে নিয়ে যেতে বলেছে।
তখনই ঘরে প্রবেশ করলো প্রিয়ার মা জোহোরা খাতুন সে অধরার দিকে একবার তাকিয়ে হাতে থাকা বক্সটা খুলে প্রিয়ার জন্য একটা গলার নেকলেস বের করে তাকে পরিয়ে দিলো।প্রিয়া মাকে জড়িয়ে ধরে বললো,
~মা এটা অনেক সুন্দর ধন্যবাদ।
জোহোরা খাতুন মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,
~তোকে অনেক সুন্দর লাগছে। তোর বাবা কাজে ব্যস্ত তাই সে আসতে পারেনি।
প্রিয়া বললো,
~কোনো সমস্যা নেই।
জোহোরা খাতুন অধরার দিকে তাকিয়ে বললেন,
~প্রিয়া স্টেজে দিয়ে তুই রান্নাঘরে আসবি একটু কাজ আছে।
অধরা মাথা দুলিয়ে প্রিয়াকে নিয়ে ছাদে চলে গেলো প্রিয়ার আগমনে সবাই হৈ হুল্লোড় শুরু করে দিলো ক্যামেরা ম্যান প্রিয়াকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরলো অধরা প্রিয়াকে স্টেজে বসিয়ে দিয়ে সে নিচে চলে আসলো।রান্নাঘরে গিয়ে দাড়াতেই জোহোরা খাতুন বললেন,
~শোন তোর মা অন্য কাজে ব্যস্ত তুই এসব ফল কেটে প্লেটে সাজিয়ে রাখবি আর শোন সুন্দর করে কাজ করবি প্রিয়ার দেবর আসবে এসব ওর সামনে দিতে হবে।

অধরার মনটা খারাপ হয়ে গেলো সবাই ছাদে কতো মজা করছে আর সে এখানে কাজ করতে থাকবে।কিন্তু বড় চাচীকে সে মানা করতে পারবেনা তাই শাড়ির আঁচল কোমড়ে গুজে কাজে লেগে গেলো জোহোরা খাতুন নিজ কাজে চলে আসলো।
রক্তিম ছাদে দাড়িয়ে সব কিছুর পর্যবেক্ষণ করছে বোনের বিয়ে দেখে ভাই এতো ব্যস্ত।সাথে রয়েছে অধরার বাবা তৈয়ব হোসেন সে সব কাজেই অংশগ্রহণ করছে। রক্তিম আশেপাশে তাকিয়ে অধরাকে খোজার চেষ্টা করছে তৈয়ব হোসেন রক্তিমের দিকে তাকিয়ে বললো,
~কী হয়েছে বাবা কাউকে খুঁজছিস?
রক্তিম বললো,
~না চাচা আসলে আমি একটু নিচ থেকে আসছি আপনি একটু খেয়াল রাখেন।
তৈয়ুব হোসেন মুখের হাসিটা চওড়া করে বললেন,
~অবশ্যই বাবা।
রক্তিম মুচকি হেসে নিচে নেমে এদিক-সেদিক অধরাকে খুঁজতে লাগলো সে রান্নাঘরে গিয়ে দেখলো অধরা কাজে ব্যস্ত। রক্তিমের মাথাটা গরম হয়ে গেলো যেখানে সবাই মজা করতে ব্যস্ত সেখানে মেয়েটাকে কাজে আটকে রেখেছে।রক্তিম অধরার কাছে গিয়ে তার হাত ধরে টান মারতেই চাকু দিয়ে অধরার হাত কেটে গেলো।অধরা ব্যাথার যন্ত্রণায় আহহ করে উঠলো রক্তিম অধরার হাতের দিকে তাকাতেই দেখতে পেলো অধরার হাত থেকে গলগল করে রক্ত ঝরছে।তা দেখে রক্তিম তার পাঞ্জাবির পকেট থেকে রুমাল বের করে অধরার হাতে চেপে ধরলো।অধরার হাত ধরে রক্তিম নিজ রুমে নিয়ে গিয়ে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে ফার্স্টটেড বক্স এনে হাতে ব্যান্ডেজ করতে লাগলো।অধরা বললো,
~আপনি উপরে চলে যান আমি করে নিতে পারবো।বড়চাচী দেখলে বকা দিবে আমার কাজ বাকী আছে
অধরার কথা শুনে রক্তিম চোখ বড় করে তার দিকে তাকিয়ে বললো,
~চুপ করে বসে থাকবি নাহলে থাপ্পড়টা তোর গালে পরবে।
অধরা চুপ হয়ে বসে রইলো রক্তিম তার কাজ শেষ করে বললো,
~সোজা ছাদে চলে যাবি।আমি মায়ের সাথে কথা বলে নিবো নে
অধরা কিছু বলতে যাবে তার আগেই রক্তিম বললো,
~৫ সেকেন্ডের মধ্যে আমার সামনে থেকে চলে যাবি।
অধরা আর অপেক্ষা না করে সোজা রুম থেকে বের হয়ে আসলো।

