Home প্রেমসুধা সিজন ২ প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৮৪

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৮৪

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৮৪
সাইয়্যারা খান

ঠক ঠক করে শব্দ হলো। তৌসিফ কপাল কুঁচকে তাকালো দরজায়। তার বুকের মধ্যে শুয়ে আছে পৌষ। মোটা ব্ল্যাংকেট দিয়ে ঢেকে আছে দু’জন। তৌসিফের চোখে ঘুম ঘুম ধরেছিলো যা কেটে গিয়েছে এখন। হালকা ভাবে তৌসিফ অনুমতি দিলো,
“কাম।”

বলতে দেড়ী তবে ঝড়ের বেগে তুহিনের ঢুকতে দেড়ী হলো না। এসেই একদম তৌসিফের পাশে থাকা ফাঁকা জায়গায় ঠেলেঠুলে বসলো। হসপিটালের বেড, এমনিতে যদিও বড় তাই বলে তিনজন মানুষ তো আর আরামে শুয়ে থাকা যায় না। আলগোছে বুকে থাকা পৌষকে বুক থেকে নামলো তৌসিফ কারণ তুহিনের পরবর্তী কর্ম সম্পর্কে জ্ঞাত সে। পৌষকে সরাতে ওর সেকেন্ড লাগলো অথচ তুহিনের মেঝ ভাইয়ের বুকে ঝাপাতে লাগলো মাইক্রো সেকেন্ড। বিছানাটা নড়ে উঠলো একটু। তৌসিফ বাম হাতে পৌষকে আগলে নিলো যাতে পারে না যায়। মেয়েটা নিশ্চিত ঘুমায় নি গতরাত থেকে তাই তো পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে। ডান হাত দিয়ে তুহিনকে আগলে নিলো বুকের মাঝে। তুহিন তাদের তিন বোন আর দুই ভাইয়ের খুব আদরের। সবচাইতে ছোট বলেই হয়তো মায়া, মহব্বত আর ভালোবাসাটা গাঢ়। তুহিন তৌসিফের বুকে মাথা রেখে হাত প্রসারিত করে জড়িয়ে ধরলো। বুকে গাল চেপে ধরে ক্লান্ত স্বরে ডাকলো,

“মেঝ ভাইয়া?”
“ভাইয়া শুনছি। তুমি খুব ক্লান্ত। আপার কাছে যাও। একটু ঘুমাও।”
“মেঝ ভাইয়া?”
তুহিন পুণরায় ডাকলো। তৌসিফ বুঝলো ও কিছু বলবে। তুহিনের চুলে হাত বুলাতে বুলাতে ওকে ঠান্ডা করলো। তুহিন ওভাবেই রইলো। এই আদরটুকুর জন্যই বসে ছিলো সে। এতক্ষণ পৌষকে সময় দিয়েছে, এখন তুহিনের পালা। নিজের আদর বুঝে নিতে তুহিন মোটেও কার্পন্য করে না৷ আদর নিতে নিতে তুহিন পই পই করে বলতে লাগলো,
“পৌষ কই গেলো?”
“বাম পাশেই আছে।”
“আয়হায়, কি শুঁটকির মতো বউ তোমার। দেখাও যায় না।”
“তোর চেঁচামেচি শুনে জেগে উঠলে তোকে শুঁটকি ভর্তাই বানাবে।”
“তোমার বউ প্রচুর ত্যাদর মেঝ ভাইয়া। স্বামীকে হসপিটালে পাঠিয়ে দিয়েছে। নিজে গিয়েছে জেলে। জেল থেকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে এসেছি৷ আসতেই চায় না। ঘাড়ের তিন নাম্বার শিড়াটা ত্যাড়া।”
তৌসিফ শুধু শুনছে। তুহিন আবারও বলতে লাগলো,

