তোমার আমার গল্প পর্ব ২০
noorayn
আরহাম আর সহ্য করতে না পেরে আলিশার চোয়াল চেপে ধরলো।
“কার সাথে রাগ দেখাস তুই? এত্তবড় শাহস কে দিয়েছে তোকে?” (আরহাম)
“আলিশার ব্যাথায় চোখে পানি চলে এসেছে।”
“ছাড়ো” (আলিশা)
“ছাড়বোনা, কি করবি?”
“কাল থেকে তোর এসব বেয়াদবি সহ্য করছি, কথা বলছিস না, কিছু জানাচ্ছিস না, আমাকে ইগনোর করছিস?”
“আরহাম আই এম প্রেগন্যান্ট, ব্যাথা পাচ্ছি আমি ছাড়ো।” (আলিশা)
আরহাম এর যেন হুশ ফিরলো, সাথে সাথেই ছেড়ে দিলো আলিশা কে।
ছাড়ার সাথে সাথেই আলিশা ধপ করে বেডে বসে পড়লো।
আরহাম আলিশার হাটুর কাছে বসে হাত ধরে বললো, সরি আমি ইচ্ছা করে করিনি।
“হাত ছাড়ো আমার, অনেক সহ্য করেছি তোমার এসব।
” শুরুটা তুই করেছিস লিশা”
“সিরিয়াসলি!! আমি করেছি?”
“অবশ্যই”
“আমি তোমার সাথে কথা বলতেই চাইনা আরহাম সরো।
” কি করেছি আমি?”
“কিছুই করোনি তুমি, সব আমি করেছি। তোমায় বিরক্ত করি, তোমাকে ঘুমাতে দিনা, শান্তি দিনা।
” আমি এসব কিছুই মিন করে বলিনি লিশা”
“হ্যাঁ সব দোষ তো আমার, আসলে তোমার বাচ্চা পেটে ধরেই ভুল করেছি”
“আলিশাাাাাা” (আরহাম গর্জে উঠলো)
“চিল্লাচ্ছো কেন? তোমার চোখে খালি তোমার স্যাক্রিফাইস গুলা পড়ে আর এখানে যে আমি ৮ টা মাস নিজের সব আশা, ইচ্ছা এবং কি পড়ালেখা টাও ছেড়ে দিয়েছি কিন্তু এসব তোমার চোখে পড়েনি, তুমি এই কয়েক মাসে কয়বার ছিলে আমার পাশে? সারাদিন বন্ধু দের নিয়ে ফুর্তি করে রাতে বাড়ি ফিরে আমাকে কিছু সময় ছাড়া কি করেছো?”
-আরহাম চুপ।
“বাচ্চা টা ভুলে এসেছে, তবে এসেছে তো তাই বলে কি সব দায়িত্ব আমার একার? আমার পেটে কি ও উড়ে উড়ে এসেছে?”
“আমি একবারো বাচ্চা কে নিয়ে কিছু বলিনি লিশা”
“না বলেই অনেক কিছু বুঝিয়ে দিয়েছো আরহাম।”
“নিজের লিমিটে থেকে কথা বলবি, তুই যতটা স্যাক্রিফাইস করেছিস, তেমন আমিও করেছি।”
“হ্যাঁ অবশ্যই করেছো কিন্তু করার পর বিরক্তিবোধ প্রকাশ করেছো, আসলে সব দোষ আমার, আমি ই সারাদিন তোমাকে জ্বালিয়েছি, তবে আর বিরক্ত করবোনা।”
বলেই আলিশা রুম থেকে বের হয়ে গেলো,
এদিকে আরহাম রাগে নিজের হাত ড্রেসিং টেবিলের আয়না তে পাঞ্চ করলো।
আলিশা আওয়াজ শুনেও এদিকে আর আসেনি।
তবে শাইনা এসে দেখলো আরহাম এর হাত রক্তাক্ত, সে তাড়াতাড়ি আরহাম এর হাত আগলে বললো,
“এটা কি করেছিস বাবা?”
“ছাড়ো মা, এখান থেকে যাও।
“এমন কেন করেছিস? দেখ কত রক্ত বের হচ্ছে”
আরহাম জোড় করে শাইনার হাত ছাড়িয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো।
“আরহাম এদিকে আয়, হাত টা ড্রেসিং করে নে বাবা” (শাইনা)
“এখান থেকে যাও মা, নাহলে আরো খারাপ হবে”
আলিশা দাদির কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে।
“কি হয়েছে আমার পরীর?” (দাদি)
“কিছুনা”
“দাদুভাই এর সাথে ঝগড়া করেছিস?”
“না”
“এই সময় স্বামী – স্ত্রী এর মধ্যে শয়তান ঝগড়া-বিবেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তাই নিজেদের মধ্যে ঝগড়া হলে দূরত্ব না বাড়িয়ে সেটা বসে সমাধান করা উচিত”
-আলিশা কান্না করছে।
মেহরোজা আক্তার আলিশার মন ভালো করার জন্য আর এই বিষয়ে কিছু বললেন না।
“তুই সাত মাসের অনুষ্টান এর জন্য রাজি হলিনা কেন?” (মেহরোজা)
“ইচ্ছা হয়নি”
“সব মায়ের জন্য এই অনুষ্ঠান টি অনেক আনন্দের আর তুই মানা করে দিলি!”
“আমি এখন এত ঝামেলা চাইনি দাদি, আর বিয়ে/প্রেগন্যান্সি এসব ব্যাপারে কেও জানেনা তাই আমি চাইনি কোনো প্রোগ্রাম করতে”
“আমরা ঘরে ছোট করে করতে পারতাম”
“না দাদি, ভাই আর নিলাপু এত কষ্ট পাচ্ছে বাবুর জন্য সেখানে আমার এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রেগন্যান্সি আমি সেলিব্রেট করতে চাইনি”
“তাই বলে নিজের ইচ্ছা পূরন করবিনা?”
“এসব এর আরো সুযোগ পাবো তবে আমি চাইনি আমার নিলাপু মনে কষ্ট পাক”
“আমার পরি বড় হয়ে গেছে”
আরহাম রুমের লাইট নিভিয়ে শুয়ে আছে, হাত টা পর্যন্ত ড্রেসিং করেনি, রক্ত হাতে শুকিয়ে গেছে।
আলিশা ধীর পায়ে রুমে প্রবেশ করলো,
লাইট অন করে দেখলো আরহাম মুখের উপর হাত রেখে শুয়ে আছে।
আলিশা ধীরে ধীরে আরহাম এর কাছে গিয়ে তার ক্ষত হাত টা বুকে আগলে নিলো।
চোখ দিয়ে পানি পড়ছে তার।
সাইড টেবিল থেকে ফার্স্ট-এইড বক্স নিয়ে আরহাম এর হাত ড্রেসিং করে দিলো।
ড্রেসিং করে যেই উঠতে যাবে আরহাম আলিশা কে পেচিয়ে ধরলো।
তোমার আমার গল্প পর্ব ১৯ (২)
“কারো রাগ কি কমেছে?” (আরহাম)
“না”
“তাহলে কেও একজন আমার জন্য কান্না করছে কেন?”
“আমি না বাবু কান্না করছে”
“আর বাবুর মাম্মা?”
“জানিনা”
