না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৭ (৩)
মাইশা জান্নাত নূরা
কৃত্রিমভাবে তৈরি পুকুরটার ধারে সাজানো কাঠের বেঞ্চে বসে আছে নির্ঝর। এই বেন্ঞ্চটাই যেনো আজ নির্ঝরের দুঃখকে ভাগ করে নেওয়ার জন্য একমাত্র ঠিকানা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তো দীর্ঘক্ষণ ধরে এই স্থানেই বসে আছে সে। ইলমাদের বাসা থেকে বেরোনোর পর থেকেই নির্ঝরের ওমন এলোমেলো অবস্থা দেখে তেজ নির্ঝরের কষ্ট কমাতে হুইস্কি মেশানো জুস খাইয়েছিলো ওকে। কিন্তু সেটাই যে ওর জীবনের এতোবড় ভুল হয়ে দাঁড়াবে তা তেজ আগে বুঝে নি।
কারণ এই হুইস্কি নির্ঝরের শরীরে প্রবেশ করার পর ওর জন্য তা সান্ত্বনামূলক ঔষধী হয়ে না দাঁড়িয়ে ওর ভিতরে সুনামি, টর্নেডো সব শুরু করে দিয়েছে।
ফলস্বরূপ নির্ঝর কাঁদছে। মাঝে মাঝে হেঁচকি তুলছে তবুও কাঁদছে। অনুর সামনে হওয়া নিজের সেই মহা বে*ইজ্জতিটা কিছুতেই হজম করতে পারছে না নির্ঝর। পেটের ভিতর থেকে গলা পর্যন্ত অদ্ভুত গ্যাসের মতো কিছু একটা জমে আছে যেনো ওর।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
নির্ঝরের সামনেই এদিক থেকে ওদিক, ওদিক থেকে এদিক পায়চারি করছে তেজ। তেজের হাত দু’টো পেছনে বাঁধানো, ভ্রু-জোড়া হালকা কুঁচকানো অবস্থায় রয়েছে। একটু পর পর তেজ নির্ঝরের দিকে এমনভাবে তাকাচ্ছে যেনো ওর এই কান্নার বোঝা বড্ড ভাড়ি হয়ে গিয়েছে তেজের কাঁধের উপর।
তখুনি নির্ঝর বি*কট শব্দ করে নাক ঝাড়লো। নির্ঝরের নাকের ভেতর থেকে ময়লারূপে ওর মস্তিষ্কে জমে থাকা আবেগ ও দুঃখগুলো বেড়িয়ে এসে পড়লো তেজের পায়ের কাছে ঘাসের উপর।
তেজ মুখ কুঁচকে এক কদম পিছিয়ে গিয়ে বললো….
—“ইয়াক! দেখে-শুনে পরিষ্কার করবি তো। এখুনি আমার পায়ের উপর এসে পড়তো সব।”
তেজের কথাটুকু যেনো নির্ঝরের কান পর্যন্ত পৌঁছালো না। নির্ঝর ফ্যঁ*স ফ্যঁ*স করে কাঁদতে কাঁদতেই বললো…..
—“আমি আমার এই চব্বিশ বছরের জীবনে হওয়া সব বে*ইজ্জতিকে হজম করে নিয়েছি তেজ ভাই, সব। বন্ধুদের সামনে ট্রাউজার ছিঁ*ড়ে যাওয়ার মতো বে*ইজ্জতিও আমার মনে প্রভাব ফেলতে পারে নি ততোটা কিন্তু এবারের বে*ইজ্জতিটা! এইটা আমার হজম শক্তির বাইরে চলে গিয়েছে, তেজ ভাই।”
নির্ঝর থামলো। তেজ দাঁতে দাঁত চেপে দাঁড়িয়ো দাঁড়িয়ে দেখছে নির্ঝরকে। নির্ঝর এবার একহাতে নিজের বুক চাপ*ড়াতে চাপ*ড়াতে বললো….
—“আল্লাহ আমায় এতো কিউট করে বানিয়েছেন। সুনামধন্য একটা বংশে জন্ম হয়েছে আমার। চাল-চলন কতো গোছালো, কথা-বার্তায় ভদ্রতা স্পষ্ট ফুটে উঠে, হাঁটা-চলাও যথেষ্ট এলিগেন্ট লাগে। তবুও! তবুও, আমার ক্রাশ কিভাবে আমায় ওই কথা বলতে পারলো, তেজ ভাই? কিভাবে? কিভাবে?”
