Home প্রেমসুধা সিজন ২ প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৮৬

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৮৬

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৮৬
সাইয়্যারা খান

বার কাউন্টার একদম মুখোমুখি উল্টো দিকে। পৌষ ইরার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছে। তৌসিফ সুযোগ পেতেই তা লুফে নিলো। বার কাউন্টারের সামনে এসেই স্কচ হাতে নিলো। একদম চোখের পলকে, একেবারেই চোখের পলকে হাফ গ্লাস গলায় ঢেলে দিলো। এ যেন অমৃতের স্বাদ পেলো সে তাও কিনা বহু বছর পর। বিয়ার ছাড়া অন্য কিছুতে তৌসিফ হাত দেয় না ততটা। আজ এত কাছে এত ঝলমল দেখে কেন জানি হাত নিশপিশ করছিলো অথচ দেশেও এমন জায়গায় বহু যাতায়াত তার। কেন জানি জোশ তার আজই খেলে গেলো। আরেকটা গ্লাস তুলেও হাতে নিয়ে গিলে ফেললো। তৃতীয় গ্লাস হাতে নিতেই পাশে তুহিন হাজির হলো। কপাল কুঁচকে এলো ওর। ভাইকে বেশ সরস গলায় জিজ্ঞেস করলো,

“পৌষ অনুমতি দেয়?”
খুকখুক করে কেশে ওঠে তৌসিফ। বেমালুম ভুলে গিয়েছিলো পৌষের কথা। ঠোঁটে গ্লাস লাগিয়ে এক চুমুক দিলো সে। উত্তর বললো,
“অনুমতির কি আছে?”
“নেই বলছো মেঝ ভাইয়া?”
তুহিনের কপাল কুঁচকে এলো। তৌসিফ গ্লাসটা এক টানে শেষ করে ঢেঁকুর তুললো আড়ালে। তুহিনের দিকে তাকিয়ে এক ভ্রুঁ উঁচু করে বললো,
“তো? আজ আমার বিবাহ বার্ষিকি। আ’ম অন মায় হানিমুন উইথ মাই হানি। আই ক্যান ড্রিংক। আই ক্যান ইনজয়… নো ওয়ান ক্যান স্টপ মি।”
“হোয়াই নট?”
তুহিন তাড়া দিলো। বললো,

“কেক রেডি চলো। মতিগতি খারাপ লাগছে। মাত্র তিন গ্লাস গিলেছো। কাতচিৎ হয়ে যেও না।”
“তিন গ্লাস স্কচে মাতাল হব আমি? আমি তৌসিফ তালুকদার?”
“মাতাল না হলেও বেতাল হবে ফর শিউর ভাই। এসো।”
পরপর পৌষকে ডাকতে সাইডে এলো,
“অ্যাঁই পৌষ। এসো তারাতাড়ি।”
ইরা, ইহান সহ পৌষ উঠে দাঁড়ালো। তারা এগিয়ে গেলো তুহিনের সাথে। তৌসিফ ব্লেজারের সামনে হাত বুলিয়ে ঠিক করলো। এগিয়ে এসে পৌষকে নিজের বাহুতে নিলো। যত্নের তার কমতি নেই। কেকের সামনে দাঁড়িয়েই আগে কপালের পাশটায় ঠোঁট ছোঁয়ালো। আদুরে স্বরটা গম্ভীর শোনালো তখন,
“আই লাভ ইয়্যু হানি।”

পৌষের ঠোঁটের হাসি গাঢ় হলো। তৌসিফ ওকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে কেকের সামনে এলো। ওভাবেই পৌষের কাঁধে থুতনি ঠেকালো। পৌষ একটু কাঁপলো। খুব সামান্যই অবশ্য। এক হাতে পৌষ ছুঁড়ি ধরতেই সেই হাতটা তৌসিফ ধরলো, আরেক হাতে পৌষের পেট পেঁচিয়ে রাখলো। পৌষ একটু এদিক ওদিক তাকালো। এই তৌসিফ এমন অভদ্রতা করছে কেন? আশ্চর্য!
ওভাবে দাঁড়িয়ে কেক কাটলো দু’জন। কিছু অচেনা মানুষও হাত তালি দিচ্ছে। শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। ইহান চেঁচালো,
“কেক খাওয়াও। তারাতাড়ি।”
তৌসিফ পৌষের আগেই কেক হাতে নিলো। পৌষকে সম্পূর্ণ চমকে দিয়ে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিলো। তুহিন হঠাৎ ইহান আর ইরার চোখে হাত দিয়ে আটকে চাপা স্বরে বললো,

