Home তোমার আমার গল্প তোমার আমার গল্প পর্ব ৩০

তোমার আমার গল্প পর্ব ৩০

তোমার আমার গল্প পর্ব ৩০
noorayn

আহমেদ ফ্যামিলি এসেছে শুনে আরহাম এবং আলিশা বাকিদের কন্টিনিউ করতে বলে নিজেরা বিদায় জানিয়ে নিচে নেমে গেলো। সিড়ি দিয়ে নামতে নামতে তারা দেখতে পেলো সবাই লিভিং রুমে বসে আছে।
আরহাম-আলিশা কাছে আসতেই কেউ একজন দৌড়ে আলিশার কাছে এসে তার উপর এক প্রকার ঝাপিঁয়ে পড়লো যার জন্য আলিশা ব্যালেন্স হারিয়ে পিছিয়ে যেতেই আরহাম পিছন থেকে তার কোমড় পেচিঁয়ে আগলে নিলো।
“আস্তে লিশা কোথাও পালিয়ে যাচ্ছেনা বাদঁর” (আরহাম)
আলিশা ধাতস্থ হয়ে নিজেও আগলে নিলো টিয়া কে।
টিয়া হলো জামাল এবং রিনা দম্পতির একমাত্র কন্যা এবং নোমান এর ছোট বোন – যে এখন ক্লাস এইটে পড়ছে এবং আলিশার সাথে তার বড় ভাব তাইতো এতোমাস পর নিজের প্রিয় আপুকে পেয়ে এভাবে ঝাপিঁয়ে পড়লো।

“কেমন আছো আপুই? কতমাস পর দেখলাম, জানো অনেক মিস করেছি আমি তোমাকে।” (টিয়া)
“আমি ভালো আছি তোতাপাখি, তুই কেমন আছিস?” (আলিশা)
“ভালোই ছিলাম তবে তোমাকে দেখে আরো ভালো হয়ে গেছি।”
“কিরে আমি আছি তো নাকি এখানে? নাকি কেউ আমায় দেখছেনা?” (আরহাম)
“আসলে তো তাই, আমিও আপুই কে ছাড়া কাওকে দেখতে পারছিনা।”
টিয়ার এমন উত্তরে আলিশা ফিক করে হেসে দিলো।
“ঠিক আছে তবে এতোগুলা চকলেট যার জন্য এনেছিলাম সেসব অন্যকাউকে দিয়ে দেই।” (আরহাম)
চকলেটের কথা শুনতেই টিয়ার চোখ চকচক করে উঠলো, সে তড়িঘড়ি করে বললো -“আরেহ না না, আমি তো দুষ্টুমি করছিলাম, আমি তোমাকেও অনেক মিস করেছি ব্রো।”
আরহাম উত্তর দেয়ার আগেই শাইনা তাদের ডেকে উঠলো – “কিরে সবাই ওখানে দাঁড়িয়ে থাকবি নাকি এদিকেও আসবি?”

ডাক শুনে সবাই লিভিং রুমের দিকে এগিয়ে গেলো,
আরহাম কে দেখে জামাল আহমেদ উঠে দাড়িয়ে তাকে জড়িয়ে ধরলো -“হাউ আর ইউ ইয়াং ম্যান?”
“আই’ম গুড, তোমার কি খবর চাচ্চু? অনেকদিন পর দেখা।
“খবর তো তোমার নেয়া লাগবে ছেলে, নতুন বাবা হয়েছো, ফিলিংস কেমন?
আরহাম মাথা চুলকে মুচকি হেসে জবাব দিলো, ” এইতো চলছে”
“কেমন আছো বাবা?” (রিনা)
“ভালো আছি, চাচি।” (আরহাম)
মিসেস আহমেদ এবার আলিশার কাছে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরলো – “আমার মা টা কেমন আছে?”
“এইতো চাচি ভালো, তবে আমি কিন্তু রাগ করেছি তোমাদের উপর।”
“আহা, তা কেন?”
“এতোমাস এলেনা কেন?”
“আমরা সবাই আসতে চেয়েছি কিন্তু তুমি তো জানোই টিয়ার নানু অসুস্থ হওয়াই আমরা সবাই খুলনা ছিলাম তাই আর আসা হয়নি তবে আমি তোমার সব খোজখবর রেখেছি।”
“আচ্ছা, তবে এবার কিছুদিন এখানে থাকতে হবে, আমি আর কোনো কথা শুনবো না”
“অবশ্যই থাকবো, তুমি কিন্তু আগের চেয়ে আরো সুন্দরী হয়েছো আলিশা, আফটার প্রেগন্যান্সি গ্লো।”
আলিশা খানিক লজ্জা পেয়ে বললো, এমন কিছুই না, তোমার লাগছে এমনি”
“না আপুই, মম ঠিক বলেছে আমিও খেয়াল করেছি তোমাকে আগের চেয়ে ডিফারেন্ট লাগছে – মাদারহুড গ্লো।” (টিয়া)

