Home তোমাতেই আসক্ত তোমাতেই আসক্ত পর্ব ৮৮

তোমাতেই আসক্ত পর্ব ৮৮

তোমাতেই আসক্ত পর্ব ৮৮
তানিশা সুলতানা

প্রতিটা নারীর স্বপ্ন একটা সন্তান। মা ডাক শোনার জন্য নারী সব দুঃখ সহ্য করে নিতে পারে। বাবা সন্তানকে অস্বীকার করতে পারে, ছেড়ে দিতে পারে কিন্তু একজন মা কখনোই পারেনা।
আদ্রিতা চেয়েছিলো তার একটা বেবি হবে। আদরে সোহাগে বড় করবে তাকে। যে ভালোবাসাগুলো সে পায়নি সেই সব ভালোবাসা তার বেবি পাবে। তার সুখের সংসারটা আনন্দে ভরে উঠবে।

কিন্তু না
সে সব সবকিছুই হলো না। মা ডাক শোনার মতো সুন্দর কপাল তা নেই।
এসব ভাবতে ভাবতে রাস্তার এক কোনা দিয়ে হাঁটছিলো আদ্রিতা। নয়ন জোড়া ভেজা।
বড্ড কষ্ট হচ্ছে তার। ইচ্ছে করছে চিৎকার করে কাঁদতে। ভাগ্যকে দোষারোপ করতে।
এমন জীবন না দিলেও পারতো।
ঠিক তখনই তার পাশে একটা বাইক এসে দাঁড়ায়। চমকায় সে। দু পা পিছিয়ে যায়। বাইকটা দেখেই চিনতে পেরেছে এটা আবরার তাসনিন।
হাসপাতালে যাওয়ার ঘটনা জেনে যাবে। তারপর আদ্রিতাকে বকা দিবে।।
ভাবতেই কলিজা কেঁপে ওঠে। আবরার মাথা থেকে হেলমেট খোলে। শান্ত নয়নে তাকায় আদ্রিতার মুখ পানে। এবং বলে

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“গেট অন দ্যা বাইক
আদ্রিতা ভদ্র বাচ্চার মতো মাথা নারিয়ে উঠে পড়ে বাইকে। দুই হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আবরারকে। মাথা রাখে পিঠের ওপর।
আবরার বাইক চালানো শুরু করে।
আজকের রাস্তাঘাট বড্ড ফাঁকা। গাড়ি তো দূর কোনো মানুষ জনেরও দেখা নেই। মিষ্টি উঠেছে। রোদের আঁচ গায়ে লাগছে না। হালকা বাতাসে আদ্রিতার চুল গুলো উড়ছে। ভালোই লাগছে।
” আবরার ভালোবাসি আপনাকে। ভীষণ ভালোবাসি।
আবরার শুনেছে তবে জবাব দেয় না। কিছু মুহূর্তের মধ্যেই তারা পৌঁছে যায় আবরার’স হাউজে।।
আদ্রিতাকে নামিয়ে দিয়ে আবরার বাইকে গ্যারেজে রেখে আসতে যায়। তখনই আদ্রিতার নজর পড়ে এ্যানির কবরের দিকে। সেখানে এ্যানির মতোই ছোট্ট একটা বিড়াল শুয়ে আছে। কেমন মায়া মায়া নয়নে তাকিয়ে আছে তার দিকে।
আদ্রিতা এগিয়ে যায়। কোলে তুলে নেয় বিড়াল ছানা টিকে। ঠোঁট দাবিয়ে চুমু খায় তার নরম শরীরে।
“হোয়াট আর ইউ ডুইং হেয়ার?

আবরারের কথায় পেছন ঘুরে তাকায় আদ্রিতা। বিড়াল ছানাটিকে দেখিয়ে বলে
“দেখুন ও কত কিউট।
একদম আমাদের এ্যানির মতো।
আমি ওকে আমার সাথে রাখতে চাই।
আবরারের বোধহয় ভালো লাগলো না কথা খানা। সে গম্ভীর স্বরে বলে
” কোনো দরকার নেই। রেখে এসো ওকে।
আদ্রিতা জেদ দেখিয়ে বলে
“একদম না। ও আমার সাথেই থাকবে।
বলেই বিড়াল খানাটিকে নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। এবং বড় বড় পা ফেলে ভেতরে ঢোকে। টিশা ড্রয়িং রুমেই বসে ছিলো। বিড়াল তার বড়ই পছন্দের। আদ্রিতার হাতে থাকা পার্সিয়ান বিড়াল দেখে সে বড্ড খুশি হয়। ইচ্ছে করে দৌড়ে গিয়ে ছানাটিকে কোলে নিতে। কিন্তু নিজের স্বভাব সূলত সে সেটা করতে পারে না। নিজ স্থানেই বসে থাকে।
আদ্রিতা এগিয়ে এসে টিশার কোলে বিড়ালটিকে দেয় এবং বলে

” ওকে একটু খাবার দাও কেমন?
আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।
হ্যাঁ না কিছুই বলে না টিশা। আদ্রিতা নিজ কক্ষে চলে যায়। আবরার আগেই চলে এসেছে।
“তোমাকে কিছু বলতে চাই আমি।
আদ্রিতা আবরারের সামনে এসে দাঁড়ায় এবং বলে।
” আমিও কিছু বলতে চাই।
“আমি আগে বলবো।
” বলুন

