Home তোমার আমার গল্প তোমার আমার গল্প পর্ব ৮

তোমার আমার গল্প পর্ব ৮

তোমার আমার গল্প পর্ব ৮
noorayn

আরহাম নিজের রুমে গিয়ে সোজা ব্যালকনিতে রাখা; সেখানকার সোফাতে বসলো। একটু পরেই আলিশা এসে কিছু না বলেই তার কোলে বসে পড়লো।
আচমকা এমন করাতে আরহাম বললো –
“এক্ষুনি উঠবি আমার কোল থেকে ; নাহয় ধাক্কা মেরে ফেলে দেবো।”
–আলিশা উঠলো তো না-ই বরং কোলে থাকা অবস্থায় আরহামের গলা জড়িয়ে ধরে শুধালো –
“ওসব আর কোনোদিন বলবোনা, সত্যি। আমি কিছুই মন থেকে বলিনি। তখন সকালের রাগ আর তোমার দেওয়া কামড়ের ব্যাথায় আমার খেয়াল ছিলোনা কি বলছি না বলছি।”

“উঠতে বলেছি।”
“এই গন্ডার, বলেছি না? কিছুই ইচ্ছা করে করিনি তাও কেন এমন করছিস?”
“বেয়াদব মহিলা। এক্ষুনি ফেলে দিবো বলছি…”
আলিশা জানে প্রেগন্যান্ট থাকা অবস্থায় আরহাম কোনোদিন তাকে ফেলবেনা তাই সুযোগের সৎ ব্যাবহার করে বললো –
“দাও ফেলে।”
“সুযোগ নিচ্ছিস? আমার বাচ্চা তোর পেটে না থাকলে সত্যিই ফেলে দিতাম তোকে।”
–আলিশা বুঝে গিয়েছে এই গন্ডারের রাগ সহজে ভাঙবেনা তাই সে আর কথা না বাড়িয়ে নিজ থেকেই আরহামের ঠোঁটজোড়া নিজের আয়ত্তে নিয়ে নিলো। আরহাম শুরুতে নিজেকে সামলাতে যথেষ্ট চেষ্টা করলেও একটু সময় যেতেই আর পারেনি; সেও বাধ্য হলো রেসপন্স করতে।
–গভীর চুম্বনের এক পর্যায়ে আরহাম অধৈর্য হয়ে উঠে – এটা বুঝতে পেরে আলিশা বাধা দিয়ে বললো –
“প্লিজ এখন না, এখন সঠিক সময় নয়।”
“প্লিজ জান, আই নিড ইউ। আমি সত্যি কেয়ারফুল থাকবো। তুই এখন শুধু একটু এডজাস্ট করে নিবি, প্লিজ।”-

— কথা শেষ করেই সে আলিশাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে তাকে কোলে করে রুমে নিয়ে গেলো।
আলিশা বুঝে গিয়েছে এখন আরহামকে থামানো যাবেনা তাই সে আর বাধা না দিয়ে বললো –
“লাইট বন্ধ করো।”
“না, আজ লাইট অন থাকবে।”
“আমার লজ্জা করবে, প্লিজ…”
“ডোন্ট বি সিলি লিশা – আমার বাচ্চা পেটে নিয়ে তোর মুখে এসব কথা মানায় না।”
“লাইট বন্ধ করবে কিনা বলো? না করলে আমি এখনই নিজের রুমে চলে যাবো।”
–আরহাম একপ্রকার বাধ্য হয়েই কামরার লাইট নিভিয়ে দিলো। এরপর?
এরপর আর কি? দুজন মত্ত হলো দুজনাতে…

সকাল ৯ টা বাজে…
–সবাই ব্রেকফাস্ট টেবিলে বসে আছে ; যে যার মতো নাস্তা করতে ব্যাস্ত। তখনই হঠাৎ আয়শা বলে উঠলেন –
“আলিশা খেয়ে রেডি হয়ে নাও। আজ ডাক্তারের কাছে যেতে হবে তোমার সাথে কিছু টেস্টও করিয়ে নিতে হবে।”
আলিশা মায়ের কথায় মাথা নেড়ে বললো –
“ঠিক আছে, মাম্মা।”
শাইনা বেগম তখন আরহামকে বললেন –
“আরহাম শুনো, আজ কিন্তু তুমিও যাচ্ছো পুতুলের সাথে।”
আরহামের কাজ থাকায় সে মানা করে শুধালো –
“মা, তোমরা আজ ওকে তোমরা নিয়ে যাও। আমার কাজ আছে। আমি পারবোনা।”
আলিশা মাঝে দিয়ে ফোড়নকেটে মুখ ফুলিয়ে বললো –
“আমার বেলায় সবসময় কাজ থাকে তোমার।”

