Home তোমার আমার গল্প তোমার আমার গল্প পর্ব ২৮

তোমার আমার গল্প পর্ব ২৮

তোমার আমার গল্প পর্ব ২৮
noorayn

আলিশা কে সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আরহাম বিষম খেলো, সে আশাও করেনি আলিশা এখন বাহিরে আসবে।
আরহাম কে কাশতে দেখে আলিশা কাছে এসে ফিডার নিজের হাতে নিয়ে আবার আরহাম এর মুখে ধরলো সাথে পরম আদরে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো।
আলিশার এতো কেয়ার দেখে আরহাম পরিস্থিতি ভুলে ফিডার থেকে চুকচুক করে দুধ খেতে লাগলো, এক পর্যায়ে ফিডার খালি করে ছাড়লো।
পাশ থেকে বাবু হাত পা ছুড়ে খেলছে সাথে চোখ বড় বড় করে নিজের মাম্মা-পাপার দিকে তাকিয়ে আছে যেন সে কোনো খেলা দেখছে।
ফিডার খালি করার পরও আলিশা আরহাম এর মুখ থেকে ফিডার সরাচ্ছেনা দেখে আরহাম উম উম শব্দ করছে তাও আলিশার কোনো হেলদোল না দেখে নিজেই হাত দিয়ে ফিডার মুখ থেকে সরালো।

–উম মজা ছিলো ফর্মুলা মিল্ক টা, তুইও ট্রাই করতে পারিস লিশা…কথা শেষ হওয়ার আগেই আরহাম এর বুলি ফুরিয়ে গেলো আলিশার কটমট দৃষ্টি দেখে।
আরহাম এর যেন হুশ ফিরলো।
“লিশা ওই মানে আমি বলছিলাম কি…
“কি বলবি? কি বলবিইইই তুই যে বাপ হয়ে দামড়া বয়সে নিজের বাচ্চার ফিডার খেয়েছিস”
আরহাম চোর চোর ভাব নিয়ে কোনা চোখ দিয়ে তাকালো আলিশার দিকে, সে জানে ধরা পড়ে গেছে তবুও এই অকর্মার ঢেকির সামনে নিজেকে দুর্বল প্রকাশ করা যাবেনা তাই মনে মনে শাহস জোগাড় করে আবার আলিশার দিকে তাকালো।
“হ্যাঁ খেয়েছি তো কি হয়েছে, আমার ছেলের দুধ আমি খেতেই পারি”
“এতো বড় দামড়া বেটা হয়ে আমার সাতদিনের বাচ্চার ফিডার খেতে লজ্জা হয়নি তোর?”
“কেন হবে লজ্জা? বাবু তো খাচ্ছিলো না তাই দুধ নষ্ট হবে ভেবে আমি খেয়ে নিয়েছি, তোর তো আমায় নিয়ে গর্ব করা উচিত যে আমি অপচয় হওয়া থেকে বাচিঁয়েছি, জানিসই তো অপচয়কারি শয়তান এর ভাই”
আরহামের কথা শেষ হওয়ার আগেই দেখলো তার দিকে আলিশা উড়ন্ত ডায়পার ছুড়ে মেরেছে।
ডাইপার এসে সোজা আরহাম এর মুখে পড়লো।
এটা দেখে পাশ থেকে ছোট আরশান হাল্কা শব্দে খিলখিল করে হেসে উঠলো।
আরহাম মুখ থেকে ডায়পার সরিয়ে অসহায় দৃষ্টি তে তাকালো বাচ্চার দিকে, যেন বলছে এই মিনি গন্ডার আমাকে বাচাঁ তোর ডাইনি মার থেকে।
আলিশার বজ্রকন্ঠে সেই আশাও নিভে গেলো আরহাম এর।

“নে এই ডায়পার পড়েও অপচয় বাচাঁ”
“ডায়পার তো বাবু পড়ে তাহলে অপচয় কিভাবে?”
“এটা এক সাইজ বড় এনেছে তাই বাবুর হচ্ছেনা, এখন তো এটাও অপচয় হবে, এইজন্য তুই এই ডায়পার পড়ে অপচয় বাচাঁবি”
আরহাম ঢোক গিলে বলে, “তাই বলে ডায়পার?”
“কেন নয়? বাচ্চার দুধ খেতে পারলে ডায়পার পড়তে পারবিনা কেন?”
“পাগলামি করবিনা লিশা, সামান্য ফিডারই তো খেয়েছি”
“এখন সামান্য ডায়পার ও পড়ে দেখাবি আমাকে”
“কিরে বসে আছিস কেন? পড় ডায়পার”
“দাড়া আমি পড়িয়ে দিচ্ছি” বলেই আরহাম এর দিকে এগুলো আলিশা।
আলিশা কে কাছে আসতে দেখে আরহাম এক লাফে বেড থেকে উঠে পালালো।
“এদিকে আয় বলছি, আজকে তোকে এই ডায়পার পড়িয়ে ছাড়বো আমি”
“এই নারী তো সাংঘাতিক ভয়ংকর”
“কি বলছিস কাছে এসে বল”
“একটা চটকনা দেবো লিশা, দূরে সর”
“তুই কাছে আয়, এখনি আয়”
“না”

