Home এমপি তামিম সরকার এমপি তামিম সরকার পর্ব ১০০

এমপি তামিম সরকার পর্ব ১০০

এমপি তামিম সরকার পর্ব ১০০
কায়নাত খান কবিতা

— এইইই.. চোখ বন্ধ!! কেউ নজর দিবি না..এই চিকনা আমার! ”
–বললেই হলো তোমার!”
সুবহার কথাকে পাত্তা না দিয়েই ডি আই জি ওসমান হাওলাদারের মেয়ে তামিমের দিকে যেতে থাকে। সুবহা ও কিছু না বলে চুপচাপ দাড়িয়ে থাকে। সে ও তো একটু দেখুক।তার স্বামী কতদূর বাড়তে পারে।
সুবহা চুপচাপ তাকিয়ে থাকে তামিমের দিকে। অপর প্রান্তে তামিম তখন ও মাস্ক পরে চুপচাপ দাড়িয়ে থেকে সুবহার কান্ড দেখে। তার বেশ ভালোই লাগছিল বউয়ের এমন লাল টুকটুকে গাল দেখে।
হাওলাদারের মেয়ে গিয়ে সোজা তামিমের সামনে দাড়ায়। আর হেঁসে হেসে কথা বলতে থাকে। সুবহা কপাল কুঁচকে তাকায় তামিমের দিকে। তামিম ও কিছু বলছে না। দিব্বি চুপচাপ দাড়িয়ে আছে। অন্তত মুখের মাস্কটাই খুলতো।তাহলেই তো মেয়েটা ভয়ে সালাম দিয়ে দৌড় দিত।কিন্তু না। তামিম কিছুই করেনি। সে শুধু চুপচাপ দাড়িয়ে ছিলো।
সুবহার রাগের পারদ বাড়তে থাকে। তামিমকে অন্য মেয়ের সাথে কথা বলতে দেখে আনমনেই বলে উঠে

–যতই ঘুড়ি উড়াও রাতে..লাটাই তো আমার হাতে!”
কপালের সামনে থাকা চুল ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে তামিমকে পাত্তা না দিয়ে সোজা গিয়ে গাড়িতে বসে। একদম ড্রাইভারের পাশের সিটে।
সুবহাকে এভাবে ক্ষেপতে দেখে তামিম নিজের মুখের মাস্ক খুলে ডি আই জির মেয়ের দিকে তাকায়। মাস্ক বিহীন তামিমকে দেখে ভয়ে ঘাম ছুটে যায় ডি আই জির মেয়ের।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

—আসসালামু আলাইকুম স্যার। ভুল হয়ে গেছে সরি।
তামিম কিছু না বলে সোজা গাড়িতে উঠে বসে। সুবহা তামিমকে দেখে ও না দেখার ভান ধরে থাকে। যেনো তামিম নামের কেউ এক্সিটই করে না তার জীবনে। সুবহার এমন রাগ দেখে তামিম ও বেশ আনন্দেই থাকে। যাক বউ এখনো তার প্রতি আবেগপূর্ণ। বিন্দু মাত্র ভালোবাসা কমেনি তার তামিমের প্রতি।
তামিম সুবহার মনোমালিন্যের মাঝে ও আরেকজনের কল্পনার পারদ ছিলো আকাশকুসুম । এখনো প্রেম শুরুই হলো না তার আগেই সে বাচ্চাদের নাম ও ঠিক করে ফেলেছে। পুরোটা রাস্তা সাকিব শুধু মাত্র সাদিয়ার কথা ভেবেই পার করে।