“তুমি ওর সাথে কথা বলবে। ঠিক আছে?”
“বলব।”
“আগে বললে এই দিন দেখা লাগতো না। এ কেমন হানিমুন! হানিমুনের নামে জাহান্নামের ট্যুর বলা যেতে পারে। না না, জেল ট্যুর, হসপিটাল ট্যুর আর আমার জন্য কু’কুরের দৌড়ানির ট্যুরও বলা যায়।”
“আগে বলার মতো কিছু ছিলো?”
একটু ভেবে তুহিন উত্তর করলো,
“সেটাও কথা। বলার মতো তো কিছু ছিলো না৷ পিয়াসীই বা এমন আচরণ কেন করলো? আমি ভাবতেই অবাক হচ্ছি৷ ও সাহসটা পেলো কোথায়?”
“পেয়েছে নাকি কেউ দিয়েছে?”
তৌসিফের প্রশ্নে বুক থেকে মাথা তুলে তাকালো তুহিন। তৌসিফ ওর দিকেই তাকিয়ে। তুহিন এলোমেলো দৃষ্টি ফেললো। তৌসিফ যেন চোখে চোখেই কথা বললো। তুহিন অবাক হয়ে রইলো। এমনটা না হোক। কখনো না হোক। এবারে তুহিন দাঁড়াতে পারবে না। ওর ভেতর থেকে সব ভেঙে গুড়িয়ে যাবে।
দরজায় ততক্ষণে ভীর জমেছে। তৌসিফ হঠাৎই তাকিয়েছিলো, দেখলো ইহান, ইরা সহ তায়েফা দাঁড়িয়ে। দুলাভাই কিবরিয়াও দাঁড়িয়ে পরিবারের সাথে। তুহিন আসার আগে সবাইকে শাসিয়ে এসেছিলো। কেউ যাতে ভেতরে না আসে। তাদের অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখাটা তৌসিফকে একটু কষ্ট দিলো। মানুষ গুলো গতকাল থেকে ঝামেলায় আছে, চিন্তায় আছে। তৌসিফ ডান হাত নাড়িয়ে বললো,

“ওখানে কি? ভেতরে এসো।”
হুড়মুড়িয়ে ঢুকে গেলো কিবরিয়া সাহেবের পরিবার। তায়েফা ঢুকেই এদিক ওদিক চোখ বুলিয়ে আতঙ্কিত স্বরে বললো,
“পৌষ কোথায়?”
তৌসিফ ডান হাত দিয়ে মোটা ব্লাংকেট সরিয়ে এক ঝলক দেখালো পৌষের ঘুমন্ত মুখটা। তায়েফা স্বস্তি পেলো। পৌষটা চিকন দেহের। এমন ভাবে শুয়ে আছে পাশে লেগে, বুঝার কায়দা নেই। ইহান মামাকে ঠেললো। বলতে লাগলো দম্ভ নিয়ে,
“ছোট মামা, সরো এবার। দেখি একটু, দেখতে দাও।”
তুহিন সরে যাওয়ার মতো মানুষই নয়। সে এখান থেকে সরতে ইচ্ছুকও নয়। তায়েফা ছেলের পিঠ চাপড়ালো। হতাশা নিয়ে বললো,

“ও সরবে এখন? কাউচে বস।”
ইরা মামার কপালে হাত দিয়ে তাপমাত্রা দেখলো। নিশ্চিত হয়ে বললো,
“ডক্টর তো আজ থাকতে বললো। মামার তো শরীর ভালোই দেখছি। বাসায় নিয়ে চলব?”
মেয়ের কথায় দ্বিমত করলেন মিস্টার কিবরিয়া,
“আজ থাকুক। বাসায় যাওয়ার পর যদি সমস্যা হয়।”
“আরে দুলাভাই আপনি কি যে বলেন! পৌষ কাছে থাকলে মেঝ ভাইয়ার কিছুই হয় না। মেঝ ভাইয়া হলো জরু কা গুলাম…. বউ থাকলে তার ভাত ছাড়াও দিন চলে যায়।”
ডান হাতটা দিয়ে তুহিনের পিঠে চড় লাগালো তৌসিফ। ঝরঝরে পরিষ্কার কণ্ঠে জানালো,
“হোটেলে ফিরে যাব আজই।”
তায়েফা আঁতকে ওঠে,
“পা গল তুই! তুসু, ফাইজলামি করবি না৷ আমার সাথে চলবি। আপা বাসায় রান্না করে খাওয়াব। শরীর সুস্থ হয়ে যাবে।”

