Home এমপি তামিম সরকার এমপি তামিম সরকার পর্ব ১০৩

এমপি তামিম সরকার পর্ব ১০৩

এমপি তামিম সরকার পর্ব ১০৩
কায়নাত খান কবিতা

—-যেই কপালে এক্স চু’ম্মা দিছে, ওই কপালে আবার ভালো কিছু হইবো কেমনে, বি’ষের একটা পাওয়ার আছে না।’’
–তুই নিজেই তো একটা কাল সাপ, তোরে আবার বি’ষ লাগবো কেমনে?’’
তামিমের কন্ঠস্বর কানে ভেসে আসতেই সকলে পিছনে ফিরে তাকায়। হাত ভাজ করে চুপচাপ দাড়িয়ে আছে তামিম।
–আছলে ভাই, এই বি’ষ হেই বি’ষ না। এইটা হইলো পিরিতের বি’ষ।
সাকিব প্রচন্ড আফসোস নিয়ে তামিমের উদ্দেশ্যে কথাটি বলে। তার এক আকাশ পরিমাণ আফসোস দেখে যে কেউ বলে দিবে মনে বড় কষ্ট, মাহির সাকিবের থেকে সরে একটু দূরে গিয়ে দাড়ায়,

—ভাই আমাগো বো’মায় ছ্যাকা খাইছে’’
– ওই প্রেমে পড়লো কবে?’’
–ভাই, কোচিং এর ইংলিশ ম্যাডামের মাইয়া সাদিয়ার লগে ট্যাম্পু চলে ভালোই।
– তোরে পড়তে পাঠাই ছিলাম না-কি প্রেম করতে?’’
সাকিব লজ্জায় আর তামিমের দিকে তাকায় না। মাথা নুইয়ে রাখে মাটির পানে। তামিম খুব কড়া দৃষ্টিতে সাকিবের দিকে তাকায়। কারণ সাকিবই এক মাত্র ব্যক্তি যিনি ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ রেজাল্ট করেছিল, তাই ১.৩০ পেয়ে। এতো ভালো রেজাল্ট করার পর ও সে কীভাবে প্রেম করতে যায় আল্লাহ মাবুদ জানে। মানুষের বিন্দু মাত্র লজ্জা তো থাকা উচিত।
তামিম আর কোনো কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ নিজের কেবিনে চলে যায়। সাকিব তখন ও মাথা নিচু করেই রাখে। তামিম যাওয়ার সাথে সাথে সাকিব মাহিরের দিকে তাকায়।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

— নিজের কপালে ছেড়ি জুটে না তাই আমারে হিংসা করোছ তুই।’’
–ওলে আমাল পেমিক লে। একে তো খাইছোস ছ্যাকা, তার উপরে কথা ন্যাকা ন্যাকা, যা সর শালা।’’
–তোর উপরে বো’ম ফাটানো ফর’জ হয়ে গেছে, খাড়া শা’লার ভাই আজকে।
সাকিব উঠে নিজের জুতে খুলে মাহিরে মারার জন্য তাড়া করে। অপরপ্রান্তে মাহির দৌড়ে সোজা তামিমের কেবিনে চলে যায়। এখন এক মাত্র তামিমই পারে তাকে সাকিবের ক্রোধ থেকে বাঁচাতে।
মাহির এসে সোজা তামিমের কেবিনে ঢুকে পরে।
— ও ভাই, বো’মা পাগল হয়ে গেছে। বাঁচান।’’

তামিম কিছু না বলে শুধু কান্ডকারখানা দেখে। ভেবেছিলো পড়াশোনা করে তার পঞ্চ পান্ডব একটু মানুষ হবে।কিন্তু না। এরা শুধরানোর নয়। মাহির তামিমের চেয়ারের সোজা হয়ে দাড়িয়ে পরে। সাকিব নিজের বো’ম নিয়ে কেবিনে চলে আসে। এক এক করে বাকি তিন জন ও কেবিনে হানা দেয়।
– ভাইয়ের পিছনে লুকাস। বাইর হ কু’ত্তা।’’
—এহহহহ! আইছে, আমি বাইর হমু, আর তুই আমার ইয়াক্কা বুলবুল করে দিবি৷ এতো সোজা না। আমি জাতে মা’তাল হলে ও তালে ঠিক। ‘’
–দেখছেন ভাই, আপনার ডায়লগ কপি করছে।’’

