Home তোমাতেই আসক্ত তোমাতেই আসক্ত পর্ব ৯০

তোমাতেই আসক্ত পর্ব ৯০

তোমাতেই আসক্ত পর্ব ৯০
তানিশা সুলতানা

অহনা হিংসুটে নয় মোটেও। তবুও কেনো জানি আজকে তার হিংসা হচ্ছে। কোনো মতেই সে মানতে পারছি না। আবরার তাসনিন তার ভাই। একই মায়ের পেট থেকে তাদের জন্ম। তার ছেলের জন্মের পর আবরার তাকে হাসপাতালে দেখতেও যায়নি। এমনকি বাসায় ফেরার পরেও একটু কোলে নেয়নি। অথচ সিয়ামের ছেলেটার জন্য নিজের জান দিতেও প্রস্তুত। বোনের সাথে বন্ধুর তুলনা? বন্ধুই বড় হয়ে গেল?

আঁখি পল্লব ভিজে ওঠে অহনার। তার দুই বছরের ছেলে আহিল গোটা বাড়িতে হাঁটাহাঁটি করছে। তাকে থামানোর সাহস কারো নেই। একবার কিচেনে গিয়ে এটা ওটা ফেলে দিচ্ছে তো আবার ড্রয়িং রুমে টি টেবিলে থাকা জিনিসপত্র ফেলে দিচ্ছে। আদ্রিতা অবশ্য বাচ্চাটির এসব কর্মকাণ্ডে সাপোর্ট করছে। নিজেও যেন বাচ্চা হয়ে উঠেছে। আহিলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খেলছে। কখনো কখনো হাসিতে ফেঁটে পড়ছে। আতিয়া বেগম কিচেনে ঢুকে পড়েছে। সকলের জন্য রান্না করতে হবে।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“আহনা
আবরারের গম্ভীর কন্ঠস্বরে চমকে ওঠে অহনা। তাড়াহুড়ো করে চোখ মুছে পেছন ঘুরে তাকায়। একটু হাসার চেষ্টা করে বলে
” জ্বী ভাইয়া
কিছু বলবে?
আবরার দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলে
“তোর অনেকেই আছে। মা আছে, হাজব্যান্ড আছে, শশুর বাড়ি আছে। কিন্তু সিয়াম আমান আহাদ ইভান ওদের আমি ছাড়া কেউ নেই।

তুই আমাকে ছাড়া থাকতে পারিস। কিন্তু ওরা পারে না।
আমার খারাপ সময়ে তুই ছিলি না ওরা ছিলো। এখনো আমার বিপদে তুই থাকবি না কিন্তু ওরা থাকবে।
তাই ওদের নিয়ে হিংসা করবি না। ওরা ছাড়া আবরার তাসনিন শূন্য।
আই থিংক বুঝতে পেরেছিস।
নিজের বক্তব্য শেষ করে বড় বড় পা ফেলে চলে যায় আবরার। অহনার বুকের ভেতরটা কাঁপছে। এই প্রথম সে রিয়েলাইজ করলো আসলেই ভাইয়ের খারাপ সময়ে সে ছিলো না। একই শহর থাকতো কিন্তু কখনোই ভাইয়ের খোঁজ নেওয়া হয় নি।
রক্তের সম্পর্কের থেকে আত্নার সম্পর্ক বেশি গভীর।