“আর আমাকে গ্লোয়িং লাগছেনা? ফাদারহুড গ্লো এর জন্য? সবাই শুধু এই অকর্মার ঢেকির প্রশংসা করছে, হুহহ।” (আরহাম)
আরহামের কথায় সবাই একসাথে হেসে দিলেও আলিশা বরাবর এর মতোই শাইনার কাছে নালিশ জানালো – “দেখেছো বড় মা, তোমার ছেলে আমাকে হিংসা করছে”
শাইনা আরহামের কান মলে দিয়ে বললো, “হতচ্ছাড়া ছেলে, তুই কি প্রেগন্যান্ট ছিলি যে গ্লো করবি?”
“প্রেগন্যান্ট আমি না থাকলেও, তোমাদের আদরের মেয়েকে প্রেগন্যান্ট কিন্তু আমিই করেছি তাই বেশি ক্রেডিট আমার পাওয়া উচিত।”
আরহামের এমন লাগামছাড়া কথায় বড়রা সকলে কেশে উঠলো আর আলিশা লজ্জায় কটমট চোখে আরহামের দিকে তাকালো। শাইনা আরহামের কান আরো জোড়ে টেনে বললো -“বাচ্চার বাপ হয়েছিস এখন তো এসব ভন্ডামি ছেড়ে নিজের মধ্যে কিছু লাজ-লজ্জা আন।”

“তা আর হচ্ছেনা মা”
“আমি মানুষ করতে পারলাম না এই ছেলেকে” – বড়ই হতাশার সুরে বললেন শাইনা।
-আচ্ছা আমাদের ছোট সোনা কই? যার জন্য এতো আয়োজন? (রিনা)
“বাবু ঘুমাচ্ছে ভাবি।” (আয়শা)
“আচ্ছা”
“ইজাজ, নাতির নাম কি রেখেছিস?” (জামাল আহমেদ)
“আরশান মেহতাব খান।” (ইজাজ সাহেব)
“বাহ, সুন্দর তো।” (জামাল আহমেদ)
“ভারি সুন্দর হয়েছে নামটা, মা-বাবা দুজনের সাথেই মিলে।” (রিনা)
“হ্যাঁ আমারো অনেক পছন্দ হয়েছে নামটা, তবে পুচকুর এতো কিউট নাম কে রেখেছে?” (টিয়া)
“ছোট গন্ডার এর নাম বড় গন্ডার রেখেছে” (আলিশা)
আলিশার উত্তর শুনে সবার মধ্যে হাসির রোল পড়লো সেই সাথে সবাই বুঝেও গেলো আরহাম রেখেছে নাম।”
-রিনা আলিশা মা কে তার জন্য আনা উপহার টা দাও।” (জামাল)
“ওহ তাইতো, আমি কথার মাঝে ভুলেই গিয়েছিলাম।” (রিনা)

-রিনা আলিশা কে পাশে বসিয়ে নিজের ব্যাগ থেকে একটা বক্স নিয়ে তা খুলে এক সুন্দর বালা জোড়া বের করলেন -“এটা তোমার জন্য মা, পছন্দ হয়েছে? না হলে বলো, আমি নাহয় চেঞ্জ করে আনবো।”
“এটার কি দরকার ছিলো চাচি? তোমরা এসেছো আমি তাতেই অনেক খুশি হয়েছি।”
“হ্যাঁ ভাবি, এসবের কোনো প্রয়োজন ছিলোনা।” (শাইনা)
“আমার ছোট আলিশা মা হয়েছে আর আমি তার জন্য কোনো উপহার আনবোনা, তা কি হয়?”
“এটা আমার নাতির আম্মুর জন্য এনেছি তাই কোনো ভনিতা হবেনা আগেই বলে দিলাম, রিনা তুমি আলিশা কে পড়িয়ে দাও তো নিজ হাতে।” (জামাল আহমেদ)
-রিনা আলিশার দু-হাতে নিজে বালাজোড়া পড়িয়ে দিলো – আলিশার হাত তূলনামূলক অনেক ফর্সা হওয়াই গোল্ডের বালা গুলো যেন চকচক করছে তার হাতে, তা দেখে রিনা মনে মনে বললেন, “এই মেয়ের হাতই এতো নজরকাড়া, বাকিবাদ আর নাই বললাম, তাই বুঝি আমার ছেলে এই মেয়ের জন্য এতো দেওয়ানা” – তার ধ্যান ভাঙলো আলিশার কথায়,

