Home না চাইলেও তুমি শুধু আমারই না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৭ (২)

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৭ (২)

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৭ (২)
মাইশা জান্নাত নূরা

নির্ঝর তেজের দিকে কিছুটা ঝুঁকে জিজ্ঞেস করলো…
—”তেজ ভাই, মেয়েটা ইলমার কানে কানে কি বললো?”
তেজ ধীর স্বরে বললো…
—”দেখলিই বলেছে ইলমার কানে কানে তাহলে আমি জানবো কিভাবে? আহাম্মকের চরম পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিস বলে মনে হচ্ছে না তোর?”
নির্ঝর শরীর হালকা ঝাঁকা দিয়ে নিজের ফর্ম ধরে রাখার চেষ্টা করলো। তেজ আবারও বললো….

—”চিন্তা করিস না, তোর সুনাম যে করে নি এতোটুকু বলতে পারি।”
নির্ঝর হেসে ফিসফিসিয়ে বললো….
—”সুন্দরীদের করা ব*দ*নামও পরিবেশে মিষ্টতা ছড়ায় ব্রো। ও তুমি বুঝবে না।”
নির্ঝরের কথায় তেজ নাক ছিঁ*টকা*লো। ইলমা অনুকে বললো…..
—”ওনারা দু’জনেই সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন। তুমি যেমনটা ভাবছো ওনাদের কারোর উপরেই তেমন কিছুর প্রভাব নেই অনু।”
অনু ছোট্ট করে ‘ওও’ শব্দটি বললো শুধু। ইলমা তেজ ও নির্ঝরের দিকে তাকিয়ে বললো….
—”রুমের ভিতরে চলুন। কতোক্ষণ এভাবে দাঁড়িয়ে থাকবেন আপনারা?”
তেজ বললো….

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

—”না, না। দু’জন অবিবাহিত মেয়ে যে বাসায় আছে সেখানে তাঁদের রুমে গিয়ে বসাটা ঠিক দেখাবে না আমাদের। সমাজ বিষয়টাকে ভালো নজরে দেখবেন না। আর আমি চাই না আপনাদের দিকে কেউ নোং*রা চোখে তাকিয়ে নোং*রা শব্দ ছুঁ*ড়ে মা*রুক।”
ইলমা আর অনু দু’জনেই সন্তুষ্ট হলো তেজের এরূপ কথা শুনে৷ নির্ঝর চোখ বড় বড় করে মুখ হা করে তেজের দিকে তাকিয়ে আছে। যেনো সে বিশ্বাসই করতে পারছে না এ ধরনের কথা স্বয়ং তেজ বলতে পারে। পরক্ষণেই তেজ নির্ঝরের দিকে তাকিয়ে বললো…..
—”ওমন হা করে আছিস কেনো? তোকেও কি নিশার সেই ‘হা করা’ ব্য*রামটা ধরলো নাকি?”
নির্ঝর সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে স্বাভাবিক করে নিলো। তেজ ইলমার দিকে তাকিয়ে বললো…..
—”আজ কফিশপে যান নি যে আপনি?”
তেজের প্রশ্ন শুনে ইলমা একপলক অনুর দিকে তাকিয়ে জোরপূর্বক হেসে বললো….

—”একটু ঘরোয়া কাজ পরে গিয়েছিলো তাই যেতে পারি নি।”
ইলমার অজুহাতের ভাষা অনুর বুঝতে বাকি রইলো না। তেজ বললো….
—”আচ্ছা সমস্যা নেই। তবে চেষ্টা করবেন সময় মেইনটেইন করে কাজে যাওয়ার। আর অফ ডে-এর দিন ঘরোয়া কাজগুলো করার।”
ইলমা ভ্রু উঁচিয়ে বললো….
—”কাজে যাচ্ছি ২দিন হলো না এর ভিতরেই আপনার কাছে অভিযোগ চলে গিয়েছে নাকি?”
—”ঠিক অভিযোগ না। কফিশপের ওনার আমার ফ্রেন্ড হয় জানেন-ই। আজ এসেছিলো সে আমাদের বাসায়। কথায় কথায় আপনার কথা বললো তাই জানতে পারলাম।”

