Home প্রেমসুধা সিজন ২ প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৮৪ (২)

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৮৪ (২)

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৮৪ (২)
সাইয়্যারা খান

“কি লটরপটর করে কোথায় যাওয়া হচ্ছে?”
রাত তখন অনেকটা। তৌসিফ ভেবেই নিয়েছিলো ব্যথার ঔষধ খেয়ে পৌষ ঘুমাচ্ছে অথচ তার বন্ধ চোখেও তার উপর কড়া নজরদারি রাখছে। পেছনে ঘুর একবার দেখে নিলো তৌসিফ। ফোনটা প্যান্টের পকেটে ভরে উত্তর দিলো,
“এই তো, একটু বাইরে যাচ্ছি।”
“কি কাজ?”
“হাঁটতে।”
“এদিকে আসুন তো।”
সুরসুর করে এগিয়ে এলো তৌসিফ। বউ ডেকেছে বলে কথা। এই হসপিটালেই আবার আদর টাদর করবে কিনা বুঝতে পারলো না ও। এগিয়ে আসা মাত্রই পৌষ জিজ্ঞেস করলো,

“আমাকে কি পা গল মনে হয়?”
“না, তা হবে কেন? পা গল তো আমি তাও তোমার প্রেমে।”
“বাইরে মাছি ভনভন করছে। আমি কি পা গল যে আমার মিষ্টি পাঠাব মাছির কাছে?”
তৌসিফ পৌষের কথাবার্তা প্রায়ই অর্ধবির্ধ বুঝে। এখনও তাই হলো তবে যখনই বুঝলো পৌষ তাকে মিষ্টি বলেছে তখনই ঠোঁটে হাসি চলে এলো। পৌষের কপালে চুমু খেয়ে বললো,
“মাছি মে’রে দিব।”
“আমি আহত করে এসেছি। চুপচাপ ঘুমান।”
“তুহিন সাথে যাবে। একটু কাজ আছে। তুমি ঘুমাও৷ সকালে আমরা চলে যাব এখান থেকে।”
পৌষ কিছুক্ষণ তাকিয়ে দেখলো ওকে। পরপর উঠে বসলো। তৌসিফ বাঁধা দিলো,
“পায়ে এমনিতেই ব্যথা পৌষরাত। কি চাই? আমাকে বলো।”
পৌষ অতকথা শুনলো না। তুহিন লং কোর্টটা এনে দিয়েছিলো। পৌষ খুড়িয়ে গিয়ে ওটা এনে দিলো। নিজ থেকে পরিয়ে দিলো তৌসিফকে। কলার ঠিক করে দিয়ে মাফলারটাও গলায় পেঁচিয়ে দিলো। দরজা ঠেলে তুহিন ঢুকলো পরপরই। ওদের দিকে তাকিয়ে দাঁত বের করে হেসে এগিয়ে এলো। নিজের মাফলার হাতে করে এনে পৌষের মুখে ছুঁড়ে দিয়ে বললো,

“আমাকেও পেঁচিয়ে দাও।”
“আমি প্যাঁচালে কিন্তু একদম ফাঁস দিয়ে দিব।”
“নো ওয়ারী।”
পৌষ তৌসিফকে ছেড়ে তুহিনের গলায় পেঁচিয়ে দিলো। তুহিন বসেছিলো বলে রক্ষা। তালুকদার বাড়ীর ছেলেগুলো বেশ লম্বা চওড়া। কাজ শেষ করে পৌষ দু’জনের দিকে তাকিয়ে নরম স্বরে বললো,
“তারাতাড়ি আসবেন৷ আমি জেগে থাকব।”
“আসব। আগে ঔষধ খেয়ে নাও।”
“খেলাম না তখন?”
“এই যে এটা বাদ ছিলো।”