মেয়ের বাড়তি কথা শুনে আয়শা তাকে বকতে শুরু করলেন –
“আলিশা চুপ থাকো। সবসময় বড়দের মাঝে কথা বলতে হয়না।”
“সবসময় কেবল আমাকে চুপ থাকতে বলো মাম্মা ; কিন্তু এই গন্ডারকে কিছু বলোনা কেন? আমিও বলে দিচ্ছি, আজ যদি ও আমার সাথে না যায় তবে আমিও কোনো ডাক্তারের কাছে যাবো না।” – কথাটি বলেই আলিশা রেগেমেগে চলে গেলো সেখান থেকে।
–আদরের ভাইজিকে রাগ করতে দেখে ইজাজ সাহেব কড়া গলায় আরহামকে নির্দেশ দিলেন –
“মেহতাব, আজকে তোমার যতই ইম্পর্ট্যান্ট কাজ থাকুক না কেন? সব বাদ দাও। আজ তুমি আলিশার সাথে যাচ্ছো ; এর বাইরে আমি আর একটা কথাও শুনতে চাইনা।”
আরহাম তাতে দ্বিমত পোষন করে কিছু বলতে গেলে, ইজাজ সাহেব তখনই হাত উঁচিয়ে তাকে থামিয়ে দেন।

সকাল ১১ টা…
–ডাঃ নিলুফারের ক্যাবিনে বসে আছে – আলিশা, আরহাম এবং আয়শা।
ডাক্তারের হাতে কিছুক্ষণ আগেই এসেছে আলিশার রিপোর্ট। তিনি রিপোর্ট দেখে কিছুক্ষণ আলিশার দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে ছিলেন তারপর গম্ভীর কণ্ঠে বললেন –
“বয়স কম তাই হয়তো কম বুঝো তবে নিশ্চয়ই তুমি এতটাও অবুঝ নয় ; যাতে এই অবস্থায় এমন ভুল করবে?”
ডাক্তারের কথা বুঝতে না পেরে আয়শা ভয় মনে জিজ্ঞেস করলেন – “কি হয়েছে? আমার মেয়ে ঠিক আছে তো? কোনো সমস্যা হয়েছি কি?”
আলিশাও কথার মানে ধরতে না পেরে জিজ্ঞেস করলো –
“আমি আসলে আপনার কথা বুঝতে পারিনি। কি করেছি আমি?”
–ডাক্তার নিলুফার আয়শার দিকে তাকিয়ে নিজের চশমা ঠিক করে বললেন –
“মিসেস খান, আপনি একটু বাইরে যান। ওদের দুজনের সাথে আমার কিছু ব্যাক্তিগত কথা আছে।”
আয়শা তাতে দ্বিমত করে বললেন –
“আমার সামনেই বলুন। কি ভুল হয়েছে না হয়েছে সেটা না জানলে কিভাবে ঠিক করবো? ওদের দুজনের বয়স কম ; ওরা সব বুঝবেনা।”
ডাক্তার এবার আয়শাকে আশস্ত করার জন্য শুধালেন –

“দেখুন মিসেস খান, তেমন কোনো গুরতর বিষয় নয়। আপনি একটু বাহিরে অপেক্ষা করুন। দরকার পড়লে আমি আপনাকে ডেকে পাঠাবো।”
–আয়শা একপ্রকার বাধ্য হয়েই চলে গেলেন ক্যাবিনের বাহিরে।
এদিকে, আরহাম-আলিশা ভেবে পাচ্ছেনা ; কি এমন কথা যা মায়ের সামনে বলা যাচ্ছেনা।
আরহাম তর সইতে না পেরে জিজ্ঞেস করেই বসলো –
“এবার বলেন আন্টি, কি ভুল হয়েছে?”
নিলুফার আক্তার এবার কঠিন গলায় দুজনকে জিজ্ঞেস করলেন –
“লাস্ট কবে ইন্টিমেট হয়েছিলে তোমরা?”
— হঠাৎ এমন প্রশ্নে দুজনেই বেশ বিব্রতবোধ অবস্থায় পড়লো।
“কি চুপ করে আছো কেন? উত্তর দাও।”
–আলিশা লজ্জায় যেন মাথা তুলতে পারছেনা তাও কোনোমতে জবাব দিলো – “ইয়ে..মানে..মনে নেই..”
“তুমি কি জানোনা? ডাক্তার এবং উকিলের সাথে কখনো মিথ্যা বলতে নেই।”
–চুরি ধরা পড়েছে এমন মুখ নিয়ে আলিশা চোখ খেঁচে কোনোরকম আওড়ালো – উম..কা..কাল রাতে।
–আরহাম যেন পাশে নেই এমন একটা ভাব নিয়ে ফোন টিপছে। তবে ভিতরে ভিতরে সেও ভীষণ লজ্জা পাচ্ছে।

