Home তোমার আমার গল্প তোমার আমার গল্প পর্ব ১৯ (২)

তোমার আমার গল্প পর্ব ১৯ (২)

তোমার আমার গল্প পর্ব ১৯ (২)
noorayn

আরহাম আর কিছু না বলে নিজে রুমে গিয়ে লাথি মেরে দরজা বন্ধ করলো।
শাইনা অবাক হয়ে তাকালেন ছেলের দিকে, দিনদিন বেয়াদব হচ্ছে ছেলেটা, এই নিয়ে ইজাজ সাহেবের সাথে কথা বলতে হবে।
শাইনা বেগম আয়শা কে কল দিয়ে খোজখবর নিলেন, আয়শা জানালেন, আলিশা কে টেস্ট দেয়া হয়েছে আর এখন আলিশা ঠিক আছে।
ফোন কাটতেই আরহাম তার সামনে এসে দাড়ালো,
“ওরা কোথায়?”
“আয়শা বলেছে সময় লাগবে আসতে, আলিশার টেস্ট দিয়েছে সেসব করাচ্ছে এখন”
“আমি যাচ্ছি”

“কোনো দরকার নেই, ওখানে গিয়ে না জানি আবার কি অশান্তি করো তুমি, এর চেয়ে ভালো ঘরেই থাকো”
আরহাম শুনলোনা, গাড়ির চাবি নিয়ে বের হয়ে গেলো হসপিটাল এর উদ্দেশ্য।
আলিশার তখন সব টেস্ট শেষে আলট্রাসাউন্ড এর নিয়ে জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
“আলট্রাসাউন্ড এর তেমন কোনো প্রয়োজন ছিলোনা, তাও আপনাদের মনের শান্তির জন্য করা” (ডাক্তার)
“মেয়েটার কাল রাত থেকে নাকি পেটে ব্যাথা করছে তবুও কাওকে বলেনি”
“এই সময় টা অনেক সেন্সিটিভ মিসেস খান, তাই নেক্সট টাইম থেকে বেশি খেয়াল রাখবেন যেহেতু আলিশার ও বয়স কম তাই সেও এই সময় সব বুঝবেনা”
আলিশার আলট্রাসাউন্ড এর মাঝেই আরহাম হসপিটাল এ এসে হাজির।
আয়শা তাকে দেখে অবাক হয়ে বললো,
“তুমি এখানে কি করছো বাবা?”
“লিশা কোথায় ছোট মা?”
“আলট্রাসাউন্ড রুমে”
“আরহাম সোজা ওইদকে চলে গেলো”

আলিশা তখন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ছিলো, নিজের ছোট জানের দিকে।
হঠাৎ দরজার খোলার শব্দে তার মনোযোগ এর ব্যাঘাত ঘটলো।
আরহাম কে দেখেও না দেখার ভান করলো।
“এই কি আপনি এমন অনুমতি ছাড়া এখানে ঢুকেছেন কেন?” (নার্স)
আরহান চুপ করে তাকিয়ে আছে আলিশার দিকে।
“জানেন না এটা আলট্রাসাউন্ড রুম, এখানে অনুমতি ছাড়া আসা নিষেধ, এখনি বের হোন” (নার্স)
“মাইশা থামো, উনি পেশেন্ট এর হাসবেন্ড” (ডাক্তার)
নার্স যেন অবাক হয়ে তাকালো আরহাম এর দিকে, একবার উপর থেকে নিচ পর্যন্ত দেখলো, এই বাচ্চা ছেলেটার নাকি বাচ্চা হবে!
মেয়ের টা মানা যায় কারন এখনো অনেক মেয়েদের কম বয়সে বাচ্চা হয় কিন্তু এই বাচ্চা ছেলে কোন আক্কলে বাপ হবে? এসব ভাবতে ভাবতে মাইশা নিজেকে নিজে বললো, কি করলাম এই জীবনে?
তার ভাবনার মাঝে ডাক্তার ডাক দিলো তাকে, সে সেদিকে চলে গেলো কিন্তু তার বিষ্ময় যেন কাটছে না।

