তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৩৫
তানিশা সুলতানা
“তুমি আমার বাড়িতে কেনো এসেছ? কি চাই তোমার?
আবরার আড়াআড়ি ভাবে ভ্রু কুচকে বাবার মুখ পানে তাকায়। আতিয়া বেগম অনবরত স্বামীকে চোখে শাসাচ্ছে। চুপ করতে বলছে। তবে তিনি স্ত্রীর মুখ পানে ভুলেও তাকাচ্ছে না।
আবরার স্পষ্ট স্বরে জবাব দেয়
“আমার কি চাই সেটা আপনি জানেন।
কথাটা আদ্রিতার মুখ পানে তাকিয়ে বললো। আদ্রিতাও তাকিয়ে ছিলো বিধায় চোখাচোখি হলো। সঙ্গে সঙ্গে নজর ফিরিয়ে নিলো মেয়েটা। এবং শুকনো ঢোক গিলে ভেংচি কাটলো।
তিনটে এসি রয়েছে ড্রয়িং রুমে। তবুও আদ্রিতা ঘামছে।
আবরারের জবাবে সন্তুষ্ট হলো না আব্দুল রহমান। বরং তার রাগ বেড়ে গেলো। আবরারের পানে আঙুল তাক করে বলে
“এক্ষুনি বেরিয়ে যাবে আমার বাড়ি থেকে। তোমার মুখটাও দেখতে চাই না।
আবরার দুই ভ্রু আড়াআড়ি ভাবে কুঁচকালো। দাদার পানে তাকিয়ে কিছু ইশারা করলো। তবে হাফিজুর চৌধুরীর কথা বলার সাহস পাচ্ছে না।
বর্ষাও চলে এসেছে ততক্ষণে। আবরারকে দেখে বেশ খুশি হলো সে।
বলে
” আবরার না জানিয়ে চলে আসলে যে?
কোনো সমস্যা?
জবাব মিললো না। ইভান সিয়ামের কানে কানে বলে
“ভাই রে ভাই
আমাদের দেখে ওনারা খুশি হলো না কেনো? কতো সুন্দর সাজুগুজু করে আসলাম। আবরারের পারফিউমের বোতল থেকে একটু পারফিউমও লাগিয়েছে।
তাহলে কি ওনারা গন্ধে পাগল হয়ে গেলো?;
সিয়াম চোখ পাকিয়ে তাকায় ইভানের মুখ পানে। সঙ্গে সঙ্গে ঠোঁটে আঙুল দেয় ইভান।
আসিফ হাত মুষ্টি বদ্ধ করে ফেলেছে বহু আগেই। আবরারকে তার পছন্দ না। আদ্রিতার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক আছে এটা জানার পর থেকে আরও পছন্দ না। দুচোখে সহ্য হচ্ছে না। ও নুরুল হুদাকে খোঁচা মারে কিছু বলার জন্য। তখনই তিনি বলে ওঠে
“এসব কি আব্দুল রহমান?
আমাদের ডেকে এনে অপমান করছেন কেনো?
হাফিজুর চৌধুরী কিছু বলার চেষ্টা করলেও বলে উঠতে পারে না।
কেননা তার আগে আব্দুর রহমান জবাব দেয়
“এদের আমি চিনি না।
এখানে কি চাই জানিনা।
শুধু এতটুকু বলতে পারি আমার মেয়ের সঙ্গে এদের কোনো সম্পর্ক নেই।
অহনা আমি কি ঠিক বলছি?
অহনা জিভ দ্বারা ঠোঁট ভিজিয়ে নেয়। ইমোশন তার মধ্যে নেই। বরাবরই স্ট্রেট ফরওয়ার্ড এবং যেটা সঠিক সেটাই বলতে পছন্দ করে।
তবুও আজকে সিয়াম কে পছন্দ করার ব্যাপারটা স্বীকার করতে দ্বিধাবোধ করছে । বাবা কত ভরসা নিয়ে সবার সামনে বলল
এখন তার মুখটা ছোট করে দেবে কিভাবে?
