না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৭
মাইশা জান্নাত নূরা
অনু দু’হাতে নিজের দু’কান চেপে ধরলো। হাঁটু জোড়া এমন ভাবে বুকের সাথে ঠে*সে ধরলো যেনো নিজের বুকের ভিতরেই নিজেকে গুটিয়ে নিতে চাইছে সম্পূর্ণ ভাবে। ইলমার দু’চোখ বেয়ে ঝরঝর করে অশ্রুরা ঝড়ে পড়ছে। মনে প্রশ্ন জাগছে…..
‘কেনো সেদিন অনুর সাথেই ওর মা ট্রেনে উঠে পড়লেন না? সুযোগ তো ছিলো তাঁর কাছে বাঁচার। নিজের জীবনের ৩ ভাগ সময় তো য*ন্ত্র*ণার সাথেই কাটিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তাহলে তার শেষ পরিণতি তো এতোটা ক*রুণ হওয়ার কথা ছিলো না। তিনি তো দিব্যি তাঁর মেয়েকে নিয়েই দূরে, বহু দূরে কোথাও এসে সুখে-শান্তিতে বাকিটা জীবন কাটাতে পারতেন। কেনো আসলেন না তিনি?’
পিহু ওর রুমে পায়চারি করছে। নীরার রুম থেকে এসেছে পর থেকেই ওর পা দু’টো স্থির হচ্ছে না। পায়চারি করতে করতে পিহু ধীর স্বরে বললো…..
—”নীরাকে তো বললাম ওর ছেলে নির্বাণকে বাংলাদেশে আনার ব্যবস্থা করবো। আর আনার পর এই বাড়িতেই রাখবো ওকে। কিন্তু পুরো বিষয়টা সামলাবো কিভাবে! মাথায় তো কিছুই আসছে না এখন। এদিকে নীরার এমন অবস্থাও আমি দেখতে পারছি না। কিছু তো করতেই হবে আমায়। ভাব পিহু ভাব।”
কিয়ৎক্ষণ ওভাবেই পায়চারি করার পর পিহু বিছানায় বসে বললো….
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
—”বাচ্চার চিন্তায় বাচ্চার মা মনমরা হয়ে আছে না জানি বাচ্চার মায়ের অভাবে বাচ্চার কি অবস্থা হচ্ছে!”
সেইসময় আতুশি আর শিউলি একত্রে পিহুর রুমে প্রবেশ করলেন। আতুশি বললেন…..
—”কার বাচ্চার চিন্তায় কোন মা মনমরা হয়ে আছে পিহু মা?”
আতুশির এমন প্রশ্ন শুনে পিহু শুকনো ঢোক গিলে মনে মনে বললো…
—”আল্লাহ বাঁচাইছে চাচীরা আর কিছু শুনেন নি।”
শিউলি আর আতুশি বিছানার পাশে এসে দাঁড়ালেন। পিহু তৎক্ষনাৎ বিছানা থেকে নেমে দাঁড়িয়ে জোরপূর্বক হেসে বললো…..
—”আমার অনেক পুরোনো একজন বান্ধবীর সাথে একটু আগেই কথা হলো তো ছোট চাচী মা। ওর বাচ্চার বয়স প্রায় ৩ বছর। বাচ্চাটাকে নিয়ে তাঁর দাদী ২দিন হলো নিজের মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছেন। তাই বাচ্চার কথা ভেবে ও মনমরা হয়ে আছে আর কি। ওটাই বলছিলাম।”
আতুশি নিজের মুখের উপর একহাত রেখে অবাক স্বরে বললেন….
—”কি বলো! তোমার বান্ধবীর বাচ্চার বয়স ৩ বছর! ইসস, জানো বউমা আমারও বড্ড শখ নাতী-নাতনী নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর। শ্বাশুড়ি-মা হওয়ার শখ তো পূর্ণ হলো এবার বলো আমাদের দাদীমা হওয়ার শখ কবে পূর্ণ করবে তুমি?”
আতুশির এরূপ কথায় পিহুর চোখজোড়া যেনো কোটর থেকেই বেড়িয়ে আসার উপক্রম হলো। পিহু বললো….
—”কি? আমি? আমি পূর্ণ করবো?”
শিউলি বললেন….
—”হ্যা তুমিই তো মা। এ বাড়ির বড় বউ তুমি। বাকি ছেলে-মেয়ে গুলোর তো বিয়ের খোঁজ নেই ওরা বাচ্চা ডাউনলোড করবে কিভাবে? তাই আমাদের শখ পূরণ তো তোমাকেই করতে হবে বলো!”
পিহু জোরপূর্বক হেসে মনে মনে বললো….