“আলিশা উঠে বসো” (ডাক্তার)
“আলিশা নার্স এর দিকে হাত বাড়িয়ে দিলো সাহায্যের আশায় যা দেখে আরহাম এর রাগের পারদ আরো বাড়লো”
“আলিশা বেবি ইস ফাইন, দেয়ার ইস নাথিং এবাউট টু ওয়ারি”
(আলিশা বাবু ঠিক আছে, চিন্তার বিষয় নেই)
ডাক্তার এর কথা শুনতেই আলিশার শান্তি হলো।
“কেবিনে আসো, বাকি কথা সেখানে বলছি”
বলেই বের হয়ে গেলো ডাক্তার।

কেবিনে বসে আছে আলিশা, আরহাম আর আয়শা।
ডাক্তার সব রিপোর্ট দেখে বললো, ভয়ের কিছু নেই, রিপোর্ট সব নরমাল।
“তাহলে ওর কাল রাত থেকে পেটে ব্যাথা হচ্ছে কেন?” (আয়শা)
আয়শার প্রশ্ন শুনে আরহাম যেন সপ্তম আসমান থেকে পড়লো, কাল রাত থেকে মানে! কাল পুরা রাত তো আলিশা তার কাছেই ছিলো কই একবারো তো বললো না, পরে মনে পড়লো তার সে কাল রাতে আলিশার সাথে কথায় বলেনি, ঘুমিয়ে গেছিলো কিন্তু আজ সকালেও বলেনি কেন? সকালে নাহয় সে ঝগড়া করে বের হয়ে গিয়েছিলো, কিন্তু তাকে কি একটা ফোন করে বলা যেতোনা?
ডাক্তার আয়শার প্রশ্ন শুনে বললো,
আলিশা বলেছে কাল রাত থেকেই বেবী বেশি নড়াচড়া করছে যার কারনে আলিশার পেট ব্যাথা করছিলো।
সব শুনে সবার মন শান্ত হলো।

“বাই দা ওয়ে, আলিশা তোমার বেবী কিন্তু অনেক এক্টিভ, ডেলিভারির পর সামলাতে কষ্ট হবে তাই এখন থেকেই প্রিপারেশন নিয়ে রাখো” (হেসে কথাটি বললো ডাক্তার)
সব চেকআপ শেষে তারা হসপিটাল থেকে বের হয়ে গেলো, এরমধ্যে আলিশা একবারো আরহাম এর দিকে তাকায় নি যেটা আরহাম ভালোভাবেই খেয়াল করেছে।
“ছোট মা আমি ড্রাইভার কে পাঠিয়ে দিয়েছি বাড়িতে, তোমরা আমার গাড়িতে আসো”
“ঠিক আছে”
আয়শা আস্তে আস্তে আলিশা কে ধরে গাড়ির কাছে নিয়ে আসলো।

বাড়ি পৌছাতেই আয়শা নেমে আলিশা কে নামালো,
আরহাম গিয়েছে গাড়ি পার্ক করতে।
আলিশা বাড়িতে ঢুকেই আগে নিজের রুমে গেলো ফ্রেশ হতে, কিন্তু না তার এই রুমে তো কোনো কাপড় নেই, তাই আবার গেলো আরহাম এর রুমে।
গিয়ে দেখলো আরহান বেডে আধশোয়া হয়ে নিজের গলার চেইন ঘুরাচ্ছে আর এক ধ্যানে সিলিং এর দিকে তাকিয়ে আছে, আলিশা তার দিকে খেয়াল না দিয়ে চলে গেলো ড্রেসিং রুমে।
কাপড় চেঞ্জ করে ফ্রেশ হয়ে বাহিরে এসে দেখলো আরহাম ঠিক আগের ভঙ্গিতে শুয়ে আছে, সে আর দেরি না করে বেডে গিয়ে শুয়ে পড়লো।
এখানে থাকার ইচ্ছা না থাকলেও এখানেই থাকতে হবে নাহলে আবার বাসার সবাই বুঝে যাবে যে কিছু হয়েছে আর আলিশা নিজেদের কথা বাইরের কাওকে জানতে দিতে চায়না তাই এখানেই শুয়ে পড়লো।
আলিশা শুতেই আরহাম আলিশার কাছ ঘেঁষে তাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো।
আলিশা কোনো রিয়েক্ট করলোনা।