সাকিব এবং মাহির চরম তর্কে জড়িয়ে পরে। সাদিয়ার রাগ সাকিব আজকে মাহিরের উপরে তুলবে বলে ঠিক করে। তামিম তখন চুপ। এক পর্যায়ে সাকিব এবং মাহিরের ঝগড়া এতোটাই বেড়ে যায় যে উপস্থিত সকলে মোটামুটি বিরক্ত। একদম মেয়ে মানুষের মতো ঝগড়া শুরু করে দেয় সাকিব এবং মাহির। তাদের প্রতিটা বাক্য ছিলো একজন আরেকজনকে পিঞ্চ করে কথা বলা। ছোটো থেকে এই অব্দি দু-জন দু-জনের সমস্ত অপকর্ম গুলো তামিমের সামনে এক এক করে তুলে ধরতে থাকে।

—ভাই, এই বো’মার বাচ্চা ছোটো বেলা আপনার পকেট থেকে বি’ড়ি চু’রি কইরা খাইছিলো।
তামিম রাগি দৃষ্টিতে তাকায় সাকিবের দিকে। সাথে সাথে সাকিব নিজেকে ডিফেন্ট করা শুরু করে,
–ভাই, এই জীম বডির বাচ্চা আপনার পকেট থেকে ১ হাজার টাকার নোট নিয়া সকিনার সাথে সিনেমা দেখতে গেছিলো। ‘’
–মিছা কথা ভাই, ওই টাকার মধ্যে ৫০০ ভাগ ওই নিজে নিছিলো।’’
–ভাই মিছা কথা,
–না ভাই হাছা কথা,,
সাকিব এবং মাহির ঝগড়ার এমন পর্যায়ে চলে যায়, পুরো পার্টি অফিসে যেনো আ’গুন লেগে যাবে। সকলে তাদের থামাতে ব্যস্ত হয়ে পরলে ও তামিম একদম চুপ হয়ে থাকে।তার নীরবতা বলে দিচ্ছে আজকে দু-জনের পিছনের ছাল উঠবে।

সকলে যখন তুমুল ঝগড়াতে ব্যস্ত তখন তামিম উঠে দাড়ায়। তার উঠে দাড়ানো দেখে পরিবেশ একদম শান্ত হয়ে যায়। যেনো নিঃশ্বাস ফেললে ও তার শব্দ শোনা যাবে।
তামিম উঠে নিজের পাঞ্জাবির হাতা জড়িয়ে উপরে উঠাতে থাকে।
—ভাই ক্ষেপছে রে..পালা শা’লার ভাইরা।’’
পঞ্চ পান্ডব পাঁচ দিকে দৌড় দেওয়ার জন্য রেডি হয়, কিন্তু কোনো লাভ হয় না। তার আগেই কো’পা শামসু দরজা বন্ধ করে ভিতরে ঢুকে পরে।
পঞ্চ পান্ডব ভয়ে ভয়ে তামিমের দিকে তাকায়। তারপর একজন আরেকজনের পিছনে। মাহির এবং সাকিব এক জন আরেক জনের পিছনের দিকে তাকিয়ে একসাথে বলে উঠে,

–আকাশ ভরা তারা…’’
‘’ কিছু ক্ষণ পর ‘’
‘’মাহির’’–ইসসসস! শীতের মধ্যে, আয় হায়..”
‘’মানিক’’—- সইরা ব রফিক’’
‘’রফিক’’—আমি পা** লড়াইতে পারুম না, তুই সর, ইউ মা..’’
‘মফিস’’— সব দোষ এই সাকিব্বাহর..ওর লাইগা, আজকে আমাগো.. ওরে বাপ রে।।’’
প্রায় আধ ঘন্টা ধরে চলে তামিমের লা’ঠি চার্জ, সাকিবের জন্য বাকি চার জন্য ও মা’র খাই। প্রত্যেকের পিছনের ছা’ল তুলে ফেলা হয়। এক পর্যায়ে সকলে মাটিতেই কাত হয়ে শুয়ে থাকে। কারণ সরাসরি বসার মতো কোনো পন্থা নেই তাদের। পিছনের অবস্থা বড়ই করুন তাদের। তাই সকলে মিলে সাকিবকে ধরে। আজকে তার জন্য বাকি চার জনের এই করুন অবস্থা।

সকলে প্রচন্ড ক্ষোভ নিয়ে তাকায় সাকিবের দিকে।
সাকিব হালকা নড়ে নিজের পটেক থেকে কালো চশমা বের করে চোখে পরে ফেলে।
‘’সাকিব’’__ তামিম ভাই বলেছিল, সাকিব তুই প্রেম করিস না, ভালো পোলা গো কপালে ভালো মাইয়া জুটে না’’
মা’র খেয়ে সকলে যতটা না বিরক্ত তার থেকে ও বেশি বিরক্ত সাকিবের গান শুনে। একটা মানুষ কতটা নির্লজ্জ হলে এভাবে গান গাইতে পারে জানা নেই তাদের।