প্রিয়াকে সবাই হলুদ ছোয়াতে ব্যস্ত অধরা একসাইডে দাড়িয়ে আছে।শাওন এসে অধরাকে বললো,
~তোর হাত কীভাবে কাটলো?
অধরা বললো,
~ফল কাটতে গিয়ে কেটে গেছে।
শাওন বললো,
~প্রিয়ার দেবর চলে এসেছে তুই দেখা করেছিস?
অধরা বললো,
~নাহ তো।আচ্ছা ফুপি কোথায় তাকে তো দেখছিনা
শাওন বললো,
~ওই মহিলার কথা বলিস না কোনো জায়গায় দাড়িয়ে হয়তো তার গহনার হিসাব করছে।
অধরা বললো,
~আচ্ছা তার সাথে দেখা করে আসি নাহলে কথা শুনতে হবে।
শাওন বললো,
~যা বইন তুই মহান দেবী।
অধরা আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো তার ফুপি রোকেয়া হোসেন একজনের সাথে দাড়িয়ে কথা বলছে।অধরা তার পাশে দাড়িয়ে বললো,
~ফুপি কেমন আছো?
রোকেয়া হোসেন অধরার দিকে তাকিয়ে মুখ বাকিয়ে বললো,
~ফুপির কথা আজ মনে পরেছে এতোক্ষণ ধরে এসেছি কেউ তো এসে একদন্ড কথাও বলো নি।
অধরা বললো,
~ভুল হয়ে গেছে ফুপি।
রোকেয়া হোসেন বললো,
~পৃথুলা কোথায়?
অধরা বললো,
~স্টেজে প্রিয়া আপুর পাশে।
তখনই ইরা এসে অধরার হাত ধরে টেনে নিয়ে যায় স্টেজে সেখানে রক্তিমও আছে।সবাই একসাথে দাড়িয়ে ছবি তুলছে ইরা অধরাকে রক্তিমের পাশে দাড় করিয়ে দিলো।তা দেখে পৃথুলার রাগটা বেরে গেলো শাওন আগুনে ঘি ঢেলে বললো,

~অধরা আর রক্তিম ভাইয়াকে মানিয়েছে কী বলিস ইরা?
ইরা বললো,
~ধুর রাখো তোমার কথা আমার ছবির পোজ নষ্ট হচ্ছে।
পৃথুলা রেগে গিয়ে স্টেজ থেকে নেমে গেলো রক্তিম অধরা একসাথে দাড়িয়ে ছবি তুলছে।
প্রিয়াকে হলুদ ছুঁইয়ে স্টেজ থেকে নামতে নিবে প্রিয়া অধরার হাত ধরে তার গালে হলুদ দিয়ে বললো,
~তোর বিয়েটা যাতে তাড়াতাড়ি হয়ে যায়।
অধরা মুচকি হেসে স্টেজ থেকে নেমে পরলো তখনই কেউ বলে উঠলো,
~অধরা,তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে।
অধরা পিছন ফিরে দেখলো
অধরা পিছন ফিরে দেখতে পায় রাহাত দাড়িয়ে আছে মুখে তার বিশ্রী হাসি অধরা নিজেকে সামলে বললো,
~কেমন আছেন রাহাত?
রাহাত বাঁকা হেসে বললো,
~এতক্ষন খারাপ ছিলাম তোমাকে দেখে মনটা ভালে হয়ে গেছে।
রাহাতের কথা শুনে অধরার গা জ্বলে গেলো রাগে মাথা ব্যাথা শুরু হয়ে গেলো রাহাত এগিয়ে এসে অধরার কাছাকাছি দাড়িয়ে বললো,
~শাড়িতে তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে আমার জন্য রোজ শাড়ি পরবে।
রাহাতের কথা শেষ হতেই রক্তিম সেখানে উপস্থিত হলো রক্তিমকে দেখে রাহাত পিছিয়ে গেলো রক্তিম অধরার হাত শক্ত করে ধরে বললো,