তৌসিফ বোতল হাতে নিয়ে এগিয়ে এলো। তুহিন মেডিসিন খুলে দিলো। তৌসিফ নিজ হাতে পৌষের ঠোঁটের ভাজে ঢুকিয়ে দিলো গোলকাকার ঔষধটা। পানি দিতেই পৌষ গিলে নিলো। বেডে উঠিয়ে একদম ঢেকে দিয়ে বসে রইলো দুই ভাই। পৌষ কতক্ষণ বকবক করলো তুহিনের সাথে। তুহিনও চাপা যথাসম্ভব নাড়ালো। পৌষ যখন ঘুমিয়ে গেলো তখন দুই ভাই উঠে দাঁড়ালো। ঘুমন্ত পৌষের কপালে চুমু খেলো তৌসিফ। বিরবির করে বললো,
“আ’ম স্যরি ফর দিস হানি।”
“হয়েছে। হালকা পাওয়ারের ওটা। তোমার বউয়ের যেই তেজ, আদৌ ঔষধ কাজ করবে কিনা কে জানে। আপদ উঠার আগে বিপদটাকে সেরে আসি। চলো।”
দুজন শব্দহীন ভাবে বেরিয়ে গেলো কেবিন থেকে। তৌসিফ নার্সকে আরেকবার বলে গেলো পৌষের খেয়াল রাখতে।

কালো রঙের মার্সিডিজটা মিস্টার কিবরিয়ার। বাবার গাড়ি নিয়ে ইহান এসেছে দুই মামাকে পিক করতে। গাড়ি নিয়ে এসেছে ঘন্টা খানিক হলো। তাদের আসার নাম গন্ধ নেই। ইরা হাই তুললো। বললো,
“মামী বোধহয় মামাকে আটকে ফেলেছে।”
“আমাকে যে বললো থাকতে?”
“ঐ যে, আসছে দুই হিরো।”
ইহান দৃষ্টি ঘুরালো। দুই ভাই বেশ হাবভাব নিয়ে আসছে। ইরা গাল চুলকে বললো,
“ভাই, মেঝ মামা হিরো থেকে কম না। আমি তো প্রায় সময় ক্রাশ খেয়ে ফেলি। দেশীয় ছেলে মানুষ এত সুন্দর হয়।”
“মামী শুনলে চোখ তুলে ফেলবে।”
“আমি তো ভাগ্নী হই তাও আপন৷”
“তাও এসব বলিস না৷ দেখলি না, কিভাবে বরের প্রাক্তনকে মে’রে জেলে চলে গিয়েছিলো।”
“হুঁ।”
ইরা ভাবনায় বুদ হলো। ইহান ডোর খুলে বেরিয়ে এসেই দু-হাত ভাজ করে জিজ্ঞেস করলো,
“কি, এত লেট? আমি ঘন্টা খানিক ধরে অপেক্ষা করছি।”
তৌসিফ উত্তর করার আগেই তুহিন মুখ খুলে বেফাঁস বলেই ফেললো,
“মেঝ ভাইয়া একটু পেরেম করছিলো।”
“তুহিন!”
“আমি কি মিথ্যা বলছি নাকি?”

তৌসিফ কথা না বাড়িয়ে গাড়িতে উঠলো। তুহিন বসলো পেছনে। ইরার সাথে কথাবার্তা শুরু হয়ে গেলো ওর। তৌসিফ ইহানের থেকে গাড়ির চাবি নিয়ে নিজে ড্রাইভিং সিটে বসলো। স্ট্রেরিং এ হাত ঘুরাতে ঘুরাতে প্রশ্ন করলো,
“ওকে ডেকেছিস?”
প্রতিত্তোরে ইরা বেশ গর্ব করলো,
“ডেকেছি মানে? অপেক্ষা করছে আমাদের।”
“সন্দেহ করেছে?”
“একটুও না। বলেছি বিয়ের জন্য ডায়মন্ড নিব৷ প্রথমে এত রাত বলে অবাক হয়েছিলো পরপর মেনে গেলো।”
ইহান মাঝখানে যোগ করলো,
“ক্লাবে আসতে বলায়ই রাতে রাজি হয়েছে। এছাড়াও ভাবতে পারে এদেশের কালচারে রাত,দিন ব্যাপার না।”
“লেটস সি।”

