তোমার আমার গল্প পর্ব ১৪
noorayn
“তুমি কেন তোমার বাপ ও আসবে।”
“মা! আমি জরুরি কাজে আছি।”
শাইনা বেগম এবার আরহামের মোক্ষম জায়গায় তীর ছুড়ে বললেন – “বাসায় আসো নয়তো আমি এখনই নোমানকে ডাকবো।”
“নোমান কি করতে আসবে?”
“তুমি না আসলে নোমান এসে আলিশা কে খাওয়াবে।”
–নো রেসপন্স।
“আসবে?”
“আসছি…”
আরহাম বাড়িতে ফিরেছে কেবল ১০ মিনিট হলো।
সে রুমে প্রবেশ করতেই শাইনা এবং আয়শা সেখান থেকে প্রস্থান করলেন।
আরহাম দরজা আঁটকে এসে এবার আলিশার দিকে কটমট করে চেয়ে শুধালো –
“তোর এত আবদার সবসময় ভালো লাগেনা লিশা। কত জরুরি কাজ ফেলে এসেছি আমি ; তার কোনো আইডিয়া আছে তোর?”
“আমার থেকে বেশি জরুরি?”
“হ্যাঁ”
“গন্ডারের ঘরের গন্ডার…আমি তোর হাতে খাবোনা। যা এখান থেকে যাহহহহ…”
“তুই কেন তোর বাপ ও খাবে।”
“কথায় কথায় তোর শশুরকে টানিস কেন?”
“তোর মত ঘাড়ত্যারাকে জন্ম দিয়েছে তাই।”
“আমি কথায় বলবোনা তোমার সাথে। যাও সরো…” বলেই মুখ ফুলিয়ে রাখলো আলিশা।
“এমনিতেই ভোটকি হয়েছিস, এখন আবার গালও ফুলিয়েছিস। দেখতে একেবারে রসগোল্লা লাগছে…উম্মাহহহ।”
“আবার আমাকে মোটা বলেছো?”
“শুন, তুই বেবী আসার পরও এমন মোটা থাকবি, ঠিক আছে? তোকে এভাবে একদম রসগোল্লা লাগে। আমার রসগোল্লা।”
“চুপ কর।”
“হয়েছে, এখন খেয়ে আমায় উদ্ধার কর মা।”
“মা!”
“আমার বাচ্চার মা…”
“আগে আমাকে স্যরি বলতে হবে।”
“কে কাকে স্যরি বলবে?”
“বাবুর পাপা বাবুর মাম্মাকে স্যরি বলবে।”
“একটা চটকনা দিবো ধরে ; নে…হা কর।”
–আলিশা আর তাল না করে চুপচাপ খেয়ে নিলো।
–খাওয়ার পর্ব শেষ করে আলিশা বললো – “ঘুমাবো।”
“ঘুমা”
আলিশা হাতদুটো বাড়িয়ে দিয়ে বললো –
“বুকে নাও”
আলিশার বাচ্চামো কান্ডে আরহাম না হেসে পারলোনা।
“এত বড় হয়েছিস এখনও বুকে ঘুমাতে হবে?”
“সারাজীবন…”
–আরহাম রুমের লাইট নিভিয়ে এসে আলিশাকে বুকে নিয়ে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো।
–কিছুক্ষন পর, আলিশা ঘুমিয়ে গেলে সে যখনই সরতে যাবে ঠিক তখনই আলিশা তার বাহু আকড়ে ধরলো।
তা দেখে আরহাম আর সরলোনা।
রাত ১০ টা….
খান বাড়ির সবাই একটু আগেই ডিনার শেষ করে যে যার কামরায় চলে গিয়েছে।
–কিচেনে শাইনা আর আয়শা মিলে সব গোছগাছ করছে।
কাজের মাঝেই আয়শা হঠাৎ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে উঠলো –
“নিলা-আরশাদকে বড্ড মনে পড়ছে আপা।”
“আমারও মন পুড়ছে ছোট। কিন্তু কি আর করার অপেক্ষা ছাড়া?”
“এভাবে আর কতদিন চলবে আপা? প্রায় বছর হয়ে এলো।”
“নিলা বিকেলে ফোন করেছিলো। অনেক কান্নাকাটি করেছে। বারবার কেবল সন্তানের জন্য আকুতি করছিলো। মা হয়ে আমি তা কেমনে সহ্য করবো ছোট?” বলতে বলতেই শাইনার চোখের কোনে অস্রুর দেখা মিললো।
আয়শা কাজ ছেড়ে শাইনার কাছে এসে তাকে আসস্ত করতে বললো – “নিজেকে সামলাও আপা। এখন দোয়া ছাড়া আমরা আর কি বা করতে পারবো?”
