প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৪৫
সাইয়্যারা খান
গত কয়েকদিন পৌষ বের হতে পারে নি। পারে নি বললে অবশ্য ভুল হবে। তৌসিফ বের হতে দেয় নি। তার ভাষ্যমতে পৌষ অসুস্থ অথচ পৌষের এসব গায়ে লাগছে না৷ তার স্বাভাবিকতা দেখে উল্টো যেন তৌসিফ চমকে যাচ্ছে মাঝেমধ্যে। আজ পৌষের পরীক্ষা আছে। পড়াশোনা তার ভেসে যে কোন গাঙ্গে যাচ্ছে তা এদিক ওদিক খুঁজেও পৌষ পাচ্ছে না। বিয়ের বয়স বাড়তে বাড়তে পৌষ পুরাতন হয়ে যাচ্ছে তবুও সামলে উঠতে পারছে না ও। তায়েফা আজ চলে যাচ্ছে।
আরো আগে যাওয়ার কথা থাকলেও পৌষের কারণে টিকিট পিছিয়েছে। তৌসিফ নিজেও অনুরোধ করে বলেছিলো যাতে থেকে যায়, কারণ হিসেবে দাঁড় করিয়েছে পৌষকে। পৌষ চোখ দুটো সোজা সোজা করে শুধু দেখেছে। কিছুই বলে নি। তৌসিফ নিজে যতটুকু দেখেদুখে রাখে তাই তো সামলে উঠতে পারে না পৌষ তার উপর কিনা আরেকজনকে থাকতে বলে তার বউ দেখার জন্য। সকাল সকাল নাস্তা খেয়েই চলে যাবে তায়েফা। তৌসিফ এয়ারপোর্টে দিতে যাবে। পৌষ শুনেছে তুরাগও যাচ্ছে। নিজের পরীক্ষা থাকায় পৌষ যথেষ্ট তারাতাড়ি উঠেছে৷ নাস্তা বানিয়ে নিজেও একটু পড়া নিয়ে বসবে। কাল রাতে দেখেছিলো একটু। তাকিতুকি করে লিখা যাবে তবে নিজেরও তো মেধায় কিছুটা থাকা প্রয়োজন। কড়াইতে থাকা মসলার ঝাঁঝ নাকে ঠেকতেই পৌষ আলু দিয়ে দিলো। নেড়েচেড়ে পানি ঢালতে ঢালতে বললো,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
“খালা, রুটি গুলো ভাজতে পারবেন?”
“এখনই করছি মামি।”
পৌষ মাথা নেড়ে হাসলো। নিজে ব্যস্ত হাতে পাশের চুলায় থাকা সুজির হালুয়া নাড়তে নাড়তে বললো,
“এটা বেড়ে দিচ্ছি, আপনারা কি হালুয়া খান না খালা?”
বুয়া হাসতে হাসতে উত্তরে বললেন,
“মামা তো মিষ্টি কিছু কখনো খায় না। আমরাও তাই রান্না করি না।”
পৌষ মনে মনে মুখ ভেঙালো। এমন বিরাট প্যাঁচানো বংশে মিষ্টি খাবে কিভাবে? প্যাঁচ খেয়েই তো তারা কুল পায় না। এগারো দাদী যে দাদা কিভাবে সামলাতো তাই তো বুঝে আসে না তার। বাটিতে হালুয়া বেড়ে পৌষ নিজেই টেবিলে রেখে আসলো। বুয়া রুটি ভাজা শেষ করতে করতে পৌষ গরুর ঝোল বেড়ে রেখে এসে ঘি দিয়ে কয়টা পারাটা ভেজে নিলো। আপা চলে যাবে তাই খুব সামান্য কিছু রান্না করেছে পৌষ। চায়ের পানি বসিয়ে বুয়াকে দেখতে বলে ভেতরে গেলো পৌষ। উদ্দেশ্য তৌসিফকে ডাকা। দুই ভাই-বোন গল্প করছে ভোর থেকে। পৌষ দরজায় দাঁড়িয়ে ডাক দিতেই তায়েফা তাকালো। হাত বাড়িয়ে ডেকে বললো,
“এদিকে আয় তো সোনা।”