আবরার আদ্রিতার হাত ধরে তাকে খাটের ওপর বসায়। নিজে ফ্লোরে বসে পড়ে। আদ্রিতার কোলে মাথা রেখে বলে
“আমাদের বেবি চাই না এখন আর আমার। তুমি আমি দিব্যি একটা জীবন কাটিয়ে দিতে পারবো। এটা নিয়ে প্যানিক হইয়ো না।
আদ্রিতা শুকনো ঢোক গিলে বলে
” আমার চাই।
একটা বেবি লাগবেই। আমি কখনো আপনার কাছে কিছু চাই নি। কিন্তু এখন চাচ্ছি। একটা বেবি এনে দিন আমায়। যেভাবে পারেন সেখান থেকে পারেন।
আবরার হতাশ হয়।

“কেনো বুঝতে পারছো না?
” আপনি কেনো বুঝতে পারছেন না?
লাগবেই আমার বেবি। আর আমি জানি আমার আবরার ঠিক পারবে।
ভরসার হাসি ফুটে ওঠে আদ্রিতার ঠোঁটে। আবরার দীর্ঘ শ্বাস ফেলে। এবং বলে
“খাবো।
যাও খাবার রেডি করো।
আদ্রিতা মাথা নারিয়ে ওয়াশরুম ঢুকে পড়ে। আবরার আঁখি পল্লব বন্ধ করে ফেলে। জীবনে প্রথমবার অসহায় লাগছে তার। মনে হচ্ছে সে ব্যর্থ। কিছুই করতে পারে না।

দিন গুলো ভালোই যাচ্ছে। ইশারা এখন নয় মাসের প্রেগন্যান্ট। পেট অনেকটা উঁচু হয়েছে। এই পেট নিয়ে হাঁটাচলা করাই কষ্টকর। টিশা পুরোপুরি ইশারার দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছে। যখন যা লাগবে সে এনে দিবে। একটুও হাঁটাচলা করতে দেয় না।
তবে সিয়াম তাকে রেহায় দেয় নি। জ্বালানোর একটা পথও ছাড়ে না।
এই যে আজকে ইশারার মতো করেই বড় এক খানা বালিশ বেঁধেছে পেটে। তারপর কোমরে হাত দিয়ে হাঁটছে। প্রথমে যায় ইভান আহাদ আর আমানের কাছে। তারা অফিসের কাজ করতেছিলো। সিয়াম সেখানে নিয়ে বলে
“ফুলে গেছে পেট আমার
ভালোবাসা খেয়ে তোমার
আহহা কি দিলে বাঁশ
হয়ে গেলো আমার সব্বনাশ
আমান নিজের জুতা খুলে সিয়ামের দিকে ফিক্কা মারতে গেলেই সিয়াম দৌড়ে রুমে চলে যায়। আদ্রিতা এবং টিশা ইশারাকে জুশ খাওয়াচ্ছিলো। তখনই সিয়াম এসে বলে

” মা দেখো ইশারা আমায় প্রেগন্যান্ট করে দিছে। এতো বড় পেট নিয়ে আমি কোথায় যাবো?
আদ্রিতা খিল খিল করে হেসে ওঠে। ইশারা বালিশ ফিক্কা মারে। টিশাও হাসে।
সিয়াম আবার চলে
“আয়হায় আমার হলো কি?
বাচ্চা হলে নাম রাখবো পুকি
আদ্রিতা বলে
” ভাইয়া একদম মজা করবেন না।।
“আমি মজা করছি না। বোঝার চেষ্টা করছি এতে বড় পেট নিয়ে কেমনে হাঁটাচলা করতে হয়। কেমনে নাচতে হবে।
আচ্ছা আমি একটু নেচে দেখাই
বলেই নাচতে থাকে সিয়াম।

টিশা শব্দ করে হেসে। ইশারাও হাসতে থাকে।
হাসতে হাসতে পেটে ব্যাথা শুরু হয়ে যায়। মুহুর্তেই ইশারার চোখ মুখ লাল হয়ে ওঠে। চিৎকার করে কাঁদতে থাকে।
আবরার আমান আহাদ ইভান সবাই দৌড়ে আসে। সিয়ামও ভরকায়।
কি করে ফেললো সে?

সময় নষ্ট না করে তখনই ইশারাকে ধরাধরি করে গাড়িতে তোলা হয়। এবং গাড়ি চলতে থাকে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে। সকলেই চলে যায়। শুধু বাড়িতে থাকে আদ্রিতা এবং টিশা।
আদ্রিতার মাথা ঘুরছে। হাত পা কাঁপছে। সে কি ভয় পাচ্ছে?
বুঝতে পারে না। শুধু এই টুকুই বুঝতে পারে আর এক মিনিটও সে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে না।
ভাবনার মাঝেই দুচোখে অন্ধকার দেখতে শুরু করে। এবং সেন্সলেস হয়ে লুটিয়ে পড়ে ফ্লোরে।

তোমাতেই আসক্ত পর্ব ৮৭

টিশা ভরসায়। আদ্রিতার মাথা নিজের কোলের ওপর নিয়প ডাকতে থাকে। সারাশব্দ না পেয়ে তখুনি কল করে আবরারের নাম্বারে।
কল রিসিভ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেঁদে বলে ওঠে
” আদ্রিতা সেন্সলেস হয়ে গিয়েছে। আপনি জলদি আসুন।

তোমাতেই আসক্ত পর্ব ৮৯