তুহিনের চোখ দুটো চকচক করে উঠলো। তৌসিফের ঠোঁটে দেখা দিলো বাঁকা হাসি।
মোড় পেরিয়ে চলে এলো ওরা ক্লাবে। নামি-দামি বিশাল এক ক্লাব। ইহান টিকিট কেটে রেখেছিলো। লোকাল পার্সন কেউ এসে ঢুকতে পারবে না। চারজন বেশ সাচ্ছন্দ্যে ঢুকে গেলো সেখানে। তৌসিফ এদিক ওদিক তাকালো। জায়গাটা মনে ধরে গেলো হুট করে। পৌষ থাকলে নিশ্চিত কথা শুনাতো এটা নিয়ে। তৌসিফের মনে পরলো ওর পুরাতন দিনের কথা। এসব ক্লাবে ক্লাবে কম সময় কাটায় নি সে। বারের দিকে তাকিয়ে শুকনো ঢোক গিললো ও৷ গলা ভেজাতে মন চাইলো। তুহিন ভাইয়ের মন বাসনা বুঝে ফেললো চট করে। সে নিজেও ভুখা অনেকদিন তাই তো সুযোগ বুঝে অফার করলো তৌসিফকে,
“মেঝ ভাইয়া, একটা ড্রিংক হবে নাকি?”
“কেন নয়?”
“লেটস গো।”
মহানন্দে তুহিন এগিয়ে যেতে নিলেই তৌসিফ আটকে দিলো। সূচালো দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো,
“আমি নিব, তুই না।”
“কেন না।”
“কানাডা পাঠাব আবার? যাবি রিহ্যাবে?”
“একটা?”
“না।”
“তাহলে তুমিও না।”
“তুই বললেই হবে?”
“আমি বললে না হলেও পৌষ বললেই হবে।”

তৌসিফ চোখ গরম করে তাকালো৷ তুহিন যে বলে দিবে তাও বুঝে গেলো। বউয়ের ভয়ে তৌফিক বারের দিকে পা বাড়ালো না বরং গিয়ে বসলো উল্টো দিকে। ওদিকে নাচগান হচ্ছে। যে যে যার যার মতো আনন্দ করছে। ইহান আর ইরা গিয়ে বসলো অন্যদিকে। পিয়াসী এখনও পৌঁছায় নি। ওরা দু’জন মাত্রই কল দিবে তখনই উপস্থিত হলো পিয়াসী। হাত মিলিয়ে বসে হাসিমুখে পিয়াসী ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করলো,
“তোমার হবু বর?”
“না, ভাই। আমাদের পছন্দ হলে আমার বর ফাইনাল করবে।”
“ওহ, আই সি। আমাদের কালেকশন সম্পর্কে ধারণা আছে কিছু? থাকলে চয়েজ বলবে নাহয় আমি সাথে আনা কিছু স্যাম্পল দেখাচ্ছি।”
ইহান ইরাকে খোঁজা দিলো। ইরা একটু চিন্তিত মুখে তাকিয়ে বললো,
“এসব স্যাম্পলে আমার হবে না৷ আই ওয়ান্ট সামথিং এলস। ফোনে বলেছিলাম আপনাকে।”
“একবার দেখে নাও৷ পছন্দ হতেও পারে।”
ইরা নাছোড়বান্দা। পিয়াসী হাল ছেড়ে দিলো। রাগ হলো মনে মনে ভীষণ। তখনই ইরার ফোন বাজলো। রিসিভ করে মুখে হাসি ফুটলো ওর। পিয়াসীর দিকে তাকিয়ে বললো,
“আমার ফিঅন্সে এসেছে। আপনি কি স্যাম্পল গুলো তাকে দেখাতে পারেন?”
পিয়াসীর মুখে হাসি চলে এলো। স্বাগত জানানোর স্বরে মাথা নেড়ে বললো,

“অবশ্যই।”
“সে গাড়িতে আছে।”
“ভেতরে আসবে না?”
“একটু ব্যস্ত। দেখেই চলে যাবে। আপনার সমস্যা হলে নাহয় থাকুক।”
” না না৷ চলো।”
পিয়াসী উঠে ওদের সাথে বেরিয়ে এলো। সামনের গ্যারেজ রেখে ওরা এসেছে বেসমেন্টে। পিয়াসী একবার জিজ্ঞেস করলো,

