Home এমপি তামিম সরকার এমপি তামিম সরকার পর্ব ১০২

এমপি তামিম সরকার পর্ব ১০২

এমপি তামিম সরকার পর্ব ১০২
কায়নাত খান কবিতা

—আপনি আরেকটা বিয়ে করুন তামিম। না-হলে কোনোদিন ও বাবা ডাক শুনতে পারবেন না।”
অশ্রু সিক্ত নয়নে তামিমকে উদ্দেশ্যে করে সুবহা এমন কথা বলে, যেগুলো এক সময় ভাবলে তার রুহ অব্দি কেঁপে উঠতো। কিন্তু আজ, নিজের পরিস্থিতির উপরে সে এতোটাই অসহায় যে, তামিমকে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য রিতীমত হুকুম করছে।

হসপিটাল থেকে আসার পর, তামিম সুবহা আবার ও যায় হসপিটালে যায় পরের দিন। খালি পেটে টেস্ট রিপোর্ট ভালো হয় বিধায় তারা পরের দিন সকালে সুবহার টেস্টের জন্য যায়, তারপর ঠিক সন্ধ্যার সময় রিপোর্টে আসে সুবহার ওভারিতে একটা সিস্ট রয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে সিস্ট মেয়েদের একটি জটিল সমস্যা। যার যোগসূত্র সরাসরি মেয়েদের মা হওয়ার উপরে নির্ভর করে। তবে অধিকাংশ সময় যে এটা একজন মেয়ের মা হওয়ার ইচ্ছে কেড়ে নেয় এটা সম্পূর্ণ ভুল। সিস্টের ধরণ, আকার, আরো বিভিন্ন কিছুর উপরে নির্ভর করে মেয়েদের মা হওয়ার বিষয়টি।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

যবে থেকে সুবহা জানতে পেরেছে সে এমন রোগে ভুগছে, তবে থেকে তার মনের ব্যাকুলা আর কমে না। তার থেকে বেশি বিভিন্ন সোশাল মিডিয়াতে বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন মতামত। যার প্রভাব সুবহার উপরে বেশ ভালোই পরে। সে জন্য সুবহা বাচ্চা নেওয়ার কথা ভাবে।
তামিম এবং সুবহা গত ৩ মাস যাবৎ চেষ্টা করে বাচ্চা নেওয়ার। কিন্তু প্রতিবারই নেগেটিভ রিপোর্ট আসে।
তার উপরে আশেপাশের মানুষের বিভিন্ন কথা, সোশাল মিডিয়ার বিভিন্ন ক্লু-লেস পোস্ট, বান্ধবীদের মতামত সব মিলিয়ে সুবহার মানুষিক শান্তি চলে যায়। যার ফলে সে সাহস করে তামিমকে দ্বিতীয় বিয়ের কথা বলে।
সুবহার মুখে নিজের দ্বিতীয় বিয়ের কথা শুনে চোয়াল শক্ত হয়ে আসে তামিমের। কিন্তু সুবহার মানুষিক অবস্থার কথা চিন্তা করে চুপ থাকে তামিম।

— আমি এমন কোনো সন্তানের বাপ হইতে চাই না, যার মা তুমি নও।”
– এটা সিনেমা নয় তামিম। বাস্তব জীবন।
–সিনেমা না হলে সিনেমার মতো সিন কেন ক্রিয়েট করছো?
— সমাজের মুখ কতদিন ধরে রাখতে পারবেন বলুন? সবাই বলবে তামিম সরকার বাপ হতে পারেনি। বউ অক্ষম, বউ বাজ…
সম্পূর্ণ কথা শেষ করার আগেই সুবহার গাল বরাবর কষিয়ে একটা চ’ড় বসিয়ে দেয় তামিম। কিছু দিন ধরে সে সুবহার সব কথা শুনেছে। যখন যা বলেছে মন থেকে মেনেছে, কিন্তু তার দ্বিতীয় বিয়ের কথায় নিজের রাগ আর সংযম করতে পারে না তামিম।