~এখানে কী করছিস চাচী তোকে খুঁজছে যাহ এখনই নিচে।
অধরা আর এক মুর্হুত দেরি না করে সেখান থেকে নিচে নেমে যায় রাহাত অধরার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেসে রক্তিমের দিকে তাকিয়ে বললো,
~কেমন আছেন আপনি?
রক্তিম বললো,
~এতক্ষন ভালো ছিলাম তোমাকে দেখে মুডটা নষ্ট হয়ে গেছে।
এতটুকু বলে রক্তিম সেখান থেকে চলে আসে রাহাত রক্তিমের যাওয়ার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে থাকে।
অধরা নিচে নামতেই ইরা তাকে ধরে বলে,
~আপু আমরা সবাই মেহেদী লাগাবো একটুপরই হলুদের অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যাবে।
অধরা বললো,
~তাহলে ফ্রেশ হয়ে সবাই হলরুমে একসাথে বসে মেহেদী লাগাবো।
ইরা বললো,
~ঠিক বলেছো।
অধরা আর ইরা নিজ নিজ রুমে চলে গেলো অধরা ফ্রেশ হয়ে সোজা মায়ের ঘরে আসতেই দেখতে পেলো তাহিদা ইসলাম নিজের পা মালিশ করছে।অধরা রুমের ভিতরে ডুকে মায়ের পা মালিশ করতে লাগলো তাহিদা ইসলাম মেয়ের কান্ডে অবাক হয়ে বললো,
~তুই এখানে কী করছিস?সবার সাথে মেহেদী লাগাতে বসে পর
অধরা বললো,

~পা ব্যাথা করছিল তো আমাকে কেন ডাকোনি?
তাহিদা ইসলাম বললেন,
~আমার ব্যাথা কমে গেছে তুই যা ইরা তোর জন্য অপেক্ষা করছে।
অধরা বললো,
~আমি যাবো কিন্তু পরে।
অধরা মায়ের পা মালিশ করে দিয়ে হাত ধুয়ে বাহিরে চলে আসলো সব মেয়েদের সাথে হলরুমে বসে মেহেদী লাগাতে শুরু করলো প্রিয়ার জন্য মেহেদী ডিজাইনার ১রাতের জন্য ডেকে আনা হয়েছে বউয়ের জন্য সব কিছু বেস্ট হতে হবে।প্রিয়া অধরার হাত ধরে বললো,
~তুই কিন্তু খালি হাতে থাকবিনা আমার মেহেদী দেওয়া শেষ হলে তুইও মেহেদী দিবি।
অধরা বললো,
~আমি তো নিজেরটা নিজেই দিতে পারবো।
প্রিয়া বললো,
~বেশি কথা বলবিনা বুঝেছিস।
তখনই পৃথুলা এসে হাজির হলো সে এসেই মেহেদী ডিজাইনারকে বলতে লাগলো,
~বউয়েরটা শেষ হলে আমাকে দিয়ে দিবেন টাকার টেনশন করবেন না।
প্রিয়া বললো,
~আপু, তুমি টাকার কথা বলছো কেন?যার যার ওনার কাছ থেকে মেহেদী দিতে মন চাইবে সে দিতে পারবে।
পৃথুলা বললো,
~প্রিয়া চুপচাপ মেহেদী দাও এতো কথা বলো না তো আর অধরা এক কাপ চা নিয়ে আসো মাথাটা ধরেছে।
অধরা চা আনার জন্য উঠে দাড়াতেই ইরা তার কানে বিড়বিড় করে বললো,
~চিনির বদলে লবণ দিবে চা তে তাহলে বুঝবে কতো মজা লাগে।
অধরা বললো,
~এসব কী বলছো চুপ থাক।
বলেই সে চলে আসলো রান্নাঘরে চা নিয়ে পৃথুলাকে দিয়ে সে বসে পরলো তখনই রক্তিম এসে বললো,