“পোলাপান চোখ ধর!”
তৌসিফ কেকের টুকরো পৌষের মুখে দিয়ে সম্পূর্ণ ইচ্ছে করে একটু ঠোঁটের কোনায় লাগালো। নিজে ঝুঁকে এসে ঠোঁট বসালো সেই স্থানে। পৌষ ওর গায়ে ধাক্কা দিলো,
“ছিহ্! ইয়্যু! ছাড়ুন।”
“মাই লাভ।”
বলেই কেক খেলো তৌসিফ। পৌষ ধাক্কা দিয়ে সরালো। লজ্জা এবং বিব্রতকর মুখ নিয়েই বললো,
“বাখাটে লোক।”
নিজ হাতে কেক কেটে পৌষ তুহিন সহ ইহান আর ইরার মুখে দিলো। তৌসিফ মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে রইলো ওর দিকে। পৌষের কার্ল করা চুল, এমন বিদেশি ধরণের রূপ আর হিলে আরেকটা উচ্চতা প্রাপ্ত পৌষকে এই মূহুর্তে সত্যিই আকর্ষণীয় লাগছে। তৌসিফ ঠোঁট কামড়ে হাসলো। আরেক পিস কেক কেটে নিজের হাতে নিয়ে ডাকলো,
“হানি, কাম দ্যাট সাইড।”
কথাটা বলেই তৌসিফ অন্ধকারে লাল বাতি ঝুলন্ত স্থানে গেলো। পৌষ কপাল কুঁচকে গাউনের এক সাইড হাতে তুলে সেখানে যেতেই দেখলো তৌসিফ নেই। গানের শব্দও ধীরে ধীরে বাড়ছে। পৌষের কপাল কুঁচকে এলো তবুও ডাকলো,

“কোথায় আছেন?”
উত্তর এলো না। পৌষ চলে যাবে ঠিক সেই মূহুর্তে পেছন থেকে কোমড় টেনে ধরলো তৌসিফ। একদম দেওয়ালে মিশিয়ে নিলো ওকে। দেহের ভার দিয়ে আটকে কেকের টুকরো অর্ধেক পৌষের মুখে দিয়ে বললো,
“স্বামীকে ছিহ্ বলো তুমি।”
মুখেরটুকু গিলে নিলো পৌষ। কপাল কুঁচকে বললো,
“এখানে এমন গন্ধ লাগে। বিশ্রী জায়গা।”
বাকি কেক টুকু তৌসিফ নিজের মুখে দিয়ে আঙুল লেগে থাকা ক্রিমও মুখে দিলো অতঃপর পৌষকে ভীষণ ভাবে অবাক করে দিলো তৌসিফ। পৌষ এতটাই হতভম্ব হলো যে চেঁচাতেও ভুলে গেলো।

গানের বিট ধীরে ধীরে বাড়ছে। রাত যত বাড়ছে ততই বাড়ছে গানের শব্দ। লোকজন দুলে উঠছে, আলোয় আলোয় ঝলকানি বাড়ছে। পৌষ আর তৌসিফ এগিয়ে আসতেই তৌসিফ বরফে রাখা ওয়াইনের বোতন হাতে তুললো। ঝাঁকিয়ে ছিপিটা দাঁত দিয়ে খুলে ঠোঁটে দিলো বোতল ধরেই। আধ বোতল, দুই টানে প্রায় আধ বোতল গিলতেই ইহান আর ইরা চেঁচিয়ে উঠলো,
“মামা, একটু তো রাখো।”
পৌষ ওদের চিৎকারে পেছনে তাকিয়ে দেখলো তৌসিফের হাতে কাঁচের সবুজ বোতল। কপাল কুঁচকে যায় সহসা৷ ইহান গিয়ে অসহায় চোখে তাকিয়ে বলে,
“একটু তো দাও।”