— যেই সমাজ আমার বউয়ের দিকে আঙ্গুল তুলবে তার মুখ আমি ধরবো না, ডাইরেক্ট কে টে ফেলবো। তোর কপাল ভালো শুধু গালে চ’ড় পরছে। বেশি তেড়িবেড়ি করবি কে’টে বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দিয়ে আসবো।
হঠাৎ তামিমের হাতে এমন চ’ড় খাওয়ার জন্য মোটে ও প্রস্তুত ছিলো না সুবহা। সে বুঝতে ও পারেনি তামিম তাকে এতো জোড়ে চ’ড় মারবে। গালে হাত দিয়ে চুপচাপ চলে যেতে থাকে তামিমের সামনে থেকে।
–আর এক পা সামনে দিবি তো পা কে’টে হাতে ধরিয়ে দিবো।
রুম থেকে বেরোনোর সময় তামিমের ঝাড়ি খেয়ে চুপচাপ এক কোনে দাড়িয়ে থাকে সুবহা। চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়তে থাকে।

—কান্নার আওয়াজ খালি বের করে দেখ, মে’রে তক্তা বানাবো।
তামিম আবার ও সুবহাকে ঝাড়ি দিয়ে বসে। ভয়ে সুবহা মুখ চেপে কান্না করতে থাকে। বাইরে যাওয়া প নিষেধ কি করবে সে। বাইরে গেলে তাও মন খুলে কান্নাটা অন্ততঃ করতে তো পারতো। কিন্তু তামিম তো তামিমই। সে কি আর নিজের চোখের আড়াল হতে দিবে তার সকালকে। তাই চুপচাপ দাড় করিয়ে রাখে।
এভাবে প্রায় -৭-৮ মিনিটের মতো সুবহাকে দাঁড় করিয়ে রাখে তামিম। ইদানীং সুবহাকে বাংলা সিরিয়ালের ভূত ধরেছে। এই ভূত তার ঘাড় থেকে নামাতে হবে। না-হলে দিন যত যাবে, সুবহা তত সিরিয়াল ভক্ত হয়ে যাবে।

‘’ এভাবে সং এর মতো দাঁড়িয়ে আছো কেন?’’
‘’ আপনিই তো বলেছেন, এক পা বাড়ালে, ঠ্যাং ভেঙে হাতে ধরিয়ে দিবেন! ‘’
‘’ শা’লার জিন্দেগী। তুই সিরিয়াল একটু কময়াইয়া দেখ বোইন। নায়িকাদের মতো ন্যাকামি বাদ দে। দর্শক এসব কু-খাদ্য গিলে না আর।’’
‘’ আপনার মতো লজিক লেস হিরোর গল্প গিলতে পেরেছে, আর আমার ন্যাকামি গিলতে পারবে না? মানবা কোথায়?’’
তামিম কিছু না বলে চুপচাপ তাকিয়ে থাকে সুবহার দিকে। একটু আগে ও সে চ’ড় খেলো। কিন্তু তার আক্কেল এখন ও ঠিক হলো না।

‘’ পাশে এসে বসার জন্য কি স্পেশাল ইনভিটেশন দিতে হবে?’’
গালে হাত দিয়েই সুবহা চুপচাপ এসে তামিমের পাশে এসে বসে। তামিম একটু সরে বসে সুবহার কোলে নিজের পা রাখে।
‘’ পা টা একটু টিপে দাও তো ব্যাথা করছে’’
সুবহা গালে হাত দিয়েই তামিমের দিকে কপাল কুঁচকে তাকায়।
‘’ আপনার কখনো গলা ব্যাথা করে না?’’
‘’ ফেস’বুক একটু কম চালা বোইন। আমাদের সংসারের জন্য ভালো।’’
সুবহা আর কথা না বাড়িয়ে তামিমের পা টিপতে থাকে। শয়তানের সাথে কথা বলে লাভ আছে কোনো? রাগে প্রচন্ড ফুলতে থাকে সুবহা। কোথায় একটু বাবু-সোনা করে আদর করে কাছে টানবে তা নয়, বরং পা টিপাচ্ছে, তার উপরে ফেস’বুকের মিমস বলায় মুখের সামনে অপমান ও করলো।
সুবহা পা টিপে আর মনে মনে ভাবে, ‘’ রাতে খালি কাছে আসিস, শয়তানের বাচ্চা, তোর ১৯/২০ বের করবো আজকে।’’