—রাত তখন ১২ টার বেশি। আজ এই পঞ্চ পান্ডবের জন্য তামিমের বাড়ি ফিরতে অনেকটাই দেরি হয়ে যায়। সুবহার সাথে তেমন একটা কথা হয়নি তামিমের। কল করে ছিলো তামিম দু-বার কিন্তু সুবহা ধরেনি। হয়তো তার ভাইয়ের রুমে ছিলো। ইদানীং সৌরভের হেল্থ কন্ডিশন আগের থেকে অনেকটাই ইম্প্রুভ হচ্ছে। তাই সুবহার পুরো ধ্যান থাকে তার ভাইয়ের উপরে। যদি কোমা থেকে উঠে তাকে খুঁজে, আর দেখতে না পায় তখন?
তাই তামিম ও তেমন একটা গা-গেরাজ্জি করে নি। মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে থাকে।
–রাত তখন ১২:৫৩ মিনিট। সরকার বাড়ির মূল ফটকে তামিমের গাড়ি এসে থামে।
গাড়ি থেকে নামতেই তামিম দেখে তার আব্বাজান এখন ও গার্ডেনে একা একা বসে রয়েছে। সচারাচর বেশি রাত অব্দি জাগেন না তানভীর সরকার। আয়েশা সরকারের সাথে বিয়ের পর থেকে তার মতো ভালো মানুষ আর দু-টো খুজে পাওয়া যায় না
তামিম সোজা তার আব্বা জানের কাছে চলে যায়।

– আসসালামু আলাইকুম আব্বাজান’’
তানভীর সরকার চোখের ইশারা দিয়ে তামিমের সালামের উত্তর নেয়।তারপর তাকে কাছে ডাকে।
তামিম গিয়ে সোজা তার পায়ের কাছে গিয়ে বসে পরে।
— এই দুনিয়াতে আপনি কাকে বস থেকে বেশি ভালো বাসেন তামিম?’’
– আপনাকে আব্বা জান’’
তানভীর সরকার তামিমের হাত ধরে চু’মু খায়। তামিম একটা ধাঁধার মধ্যে চলে যায়। একটা চিন্তা তার মাঝে দেখা দিতে শুরু করে। তার আব্বাকে কখনো সে এতো আবেগি হতে দেখেনি। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে কোনো না কোনো বিষয় রয়েছে।

— আমি কাকে সব থেকে বেশি ভালো বাসি জানেন?’’
– জ্বী আব্বা, আমার আম্মাকে।’’
– ঠিক! আমার ভালোবাসা এখন ভয়ে পরিনত হয়েছে তামিম।’’
— কীসের ভয় আব্বা’’
– আপনার যদি সত্যিটা জেনে যায়, আমাকে ছাড়তে তার দু’সেকেণ্ড ও সময় লাগবে না’’
তামিম তার বাবার হাত শক্ত করে ধরে। চোখ দিয়ে আস্তত্ব করে কিছু হবে। যেই অতীত সকলের অজানা সেটা অজানাই থাকবে।

– সরকার ভাই ও ভয় পায়? বিষয়টা কেমন বেমানান না আব্বা? ‘’
তানভীর সরকার আর কিছু না বলে তামিমের গালে আদুরে চ’ড় মা’রে ধীরে।
—- শুভ রাত্রি বাবা জান, ঘরে জান’’
তানভীর সরকার তামিমকে ঘরে পাঠিয়ে নিজে গার্ডেনে বসে থাকে। সিগা’রের ধোঁয়া উড়াতে উড়াতে আকাশের পানে তাকায়

—– আমি ক্ষমতায় চলি না, ক্ষমতা আমার দ্বারা চলে।’’
–কক্ষে এসে তামিম দেখতে পায় কম্ফোর্টার মুড়ি দিয়ে একদম ছোটো বাচ্চাদের মতো শুয়ে থাকে সুবহা।
— একটা মানুষ কতটা স্নিগ্ধ হলে তাকে ঘুমালে ও পরীর মতো লাগে।’’
ঘুমন্ত সুবহার উদ্দেশ্যে নিজের প্রেম নিবেদন করে তামিম। কিন্তু তার এই প্রেমময় বাক্য শোনার জন্য সুবহা জেগে নেয়। ঘুমিয়ে আছে গভীর নিদ্রাতে।
তামিম সোজা ওয়াশরুমে চলে যায়, একটা লম্বা শাওয়ারের প্রয়োজন তার। সারা দিন অনেক ধকল গেছে তার।
বেশ লম্বা একটা শাওয়ার নিয়ে শুধু মাত্র তয়লা পেঁচিয়ে বেরিয়ে আসে তামিম। পুরো শরীরে পানি লেগে রয়েছে এখনো।