—”দুধের দাঁত পড়তে না পড়তেই বিয়ের সানাই বেজে গেলো আবার এখন বাসর না হতেই বাচ্চার আবদার করছেন ওনারা! এই লজ্জা আমি কই লুকাই। আল্লাহ বাঁচান আমায়।”
অনুকে সামলে নিয়েছে অনু। কান্না থেমেছে ওর পুরোপুরি। খাবার খাবে না বলে বায়না করেছিলো ঠিকই কিন্তু ইলমা তা শোনে নি। একপ্রকার জোর করেই খাইয়ে দিয়েছে অনুকে ইলমা। ইলমাকে নতুন ঘরে তুলে দেওয়ার পর ইমার্জেন্সি ঔষধ এর ব্যবস্থা তেজ করে দিয়ে গিয়েছিলো। সেখান থেকেই জ্বর কমানোর জন্য নাপা খাইয়ে দিয়েছিলো ইলমা অনুকে। ফলস্বরূপ অনুর জ্বরটাও নেমে গিয়েছে আপাতত।
অনুকে ওর ঘরে রেখে মাত্রই ইলমা নিজের ঘরে আসবে বলে বেড়িয়েছিলো তখুনি পরিচিত বাইকের আওয়াজ কানে পড়তেই ইলমা ভ্রু কুঁচকে মেইন গেইটের দিকে তাকালো। তেজ আর নির্ঝর একসাথে গেইট পেরিয়ে বাসার ভিতর প্রবেশ করলো। তেজ ওর এলোমেলো চুলগুলোতে হাত বুলাচ্ছিলো। ইলমা বললো….
—”তেজ, নির্ঝর, আপনারা?”
তেজ ইলমার দিকে তাকিয়ে সামনের দিকে আসতে আসতে বললো….
—”এসেছি যে খুশি হন নি? মুখটা ওমন পেঁচিমুখীর মতো করে রেখেছেন কেনো?”
তেজের মুখে নিজের এমন বর্ণনা শুনে ইলমার মুখ হা হয়ে গেলো। পরক্ষণেই ইলমা ওর কোমরে হাত রেখে ক*ট-ম*ট করতে করতে বললো….
—”এই কি বললেন আপনি আমাকে? কিসের মতো মুখ করে রেখেছি আমি?”
তেজ ভাবলেশহীন ভঙ্গিতেই বললো….
—”যেভাবে বলেছিলাম তা পোষায় নি আপনার তাই না! দাঁড়ান আপনাকে আমার পছন্দের একটা গানের লাইন বলি,
‘পেঁচিমুখী, ধেঁরেখুকী যা রে ফুটে যা আই…..!’ বাকিটা আর বললাম না। আপনাকে ঠিক ঐ গানের ঐ লাইনের সময় অভিনয় করা অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের মতো লাগছিলো। তাই মুখ ফসকে এই নামটাই বেড়িয়ে এসেছে।”
এই বলে তেজ ওর বত্রিশ পাটি দাঁত বের করে হাসতে শুরু করলো। ইলমা সিঁড়ির ধাপ দু’টো কাটিয়ে নিচে নেমে এসে বুকের সাথে দু’হাত ভাঁজ করে হালকা হেসে বললো….
—”ঐ গানেরই আরেকটা লাইন আছে যা আপনার এই ৬৪ টা দাঁত বের করে হাসি হাসি মুখটার সাথে বেশ যাচ্ছে আমার নজরে। লাইনটা হলো….
‘বাঁদরমুখো ছাদর ছেলে, দেখলে জ্বরে গা হেইট…!’
বাকিটা আমিও বললাম না।”
তেজের হাসিমুখটা মূহূর্তেই মিইয়ে গেলো। তেজের পাশে দাঁড়িয়ে নির্ঝর খেঁ*ক খেঁ*ক করে হেসে উঠলো এবার। তেজ ঘাড় হালকা বাঁকিয়ে নির্ঝরের দিকে চোখ পাঁ*কিয়ে তাকিয়েও ওর হাসি থামাতে পারলো না। তেজ বিরবিরয়ে বললো….
—”কি সব মীরজাফরের বংশধরদের সাথে উঠাবসা করি আমি ছ্যহ্!”
ইলমাও ঠোঁট চেপে হাসছে এবার। তেজ ইলমার দিকে তাকিয়ে বললো….
—”আমার মতো একজন হ্যন্ডসাম ছেলেকে আপনি বাঁদরমুখো ছাদর ছেলে বানিয়ে দিতে পারলেন ইলমা?”
ইলমা ভেং*চি কেটে বললো…..
—”আমার এতো সুন্দর মুখটাকে যখন আপনি পেঁচিমুখো বলতে পারছেন তখন আমিও আপনাকে সেটাই বলছি যেটা আপনার সাথে গিয়েছে। হুহ্!”