~অধরা,আমার খাবারটা নিয়ে রুমে আয় তো খিদে পেয়েছে খাওয়ার সময়ই পায়নি।
পৃথুলা চায়ের কাপটা রেখে তড়িঘড়ি করে উঠে দাড়িয়ে বললো,
~আমি নিয়ে আসছি তুমি ফ্রেশ হয়ে আসো।
রক্তিম ভ্রুকুচকে বললো,
~তোমার নাম অধরা?
পৃথুলা বললো,
~নাহ।
রক্তিম বললো,
~তাহলে তুমি কেন নিয়ে আসবে?আমি যাকে বলেছি সে নিয়ে আসবে দেখ পৃথুলা আমার মাথা এভাবেই গরম তোমাকে কোনো কিছু বলতে চাই না।
প্রিয়া বললো,
~ভাইয়া তুমি ঠান্ডা হও এই অধরা যা খাবার নিয়ে ভাইয়ের রুমে দিয়ে আয়।
রক্তিম রেগে বললো,
~তা শুনবে কেন মানুষের কথা শুনে থম মেরে বসে আছে stupid কোথাকার।
অধরা সাথে সাথে দাড়িয়ে পরলো আবার ছুটলো রান্নাঘরে খাবার নিয়ে ছুটলো রক্তিমের ঘরে।রক্তিমের ঘরে প্রবেশ করতেই অধরা ওয়াশরুম থেকে পানি পড়ার আওয়াজ শুনতে পায়।অধরা খাবার আর পানি টেবিলের উপরে রেখে রুম থেকে বাহিরে আসতে নিবে
তখনই রক্তিম ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে বললো
~আমার কার্বাডটা খুলে দ্যাখ একটা প্যাকেট আছে সেটা নিয়ে তোর রুমে চলে যাবি।আর হাতের অবস্থা কেমন?
অধরা পিছন ফিরে দেখলো রক্তিমকে মুখ বেয়ে পানির বিন্দু ঝড়ছে চুলগুলো ভিজে গেছে।রক্তিম সামনের চুল গুলো পিছনে ঠেলে দিয়ে বললো,

~কীরে কিছু বলছিস না কেন?
অধরা বললো,
~হাত ঠিক আছে।
রক্তিম বললো,
~মেহেদী একহাতে দিবি ওই হাতে দিলে ব্যাথা বাড়বে।
অধরা বললো,
~হুম জানি।
রক্তিম বললো,
~কার্বাড খুলে প্যাকেটটা নিয়ে যা।
অধরা ধীর পায়ে কার্বাডের সামনে গিয়ে তা খুলে দেখলো একটা শপিং ব্যাগ রাখা আছে।সেটা নিয়ে অধরা কার্বাড বন্ধ করে দিলো রক্তিমের দিকে তাকাতেই রক্তিম বললো,
~কালকে বিয়েতে এটাই পড়বি কোনো বাহানা শুনছিনা।
অধরা মাথা দুলিয়ে শপিং ব্যাগটা নিয়ে রুম থেকে চলে গেলো রক্তিম খাবারের প্লেট টা নিয়ে খাওয়া শুরু করলো তার ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি লেগে আছে।
সকাল থেকেই বিয়ের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে অধরা নিজের রুমে বসে রক্তিমের দেওয়া গাউনটা খুলে দেখলো কালো রঙ্গের গাউনটা বেশ লাগছে অধরার কাছে।সবাই বিয়ের জন্য শপিং করতে পারলেও অধরা ইচ্ছা করেই করেনি এতো টাকা খরচ করে কোনো লাভ নেই।আর বাবার উপরে এতোটা চাপ সে সৃষ্টি করতে চায় না ভাবনার মাঝেই দরজা ঠেলে ঘরে ডুকলো তৈয়ব হোসেন। বাবাকে দেখে অধরা বললো,

~বাবা তুমি এখানে?
তৈয়ব হোসেন হাতে থাকা শপিং ব্যাগটা এগিয়ে দিয়ে বললো,
~তোর জন্য একটা জামা এনেছি দেখতো পছন্দ হয় নাকি?
অধরা শপিং ব্যাগ টা হাতে নিলো তৈয়ব হোসেনের চোখ পরলো কালো গাউনটার দিকে সে বললো,
~এই গাউন কবে কিনেছিস?
অধরা শপিং ব্যাগ থেকে নীল রঙ্গের একটা নরমাল ড্রেস বের করে নিজ গায়ে দিয়ে বললো,
~রক্তিম ভাইয়া দিয়েছে বিয়েতে পরার জন্য।
তৈয়ব হোসেন বললেন,
~তাহলে এটাই পর তুই আমার দেওয়া জামাটা নরমাল হয়ে যায়।
অধরা বললো,
~তোমার দেওয়া এই জামাটা আমার জন্য লাখ টাকার জামার থেকেও বেশি।
তৈয়ব হোসেন বললো,
~তাও ইরা তো অনেক ভালো জামা পরবে আর তুই
অধরা তৈয়ব হোসেনের কথা শেষ করতে দিলো না তার আগেই বললো,
~তো কী হয়েছে?তোমার অনেক কাজ আছে নিশ্চয়ই তুমি কাজে যাও।
তৈয়ব হোসেন হালকা হেসে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে চলে গেলেন।

