এমপি তামিম সরকার পর্ব ৯৯
কায়নাত খান কবিতা
” বি:ড়ির সাথে ভালোবাসার কী সম্পর্কে তামিম?”
” যেখানে এতো বলার পর ও আমি বি:ড়ি ছাড়তে পারি নাই, সেখানে তোমাকে ও কোনোদিন ও ছেড়ে দিবো না সকাল!”
তামিমের বি:ড়ি ময় লজিকের কাছে আবার ও বোকা বনে যায় সুবহা। আসলেই তো যেখানে তামিম বি:ড়ি ছাড়তে পারেনি।সেখানে তো তাকে ও কোনোদিন ও ছাড়বে না। আবেগে চোখে পানি চলে আসে সুবহার।
” তোমরা মেয়েরা শুধু আমাদের বি:ড়ি খাওয়াটাই দেখো, কিন্তু আমাদের লয়ালিটি টা দেখো না। আফসোস। ”
সুবহার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পরে। আসলেই তো। যারা সামান্য বি:ড়ির প্রতি এতো লয়াল, তারা তো বউয়ের প্রতি ও লয়াল হবেই।
” তামিম সরি।”
সুবহা তামিমকে জড়িয়ে ধরে। তার চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পরে। সে কীভাবে তার এতো লয়াল স্বামীকে ভুল বুঝলো? আসলেই সে ভুল করেছে।
” থাক কেঁদো না পরী। মানুষ আমার পাশে আছে!”
সুবহা মাথা তুলে তামিমের দিকে তাকায়।
” মানে?”
” কিছু না। তুমি কন্টিনিউ করো। আসো বুকে আসো!”
তামিম আবার ও সুবহাকে জড়িয়ে ধরে। আর একটা বড় নিঃশ্বাস ফেলে । একটুর জন্য বেঁচে গেছে সে। সুবহা আজকে তাকে একটুর জন্য ধরে ফেলতো। কিন্তু তার বি:ড়ি ময় লজিকের কাছে সুবহার রাগ ঠান্ডা হয়ে যায় ।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
—-এভাবেই দিন কাল কেটে যাচ্ছিল। কিন্তু আপত্তি বাঁধে তামিম যখন তার ছয় শয়তানকে ভর্তি কোচিং এ পাঠাই। সকলে ভেবেছিল প্রাইভেট ভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে চিল করবে। কিন্তু তামিম যে তাদের এই চিলের জায়গায় কাক বসিয়ে দিবে এটা কল্পনা ও করতে পারেনি সকলে। রীতিমতো ঠেলে ঠুলে তাদের ক্লাস করতে পাঠাই। তারা ক্লাসে গেলে ও মনোযোগ থাকে সুইজারল্যান্ডের আইস ল্যান্ডে। তাদের ভ্যাকেশন ও হলো না। উল্টো ভর্তির তিন দিনের মাথায় আবার পরিক্ষা শুরু।
” সাত দিনের দুনিয়ায়, ১৪ ই দিনই পরীক্ষা, বা**ল!”
সাকিবের এক রাশ বিরক্তি ভরা কথা শুনে সকলে লেখালেখি বন্ধ করে তার দিকে তাকাই! পরীক্ষার প্রশ্ন হাতে পেয়েই রাগে গিজগিজ করতে থাকে সাকিব!
” ডোন্ট টক, চুপচাপ লিখো!”
ইংলিশ ম্যাডামের ঝাড়ি শুনে সাকিব চুপচাপ লেখা শুরু করে! নাম এবং নিজের রোলটা ছাড়া আর কিছুই লেখে না সে! লিখবেই বা কীভাবে? কিছু পারলে তো লিখবে!
পুরো সাদা খাতা জমা দেয় সাকিব। বাকিরা টুকিটাকি লিখলে ও তার খাতায় একটা দাগ ও নেই ।
ম্যাডাম সকলের খাতা নিয়ে দেখা শুরু করে। যেহেতু ক্লাস টেস্ট। ২০ মার্কের পরীক্ষা, তাই ক্লাসেই দেখা যাবে। সবাইকে চুপচাপ বসতে বলে ম্যাডাম ১২ জনের খাতা দেখতে থাকে। তার মধ্যে তো ছয় জন তামিমের গন্ডগোল বাহিনি। বাকিরা বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা রিচ কিড। পুরো একটি বিল্ডিং এ ভর্তি কোচিং করানো হয়। একটি ক্লাসে শুধু তামিমের ছয় শয়তান দিয়েই পরিপূর্ণ। বাকিদের আর জায়গা নেই। অবশ্য হলে ও তারা নিতো না।
সাকিব-” পরীক্ষা নিবে একমাত্র আল্লাহ। এই শয়তানের খালাতো ভাই-বোন গুলা কীসের পরীক্ষা নেই বুঝিনা।”
সাকিবের কথায় সকলে সহমত প্রকাশ করে। আসলেই তো, পরীক্ষা কেন মানুষ নিবে? এটা আবার কেমন জুলুম।
মাহির-” আমাগো জীবনটা কি এভাবেই যাইবো। কতদিন ঝামেলা করি না।”
মানিক-” কতদিন কোনো মাইয়ার লগে টাংকি মারি না!”