ইরাও মুখ বানালো। এরা ভদ্র বাচ্চা। সারা বছরে তাদের ফেস্টিভ্যাল ছাড়া ক্লাবে আসা নিষেধ। ছোট থেকে এখানে বেড়ে ওঠা ওদের। তায়েফা আর মিস্টার কিবরিয়া যতটুকু পারেন বাচ্চাদের শাসনে রাখেন কিন্তু মাঝেমধ্যে লুকিয়ে বাচ্চাদের ড্রিংক করা এখনও জানেন না তারা। বন্ধুদের সাথে থেকে থেকে এই দশা হয়েছে। ইহান আর ইরা দুই চুমুক করে খেলো। তুহিন হাসতে হাসতে বললো,
“ইশ, ঠান্ডার ঔষধ খেলি তোরা?”
তুহিন হাত বাড়াতে নিলেই পৌষ ছুটে এলো। ঝটকা মে’রে বোতল সরিয়ে বললো,
“এটা ছুঁবেন না আপনি।”
“ধুরু! সরো ফুপাতো বোন। আজ তোমার বিবাহ বার্ষিকি উপলক্ষে একটু গলা ভেজাব।”
“একদম পাবনা পাঠাব এবার।”
তুহিন প্রশ্নাত্মক চোখে তাকাতেই পৌষ খেঁকালো,
“কানাডা গিয়ে ঠিক না হলে পাগলাগারদেই রাখতে হয়।”
“আচ্ছা, যাব নে। আগে একটু তো খাই। অনেকদিন খাই না।”
“দিবই না আমি।”
“পৌষ, সর।”
“লজ্জা হয় না বড় ভাবীকে তুইতোকারি করতে?”
পৌষ দেবড়কে বাঁচাতে আপ্রাণ ঝগড়া চালাচ্ছে এদিকে বেচারী খেয়ালই করলো না এত বড় বোতলের বাকিটুকু তার স্বামী নিজ দায়িত্বে গিলে নিয়েছে। তুহিন সেদিকে তাকিয়েই রেগে গেলো,
“ধুর *ল! মেঝ ভাইয়া মে’রে দিলো সব।”
“কিহ!”

পৌষ দেখলো বোতলে শেষ চুমুক দিচ্ছে তৌসিফ। হতভম্ব হয়ে গেলো ও। তৌসিফ বোতল রেখেই একটু শরীর ঝাড়া দিয়ে উঠলো। তুহিনের দিকে তাকিয়ে বললো,
“আমার হানি ঠিক বলেছে। এসব খাস না।”
“নিজের গাড়া ভরে এখন বলে কই কথা।”
বিরবির করলো তুহিন। পৌষ রেগে হাতে থাকা ফুলটা ছুঁড়ে মারলো তৌসিফের বুকে। রাগে ওর মাথা দপদপ করছে। পা বাড়িয়ে চলে গেলো অন্যদিকে। যেতে যেতে বললো,
“কুত্তার লেজ কখনো সোজা হয় না৷ কুত্তা * দেখলে দৌড় দিবেই।”
তৌসিফ ফুলটা তুললো নিচ থেকে। ওদের দিকে তাকিয়ে অবুঝ হয়ে বললো,
“কি হলো?”
“জানি না। ধুর! পুরোটা গিলে নিলে তুমি।”
ইহান, ইরা মামাকে টানলো। ডিজে চলে এসেছে। তৌসিফ আরেক দফা খেই হারালো। সে গানের তালে তালে এই সাইড থেকে ফ্লোরে চলে এলো। তুহিন মাথায় হাত দিলো। মেঝ ভাইয়া খোলস মোচন করছে। কপালে থাকলে আজ চরম বিনোদন পাবে তুহিন। ঐ তো দশ মিনিট নেচে-কুঁদে যেই দেখলো মেয়ে গুলো শরীরে ঢলে পড়ছে তখন তৌসিফ বিরক্ত হয়ে গেলো। তার বউ লাগবে। বউ নিয়ে নাচবে। ব্লেজার আর তার গায়ে নেই। শার্টটা চরম মানাচ্ছে তাকে। অ্যালকোহল ছেড়ে দেওয়া মানুষ এত বছর হুটহাট এত ড্রিংক করায় জেল্লাদার পরিবর্তন ঘটলো। চোখে সামান্য ঘোলা দেখলো তৌসিফ। দুলে উঠছে পা জোড়া। পরপর চোখ ঝাপটে তুহিনের ঘাড় চেপে বললো,

“তুহিন, আমার বউ কই?”
“আমি কি জানি নাকি?”
“দেখ তো। কই গেলো। আমার বউ আমার সাথে নাচতে চেয়েছিলো।”
“নাচাবে তোমাকে ফর শিওর।”
“তুই খুঁজে আন ওকে। যা। যাহ্ বলছি।”
“আামকে ঠেলছো কেন? আমি কি জানি তোমার বউ কোথায় লুকিয়ে আছে।”

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৮৫ (২)

তৌসিফ মানলো না। নিজেই খুঁজতে লাগলো। ধীরে ধীরে তার নেশা চড়তে লাগলো। চোখের ঘোলা ভাব সরে গেলো। এখন যেন চোখে সর্ষে দেখছে তৌসিফ। দাঁত চেপে এদিক ওদিক খুঁজছে। এই মেয়ের সাহস কত তৌসিফকে রেখে কোণায় গিয়ে আছে। একবার হাতে পেলে সে কি করবে তা নিজেও জানে না৷ তৌসিফ একটু সামনে যেতেই পেলো। মাথা নিচু করে চেয়ালে বসে আছে পৌষ। হাতে একটা জুসের ক্লাস। তৌসিফের ঠোঁটে তখন মৃদু হাসি ফুটে উঠলো।

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৮৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here