“এখানে?”
“ওর গাড়ি এখানে পার্ক করা।”
বেসমেন্ট খালি। শুধু গাড়ি রাখা আশেপাশে। ইরা আর ইহান পিয়াসীকে অপেক্ষা করতে বললো। ফোন আসার বাহানায় একটু দূরত্বে সরলো দু’জন।
হঠাৎ সিগারেটের গন্ধে পিয়াসী পেছনে তাকালো৷ কেউ নেই। খানিক দূরত্বে ইহানকে দেখা যাচ্ছে। কপাল কুঁচকে এলো ওর কারণ সিগারেটের ধোঁয়া তীব্র থেকেও তীব্র হচ্ছে। সাধারণ সিগারেট বলে মনে হলো না। পিয়াসী কি মনে করে একটু ভেতরে এলো, অন্ধকারে হুট করে পা মোচকে গেলো। ধপ করে পড়ে গেলো পিয়াসী। ব্যথা পেয়েছে সামান্য। ওর ঠিক উল্টো দিক থেকে শিষ বাজানোর শব্দ আসছে। চোখ তুলে তাকাতেই দেখলো পায়ের উপর পা তুলে তৌসিফ বসা কাঠের সুন্দর চেয়ারটায়।হাবভাবপূর্ণ মুখরা দেখেই বুঝা যাচ্ছে সে অভ্যস্ত এতে। পিয়াসীর মুখ থেকে বেরিয়ে এলো ডাক,

“তৌস?”
“ইয়েস বেইব।”
“তু..তুমি। এখানে?”
“তোলাচ্ছ কেন পিয়ু?”
“কোথায়? না…না তো।”
“আ’ম সিয়িং ইয়্যু পিয়ু। ওয়েক আপ ডুড৷ মেইক ইট ফাস্ট।”
পিয়াসী দাঁড়ালো। তৌসিফ সমানতালে সিগারেট ফুঁকছে। চোখ দুটো ঘোলা হয়ে আসছে। আচমকা পিয়াসীর দিকে একটা পেপার ছুঁড়ে দিলো ও। ধরে ফেললো পিয়াসী৷ ঝাপসা আলোয় ও দেখলো এটা একটা ডকুমেন্ট পেপার। ওদের কোম্পানির লগোও আছে। পিয়াসী ঢোক গিললো। তৌসিফের বাচনভঙ্গি অত্যন্ত নিখুঁত। পিয়াসী হঠাৎ আগের রূপে তৌসিফকে দেখে বিব্রত হলো। মুখে ভয় প্রকাশ পেলো। তৌসিফ খুব সাধারণ ভাবে ঠিক সেই নব্বই দশকের মতোই কথা বললো অথচ সময়ের পরিবর্তনে তার কণ্ঠে দারুন পরিবর্তন এসেছে। পুরুষত্ব ভারিক্কি টের পাচ্ছে পিয়াসী। তৌসিফ এমন ছিলো না যেমন শীতল সে নিজেকে দেখায়। কানে তৌসিফের কণ্ঠ ধাক্কা দিতেই পিয়াসী ঝিমিয়ে গেলো।

“আমি বদলে যাই নি পিয়ু। শুধু মাত্র পৌষরাতের জন্য আমার শীতলতা। বাকি দুনিয়া জাহান্নামে যাক, আমি তৌসিফ পড়োয়া করি না৷ পৌষের সামনে আমি নিতান্তই ভেজা বিড়াল। সে আমাকে নরম পছন্দ করে তাই বলে তুমি এটা কিভাবে ভেবে নিলে আমি তৌসিফ গরম হতে পারব না? র ক্ত আজও তালুকদার বংশের আর আমিও পৃথিবীর বুকে জন্ম নেয়া ঐ তৌসিফ। গতবার জানে ছেড়েছি এবার যে ছাড়ব তার নিশ্চিয়তা কি? তুমি জানো না আমি কে? জানো কি না বলো? তুমি জানো না আমি পি স্তল চালাতে পারি? জানো না আমি ট্রেইনড শুটার? জানো না আমি আজই পার্টনারশিপ চুক্তি বাতিল করতে পারি? কি করে খাবে তখন পিয়ু? তুষারের এই ভীনদেশে আর কি আছে ঐ ডায়মন্ডের ব্যবস্থা ছাড়া? আমাকে নরম ভেবে যে ভুল করলে এখন তার মাশুল গুনো তাহলে। আই কান্ট হেল্প পিয়ু। ইয়্যু হার্ট মাই হানি৷ ইয়্যু হার্ট মি এগেইন। আই জাস্ট কান্ড ফরগেট দ্যাট ওন্ড!”