মিস্টার কিবরিয়া স্ত্রীকে সায় দিলেন। পক্ষে বললেন,
“ঠিক বলেছে তোমার আপা। ঔষধে মানুষ ঠিক হয় বিশ পারসেন্ট বাকি আশি পারসেন্ট খাবারে।”
তুহিন স্বভাবসুলভ বাম হাত ঢুকালো বোন, দুলাভাইয়ের কথার মাঝে,
“কিন্তু দুলাভাই মেঝভাইয়ার নিরানব্বই পারসেন্ট ঠিক হয় পৌষ পেলে। বাকি এক পারসেন্ট হাতে রাখলাম। অন্য মানুষ নিয়ে এত কনফিডেন্স আবার ভালো না। পরে আমি ফাঁসব।”
হসপিটালের এই কক্ষটা হাসি ঠাট্টায় গমগম করে ওঠে নিমিষেই। তৌসিফ থামাতো পারলো না কাউকে। ইহান খাবার নিয়ে আসার পর যে যেখানে পারলো খাওয়া শুরু করলো। নার্স এসেছিলো শুধু একবার চেক করতে। রাতে মেডিসিন আছে সেটাও স্মরণ করিয়ে দিয়ে গিয়েছেন৷ ওদের চেঁচামেচির কারণে পৌষের ঘুম ধীরে ধীরে হালকা হয়ে এলো। ঘুম ভাঙতেই ব্যথায় গুঙিয়ে উঠলো খুব সামান্য। শরীর গরম হচ্ছিলো ধীরে ধীরে এখন হয়তো বাড়ছে তবে বাইরে আবহাওয়া ঠান্ডা বলে উষ্ণতাটুকু আরামদায়ক লাগলো পৌষের নিকট। চোখটা খুলতেই টের পেলো নিজের অবস্থান৷ নাক টানলো হালকা তাতেই তাকালো তৌসিফ। বেডে এখন ওরা দু’জনই। তুহিন খাচ্ছে তায়েফার হাতে৷ তৌসিফ আস্তে করে বললো,

“ঘুম না ভাঙলে ঘুমাও তোতাপাখি।”
“ভেঙেছে।”
“ক্ষুধা লেগেছে না। খাবে এখন? আস্তেধীরে উঠো তাহলে।”
“খেয়েছেন আপনি?”
“মাত্র খেলাম।”
“ওহ্।”
“ফুপাতো বোন! উঠেছো মিয়া? খাবে, এসো এখানে।”
পৌষ উঁকি দিলো। মিস্টার কিবরিয়া চলে গিয়েছেন। বাকি চারজন এখানে ওখানে বসা। ইহান হাত তুলে হাই দেখালো পৌষকে। তুহিনের খাওয়া শেষ বলে তায়েফা ওই প্লেটেই খাবার নিলো। উঠে এদিকে আসতে আসতে বললো,
“দৌড়ে গিয়ে মুখটা ধুয়ে আয় তো সোনা। আপা ভাত মেখেছি।”
“খাব না আপা।”
পৌষের উত্তর দিতে দেড়ী হলো কিন্তু তিনটা ধমক খেতে দেড়ী হলো না। একদম প্রথম ধমকটা চাপা স্বরে তৌসিফ দিয়েছে, বাকি দুটো তুহিন আর তায়েফা পালাক্রমে দিয়েছে। পৌষ ক্ষুদ্র শ্বাস ফেললো। তৌসিফ ওর গালে হাতের উল্টো পিঠ ছুঁয়ে আদর দিলো। পৌষ কথা বাড়ালো না। উঠে সোজা বাথরুমে চলে গেলো। সবাই যার যার মতে ব্যস্ত থাকলেও তৌসিফ সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে পৌষকে দেখলো। খতিয়ে দেখলো বাজপাখির নজরে। সবার দৃষ্টিতে যা ধরা পরলো না তা তৌসিফের দৃষ্টিতে খুব সহজেই ধরা পরলো।