পৌষ কিছুটা আস্তে হাঁটে। হাঁটুতে টান লাগে নাহয়। তৌসিফ আঁড়চোখে দেখে তা। তার বউ নাহলে নিশ্চিত পৌষ বাঁদর হতো। গাছে গাছে লাফাতো, মাঝেমধ্যে ঝুলে থাকতো। মন চাইলেই শয়তানী করতো। কথাটা মনে ভাবলেও মুখে আনার সাহস দেখালো না তৌসিফ৷ এমনিতেই বউকে ভালোবেসে ফেলেছে সে। বিনিময়ে বউ ভালোবাসছে না৷ এতভাবে তৌসিফ পৌষের বশ্যতা স্বীকার করছে তবুও পাথরমনা পৌষ মানছে না৷ ওকে ঠিক কিভাবে ভালোবাসা দরকার তৌসিফ সেটাও বুঝতে পারছে না৷ বাচ্চাকাচ্চার দাবি নিয়ে গেলেও ফিরিয়ে দেয় না। কিছুই না করে না অথচ তৌসিফ ভালোবাসাহীনা ভালোবাসার অস্তিত্ব কল্পনা করছে না। তার আগে পৌষের ভালোবাসা চাই। প্রেমসুধা পানে নিজের মৃত্যু চাই তবুও তার পৌষের হৃদয় জুড়ে জায়গা চাই। পাঁজরের ভাজে ভাজে নিজের নাম চাই। এতটা গভীর ভাবে তৌসিফ কখনো কাউকে ধারণ করে নি কিন্তু পৌষকে করেছে। বিনিময়ে সেও চাইছে পৌষ ঠিক তেমন ভাবেই তৌসিফকে ধারণ করুক নিজের মাঝে।
আপাকে এতক্ষণ যাবৎ তৌসিফ বুঝাতে পারে নি তেমন কিছু। তায়েফা আকারইঙ্গিতে তৌসিফকে বুঝাতে চাইছিলো এতক্ষণ অনেককিছু কিন্তু পৌষকে দেখে তার আকারইঙ্গিত হাওয়া হয়েছে। মুখের জোর বেড়েছে। পৌষের হাত ধরেই তায়েফা হাসিমুখ কিছুটা দুঃখী করে আফসোসের স্বরে বলতে লাগলো,
“তোদের সংসারটা যাতে আবার ফিরে এসে পরিপূর্ণ পাই আমি। তুসুকে এতক্ষণ বলেছি, এখনও তোকেও বলছি। আজ-কাল নানান সমস্যা হয়। বেশি সময় নিস না সোনা। পড়াশোনা শেষ হবে একদিন। ঘুরতে পারবি সারাজীবন। এখন বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে নিলে মাথায় আজ ঝামেলা থাকবে না৷ ওদের নিয়ে দিন কেটে যাবে। আমাকে শুধু জানাবি, দেখবি তোকে মুখে তুলে খায়িয়ে দিব আপা৷ তিন-চারটা বাচ্চাকাচ্চা থাকলে সংসারে আর কি লাগে বল? বাচ্চাকাচ্চা হলো সংসারের আলো। এরা বাদে কি আর সংসার হয়? দুইজন একসাথে ঘুরতে যা কোথাও। তোদের তো কোথাও যাওয়া হলো না৷”
তায়েফার কথার শুরু আর শেষ বাচ্চা দিয়েই হয়েছে। পৌষের জায়গায় অন্য মেয়ে থাকলে এতক্ষণে লজ্জায় কোন এক রঙ ধারণ করতো কিন্তু পৌষ তো পৌষ। সে তায়েফার হাত ধরে টানতে টানতে বললো,
“বাচ্চা হবে নে আপা। আগে খেতে আসুন। তিন চারে বারোটা হবে নে।”
তায়েফাকে নিয়ে যেতে যেতে বলেছে পৌষ। এদিকে তৌসিফ চমকেছে। ক্ষুদ্র ঢোক গিলে আয়নায় নিজেকে দেখছে। চুলগুলো ঠিক করতে করতে বিরবির করে বলছে,
“বাব্বাহ, বারোটা। আমার তো সমস্যা নেই বউ রাজি থাকলে। আ’ম স্টিল এ ইয়াং ম্যান।”
বলেই একটু এদিক ওদিক দেখলো। না, ঠিকই আছে। সুপুরুষ সে। নিজের প্রশংসায় খুশি হয়ে পকেটে হাত গুঁজে সটান হয়ে হাঁটা শুরু করলো তৌসিফ। আজ থেকে তার ভাবসাব বাড়বে একটু। বারো সন্তানের আব্বা সে সে। কথাটা ততটা হালকা না৷ ছানাপোনা নিয়ে যখন হাঁটবে তখন দেখতেই তো একটা গ্যাঙ মনে হবে।
খেতে বসে তায়েফা ভীষণ প্রশংসা করলো। তৌসিফকে হালুয়া দিলো পৌষ। ভেবেছিলো খাবে না হয়তো কিন্তু তৌসিফ চামচ দিয়ে মুখে দিতেই পৌষ বেশ আগ্রহ নিয়ে তাকালো। তৌসিফ আরেক চামচ মুখে দিতেই পৌষ একটা রুটি ভাজ করে তৌসিফের প্লেটে দিয়ে বললো,
“রুটি দিয়ে খান। আরেকটু দেই হালুয়া?”