তখুনি রুমের ভিতর থেকে এগিয়ে দরজার সামনে এসে দাঁড়ালো। অনুর পরনে একটা কমলা রংয়ের থ্রি-পিস রয়েছে। যার হাতা গুলো একদম হাতের কব্জি বরাবর। ঢোলা-ঢিলা যথেষ্ট। ওড়নাটা মাথায় টেনে নিয়ে শরীরের উপরিভাগ ভালোভাবে ঢেকে রেখেছে অনু। গলার কাছে ওর কাঁধ ছুঁই ছুঁই চুলগুলো এসে ভিড়েছে কিছু৷ অনু দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বললো….
—”ইলমা আপা! কারা এসেছেন? তখন থেকে কাদের সাথে সুর মিলিয়ে ঝ*গড়া করছো তুমি?”
অনুর কন্ঠ কানে পড়তেই সেদিকে চোখ পড়লো ওদের তিনজনের। তেজ ভ্রু উঁচিয়ে অনুকে একপলক দেখে ওর উপর থেকে নজর সরিয়ে বিরবিরিয়ে বললো….
—”এ তো বাচ্চামেয়ে। এই মেয়ে একা এইখানে থাকে! আবার চাকরিও করে! বাপরে।”
ইলমা বললো….
—”ওনারা আমার পরিচিত অনু৷”
তেজকে দেখিয়ে বললো ‘উনার নাম, তেজ। আর নির্ঝরকে দেখিয়েও সেম ভাবে বললো ইলমা।’
অনু ওদের দু’জনকে উদ্দেশ্য করেই সালাম জানালো। তেজ সালামের উত্তর দিলো ঠিকই কিন্তু নির্ঝরের থেকে কোনো সাড়াশব্দ এলো না। তেজ নির্ঝরের দিকে ভ্রু-কুঁচকে তাকাতেই দেখলো নির্ঝর ফ্যল ফ্যল দৃষ্টিতে অনুর দিকেই তাকিয়ে আছে এখনও। তেজ নির্ঝরের চোখের সামনে হাত নাড়ালো। নির্ঝর একপ্রকার ঘোর লাগা কন্ঠে বললো…..
—”এ-কি নারী নাকি পরী?”
তেজ তৎক্ষনাৎ পিছন থেকে নির্ঝরের ঢোলা-ঢিলা ট্রাউজারের উপর থেকেই ওর পশ্চাৎদেশে একটা চিঁ*ম*টি কেঁটে বললো….
—”সালামের সাথে ভাইয়া শব্দটাও যোগ করেছিলো যাকে তুমি নারী ও পরীর মধ্যে গুলিয়ে ফেলেছো ব্রো।”
চি*মটি খাওয়া মাত্র নির্ঝর একপ্রকার লাফ দিয়ে উঠলো। দু’জন সুন্দরী মেয়ের সামনে কি পশ্চাৎদেশে হাত রাখা যায়! লাফ যে দিয়েছে এই অনেক। চি*মটির বাকি জ্বা*লা এবার দাঁতে-দাঁত চেপেই সহ্য করতে হবে ওকে। অনু অবাক চোখে তাকিয়ে আছে ওদের দু-ভাইয়ের দিকে। কিন্তু ইলমা বিষয়টা আন্দাজ করতে পেরেছে কিছুটা। অনু ইলমার পাশে এসে দাঁড়িয়ে বললো….
—”জানো আপা, স্বাভাবিক থাকতে থাকতে এমন হুটহাট লাফিয়ে-ঝাঁ*পিয়ে উঠাটা কোনো সাধারণ বিষয় না৷ এটা হয় ভূ*তে ধরার লক্ষ্মণ নয়তো মৃ*গি রোগের লক্ষ্মণ। ওনার কি সেসবের মধ্যে কোনো স*ম*স্যা আছে?”
অনুর এমন কথা ইলমা শব্দ করে হেসে ফেললো।
ঢাকার উপকন্ঠে জনবসতী থেকে দূরে একটা গুদামঘরের মতো জায়গা। যার নকশা বাহিরে থেকে একরকম মনে হলেও ভিতরে তা পুরোপুরি ভিন্ন। পুরো জায়গাটি হাই সিকিউরিটি বেষ্টিত। সারফারাজের সিক্রেট কাজগুলো করার জন্যই মূলত তৈরি করা হয়েছে এই জায়গাটা।
দোতলায় নিজের অফিসরুমে চেয়ারের ছিলো হেলান দিয়ে বসে আছে সারফারাজ। ক্লান্ত লাগছে কিছুটা। ঘড়ির কাটা দৌঁড়াচ্ছে তো দৌঁড়াচ্ছেই। সকাল গড়িয়ে দুপুর, দুপুর গড়িয়ে বিকেল কখন যে রাতটাও চলে আসে একের পর এক কাজের মাঝে থাকার কারণে টের পাওয়াই দায় হয়ে দাঁড়ায়।
কিয়ৎক্ষণ পর সারফারাজ চেয়ার ঘুরিয়ে পিছন দিকে ফিরে মাঝবরাবর থাকা লম্বা লাল রংয়ের মখমলের দড়িটা ধরে টান দিতেই একটা পর্দা দু’ভাগ হয়ে দু’দিকে সরে গেলো। আড়াল থেকে বেড়িয়ে এলো পিহুর একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবি৷ সারফারাজের চেয়ারের পিছনেই ঠিক এই জায়গাটিতেই বিয়ের আগে টাঙানো ছিলো ওর নিজেরই একটি কিং সাইজের ছবি। এখন সেই জায়গাটা পিহুর দখলে। সারফারাজ পিহুর ছবিটির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো…..
