তোমার আমার গল্প পর্ব ২৯ (২)
noorayn
খান বাড়ি – সন্ধ্যা ৬ টা…
আরহাম নিজেদের ফ্রেন্ডদের সাথে পুল সাইডে আড্ডা দিচ্ছে, মেহরোজা আক্তার আকিকার কার্যক্রম শেষ হতেই নিজের ঘরে গিয়ে আরাম করছেন – বয়স হয়েছে তার, এখন এমন জমজমাট আয়োজনে বেশিক্ষিন থাকতে সস্তিবোধ করেন না তিনি। শাইনা আর আয়শা অতিথি আপ্যায়নে ব্যাস্ত আর উনাদের স্বামী রা আজকের মতো দিনেও কাজ নিয়ে ব্যাস্ত – এই নিয়ে দুজনের আফসোস এর যেন সীমা নেই – এবং আলিশা এখন নিজের ঘরে আছে এবং একটু পর পর ভ্রু কুচঁকে তাকাচ্ছে ছোট্ট আরশান এর দিকে।
আলিশা বেডে আধশোয়া হয়ে শুয়ে আছে আর আরশান নিজের মাম্মার দিকে পিটপিট করে চেয়ে আছে – “এই তুই এতো ছোট কেন?”
“পুরাই একটা রসগোল্লা” – বলেই ফটাফট কয়েকটা চুমু খেলো ছেলের গালে কিন্তু আরশান এর যেন মায়ের এই আদর পছন্দ হয়নি তাই মুখ টা কুচঁকে কেমন করে যেন মার দিকে তাকালো, ছেলের এমন রিয়েকশেন দেখে আলিশা তো অবাক তাই ছেলের গালে আঙুল দিয়ে হালকা করে টোকা দিয়ে বললো – “এই বড় গন্ডার এর বাচ্চা ছোট গন্ডার ও দেখি আমাকে লুক দেয়!”
গালের টোকা যেন আরশান এর ইগো তে লাগলো তাইতো ওয়া ওয়া করে কেদেঁ উঠলো।
আলিশা ছেলের কান্না থামানোর বদলে বরং ছেলের দিকে আরো ঝুকে তার কান্নারত চেহারা পর্যবেক্ষণ করতে ব্যাস্ত – “কান্না করলে তো দেখি এই গন্ডার এর বাচ্চার মুখ লাল টমেটো হয়ে যায়, হায়েএএ এতো কিউট বাচ্চা কি সত্যি আমার পেট থেকে হয়েছে?” তার এই পর্যবেক্ষণ এর সমাপ্তি ঘটলো মাথায় জোড়ে এক টোকা পড়াতে – “আহহ কি পড়লো আমার মাথায়?”
“মাইর পড়েছে মাইর, আরো দিবো?”
আরহাম এর কর্কশ শব্দে আলিশার ধ্যান ভাঙলো।
আলিশার নজর আরহাম এর দিকে পড়তেই সে দেখতে পেলো আরহাম হাতে স্টিল এর স্কেল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
আলিশা মনে মনে ঢোক গিলে আরহাম কে প্রশ্ন করলো – “আমাকে মেরেছো কেন?”
প্রশ্ন শেষ হতে না হতেই স্কেল এর বারি এসে তার পিঠে পড়লো।
“গন্ডার এর ঘরের বড় গন্ডার আমাকে মারছিস কেন?”
“আবার দেব মাইর?”
“আগে কি করেছি সেটা বল?”
“আমার বাচ্চাটা কান্না করছে আর তুই কান্না না থামিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছিস?”
এবার মাইর এর কারন টা বোধহয় আলিশার খেয়ালে আসলো তাই সে সাথে সাথে ছেলের দিকে তাকালো যে এখন কান্না থামিয়ে মুখে আঙুল পুরে পিটপিট করে মা-বাবার দিকে চেয়ে আছে।
“কান্না করছেনা তো দেখো”
আলিশার কথায় আরহাম ও এবার ছেলের দিকে তাকালো – আসলেই তো ছেলে তো আর কাদঁছে না কিন্তু সে যখন রুমে এসেছিলো তখন তো গলা ফাটিঁয়ে ওয়া ওয়া করছিলো।
“শুধু শুধু মেরেছো কেন আমাকে?”
“শুধু শুধু মারিনি ও কান্না করছিলো কিন্তু তোকে মারতে দেখে কান্না থামিয়ে দিয়েছে।”
“তুমি কেমনে জানো আমাকে মারতে দেখে কান্না থামিয়েছে?”