আবার সিয়ামের প্রতি ফিলিংস শেয়ার করার এতো বড় সুযোগই বা হাত ছাড়া করবে কিভাবে?
সিয়াম পলকহীন দৃষ্টিতে অহনার মুখপানেই তাকিয়ে আছে। সে জানে ওর মনের অবস্থা। এবং এখন কি জবাব দেবে সেটাও জানা।
শুধু এটুকু জানে না কিভাবে সে এই মেয়েটাকে পাবে?
কিভাবে বা তাকে নিজের করে নেবে?
আবরার আবারও বলে ওঠে
“আপনারা আসতে পারেন। এই বিয়ে হবে
বাকিটা শেষ করার আগেই আব্দুল রহমান থাপ্পড় মেরে দেয় আবরারের গালে। পর পর দুটো থাপ্পড় মারে। গোটা ড্রয়িং রুম স্তব্ধ। আদ্রিতা একটুখানি চিৎকার করে উঠলো। অহনা দৌড়ে গিয়ে আবরারকে জড়িয়ে ধরলো।
ইভান সিশাম আমান ইভান দু পা পিছালো।
আতিয়া বেগম স্বামীর হাত ধরে। বর্ষা কেঁদে ফেললো।
বলে
“ভাইয়া কি হয়েছে আপনার?
এমন কেনো করছেন?
হাফিজুর চৌধুরী বলে
” আব্দুল রহমান তোমার সাহস কি করে হলো আমার নাতির গায়ে হাত তোলার?
নুরুল হুদার স্ত্রী বড়ই বিচক্ষণ মানুষ। পরিস্থিতি সামাল দিতেও বেশ পটু।
তিনি শান্ত স্বরে বলে
“ভাইজান রাগারাগি করে কিছু হবে না।
আপনারা ঠান্ডা মাথায় কথা বলে ব্যাপারটা সমাধান করুন।
আমরা ভুল বুঝবো না আপনাকে।
তাছাড়া অহনাকেও আমাদের পছন্দ। আপনাদের তরফ থেকে সম্মতি থাকলে কথা এগাবো।
আরিফ বলে
” ধন্যবাদ আমাদের বোঝার জন্য। আপনারা আজকে আসুন। পরে কথা বলবো।
ওনারা সম্মতি প্রকাশ করে চলে গেলো। দাঁড়িয়ে রইলো শুধু আবরার এবং তার চার বন্ধু। যেটা দেখে আরও মাথা গরম হলো আব্দুল রহমানের।
তিনি রাগের জন্য জোরে জোরে শ্বাস টানছে।
“কথা কানে যাচ্ছে না তোমাদের?
বলেছি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে। এবং আর কখনো এখানে আসবে না।
আবরার দু পা এগিয়ে বাবার মুখোমুখি দাঁড়ালো। চোখে চোখ রেখে বলে
” আমার আমানত রেখে যাচ্ছি।
সঠিক সময়ে এসে নিয়ে যাবো। তখন বাঁধা দিতে আসলে ভুলে যাবো আপনি আমার বাবা।
বলেই চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়। অহনা হাত টেনে ধরে।
আবরার অহনার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। তারপর আর পেছন না ফিরে চলে যায়।
আদ্রিতার চোখ দুটো ছলছল করছে। খুব জোরে থাপ্পড় মেরেছে। ফর্সা গালটা কেমন লাল হয়ে গিয়েছে।
অতি প্রিয় মামাকে এখন আর ভালো লাগছে না ওর। এক রাশ রাগ জমা হলো।
ড্রয়িং রুমে আর এক মুহুর্তও না দাঁড়িয়ে চলে গেলো নিজ কক্ষে। দরজা বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে পড়লো। এবার আর কান্না চেপে রাখলো না। হু হু করে কেঁদে উঠলো।