‘’ মনে মনে গা লি না দিয়ে, সরাসরি দাও, তোমার মুখের গালি ও গানের মতো লাগে।’’
‘’ আপনাকে বিয়ে না করে ইবলিশ শয়তানকে বিয়ে করলে ভালো হতো!’’
‘’ পারবে না’’
‘’ কেন?’’
‘’ভাই বোনের বিয়া জায়েজ না’’
কথায় কথায় তামিম যে সুবহাকে ইবলিশ শয়তানের বোন বলেছে, এটা সুবহা বেশ ভালোই বুঝতে পেরেছে। তাই হুট করে তামিমের পা নিচপ ফেলে দিয়ে দাড়িয়ে পরে।

‘’ থাকবো না আমি আপনার সাথে, গেলাম বাপের বাড়ি।’’
‘’ ওই বাড়ি ও আমার কেনা’’
‘’ ঠিক আছে রাস্তায় থাকবো।’’
‘’ রাস্তা আমার বাপের!’’
রাগে গিজগিজ করতে থাকে সুবহা।নাহ, তামিমের সাথে সে জীবনে ও কথায় পারবে না। আর কথা বলে ও লাভ নেই। তামিম যে হা রামিতে পিএইচডি করা এটা সুবহা ভালো মতোই বুঝতে পারছে। কোনো কথা না বলে কম্ফোর্টার মুড়ি দিয়ে চুপচাপ শুয়ে পরে সুবহা। একদম পুরো শরীর থেকে মাথা অব্দি ঢেকে ফেলে। আজকে আর কোনো কথায় বলবে না সে তামিমের সাথে।
প্রায় মিনিট পাঁচেক পর সুবহা লক্ষ করে তার কম্ফোর্টার কেউ টানে ভিতরে ঢুকছে। এটা যে তামিম সুবহার বুঝতে বিন্দু মাত্র সময় লাগে না।
তামিম কম্ফোর্টারের ভিতরে ঢুকে সুবহার কোমর জাপ্টে ধরে তাকে কাছে টেনে নেয়।

‘’ এই সকাল, আয় ১৯/২০ করি।’’
‘’ বের হন কম্ফোর্টার থেকে।’’
‘’ বাইরে অনেক শীত পরী। তোমার মনে একটু জায়গা দিবা।’’
‘’ নাহ।’’
‘’ একটু দাও।’’
‘’ নাহ!’’
‘’ বেশি না একটু দাও’’
‘’ একটু ও না।’’
‘’ আচ্ছা আমি নিজেই তোমার মনে ঢুকলাম’’
‘’ তামিম সরুন। ভালো লাগছে।’’
তামিম সুবহার কথাকে পাত্তা না দিয়ে তাকে জাপ্টে ধরে নিজের দিকে ফিরিয়ে নেয়।সুবহার মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে সে প্রচন্ড আপসেট। তামিম সুবহার মুখ থেকে চুল গুলো সরিয়ে আস্তে আস্তে কপালে কি’স করে।তারপর দু-হাতে মুখ ধরে নিজের মুখের কাছে নেয়।
‘’ বাচ্চা দেওয়া, না দেওয়া সবই আল্লাহর দান। আল্লাহ যদি চাই আমরা মা-বাবা হবো, না চাইলে হবো না। এখন তুই কি জোড় করতে পারবি কোনো কিছুতে?’’

‘’ কিন্তু বাচ্চা না হলে তো আপনি কিছু দিন পর আর আমাকে ভালো বাসবেন না। মন উঠে যাবে আপনার আমার থেকে।’’
‘’বিশ্বাস কর সকাল, খুব জোড়ে আরেকটা চ’ড় মার’তে ইচ্ছা করতাছে। ‘’
‘’ আপনি আমাকে কোনোদিন ও ছেড়ে দিবেন না তো তামিম?’’
‘’ নিশ্বাসের সাথে মিশে গেলে তাকে কীভাবে ছেড়ে দেয় বল?’’
‘’ আই লাভ ইউ তামিম!’’
‘’ আয় ১৯/২০ করি।’’
‘’ সরুন ভাই। সারাক্ষণ মাথায় ১৯/২০’’
‘’ তোকে দেখলে আমার চরিত্র ঠিক থাকে না’’