—”হুম, ঠিক আছে। এখন থেকে ঠিকভাবেই কাজে যাবো আমি।”
—”আর কোনো সমস্যা নেই তো আপনার এখানে থাকা নিয়ে? বা কোনো জিনিস কেনার বাকি রয়ে গিয়েছে কি?”
—”উহুহ, সব ঠিকঠাকই আছে।”
—”আচ্ছা, তাহলে আমরা আসি এখন। আবার পরে দেখা হবে ইনশাআল্লাহ। চল, নির্ঝর।”
এই বলে তেজ আর নির্ঝর যেতে নিলে পিছন থেকে ইলমা বললো….
—”আব-শুনুন!”
তেজ থেমে ঘুরে দাঁড়িয়ে বললো….
—”হুম, বলুন।”
ইলমা ইশারা করলো একটু সাইডে সরে আসার জন্য। তেজ ইলমার ইশারা বুঝতে পেরে নির্ঝরকে ফিসফিসিয়ে বললো….

—”নারী নাকি পরীর মাঝে গুলিয়ে ফেললি যাকে তার নাম-পরিচয় ঠিক ভাবে জেনে নিলি না যে!”
নির্ঝর মাথা হালকা নুইয়ে বললো….
—”আমার শরম করে।”
তেজ ভে*ঙিয়ে বললো….
—”এহহ শরমিলা বানু আমার। তোর অবস্থা হইছে এমন, ‘শরমে বউ কাঁঠাল খায় না ঘরের পিছনে গিয়ে ভোঁ*তা চাঁ*টে’।”
নির্ঝর তেজের দিকে তাকিয়ে বললো….
—”এভাবে বলো না ভাই।”
—”আর কিভাবে বলবো তোমায় সোনা!”
নির্ঝর হালকা হেসে বললো….
—”একটু সাহস-টাহস জুগিয়ে দিবে তো আমায়। বড় ভাই হও তুমি আমার। আর জানোই তো মেয়েলি বিষয় গুলোতে আমি কেমন!”
তেজ দাঁতে দাঁত চেপে বললো….

—”শোন ভাই, বাড়ি গিয়ে যদি মশার মতো আমার কানে কাছে আফসোসের গান গাইস তখন তোর পশ্চাৎদেশের ছাল-বাকল এমন ভাবে উঠিয়ে ফেলবো না পারবি শুতে আর না পারবি বসতে।”
তেজকে হালকা রেগে যেতে দেখে নির্ঝর ঢোক গি*লে বললো….
—”আচ্ছা, দেখি চেষ্টা করে কতোটা কি জানতে পারি।”
এই বলে নির্ঝর অনুর দিকে এগিয়ে গেলে ইলমা আর তেজ ওদের দু’জনের থেকে কিছুটা দূরে সরে এসে দাঁড়ালো। তেজ শান্ত কন্ঠে বললো….
—”কিছু বলবেন?”
ইলমা কিছুটা সংকোচ নিয়ে বললো….

—”আজ অনুর বিষয়ে অনেককিছু জানতে পেরেছি আমি। ও নিজেই বলেছে আমায় সব।”
—”ওর নাম অনু!”
—”হুম।”
তেজ ভ্রু কুঁচকে বললো….
—”যা জানতে পেরেছেন তা কি সিরিয়াস কিছু?”
—”হুম সিরিয়াস তো বটেই। তবে সব কথা এখনই বলা সম্ভব না। আগামীকাল আমায় একটু সময় দিয়েন তখন সব বলবো আপনাকে।”
—”আচ্ছা ঠিক আছে।”
এদিকে নির্ঝরকে নিজের সামনে এসে হাসিমুখে দাঁড়াতে দেখে অনু ভ্রু কুঁচকে বললো….
—”কিছু চাই?”
নির্ঝর বললো….
—”ইয়ে মানে না, কিছু চাই না।”
—”তাহলে?”