এই পর্যায়ে তেজ আর নিজেকে সামলাতে পারলো না। বিরক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে যেনো তেজ। কারণ বিগত সময়গুলোতে নির্ঝরের মুখ থেকে এই কথাগুলো অন্তত শ’খানেক বার শুনতে হয়েছে তেজকে। তেজ নির্ঝরের দু’কাঁধ ধরে ঝাঁকিয়ে ঝাঁকিয়ে বললো….
—“এই বেডা! আর কতো কান্না করবি, হ্যাঁ? চোখ দিয়ে এতো পানি বের হচ্ছে কিভাবে তোর বল তো! তোর শরীরের শিরায় শিরায় কি আজ রক্তের বদলে নোনতা পানি চলাচল করছে?”
নির্ঝর এবার কান্না থামিয়ে তেজের দিকে তাকালো। নির্ঝরের এই দৃষ্টি ভিষণ অদ্ভুত লাগছে তেজের কাছে। নির্ঝরের ভেজা চোখ, লালচে নাক, কাপান্বিত ঠোঁটজোড়া দেখে তেজ আত্মরক্ষামূলক ভঙ্গিতে বললো…..
—“এই! আমার দিকে ওইভাবে তাকাচ্ছিস কেনো? এখন আবার আমার ভেতরে অনুকে দেখতে পাচ্ছিস নাকি? তাহলে তো এবার আমার ই*জ্জ*তের ওপর হামলে পড়তেও দু’বার ভাববি না তুই!”
নির্ঝর ফোঁস করে নাক টেনে বললো….
—“অনু! আমার অনু!
কেনো তুমি এতো পাষাণী
ভাবতেও পারি নি আমি
কষ্টে বুক ফেঁ*টে যায়
এতো বেশি কষ্ট রাখবো আমি কোথায়?
অ্যাঁ অ্যাঁ অ্যাঁ…!”
তেজ শব্দ করে নিঃশ্বাস ফেলে বিরবিরিয়ে বললো…..
—“যে ছেলে ফিডারে দুধ খেয়ে অভ্যস্ত তাকে আমি বেক্কল খাইয়েছি হুইস্কি। রিয়াকশন তো ডেঞ্জারাস হওয়ারই ছিলো। আজ এই কানে ধরছি জীবনে তোকে মিনারেল ওয়াটার ছাড়া আর কিছু খাওয়াতাম না।”
ইলমা ওর রুমে গ্যসের চুলায় রাতের জন্য রান্না করছিলো। অনুও ইলমার রুমেই বিছানায় বসে আছে। অনু বললো….
—”ইলমা আপা, তুমি আমাকে এভাবে পুতুলের মতো সাজিয়ে আর কতোসময় বসিয়ে রাখবে বলো তো! আমিও একটু তোমার কাজে হাত লাগাই না! বড্ড অলস হয়ে যাবো নয়তো আমি।”
ইলমা কাজ করতে করতে বললো….
—”অসুস্থ তুমি অনু। এখন সময় তোমার কেবল বিশ্রাম নেওয়ার। তাই চুপচাপ বসে থাকো। এতোটুকু কাজ আমি একাই করে নিতে পারবো।”
—”এতোটাও অসুস্থ না আমি আপা। বরং তুমি আমায় কাজ করতে না দিয়ে দিয়ে আদরের দুলালি বানাচ্ছো।”
ইলমা চুলায় বসানো মুরগীর মাংস টুকুতে শেষ ঝোল দিতে দিতে একটু কড়া কন্ঠেই বললো…..