ইশারাকে তার কক্ষে শুয়িয়ে দিয়েছে টিশা। এখন ওর জন্য খাবার বানাচ্ছে। সিয়াম ইভান এবং আহাদ একটু বেরিয়েছে। আহাদের একটা মেয়েকে ভালো লেগেছে। হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে পার্কে দেখেছে মেয়েটিকে। এবং কথাখানা ভুলবশত সিয়ামের কাছে শেয়ার করেছে। এখন আর এক সেকেন্ডের টিকতে দিচ্ছে না সে। মেয়েটাকে দেখবে, বিয়ের প্রোপোজাল দিবে তারপরে ক্ষান্ত হবে।
সিয়ামের জেদের কাছে হার মানে আহাদ এবং ইভান। তারা ছুটে চলেছে সেই পার্কের উদ্দেশ্যে। পথিমধ্যেই দেখা হয়ে যায় আমানের সঙ্গে। সেও সঙ্গে যাচ্ছে।
ভাগ্য ভালো ছিলো বোধহয়। তাই মেয়েটাকে পেয়ে যায়। পার্কের এক কোণায় থাকা ব্রেঞ্চে বসে আছে। মনটা বোধহয় খুব খারাপ। কেমন উদাসীন ভঙ্গিমায় আসমান পানে তাকিয়ে আছে।
আমান শার্টের কলার ঠিক করতে করতে এগিয়ে যায়। মেয়েটার পাশে বসতে বসতে বলে

“ইউ আর লুকিয়ে সো বিউটিফুল।
তা আপনার নাম কি?
মেয়েটা বাঁকা নয়নে খানিকক্ষণ তাকিয়ে থাকে আমানের মুখপানে। তারপর বলে
” আপনি আবরার তাসনিন এর বন্ধু না? আর টিশার বর না?
আমান ভরকায়। এখনই আবার টিশা আর আবরারকে বলে দিবে না কি? শুকনো ঢোক গিলে মুহুর্তেই মেয়েটির পা জড়িয়ে ধরে আমান। আহাদ এবং ইভানও দৌড়ে এসে আমানের পেছনে বসে। মেয়েটি ভরকায়। ওরা কান্নার শব্দে বলে ওঠে

“ওরেহহ আমার মা
তুমিই আমার খালা
লাগলে আপা বলেও ডাকতে পারি। তবুও এই খবর আমার বউ আর বন্ধু বলিয়েন না। ওরা আমাকে বাড়ি ছাড়া করবে। পিচ পিচ করে কে/টে জুরিখ নদীতে ভাসিয়ে দিবে।
সিয়াম বলে ওঠে
“দাঁড়ান আপনাকে কবিতার ভাষায় বোঝাই ব্যাপারটা
খাবে আমান মাইর
কাটবে ওর গলা
আমরা সাথে ছিলাম বলে
যাবে আমাদের কল্লা
অকালে মরতে চাই না
কতোদিন হলো গরুর মাংস খাই না।।
আজকে বাড়িতে গিয়ে খাবো আমি কলা
তুমি কাউকে বলিসও না কিছু ওরে আমার মনা
আমানের কান্না থেমে যায় সিয়ামের কবিতা শুনে। মেয়েটাও স্তব্ধ। সে বাংলাদেশই বড় হয়েছে। এমন উদ্ভট কবিতা কখনোই শোনে না।।
আহাদ বলে ওঠে

” ভাই তুই পাকিস্তান থেকে খাওয়াস্থানে কেমনে গেলি?
মেয়েটি নিজের পা ছাড়িয়ে নিয়ে বলে
“আপনারা শুরুটা করলেন কি?
আমি কাউকে কিছু বলবো না। আপনারা উঠুন
তবুও ওরা ওঠে না। ইভান বলে
“এই আহাদ হালা হালা আপনারে দেখে ফিদা হয়ে গেছে। বিয়ে করতে চাচ্ছে না। এই সিয়াম এটা কে কবিতার ভাষায় শোনা তো।
সিয়াম কাশি দিয়ে গলা পরিষ্কার করে বলে

” যদি তুমি থাকে রাজি
ডাকবো আমরা কাজি
গরুর মাংস দিয়ে ভাত
বাকিটা শেষ করার আগে আমান ঠাস করে একটা থা/প্প/র মারে সিয়ামের মাথায়। বলে
“আরেকবার গরুর মাংস গরুর মাংস বললে কুত্তার মাংস খাওয়ায় দেবো তোকে।
সিয়াম মাথায় হাত ডলতে ডলতে বলে
“হালা
তোর মেশিন নষ্ট হয়ে যাবে দেখিস।
নিরীহ আমি কতোদিন হলো গরুর মাংস খাই না।
ওরা সকলেই দৌড়ে পালিয়ে যায় ওই স্থান থেকে। এই হালা আজকে গরুর মাংস মাংস বলে জানডা খেয়ে দিবে সকলের।
মেয়েটা হাবলার মতো তাকিয়ে থাকে। কি হয়ে গেলো এটা?