—”ভাইয়া ইলমার সাথে কথা বলতেছে তো আর আপনিও এখানে একা একা দাঁড়িয়ে আছেন তাই ভাবলাম আপনার সাথে একটু কথা বলে আপনাকে সঙ্গ দেই।”
অনু কিছুটা গম্ভীর কণ্ঠে বললো…
—”না আমি আপনাকে চিনি আর না আপনি আমাকে চিনেন। যারা একে-অপরের অপরিচিত তারা একে-অপরকে সঙ্গ কিভাবে দিবে?”
—”আব তাই তো পরিচিত হতে হবে আগে আমাদের।আমি আমার পরিচয় দিচ্ছি আপনিও আপনার পরিচয় দিন তাহলেই ব্যপারটা সলভড হয়ে যাচ্ছে।”
—”আমার পরিচয় জেনে আপনার কাজ কি?”
নির্ঝর বিরবিরিয়ে বললো…..

—”পরিচয় না পেলে মন দেওয়া-নেওয়া পর্যন্ত যাবো কি ভাবে আর বিয়েটাই বা হবে কিভাবে আমাদের! বিয়ের পর কতো কাজ বাকি। বাসর বাকি। হানিমুন বাকি। বেবি প্লানিং বাকি। তারপর বেবি হবে। তাদের বড় করতে হবে। উফহহহ, ধাপ তো কম না। এক ধাপেই যদি থেমে যাই বাকি সব ধাপ তো আধুরাই থেকে যাবে। তখন আমায় ইমরান হাশমির মতো গাইতে হবে, ‘হামারি আধুরি কাহানি’ গান টা।”
অনু নির্ঝরকে একা একাই বিরবির করতে দেখে ওর দিকে কিছুটা ঝুঁকে বললো…..

—”ইলমা আপু তো বললো আপনার মৃ*গী ব্য*রাম বা ভূ*তে ধরা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই কিন্তু আপনার আচার-আচরণ তো আমার কাছে শুরু থেকেই সুবিধাজনক লাগছে না। আপনি বললে আমি একজন ওঝার সন্ধান করতে পারি। ওঝা মশাই ওনার বিশেষ ঝাড়ু দ্বারা আপনার শরীর ঝেড়ে সব ভূ*ত ও ব্য*রাম এর সমস্যার সমাধান করে দিবে। সাথে হয়তো পানি পড়াও দিতে পারে। যা পান করলে আপনার আচার-আচরণ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।”
অনুর মুখে এমন কথা শুনে নির্ঝর মুখ হা হয়ে গেলো। ওর চোখজোড়ার আকৃতি এতোটাই বড় আকার ধারণ করেছে যে মনে হচ্ছে কোটর থেকেই তা বেড়িয়ে আসবে। অনু ওর মুখের উপর হাত রেখে দু’কদম পিছিয়ে এসে একটু জোড়েই বললো…..

—”এই যে, এই দেখুন! ওঝার কথা আর পানি পড়ার কথা বলা মাত্রই আপনার চোখ কেমন বড় হয়ে গিয়েছে। মুখটাও কেমন হা হয়ে গিয়েছে। নিশ্চয়ই আপনার ভিতরে থাকা ব*জ্জাত ভূ*তটা জেগে উঠেছে। ওনারা তো এসব ওঝা ও পানি পড়া বিষয়গুলোকে অনেক ভ*য় পায়।”
অনুর কথাগুলো এবার ইলমা আর তেজের কান পর্যন্ত এসেও পৌঁছালো। ওরা তৎক্ষনাৎ অনু ও নির্ঝরের দিকে তাকালো। ইলমা একহাতে কপাল চাপড়ে বললো…..
—”এই মেয়েকে নিয়ে আমি আর পারি না।”
তেজ ভ্রু কুঁচকে বললো….
—”অনু এসব কি বললো?”
ইলমা তেজের দিকে তাকিয়ে তাড়া দেওয়ার স্বরে বললো…..
—”আপনি নির্ঝরকে নিয়ে এক্ষুনি চলে যান এখান থেকে। নয়তো এই মেয়ে আপনার ভাইকে যে সত্যিই ভূ*তে ধরেছে নয়তো ওনার মৃ*গী রোগ আছে এটা প্রমাণ করেই ছাড়বে।”
তেজ ইলমার কথা শুনে কি রিয়াকশন দিবে বুঝতে পারছে না। ইলমা আবারও বললো….