দেখতে দেখতে সরকার বাড়িতে এসে পৌঁছায় তামিমের গাড়ি।গাড়ি থামতেই সুবহা ডোর খুলে বেরিয়ে পরে। কারো জন্য দাড়ায় ও না। কে পিছনে এলো কে গেলো কিছু যায় আসে না তার।
ভিতরে ঢুকেই দেখে তানভীর সরকার এবং আয়েশা সরকার কিছু একটা নিয়ে কথা বলছিল।সুবহা সোজা তানভীর সরকারের কাছে চলে যায়।
–আসসালামু আলাইকুম বাবা!”
–ওয়ালকুম আসসালাম আম্মা। এদিকে আসেন।”
সুবহা গিয়ে সোজা তানভীর সরকারের পাশে বসে পরে। তানভীর সরকার একটি বক্স সুবহার হাতে দেয়।
–এটা কী বাবাই?”’
–খুলে দেখেন।

সুবহা আয়েশা সরকারের দিকে তাকিয়ে বক্সটি খুলতে থাকে। বক্সে থাকা স্বর্নের নুপুর দেখে খুব খুশি হয়ে যায়। আয়েশা সরকার ও সুবহার এতো খুশি দেখে মনযোগ দিয়ে তাকিয়ে থাকেন।
– ছেমড়ি, বাবাই গিফট দিলো পরবি না?”
–পরবো তো মা! আমি এখনই আসছি।”
সুবহা বক্সটি নিয়ে উঠে যাওয়ার সময় তামিম এবং পঞ্চ পান্ডব এসে হাজির হয়। সুবহা তামিমকে পাত্তা না দিয়েই সাইট কাটিয়ে চলে যায়। তামিম এসে সোজা তানভীর সরকারের পাশে বসে।

–আসসালামু আলাইকুম আব্বা।
–অলাইকুম আসসালাম বাবাজান। মুখ এতো শুকনো কেন?”
তামিম কিছু না চুপচাপ থাকে। পঞ্চ পান্ডব ও নিজেদের মুখে কুলু পাতে। এখন মুখ খুললেই মুশকিল।সুবহা তামিমের উপরে রেগে আছে এটা বললে তামিমের ইগোতে লাগবে। তার আব্বার সামনে তার মান যাবে।তাই সকলে চুপ হয়ে থাকে।
–দেখো গিয়ে বউ নিশ্চয়ই পাত্তা দেয় নি।”
আয়েশা সরকারের হঠাৎ এহেন কথায় তামিম নড়েচড়ে বসে। নিজের মায়ের মুখে এমন কথা শুনতে ও ভারি লজ্জা লাগে তার।

–আম্মাজান, আমি কিন্তু লজ্জা পাচ্ছি।
–আহারে আমার লজ্জাবতী ছেলে। একদম লাউ ডগার মতো লতিয়ে গেছে।
তামিম কিছু না বলে তার আব্বাজানের দিকে তাকায়। আয়েশা সরকার ও উঠে চলে যায়। এবং পঞ্চ পান্ডব ও এসে বসে তাদের পাশে। কারণ নতুন বিল পাশের জন্য সংসদে তাদের যেতে হবে কাল। আর সেটার আলোচনা এখন করাটা খুব জরুরি।কোন প্রকল্পে কত টুকু অর্থ ব্যয় হবে পুরোটাই গ্রাফ করা উচিত। তাই তামিম এবং তার আব্বা আলোচনায় বসে পরে।

প্রায় দেড় ঘন্টার মতো আলোচনা চলে তামিম এবং তার আব্বা জানের। তারপর সঠিক গ্রাফ করতে সফল হয় তারা। যতটুকু প্রয়োজন তার এক টাকা ও বেশি নয়। তামিম এবং তানভীর সরকার যখন পুরো বিষয়টি গুছিয়ে ফেলে ঠিক তখনই কারো নুপুরের আওয়াজ তামিমের ধ্যান অন্য দিকে নিয়ে যায়।
তামিম ঘাড় বাঁকিয়ে তাকায় সিঁড়ির দিকে। তাকাতেই চোখ আঁটকে যায়। কারণ তার শয়তান ছেমড়ি, একটি মেরুন রং এর শাড়ি পরে, লম্বা স্ট্রেইট চুল গুলো খুলে, হালকা গহনা এবং পায়ে নুপুর পরে খুব সুন্দর করে সেজে তার হুঁশ উড়ানোর জন্য সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসছে।
তামিমের ধ্যান পুরোপুরি কব্জা করে ফেলে সুবহা। কে কী বললো যেনো কর্নপাতই হচ্ছে না তামিমের। তার আব্বা জান বেশ কয়েকবার তাকে ডাক। কিন্তু কোনো প্রতিত্তোর পাই না তামিমের থেকে। তার তো পুরো ধ্যান জুড়ে শুধুই সুবহা।
সুবহা এসে তামিমকে পাত্তা না দিয়ে সোজা উল্টো দিকে কিচেনের পানে চলে যায়। তামিম বমভোলার মতো দাঁড়িয়ে পরে সুবহাকে দেখে।