— হয়ে গেছে? ‘’
সুবহার কন্ঠস্বর কানে ভেসে আসতেই এক গাল হাসি দিয়ে তাকায় তামিম তার পানে।
সুবহা টি-টেবিলে খাবার গুলো সুন্দর করে গুছিয়ে রাখছে। হয়তো কিছু ক্ষণ আগেই গরম করে এনেছে সে। তামিম এসে সোজা সুবহাকে পিছনে থেকে জড়িয়ে ধরে।
—ঘুমাও নি পরী?’’
— আপনাকে ছাড়া ঘুম আসে? ‘’
– আমি যে দেখলাম বিলাইয়ের বাচ্চার মতো ঘুমিয়ে ছিলে!’’
— ঘুমাইনি, চোখকে বিশ্রাম দিচ্ছিলাম।’’
তামিম সুবহাকে ঘুরিয়ে নিজের দিকে ফেরায়। সিঁতির মাঝ বরাবর চু’মু খায় সুবহার।
—- আমি তোমাকে অনেক ভালো বাসি সকাল, যতটা পরিমাণ করা যায় না তার থেকে ও বেশি’’
–আমি যদি কখনো মা’রা যায়, তখন কি করবেন?’’
— তোর লা’শ নিয়ে সংসার করবো বদজাত পোলাপান’’
সুবহার মৃ’ত্যুর কথা শুনে তামিম প্রচন্ড রেগে যায়। তার মুখের হাসি একেবারে গায়েব হয়ে যায়। মজা করার জন্য মৃ’ত্যুর কথা বলা কি জরুরি?

— সরি তামিম! সো সরি””
–ছাড়,
–নাহ
–ছাড়তে বলছি’’
—- নাহ’’
—তুই ছাড়বি কি-না? ‘’
তামিম প্রচন্ড রেগে যায়। সুবহাকে সরিয়ে চুপচাপ গিয়ে বেডে বসে পরে। তামিমের এই উপেক্ষা সুবহার মনে ও দাগ কেটে যায়। সে নাহ একটা মজা করেই ফেলেছে, তাই বলে এতো রাগ করতে হবে তামিমের।
সুবহা ও কপাল কুঁচকে গিয়ে বসে পরে সোফাতে। সে ও কোনো কথা বলবে না তামিমের সাথে। এভাবেই কিছু ক্ষণ কেটে যায় তাদের। দু-জনেই মুখে কুলু পাতে। কেউ কারো সাথে কোনো কথায় বড়ায় না।
এক পর্যায়ে তামিম সুবহা একজন আরেকজনের দিকে তাকায়। চুপচাপ কিছু ক্ষণ তাকিয়ে থাকে তারা দু-জন দু-জনের পানে।
সুবহা তামিমকে দেখে মনে মনে বলে,,

— এক পা কবরে চলে গেছে, এর উপরে আর কি রাগ করবো, থাক মাফ করে দেই। ‘’
অপর প্রান্তে তামিম ও সুবহাকে দেখে মনে মনে ভাবে
— দুই দিনের ছেরি, সংসারের আর কি বুঝে, নাক টিপলে দুধ বের হবে, থাক মাফ করে দেই। ‘’
দু-জন দু-জনের পানে তাকিয়ে উল্টো পাল্টা লজিক ভেবে উঠে দাড়ায়। তারপর একজন আরেকজনের কাছে গিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।
— সরি’’
–আমি ও সরি বউ’’
তামিম সুবহার দু-গালে হাত দিয়ে নিজের কপালে তার কপাল ঠেকায়।

এমপি তামিম সরকার পর্ব ১০২

— তোকে ছাড়া আমি পাগল হয়ে যাবো সকাল। মৃত্যুটা যেনো আমার আগে হয়।’’
—- আপনি এতো সহজে মর’বেন না তামিম’’
– তুই কীভাবে জানলি?’’
– শয়তানরা এতো সহজে ম’রে না তামিম’’

এমপি তামিম সরকার পর্ব ১০৪