তোমার আমার গল্প পর্ব ২১
noorayn
“আর বাবুর মাম্মা?” (আরহাম)
“জানিনা” (আলিশা)
“আর হবেনা, সরি”
আলিশা কান্না করতেই আছে।
“এইযে কানে ধরেছি”
“কানে ধরলে হবেনা” নাক টেনে বললো আলিশা।
“তাহলে কি করতে হবে?”
“কান ধরে উঠবস করতে হবে”
“কিইইইই!!”
“করবেনা?” বলেই ছলছল চোখে তাকালো।
“ব্ল্যাকমেইল করছিস?”
“হ্যাঁ করছি”
“শাহস কি বেড়ে গেছে?”
“আগে কি কম ছিলো?”
“আমার সামনে কম ছিলো”
“তুমি একটা বেয়াদব ভেন্ডি”
“আবার উল্টা পাল্টা নাম দিয়েছিস বেয়াদব মহিলা”
“তোর বাচ্চা মহিলা”
আরহাম লাফিয়ে উঠলো, “কি বললি! আবার বল।”
“কি বললাম?”
“মহিলা বাচ্চা মানে, আমাদের কি মেয়ে হবে?”
“আমি তো কথার কথা বললাম”
“এক চটকনা দিবো, আমি তো সত্যি সত্যি ভেবেছি।”
“কেন মেয়ে কি তুমি চাওনা?”
“তা কবে বলেছি? এক লাইন বেশি বুঝিস সবসময়”
“তাহলে এমন করে বললে কেন?”
“কারন আমি ভেবেছি মিনি আলিশা আসবে তারপর মায়ের সাথে মিলে আমাকে জ্বালিয়ে মারবে তাই”
“আমি তোমাকে জ্বালায়?”
“এটা কি আবার বলা লাগে?”
“তুই একটা ভিম সাবান, তোর সাথে আর একটু ও কথা বলবোনা খালি আমাকে অপমান করিস।”
“এসব নাম কোথা থেকে পাস বইন?”
“তোর বাচ্চা পেটে গুতা দিয়ে সাজেশন দেয় আমাকে”
“এখনো দুনিয়া তে আসেনি আর এখনি মায়ের সাথে হাত মিলিয়েছে, পঁচা বাবু”
“তোর এতবড় শাহস তুই আমার কিউট বাচ্চাকে পঁচা বলেছিস!”
“তোর বাচ্চা কিউট এটা তোকে কে বলেছে?”
“কারন আমি কিউট আর মা কিউট হলে বাচ্চা এমনিতেই কিউট হয়”
“আর বাপ কিউট হলে?”
“বাপ কিউট হলেও কি না হলেও কি, বাপের মত গন্ডার না হলেই হয়”
“আমার মেয়ে হলে তোকে ফেলে আমার বাপ মেয়ে ট্যাুর দিবো।”
“যদি ছেলে হয়?”
“তাহলে তো মায়ের মুখে বেবি গন্ডার ডাক শুনতে হবে”
আলিশা হেসে উঠলো।
আরহাম চেয়ে থাকলো তার লিশার দিকে।
“এভাবে তাকিয়ে আছো কেন?”
“দেখছি”
“কি দেখছো?”
“এইযে তুই আগের থেকে বেশি ভটকি হয়েছিস সেটা”
“গন্ডার এর ঘরের গন্ডার তুই আর ভালো হবিনা”
“আমি ভালো হলে তুই মা হতিনা”
“শরম কর, দুদিন পর বাচ্চার বাপ হবি”
“শরম করলে তো তোর ই ক্ষতি”
“বেহায়া লোক”
“এই এই লোক কাকে বলিস? মাত্র ২০ বছর আমার”
“আর আমার ১৭”
“আর আমাদের বাচ্চার?”
“৮ মাস”
“আয়হায় হয়ে গেলো টুনা টুনির সংসার”
“এই টুনি তুই খাস কি?”
“পান্তা ভাত চাস কি?”
“পান্তা আমি খাইনা, আরহাম এর ত্যাড়া ঘাড় সোজা করতে পারিনাাাা….
” বেয়াদব, বলেই কুশন ছুড়ে মারলো আলিশার দিকে”
আলিশা আরহাম এর চুল টেনে ধরলো….
“আম্মায়ায়ায়া আমার রামেন কই??” (আরহাম)
“আনছি দাড়া” (শাইনা)
-আলিশা এসে আরহাম এর পাশে বসলো সোফায়।
শাইনা বেগম রামেন এর বাটি এনে আরহাম এর হাতে দিতেই আলিশা তা কেড়ে নিলো।
“এই ভোটকি আমার রামেন নিলি কেন? এখনি দে” (আরহাম)
“দিবোনা এটা আমার”
“আমি আগে বলেছি, তুই খাবিনা এটা আমার”
“আমি তো খাচ্ছিনা”
“তাহলে নিয়েছিস কেন?”