ইশারা সাব্বাকে ঠিকঠাক কোলে নিতে পারে না। তার প্রথম কারণ হচ্ছে ঘা এখনো শুকায় নি। আর দ্বিতীয় কারণ জীবনে প্রথমবার সে বাচ্চা কোলে নিচ্ছে। একটু তো সমস্যা হবেই।
টিশা এবং আদ্রিতা খুব হেল্প করে ইশারাকে। এইতো কিছুক্ষণ আগে টিশা বাচ্চাকে গোসল করালো। তারপর ইশারা খাইয়ে দিলো এখন আদ্রিতা তাকে নিয়ে নিজেদের কক্ষে চলে এসেছে। আবরার ল্যাপটপে কিন্তু কাজ করছিলো। সাম্বাকে দেখে ল্যাপটপ বন্ধ করে হাত বাড়িয়ে দেয়। আদ্রিতাও বাচ্চাকে আবরারের কোলে দিয়ে নিজেও পাশে বসে।।
কিছু মুহূর্ত দুজনের মুখপানে তাকিয়ে থেকে প্রশ্ন করে

” আবরার ডাক্তার বলেছিলো আমাদের বেবি হবে না? তাহলে কি করে হলো?
আবরার জবাব দেয় না। আদ্রিতা বুঝতে পারে সাহেবকে মেরে ফেললেও এই প্রশ্নের জবাব দেবে না। কেননা ইতোমধ্যেই প্রায় ৫০০ বার একই প্রশ্ন করে ফেলেছে সে। এক বারও লাট সাহেব মুখ খোলে নি। যেনো দাঁতে পোকা বসেছে।
তাই মুখ বাঁকিয়ে লোকটার কাঁধে মাথা রাখে।
“আচ্ছা আমাদের বেবির নাম রাখবো কি?
এবারে মুখ খেলে আবরার। সাম্বার কলাপে চুমু দিয়ে বলে

” আহিরা তাসনিম।
আদ্রিতা কপাল কুঁচকে বলে
“ছেলেও তো হতে পারে?
” হবে না। সাম্বা বাবার পার্টনার হয়ে কিউট একটা মেয়ে আসবে।
আর তাকে আমি সাম্বার সাথে বিয়ে দিবো।
আদ্রিতা হেসে বলে
“হ্যাঁ বড় হয়ে সাম্বা আহিরাকে ফেলে অন্য দেশে চলে যাবে। আমার মতো আমার মেয়েটাও দুঃখ পাবে।
“পৃথিবীর যে প্রান্তেই যাবে আহিরার বাবা সেকেন্ডই তাকে ধরে নিয়ে আসবে। আমার মেয়ে ছাড়া সাম্বার আর কোনো অপশন থাকবে না।
পিচ্চিটা কি বুঝলো কে জানে। সে খিল খিল করে হেসে ওঠে। তার হাসি দেখে আবরারও হাসে।

” লুক
আহিরার কথা শুনে কতো হ্যাপি সে।
আদ্রিতা মুখ বাঁকায়। এই বাচ্চা তার গোমড়া মুখো চাচ্চুর মতো হবে কি না কে জানে?
হলে তো মুশকিল। একটা হাতি সামলাতে আদ্রিতার জান যাচ্ছে।
আরেকটা হাতি সামলাতে তার মেয়ের জান যাবে।

তোমাতেই আসক্ত পর্ব ৮৯

“পাখি যাও পানি খেয়ে এসো
” কিন্তু আমার তো তেষ্টা পায় নি।
“তাও খেতে হবে। দুই ঘন্টা অন্তর অন্তর পানি খাওয়া খেতেই হবে।
জলদি যাও।

তোমাতেই আসক্ত পর্ব ৯১