প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৮৬ (২)
সাইয়্যারা খান
বাহুতে টান লাগতেই পৌষ চোখ তুলে তাকালো। তৌসিফের গায়ে তার ব্লেজার নেই৷ চোখেমুখে বেপরোয়া ভাব। কিছুটা রুক্ষতা তার কণ্ঠে,
“এখানে কি করছো একা একা?”
“হাত ছাড়ুন।”
“ছাড়ার জন্য তো ধরি নি হানি। লেটস গো টু দ্যা ড্যান্স ফ্লোর।”
“নো ওয়ে। ইয়্যু মদুক্তি!”
“জাস্ট শাট আপ পৌষরাত! মদুক্তি আবার কেমন শব্দ হ্যাঁ?”
ধমক দিয়েই যেন গাঢ় দৃষ্টিতে তাকালো পৌষের দিকে। এই পর্যায়ে অতি মোহনীয় লাগলো পৌষকে ওর নিকট। ধপ করে ওর পাশে বসলো তৌসিফ। গতিটা নড়ে উঠলো তাতে সামান্য। পৌষের কলিজা গলায় চলে আসছে ধীরে ধীরে। ভয় ও কাউকে না পেলেও তৌসিফকে পায়। এ কথা মুখে স্বীকার করা ওর জন্য পাপ হলেও এই মূহুর্তে টালমাটাল অবস্থায় পৌষ খুব করে ভীতু হলো তবে প্রকাশ করলো না৷ তৌসিফ হাত বাড়িয়ে ওর চুল ছুঁয়ে দিলো পরপর আঙুল ডুবিয়ে দিলো ঐ ঘন কালো কোঁকড়ানো চুলের ভাজে। পৌষ অল্প ব্যথা পেলো তাতে। হাত সরাতে সরাতে বললো,
“চুল ছাড়ুন। দূরে থাকুন আমার থেকে।”
দূরে থাকার কথা শুনে তৌসিফ তেঁতে উঠলো সহসা। আঁকড়ে ধরলো পৌষের চুলের ভাজে থাকা হাতটা দিয়ে। টেনে মুখটা নিজের কাছাকাছি এনে ফিসফিস করে বললো,
“আমি দূরে চলে গেলে কাছে কে আসবে হানি?”
“কেউ না। আমার কিন্তু অসহ্য লাগছে।”
“কাকে? আমাকে?”
“অবশ্যই। আপনি নেশাখোর তা তো জানা ছিলো না আমার। মেয়েখোড়, নেশাখোর সাথে আরো…”
“আহ্! মা! চুল ছাড়ুন।”
তৌসিফ চুলের ভাজে হাতটায় জোড় বাড়ালো। রাগে তার চোয়াল শক্ত হয়ে এসেছে। পৌষের ব্যথায় চোখে পানি চলে এলো যেন। তৌসিফের মাতলামি তখন ক্রমশই বাড়ছে। পৌষ ঝটকা মে’রে উঠে গেলো। রাগে হিসহিসিয়ে বললো,
“আমার সাথে ফাইজলামি করবেন না একদম! কি ভেবেছেন দেশের বাইরে এনে আমার সাথে উল্টাপাল্টা করবেন আর পৌষ ভয় পাবে? একদম পুলিশের কাছে চলে যাব। আমাকে চিনেন নি। আমি কিন্তু… ”
এক টানে তৌসিফ ওকে কোলের উপর ফেললো। ঘাড় চেপে ধরতেই পৌষ দেখলো ওর হিংস্র চাহনি৷ বুকটা ধ্বক করে উঠলো তখনই। তৌসিফ ওর গাল দুটো চেপে ধরলো। একদম নিজের মুখোমুখি করে বসালো। গাল দুটোয় চাপ বাড়িয়ে দিলো।
“তোমাকে চিনতে বাকি আছে আমার? একদম বাড়াবাড়ি না।”
“কি করবেন বাড়াবাড়ি করলে?”