ভাতের লোকমা মুখে নিয়েছে পৌষ। বসা তৌসিফের বিছানায়। তৌসিফের দিকে পৌষ তাকিয়েও দেখে নি এখন অব্দি৷ ইহান আর ইরা উঠে বাইরে গেলো কফি আনতে। তায়েফা পৌষকে খায়িয়ে সব বিনে ফেলে ফোন হাতে একটু বাইরে গেলো। তুহিন হাবলার মতো তাকিয়ে আছে পৌষের দিকে। পৌষ চোখ গরম দেখাতেই খ্যাঁক খ্যাঁক করে হাসলো ও। হাসতে হাসতেই বললো,
“ফুপাতো বোনের ফিউজ কি উড়ে গেলো? কথা নেই কেন?”
“কথা তো আমার সবসময়ই থাকে তবে কবে জানি আপনার কথা বন্ধ করে দেই।”
” হা হা, হাসালে তুমি। আসো বাইরে যাই? আইসক্রিম খাবে?”
“তুহিন! এই ঠান্ডায় আইসক্রিম খাবে না পৌষরাত।”
“আমি খাব।”
তুহিন তড়াক করে দাঁড়িয়ে গেলো। নিজের মাফলার পৌষকে দিয়ে ব্যগ্র হয়ে বললো,
“এটা দিয়ে গলা পেঁচিয়ে নাও।”
পৌষ উঠতে যাবে তার আগেই বাহু টেনে আটকালো তৌসিফ। তুহিন চোখ উল্টে তাকালো। ক্ষিপ্ত হয়ে বললো,

“তোমার বউ সহি সালামত ফেরত আনব তো।”
“পা দেখি।”
পৌষকে উদ্দেশ্য করে বললো তৌসিফ। পৌষ নড়লো না। পাও দেখালো না। তৌসিফ জোর করলো এবার,
“পা দেখাও পৌষরাত। তুমি কি ভেবেছো লুকিয়ে যাবে আমার থেকে? কিছু তো হয়েছে। তোমার হাঁটা চিনি না আমি? এভাবে হাঁটছিলে কেন?”
“কিছু হয় নি। নতুন দেশ তাই নতুন ভাবে হাঁটছিলাম।”
“পৌষরাত! পা দেখাও।”
তৌসিফ নিজে উঠেই জোর করে পা টেনে ধরলো। ডান পায়ের তিনটা আঙুল থেতলে গিয়েছে কিছুটা। মাঝখানের একটার নখ উল্টে গিয়েছে নাকি ভেঙেছে তৌসিফ সঠিক বুঝলো না। তার একটু উপরে কিছু দাগ যা চমড়ায় পড়েছে। তৌসিফ চোখ বুজে ফেললো। আবার খুললোও। তুহিন অবাক হয়ে গেলো। চেঁচিয়ে উঠলো ততক্ষণাৎ,

“পায়ে কি হয়েছে? পৌষ? আমি ডাক্তার ডাকছি।”
দৌড়ে বেরিয়ে গেলো তুহিন। তৌসিফ হতভম্ব হয়ে গেলো। এই ফুলের গায়ে ও টোকা লাগতে দেয় না। আদরটা এভাবে ব্যথা পেলো? কারণ হিসেবে নিজেকে দেখতে পেলো তৌসিফ যা তার অনুশোচনা বাড়িয়ে দিলো কয়েকগুণ। হাত বাড়িয়ে পা টেনে নিজের কাছে নিলো। পৌষ নির্বিকার। ও এমনই। ব্যথা প্রকাশে অক্ষম। কেউ বুঝে নিলে যত্ন হয় নাহয় ওভাবেই পড়ে থেকে থেকে শুকিয়ে যায়। আর জ্বর চলে এলে হয় ভুগে নাহয় প্যারাসিটামল। তৌসিফের কণ্ঠ ভেঙে এলো। গলার কাছে কাটার মতো বিঁধে রইলো কিছু। চোখের পাপড়ি গুলো ঝাপটালো কয়েকবার। বললো বেশ ব্যথিত স্বরে,
“কিভাবে হয়েছে পৌষরাত?”
পৌষ রাখঢাক করতে জানে না। না জানে কথা লুকাতে তাই তো উত্তরে একদম সত্যিটা বলে দিলো,
” আপনার পিয়ু তার হিল দিয়ে কুচলে দিয়েছে। একবার না দুইবার। আমিও দিয়েছিলাম তবে ওর সুন্দর মুখে।”