আলিশা নিজের সব কাপড় আয়নার সামনে গায়ে লাগিয়ে দেখছে তো আবার একটা একটা করে পাশে ছুড়ে ফেলছে। তার একটু দুরেই আরহাম বিন ব্যাগের উপর বসে ফোনে গেম খেলছে ; তার মনোযোগ এখন কেবল ফোনের দিকে।
আলিশার দিকে আপাতত তার কোনো ধ্যান নেই।
–আচমকা, একটা কাপড় এসে আরহামের মুখের উপর পড়েছে। চোখের সামনে হঠাৎ সব অন্ধকার হওয়ার কারনে সে শুরুতে ঘাবড়ে গেলেও ; পরক্ষনে, ঠাহর করতে পারলো যে এটা কাপড়।
আরহাম মুখ থেকে কাপড় সরিয়ে আলিশাকে দিলো এক ধমক।
“এই বেয়াদব! মুখের উপর কাপড় ছুড়েছিস কেন?”
“ভুলে হয়েছে। ইচ্ছে করে করিনি।”
আরহাম রাগে ফোসফোস করতে করতে বললো –
“তোর ভুলের জন্য আমি গেমে হেরে গিয়েছি..”
“তুমি থাকো তোমার গেম নিয়ে। এদিকে, আমার কষ্ট কেউ বুঝেনা।” বলেই কাঁদো কাঁদো মুখ নিয়ে বেডে বসে পড়লো আলিশা।
“তোর আবার কিসের কষ্ট রে ভোটকি?”
–আবার ভোটকি বলাতে আলিশা এবার আরেকটা কাপড় নিয়ে ছুড়ে মারলো আরহামের দিকে ; যা তার গায়ে পড়ার আগেই সে ক্যাচ করে ফেললো।
আলিশা রাগে দুঃখে তেতে উঠে বললো –
“তুই কোনো কথাই বলবিনা আমার সাথে।”
“আচ্ছা, যা তোকে আর ভোটকি বলবোনা ভোটকিইইইই…”
আলিশা এবার কান্না করে দিবে এমন চেহারা নিয়ে আরহামের দিকে তাকালো।
“আচ্ছা আচ্ছা…কান্না করতে হবেনা। আর বলবোনা।” (আরহাম)
“আমি এই জন্য কান্না করছিনা গর্দভ।”
“তবে, কিসের জন্য কান্না করছিস?”
“তোর জন্য।”
“আমি আবার কি করলাম?”
“তোকে কে বলেছিলো আমাকে প্রেগন্যান্ট করতে?” বলেই ফোঁপাতে শুরু করলো আলিশা।
“সব দোষ এখন আমার?”
“হ্যাঁ তোরই। সব তুই ইচ্ছে করে করেছিস ; আর এখন কষ্ট সব আমার একা করা লাগছে।”
“এখন আবার কিসের এতো কষ্ট তোর?”
আলিশা এবার ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা জামাকাপড় সব মেলে একে একে আরহামকে দেখাতে লাগলো।
“এই দেখো, একটা কাপড়ও আমার ফিট হচ্ছেনা।”
“এসব তো তোর আগের কাপড়, লিশা।”
“আগের হয়েছে তো কি হয়েছে? তাই বলে কি একটাও হবেনা!”
“কিছুদিন আগেই না অনেকগুলা ম্যাটারনিটি ফ্রক এনে দিয়েছে মা? আপাতত সেগুলা পড়ে থাক কিছুদিন।”
“ওসব বাইরে পড়া যায়?”
“তুই তো এখন আর তেমন বাইরে যাস না।”
“তাই বলে কি আমার কোনো কাপড় থাকবেনা? আমি কিছু জানিনা ; আমাকে কালই শপিং করিয়ে দিতে হবে।”
“টাকা নেই আমার কাছে। তোর বাপকে বল কিনে দিতে।”
“আমার বাপ কেন দেবে? তুই দিবি।”
“বললাম তো টাকা নেই। আমি কিনে দিতে পারবোনা। যাহহহ এখান থেকে।”
আলিশা এবার ছলছল দৃষ্টিতে আরহামের দিকে চেয়ে জিজ্ঞেস করলো – “সত্যি দিবেনা?”