পৌষ দমে রইলো না। তৌসিফও আজ ছাড় দিলো না। তার সুস্থ মস্তিষ্ক ভালোবাসার তাড়নায় চুপ থেকে সহ্য করলেও বেহুশ হয়ে সবটাই উড়ে গিয়েছে। পৌষের চোয়াল শক্ত হাতে ধরেই শাসালো,
“একদম এখানেই গেড়ে দিব। চিনো নি এখনও আমাকে।”
বলেই আক্রমণ করে বসলো সে। খোলামেলা পরিবেশে এভাবে কোলে নিয়ে তৌসিফের আগ্রাসন ভাব দমাতে অক্ষম পৌষ। ওর হাত-পা কাঁপছে এখন। কোনমতে ছুটেই কাঁপা কাঁপা পলক ফেলে দেখলো তৌসিফকে। তৌসিফের দৃষ্টিতে কোন ভাবাবেগ নেই। এই তৌসিফের ছিটেফোঁটা হয়তো বিয়ের শুরুতে পৌষ দেখেছিলো। অতঃপর যতই দিন গেলো তৌসিফ পৌষের হাতে ততই নরম ভাবে ধরা দিয়েছে। এহেন রূঢ় আচরণ কোনদিনও পায় নি সে। পৌষ নিজের ঠোঁটে হাত চেপে ধরে চোখের সামনে মেলতেই লাল তরলের স্পষ্ট উপস্থিতি টের পেলো অথচ তৌসিফের চোখে অনুশোচনার ছিটেফোঁটাও নেই। মাতাল ব্যাটা! পৌষ গালি দিলো মনে মনে। পা বাড়িয়ে চলে যেতে নিলেই ডান পা বাড়িয়ে বসে থেকেই তৌসিফ ল্যাং মেরে ফেলে দিলো পৌষকে। হতভম্ব পৌষ চেঁচাতেও ভুলে গেলো। কি হলো এটা? রাগে পৌষ চেঁচালো,
“ব্যাটা নেশাখোর! তুহিন ভাইয়া! তুহিন ভাইয়া!”
তৌসিফ শান্ত নেই৷ বউয়ের সামনে ম্যাউ ম্যাউ করা তৌসিফ এখন সিংহে পরিণত হয়েছে। পৌষ খুব বেকায়দায় পড়লো। তৌসিফ হিংস্র হয়ে আছে যেন।
আবারও চেঁচালো,
“তুহিন ভাইয়া!”
তৌসিফ হঠাৎ দানবের মতো হাসতে লাগলো। পৌষের গায়ে কাটা দিয়ে উঠলো তাতেই। তুহিন ঐ দিক থেকে আসছে না। মিয়া বিবির মামলায় সে ঢুকে কি করবে কিন্তু পৌষের ডাক খুব সামান্যই তার কানে এসেছে। গানের শব্দে কিছুই শোনা যাচ্ছে না। একদমই আন্দাজের উপর তুহিন এসে হাজির হলো। পৌষকে ওভাবে নিচে পড়ে থাকতে দেখে তারাতাড়ি পা চালালো। পৌষ উঠতে পারছে না। ওমন হিল পড়ে তো হাঁটাই মুশকিল তার নিকট, এখন পড়ে গিয়ে উঠাটা খুব কষ্টকর। তুহিন ওকে ধরে উঠাতেই পৌষ রাগে চেঁচালো,
“এই আতাল-মাতাল সব আমার কপালেই জুটলো? দেখুন আমাকে ল্যাং দিয়ে ফেলে দিয়েছে।”
তুহিন ফাঁটা চোখে তাকালো। অবাক হয়ে বললো,
“মেঝ ভাইয়া ফেললো?”
“না তো কে?”
পৌষের খুব রাগ হচ্ছে। এদিকে তৌসিফ ধমক দিলো,
“তুহিন, আমার বউ ছাড়!”
“তুমি ওকে ফেলেছো কেন মেঝ ভাইয়া? চলো বাসায় চলো।”
“তুই ওকে রেখে ভাগ এখান থেকে নাহয় আমি উঠলে চড়থাপ্পড় খাবি।”
তুহিন ভাইকে চিনে। পৌষ ওকে সামলাবেই বা কিভাবে? একটু শান্ত ভাবে বুঝাতে লাগলো তুহিন,
“কাল আবার এসে নেচো? আজ বাড়ী চলি ভাইয়া?”
“তুমি বাড়ী যাও৷ আমি বউ নিয়ে হানিমুনে এসেছি তুহিন।”
“মদুক্তি আবার তুমি মারায়।”
পৌষ কথাটা বলতেই তৌসিফ গর্জে দাঁড়ালো। একটানে তুহিন থেকে পৌষকে নিয়ে কোমড় চেপে ধরে রাখলো নিজের সাথে। পৌষ অসহায় চোখে তুহিনের দিকে তাকিয়ে ডেকে উঠলো,
“তুহিন ভাইয়া।”
“চুপ! কিসের তুহিন ভাইয়া।”
বলেই বউ নিয়ে তৌসিফ টেনেহিঁচড়ে ডান্স ফ্লোরে এলো। পৌষ পায়ে ব্যথা তেমন না পেলেও ব্যথায় জায়গায়ই ব্যথা পেয়েছে। ওর এখন ভেতর থেকে অস্থির লাগছে। এভাবে মতিভ্রম তৌসিফকে আগে তো দেখে নি। তৌসিফ ওকে নিয়ে এখন নাচের স্টেজে। আশেপাশে উথাল-পাতাল নাচ চলছে। পৌষ এই পরিবেশে আর থাকতে চাইলো না। ওপাশে খালি, কয়েকজন বসে ড্রিক করছে শুধু। এদিক ওদিক তাকিয়ে তুহিনকে খুঁজলেও পেলো না আর। তৌসিফ যখনই দেখলো পৌষের নাচে মনোযোগ নেই তখনই হুমকিতামড়ি দেখালো।
“কি হলো? তোমার মনোযোগ নেই কেন?”