“তোমার কমপ্লিকেটেড প্রেগন্যান্সি আলিশা। তাই এই মুহুর্তে তোমাদের করা ছোট একটা ভুল; তোমার কতটা ক্ষতি করতে পারে তা নিয়ে কোনো আইডিয়া আছে? এখন পাঁচ মাস চলছে তোমার। এই সময়ে তোমাদের উচিত ছিলো নিজেদের সংযত রাখা। তোমার রিপোর্ট দেখেই বুঝেছি আমি তবে তোমার থেকে জিজ্ঞেস করার কারন হলো ; যাতে তোমরা নেক্সট টাইম কেয়ারফুল থাকতে পারো। আশা করি, বুঝতে পেরেছো তোমরা।”
–দুজনেই একসাথে মাথা ঝাঁকিয়ে সায় দিলো।
ডাক্তার আবারও বললেন –

“আলিশা, তোমার রক্ত কম ; তোমার নিজের খাওয়া-দাওয়ার দিকে যথেষ্ট খেয়াল দিতে হবে। আমি চার্ট করে দিয়েছি সবকিছু ; সেই নিয়ম মাফিক চলার চেষ্টা করবে। আর না বুঝে কোনো ভুল করবেনা। ফার্স্ট প্রেগন্যান্সি তারওপর বয়স কম তাই কিছু না বুঝলে বাড়ির বড়দের পরামর্শ নিবে।”
“বুঝতে পেরেছি।” (আলিশা)
“আরহাম, তুমি নিজের বউয়ের দিকে খেয়াল দাও। নিজেদের নিয়ে এতটা উদাশীন হওয়া ঠিক নয়।”
–আরহাম কোনো উত্তর করলোনা। সে নিজের মত চুপ করেই আছে।
“এখন তোমরা আসতে পারো। মিসেস খান কে বলো, আমার সাথে এসে কথা বলতে।”
–আরহাম-আলিশা মাথা নেড়ে বেড়িয়ে গেলো ক্যাবিন থেকে।

–আয়শা তড়িঘড়ি করে ক্যাবিনে এসে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করলেন – “রিপোর্ট সব ঠিক আছে? কোনো চিন্তার বিষয় নেই তো? আরহাম জানালো, আপনি আমায় ডেকেছেন।”
“মিসেস আয়শা, রিলেক্স হয়ে বসুন। চিন্তার কোনো বিষয় নেই তবে কিছু ব্যাপারে আপনার খেয়াল রাখতে হবে। তাই আপনাকে ডেকেছি।”
“আমি শুনছি, আপনি শুরু করুন।”
“আলিশার ব্লাড লেভেল অনেক কম। এমন চলতে থাকলে বাচ্চা ডেলিভারির সময় বিপদ হতে পারে। আমি চার্ট বানিয়ে দিয়েছি ; চেষ্টা করবেন তাকে সেভাবে খাওয়াতে এবং আরেকটা বিষয়…” শেষ কথাটি বলতে গিয়ে ডাক্তার নিলুফার নিজেই যেন একটু বিব্রতবোধ করলেন।

“কি বিষয়? চুপ থাকবেন না, আপা। আমার চিন্তা হচ্ছে ; আপনি নির্দ্বিধায় আমাকে সব খুলে বলুন।”
“আসলে, বলতে চাচ্ছিলাম… আরহাম-আলিশা দুজনেরই বয়স কম আবেগ বেশি। তাই অনেক সময় ; না বুঝে ভুল করে ফেলতে পারে যা এই সময়ে খুবই রিস্কি। আশা করি, বুঝতে পেরেছেন – আমি কি বলতে চাচ্ছি। যদি সম্ভব হয় তবে আলিশাকে বুঝাবেন। এই সময়ে, মেয়েরা সবচেয়ে বেশি নিজের মায়ের সাথে কম্ফোর্টেবল ফিল করে। তাই আপনি বুঝালে হয়তো সে এই বিষয়টা আমলে নিবে।”
–আয়শা যেন এখন ব্যাপারটা বুঝতে পারলেন। কেন তাকে তখন ক্যাবিন থেকে বাইরে যেতে বলা হয়েছিলো তাও বুঝতে উনার আর বাকি নেই।

তোমার আমার গল্প পর্ব ৭

–আয়শা ফিরে আসা মাত্রই তারা সকলে বাড়ির পথে রওনা হলো। ফেরার সময়, গাড়িতে আয়শা টু শব্দটিও উচ্চারন করেনি। ইতিমধ্যে, আরহাম ফেরার সময়ই নিজের একটা কাজে মাঝপথে নেমে গিয়েছিলো।
–রাতে বাড়ি ফিরে যেন আরহামের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। আয়শা বেগম আলিশাকে আবার মেরেছে!”

তোমার আমার গল্প পর্ব ৯

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here