—সময় চলতে থাকে সময়ের গীততে। এর মাঝে সাকিব এবং সাদিয়ার প্রেম জমে একদম ক্ষীর হয়ে যায়। তাদের প্রেমের গতি চলে একদম ট্রেনের মতো।
কিন্তু মাঝপথে সাদিয়ার বাবা তাদের প্রেমে একটা বিশাল বড় আক্কালা বাঁশ ঢুকিয়ে দেয়। যার ফলে সাদিয়া সাকিবের থেকে দূরত্ব বজায় রাখে। কিন্তু সাকিব তো সাকিবই। সে তো বিসমিল্লাহ বলে প্রেমে পড়ে গেছে। এখন তো তার সাদিয়াকেই লাগবে। সাদিয়ারা আরশিনগরে সিফট হয়েছে প্রায় ৬ মাস। এর মাঝে তারা কোথায় ছিল বা কি করতো কোনো কিছুই জানা নেই সাকিবের। কিন্তু একটা অজানা মেয়ের প্রতি এতো টান সাকিব আগে অনুভব করেনি। তাই সাকিব চাইলে ও সাদিয়াকে ছাড়তে পারে না।

“‘বর্তমান’’
—সাদিয়া..এই সাদিয়া..সাদিয়ার বাচ্চা! তুমি বাইরে আসবা না-কি তোমার বাসায় বো’ম ফেলুম?
সাদিয়াদের বাসার নিচে দাড়িয়ে খুব জোড়ে জোড়ে চিৎকার করতে থাকে বো’মা সাকিব!!
–সাকিব প্লিজ চলে যাও! এতো রাতে চিৎকার করো না! বাবা বাসায়!
— তুই নিচে নামবি? না-কি বো’ম মারুম?
সাদিয়া খুব আতঙ্কে পড়ে যায়! এতো রাতে যে সাকিব তার বেলকনির সামনে এসে চিৎকার শুরু করবে সে কল্পনা ও করতে পারেনি! সাকিব হাজার বার কল দেওয়ার পর ও সাদিয়া তার কল ধরে না! ভেবেছিলো সাকিব ঠান্ডা হতেই সে তাকে বোঝাবে! কিন্তু সে যে রাতের বেলা এভাবে তার বাড়ির সামনে এসে হই হুল্লোড় করবে এটা দূরস্বপ্নে ও ভাবেনি সে!

সাদিয়া হাত দিয়ে সাকিবকে ইশারা করে! আর বোঝায় সে আসছে! খুব ভয়ে ভয়ে পা টিপে টিপে বাসার বাইরে বের হয় সাদিয়া! তার বেলকনির ঠিক নিচে বাইক নিয়ে দাড়িয়ে থাকে পঞ্চ পান্ডব!
সাদিয়া নিচে আসতেই সাকিব তার হাত ধরে টান দিয়ে চিপা গলিতে নিয়ে আসে!
— দেখছোস নি কারবার, মাইয়া নিয়া চিপায় চইলা গেলো বো’মার বাচ্চা!
সাকিবকে সাদিয়ার সাথে চিপায় যেতে দেখে মাহির প্রচন্ড ক্ষোভ প্রকাশ করে! সে আজ অব্দি একটা মেয়ের ও হাত ধরতে পারলো না, আর সাকিব মেয়ে নিয়ে চিপায় চলে গেলো! পাশ থেকে মানিক বলে উঠে,

— ক্যান তোর কি জ্বলে?
— প্রেম হলো ঠিক পা’দের মতো, নিজের টা ছাড়া অন্যেরটা সহ্য হয় না!
মাহিরের কথা শুনে নিজেদের মুখ ধরে, কালা মানিক, টাকলা রফিক, পেট মোটা মফিস হাসতে থাকে! খুব জোড়ে হাসা যাবে না! কারণ বো’মা সাকিব এখন মেয়ে নিয়ে চিপায় ব্যস্ত!
সাকিব সাদিয়াকে সোজা দেয়ালের সাথে চেপে ধরে!
–তুমি আমার ফোন ধরো না ক্যান? কী সমস্যা?
–তোমার সাথে আমি আর কথা বলতে চাই না সাকিব!
— why sadia why? Why this অত্যাচার?
সাদিয়া তার চোয়াল শক্ত করে ফেলে! আর সাকিবকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেয়! সাদিয়া একটু গোলুমোলু হওয়াতে তার ধাক্কার বেগ সাকিব সামলাতে পারেনি! সোজা নিচে গোবরে পড়ে যায়!