“দে..দেখুন।”
“এখানে দেখাবে?”
তৌসিফ দুষ্ট হাসলো। পৌষের মাথা ঘুরে উঠলো যেন। তৌসিফ ওকে নিয়ে বেরিয়ে আসলো ওখান থেকে। এবারেও পৌষ চেঁচাচ্ছে। ওকে গরুর মতো কেন টানা হচ্ছে? তুহিন পেছনে ছুটে আসছে। পৌষ সাহস পেলো একটু তবে লাভের লাভ কিছুই হলো না। তুহিনের সাথে বাসায় যাবে না তৌসিফ। মাতাল হলেও তার ঠিক খেয়াল আছে এই ক্লাবের উপরের হোটেলেই সে হানিমুন সুইট বুক করে রেখেছে। পৌষ কিছু বলার আগেই কালো রঙের মার্সিডিজে ওকে তুললো তৌসিফ। তুহিনকে পাত্তাই দিলো না ও। নিজে ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ি স্টার্ট দিতেই পৌষ চেঁচিয়ে উঠলো,
“আল্লাহ! ও মাবুদ, এই মাতাল আমাকে নিয়ে কই যায়? হায় আল্লাহ! বাঁচাও কেউ। তুহিন ভাইয়া!”
তৌসিফ সজোরে ধমকালো,
“একটা চড় লাগাব বেয়াদব! একদম পানিতে ডুবিয়ে রাখব তখন মাছের সাথে থাকবে।”
“নামান আমাকে। নামান বলছি। আমি মাছের সাথেই থাকব।”
“এ্যাঁহ্, বললেই নামাব? এত সহজ, আমার বউ নিয়ে এসেছি। বেয়াদব মহিলা, চুপ থাকো।”
তৌসিফ গাড়ির স্টেরিং এ হাত রেখে গাড়ি চালালেও তা খুব একটা কাজে দিলো না। বিশাল বড় জায়গাটায় গোল গোল প্রচন্ড বেগে ঘুরতে লাগলো গাড়িটা। তুহিন মাথায় হাত দিয়ে বোকা বনে আছে। ও থামাতে যাবে কিন্তু কিভাবে?
পৌষের মাথা ঘুরার সাথে সাথে পেট মুচড়ে উঠলো। আর সহ্য হচ্ছে না। এবারে বুক ফেটে আর্তনাদ বের হচ্ছে ওর। তৌসিফের বাহু চেপে ধরলো ও। খুব ঠান্ডা মাথায় বুঝাতে লাগলো,
“দে দেখুন, আসুন আমরা রুমে যাই৷ আপনি না আমাকে নিয়ে হানিমুনে এসেছেন? এখানে গাড়ি চালালে হয়?”
কাজে দিলো। নরম কথায় তৌসিফ খুব গললো। সেও নরম স্বরে বললো,
“নামলে মাছে খাবে তো।”
“ওরে মাতাল তোকে বলেছে! কু’ত্তা খাবে ব্যাটা শয়তান।”
মনের কথা মুখে আনলো না পৌষ। একটু হেসে বললো,
“আমরা পানির উপর হেঁটে যাব৷ মাছ টের পাবে না।”
“যদি পায়?”
“তাহলে দু’জন একসাথে মাছ ধরে ভেজে খেয়ে নিব।”
“বললে?”
“বললাম।”
“সত্যি?”
“আবার জিগায়।”
তৌসিফ গাড়ি থামালো। পৌষ মাথা চেপে ধরলো। ওর বমি গলায় চলে এসেছে। গাড়ি থামতেই তুহিন দৌড়ে এলো। ইহানও এসেছে ততক্ষণে। গাড়ি থেকে নেমে পৌষের হাত চেপে রেখেছে তৌসিফ। এতেই রক্ষা নাহয় মাথা ঘুরে পড়তো পৌষ। তুহিন এগিয়ে আসতেই তৌসিফ ধমক দিলো,
“দূরে যা। দেখ মাছ এখানে।”
তুহিন এবার সরু চোখে তাকালো। স্কচ আর হুইস্কির বোতলে এই কাজ হয় নি। হওয়া সম্ভবও না তাহলে কি হলো? তৌসিফ নিশ্চিত আগে পরে কিছু খেয়েছে। এত মাতাল হওয়া তাও তৌসিফ তালুকদারের, মুখের কথা না। তুহিন দাঁত বের করে হেসে বললো,
“হ্যাঁ, সাবধানে এসো ভাইয়া।”
“মেঝ মামা ধরব আমি?”