“না” – বলেই চিপ্সের প্যাকেট থেকে চিপ্স নিয়ে খেতে শুরু করলো আরহাম।
“ঠিক আছে দিওনা। আমি নোমান ভাইকে বলবো আমাকে শপিং করিয়ে দিতে।”
–নোমানের নাম শুনেই আরহাম ধরফর করে উঠে বসে পড়লো।
“নোমান কেন কিনে দিবে তোকে? ও কে হয় তোর?”
“তুমি দিবেনা, তাই ওনাকেই বলবো।”
“বউ আমার, বাচ্চা আমার আর কিনে দিবে নোমান! এত্ত বড় সাহস তোর?”
“বউ তোমার, বাচ্চা তোমার। তবে তুমিই কিনে দাও সব।”
“আমার পকেট খালি করার পায়তারা করছিস ভোটকি?”
“দিবে কিনা বলো?”
“ঠিক আছে দিবো। তবে বেশি কিছু নিতে পারবিনা।”
–আলিশা খুশিতে দিশেহারা হয়ে বললো –
“কাছে আসো… একটা চুম্মা দেই।”
“সর, লাগবেনা তোর চুম্মা। আমাকে ফকির বানানোর পায়তারা করে আবার চুমুর লোভ দেখায়। হুহহহহ।”
“তাহলে কি নোমান ভাইকে চুমু…” কথাটি শেষ করার আগেই আরহাম ধমকে উঠলো।
“এক থাপ্পরে গাল ফাটিয়ে দিবো বেয়াদব।”
“তাহলে কাছে আসো।”
–আরহাম হার মেনে আলিশার কাছে ঘেষতেই ; আলিশা আচমকা তাকে ধাক্কা দিয়ে নাক চেপে ধরলো।
–হতবাক আরহাম কিছু বুঝে উঠতে না পেরে জিজ্ঞেস করলো –
“কিরে কিরে ধাক্কা দিলি কেন?”
“ছিহ! দূরে থাকো তুমি। তোমার গায়ে থেকে মুরগির বাচ্চার স্মেল আসছে।”
“কিইইইই?”
“শুনোনি তুমি? বলেছি ; তোমার শরীর থেকে মুরগির বাচ্চার স্মেল আসছে। সরো, দূরে যাও আমার থেকে।”
–আরহাম নিজের গায়ের স্মেল চেক করে দেখলো – না, সব ঠিকই আছে। কোনো স্মেল নেই তার গায়ে বরং পারফিউমের স্মেল পাওয়া যাচ্ছে।
“এই লিশা? সব ঠিকই তো আছে। আমার গায়ে কোনো স্মেল নেই।”
–আলিশা একহাত নাকে হাত চেপে ধরে, অন্যহাতে আরহামকে দূরে সরানোর চেষ্টা করছে।
“সরো সরো এখান থেকে…শুউউউ শুউউউ..”
“আমি কি কুত্তা যে এমন শুউউ শুউউ করছিস?”
“উহুমম…সরো তো।”
“আর যদি কাছে ডেকেছিস ভোটকি…”
“ডাকবোনা, যাও এখন শাওয়ার নিয়ে এসো।”
“এত রাতে! আমি কেন শাওয়ার নিবো এখন?”
“তবে, আমি ঘুমাবো কেমনে?”
“তোকে মানা করেছি ঘুমাতে?”
“তোমার বুকে মাথা না রাখলে আমার ঘুম আসেনা। আর তোমার গায়ে মুরগির বাচ্চার স্মেল।”
“আমি এত রাতে শাওয়ার নিবোনা।”
“ঠিক আছে, নিতে হবেনা। আমি বড় মাকে বলবো, যে তুমি আমাকে মেরেছো।”
আরহাম অবাক হয়ে শুধালো –
তোমার আমার গল্প পর্ব ১৩
“আমি কখন তোকে মেরেছি?”
“মারোনি, তবে আমি বললে বড় মা ঠিকই বিশ্বাস করবে।”
“ব্ল্যাকমেইল করছিস?”
“করছিইই…”
“লিশায়ায়া??”
“প্লিজ…শাওয়ার নিয়ে আসো। আমার ঘুম পেয়েছে।”
–আরহাম একপ্রকার বাধ্য হয়েই ; এতো রাতে শাওয়ার নিয়ে আসলো।