তৈয়ব হোসেন আর অধরার কথা এতক্ষণ পর্যন্ত কেউ আড়াল থেকে শুনছিল সেই ব্যক্তিটি মনে মনে বললো,
~আমার প্রিয়তমা যে সবার থেকে সেরা এটা আমি আগে থেকেই জানতাম।
অধরা প্রিয়ার রুমে বসে আছে প্রিয়া কাঁদতে কাঁদতে অস্থির হয়ে যাচ্ছে আজ সে নিজ বাসা থেকে বিদায় নিবে তাই।শাওন প্রিয়ার কান্না দেখে বললো,
~তাহলে তুই বিয়ে করিস না রায়হানকে সুন্দর একটা মেয়ে দেখে বিয়ে করিয়ে দিবো নে।
শাওনের কথা শুনে প্রিয়া কান্না বন্ধ করে বললো,
~শয়তান হারামি আমার সতীন আনতে চাও তুমি ভাইয়া আমার সাথে কথা বলবেনা।
রক্তিম প্রিয়ার পাশে বসে বললো,
~চেহারা অবস্থা খারাপ করে ফেলেছিস এখন তোকে রাক্ষসনীর মতো দেখা যাবে।
রক্তিমের কথায় প্রিয়া ভ্যা করে কেঁদে উঠলো তা দেখে শাওন বললো,
~ভাইয়া ছোট বাবু কাঁদছে ফিটার এনে দেও।
অধরা এবার কপট রাগ দেখিয়ে বললো,
~হয়েছে তো এখন আর প্রিয়া আপুকে জ্বালাতে আসবেন না।
শাওন মুখ বেকিয়ে বললো,
~ওরে আমার দরদ জননী এককেবারে পয়েন্টে লেগে গেছে।
ইরা বললো,

~আপু এইসব আজাইররা পাবলিকের কথা শুনতে হবে না তুমি রায়হান ভাইয়াকে জিজ্ঞেস করো সে তোমার প্রশংসা করতে করতে হয়রান হয়ে যাবে।
রক্তিম বললো,
~কপালে দুঃখ না আনার জন্য অনেকেই মিথ্যা বলে রে বোন।
সবাই খুনশুটিতে ব্যস্ত তখনই সেখানে উপস্থিত হলো পৃথুলা তাকে দেখে চারজনই চুপ হয়ে গেলো।পৃথুলা বললো,
~রক্তিম তোমায় বড় মামা ডেকেছে।
রক্তিম শার্টের হাতা গুটাতে গুটাতে বললো,
~তোরা থাক আমি আসছি।
বলেই সে চলে গেলো পৃথুলা বিছানায় বসে বললো,
~শাওন, তুমি মেয়েদের ভিতরে কী করছো যাও কাজ করো।
শাওন বললো,
~জ্বী আপাজান অবশ্যই আপনার কথা আমি শুনতে বাধ্য নই।
বলেই সে বাহিরে চলে গেলো পৃথুলা বললো,
~ইরা মামীকে বলিস তার ছেলে বেয়াদব হয়ে গেছে।
ইরা বিরবির করে বললো,
~ফুপিকেও অনেক কিছু বলার ছিল তার মেয়েকে নিয়ে কিন্তু বলতে আমি নাহি পারি।
রক্তিম আইয়ুব হোসেনের সামনে দাড়িয়ে আছে সাথে আছে তার মেঝো চাচা তৌহিদ হোসেন আর ছোট চাচা তৈয়ব হোসেন।আইয়ুব হোসেন বললেন,
~এতিম খানায় খাবার পৌছাতে হবে রক্তিম সব ব্যবস্থা হয়ে থাকলে যত দ্রুত সম্ভব কাজটা শেষ করে দেও।
রক্তিম বললো,
~তা হয়ে গেছে বাবা। আমার একটু কাজ আছে বাহিরে যেতে হবে।
আইয়ুব হোসেন বললেন,
~দ্রুত ফেরার চেষ্টা করবে।
রক্তিম যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই তৈয়ব হোসেনের কথায় থমকে দাড়ালো সে বলছে,
~বড় ভাই আমি একটা বাসা ভাড়া নিয়েছি ভাবছি প্রিয়ার বিয়ের পর সেখানেই উঠবো।
তৌহিদ হোসেন তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে বললো,
~তাহলে ওই মহিলা তোকে এসব করতেও বাধ্য করলো আমি বলেছিলাম তোর বউ আমাদের থেকে তোকে আলাদা করে ছাড়বে।
তৈয়ব হোসেন শীতল কন্ঠে বললো,
~এমন কোনো কথা না ছোট ভাইজান আসলে অধরার কলেজটা সেই বাসা থেকে কাছে তাই যাতায়াতে কোনো সমস্যা হবে না।

