Home তোমার আমার গল্প তোমার আমার গল্প পর্ব ২৯

তোমার আমার গল্প পর্ব ২৯

তোমার আমার গল্প পর্ব ২৯
noorayn

খান বাড়িটা আজ যেন এক অন্যরকম রূপ নিয়েছে। রঙিন আলো, ফুলের সাজ আর পরিপাটি আয়োজনে চারপাশে উৎসবের আবহ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিটি কোণ যত্নে সাজানো, যেন অতিথিদের স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত। পুরো বাড়িজুড়ে আনন্দ আর উচ্ছ্বাসের এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
ঘরোয়াভাবে কেবল কাছের মানুষদের নিয়ে আকিকা করলেও তাতে কোনো ধরনের কমতি রাখেনি খান পরিবার।
সব কাজ তদারকি শেষে একে একে তৈরি হয়ে লিভিং রুমে আসছে সবাই, এখন শুধু বাকি আরহাম আলিশা এবং তাদের ছোট্ট ছানা।
আরহাম আজ সাদা পাঞ্জাবি পড়েছে, হাতে রোলেক্স এর ঘড়ি এবং এখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পারফিউম দিচ্ছে।

“এই লিশা হয়েছে তোর?” আরহাম হঠাৎ চিল্লিয়ে উঠলো।
“দাড়াও একটু”
“আর কত সাজবি? এবার নিচে চল, সবা গেস্ট এসে যাচ্ছে”
“এই গন্ডার চুপ কর, নিজে তো টিপটপ হয়ে বসে আছে আর আমি একটু সময় নিচ্ছি বলে কতো সমস্যা তার।”
“আমি যাচ্ছি নিচে”
“একসাথে নামবো দাঁড়াও, আমাদের ছেড়ে নামলে তোর একদিন কি আমার একদিন”
“বেয়াদিব মহিলা আবার তুই-তোকারি শুরু করেছিস? এক থাপ্পড়ে দাতঁ সব ফেলে দেব”
আরহাম এর বকুনি শুনতে শুনতে আলিশা এসে তার সামনে দাড়ালো – আরহাম উপর থেকে নিচ স্কেন করলো তাকে।
আলিশার পড়নে সাদা রঙ এর প্লেইন গাউন, চোখে হালকা কাজল, চিকন আইলায়নার আর ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক – এতো কম সাজেও বড্ড স্নিগ্ধ লাগছে আলিশা কে, সে এমনিতেও নেচরাল বিউটি এর উপর এই হালকা সাজেও যেম নজর কাড়া হুর লাগছে তাকে। ইতালিয়ান হওয়ার কারনে তার চুল জন্মগত ব্রাউন আর চোখের মনিও হালকা ব্রাউন।
আলিশার লম্বা চুল যেন আরহামের দুর্বলতা, সে কোনোদিনো আলিশা কে চুল ছোট করতে দেয়নি – এই নিয়েও শতবার ঝগড়া লেগেছে তাদের মধ্যে।
আলিশা কানে ঝুমকা পড়তে পড়তে আরহাম কে জিজ্ঞেস করলো – “কেমন লাগছে আমাকে?”
আলিশার প্রশ্নে যেন আরহাম এর ঘোড় কাটলো – “কিছু বললি?”

“বলেছি কেমন লাগছে আমায়?”
“শাকচুন্নি কে যেমন লাগে তেমন” আরহাম এর উত্তর শুনে আলিশা ড্রেসিং টেবিল এর উপর থেকে একটা লিপিস্টিক নিয়ে ছুড়ে মারলো তার দিকে কিন্তু গায়ে লাগার আগেই দক্ষতার সাথে সরে গেলো আরহাম।
“মারলি আমাকে কিন্তু ক্ষতি হলো তোর নিজের” বলে ফ্লোরে পড়ে থাকা ভাঙা লিপস্টিক এর দিকে ইশারা করলো।
আরহাম এর ইশারা খেয়ালে আসতেই আতঁকে উঠলো আলিশা – “আয়হায় আমার এতো এক্সপেন্সিভ লিপস্টিক এর এই কি হাল করেছিস গন্ডার?”
“আমি করেছি নাকি তুই করেছিস?”
“তোর দোষে করেছি তাই তুই আমাকে নতুন কিনে দিবি”
“আমি কেন কিনে দেবো? তোর বাপকে বল”
“কথায় কথায় বাপকে টানিস কেন?”
“কারন তার গুনধর কন্যা কথায় কথায় আমার পকেট টেনে ধরে”
“দাড়া এখন শুধু লিপস্টিক না বরং সব কিনে দিবি যা আছে তাও যা নাই তাও”
“জো হুকুম মাহারানী, এখন জলদি করে তৈরী হয়ে আমায় উদ্ধার করুন”
আরহাম এর কথা শুনে আলিশা তার সামনে এসে পিঠ করে দাড়ালো, “কি?”
আলিশা পিঠ থেকে চুল সরিয়ে বললো, ফিতা বেধে দাও”
চুল সরাতেই আরহাম এর চোখ পড়লো আলিশার ধবধবে সাদা পিঠে যেখানে কাধের একটু নিচে একটা তিল অবস্থিত – আরহাম পিছন থেকে আলিশা কে কাছে টেনে পিঠে মুখ ডুবিয়ে দিলো – “এখন দেরি হচ্ছেনা?”