মফিস-” তোরে কোনো ছেমড়ি পাত্তা দিলে তো টাংকি মারবি?”
রফিক-” পাগলের সুখ মনে মনে!”
পঞ্চ পান্ডব আবার ও বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হয়ে পরে। এদের জীবনের একমাত্র কাজই যেনো মেয়ে পটানো। তা ছাড়া এরা কিছু পারে বলে মনে হয় না। সকলে নিজেদের মতো ঝগড়ায় লেগে পড়লে ও সুবহা রয়েছে অন্য চিন্তায়, বেশ কিছু দিন ধরে তার সব কিছুই কেমন অসহ্য লাগছে। না বলতে পারছে, আর না কিছু করতে পারছে।
” সাইলেন্স….! ”
খুব জোড়ে সবাইকে চুপ থাকতে বলে ইংলিশ ম্যাডাম। ম্যাডাম বলার সাথে সাথে ইংলিশ ম্যাডাম চুপ হয়ে যায়। শুধু যায় না, একদম পিন পরার মতো ঠান্ডা হয়ে যায় ক্লাস রুম। এই একটা ম্যাডামই খুব ভয়ংকর। তাকে দেখলে সুবহার ও মোটামুটি ভয় লাগে। একদম বাংলা চলচ্চিত্রের খল নায়কা রিনা খানের মতো।
ম্যাডাম সকলে ডেকে ডেকে খাতা দিতে থাকে। মোটামুটি সকলের খাতা দেওয়া শেষ হলে আর একজন বাকি থাকে।
” সাকিব, কাম হেয়ার।”
” কী কই এই বুড়ি?”
সুবহা চোখ রাঙ্গিয়ে তাকায় । শত হলে ও উনি শিক্ষক মানুষ। সম্মান করা উচিত সকলের। সুবহার তাকানোর সাথে সাথে সাকিব চুপ হয়ে যায় । আর উঠে দাড়ায়। সুবহা ইশারা করে তাকে যেতে বলে সামনে। সাকিব সুন্দর মতো গিয়ে দাড়ায় ম্যাডামের সামনে।
” জ্বি ম্যাডাম। ”
” তোমার খাতা ফাঁকা কেন?”
” ভাষা হারাই ফেলছি ম্যাডাম।”
” মানে?”
” পরীক্ষার প্রশ্ন দেখে ভাষা হারাই ফেলছি, এই জন্য কিছু লিখতে পারি নাই।”
” এতো গাধা মানুষ কীভাবে হয়? এতো দামড়া ছেলে আর কিছুই পারে না, সেমলেস।:’
ক্লাসে উপস্থিত কিছু ছাত্র ছাত্রী হেসে উঠে। বিষয়টা সাকিবের মাইন্ডে লাগে। তার ইজ্জত নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি হচ্ছে। বিষয়টা মোটে ও ভালো নয়। বো’মা সাকিবের ইজ্জতের ব্যাপার। তামিমের ভয়ে ম্যাডামকে কিছু বলতে ও পারে না সাকিব। নিজের রাগ কন্ট্রোল করে চুপচাপ ফাঁকা খাতা নিয়ে নিজের সিটে এসে বসে পরে। সকলে তার মুখ দেখেই বুঝতে পারে ম্যাডামের কপালে শনি রয়েছে। শুধু শনি নয়, রবি, সোম, মঙ্গল সবই রয়েছে।
কিছু ক্ষণ পর ক্লাস শেষ হয়ে যায়, সকলে এক এক করে বের হলে ও সাকিব এবং বাকিরা বসে থাকে। তারা ও কিছু বুঝতে পারে আসলে সাকিবের হলো টা কী?