আইয়ুব হোসেন বললেন,
~এসব কথা এখন হবে না বিয়ের পর আর তৈয়ব প্রিয়ার বিয়ের অনেক কাজ আছে সেই কাজে মনোযোহ দেও।
তৈয়ব হোসেন বড় ভাইয়ের কথায় উঠে চলে গেলেন যে যার কাজে চলে গেলেও রক্তিম এখনো একই জায়গায় দাড়িয়ে আছে।
বিয়ের সব আয়োজন শেষ হয়ে গেছে সব মেয়ের প্রিয়ার সাথে পার্লারে চলে গেঋে অধরা শুধু যায়নি।অধরা রুমে বসে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত তাহিদা ইসলামকে রেডি করিয়ে নিজে রেডি হচ্ছে।বাবার দেওয়া ড্রেস পরে সে আয়নার সামনে দাড়িয়ে চুল ঠিক করছে তখনই রুমে প্রবেশ করলো পৃথুলা অধরা তাকে দেখে বললো,
~আপু,তুৃমি পার্লারে যাওনি?
পৃথুলা বললো,
~আজ তুই যা যা দিয়ে সাজবি তা দিয়েই আমি সাজবো।
পৃথুলার কোনো কথা অধরা বুঝলোনা সে অবাক নয়নে তাকিয়ে রইলো।পৃথুলা বললো,
~তাড়াতাড়ি রেডি হও রাত ৭টায় সেন্টারের উদ্দেশ্যে বের হতে হবে।
অধরা আর কিছু না নিজ কাজে ব্যস্ত হয়ে পরলো পৃথুলাও তার দেখাদেখি সব করছে।অধরা আর পৃথুলা রেডি হয়ে নিচে নেমে আসলো শাওন তাদের নিয়ে যাবে সেন্টারে তারা শাওনের অপেক্ষা করছে। সবাই অনেক আগে চলে গেছে তাদের লেইট হয়ে গেছে তখনই তাদের সামনে একটা গাড়ি এসে থামলো সেই গাড়ি দেখে পৃথুলা অনেক খুশি হয়ে গেলো।গাড়ির মালিক গাড়ি থেকে নেমে পরলো পৃথুলা সেই মানুষটাকে দেখে আরো বেশি খুশি হয়ে গেলো কারণ সেই মানুষটি আর কেউ নয় রক্তিম।পৃথুলা এগিয়ে এসে বললো,

~তুমি আমার জন্য অপেক্ষা করছিলে?
রক্তিম বিরক্তি নিয়ে বললো,
~অধরা গাড়িতে উঠে বস।
পৃথুলা বললো,
~আর আমি?
রক্তিম বললো,
~তুই যদি আমার সাথে যেতে চাস তাহলে চল।
পৃথুলা কিছু না বলে সামনে সীটে বসে পরলো অধরা পিছনে বসে পরলো।রক্তিম ড্রাইভিং সীটে বসে পরলো তার রাগটা মাথা চাড়া দিয়ে দাড়িয়েছে।নিজেকে সামলাতে পারছেনা রক্তিম লুকিং গ্লাস দিয়ে অধরাকে একবার দেখে বড় বড় নিশ্বাস ছেড়ে গাড়ি ড্রাইভ করতে শুরু করলো।অধরা বাহিরের দৃশ্য দেখতে ব্যস্ত আর পৃথুলা তার নতুন পরিকল্পনা করতে ব্যস্ত।

 তোমাকে চাই পর্ব ৩+৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here