“হোক দেরি”
আরহাম তার কাধের জামা একটু নিচে টানতেই আলিশা ধাক্কা মেরে তাকে সরিয়ে দিলো”
“এটা কি হলো?” রেগে বললো আরহাম।
“সময় নেই এসব এর, একটু পর সবাই ডাকাডাকি করবে”
“তাই বলে এমন মূহুর্তে ধাক্কা দিবি?”
আরহাম এর কন্ঠ শুনেই বুঝা যাচ্ছে সে ভিষন রেগে গেছে তাই আলিশা আর ঘাটলোনা।
“আচ্ছা স্যরি, এখন ফিতা বেধে দাও প্লিজ”
আরহাম আর টু শব্দ ও করেনি, চুপচাপ ফিতা বেধে দিয়ে ছেলের কাছে বেডে গিয়ে বসলো।
আরহাম এর এমন কান্ডে আলিশা মনে মনে আওড়ালো, “ইশরে এই গন্ডার ক্ষেপেছে” – তাই সে আর দেরি না করে ফটাফট রেডি হয়ে নিলো।

–আলিশা রেডি হয়ে বেডে ছেলের কাছে এসে তার কপালে চুমু দিলো, “আমার মিনি গন্ডার কে কত্ত কিউট লাগছে।”
তার এমন আদিক্ষেতা দেখে আরহাম মনে মনে মুখ ভেঙালো – “এ্যাঁ আসছে আমার ছানাকে আদর করতে, এদিকে ছানার বাপ যে রাগ করে বসে আছে তার কোনো খোজখবর নেই এই মহিলার”
“চলো নিচে যাই, ছেলেকে কোলে নাও” (আলিশা)
-ছোট আরশান কে তার দাদি এসে অনেক আগেই রেডি করে দিয়ে গেছে – তার পড়নে একটা ছোট সাদা পাঞ্জাবি, দেখতে বড্ড আদুরে লাগছে তাকে।
ইজাজ সাহেব অর্ডার দিয়ে বানিয়ে এনেছেন আরহাম – আরশান এর জন্য একিরকম পাঞ্জাবি।
-আরহাম বাবুকে আস্তে করে কোলে নিলো যাতে তার ঘুম না ভেঙে যায়।

নিচে এসে সবার সাথে দেখা করতে ব্যাস্ত আরহাম আলিশা। আজ সবার মূল কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে তাদের ছোট ছানা।
সবার মুখে একি বুলি – বাবু দেখতে একেবারে বাপের মতো হয়েছে – এটা শুনে আরহাম অতি গর্বসহিত বারবার আলিশার দিকে তাকাচ্ছে যেন চোখ দিয়েই বলছে, দেখ দেখ বাপকা ব্যাটা আর আলিশা প্রতিউত্তরে মুখ ভেঙাচ্ছে।
তাদের এই কান্ডকারখানা কারোর নজর এড়ায়নি বরং অনেকে এঞ্জয় করছে ব্যাপার টা আর মুরুব্বিরা উপদেশ দিচ্ছে যাতে এখন ঝগড়া কমিয়ে বাচ্চার দিকে মনোযোগ দেয় তারা।
মেয়েরা সবাই লিভিং রুমের একদিকে বসেছে আর অন্যদিকে কুরআন খতমের আয়োজন করা হয়েছে যেখানে এখন আরহাম ছেলেকে নিয়ে বসে আছে।
হুজুর বাবুর নাম জিজ্ঞেস করতেই সবাই আরহাম এর দিকে তাকালো।
আরহাম নিজেকে ধাতস্থ করে ছেলের নাম সবার সামনে প্রথমবারের মতো উচ্চারন করলো – আরশান মেহতাব খান।
সবাই একসাথে আলহামদুলিল্লাহ বলে উঠলো।
সবার অনেক পছন্দ হয়েছে নামটা।
-সবার দোয়া এবং কাছের মানুষদের উপস্থিতি নিয়ে আকিকা সম্পন্ন করা হলো আরহাম আলিশার মিনি গন্ডার এর।

ইজাজ খান সকাল থেকে ব্যাস্ত সব তদারকি করতে – মাত্রই তার পরম বন্ধু আহমেদ সাহেব এর সাথে কথা বলে ফোন রেখেছেন তিনি।
“ভাইজান, আহমেদ রা এখনো আসেনি। (নিয়াজ)
“কেবল কথা হয়েছে আমার সাথে” (ইজাজ)
“কি বললো?”
“আজই নাকি খুলনা থেকে ফিরছে তাই ওদের আসতে রাত হবে জানিয়েছে।”
“আচ্ছা”
“এতিমখানায় ঠিকঠাক মতো খাবার আর বাকিসব পৌছিঁয়েছে?”

তোমার আমার গল্প পর্ব ২৮

“জ্বী ভাইজান, আজিজ কে দায়িত্বে রেখেছিলাম এসব তদারকির জন্য – ও জানালো সব জায়গায় সবকিছু ঠিকঠাক মতো পৌছেঁ দেয়া হয়েছে আর বাকিগুলা রাত পর্যন্ত হয়ে যাবে।
“বেশ তাহলে, আমার একমাত্র নাতির আকিকা তে যেন কোনোকিছুর কোনো কমতি না থাকে তার খেয়াল রেখো নিয়াজ”
“চিন্তা করবেন না ভাইজান, সবকিছু ঠিক ভাবেই হবে।”

তোমার আমার গল্প পর্ব ২৯ (২)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here