তৌসিফ রুটি নিলো না। পৌষের দিকে তাকিয়ে বললো,
“সুজির হালুয়া কে খায়? আমার ভালোই লাগে না এটা। আজ তো একটু খেলাম।”
পৌষ মুখটা ছোট করে রুটি তুলে নিলো। ফের জিজ্ঞেস করলো,
“গরুর ঝোল দেই তাহলে?”
তৌসিফ মানা করলো। পৌষ কিছুটা দ্রুত পায়েই রান্না ঘরে গেলো। তৌসিফের কফিটা মনোযোগ দিয়ে বানাতে বানাতে চায়ের কাপে চা ঢাললো। ট্রে নিয়ে যেতে যেতে কানে এলো তৌসিফের কণ্ঠস্বর,
“এগুলো কি রেঁধেছো? এত মসলা কেন? আর তুমি জানো না হালুয়া খাই না আমি। তাও আবার সুজির হালুয়া।”
“মামী রেঁধেছেন মামা৷”
“তুমি দেখবে না বুয়া? এসব খাওয়া যায় সকাল সকাল?”
পৌষ একটু থামলো। আজ কি তাহলে ভালো হয় নি? তারাহুরোয় এত রান্না করতে গিয়ে হয়তো মসলা পাতি বেশি দিয়ে ফেলেছে। ট্রে নিয়ে টেবিলে রেখে পৌষ কফি এগিয়ে দিলো। একটু ব্যস্ত কণ্ঠেই জিজ্ঞেস করলো,
“ডিম ভেজে দেই? অমলেট করে দেই একটা?”
“প্রয়োজন নেই।”
বলেই কফিতে চুমুক দিয়ে কপাল কুঁচকে তাকালো তৌসিফ। পৌষ তায়েফাকে চা দিয়ে তৌসিফকে বললো,
“কিছু হয়েছে?”
“কফিটা এমন কেন পৌষরাত? তুমি চিনি দিয়েছো?”
পৌষ জিভ কাটলো। মনোযোগ দিয়ে বানাতে গিয়ে ভুলে চিনি দিয়ে দিয়েছে। তৌসিফ ঐ কফিটা আর ধরলোই না৷ পৌষ আরেকটা বানাতে যাবে তার আগেই তৌসিফ বেশ গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
“বুয়া! একটা কফি নিয়ে এসো।”
পৌষ জানে না কেন কিন্তু তার হঠাৎই বুকটা ধকধক করছে। ছটফট করে উঠে বললো,
“আমিই তো পারব।”
“তারাহুরোয় আজ সব নষ্ট করেছো। এখনও তারাহুরোই করছো। তার চাইতে রুমে যাও। আগে পড়ো। ঠান্ডা হয়ে এরপর বাকিসব করো।”
“না আসলে… ”
“শান্ত হও পৌষরাত। যাও পড়তে বসো।”
তায়েফা আটকালো। বলে উঠলো,
“এখন কোথায় যাবে ও?”