মাহির-” বন্ধু, ক্লাস তো শেষ। আই বাইত যাইগা।”
সাকিব উঠে দাড়ায়, তারপর সামনে গিয়ে বাকি পাঁচজনের উদ্দেশ্যে বলে।
” আমি বিয়া করুম রে।”
সুবহা সহ বাকি চার জন একদম কারেন্টের শক খাওয়ার মতো চমকে উঠে। হঠাৎ বিয়ের কথা কেন? কেউ কিছু বুঝতে পারে। আবার সাকিবের মতিগতি ও ভালো ঠেকছে না।
কালা মানিক -” বো’মার বাচ্চা, বাংলা মাল খাইছোস না-কি সক্কাল সক্কাল?”
বো’মা সাকিব-” না-রে শা’লার ভাই!! আমি আসলেই বিয়া করুম।”
সুবহা-” কিন্তু কাকে? ”
বো’মা সাকিব-” এই বুড়ির ছেড়িরে…।”
সকলে এক সাথে খুব জোড়ে ‘কীহহ’ করে উঠে। এবার সকলে বুঝলো আসল কাহিনি টা কোথায়। ম্যাডামের অপমান সাকিবের ইগোতে লেগেছে। তাই সে ম্যাডামের মেয়েকে বিয়ে করতে চাচ্ছে।
সুবহা-” আর যদি ম্যাডামের কোনো মেয়ে না থাকে?”
বো’মা সাকিব-” ফুটাইয়া ছাড়ুম।”
মাহির-” কেমনে?”
বো’মা সাকিব-” বুড়া-বুড়িরে হানিমুনে পাডামু। তারপর ওরা বাচ্চা ফুডাইবো। ওটারে পাইলা পুইসা বড় কইরা বিয়া করমু। তারপর তিন বেলা ধইরা মার”মু, আর বুড়িরে আমাগো বাড়িতে নিয়া আসমু। এমনেই আমার অপমানের বদলা নিমু।”
সাকিবের মাস্টার প্ল্যান শুনে সুবহা সহ সকলে ‘হা’ হয়ে যায়। একটা মানুষের মাথায় ঠিক কতটা ক্রি’মিনালি বুদ্ধি থাকলে এমন করে? প্রত্যেকের চোয়াল একদন ঝুলে যায়।
সুবহা-” তামিম সরকারের বংশধর আর কী ভালো হবে।”
রফিক-” কিছু কইলেই ভাবি-মা? ”
সুবহা-” নাহ। কিছু না। চলেন। শয়তান সরকার চলে আসবে নিতে।”
সুবহার সাথে সকলে ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পরে। বেশি দেরি করলে ও মুশকিল।তামিম ভাববে আবার ও কোনো ক্রিমি’নালি প্ল্যান করছে সকলে একসাথে। কিন্তু সাকিবের মাথায় চলতে থাকে সেই একই বিষয়। ম্যাডারের কোনো মেয়ে আছে কি-না সেটা।
ক্লাস থেকে বেরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতেই সকলে দেখে ইংলিশ ম্যাডাম লিফ্টের জন্য অপেক্ষা করছে। সাথে একটা মেয়ে। সুবহার মতোই বয়স। পরনে ও সুবহার মতোই জামা-কাপড়। সকলে ধীরে ধীরে লিফ্টের কাছে এসে দাড়ায়। সাকিব একদম পিছনে দাড়ায়। বার বার মেয়েটাকে দেখার চেষ্টা করে। মায়ের দিকে মুখ করে থাকায়, সে ঠিকমতো দেখতে ও পারছে না। সাকিব ও নিজের কড়া নজর রাখে মেয়েটার উপরে। ম্যাডামের সাথে এর কী সম্পর্ক জানতেই হবে।
লিফ্ট নিচে আসতেই ম্যাডাম মেয়েটাকে সাদিয়া ভিতরে আসো বলে ডাকে। মেয়েটা ও ঠিক আছে আম্মু বলে৷। ব্যাস সেখানেই ছিল ইতিহাসের আরেকটা প্রেম কাহিনির শুরু। সাকিব বেআক্কলের মতো তাকিয়ে থাকে সাদিয়ার দিকে। সকলে ভিতরে ঢুকলে ও সাকিব ঢুকে না। মাহির বিষয়টা বুঝতে পেরে সাকিবের হাত ধরে তাকে ভিতরে ঢুকায়। সাকিব বার বার শুধু দেখছিল সাদিয়াকে। সাকিব + সাদিয়া= সাকিয়া। সাকিব নিজেদের মেয়ের নাম ও ঠিক করে ফেলে। এই মেয়েকেই তার চাই।
লিফ্ট গ্রাউন্ড ফ্লোরে নামলে ম্যাডাম নিজের মেয়েকে নিয়ে চলে যায়। আর বাকিরা ও বাইরে আসতে থাকে।
বো’মা সাকিব-” তোগো ভাবি পাইছি রে!”