“আমি তোকে ডায়পার পড়িয়ে ছাড়বো, প্যান্ট খুল”
“কি বলেছি শুনতে পাসনি? প্যান্ট খুল”
আরহাম ইজ্জত হারানোর ভয়ে নিজের প্যান্ট আকড়ে ধরলো।
“প্যান্ট এর দিকে নজর দিচ্ছিস কেন বেয়াদব মহিলা?”
“তুই খুলবি কিনা আমি খুলবো?”
“অন্য কারনে খুলতে পারি তোর জন্য তবে এই কারনে নয়”
“অসভ্য বেটা, এক বাচ্চার বাপ হয়েও ভালো হলিনা”
আলিশা ডায়পার হাতে কাছে আসতেই আরহাম আলিশার দুহাত পিছন থেকে পেচিঁয়ে ধরে ফেললো।
“উফ, ব্যাথা পাচ্ছি আমি, হাত ছাড়”
“আগে তুই বল আর ডায়পার ডায়পার করবিনা”
“করবো”
আরহাম আরো মুচঁরে ধরলো আলিশার হাত।
“করবি?”
“করবোনা”
“বাইরে কাউকে ফিডার এর কথা বলবি?”
“বলবো”

আরহাম এবার নিজের এক হাত দিয়ে আলিশার কাধের চুল সরিয়ে সেখানে মুখ ডুবালো, তার এর শ্বাস আলিশার ঘাড়ে উপচে পড়ছে।
হঠাৎই আরহাম এর এমন স্পর্শে আলিশা কেঁপে কেঁপে উঠছে।
“কি করছো?”
“এবার বল, কাউকে কিছু বলবি?”
“না..না…
“প্রমিস?”
আলিশা চুপ করে রইলো, আরহাম এবার ঘাড়ে ভেজা চুমু দিতে আরম্ভ করলো।
“আরহাম প্লিজ, ডোন্ট”
“প্রমিস কর আগে”
আলিশা না পারতে প্রমিস করতে বাধ্য হলো, না করলে আরহাম এখন কি করবে তার জানা আছে, উফ এই গন্ডার তার দূর্বলতার সুযোগ নিয়েছে।
“হাত ছাড়ো এবার”

আরহাম হাত ছাড়লেও আলিশা কে ছাড়লোনা, তাকে ঘুরিয়ে চুলের পিছে হাত দিয়ে আচমকা ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো, আলিশা আরহাম এর শার্টের কলার আকড়ে ধরলো।
তাদের এমন আবেগময় মুহূর্তে হঠাৎ কানে এসে ঠেকলো ওয়া ওয়া শব্দ…
আরহাম আলিশা ছিটঁকে দূরে সরলো একে অপর থেকে, দুজিনেই ঘন ঘন শ্বাস নিচ্ছে।
বাবুর দিকে তাকাতেই দেখলো সে গলা ফাটিঁয়ে কাদঁছে।
আরহাম ধাতস্থ হয়ে বাবুকে কোলে নিলো।
“ক্ষিদে পেয়েছে ওর, খাইয়ে দে”
“ওকে রাখো, আমি ফিডার বানিয়ে আনি”
“এখন বাহিরে যাওয়ার দরকার নেই, তাছাড়া ও ফিডার খেতে চায়না, তুই খাইয়ে দে”
আলিশা আরহাম এর কোল থেকে বাবুকে নিয়ে আস্তে আস্তে ফিডিং করাতে শুরু করলো।
“ও খেতে খেতে তুমি শাওয়ার নিয়ে এসো, তারপর আমি যাবো”
আরহাম সায় দিয়ে চলে গেলো শাওয়ার নিতে।

“আজকে কোনো ধরনের ঝামেলা করবেনা নোমান”
“চিল মম, আমি কেন ঝামেলা করবো?”
“তোমার হাবভাব আমার ভালো ঠেকছেনা”
“উফ, ইউ আর থিংকিং টু মার্চ, এমন কিছুই না”
“তাই যেন হয়”
মিসেস আহমেদ চলে যেতেই নোমান এক বিষাদময় হাসি দিলো, বিড়বিড় করে বললো, আজ কতদিন পর তোমায় দেখবো লাভ”