“উঁহু। বউ নিয়ে আসছি। দূরে যা। সব দূরে।”
তুহিন বিরবির করলো,
“বউ ভুললো না। ঢপবাজ।”
তৌসিফ পৌষকে নাজেহাল করে ছাড়লো। দুই কদম হাঁটতেই তিন কদম পিছিয়ে যায়। অবশেষে যখন গ্রাউন্ড পেরিয়ে হলে এলো তখন তুহিন সোজা ওদের রুমে দিয়ে এলো। নিজে ফেরত আসতে নিলেই পৌষ আটকালো,
“তুহিন ভাইয়া, প্লিজ আমাকে নিয়ে চলুন।”
“তুমি ওর সাথে কোথায় যাবে হানি? কাম টু মি। তুহিন, গেট লস্ট!”
মুখের উপর দরজা লাগিয়ে দিলো তৌসিফ। তুহিন মাথা চুলকে বললো,
“কপাল, বেচারি পৌষ। আহারে, আমার বজ্জাত ফুপাতো বোনটা।”
দুঃখ প্রকাশ করতে করতে তুহিন লিফট দিয়ে নেমে গেলো। এদের স্বামী স্ত্রীর মাঝে ওর কাজ নেই।
এদিকে তৌসিফের হাতে পড়ে আজ পৌষের অবস্থা বেজায় খারাপ হলো। ওকে ধরে বুঝিয়ে পানির নিচে নিতে চাইলো পৌষ তবে লাভ হলো না৷ পৌষের জুতা খুলতেই বেহাল পা চোখে ভাসলো। মুখ খিচিয়ে উঠলো পৌষ। তৌসিফ মানলো না কিছুই। পাজা কোলে তুললো ওকে। আজ ভয় পেলো পৌষ। সত্যিই তৌসিফের এই রূপটাকে ভয় পেলো।
প্রায় ভোরের দিকে তুহিন, ইরা আর ইহান বাড়ী ফিরেছে। আজও আবহাওয়া প্রচুর ঠান্ডা। সূর্যের দেখা নেই। চৌদ্দ তলার বি সেকশনের লাক্সারিয়াস হানিমুন সুইটের দরজায় ঝুলছে ইংরেজি লিখা ‘ডু নট ডিসটার্ব’। এদিকে কেউ আসছে না ওদের ডাকতে। দুপুরের সময় হয়ে আসছে ধীরে ধীরে তবুও ঘুম ছুটে নি কারো। তৌসিফ ধীরে ধীরে চোখ খুললো। কপাল কুঁচকে এলো ওর। নাকে মুখে চুল আসতেই হাত বাড়িয়ে সরালো। চোখ দুটো ডললো কিছুক্ষণ। চোখের পাতা মেলতেই নজরে এলো অচেনা পরিবেশ। চারপাশে গোলাপের পাপড়ি। এলোমেলো সবটা। তৌসিফ ডেকোরাম নিজে করতে বলেছিলো কিন্তু কখন কি নষ্ট করেছে ওর মনে আসছে না। হঠাৎ কিছু ভবাতেই তৌসিফ এদিক ওদিক তাকালো। ওর থেকে কিছুটা নিচে পৌষ শুয়ে আছে। তৌসিফের বুক ধ্বক করে উঠলো। হাত বাড়িয়ে পৌষকে টেনে বুকে নিলো। ডাকলো একবার,
“পৌষরাত।”
পৌষ উঠলো না। তৌসিফ ঘড়ি দেখলো। এত বেলা করে পৌষ ঘুমায় না। তৌসিফ আবারও ডাকলো,
“হানি, ওয়েক আপ।”
একটু নড়লেও পৌষ যখন পুরোপুরি উঠলো না তখন তৌসিফ মাথা চেপে ধরলো নিজের। ঝাপসা ঝাপসা মনে পরলো সবই। নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলো ও৷ পৌষের মাথা বালিশে রেখে আবারও ডাকলো। গালে মৃদু মৃদু চাপড় দিতেই চোখ মেললো পৌষ। তৌসিফ দম ফেললো। দু’হাতে গাল আঁকড়ে বললো,
“ঠিক আছো তুমি?”
প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৮৬
পৌষ তাকিয়েই রইলো। এই প্রথম সে তৌসিফের সাথে কথা বললো না। পৌষ রাগে চেঁচায়, কখনো চুপ থাকে না। আজ বিপরীত ঘটায় তৌসিফের আত্মা কেঁপে উঠলো। ধীরে ধীরে বিছানা ছাড়লো পৌষ। একা একাই পায়ের ব্যথা ঠেলে বাথরুমে চলে গেলো। তৌসিফ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো। পৌষের পা যেখানে ছিলো সেখানে সাদা চাদরে স্পষ্ট র’ক্তের ছাপ।
