এমপি তামিম সরকার পর্ব ১০১
কায়নাত খান কবিতা
–হাজার টাকার শাড়ি কিনে রং এর গ্যারেন্টি মিলে না, সেখানে আপনাকে তো আমি ফ্রি-তেই পেয়েছিলাম, হিংসা করতে যাবো কোন দুক্ষে ভাই?”
–শা’লার জিন্দেগী! ”
সুবহা তামিমকে পাত্তা না দিয়ে নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পরার ভ্যান ধরে। আজকে তার মেজাজ একদম তুঙ্গে। মাফ তো কোনোদিন ও করবে না তামিমকে। বরং পন করে বসে আজকে একটা হেস্তনেস্ত করেই ছাড়বে।এতো সহজে ছেড়ে দিলে তামিম আবার ও এমন কাজ করবে, তাই সহজে গলে যাওয়া যাবে না।
–সকাল..।এই সকাল।
সুবহা কোনো উত্তর দেয় না তামিমের ডাকে। বরং কাজে নিজের মনোনিবেশ করে। তামিম ও সুবহার থেকে কোনো উত্তর না পেয়ে বেশ চটে যায়। আচমকা কোলে তুলে নেয় সুবহাকে।
হঠাৎ শূন্যে ভাসার ফলে ঘাবড়ে যায় সুবহা। শক্ত করে ধরে তামিমের গলা।
–কী করছেন তামিম।
—চল তোগে প্রেগন্যান্ট করি।
–হ্যাঁ?
–নিজের প্রোডাক্ট সাপ্লাই না দিলে তুমি বউ সোজা হবা না বুঝছি।
–এই দিনের বেলা?
–বউ থাকলে সঙ্গে, মুড থাকে রঙ্গে।
তামিম সুবহাকে কোলে তুলে সোজা বাইরে যেতে থাকে। সুবহা অনেক বার বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ও তামিম শুনে না। বরণ সে নিজের মতো হাঁটতে থাকে।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
–বাইরে সবাই রয়েছে তামিম। প্লিজ নামান।
— তুই কি কিচেনে ১৯/২০ করার জন্য ইশারা করছিস?
–ছিঃ কুচভি।
তামিম সুবহাকে নিয়ে সোজা তাদের রুমে যেতে থাকে। হল রুমে তানভীর সরকার, আয়েশা সরকার এবং পঞ্চ পান্ডব সুবহাকে তামিমের কোলে দেখে একটু অবাক হয়ে যায়। কারণ তামিম কখনো তার বাবা-মায়ের সামনে এমন কিছু করে না যেটা লজ্জা জনক হয়।
–কি ব্যাপার বাপ? কি হয়ছে?
–কিছু হয় নাই আম্মা, ওর পায়ে লেগেছে হালকা।
–কই দেখি।
–নাহ আম্মা। আমি রুমে গিয়ে স্পেশাল বাম লাগাচ্ছি।
–আচ্ছা বেশি করে লাগিয়ে দিস। ব্যাথা কমবে।
তামিম সুবহাকে নিয়ে যেতে থাকে। আর সুবহা চুপচাপ মাথা নিচু করে রাখে।কারণ সে জানে, এই বামে ব্যাথা কমে না, বাড়ে।
রুমে গিয়ে সোজা দরজা বন্ধ করে দিয়ে সুবহাকে বিছানায় বসায় তামিম। তারপর সে ও তার পাশে বসে পরে। তামিম পাশে বসতেই সুবহা তার থেকে দূরে সরে বসে। তামিম আবার ও সুবহার কাছে গিয়ে শরীর ঘেঁষে বসে। এভাবে সুবহা সরতে থাকে আর তামিম তার কাছে গিয়ে বসতে থাকে। এক পর্যায়ে তামিম সুবহার কোমর ধরে তাকে নিজের কোলে বসায়।
—- সকাল। দুনিয়াতে মেয়ে মানুষের অভাব নেই। কিন্তু তোকে দেখার পর থেকে আম্মা ছাড়া সকল মেয়েকে ছেলে মানুষ লাগে আমার চোখে। মনে হয় পৃথিবীতে আল্লাহ শুধু একটাই মেয়ে পাঠায়ছে, তাও খুব যত্ন করে বানিয়ে আর সেটা তুই। আমার বউ। সকাল।তামিমের সকাল।”
তামিমের এতো মায়া ভর্তি কথা গুলোতে এক নিমিষেই সুবহার রাগ গলে পানি হয়ে যায়। সে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে তামিমকে।
–আলাবু শয়তান সরকার। ইউ আর দ্যা বেস্ট হাসবেন্ড এভার।”
— তাই?