“দেখ কেমন পিটপিট করে চেয়ে আছে, এবার থেকে ও কান্না করলে তা থামানোর জন্য তোকে মারতে হবে তাই আমার হাতে বেশি বেশি মার খেতে নিজেকে প্রস্তুত কর”
“কত্ত বড় শাহস! আমাকে মারবি তুই আর আমি চেয়ে চেয়ে দেখবো?”
“তো কি করবি?”
“দাড়া দেখাচ্ছি” – বলেই আরহাম এর চুল টেনে ধরলো আলিশা।
আরহাম ও কি কম যায়? সেও আলিশার চুল টেনে ধরলো,
“ছাড় আমার চুল বেয়াদব মহিলা”
“না, তুই আগে ছাড়।”
“না, তুই আগে”- আরহাম আরো জোড়ে টেনে ধরলো চুল।
“আহহহ, তুই ছাড়বি নাকি আমি জায়গা বরাবর লাথি দিয়ে তোর ভবিষ্যৎ অন্ধকার করবো?”
“আমার ভবিষ্যৎ অন্ধকার হলে তোরই লস আর নিজের লস পাগলেও বোঝে”
-কেউ যখন কাউকে ছাড় দিতে রাজি না, ঠিক তখনই দুজনের কানে এসে ঠেকলো বিগত সাতদিন থেকে শোনা সেই চিরাচরিত “ওয়া ওয়া” শব্দ – ছেলের কান্না কানে আসতেই একে-অপর কে ছেড়ে দিলো আরহাম-আলিশা।
-আলিশা গিয়ে ছেলেকে কোলে নিয়ে শান্ত করলো আর আরহাম তা দেখে মনে মনে বললো -“এই আন্ডা দেখি আমরা ঝগড়া করলে কান্না থামায়ও আবার করেও।”
রাত ৯ টা।
সব ছোটরা ছাদে বসে আড্ডা দিচ্ছে আর বড়রা নিচে রেস্ট নিচ্ছে। শাইনার রুমে ছোট আরশান ঘুমিয়ে আছে।
ছাদে এতক্ষণ সবাই ট্রুথ এন্ড ডেয়ার খেলছিলো, যার সমাপ্তি হলো আরাফের আবদারে।
আরাফের আবদার টা হলো এমন – আরহাম কে সবার সামনে আলিশার জন্য গান গাইতে হবে কিন্তু আরহাম তো সহজে মানার মতো ছেলে নয়, সে গাইবেনা এমন ধানিলঙ্কার জন্য কোনো গান যে কিনা একটু আগেও তার নামে নিজের শাশুড়ি তথা আরহামের মাকে নালিশ জানিয়েছে – তবে শেষে সবার আবদারে গান গাইতে রাজি হয়েছে সে।
-রিহান নিচ থেকে গিটার এনে মাত্রই আরহাম এর হাতে দিলো। সবাই গোল হয়ে বসে আছে আর আরহাম সবার মাঝে বসে গিটার হাতে গানের সুর তুলছে…..
-Ohhh hayeeeeee….
Teri ankhon mein tareefon
Ki talash hain,
Meri mehfil tere jaane
Se veeran hainnnn….
Mein bas shayar bana hoon
Sirf tu sunne aye tohhh….
-গানের পুরোটা সময় আরহাম আলিশার দিকে চেয়ে গেয়েছে আর আলিশাও গালে হাত দিয়ে এক দৃষ্টি তে চেয়ে ছিলো আরহাম এর দিকে – এই যেন চোখে চোখে কত না বলা কথা।
-গানের শেষে সবাই একসাথে হাততালি দিয়ে উঠলো এবং কি আলিশা ও – “মানতেই হবে আমার গন্ডার টা অকর্মার হলেও গানটা ভালোই গায়।”
তোমার আমার গল্প পর্ব ২৯
আলিশার এমন কথায় সবাই একসাথে হেসে উঠলো আর আরহাম চোখ পাকিয়ে শাষাচ্ছে আলিশা কে যেন চোখে চোখে বলছে -“আজ তুই খালি ঘরে আয়”
তাদের মজা-দুষ্টুমির মাঝে নিচ থেকে গার্ড এসে জানালো, আরহাম – আলিশা কে ইজাজ খান নিচে ডাকছে কারন আহমেদ ফ্যামিলি এসে গেছে।
