তোমাতেই আসক্ত পর্ব ৮৬
তানিশা সুলতানা
অসহায়ের মতো বসে আছে আমান। মনটা তার বড্ড খারাপ। একটু আগেই টিশার সাথে মারাক্তক ঝগড়া হয়েছে। ঝগড়ার মূল কারণ ছিল সিয়ামের অনাগত সন্তান। আমানের বক্তব্য হচ্ছে
“এক মাসের মধ্যে তারাও বেবি নিয়ে ফেলবে। সিয়ারকে কোনো ভাবেই জিততে যেতে দেওয়া যাবে না। হালা এমনিতেই ভুলভাল কবিতা বলে মাথা খারাপ করে দেয় এখন তো আরও বলবে।
ইতিমধ্যেই কয়েকবার বলে ফেলেছে
” যাদের নাই টুনটুনি
তারা কি করে বুঝবে সুখ
বাবা হয়ে দেখিয়ে দিলাম
এখন ছোট হলো কিছু মানুষের মুখ।
প্রমাণ হলো কার নাই পাখি
ভালো করে দেখুক তারা যদি থাকে আঁখি।
আমানের দুঃখ বুঝলো না টিশা। সে উল্টে ঝগড়ার সুরে বলে
“বেবি নিবা
খাওয়াবা কি তাকে?
২ টাকা ইনকাম করতে পারো? থাকো তো আবরার তাসনিনের পা ধরে।
মেজাজ চটে যায় আমানের। অশ্লীল ভাষায় কয়েকটা গালি দেয় টিশাকে। গায়েও হাত তুলতে গিয়েছিলো কিছু একটা ভেবে হাত নামিয়ে নেয়। এবং তখন কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসে।
ড্রয়িং রুমে সিয়াম আহাত এবং ইভান বসে আছে চিন্তিত ভঙ্গিমায়। যেন বিশাল বড় কোনো ক্ষতি হয়ে গেছে তাদের।
আমান এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করে
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
“কি হয়েছে তোদের? আপসেট কেন?
সিয়াম দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে
“আব্বা আমাদের ফাঁকি দিয়ে বোন আনার প্রসেসিং করতে চলে গেছে।
ঠিকঠাক বুঝতে পারে না আমান। কপাল কুঁচকে পুনরায় সুধায়
“বুঝলাম না।
কোথায় গেছে আবরার?
ইভান বলে
” মালদ্বীপ।
এখন মাঝ নদীতে আছে মাকে নিয়ে।
ভাই ওরা কি করছে ওখানে?
সিয়াম কবিতার সুরে বলে
“ছোট বেলায় খাইছিলাম সুঁজি
তাই এখন সব কিছুই বুঝি
আব্বা গেছে রোমাঞ্চ করতে
খোলা আসমানের নিচে
আমরা কেনো যেতে পারলাম না
তাদের পিছে পিছে
আহাদ হামি তুলে বলে
” হালা তুই তোর বউয়ের সাথে যা করেছিস আব্বাও তাই করবে। তাও কেনো মানষের প্রাইভেসি নষ্ট করার শখ?
আমান কিছু বলবে তার আগেই কলিং বেল বেজে ওঠে। আসিফ আদনান এবং সিয়ামের শশুর মশাই চলে এসেছে।
সিয়াম শুকনো ঢোক গিলে বলে
“ভাই তার মেয়ের সাথে উল্টাপাল্টা অশ্লীল কাজকাম করে প্রেগন্যান্ট করে দিছি। শশুর কি আমায় পি/টা/বে?
আমান বলে
“হালা পিটাবে না। এটা অশ্লীল নয়। এটাকে বলে ভালোবাসা। তুই যা দরজা খোল। আমি সোফাটোফা ক্লিন করি।।
তারপর সিয়াম দরজা খুলতে যায় আর বাকি তিনজন সোফা ঠিকঠাক করে কিচেনে ঢোকে। ইশারা রান্নাবান্না করেই রেখেছে। এখন শুধু সব গরম করতে হবে। মেয়েটা অসুস্থ তাকে এতো খাটানো যাবে না। তাই তিনজনই শশা টমেটো পেঁয়াজ কেটে সালাদ তৈরি করে। এবং সব খাবার গরম করে ফেলে।
টিশাকে ডাকলেও সে করে দিতো। কিন্তু আমানের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে বলে তাকে ডাকলো না।।
আর কখনো ডাকবে না বলেও প্রতিজ্ঞা করেছে আমান।
তখুনি সিয়াম দৌড়ে কিচেনে ঢোকে। হাঁপাতে হাঁপাতে বলে
” ভাই আমার শশুর কিপ্টা
হালা খালি হাতে এসেছে। কয়টা মিষ্টিও আনে নাই।
ইভান বলে
“সকাল থেকে আশা করে বসে আছি মিষ্টি খাওয়ার জন্য।
আহাদ বলে
” ওনারা মনে হয় মিষ্টির শপ চিনে নাই। কোনো ব্যাপার না আমি চিনিয়ে দিয়ে আসতেছি।
বলতে বলতে কিচেন থেকে বের হয়। ওনাদের সামনে গিয়ে বসে
“এ সিয়াম দেখে যাহহ তোর শশুর আর শালার পকেট খালি।।
চারিপাশে থই থই করছে নীল পানি। মাঝেমধ্যে বিশাল ঢেউ আসছে।
ধবধবে সাদা বালি ঢেকে দিচ্ছে। আবার শুকিয়ে যাচ্ছে। বড্ড লোভনীয় লাগছে দেখতে। আদ্রিতা কিছু মুহুর্তে চোখ বন্ধ করে অনুভব করে সাগরের কলরব। বড্ড ভালো লাগছে তার। যতদূর দৃষ্টি যাচ্ছে শুধুই পানি। তারা ব্যতিত আর কোনো মানুষের অস্তিত্ব নেই। আবরার ইতিমধ্যেই বালির ওপর বসে পড়েছে। সূর্যের আলো মুখে পড়ছে লোকটার। দারুণ শ্রিগ্ধ দেখাচ্ছে। সাদা শার্ট খানার বুকের ওপরের তিনটে বোতাম খুলে রাখা। যার ফলে ফর্সা বুকটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
আদ্রিতা কিছু মুহুর্ত লোকটাকে পর্যবেক্ষণ করে মৃদু হাসে। তারপর এগিয়ে গিয়ে পানিতে পা ভেজায়। আবরারের মুখ পানে তাকিয়ে বলে
“ভালোবাসা কি আবরার?