–হুম
–তাহলে একটা পাপ্পি দাও!
— পাপ্পি? মানে কুত্তার ছোটো বাচ্চা?
–আবার সিনেমা দেখছ।
–শয়তান!
সুবহা তামিমের দু-গালে পরপর দু-বার চু’মু খায়। তামিম ও সুবহার সাথে মেতে উঠে। এমনিতেই তামিমের মাথায় সারাদিন ১৯/২০ চলে। তার উপরে সুবহা গ্রিন সিগ্যনাল দিলে তো কোনো কথায় নেই।
–তামিম!”
–জ্বি পরী?”
–আমার বাচ্চা লাগবে! ”
সুবহার মুখে বেবির কথা শুনে তামিম মুডে চলে আসে।
–চলো বিছানায় চলো।
–আমি বেড়ালের বাচ্চার কথা বলেছি, শয়তানের বাচ্চার না।”
তামিম সুবহাকে বিছানার সাথে চেপে ধরে। ইদানীং সে ফেসবুক চালিয়ে চালিয়ে অনেক উল্টো পাল্টা মিমস দেখছে আর তামিমকে পচাচ্ছে। তামিম ও কিছু বলতে পারছে না। কারণ কিছু বললেই সুবহা পটকা মাছের মতো মুখ ফুলিয়ে রাখে। তাই অন্য পন্থা অবলম্বন করতে হবে।
–দিলে আমার বাচ্চাই দিবো। বেড়ালের না।
–ছেড়ে দে শয়তান ছেড়ে দে।
–এখন তোকে কে বাঁচাবে সুন্দরী।
তামিম সুবহা দু-জনেই খুব উচ্চ স্বরে হাসতে থাকে। সুবহা তো ছিলো সিরিয়াল প্রেমি। তার উপরে তামিম ও তার সাথে তালে তাল মিলিয়ে দিব্বি ডায়লগ বলে যায়। যার ফলে সুবহা ও মুডে চলে আসে অভিনয়ের। এই বাচ্চামি স্বভাবটা তামিমের সুবহা ছাড়া আর কেউ দেখিনি। পুরো পৃথিবীর জন্য তামিম ভয়ংকর হলে ও সুবহার কাছে পোষ মানা ভেজা বেড়াল।
–মুরগী খায় ধান সাদিয়া সাকিবের জান’ এটা কেমন করে?
–পা’দের মতো।
–কালাআআআ!”
–বো’মার বাচ্চা তুই যদি বাংলায় চিঠি দেস ওই ঘাস ও ঢালবো না। ওই হাচ্চি ও দেয় ইংলিশে।”
সাকিব খুব মনোযোগ সহকারে মানিকের কথা শুনে। আসলেই তো। সাদিয়ার মা তো ইংলিশ টিচার, সেক্ষেত্রে সাদিয়া ও ইংলিশে পটু। এখন যদি সে বাংলায় প্রেম প্রস্তাব দেয়, তাহলে তো তাকে চিঠি না পড়েই রিজেক্ট করবে। সাকিব ভেবে চিন্তে আবার ও লেখা শুরু করে।
— 1-2-3 সাদিয়া সাকিবের ফিউচার ইস্ত্রিরি।”
–ওটা ঠিক ভাই। ভাবি নগদে পটবো।
মানিক এবং সাকিব মিলে ইংলিশে সাদিয়াকে প্রেম পত্র লেখে। কাল কোচিং এ গেলে দিবে। খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পেরেছে সে তাদের ক্লাসেই্। তাই তাদের প্রেম যে সফল হবে এটা ১০০ ভাগ সত্যি। এখন শুধু প্রেম প্রস্তাব দেওয়ার পালা।
এভাবেই সারা রাত ছটফট করতে থাকে সাকিব। সকাল কখন হবে সেটা ভাবতে ভাবতে সে ঘুমিয়ে পরে অতল ঘুমের দেশে।
সকাল -৮:২৭ মিনিট। ছয় শয়তান রেডি হয়ে নিচে নামে। কারণ কোচিং রয়েছে। সবাই ঘুম ঘুম চোখে রেডি হলে ও সাকিব বেশ ফুরফুরে মেজাজে রেডি হয়। কারণ আজকে তার আর সাদিয়ার প্রেমের শুরু।
নিচে নেমে নাস্তা করে,ছয় শয়তান বেরিয়ে পরে। তামিমের গাড়িতে সুবহা এবং তামিম বসে। আর বাকিরা অন্য গাড়িতে। এভাবেই তারা রওনা দেয়। কিন্তু সুবহা একদম তামিমের শরীরে নিজের ভর ছেড়ে দেয়। কারণ বেশ কিছু দিন ধরে তার শরীর খুব একটা ভালো নেই।
–কি হলো সকাল?