—-ও মেয়ে কাছে আসো না, আমায় ভালো বাসো না, এ মনটাকে এভাবে নিয়ে উড়াল দিও না।”
সুবহাকে লাল শাড়িতে দেখে খুব জোড়েই গান গেয়ে উঠে তামিম। উপস্থিত সকলে তার গান শুনে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। তানভীর সরকার, পঞ্চ পান্ডব এবং সুবহা নিজে ও তামিমের গান শুনে ফেলে। তানভীর সরকার কিছু না শোনার ভান ধরে পুরো ধ্যান গ্রাফে রাখে। আর পঞ্চ পান্ডব অন্য দিকে তাকানোর ভান ধরে।
তামিম উঠে সুবহার পিছু পিছু যেতে থাকে। বিষয়টি সুবহার ও চোখে পড়ে। কিন্তু সে কোনো রকম পাত্তা দেয় না তামিমকে।
কিচেনে একদম আয়েশা সরকারের পাশে গা ঘেঁসে দাঁড়িয়ে পরে সুবহা। তামিম ও বেহায়াদের মতো তাদের সাথে গিয়ে দাড়িয়ে পড়ে। তামিম দাঁড়াতেই আয়েশা সরকার ভ্রু কুঁচকে তাকায় তামিমের দিকে।

— আব্বাজান আপনাকে ডাকছে আম্মা। ”
আয়েশা সরকার কিছু না বলে চুপচাপ হা ধুয়ে চলে যায়। কারণ উনি ভালো মতোই জানেন এটা একটা বাহানা। তামিম পুরোপুরি মিথ্যা বলছে। তাই কিছু না বলে মাথা নাড়িয়ে চলে যায়।
আয়েশা সরকার যেতেই তামিম সার্ভেন্টদের দিকে তাকায়।
–তোগো আলাদা ইনভিটেশন দিতে হইবো?”
তামিমের কথা শেষ হতে দেরি, সকলের কিচেন থেকে বেরোতে দেরি নেই। সকলে বের হওয়ার সাথে সাথে তামিম পিছন থেকে সুবহাকে জড়িয়ে ধরে খুব শক্ত করে।

— ও বউ।
–আমি কারো বউ না”
সুবহার এমন চেটান চেটান কথাতে তামিম বুঝে যায় সে রাগের শেষ সীমানায় রয়েছে। কিন্তু তার ও তো ১৯/২০ করতেই হবে। তাই বউয়ের রাগ ভাঙ্গানো টা জরুরি।
— জানো হিংসা করলে তোমাকে টমেটোর মতো লাগে।
–হিংসা আর আমি?
–পটকা মাছের মতো ফুলে আছো তুমি হিংসার ঠেলায়।

এমপি তামিম সরকার পর্ব ৯৯

তামিম সুবহার রাগ ভাঙ্গানো তো দূর। আরো দ্বিগুণ বাড়িয়ে তুলে তাকে পটকা মাছ বলে।
–হাজার টাকার শাড়ি কিনে রং এর গ্যারান্টি মিলে না, সেখানে আপনাকে তো আমি ফ্রীতেই পেয়েছিলাম। হিংসা করতে যাবো কোন দুক্ষে?
–শা’লার জীদেন্দী।

এমপি তামিম সরকার পর্ব ১০১