তৌসিফের বুক ধরফরিয়ে উঠলো সহসা। এরমানে ব্যথা আরো কোথাও পেয়েছে। এদিক ওদিক দেখতে গিয়েই হাতে অসংখ্য খামচি দেখলো ও। পৌষ ঝাড়া দিয়ে হাত সরিয়ে নিলো। বললো খামখেয়ালি নিয়ে,
“এতো ঢং দেখাতে হবে না। নিজের প্রতিশোধ নিতে জানি আমি। আমিও দিয়েছি কয়েকটা। শা’লীর মুখটায় কালি লাগাতে পারলে শান্তি পেতাম। এই পৌষের সতীন হওয়া এত সহজ?”
“ও তোমার সতীন না পৌষরাত।”
“যোগ্যও না। আর কমও না।”
“অবশ্যই কম ও হানি।”
তৌসিফ আরো কিছু বলার আগেই পৌষ ওর মুখ চেপে ধরলো। ধারালো কণ্ঠে বলে উঠলো,
“পই পই হিসেব চাই আমার। একদম পই পই। অসুস্থ বলে চুপ আছি। আগা থেকে মাথা সবটা জানাবেন আমাকে। আমি পৌষ ততটাও ভালো কেউ নই। এতিম ভেবে ভুল করবেন না। সাপ বিচ্ছুদের মধ্যে বড় হয়েছি যারা ভরা সমাজে আমার গায়ে কলঙ্ক মেখে দূর করেছে। খাওয়া, পরা, বিলাসিতার ধার আমি পৌষ ধারি না। এটা আপনিও জানেন। বাকি রইলো ভালোবাসা, ওসব আমার সয় না। সইলে আমার মা-বাপ বেঁচে থাকতো। আমি কিন্তু কাউকে ছাড়ব না। আপনাকেও না। হোক পিয়াসী এখন কেউ না কিন্তু একদিন তো ছিলো। বিয়ে না হোক, কথা তো উঠেছিলো। আমার সংসারে যাতায়াত তো ছিলো। কতদূর কি ছিলো আর কেনই বা এখনও যোগাযোগ আছে সব হিসাব চাই।”

হিসহিসিয়ে কথাগুলো বলে তৌসিফের গাল ছেড়ে দিয়ে আলতো চুমু খেলো সেখানে। তুহিন আসার সময় ডাক্তার সহ তায়েফাকে সহ নিয়ে এসেছে। আপাতত পায়ে ড্রেসিং হচ্ছে। র ক্ত জমাট বেধেছে। তায়েফা হা-হুতাশ করছে সমানে। ব্যথাটা এই মেয়ে এতক্ষণ সহ্য করেছে কিভাবে। তৌসিফ পৌষকে বুকে চেপে বসে আছে। ক্ষণে ক্ষণে মাথায় চুমু খাচ্ছে। তুহিন করছে সবচাইতে আশ্চর্যজনক কাজ৷ ও মুখের বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে পৌষকে ব্যস্ত রাখছে যাতে ব্যথা না বুঝে। পৌষ পুরোপুরি ফায়দা লুটলো। একবার বললো,
“একটু বান্দর সেজে দেখান তো।”
তুহিন দেখালো। পৌষ আবার বললো,
“গরিলা।”
তুহিন দুই হাত মুঠ করে বুকে আঘাত করে দেখালো। পৌষ আবার বললো,

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৮৩

“সিমপাঞ্জি?”
“এটা তো পারি না।”
“ইটস ডান। টেইক রেস্ট এন্ড পেইন কিলার মাস্ট। ডোন্ট মেইক এনি ক্রেইজ।”
ডাক্তার আর নার্স বিদায় নিলো। ইহান আর ইরা কফি হাতে ফিরে এলো তখন। পৌষ সটান হয়ে বসে বললো,
“একটা ভাউয়া ব্যাঙের নাচ দেখান তো।”
“ঠাটিয়ে একটা মা’রব।”
“আমি ছেড়ে দিব? পাঁচটা মা রব।”
দু’জন হঠাৎ করে মায়া মহব্বত ছেড়ে ঝগড়া শুরু করলো যা থামলো তায়েফার বিকট ধমকে।

প্রেমসুধা সিজন ২ পর্ব ৮৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here