“অনেক সুন্দর হয়েছে চাচি।”
“পছন্দ হয়েছে তোমার?”
“হুম”
“নোমান নিজে পছন্দ করেছে তোমার জন্য।”
-নোমান পছন্দ করেছে কথাটা শুনতেই আলিশা আরহামের দিকে তাকালো – আরহামের চোখ-মুখ কুচঁকে গিয়েছে কথাটা শুনে, বোঝায় যাচ্ছে বেশ বিরক্ত সে ব্যাপার টা নিয়ে।
-এরমধ্যেই আগমন ঘটলো নোমান এর,
“আমায় ছাড়া দেখছি সব গল্পগুজব হয়ে যাচ্ছে?”
নোমান এর আওয়াজ শুনে সবাই তাকালো তার দিকে।
“গাড়ি পার্ক করতে এতোক্ষন লাগে তোমার? কতসময় হয়ে গেলো।” (রিনা)
“একটা জরুরি কল এসেছিলো তাই দেরি হয়েছে মম।”
“কেমন আছো মাই সান?” অনেকদিন পর দেখলাম তোমায়।” (ইজাজ সাহেব)
“বেশ আছি, বড় বাবা।”
“অনেক লম্বা ট্যাুর দিলে এবার।” (নিয়াজ সাহেব)
“হ্যাঁ চাচ্চু, তবে এবার ফ্যামিলিকে সময় দেবো তাই বেশ কিছুদিন দেশেই আছি।” (নোমান)
“ভালো সিদ্ধান্ত।” (নিয়াজ)

-নোমান কে দেখে আরহাম এর বিরক্ত লাগলেও তা সে প্রকাশ করলোনা কারন নোমান আরশানের আকিকা উপলক্ষে এসেছে তাই সে এবার কোনো ঝামেলায় জড়াতে চাচ্ছেনা এর উপর আজ সকালে ইজাজ সাহেব তাকে এই নিয়ে হুশিয়ার করেছেন যাতে আরহাম এর কারনে উনাকে ছোট হতে না হয়, সব ভেবেই আরহাম সিদ্ধান্ত নিলো এবার নোমানের সাথে স্বাভাবিক আচরণ করবে।
-সবার সাথে দেখা করে নোমান এবার আরহাম-আলিশার দিকে আসলো,
“হোয়াটস আপ ব্রো?” আরহামের দিকে হাত বাড়িয়ে প্রশ্ন করলো নোমান।
“অল ওয়েল – নোমানের সাথে হ্যান্ডশেক করে বললো আরহাম।
-আরহাম এবার স্বাভাবিক থাকতে চাইলেও তা বোধহয় আর হবেনা কারন নোমান হ্যান্ডশেক এর নামে তার হাত অনেক জোড়ে চেপে ধরেছে যেন কোনোকিছুর ক্ষোভ মিটাচ্ছে সে – আরহাম নিজের রাগ সামলে, মেকি হাসি দিয়ে জোর করে হাত ছাড়িয়ে নিলো।

“কেমন আছো ভাইয়া?” (আলিশা)
-নোমান এবার আলিশার দিকে তাকালো, তার সব অশান্তি যেন এক নিমিষেই শেষ, কি আছে এই মেয়ের মধ্যে যা নোমান এর সকল কষ্ট এক নজরেই ভুলিয়ে দিতে সক্ষম? – নোমান নিজেকে সামলে হাসি মুখে উত্তর করলো -“তোকে দেখার পর কি খারাপ থাকতে পারি?”
-নোমানের এমন উত্তর শুনে আরহামের হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে গেলো আপনা-আপনি।
-আলিশা কেবল হাসলো, কোনো উত্তর করেনি।

একটু আগেই আরহাম এবং আলিশার ফ্রেন্ডরা ডিনার শেষ করে যে যার বাড়ির উদ্দেশ্য রওয়া দিয়েছে এবং বাকি সবাই ও ডিনার কমপ্লিট করে যে যার রুমে চলে গিয়েছে।
-কেবল রয়ে গেছে আহমেদ ফ্যামিলি – তারা কিছুদিন খান বাড়িতে থাকবে।
-আলিশা ফ্রেশ হয়ে এসে ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে হাতে-পায়ে লোশন লাগাচ্ছে আর আরহাম অনেক আগেই ফ্রেশ হয়ে, এখন ছেলেকে কোলে নিয়ে বসে আছে।
“এমন করে তাকিয়ে আছো কেন ওর দিকে?” (আলিশা)
“দেখছি আর ভাবছি” (আরহাম)
“কি?”

“আরশান দেখতে একদম ডোরেমন এর মতো গোল তাইনা?
“সব বাচ্চারাই ছোট থাকতে গোল হয়, তাই বলে ডোরেমন এর মতো গোল!”
“হ্যাঁ, ও একদম ডোরেমন এর মতো আর অনেক কিউট তাই আমি ওর একটা নাম ভেবেছি।”
“ওর নাম তো আছেই, আবার আরেকটা নামের কি দরকার?”
“আরেহ, নিকনেম – যে নামে শুধু আমরা ডাকবো।”
“তা শুনি কি নাম?”
“ওকে আমার ডোরেমন এর মতো গোল লাগে আর ডোরেমন এর ফেভারিট হচ্ছে ডোরা কেক…
“হ্যাঁ, তো?

তোমার আমার গল্প পর্ব ২৯ (২)

“তাই ওর নিকনেম হবে – ডোরা।”
“ডোরা?”
“হ্যাঁ, কিউট না?”
“অনেক কিউট।”
“আজ থেকে ওকে আমরা ডোরা বলে ডাকবো – আমাদের ডোরা।”

তোমার আমার গল্প পর্ব ৩১

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here