“ভাইজান, আজ অনেকেই আসবে, এদের মধ্যে যদি কেও আরহাম আলিশার বিয়ের কথা লিক করে দেয়?” (নিয়াজ সাহেব)
“চিন্তা করিস না তুই, আমরা তো বেশি মানুষ বলিনি আর যারা আসবে সকলেই বিশ্বস্ত।” (ইজাজ সাহেব)
“তাও ঠিক বলেছেন, তবুও চিন্তা হয় বাপের মন বোঝেন ই তো।”
“হুম, আহমেদ রাও আসবে আজ, ওদের সাথে যে ডিল টা হওয়ার কথা ছিলো তা কতটুক এগিয়েছে?”
“আগামী সপ্তাহে সাইনিং হবে, আমি বলছি কি ভাইজান, যদি সাইনিং সেরেমনি তে আরহাম এর ব্যান্ড কে ইনভাইট করা হ…
“থেমে যা নিয়াজ, তুই যা বলতে চাচ্ছিস তা কোনোকালেই সম্ভব নয়।”
“কেন ভাইজান? আর কতদিন রাগ করে থাকবেন?”
“আরহাম এর গানের প্রফেশন কে আমি কোনোদিন সাপোর্ট করিনি আর না করবো, তাই এই বিষয়ে কোনো কথা শুনতে চাইনা আমি” বলেই উঠে চলে গেলেন ইজাজ সাহেব।
নিয়াজ ও আর কিছু বলেনি, ভাইজান এর এই রাগ হয়তো কোনোদিন যাবেনা, ভাবতেই দীর্ঘশ্বাস ফেললেন তিনি।

“ছোট দেখ তো, এটা ঠিক আছে কিনা?” হাতে এক স্বর্নের হার নিয়ে আয়শা কে দেখাচ্ছেন শাইনা।
“এটা তো ভারি সুন্দর আপা, লেটেস্ট ডিজাইন মনে হচ্ছে, তোমায় মানাবে বেশ”
“আরেহ বোকা এটা আমার জন্য নয়, পুতুল এর জন্য।”
আয়শা অবাক হয়ে তাকালো শাইনার দিকে।
“আলিশার জন্য কেন আপা? ওর তো অনেক আছে তাও পড়েনা”
“পড়ুক না পড়ুক তা পুতুল এর ব্যাপার তবে এটা আমি অনেক শখ করে নিয়েছিলাম ডুবায় থেকে আমার ছেলের বউ এর জন্য, ভেবেছি কোনো এক স্পেশাল দিনে দেবো আর আজ থেকে স্পেশাল দিন আর কি হতে পারে? তাই ভাবছি আজ দেবো”
“ডুবায় তো আরো দুবছর আগে গিয়েছিলে আপা, তখন তো আরহাম আলিশার বিয়েও হয়নি”
“হ্যাঁ, তবে ডিজাইন টা বেশ পছন্দ হয়েছিলো বলে আরহাম এর বউ এর জন্য নিয়ে রেখেছিলাম তবে জানতাম না সেটা পুতুল হবে”
“আপা আপনার কত শখ ছিলো আরহাম এর বউ নিয়ে, কিন্তু সবকিছু এতো হঠাৎ হলো যে কেউই কোনো ইচ্ছা পূরন করতে পারিনি” আফসোস এর সুরে বললো আয়শা।

“আরেহ মন খারাপ করছিস কেন ছোট? সময় হলে সব হবে”
“আপা একটা কথা?”
“বলে ফেল।”
“আলিশা কে মন থেকে আরহাম এর বউ মেনে নিয়েছো তো?”
শাইনা অবাক হয়ে তাকালো আয়শার দিকে।
“এসব কেমন কথা ছোট? নানী/দাদী হয়ে গিয়েছি আমরা এখন এইসব কথা কেন আসছে?”
“মন থেকে বলো আপা”

তোমার আমার গল্প পর্ব ২৭

“পুতুল কে আমি কতোটা ভালোবাসি তা তুই জানিস ছোট তাও এমন প্রশ্নের মানে কি?”
“আহা রাগ করোনা আপা, এমনেই জিজ্ঞেস করলাম।”
“রাগ তো করে ফেলেছি, এখন?”
আয়শা শাইনা কে জড়িয়ে ধরলো, এইযে আর রাগ নেই।
শাইনা হেসে উঠলো।
–তোমাগো ভালোবাসা শেষ হইলে আমার আরশাদ রে একটা কল দাও, কবে থেকে নাতিটারে দেহিনা আমি।
মেহরোজা আক্তার এর কথা শেষ হতেই তার ফোনে নীলিমার কল আসলো।

তোমার আমার গল্প পর্ব ২৯