—”কি হলো যান!”
তেজ বললো…
—”হুম হুম, আচ্ছা যাচ্ছি আমরা।”
এই বলে তেজ নির্ঝরের কাছে এসে বললো…..
—”নির্ঝর, চল এখন। আমাদের যেতে হবে।”
নির্ঝর এখনও মুখ খোলা রেখে চোখ বড় বড় করে অনুর দিকেই তাকিয়ে আছে যেনো চারপাশের কোনো কিছুর দিকেই ওর কোনো খেয়াল নেই। অনু তেজকে উদ্দেশ্যে করে বললো……
—”উনি আপনার ভাই নেই আর। ওনার ভিতর তেনারা ভর করেছেন। দেখুন না কেমন পাথর মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছেন একরকম ভাবেই।”

তেজ ঠোঁট কাঁ*মড়ে অনেক কষ্টে নিজের হাসি নিয়ন্ত্রণ করে মাথা হালকা দুলিয়ে নির্ঝরের হাত ধরে ওকে টানতে টানতে মূল গেইটের দিকে নিয়ে যেতে শুরু করলো। ইলমা অনুর পাশে এসে দাঁড়ালো। অনু বললো…..
—”আপা, ওনারা তো শহুরে আদব-কায়দায় বড় হওয়া মানুষ তাই এসব ভূ*ত-পে*তের অস্তিত্ব নিয়ে ওনাদের বিশ্বাস না থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমি তো গ্রামের মেয়ে। আমাদের গ্রামে আমি এমন অনেককে ভূ*তে ধরতে দেখেছি আর ওঝার সাহায্যে তাঁদের ভূ*ত ছাড়াও হতে দেখেছি।”
ইলমা এবার শব্দ করে হেসে উঠলো। অনু অবাক চোখে ইলমার দিকে তাকিয়ে আছে।
নির্ঝরকে নিয়ে তেজ ইলমাদের বাসার বাহিরে নিজের দাঁড় করানো বাইকের সামনে এসে দাঁড়ালো। নির্ঝরকে এখনও স্তব্ধ হয়ে থাকতে দেখে তেজ নির্ঝরের পশ্চাৎদেশে স্বজোড়ে একটা চি*ম*টি কাটলো। সঙ্গে সঙ্গে নির্ঝর নিজের পশ্চাৎদেশের উপর হাত রেখে ‘আউ আউ’ বলে লাফিয়ে উঠলো। তেজ দাঁতে দাঁত চেপে বললো….

—”আসলেই তোকে ভূ*তে ধরেছে বলে তো আমারও মনে হচ্ছে।”
নির্ঝর অসহায়ের মতো মুখ করে তেজের দিকে তাকিয়ে বললো…..
—”ভাই, তুমিও আমার বুকের ব্য*থাটা বুঝলে না! লাইফে ফাস্ট টাইম কোনো মেয়েকে দেখে ক্রাশ খেয়েছি। তার সাথে জীবনের সামনের পথগুলো চলার কথা ভেবেছে। প্রথমত সে আমায় ভাইয়া বলে বুকে চিনচিনে ব্য*থা ধরিয়েছে আর শেষে আমায় ভূ*তে ধরা আর মৃ*গীর রোগীর সাথে গুলিয়ে ফেলেছে। যে কারণে আমি হার্ট অ্যা*টাক হতে হতে বেঁচে গিয়েছি। আমার অবস্থাটা একবার ভাবো তুমি!”
নির্ঝরের কথা শুনে তেজ স্বজোড়ে হেসে উঠলো। দু’হাঁটুতে ভর দিয়ে হালকা ঝুঁকে হাসছে তেজ। তেজকে এভাবে হাসতে দেখে নির্ঝর ওর পা থেকে জুতা জোড়া খুলে তা দু’হাতে নিয়ে সামনের দিকে হাঁটতে হাঁটতে উচ্চস্বরে বললো…..