—”সারাদিনের এতো ঝামেলা আর কাজের চাপের ভিড়ে যখন এই কক্ষে এসে তোমার মায়া-ভরা মুখটা দেখি, তখন ভেতরটা অদ্ভুত শান্তিতে ভরে যায়। আগে তো কতো কতো রাত এই অফিসেই কাটিয়ে দিতাম। শ’খানেক ফাইল চেক, মিটিং এর সিডিউল চেক, কতো বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে হতো! এইসবই তখন আমাকে বেঁধে রাখতো এই চারদেওয়ালের মাঝে। কিন্তু এখন আর পারে না। এখন বাড়িটাই আমাকে টানে। হয়তো সেখানে তুমি আছো তাই৷ যখনই স্মরণ হয় আমার জন্য না খেয়ে ড্রয়িংরুমের ঐ একঘেয়ামী সোফাটায় বসে তুমি অপেক্ষার প্রহর গুণছো তখন আর বাইরে মন টেকে না আমার। ইচ্ছে করে যতদ্রুত সম্ভব ছুটে তোমার কাছে চলে যেতে। রাজনীতি নামক এই দায়িত্ব সামলাতে সামলাতে কখন যে সংসার নামক বন্ধনে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়লাম বুঝেই উঠতে পারলাম না৷”
কথাগুলো বলতে বলতেই সারফারাজের ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসির রেখা স্পষ্ট হলো। পরক্ষণেই সারফারাজের কক্ষের দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হলে সারফারাজ পিহুর ছবিটা আগের ন্যায় পর্দার আড়ালে রেখে নক করা ব্যক্তিকে ভিতরে আসার অনুমতি দিলো। সারফারাজের পারসোনাল এসিস্ট্যন্ট আহাদ একটা ফাইল হাতে ভিতরে প্রবেশ করলো। টেবিলের পাশে এসে দাঁড়িয়ে সারফারাজের দিকে ফাইলটা বাড়িয়ে দিয়ে আহাদ বললো…..
—”স্যার, আজ মিটিং শেষে আপনি যেই লোকের ইনফরমেশন জানতে চেয়েছিলেন উনি রায়হান গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিসের মালিক মরহুম রায়হানের জামাতা হামিদুর। শ্বশুড়ের আকস্মিক মৃ*ত্যু*র পর এখন তাঁর কোম্পানির CEO হামিদুর সাহেব-ই হয়েছেন।”
সারফারাজ ওর কপালের একপার্শে হালকা ভাবে আঙুল দ্বারা ঘ*ষা দিতে দিতে বললো…..
—”এই রায়হান সেই জা*নো** টা না যে আমার বউকে বা*জে ভাবে স্পর্শ করেছিলো!”
আহাদ ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দিলো। সারফারাজ আবারও বললো….
—”হামিদুরের উপর নজর রাখো আহাদ। ওর প্রতিটি আপডেট আমার চাই৷”
—”বস, আপনার কি মনে হয় হামিদুর সাহেব তাঁর শ্বশুরের আকস্মিক ভাবে হওয়া মৃ*ত্যু*র বিষয় নিয়ে ত*দ*ন্ত করবে?”
সারফারাজ মেকি ভাবে হেসে বললো….
না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৬ (৫)
—”রায়হানের লা*শটাই যেখানে আমার পোষা প্রাণীর পেটে চলে গিয়েছিলো তারপর পা*য়*খা*না করে যে ফেলেছে ও সেই পায়*খানার উপর আরো কতো পায়*খানা জমে গিয়েছে এতোদিনে হিসাব মিলাতে পারবে তুমি? নাকি এবার তদন্ত করতে আমার পোষা প্রাণীর পায়*খানা ঘাঁটবে ওর জামাতা?”
সারফারাজের এরূপ কথায় নিঃশব্দে হেসে নিজের মাথার পিছনের চুলগুলো হালকা হাতে চুলকালো আহাদ।