–আমি তোমার সাথে আর রিলেশনশিপে থাকতে চাইনা সাকিব!
সাকিব উঠে খুব শক্ত করে সাদিয়ার বাহু ধরে ফেলে!
‘ ক্যান সাদিয়া?
–কারণ আমি তোমাকে ভালোবাসি না!
সাদিয়া নিজের কাধ থেকে সাকিবের হাত এক ঝাটকা মে’রে ফেলে দেয়! তারপর সামনের দিকে পা বাড়ায়!
–ভালোই যদি না বাসো! তাহলে আমার মনে এতো জায়গা নিছিলা ক্যান সাদিয়া?
সাদিয়া পিছনে ফিরে সাকিবের দিকে তাকিয়ে বলে!
— আমি যে মোটা তাই!
সাদিয়া গটগট করে হেটে যেতে থাকে! আজ অবশেষে সাকিবের সাথে তার সব কিছু শেষ হলো! সাকিব ওভাবেই দাড়িয়ে থাকে! আজ তার ক্রাশের থেকে সে বিশাল বড় একটা বাঁ’শ খেলো! চার পান্ডব ও দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখতে থাকে সবটা!

— আহারে আমার বো’মার বাচ্চা! শেষমেষ ছ্যাকা খাইয়া ব্যাকা হইয়া গেলো!
মানিকের কথা শুনে সকলে অট্ট হাসিতে ফেটে পড়ে! কেউ কল্পনা ও করতে পারেনি যে সাকিব ও প্রেমে পড়বে! তা ও এতোটা গভীরভাবে!
– শা’লার ভাই, এই বো’মার বাচ্চা ইট নিয়া কই যায়!
—আছলেই তো রে মানিক্কাহ!
চার জন সাকিবের দিকে তাকিয়ে থাকে, সে হঠাৎ ইট হাতে কেনো নিল? তার মতো যখন তখন হাতে বো’ম চলে আসে, আজকে তার বদলে ইট!
-সাদিয়ার বাচ্চাআআআ!
–ওরে বাপ রে…!
সাকিব ইট নিয়ে সাদিয়ার পিছনে দৌড় লাগায়, সাদিয়া ভয়ে নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে দৌড়ানো শুরু করে!

–মট’কির বাচ্চা, খা’ড়া তুই আজকে!
বাড়ির চার পাশে ইট দিয়ে সাদিয়াকে ধাওয়া করে সাকিব! আর সাদিয়া ও নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে দৌড়াতে থাকে!
–শা’লার ভাইরা, ধর বোমা’রে, ছেমড়ির মাথা ফাটাই’বো ওই!
মাহিরের কথা মতো সকলে ছুটে যায়, সাকিবকে আটকাতে! অকালে তামিমের হাতে মা’র খাওয়ার ইচ্ছে নেই তাদের! চার জন সাকিবকে জাপ্টে ধরে! শুধু ধরে বললে ভুল হবে সে যেনো নড়তে পারে রীতিমতো এতোটাই জোড়ে ধরে!

–ছাইড়া দে আমারে, মট’কির মাথা ফাডা’মু আমি!
–মাহির ভাই বাচান!
–কেডা বাইচো তোরে ম’টকি, আজকে তুই শেষ!
–সাকিব তুমি প্লিজ এমন করো না!
–মাইনষের হার্টের মূল কোটি টাকা, আর তোরে আমি মাগনা দিছিলাম মট’কি, আজকে তুই শেষ!
সাকিব নিজের সর্বোচ্চ শক্তি লাগিয়ে দেয় নিজেকে ছাড়ানোর! আজকে আর কেউ সাদিয়াকে বাঁচাতে পারবে না! মাথা তার ফাটা’বেই সাকিব!
–আমাগো না হওয়া ভাবি, আপনে বাইত যান গা, এই বোমা’রে আমরা সাইজ করতাছি!
মাহির বলতে দেরি, সাদিয়ার দৌড়ে বাড়ির ভিতরে ঢুকতে দেরি নেই!
–মটকি খা”ড়া তুই আজকে!
সাকিবের কথাকে পাত্তা না দিয়ে সাদিয়া নিজের প্রাণ বাচিয়ে পালাই!