—”আমার অসহায় অবস্থা কেউ বোঝে না। আমার ভাই-ও না। আমি এই পৃথিবীতেই থাকবো না। সব ছেড়ে ছুড়ে খালি পায়ে যেদিকে দু’চোখ যায় সেদিকে চলে যাবো।”
তেজ মাথা তুলে নির্ঝরের দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে পিছন পিছন ওকে ডাকলো কয়েকবার। নির্ঝর তেজের ডাক কানে তুললো না। তেজ ওর বাইকে উঠে বসে বাইক স্টার্ট করলো। নির্ঝরের পাশ দিয়ে যেতে যেতে তেজ বললো…..
—”উঠে পর বাইকে। এভাবে তুই পৃথিবী ছাড়তে পারবি না। পৃথিবী ছাড়তে হলে অনেক ধাপ পেড়োতে হয়। টাকা-পয়সারও বিষয় আছে এখানে।”
নির্ঝর তবুও তেজের কথা কানে তুললো না। এক গোঁয়ে স্বভাবটা ধরেই হাঁটছে সে। তেজ আবারও বললো….

—”শোন নির্ঝর! এই খালি পকেটে, খালি পেয়ে হেঁটে সর্বোচ্চ রমনা পার্ক পর্যন্ত যেতে পারবি। ঐযে যেখানে সব ফকির-সন্ন্যাসীর মেলা। কোনো সুন্দরী এসে আবার তখন তোর হাতে দু’টাকার কয়েন ধরিয়ে দিয়ে বলবে, ‘দেখতে-শুনতে তো ঠিকঠাকই লাগছে, ভিক্ষে না করে গায়ে-গতর খাঁটিয়ে টাকা-পয়সা রোজগার করলেই পারেন।’ তখন অ*পমানটা কিন্তু ডিরেক্ট তোর কলিজা, কিডনি, ফুসফুস সব ফুঁটো করে দিবে।”
তেজের এরূপ কথা শুনে নির্ঝর এবার থেমে গেলো। তখুনি পিছন থেকে একটা স্কুটি এসে তেজের বাইকের থেকে কিছুটা সামনে দাঁড়ালো। স্কুটিতে দু’জন মেয়ে বসা রয়েছে। চালক সিটে বসা মেয়েটি তেজ ও নির্ঝরের দিকে তাকিয়ে বললো…..

—”কি ভাই, বউ মে*রে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে নাকি! তাই এমন জুতো হাতে নিয়ে পাগ*লের মতো হাঁটছেন!”
তেজ আর নির্ঝর মেয়ে দু’টোর দিকে তাকালো। নির্ঝর নিজেকে একবার উপর থেকে নিচ পর্যন্ত দেখে নিলো। শার্টটা একটু কুঁচকে গিয়েছে, ট্রাউজারের নিচের অংশে ধুলো লেগে গিয়েছে অনেকটা জুড়ে। হাতে জুতো জোড়া ধরার কারণে ওকে পাগ*লের থেকে কম কিছু মনে না হওয়াটাই স্বাভাবিক। তেজ মেয়ে দু’টোকে উদ্দেশ্য করে বললো…..
—”আজকাল ছেলেরাও কোথাও নিরাপদ না। রাস্তাঘাটে যেখানে-সেখানে মেয়েদের হাতে ই*ভ*টি*জিং এর শি*কার হতে হচ্ছে তাঁদের।”

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৭

মেয়ে দু’টো হাসতে হাসতে চলে গেলো। নির্ঝরের এবার ইচ্ছা করে এখানেই শুয়ে হাত-পা ছড়িয়ে ভ্যাঁ-ভ্যাঁ করে কাঁদতে। তেজ বললো….
—”গাড়িতে উঠ ব্যটা। ছেলে হলে রাস্তাঘাটে মেয়েদের থেকে ইভ*টি*জিং খেয়ে পেট ভরলো না তোর!”
অগ্যতা নির্ঝর আর কোনো উপায় না পেয়ে জুতো জোড়া পায়ে পরে নিয়ে বাইকের পিছনে বসে পড়লো।

না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৭ (৩)