সকলে মানিকের দিকে তাকায়। কারণ এই কথাটা সব সময় মানিকই বলে। তাই তারা ভেবেছিল হয়তো আজকে ও মানিকই বলেছে। মফিস মানিকের পিঐে খুব জোড়ে কি’ল বসিয়ে দেয়।
মফিস-” শা’লার, কত প্রেমে পড়স তুই?”
মাহির-” তোর চক্করে সব জেলার মাইয়াগো ভাবি ডাকা শেষ। ”
রফিক-” বেডা চরিত্র’হীন!”
মানিক খুব তেতে যায়। কারণ আজকে তো সে কিছু বলেনি।তাহলে শুধু শুধু কেন এতো তাচ্ছিল্যের শিকার হবে সে?
মানিক-” শা’লার ভাইরা, আমি কিছু কইনাই রে। এই বো মার বাচ্চা কইছে।”
সকলে একসাথে সাকিবের দিকে তাকায়। সাকিব এখন ও বাইরের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। তার যেনো কোনো হুসই নেই, এখানে তার জন্য আরেকজন মা’র খেলো।
সুবহা-” বাবা সাকিব! দুনিয়াতে ফিরা আসেন বাবা।”
সাকিব বেশ লজ্জা পাই সুবহার কথাতে।
বো’মা সাকিব-” আপনের বউমা পাইছি আম্মা!”
সুবহা-” কে?”
বো’মা সাকিব-” ওই বুড়ি ম্যাডামের মাইয়া।”
মাহির-” কস কী রে?”
মানিক-” কাম সারছে। ”
রফিক-” তোরে ইংলিশে অপমান হইতে আর কেউ বাঁচাইতে পারবো নারে।”
মফিস-” ওই ইংলিশ বুঝলে তো জানবো কোনটা মান আর কোনটা অপমান!”
বো’মা সাকিব-” আমি তো বউ পাইছি রে… সাকিব+ সাদিয়া.. মাইয়া হইলে সাকিয়া.. পোলা হইলে সাকিদ। আহহ। আমাগো অমর প্রেম কাহিনি!”
সুবহা-” আপনি ছেলে মেয়ের নাম ও ঠিক করে ফেলেছেন?”
সুবহার কথা শুনে সাকিব লজ্জায় লাল নীল, হলুদ, সবুজ সব হয়ে যায়। আর বাকিরা একসাথে বলে উঠে, ” কাম সারছে “!
কোচিং এর বাইরে খোলা মাঠে প্রায় অনেক শিক্ষার্থী আড্ডা দিচ্ছিল। তামিম এবং তার গার্ডরা ও এসেছে সবে মাত্র। সুবহার নির্দেশ মতো তামিম মাস্ক পরে থাকে। যেহেতু মেয়ের সংখ্যা বেশি। তামিমকে যদি কেউ পছন্দ করে। সেই ভয়ে সুবহা ওর্য়ানিং দিয়ে রেখেছে। নো মাস্ক নো ১৯/২০। তামিম আর কী করতো। তার তো ১৯/২০ করতেই হবে। আবার বউ ও দরজাল। তাই ভদ্রলোকের মতো মেনে নেই সুবহার আবদার।
ছয় শয়তান বাইরে বেরিয়ে দেখে তামিম তার গার্ডসহ দাড়িয়ে রয়েছে। মুখে মাস্ক পরা দেখে সুবহা খুব খুশি হয়। যাক তার শয়তান সরকার তার কথা শুনেছে।
ধীরে ধীরে সকলে তামিমের দিকে আসতে থাকে। কিন্তু সুবহা মাঝ পথেই থেমে যায়। কারণ গ্রুপ করে কিছু মেয়ে দাড়িয়ে তামিমের বডি ফিটনেস নিয়ে কথা বলছে। মাস্ক ছাড়া দেখতে কত সুন্দর হবে সেটা ও বলা বলি করছে।
” ভাই, এই লোকটার নাম্বার কেউ নিয়ে আয়। আমি প্রেম করবো।”
এমপি তামিম সরকার পর্ব ৯৮
পাশে থাকা একটি মেয়ের কথা শুনে সুবহা তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে। প্রেম করবে তাও তার স্বামীর সাথে। সাকিবের কাছে ব্যাগ দিয়ে সোজা মেয়ে গুলোর সামনে এসে দাড়ায়।
” এইইইইই… চোখ বন্ধ। কেউ নজর দিবি না। এই চিকনা আমার!”