গোটা চৌধুরী বাড়ি থমথমে। অহনা নিজ কক্ষ থেকল বেরুচ্ছে না। আতিয়া বেগম এখনো দরজার সামনে বসে আছে। আবরারের চলে যাওয়ার দুঃখ সইতে পারছে না।
বর্ষা এবং আরিফ নিজেদের মধ্যে কথা কাটাকাটি করছে নিজেদের কক্ষে।
আরিখ বর্ষাকে জানিয়ে দিয়েছে আবরার তাদের মেয়েকে পছন্দ করে। কিন্তু বর্ষা এটা বিশ্বাস করছে না।
হাফিজুর চৌধুরী শুকনো মুখে বসে আছে। আব্দুল রহমান বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছে।
কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়েছিলো আদ্রিতা। যখন ঘুম ভাঙলো তখন দেখলো গোটা কক্ষ অন্ধকারে ছেয়ে গেছে। দেয়াল ঘড়ি টিকটিক করছে।
আড়মোড়া ভেঙে এদিক ওদিক হাতড়ে ফোনটা উদ্ধার করলো। তারপর ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে ঘড়ির দিকে তাকালো। বারোটা বেজে আঠারো মিনিট।
এতোটা সময় কিভাবে ঘুমাতে পারলো?
পেটের মধ্যে কেমন মোচর দিচ্ছে। সারাদিন যে খাওয়া হয় নি সেটারই ইঙ্গিত। এখুনি কিছু খাওয়া প্রয়োজন।
তাড়াহুড়ো করে লাইট জ্বালিয়ে আধখোলা শাড়িটা পুরোপুরি খুলে ফেললো। ব্লাউজ এবং পেডিকোড পড়েই ওয়াশরুমে গেলো। তাড়াতাড়ি শাওয়ার শেষ করে টিশার্ট এবং স্কার্ট পড়প বেরুলো। ভেজা জামাকাপড় বেলকনিতে মেলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বেলকনির দরজা খুলতেই কেউ একজব জাপ্টে জড়িয়ে ধরলো ওকে। হাত ফসকে ভেজা জামাকাপড়ের বালতি পড়ে গেলো।
মানুষটা শুধু জড়িয়ে ধরেই শান্ত থাকলো না। আদ্রিতার নরম ওষ্ঠদ্বয় নিজের পুরু ওষ্ঠের ভাজে মিলিয়ে নিলো।
উম্মাদের মতো চুমু খেতে খেতেই এক হাতে দরজা বন্ধ করে দিলো।
তারপর আদ্রিতাকে শূন্যে তুলে খাটে নিয়ে শুয়িয়ে দিলো। মেয়েটা ছাড়া পাওয়ার উদ্দেশ্যে ছটফট করতে থাকে। উমম উমম শব্দ তুলে গুঙিয়ে ওঠে।
তাতে মনোযোগ দিলো না আবরার। সে এক হাত ঢুকিয়ে দিলো আদ্রিতার টিশার্টের ফাঁকে। এবং বেপরোয়া ভঙ্গিমায় হাতের বিচরণ ঘটায় বক্ষবিভাজনে।
অসয্যনীয় প্রীড়ায় আদ্রিতার দুচোখ বেয়ে গড়াতে থাকে অশ্রুকণা।
ছটফটিয়ে বাড়তে থাকে। নিঃশ্বাস আটকে আসছে। আবরার বোধহয় বুঝলো।
তাই তো ওষ্ঠ ছেড়ে গলায় মুখ ডোবালো। প্রথমে ছোট ছোট চুমু এবং পরে কামড় দিতে থাকে।
আবরার কাঁপা-কাঁপা গলায় বলে
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৩৪ (২)
“ব্যাথা পাচ্ছি আমি।
প্লিজজ ছাড়ুন।
আবরার সত্যিই ব্যাথা দেওয়া বন্ধ করে।
কিছু মুহুর্ত থামলো। আদ্রিতা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো কি না ফেললো তখনই টিশার্টের ভেতরে