–বমি।
সুবহা তামিমের শরীরে বমি করে ফেলে। তার শরীর এতোটাই খারা;প হয়ে পরে যে, তামিম সুবহাকে নিয়ে সোজা হসপিটালে চলে যায় চেক-আপের জন্য।
”স্কয়ার হসপিটাল”
–ও তামিম, কাল কেন সকাল বেলা আসতে হবে। আজকে করলে হয় না?
–নাহ সোনা। আল্ট্রা খালি পেটে করাই উচিত।
সুবহার মেজাজ প্রচন্ড বিগড়ে যায়। আবার সকালে আসতে হবে। এমনিতেই সকালে উঠতে পারে না, তার উপরে আবার হসপিটালে আসতে হবে।
–আপনি মাস্ক পরুন। আমি ব্লাড দিয়ে আসছি।
সুবহা তামিমকে মাস্ক পরিয়ে নিজে চলে যায় ব্লাড দিতে। একটা ব্লাড টেস্টের ও দরকার রয়েছে। তাহলে তামিম নিশ্চিত থাকতে পারবে। কিন্তু সমস্যা হলো সুবহা তাকে সাধারণ মানুষদের স্বামীর মতো থাকতে বলে। কারণ এতো বডি গার্ড, হসপিটাল বুক করা এগুলো তার ভালো লাগে না। তাই তামিম সাধারণ মানুষদের মতোই তার সাথে থাকে।
প্রায় ১০ মিনিট পর সুবহা ব্লাড দিয়ে আসে। সুবহা আসতেই তামিম তাকে ধরে ফেলে।
— বেশি ব্যাথা লেগেছে সকাল?
–হ্যাঁ, অনেক গুলো রক্ত নিলো শয়তান বেডি গুলো।
তামিম সুবহার হাত ধরে আলতো করে নাড়াতে থাকে। সুবহা পানি খাবে বলে জানায়। তামিম পানি নেওয়ার জন্য ফিল্টারের কাছে চলে যায়। ঠিক তখনই একজন ভদ্র মহিলা তার সামনে এসে দাড়ায়।
— একটা কথা ছিল বাবা! ওটা কি তোমার বোন?
তামিম সুবহার দিকে ফিরে তাকায়। তারপর ভ্রু কুঁচকে মহিলার দিকে। যখনই নিজের মাস্ক খুলতে যাবে ভদ্র মহিলা আবার ও বলে উঠেন।
— আমার কাছে ভালো ছেলে। তোমার বোনকে কি বিয়ে দিবে?”
ভদ্র মহিলার কথা শুনে সুবহার চোখ কপালে উঠে যায়। এবার গেলো মহিলা। তামিমের সব থেকে সেনসিটিভ জায়গায় হাত দিয়েছে। আল্লাহই জানেন তামিম মহিলাকে কয় টু করো করে। সুবহা ভয়ে শেষ যায় না।তামিম পানির গ্লাস হাতে নিয়ে বলে।
এমপি তামিম সরকার পর্ব ১০০
—- জ্বি আন্টি, একটা ভালো MBBS ডাক্তার দেখে বিয়ে দিবো ওর।
তামিমের কথা শুনে সুবহার চুয়াল ঝুলে যায়। তামিম হসপিটালে বউকে ডাক্তার দেখাতে এসে নিজের বউয়ের বিয়ের ঘটকালি করছে? তাও MBBS পাত্রের সাথে।

Please next part
Plzzzz তারাতারি দিয়েনা অনেক অপেক্ষা করছি এটার জন্য আর করতে চাই না