“আ..আমি..।”
“শুউউউউ।”
পিয়াসী একেবারে মিহিয়ে গেলো। তৌসিফ উঠে দাঁড়ালো। এক দুই পা করে এগিয়ে এলো ওর দিকে। পিয়াসী পিছিয়ে যেতেই তৌসিফ বাঁকা হাসলো। চাপা স্বরে বললো,
“ভয় পাচ্ছো কেন পিয়ু? তুমি না আমার সাথে কত কত বছর থেকেছো? এখন ভয় পাচ্ছো যে?”
“আআ..আমার কথা শুনো তৌসিফ। ঠান্ডা মাথায় কথা বলি আমরা? প্লিজ।”
“এখন যে আর সময় নেই পিয়ু।”
“আমি.. আমি কিছু করি নি তৌসিফ। যা করেছি শুধু আমার বোনের সংসার বাঁচাতে। প..পলক বললো পৌষ নাকি ওর সংসারে ঝামেলা করছে প্রচুর। তুহিন পৌষের কাছেই থাকে বেশিরভাগ। তাই আমি শুধু.. ”
“তুমি শুধু?”
“পৌষকে বলছিলাম যে…”
“যে?”
পিয়াসী বলতে পারলো না। তৌসিফ আচমকা হু হা করে হেসে উঠলো। এই অন্ধকার বেসমেন্টে নিতান্তই ভূতুড়ে লাগলো বিষয়টা। তৌসিফ হাত নিজের লং কোটের ভেতরে ঢুকিয়ে প্যান্ট থেকে পি স্তল বের করলো। পিয়াসীর দিকে তাক করে বললো,

“কথা বলো পিয়ু।”
“আআআ..মি।”
“এভাবে না, সুন্দর করে কথা বলো পিয়ু।”
“তৌ তৌসিফ..”
হুট করে রেগে গেলো তৌসিফ। পি স্তলের মুখটা পিয়াসীর মুখে ঢুকিয়ে চুলের মুঠ চেপে ধরলো। রাগে হিসহিসিয়ে উঠে বললো,
“কু’ত্তার বাচ্চা কথা বল! তোতলাস কেন? কথা বল! সুন্দর করে কথা বল!”
পিয়াসী আতঙ্কে কেঁদে ফেললো। তৌসিফের রাগ কমার বদলে বেড়ে গিয়েছে। এ যেন আজ থেকে দশ বছর আগের ঐ তৌসিফ যে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহর আর বাংলাদেশের কেরানীগঞ্জ দুটোই দাপিয়ে বেড়াতো। চোখ মুখে সে কি হিংস্রতা। কপালের রগগুলোও ফুলে উঠেছে। পিয়াসী কথা বলতে পারলো না। আচমকা ওর পায়ে নিজের বুট দিয়ে চেপে ধরলো তৌসিফ। ব্যথায় আর্তনাদ করে উঠলো পিয়াসী। তৌসিফ থামলো না। উল্টো নিজের পা এদিক ওদিক করে চাপ বাড়ালো। দাপিয়ে উঠে পিয়াসী। তৌসিফ শাসিয়ে উঠে,

“চুপ!”
পিয়াসী মুখ চেপে ধরে। চাপা স্বরে ডাকে,
“তৌসিফ, অনেক ব্যথা। প্লিজ ছাড়ো।”
“কেমন লাগে? জা’নোয়ারের মতো আমার পৌষের পায়ে আঘাত দিয়েছিস? এখন বুঝ! তুই জানতি না ও কে ছিলো? জানতি না ও পৌষ ছিলো? জানতি না ও আমার ছিলো?”
“জানতাম, জানতাম৷ আমার ভুল হয়ে গিয়েছে। তৌসিফ, প্লিজ ছেড়ে দাও।”
পা সরালো তৌসিফ। পিয়াসীকে ধাক্কা দিয়ে সরাতেই ও পড়ে গেলো। তৌসিফ এদিক ওদিক পায়চারি করলো। অস্থির হয়ে পি স্তল তাক করলো পিয়াসীর দিকে।
“আমার কলিজায় হাত দিলি? সাহসটা কোথায় পেলি? পলক দিয়েছে? ও বলেছে আমি শান্ত হয়ে গিয়েছি? তুই জানিস না? জানিস না আমি কেমন? ভুললি কিভাবে? পুঁতে দিব আজ। আজ আমি পুঁতব তোকে।”
পিয়াসী আতঙ্কে জমে যাচ্ছে। তৌসিফ অপ্রকৃতস্থের ন্যায় হেসে গান লোড করছে। তখনই কোথা থেকে দৌড়ে ভেতরে এলো তুষার। তৌসিফের পা জড়িয়ে ধরলো শক্ত করে। অনুরোধ করে বললো,
“মেঝ ভাইয়া, ভাইয়া, প্লিজ ছেড়ে দাও। প্লিজ ভাইয়া।”