“কাল রাত থেকে পেটে ব্যথা আর আমাকে জানানো প্রয়োজন মনে করলিনা?
আলিশা চুপ করে শুয়ে আছে।
” সকালে আমার ওভাবে রিয়েক্ট করা উচিত হয়নি, সরি”
“কি হয়েছে, কথা বল।”
“সরি বললান তো, তবে দোষ কিন্তু তোর ও ছিলো লিশা, আমার কত জরুরি মিটিং মিস হয়েছে তার কোনো আইডিয়া নেই তোর, এর উপর তুই নেহার সাথে বেয়াদবি করেছিস।
” আই এম সরি আরহাম তোমার নেহার সাথে বেয়াদবি করা উচিত হয়নি আমার, আর হবেনা”
“এভাবে কথা বলছিস কেন?”
“কিভাবে বলবো?”
“রেগে আছিস এখনো?”
“না”
“তাহলে শরীর খারাপ আমাকে জানাস নি কেন?”
“তোমাকে বিরক্ত করতে চাইনি”
“বিরক্ত মানে? বিরক্ত কেন হবো আমি!”
আলিশা উত্তর করলোনা।

“আজকে সারাদিন একটা কল ও দেসনি”
“কেন দিবো?”
“প্রতিদিন তো দেস”
“আজ ইচ্ছা হয়নি”
“আজ কিছু আনার জন্য বায়না ও করলিনা”
“কিছুর প্রয়োজন পড়েনি”
“ডাক্তার এর কাছে যাওয়ার জন্য আমাকে বলিস নি?”
“মা আর বড় মা ছিলো আর তোমার আরামের ঘুম নষ্ট করতে চাইনি”
“লিশাাাা, বারবার এক কথা ভালো লাগেনা”
আলিশা চোখ বুঝে ফেললো।
আরহাম আলিশার কাধের চুল সরিয়ে ঘাড়ে শক্তপোক্ত এক কামড় বসালো।
আলিশা ব্যাথা পেলেও নিশ্চুপ।
আরহাম আলিশার সাড়া না পেয়ে ফ্রক এর পিছনের চেইন খুলতে নিলেই আলিশা ঝাটকা মেরে হাত সরিয়ে নিলো।
আরহাম এর যেন ইগো তে লাগলো ব্যাপার টা, আলিশা কি তাকে রিজেক্ট করলো!

“শরীর খারাপ আমার, হাত সরাও আমি ঘুমাবো।
” আমি তো বেশি কিছু করছিলাম না, এভাবে হাত সরালি কেন?”
“ঘুম পেয়েছে আমার”
“প্রতিদিন এভাবেই আমার বুকে ঘুমাস”
“আজ চাইনা, সরো”
“বেয়াদবি করবিনা আলিশা, এসব বেয়াদবি পছন্দ না আমার”
বলেই এক ঝটকায় উঠে গেলো বেড থেকে।
এদিকে আলিশার চোখ থেকে এক ফোটা পানি গড়িয়ে পড়লো।

ঘন্টা খানিক পর আলিশার ঘুম হালকা হতেই পানির জন্য সাইড টেবিলে হাত বাড়ালো, কিন্তু পানির বোতল নেই।
আলিশা চোখ খুলে দেখলো, পানির বোতল ড্রেসিং টেবিল এর উপর রাখা।
আরহাম বর্তমানে বিন ব্যাগে বসে ভিডিও গেমস খেলছে আর তার পাশেই ড্রেসিং টেবিল।
আলিশা চাইলেই আরহাম কে বলতে পারে পানি দিতে, কিন্তু বলতে ইচ্ছা করছেনা কেন জানি, এদিকে আবার গলা শুকিয়ে আসছে।
৮ মাসের ভাড়ি পেট টা নিয়ে উঠতে একদম ইচ্ছা করছেনা, তবুও কষ্ট করে উঠলো,
আলিশা আস্তে ধীরে উঠেই যেই ড্রেসিং টেবিল এর উপর থেকে পানির বোতল হাতে নিলো তখন আরহান এর ধ্যান ভাঙলো।

তোমার আমার গল্প পর্ব ১৯

দেখলো আলিশা পানির জন্য উঠেছে, কথাটি যেন তার মাথায় আগুন ধরিয়ে দিলো, এই পেট নিয়ে উঠতে হবে কেন? আরহাম কে কি বলা যেতোনা!
সে আর সহ্য করতে না পেরে উঠে আলিশার চোয়াল চেপে ধরলো…..

তোমার আমার গল্প পর্ব ২০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here