হোয়াট ইজ লাভ?
আবরার হাত ঘড়িতে নজর বুলিয়ে বলে
“লাভ ইজ পেইন।।
” কিভাবে?
“তোমাকে যতবার ভালোবেসেছি ব্যাথা পেয়েছো না?
লজ্জায় কান গরম হয়ে ওঠে আদ্রিতার। সে শুকনো ঢোক গিলে পানি দেখায় মনোযোগ দেয়। এবং বিরবির করে বলে
” খারাপ বেডা।
মানুষ এতোটা নির্লজ্জ বেহায়া কিভাবে হতে পারে?
এতোটুকু লজ্জা থাকা উচিত নয় কি?
আবরার শুনে ফেললো আদ্রিতার মনের কথা। সে বলে ওঠে
“একদমই উচিত নয়।
সাইয়ারা মুভি দেখলে না? সেম পানি
সেম ভিউ
তুমি আমি।
ব্যাসস হয়ে গেলো না?
আদ্রিতার চোখের সামনে ভেসে ওঠে সাইয়ারা মুভির একটা দৃশ্য। যেখানে হিরো হিরোইন পানির মধ্যে ডুব দিয়ে রোমাঞ্চ করছে। এই বেয়াদব তেমন করবে নাকি? আদ্রিতা ডিরেক্ট মরে যাবে। তাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না।
ভাবতে ভাবতেই শুকনো ঢোক গিলে সে। আবরার এগিয়ে আসে তার দিকে।
এক মুঠো সাদা বালি নিয়ে আদ্রিতার গালে লাগিয়ে দেয়। পরপরই কোমর জড়িয়ে ধরে কাছে টেনে নেয়।।বালি মাখানো গালে নিজের গাল ঠেকিয়ে ঘষা দেয়। কেঁপে ওঠে আদ্রিতা। খোঁচা খোঁচা দাঁড়িতে আঘাত লাগে গালে। নিশ্চয় লাল হয়ে গিয়েছে।
সে কিছু বলার জন্য হা করতেই আবরার ঠোঁটে আঙুল দিয়ে থামায়।
হাঙ্কি স্বরে বলে
” ডোন্ট ডিস্টার্ব। এ’ম সো হাংরি।
আর কিছু বলার সাহস নেই আদ্রিতার। তবে বড্ড জানতে ইচ্ছে করে “সমুদ্র দেখলে আপনার মাথা খারাপ কেনো হয়ে যায়? কি কানেকশন দুজনের?”
তবে প্রশ্ন করা হয়ে ওঠে না। কারণ ততক্ষণে তার ওষ্ঠদ্বয় ডুবে গিয়েছে আবরার তাসনিনের ওষ্ঠের ভাজে। নীল রংয়ের গাউনের চেইন খুলে গেলো শব্দ করে। সূর্যের আলো সরাসরি মুখে এসে লাগছে। অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য।
পানির ঢেউ এসে ভিজিয়ে দিয়ে যায় দুজনকে।।
ভয়ার্তক আদ্রিতা এদিক ওদিক দৃষ্টি সরিয়ে দেখতে থাকে কোনো লঞ্চ বা নৌকা এদিকে আসছে কি না। আবরার সেটা বুঝতে পারলো।
ওষ্ঠ ছেড়ে গলায় মুখ গুঁজে বলে
“কেউ আসবে না।
কারো সাহস নেই আবরার তাসনিন এর প্রাইভেসি নষ্ট করার।।
রিলাক্স থাকো পাখি।। আর আমায় অনুভব করো।
বলতে বলতে হাজার খানা চুমুতে ভরিয়ে দিতে থাকে গলা।
আরও একবার তাদের মিলনে সাক্ষী হয় সমুদ্র। সূর্য আসমান সমুদ্র ছাড়া কেউ জানলো না তাদের মিলনের কাহিনি।
আবরার তাসনিনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ আদ্রিতা বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করে। কাতর স্বরে বলে
তোমাতেই আসক্ত পর্ব ৮৫
” প্লিজজ
আবরার দুই ভ্রু আড়াআড়ি ভাবে কুঁচকে বলে
“উমম ডিস্টার্ব করে না পাখি।