—”এখন কিন্তু তুমি আমার থেকে শক্ত ব*কা খাবে অনু।”
অনু শব্দ করে একবার নিঃশ্বাস ফেলে চুপ হয়ে গেলো ঠিকই কিন্তু ওর দৃষ্টি ইলমার উপরেই স্থির। ইলমার প্রায় প্রতিটি কাজের মাঝেই অনু যেনো ওর মা’কে খুঁজে পায়। অনুর মা’ও ওকে কোনো কাজে হাত লাগাতে দিতো না যখন তিনি সুস্থ থাকতেন। যদি অনু জোর দেখাতো কাজ করবে বলে তখন অনুর মা’ও অনুকে ইলমার মতো করে এভাবেই বলতেন। অনুর দু’চোখ ছলছল করে উঠলো মূহূর্তেই। বুকের ভিতরটাতে হুট করে মায়ের শূন্যতা অনুভব হতে শুরু করলো অনুর। অনু একবার ঢোক গি*লে দৃষ্টি চন্ঞ্চল করলো। মনে মনে আওড়ালো…
—”না, আমি কাঁদবো না। মা তো আমায় সবসময় হাসি-খুশি থাকতে বলেছিলো। আমি কাঁদলে মায়ের রুহুও ক*ষ্টও পাবে নিশ্চয়ই। আমার মা বেঁচে থাকাকালীন কখনও সুখের মুখ দেখেন নি। ম*রে যাওয়ার পরও আমার তরফ থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কারণে তিনি ক*ষ্ট পাক তা আমি চাই না। আমাকে আরো শক্ত হতে হবে। অনেক শক্ত।”
বাইক নিয়ে বাসা থেকে বেড়িয়েছিলো তেজ। এখন নির্ঝরের যে অবস্থা তাতে ওকে বাইকের পিছনে বসিয়ে ওদের বাংলো বাড়ি পর্যন্ত যাওয়াও সম্ভব না। আর বাসায় তো আরোই নেওয়া যাবে না। কারণ ওদের পরিবারের সবাই তেজ ও নির্ঝরকে যথেষ্ট ভদ্র হিসেবেই চিনে, জানে। সন্ধ্যা পেরিয়ে এখন রাত নেমেছে। তেজ আর নির্ঝর এইমূহূর্তে যেখানে অবস্থান করছে এই জায়গা রাত ৯টার পর খুব একটা নিরাপদ নয়। তাই তেজ আর কোনো উপায় না পেয়ে সরাসরি সারফারাজকে কল করতে বাধ্য হলো।
সারফারাজ সবেমাত্র ওর সিক্রেট অফিস থেকে গাড়ি নিয়ে বেড়িয়েছিলো বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে। ওর সাথে আহাদও আছে। সারফারাজদের বাসায় যাওয়ার রাস্তাতেই আহাদের বাসা পরে যায়। তাই বেশিরভাগ সময় আহাদ সারফারাজের সাথে ওর গাড়ি করেই বাসায় ফিরে। সারফারাজ ড্রাইভিং সিটে বসে ড্রাইভ করছে। আহাদ পাশের সিটেই বসে আছে। সেইসময় সারফারাজের ফোন বেজে উঠলে সারফারাজ বললো…..
—”ফোনটা রিসিভ করে লাউডস্পিকার অন করো আহাদ।”
আহাদ ফোন রিসিভ করে লাউড স্পিকার অন করে সারফারাজের মুখের সামনে ধরলো। ফোনের ওপাশ থেকে তেজ বললো…..
—”ভাইয়া, আমরা একটা প্রবলেমে ফেঁ*সে গিয়েছি। প্লিজ তুমি এসে আমাদের উদ্ধার করো। আমি হোয়াটসঅ্যাপে আমাদের লোকেশনটা তোমায় সেন্ড করছি।”
তেজের কথা শুনে সারফারাজের ভ্রু কিন্ঞ্চিত কুঁচকে এলো। সারফারাজ প্রতিত্তুরে কিছু জিজ্ঞেস করতে নিবে তার আগেই তেজ ফোনটা কেটে দিলো। সারফারাজ মুখ দিয়ে ‘চ’ এর মতো শব্দ উচ্চারণ করে বললো….
—”এই ছেলে দু’টোকে নিয়ে যে আমি কি করবো! এরা একটা না একটা ঝা*মেলায় রোজ ফেঁ*সে যাবেই। আহাদ দেখো তো লোকেশনটা কোথাকার!”
আহাদ হোয়াটসঅ্যাপ চেক করে তেজের পাঠানো লোকেশনটা বলে দিলো। অতঃপর সারফারাজ সেই পথেই দ্রুত গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যেতে শুরু করলো।
খান ভিলায় ডাইনিং টেবিলে খাবার খাওয়ার জন্য বসেছে মহিলারা সবাই। গুরুজন পুরুষরা খাওয়া শেষ করে রুমে রুমে চলে গিয়েছেন আগেই। নীরার শরীর কিছুটা খারাপ লাগায় সে অল্প খেয়ে সন্ধ্যাতেই ঘুমিয়ে গিয়েছে। পিহুও বসে আছে ডাইনিং টেবিলে তাঁদের সবার সাথে। তাহমিনা বললেন…..