“পরীক্ষা আছে আজ। সকাল থেকে তারাহুরো দেখাচ্ছে। রাত হলেই চোর ধরে বসে বসে। সারারাত আকাজ করে সকালে দুনিয়াবি কাজ তার।”
পৌষ চলে যেতে নিয়েও গেলো না। সামান্য অপরাধবোধ কাজ করলো তার মাঝে। তার জন্য তৌসিফ ঠিকমতো নাস্তা খেতে পারলো না। বিষয়টা তার একদমই ভালো লাগলো না৷ তৌসিফের বলা কথাগুলো গায়ে না মেখে পুণরায় বলে উঠলো,
“ওটস দেই আপনাকে। দুই মিনিট লাগবে।”
“তোমাকে যেতে বলেছি পৌষরাত। আবারও দুই মিনিটে তুমি তারাহুরোই করবে।”
পরপর এতগুলো প্রত্যাখান পেয়ে পৌষের মন সামান্য হতে চাইলো। এই প্রথম এমন হতে চাইলো। তৌসিফ বলেই কি তাহলে মন খারাপ হতে চাইছে? পৌষ জানে না কিন্তু তার খারাপ লাগতে চাইছে। নিজেকে খারাপ লাগতে অনুমতি দিলো না পৌষ। মূহুর্তেই মন খারাপকে মেজাজ খারাপে পরিণত করে নিলো। কারো জন্য পৌষ কেন মন খারাপ করবে? এসব মন খারাপের ধার পৌষ ধারে না। ওসব অ-স্বামীর প্রশংসার দুই পয়সা দামও পৌষ দিবে না। চোখ দুটোয় রাগী ভাব ফুটিয়ে প্রস্থান করলো সেখান থেকে। ওকে যেতে দেখেই তৌসিফ বুয়াকে বললো,
“ওর নাস্তা দিয়ে আসো রুমে।”
বুয়া যেতেই তায়েফা ধমকালো তৌসিফকে,
“একদিন এদিক ওদিক হতেই পারে। তাই বলে তুই ধমকাবি?”
“আমি ধমকেছি?”
তৌসিফ অবাক হলো। তায়েফা রাগ হয়ে গেলো। বললো,
“সেই ভোর থেকে এগুলো রান্না করেছে। সবসময় এত মজা করে রাঁধে। আজ নাহয় একটু এদিক ওদিক হয়েছে। সেটা বলতে হবে কেন? বউ বিষ দিলেও সেটা হাসিমুখে পান করতে হয়। সংসারে অশান্তি করবি না তুসু৷ আমার চাইতে খারাপ হবে না কেউ।”
তৌসিফ বোনের হাত তুলে চুমু খেলো। নরম স্বরে বললো,
“ওর পড়া আছে আপা। এখন না পাঠালে তুমি না যাওয়া অব্দি কাজই করবে। পড়বে না৷ তারাহুরো করছে কিন্তু পড়তে পারছে কোথায়? একটু পড়ুক। পা শান্ত থাকুক। ওর কি ব্যথা লাগে না আপা? আমি তো অবাক হই ওকে দেখে।”
তায়েফা দীর্ঘ শ্বাস ফেললো। শুধু বললো,
“সব ঠিক হয়ে যাবে।”
“ইনশা আল্লাহ।”
বিদায় বেলা তায়েফা পৌষকে বেশ খানিকটা সময় বুকে নিয়ে রাখলো। পৌষ ওভাবেই রইলো। একবার বেশ বাচ্চামো স্বরে বললো,
“না গেলে হয় না আপা?”
“আপা আবার আসব সোনা।”
“কবে?”
“গেলামই না আর তুই ফেরার কথা বলছিস?”
তৌসিফ তাড়া দিলো। সবাই নিচ পর্যন্ত এলো ওদের এগিয়ে দিতে। পৌষ হাত নেড়ে বিদায় জানালো। তাকে আদর করার মতো একজন মানুষ চলে যাচ্ছে। বহুদূর।
সারাদিন পর তৌসিফ বাসায় ফিরেছে। এসেছে থেকে বাসার পরিবেশে শীতলতা লক্ষ করেছে সে। এই শীতলতার মাঝেই কেমন এক উষ্ণতা। গরম গরম ভাব। আজ কপালে পানিও জুটে নি তার। শার্ট খুলতে পৌষ আসে নি। কোথায় কি করছে তৌসিফ জানে না৷ নিজেই জুতা মুজা খুলে রাখতে হলো তার অথচ এগুলো পৌষ করে। বেশ খানিকটা সময় অপেক্ষা করে যখন বউ এলো না তখন তৌসিফ বাথরুমে ঢুকলো।
“কি করছেন আপনি হ্যাঁ?”