“বাবু বলেছে নিতে, ওর নাকি খেতে ইচ্ছা করছে”
“আমায় পাগল মনে হয়?”
আলিশা সিরিয়াস ভাবে আরহাম এর উপর থেকে নিচ ভালোভাবে স্কেন করলো, তারপর বললো,
“না, ঠিক ঠাক ই আছে তবে একটা বেবী পিংক কালার শার্ট পড়লে কিউট লাগতো”
“একটা মাইর দিবো”
“মেরে দেখাও”
আলিশা জানে এখন আরহাম তাকে মারতে পারবেনা কেননা কিচেন থেকে শাইনা বেগম তাকিয়ে আছেন।
“সুযোগ নিচ্ছিস?”
আলিশা একটা শয়তানি হাসি দিলো।
এর মধ্যেই শাইনা আরেক বাটি রামেন এনে আরহাম এর হাতে দিলো।
আরহাম খাওয়া শুরু করলো, কিন্তু আলিশা ২ চামুচ এর বেশি খেতে পারলোনা ঝাল এর জন্য তাই বাটি টা সেন্টার টেবিল এর উপর রেখে দিলো।
“এখন কি হয়েছে? খাবি বলে আমার টা নিয়ে ফেলেছিস এখন খাচ্ছিস না কেন?”
“অনেক ঝাল”
“তোর মত”
“অশ্লীল বেডা”
“অশ্লীল বেডার বউ”
আলিশা চুপ করে বসে থাকলো।
“কাস্টার্ড খাবি?”
আলিশার চোখ চকচক করে উঠলো।
“তুমি বানালে খাবো”
“শেফ আছে, বানিয়ে দেবে”
“আমি তোমার হাতের খাবো”
“পারবোনা”
“দেখ বাবু দেখ তোর বাবা তোকে ভালোবাসেনা”
“এখন ই এতো ব্ল্যাকমেইল করছিস, এই ছোট পটাকা দুনিয়া তে আসলে মা-বাচ্চা মিলে যে কি করবি আমার কে জানে”
বলেই চলে গেলো কিচেনে।
আরশাদ ভিডিও কল দিয়েছে আয়শা কে,
সবাই এখন তার সাথে কথা বলছে।
“নিলাপু কোথায় ভাইয়া?” (আলিশা)
আরশাদ জানালার ওইদিকে নিলীমার দিকে তাকালো, যে একমনে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।
“আছে” (আরশাদ)
“একটু দাও, অনেক দিন কথা হয়না।
আরশাদ নিলীমার কাছে গিয়ে ফোন টা ধরলো,
“কেমন আছিস আমার ছোট্ট পুতুল?”
“নিলাপু…(আলিশার চোখ ভিজে উঠলো)
” কাঁদছিস কেন পাগলি মেয়ে?”
“কবে আসবা তোমরা?”
নিলা যেন এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেলো।
“আমার ভাগ্না/ভাগ্নির খেয়াল রাখছিস তো ঠিকঠাক?”
“হুম”
“বান্দর টা কি বেশি জ্বালাচ্ছে?”
“অনেক, তুমি এসে কান মলে দিও।”
এই এই অনেক হয়েছে আমার বদনাম, এবার আমাকে দে, বলেই ফোন টা কেড়ে নিলো আরহাম।
“এই ছিঁদকাদুনি, ব্রো কে ফোন দে, তোর এই কান্নামার্কা চেহারা দেখতে ইচ্ছা করছেনা”
“এসেই কান মলে দিবো বান্দর ছেলে”
পাশ থেকে আরশাদ ফোন টা নিয়ে নিলো।
“হেই ব্রো, তোমার তো দেখি দাড়ি গজিয়ে গেছে একদম ভন্ড বাবার মত লাগছে”
আরশাদ হেসে উঠলো।
“দাড়ি তো এখন তোর গজানোর কথা হবু আব্বাজান”
আরহাম যেন লজ্জা পেলো।
“আমার PS5 কবে পাঠাবে?”
“পাঠিয়ে দিয়েছি অলরেডি, পৌছে যাবে ২ দিনে আর সাথে বাচ্চার ডায়পার ও দিয়েছি সামনে তোর কাজে লাগবে”
“উফ, ব্রো তুমিও মজা নিচ্ছো?”
এবার আমাকেও দাও, সব কথা তো তোমরাই বলছো। (শাইনা)
এই নাও।
তোমার আমার গল্প পর্ব ২০
“নোমান এসব পাগলামি ছাড়া আর কিছু ই না”
“পাগলামি হলে পাগলামি মা, তবে আমার ওকেই চাই”
“এক বাচ্চার মার মধ্যে কি পেয়েছো তুমি?