—”পিহু মা, তুমিও আমাদের সাথেই খেয়ে নিলে পারতে।”
পিহু স্মিত হেসে বললো….
—”না মা, আপনারা খেয়ে নিন। উনি আসলে একসাথেই খাবো আমরা।”
পিহুর এই বিষয়টা শুরু থেকেই তাহমিনার কাছে বড্ড ভালো লাগে। আতুশি বললেন….
—”জানো বউমা, বিয়ের শুরুর সময়ে আমিও এমন ছিলাম। তোমার ছোট চাচাকে ফেলে একা খেয়ে নিতাম না বাকিদের সাথে। আসলে স্বামীর জন্য না খেয়ে রাত জেগে অপেক্ষা করার পর যখন স্বামী বাসায় ফিরে অতঃপর তার সাথে বসে খাবার খাওয়ার মাঝে যেই শান্তিটা, যেই তৃপ্তিটা লুকিয়ে আছে তা আসলেই অন্যরকম।”
শিউলি আতুশিকে মনে মনে সমর্থন করলেন যদিও তবুও কিছুটা মজা নিতে বললেন…..
—”একেবারে না খেয়ে অপেক্ষা তো করতি না তুই ছোট। সন্ধ্যা থেকেই দেবর মশাই আসার পূর্ব মূহূর্ত পর্যন্ত তোর মুখ চলতোই। এটা নয়তো ওটা, ওটা নয়তো সেটা খেয়ে খেয়ে পেট ফুলিয়ে রাখতি যে তুই তা ঠিকই চোখে পড়তো আমাদের।”
শিউলির এরূপ কথা শুনে পিহু ঠোঁট চেপে হাসতে শুরু করলো। তাহমিনাও হেসে হালকা মাথা দুলালেন। পিহুর সামনে একটু যা ভাব নিয়েছিলো আতুশি তা শিউলি এভাবে ন*ষ্ট করে দিলো দেখে হালকা লজ্জায় আতুশির ফর্সা গাল দু’টো লালচে বর্ন ধারণ করেছে। আতুশি বললেন….
—”এভাবে বউমার সামনে আমার ই*জ্জতের সাথে ছিনিমিনি না খেললেও পারতে তুমি মেজো ভাবী! লজ্জা পেলুম বহুত।”
পিহু বললো…..
—”ছোট চাচী মা! একদম লজ্জা পেও না তো তুমি। বরং তোমার কাজটা যে ভালো ছিলো এটাই বলবো আমি। কারণ সেইসময় থেকেই একটু পর পর খাবার খেয়েছো জন্যই তুমি মাশাআল্লাহ এখনও এত্তো কিউট দেখতে। তোমাকে যে আমার কি ভিষণ ভালো লাগে তা বলে প্রকাশ করার মতো না। সবসময় এমনই গুলুমুলু হয়েই থেকো কেমন!”
পিহুর প্রশংসায় আতুশির লজ্জা-টজ্জা ভাব সম্পূর্ণ কেটে গেলো। ওর মনটাও ফুরফুরে হয়ে গেলো আগের থেকে। শিউলি বললেন..
—”থাক থাক আর লায় দিয়ে ওকে মাথায় উঠিও না তুমি বড় বউমা। এভাবে খেতে খেতেই আলুর বস্তা হয়ে এতো শতো রোগের বাসা বাঁধিয়েছে নিজের শরীরে। ডাক্তার ওকে প্রোপার ডায়েট মেইনটেইন করে চলতে বলেছেন। শরীরের অতিরিক্ত ওজন না কমালে ভবিষ্যতে ওর অবস্থা দেখার মতো থাকবে না বুঝলে!”