পৌষের কণ্ঠে তৌসিফ ঘুরে দাঁড়ালো। সারা মুখে তার কালো চারকোল মাস্ক লাগালো। শুকাতে শুরু করেছে বিধায় তৌসিফ কথার উত্তর দিতে পারলো না। এখন কথা বললেই টান লাগবে ত্বকে। ফলাফলস্বরূপ ত্বক নষ্ট হবে। চামড়া ঘুচে যাবে। তৌসিফ এই অনাচার হতে দিবে না৷ কোনভাবেই না। পৌষ ধৈর্য ধরার মেয়ে না৷ হাতে থাকা চামচ নিয়েই বাথরুমে ঢুকে গেলো ও। তৌসিফের বিরাট বাড়ীর বাথরুমটাও বিরাট। একপাশে তৌসিফ তালুকদার রূপচর্চা করে অপর পাশে গোসলের জায়গা কাঁচ দিয়ে আলাদা করা। পৌষ খেঁকিয়ে উঠলো,
“মুখে কচু গাছ ঢুকেছে হ্যাঁ? সংসারে চৌদ্দটা কাজ আমার, এদিকে মহাশয় জাদুসোনা সেজে দাঁড়িয়ে আছে সঙ হয়ে।”
তৌসিফ আকার ইঙ্গিতে বুঝাতে চাইলো কিন্তু পৌষ বুঝলো না। রেগে হিসহিসিয়ে বললো,
“কি? কি? এমন আকার ইঙ্গিত দেখাচ্ছেন কেন হ্যাঁ? আমি কি বয়রা? নাকি আপনি বোবা? এক্ষণই ঝোল মুখে দিয়ে বলুন লবন ঠিক কাছে কি না৷”
তৌসিফ ভরকে গেলো৷ এখানে কিভাবে ঝোল চেখে দেখবে ও। পৌষের সাথে পেরে উঠতে কিছু বলার বা করার আগেই আচমকা তৌসিফের চোয়াল চেপে চামচটা একদম ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে ঢুকিয়ে দিলো। না চাইতেও তৌসিফের জিহ্বায় স্বাদ লাগলো। মাথা নাড়লো৷ পৌষ চোয়াল ছেড়ে হাত ধুতেধুতে বললো,
“কালা কু*ত্তার * লাগিয়ে রেখেছে মুখে। যত্তসব জ্বালা আমার।”
পৌষ ধুপধাপ করে চলে গেলো। পেছনে আহাম্মক বনে দাঁড়িয়ে রইলো তৌসিফ। বউ আজ মহা ক্ষেপা। দোষটাও তৌসিফের, এটা তো তৌসিফ জানে। মানেও। স্বীকারও করে। তাই বলে বউ তাকে এভাবে বাথরুমে ঝোল চাখাবে? এবারে তার স্কিন কেয়ার নষ্ট করে দিবে? ডুবাইয়ের চারকোল মাস্ক এটা মাত্র তিনবার লাগিয়েছে তৌসিফ। কাছের এক বন্ধুকে দিয়ে স্পেশাল ভাবে অর্ডার দিয়ে আনিয়েছিলো।
প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৪৪
আয়নায় তাকালো তৌসিফ। একদম গালের দু’পাশ থেকে খাবলে মাস্ক তুলেছ তার বউ৷ মনঃক্ষুণ্ণ হয়ে খালি জায়গা গুলো পূরণ করে তৌসিফ আর ভাবতে থাকে, “খালি গাল নাহয় পূরণ করলাম কিন্তু আমার বউয়ের যে শক্ত মন সেটা কিভাবে নরম করব? আজ তো বোধহয় ছুঁতেও দেবে না৷ কেন যে সকাল সকাল আকাজ করেছিলাম।”