–সাকিব্বাহ, শান্ত হয় ভাই, তুই বেড়া মানুষ, প্রেরেমে ছ্যাকা খাইলে হইবো?
মাহিরের কথা মোটামুটি গায়ে লাগে সাকিবের! আসলেই তো সে তো ছেলে মানুষ! এতো পাগলো তার দ্বারা মানাই না! সাকিব শান্ত হয়ে যায়! বাকিরা ও তাকে ছেড়ে দেয়!
–ঠিক কইছোস ভাই! ভালোবাসার মাকে লাল সালাম!”
–এই তো বাপের বেডা!
–আজকের পর থেকে ওরে পুরোপুরি ভুইলা যামু, ওর কিছু মনে রাখবু না!
চার জন একসাথে হাত তালি দিয়ে উঠে! এই তো বো’মা সাকিব তার আসল রূপে ফিরে এসেছে!
–সাবাস বেডা, আই চা খাই!
চা খাওয়ার কথা শুনে সাকিবের চোখ ছলছল করে উঠে, বাকিরা ও কিছু বুঝতে পারে না, হঠাৎ হলোটা কী? চা খাওয়ার সাথে চোখে পানি আসার সম্পর্ক কী?
–কী হয়েছে সাকিব? কান্দোস ক্যালা? চল চা খাই!
–সাদিয়া চা খাইতো রে..!

সাকিব আফসোসের সাথে বলে উঠে, আর বাকিরা মাথায় হাত দিয়ে উঠে, এই বললো সাদিয়াকে মনে রাখবে না, আর এখনই সাদিয়া চা খেতে বলে সে ইমোশনাল হয়ে গেলো? চার জনই সাকি’বের পিঠে কিল-ঘুষি মা’রতে থাকে!
–হালা, গরিবের কাবির সিং! যা সর!
চার জন সাকিবকে ধরে বাইকে বসায়! কেউ কখনো ভাবতে পারেনি, সাকিব ও কারো প্রেমে পড়বে! তাও এতো জোড়ালো ভাবে।
সাকিবকে ধরে সকলে নিয়ে আসে তামিমের পার্টি অফিসে। তামিম তখন ও অফিসে বসে ল্যাপটপে চোখ লাগিয়ে রেখেছিল।

মানিক, মফিস, মাহির, রফিক, সাকিবকে নিয়ে সোজা বাইরের বড় লনে বসে। সাকিবকে দেখে মনে হচ্ছিল সে কাঁদবে। কিন্তু নাহ, ছেলে মানুষ তো কাঁদে না। তার উপরে সে বো’মা সাকিব। তার একটা নাম রয়েছে এলাকায়। কাঁদলে তো বেইজ্জতি হয়ে যাবে।
দাঁতে দাঁত চেপে সাকিব পাথর মুক্তির মতো বসে থাকে।
–’’ থাক, কান্দিস না রে সাকিব তোর কপালই খারাপ।’’
–যেই কপালে এক্স চু’ম্মা দিছে, ওই কপাল ভালো হইবো কেমনে। বি’ষের একটা পাওয়ার আছে না’’

এমপি তামিম সরকার পর্ব ১০১

(গল্প পড়লে মনোযোগ দিয়ে পড়া উচিত। সাকিবের কাহিনির পর প্লট এক মাস আগের সিনে চলে যায়। সেখান থেকে বর্তমানে আনতে সিন তো রিপিট করতেই হবে। নাহলে আরো কনফিউশন। তাই কোন সিন আগে গলো, কোনটা পড়ে এগুলো লক্ষ্য রাখবেন।)

এমপি তামিম সরকার পর্ব ১০৩