আতুশি একটু করে যেই না খুশি হয়ে বেলুনের মতো ফুলে উঠছে ওমনি সময় শিউলি ওর সব হাওয়া ফুঁস করে বের করে দেওয়ার গুরু দায়িত্বটা স্বযত্নে পালন করতে ভুলছে না। পিহু বললো…
—”সেটাও ঠিক, ডাক্তার যেহেতু বলেছেন সেহেতু তার কথানুযায়ী চলাটাও বাধ্যতামূলক। ছোট চাচী, তুমি একদম মন খারাপ করো না। আমি তোমাকে এমন এমন সব খাবার রান্না করে দিবো যাতে তেল, মশলার পরিমাণ কম হলেও খেতে দারুণ সুস্বাদু হবে। আর তা তুমি যেমন খুব তৃপ্তি করে খেতে পারবে তেমনই তোমার ডায়েটও যথাযথ ভাবে মেইনটেইন হবে।”
পিহুর কথায় আতুশি আবারও যে খুশি হয়েছে তা ওর চেহারার রং দেখেই বোঝা যাচ্ছে। আতুশি শিউলিকে উদ্দেশ্যে করে বললেন….
—”এবার আমার খেয়াল রাখার জন্য আমার মা এসে গিয়েছেন মেজোভাবী। তুমি আর আমায় তরকারীতে অতিরিক্ত তেল-মশলা ব্যবহার করা নিয়ে ঝা*রি দিতে পারবে না। এবার আমি আমার অতিরিক্ত ওজন কমিয়েই ছাড়বো হু।”
শিউলি মৃদু হাসলেন প্রতিত্তুরে আর কিছু বললেন না। পরক্ষণেই পিহুর নজর পড়লো তাহমিনার উপর। তাহমিনা মাথা নিচু করে বসে আছেন। প্লেটে থাকা খাবারগুলোর মাঝে এখনও ৩ ভাগ খাবার পরেই আছে। তাহমিনাকে নিজের বুকের বাঁ’পাশটায় হাত রাখতে দেখে পিহু দ্রুত স্বরে বললো….
—”মা! কি সমস্যা হচ্ছে আপনার? বুকে কি কোনোরকম চাপ অনুভব করছেন?”
পিহুর কন্ঠ কর্ণপাত হতেই আতুশি ও শিউলিও চোখ তুলে তাকালেন তাহমিনা, পিহুর দিকে। তাহমিনার চোহারায় হালকা কুঁচকানো ভাব স্পষ্ট হলো। তাহমিনা বললেন…..
—”পানি, পানি দাও আমায়।”
পিহু সামনে থাকা পানির গ্লাসটা উঠিয়ে নিয়ে নিজ হাতেই তাহমিনাকে তা খাইয়ে দিলেন সামান্য। শিউলি আর আতুশি নিজ নিজ চেয়ার ছেড়ে উঠে তাহমিনাকে ঘিরে দাঁড়ালেন। আতুশি বললেন….
—”বড় ভাবী! খুব সমস্যা হচ্ছে তোমার? ডাক্তারকে আসতে বলবো?”
তাহমিনা হাত উঠিয়ে ‘না’ সূচক জবাব দিলেন। কিয়ৎক্ষণ পর তাহমিনা বললেন….
—”খুব বেশি সমস্যা হচ্ছে না। কিন্তু বুকের ভেতরটাতে কেমন যেনো লাগছে। অস্থির অস্থির বোধ করছি।”
তেজের বলা জায়গাটাতে এসে গাড়ি থামালো সারফারাজ। অতঃপর আহাদ ও সারফারাজ দু’জনেই গাড়ি থেকে নামলো। আশ্চর্যের বিষয় হলে আশেপাশে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত সারফারাজ বা আহাদ দু’জনের কেউ-ই তেজ ও নির্ঝরকে দেখতে পেলো না। আহাদ বললো….
—”বস, ওনারা তো নেই এখানে। তাহলে আপনাকে যে এখানে আসতে বললেন!”
না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ২৭ (২)
সারফারাজের কপালে কয়েকটা ভাঁজ স্পষ্ট হলো। সারফারাজ হেঁটে পুুকুরের ধারে চলে আসলো। সেখানেই একটা বেন্ঞ্চের পাশে ঘাসের উপর সারফারাজ একটা সানগ্লাস পরে থাকতে দেখলো। সারফারাজ সানগ্লাসটা হাতে উঠিয়ে নিলো। ভালো করে নজর বুলিয়ে বললো….
—”এটা তো তেজের সানগ্লাস। এখানে এভাবে পরে আছে কেনো সানগ্লাসটা? ভেঙেও তো গিয়েছে একটা গ্লাস। তেজ কোথায়?”