তৌসিফের চোখে তখন আগুন। ও দিকবিদিকশুন্য প্রায়। তুষারের আগমন ওকে সামান্য ঠান্ডা করলো। এদিক ওদিক ঘাড় ঘোরাতেই দেখলো ছোট্ট একটা মেয়ে এলোমেলো ঘুমঘুম চোখে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। কি নিষ্পাপ চাহনি। তুষার আর পিয়াসী দু’জনেরই ছাপ আছে ঐ মুখে। বাচ্চাদের প্রতি তৌসিফ সবসময়ই দূর্বল। আজও হলো। পা ঝাড়া দিতেই তুষার সরে গেলো। তৌসিফ পি স্তল কোমড়ে গুঁজলো। বাচ্চাটার দিকে যেতে যেতে বললো,
“ঐ কু’ত্তার বাচ্চাটাকে সরা চোখের সামনে থেকে।”
পিয়াসীর কাছে গিয়ে তুললো তুষার। পিয়াসী তুষারের বুকে লুকিয়ে গেলো প্রায়। ফিসফিস করে বললো,
“তৌসিফ ডিল ক্যান্সেল করে দিয়েছে।”
বলেই কেঁদে ফেললো। তুষার আঁতকে ওঠে সহসা৷ পার্টনারশিপ চুক্তি বাতিল হলে এত বড় কম্পানি চালাবে কিভাবে ও? দিশেহারা হলো তুষার। তৌসিফ ততক্ষণে বাচ্চাটাকে কোলে তুলেছে। বাচ্চাটাও পরিচিত গন্ধ পেলো বোধহয়। কাঁধে মাথা রেখে চোখ বুজে আরামে গুঙিয়ে উঠলো। তুষারের দিকে তাকালো তৌসিফ। দাঁত কিড়মিড় করে বললো,

“সরাতে বলেছিনা।”
“যা..যাচ্ছি ভাইয়া।”
পিয়াসীকে নিয়ে যেতে যেতে আরেক হাত বাড়ালো তুষার। তৌসিফ প্রথমে বুঝলো না পরপর বুঝলো নিজের মেয়ে চাইছে তুষার। ঘুমন্ত বাচ্চাটাকে দিয়ে দিলো ও। ওদের রেখে নিজেই বেরিয়ে গেলো ওখান থেকে। ইহান, ইরা বাইরেই দাঁড়িয়ে ছিলো। তৌসিফকে এখন ওরাই ভয় পাচ্ছে। তৌসিফ এদিক ওদিক তাকালো। জিজ্ঞেস করলো,
“তুহিন কোথায়?”
“জানি না তো। কিছুক্ষণ আগেই কোথায় জানি গেলো।”
তৌসিফ জানে তার ভাই আজ আর আসবে না। নিজেও চলে গেলো পৌষের কাছে আর ভাগ্নে, ভাগ্নিকে বললো যাতে বাসায় চলে যায়।

হাঁটতে হাঁটতে একসময় যেন পথ ফুরিয়ে এলো। তুহিন আকাশপাতাল এক করে চিৎকার করে উঠলো,
“আবার, আবার, বারবার। তুমি বারবার আমাকে এভাবেই ভেঙে ফেলো পলক। আমাকে চুরমার করে দাও তুমি। কেন এই কাজ করলে? কি দায় ছিলো আমার? আমি এত খারাপ কিভাবে হলাম, কিভাবে হলাম? আমার খারাপ হওয়া এতটাই নিচ পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে যে তোমার খারাপ কাজের জন্যও আমি তোমাকে ঘৃণা করতে পারছি না। কেন পারছি না? আই ওয়ান্ট টু হেইট ইয়্যু পলক! আর ইয়্যু লিসেনিং টু মি? আই ওয়ান্ট টু হেইট ইয়্যু!”

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৮৪

মাঝরাস্তায় কেঁদে ফেললো তুহিন। পাগলের মতো কাঁদতে লাগলো সে। কান্নার মাঝে বিরবির করে বলতে লাগলো,
“আই লাভ ইয়্যু পলক বাট আই ওয়ান্ট টু হেইট ইয়্যু।”
পরপর নাক টানলো ও। ফুঁপিয়ে ওঠে ওর দেহটা। বলিষ্ঠ দেহে কতই না করুন দেখালো তাকে।

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৮৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here